Germany: লুধিয়ানা আদালতে বিস্ফোরণের মূল চক্রী জসবিন্দর, পাক সংযোগ

News Desk: তদন্তের জাল যত গুটিয়ে আনছেন গোয়েন্দারা ততই চমক। লুধিয়ানা আদালতে বিস্ফোরণের পিছনে জড়িত পাকিস্তান মদতপুষ্ট শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সংযোগ স্পষ্ট হচ্ছে। বিস্ফোরণের মূল চক্রী জসবিন্দর সিং ধরা পড়ল জার্মানিতে।

ধৃত জসবিন্দর সিং শিখ ফর জাস্টিস সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। এই সংগঠন ভারতে নিষিদ্ধ। তদন্তে উঠে এসেছে পাকিস্তান মদতপুষ্ট বিচ্ছিন্নতাবাদী খালিস্তানপন্থীদের সঙ্গে জসবিন্দর জড়িত। লুধিয়ানার মতো দিল্লি ও মুম্বইতে হামলার ছক করেছিল সে।

লুধিয়ানা আদালতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা জঙ্গি হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। জার্মানিতে ধৃত জসবিন্দরের লক্ষ্য ছিল দেশজুড়ে পরপর আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটানো। পাঞ্জাবের কয়েকটি এলাকা চিহ্নিত করা হয়। হোসিয়ারপুর নিবাসী জসবিন্দর সিং জার্মানিতে থাকে। তার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ শিখ ফর জাস্টিস সংগঠনের নেতা গুরনন্দন সিং পন্নুর।

জসবিন্দরকে ভারতে এনে বিচারের জন্য জার্মান সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে ভারত সরকার। এই বিষয়ে জার্মান বিদেশমন্ত্রক ও নয়াদিল্লির দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভারতের বিদেশমন্ত্রক।

তদন্তে উঠে এসেছে জসবিন্দর সিং পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে অস্ত্র কারবারে জড়িত। তার নজরে ছিল পাঞ্জাব বিধানসভা ভোটকে রক্তাক্ত করা।

লুধিয়ানা আদালতে বিস্ফোরণে মৃত বরখাস্ত হওয়া পুলিশকর্মী গগনদীপ সিং। তদন্তে উঠে এসেছে, গগনদীপ সিং বড়সড় নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল। সেই হিসেবে আদালত চলাকালীন বিস্ফোরণ ঘটায়। নাশকতায় নিহতের সংখ্যা দুই। সেই আত্মঘাতী হামলা করে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

26/11 Mumbai Attacks: পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের ভয়ের কারণ ‘কারকারের হত্যাকারী কে?’

Hemant karkare

26/11 Mumbai Attacks
প্রসেনজিৎ চৌধুরী: আরব সাগর তীরে বিস্তৃত ফেনিল ঢেউ দুই মহানগরের তটরেখায় ধাক্কা খেয়ে ভেঙে খান খান হয়ে যায়। এপারে মুম্বই-ভারতের বাণিজ্য নগরী, ঘুমহীন এক শহর। কোনাকুনি সরলরেখা টানলে সাগরের অন্যদিকে আছে করাচি- পাকিস্তানের বাণিজ্য নগরী, ঘুমহীন আরও এক শহর। ঘুমহীন? কারণ, মুম্বই ও করাচির জীবনযাত্রা হুবহু এক। দিনে রাতে সদা চঞ্চল। জাহাজঘাটা থেকে বিশাল কর্পোরেট অফিসের বহুতল পেরিয়ে সাপের মতো কিলবিলিয়ে এলিয়ে থাকা গলিপথগুলো সদা চঞ্চল। সুপথে-বিপথে রোজগারের প্রাণকেন্দ্র এমনই হয়।

এতদূর পর্যন্ত সব ঠিক। আরও একটা মিল রয়েছে, মুম্বই ও করাচির গোপন ফোনাফুনি। এ একদম সাদা সত্য। দুই শহরের ছায়ামানুষরা ফোনে ফোনে এদিক থেকে ওদিক বা ওদিক থেকে এদিক নিমন্ত্রণ করে। তেমনই এক নিয়ন্ত্রিত ঘটনা ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর জঙ্গি হামলা।

‘মুম্বই খতরে মে’, অনেকবার হয়েছে। আরও আশঙ্কা আছে। এক যুগেরও আগে ২০০৮ সালের সেই জঙ্গি হামলায় পাকিস্তানের বাণিজ্য নগরী করাচি থেকে সুচতুর উপায়ে যেভাবে মুম্বইকে রক্তাক্ত করা হয় সেটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ তালিকায় অতি আলোচিত রক্তাক্ত পর্ব।

২৬/১১ মুম্বই হামলার সেই ঘটনায় হামলাকারী পাকিস্তান মদতপুষ্ট লস্কর ই তৈবা জঙ্গিদের রুখতে মুম্বইয়ের জঙ্গি দমন শাখার অফিসার (এটিএস) হেমন্ত কারকারের ভূমিকা যতটা বীরত্বের ততটাই সেদিন জঙ্গিদের গুলিতে শহিদ হওয়া বিতর্কের। কেন এই বিতর্ক ? হেমন্ত কারকারের মৃত্যু নিয়ে তাঁর পরিবারের তরফেই বারবার প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগ হিসেবে উঠে এসেছে ‘উগ্র হিন্দুত্ববাদী শক্তির কিছু নাশকতার পরিকল্পনা বানচাল করা হেমন্ত কারকারের ভূমিকা।’ প্রবল আলোচিত হয় শহিদ আরও এক পুলিশকর্তা অশোক কামতের পরিবারের কিছু বক্তব্য।

karkare-book

‘কারকারের হত্যাকারী কে’ (ভারতে সন্ত্রাসবাদের প্রকৃত চেহারা) বইটি তীব্র আলোচিত। মূল বই “Who Killed Karkare? The Real Face of Terrorism in India” থেকে বাংলা সহ বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে এই বই। লেখক, এস এম মুশরীফ (প্রাক্তন আই.জি পুলিশ, মহারাষ্ট্র)। লেখক তাঁর সুদক্ষ সহকর্মী হেমন্ত কারকারের মৃত্যু নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলেছেন। কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে গোপন সূত্রের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেছেন। যুক্তির পর যুক্তি তুলে ধরেছেন। বইটির বাংলা অনুবাদক সব্যসাচী চক্রবর্তী। বাংলায় প্রকাশ করেছে বিশ্ববঙ্গীয় প্রকাশন।
”ভারতে সন্ত্রাসবাদের প্রকৃত চেহারা’ বর্ণনা করতে গিয়ে লেখকের যুক্তি, ভারতের পক্ষে সৌভাগ্যজনক ও তাদের পক্ষে দুর্ভাগ্যজনক, মহারাষ্ট্র পুলিশের এটিএস প্রধান হেমন্ত কারকারে, ২০০৮ সালে মালেগাঁও বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্ত যেভাবে করেছিলেন, তাতে তাদের ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে গেল। স্বপ্নও রয়ে গেল অধরা। কারকারে তদন্তের অর্ধেকটা পথ এগিয়েছিলেন, তারপরেই মুম্বই হামলার ঘটনা।”

লেখক পুলিশের শীর্ষ কর্তা হিসেবে তাঁর গবেষণা ও অনুষন্ধানের ভিত্তিতে তুলে ধরেন “২০০৮ সালে মালেগাঁও বিস্ফোরণ পর যখন আসল সন্ত্রাসবাদীদের গ্রেফতার করা হল, তখন বিস্ফোরণের ঘটনা প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছিল।”

মালেগাঁও বিস্ফোরণ ও নাশকতার তদন্তে উঠে আসে এতে জড়িত অভিনব ভারত সহ কিছু সংগঠন। মুম্বই পুলিশের তদন্তে বলা হয়েছে এই সংগঠনটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী মতবাদ নিয়ে চলে। মালেগাঁও বিস্ফোরণের পরপরই হয়েছিল ২৬/১১ মুম্বই হামলা।

প্রাক্তন পুলিশকর্তার বইটি নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনা সমানতালে চলেছে। তাৎপর্যপূর্ণ, বইটির বিষয়বস্তু নিয়ে তৎকালীন ও বর্তমান কোনও কেন্দ্রীয় সরকার উচ্চবাচ্য করেনি। যদিও বিভিন্ন সংগঠনের তরফে বইটি নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে বারবার।

অসমেও বড়সড় হামলা চালাতে পারে আইএসআই, জারি হল সতর্কবার্তা

ISI terror attacks in Assam

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: কাশ্মীরে জঙ্গিদের সক্রিয়তা গত এক মাসে অনেকটাই বেড়েছে। গোয়েন্দা বাহিনী তাদের রিপোর্টে জানাল, শুধু কাশ্মীর নয়, অসমেও বড়সড় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। গোটা দেশেই বড় ধরনের নাশকতা চালানোর ষড়যন্ত্র করছে আইএসআই। গোয়েন্দা বাহিনীর এই সতর্কবার্তা পাওয়ার পরই অসমে জারি হয়েছে সতর্কতা।

সোমবার অসম পুলিশের প্রধান এই সতর্কবার্তা জারি করেন। রাজ্য পুলিশের ডিজি বলেছেন, সেনাবাহিনী এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের কর্মীরাই হামলাকারীদের মূল নিশানা। একসঙ্গে বহু মানুষের প্রাণ নিতে কোনও ধর্মীয় স্থান বা বড় জনসমাবেশে হামলা চালাতে পারে আইএসআই। অসমের সেনাঘাঁটিগুলিও রয়েছে আইএসআইয়ের নিশানায়। জনবহুল জায়গায় তারা আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করছে। শুধু গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তাই নয়, এ বিষয়ে আল-কায়দার একটি ভিডিয়ো বার্তার কথাও উল্লেখ করেছেন ডিজি।

আল-কায়দার সেই ভিডিও বার্তায় কাশ্মীরের মত অসমেও জেহাদের ডাক দেওয়া হয়েছে। ঘটনার জেরে যে কোনও ধরনের হামলা রুখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্যের প্রতিটি থানাকে। প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপারকেও সতর্ক করে দিয়েছেন ডিজি।

গোয়েন্দা বাহিনী জানিয়েছে, সম্প্রতি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মুজাফফরাবাদে লস্কর-ই-তৈবার সদস্যরা একটি বৈঠকে বসেছিল। ২১ সেপ্টেম্বর জঙ্গি সংগঠনের ওই বৈঠকে হাজির ছিল পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের একাধিক পদস্থকর্তা। ওই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেই ভারতে কিভাবে নাশকতা চালানো যেতে পারে তার নীল নকশা তৈরি হয়। ওই বৈঠকেই কাশ্মীর-সহ সীমান্তবর্তী অসম, অরুণাচল প্রদেশে বড় ধরনের সন্ত্রাসবাদী হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। জঙ্গিদের নিশানায় রয়েছে রাজধানী দিল্লি ও বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বই।

সাম্প্রতিককালে কাশ্মীরের নিরাপত্তাব্যবস্থা বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেখানে জঙ্গি সংগঠনগুলি তেমন একটা সুবিধা করতে পারছে না। সে কারণেই তারা কাশ্মীর ছাড়া অন্য রাজ্যগুলিকেও নিশানা করতে চাইছে।

Delhi: ধৃত পাক জঙ্গি আশরাফের টার্গেট দিল্লি পুলিশ কার্যালয়, জম্মুতে বিস্ফোরণ ঘটায়

Pakistani terrorist arrested in delhi

নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে ধৃত জঙ্গি (Terrorist) আশরাফের স্বীকারোক্তি ২০০৯ সালে জম্মুর বাসস্ট্যান্ডে বিস্ফোরণে জড়িত পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। সোমবার আশরাফকে পূর্ব দিল্লির লক্ষ্মীনগর থেকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল।

দিল্লি পুলিশের দাবি, জেরায় আশরফ স্বীকার করেছ শুধু জম্মু নয় ২০১১ সালের দিল্লি হাই কোর্টের বাইরে যে বিস্ফোরণ ঘটানো হয় তাতেও সে জড়িত। ঘটনাস্থল দেখে সবকিছু ঠিক করেছিল আশরাফ। দিল্লি পুলিশের প্রধান কার্যালয়েবিস্ফোরণের ছক করেছিল এই জঙ্গি।

সোমবার ডিসিপি স্পোশাল সেল প্রমোদ কুশওয়ার চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি জানান জঙ্গি আশরাফকে বাংলাদেশ থেকে শিলিগুড়ি হয়ে দিল্লিতে পাঠায় পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। আশরাফ শিলিগুড়ি থেকে দিল্লি আসে।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার রাতে দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল রাজধানীজুড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। এই তল্লাশি অভিযানে সোমবার রাতে দিল্লির রমেশ পার্ক ও লক্ষ্মীনগর এলাকা থেকে দুই সন্দেহভাজন পাক জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে রমেশ পার্ক এলাকা থেকে ধৃত মহম্মদ আশরাফের জন্ম পাকিস্তানে। ভুয়ো পরিচয় পত্র নিয়ে সে দিল্লিতে বাস করছিল। লক্ষ্মীনগর এলাকা থেকে ওমরউদ্দিন নামে আরও একজনকে ধরা হয়েছে। ওমরের কাছ থেকেও পাকিস্তানের পরিচয় পত্র মিলেছে। ধৃতদের কাছ থেকে একে-৪৭ অ্যাসল্ট রাইফেল, হ্যান্ড গ্রেনেড, পিস্তল ও ৬০ রাউন্ড গুলি মিলেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মহম্মদ আশরাফ আদতে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বাসিন্দা। সে কবে ভারতে ঢুকেছিল তা জানার চেষ্টা চলছে। আশরফ আইএসআইয়ের মত পাক গুপ্তচর সংস্থার কাছে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়েছে। জানা গিয়েছে, শুধু তাই নয় আশরফের বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষণও আছে। পুলিশের অনুমান, রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য আশরফকে ভারতে পাঠানো হয়েছিল। ধৃত দুই জঙ্গি কোথা থেকে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করল তা জানার চেষ্টা চলছে।

সম্প্রতি আফগানিস্তান তালিবানের দখলে যাওয়ার পর ভারতে জঙ্গি হামলার প্রবণতা বেশ কিছুটা বেড়েছে। বিশেষত কাশ্মীরে। এরই মধ্যে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা ভারতের যেকোনও জায়গাতেই নাশকতা চালাতে পারে বলে গোয়েন্দা রিপোর্টে জানানো হয়েছিল। কার্যত গোয়েন্দাদের সেই সতর্কবার্তাই মিলে গেল সোমবার রাতের ঘটনায়। গোয়েন্দা সতর্কবার্তার কারণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক নিরাপত্তাবাহিনীকে গোটা দেশজুড়ে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

Delhi: ধৃত পাক জঙ্গি আশরফকে বাংলাদেশ থেকে শিলিগুড়ি দিয়ে ঢুকিয়েছিল ISI

Mohammad Ashraf, a Pakistani terrorist

নিউজ ডেস্ক: শারোদোৎসবে মাঝে দিল্লিতে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করা হয়েছে। দুই পাক জঙ্গিকে বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র সমেত গ্রেফতারের পর ডিসিপি স্পোশাল সেল প্রমোদ কুশওয়ার চাঞ্চল্যকর দাবি, জঙ্গি আশরফকে বাংলাদেশ থেকে শিলিগুড়ি হয়ে দিল্লিতে পাঠায় পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই।

আশরফ শিলিগুড়ি থেকে দিল্লি আসে। বাংলাদেশ থেকে গোপনে ভারতে ঢুকে আইএসআই ‘কোড নেম’ নাসির বলে বাকিদের সঙ্গে পরিচিত হয় আশরফ। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডিসিপি আরও জানান, আশরফকে জেরা করে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার রাতে দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল রাজধানীজুড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। এই তল্লাশি অভিযানে সোমবার রাতে দিল্লির রমেশ পার্ক ও লক্ষ্মীনগর এলাকা থেকে দুই সন্দেহভাজন পাক জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে রমেশ পার্ক এলাকা থেকে ধৃত মহম্মদ আশরাফের জন্ম পাকিস্তানে। ভুয়ো পরিচয় পত্র নিয়ে সে দিল্লিতে বাস করছিল। লক্ষ্মীনগর এলাকা থেকে ওমরউদ্দিন নামে আরও একজনকে ধরা হয়েছে। ওমরের কাছ থেকেও পাকিস্তানের পরিচয় পত্র মিলেছে। ধৃতদের কাছ থেকে একে-৪৭ অ্যাসল্ট রাইফেল, হ্যান্ড গ্রেনেড, পিস্তল ও ৬০ রাউন্ড গুলি মিলেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মহম্মদ আশরাফ আদতে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বাসিন্দা। সে কবে ভারতে ঢুকেছিল তা জানার চেষ্টা চলছে। আশরফ আইএসআইয়ের মত পাক গুপ্তচর সংস্থার কাছে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়েছে। জানা গিয়েছে, শুধু তাই নয় আশরফের বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষণও আছে। পুলিশের অনুমান, রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য আশরফকে ভারতে পাঠানো হয়েছিল। ধৃত দুই জঙ্গি কোথা থেকে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করল তা জানার চেষ্টা চলছে।

সম্প্রতি আফগানিস্তান তালিবানের দখলে যাওয়ার পর ভারতে জঙ্গি হামলার প্রবণতা বেশ কিছুটা বেড়েছে। বিশেষত কাশ্মীরে। এরই মধ্যে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা ভারতের যেকোনও জায়গাতেই নাশকতা চালাতে পারে বলে গোয়েন্দা রিপোর্টে জানানো হয়েছিল। কার্যত গোয়েন্দাদের সেই সতর্কবার্তাই মিলে গেল সোমবার রাতের ঘটনায়। গোয়েন্দা সতর্কবার্তার কারণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক নিরাপত্তাবাহিনীকে গোটা দেশজুড়ে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

কী হচ্ছে ইসলামাবাদে? রাশিয়া, চিনসহ পাঁচ দেশের গোয়েন্দা প্রধান হাজির

ISI Chief Chairs High Level Meeting Of Intelligence Chiefs Of China, Russia, Iran, Kazakhstan, Tajikistan, Uzbekistan And Turkmenistan In Islamabad To Discuss The Situation In Afghanistan

#Afghanistan
নিউজ ডেস্ক: তালিবান সরকার শপথ নেয়নি। কাবুলে চলছে আইএসআই চক্র। পুরো তালিবান সরকার এখন পাকিস্তানের নির্দেশে কাঠপুতুল! কাবুলে যদি এই পরিস্থিতি হয় তাহলে পাক রাজধানী ইসলামাবাদে হইহই রব। আফগান ইস্যুতে চিন, রাশিয়া সহ মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের বৈঠক করেছেন আইএসআই প্রধান জেনারেল ফায়েজ হামিদ 

শুক্রবারই কাবুল থেকে ফিরে এসেছেন পাক গোয়েন্দা প্রধান। এর পর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা বৈঠক। আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান সরকার গোয়েন্দা প্রধানদের এই বৈঠকের কথা স্বীকার করেছি। তবে পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিকপত্র বলে বিশ্বে সুপরিচিত ‘ডন’ জানিয়েছে, ৫টি দেশের গোয়েন্দা প্রধানদের বৈঠকে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। 

চিন, রাশিয়া, ইরান, কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা যোগ দেন বৈঠকে। এই বৈঠকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান নিরাপত্তা, তালিবান নেতৃত্বের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে।

এর আগে পাকিস্তানের নেতৃত্বে আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোর বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চিন, পাকিস্তান, ইরান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, ও তুর্কেমিস্তান অংশ নিলেও রাশিয়া অংশগ্রহণ করেনি।

পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী হোসাই আমির আবদুল্লাহিয়ান, তাজিক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন মোহরিদ্দিন, উজবেকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল আজিজ কামিলভ এবং তুর্কেমিস্তানের ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভেপা খাদজীয়েব ইনদিটেম।
পরিস্থিতি স্পষ্ট। আমেরিকা সরে যেতেই তাদের ও চিন উভয়ের ঘনিষ্ঠ পাকিস্তান সরকার এখন আফগান তালিবান সরকারের হর্তাকর্তার বিধাতা।

কাবুল থেকে তিন বিমান ভর্তি আফগান সংক্রান্ত ‘সিক্রেট ডেটা’ নিয়ে গেল ISI

ISI chief Faiz Ahmed

নিউজ ডেস্ক: তালিবানশাসিত আফগানিস্তান (Afghanistan) এবং পাকিস্তানের (Pakistani) সম্পর্কে এক চা়ঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এল৷ আফগানিস্তানের আশরফ ঘানি-সরকারের বহু গোপন নথি পাকিস্তানের হাতে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। এই গোপন নথিগুলি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হতে পারে। একদিন আগেই আফগানিস্তানের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিপ্রায়ে পাকিস্তান কাবুলের জন্য অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল।

সূত্রের মতে, মানবিক সাহায্য নিয়ে কাবুলে তিনটি C-170বিমান গিয়েছিল৷ ফেরত আসার পথেই সেই তিন বিমানে আফগানিস্তানে সংক্রান্ত গোপন নথি ভর্তি করে ইসলামাবাদ নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ এমন একটটি সময়ে এই ঘটনা ঘটেছে, যখন আমেরিকায় সন্ত্রাসী হামলার ২০ তম বার্ষিকী পালন করছে৷ অন্যদিকে তালিবানের নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ গ্রহণের জন্য নির্ধারিত ১১ সেপ্টেম্বর তারিখ স্থগিত করেছে।

প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে কাজ করা একটি সূত্র একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছে, যে সমস্ত গোপনীয় নথি পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) এজেন্সি দখল করেছে তা অত্যন্ত চিন্তার৷ এই নথিতে প্রধানত এনডিএসের গোপনীয় নথি, হার্ডডিস্ক এবং অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য ছিল। সূত্র জানিয়েছে, আইএসআই এই ডেটা তার ব্যবহারের জন্য কাজে লাগাবে৷ যা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। সূত্রটি জানিয়েছে, এই ঘটনা তালিবান সরকারকে পাকিস্তানের উপর নির্ভরশীল করে তুলবে।

সূত্রটি আরও জানাচ্ছে, সমস্ত তথ্যটি লাইভ ছিল৷ কারণ পূর্ববর্তী আফগান সরকার এই দখল প্রত্যাশা করেনি। তবে, সামরিক গোষ্ঠীর সেই নথির উপর কোন নিয়ন্ত্রণ নেই৷ কারণ দায়িত্বরত কর্মীরা কাজে ফিরে আসেনি। নথিপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মনসুর আহমেদের সহায়তায়।

প্রতিবেশি দেশগুলো দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের জন্য পাকিস্তানি রুপি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানে তালিবানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য মার্কিন ডলারে হয়েছিল৷ যখন আফগান মুদ্রা শক্তিশালী। এর ফলে আফগান ব্যবসা ও ব্যবসায়ীদের উপর পাকিস্তানের মুদ্রার হোল্ড শক্তিশালী হবে।

কিছুদিন আগে আইএসআই প্রধান হামিদ ফয়েজকে কাবুলে দেখা গিয়েছিল। তখন থেকেই মনে করা হচ্ছিল, পাকিস্তান তালিবান শাসনে অংশীদারি খুঁজছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল আফগান সেনাবাহিনীতে হাক্কানিদের পরিবর্তন আনা। আইএসআইকে হাক্কানি নেটওয়ার্কের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে বিবেচনা করা হয়৷ যুক্তরাষ্ট্র ও রাষ্ট্রসংঘ কর্তৃক মনোনীত একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রধান সিরাজউদ্দিন হাক্কানিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে।

বিশ্লেষণ: ড্রাগনে চড়ে ISI জাল বিস্তার করল ইসলামাবাদ-কাবুল ভায়া ঢাকা

taliban-chaina

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: আফগানিস্তানের (Afghanistan) দ্বিতীয় দফার তালিবান সরকারকে (Taliban) ঘিরে রেখেছে পাকিস্তানের (Pakistan) সামরিক গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিসেন্স (ISI) অফিসার ও এজেন্টরা। খোদ পাক গুপ্তচর সংস্থার প্রধান ফইজ হামিদের এখান যেন নাওয়া খাওয়ার সময় নেই। পাক সামরিক সদর দফতর রাওয়ালপিন্ডি থেকে তৈরি হওয়া নীল নকশা মাফিক পুরো আফগানিস্তান এখন আইএসআই ‘সেফ জোন’।

Read More: তালিবান সরকারের অংশীদার হাক্কানি নেটওয়ার্ক সক্রিয় নেপাল থেকে উত্তরবঙ্গে

তালিবান জঙ্গিদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছায়া মন্ত্রিপরিষদের ঘোষণার সব থেকে বড় চমকটি হলো আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এই দফতরের ভার গিয়েছে আইএসআই নয়নের মণি জঙ্গি সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্কের (Haqqani Network) ঘাড়ে। অর্থাৎ তালিবান জঙ্গি সরকার যাই কিছু করুক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতা সিরাজউদ্দিন হাক্কানির কড়া নজর থাকবে। মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা এফবিআইয়ের তালিকায় তার মাথার দাম ৫০ লক্ষ মার্কিন ডলার। মোস্ট ওয়ান্টেড। এর থেকেই স্পষ্ট পুরো তালিবান মন্ত্রিসভায় পাকিস্তানের দাপট।

taliban-chaina

ISI চক্রজাল ইসলামাবাদ-ঢাকা-কাবুল একটি বিশ্লেষণ

ISI ঢাকা ইউনিট
কূটনৈতিক মহলের আলোচনা, পাকিস্তান জন্মের পর এই প্রথম কোনও দেশে (আফগানিস্তান) নিরাপদ বিচরণের শক্তিশালী ঘাঁটি তৈরি করেছে আইএসআই। তবে আলোচনায় উঠে আসছে, ১৯৭১ পরবর্তী বাংলাদেশে বিএনপি-জামাত ইসলামি জোট সরকারের আমলে ঢাকায় পাক গুপ্তচর সংস্থার স্বস্তিদায়ক বিচরণের প্রসঙ্গ।

১৯৭৫ সালে সেনা অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে সপরিবারে খুনের পর থেকে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। অভিযোগ, পাকিস্তানের প্রতি খানিকটা নরম হয়েছিলেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি তথা বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। তিনিও সেনা অভ্যুত্থানে খুন হন। এর পর রাষ্ট্রপতি এরশাদের সামরিক জমানা পেরিয়ে ফের বিএনপি সরকারে আসে। তখন প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। ঢাকায় অত্যন্ত সক্রিয় আইএসআই। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অতিমাত্রায় সজাগ থাকে ভারত। সেই চাপ নিয়েছিল পাক গুপ্তচর সংস্থাটি। তাদের ষড়যন্ত্রের অন্যতম নাশকতা তৎকালীন বিরোধী নেত্রী আওয়ামী লীগ সুপ্রিমো শেখ হাসিনার উপর ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা। বিশ্ব কেঁপেছিল। পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি যোগ স্পষ্ট হয় তদন্তে। বিএনপির একের পর এক মন্ত্রী, খোদ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের নাম এই নাশকতায় জড়িত। তিনি বাংলাদেশ সরকারের খাতায়’পলাতক’। লন্ডনে থাকেন।

ISI কাবুল ইউনিট
বাংলাদেশে আইএসআই জাল নষ্ট হয় আওয়ামী লীগের সরকার পরপর ক্ষমতায় আসার পর। ঢাকা থেকে নেটওয়ার্ক রাখলেও পাক গুপ্তচর সংস্থাটি পরবর্তী সময়ে বারবার প্রতিবেশি আফগানিস্তানে তাদের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে থাকে। প্রথম তালিবান সরকারের সময়ে এই সুযোগ এনে দেয় আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় হাক্কানি নেটওয়ার্ক। জঙ্গি সংগঠনটি শীর্ষ নেতা সিরাজউদ্দিন হাক্কানি আইএসআইয়ের ঘনিষ্ঠ। সেই শুরু তাদের মধুচন্দ্রিমা। তবে ২০০১ সালে মার্কিন সেনা প্রবেশের পর কাবুল থেকে সরে যাওয়ায় আইএসআই তার জমি হারান। তারা আফগানিস্তানে সক্রিয় থাকলেও ভারতের ভূমিকা হয় বড়। শুরু হয় ‘র’আনাগোনা। গত দু দশক এমন চলেছে। গত ১৫ আগস্ট তালিবান দখলে গেছে কাবুল। ফের সক্রিয় আইএসআই। তাদেরই পুতুল সরকার এখন কুর্সিতে। আফগানভূমির হর্তাকর্তার বিধাতা এখন পাকিস্তান।

শুভক্ষণে ইসলামাবাদের আশীর্বাদ নিয়েই কুর্সিতে বসবে তালিবান সরকার

taliban government protected by pakistan

নিউজ ডেস্ক: কাবুল সরগরম। মঙ্গলবার রাজপথে আচমকা পাকিস্তান বিরোধী আফগান জনতার মিছিল হয়ে গেল। সেই মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে তালিবান রক্ষীরা গুলি চালাল আকাশে। হুড়োহুড়ি করে পালাতে গিয়ে কয়েকজন জখম হয়েছেন।

বুধবার আফগানিস্তানে দ্বিতীয়বার সরকার গড়ার আনুষ্ঠানিক কাজ শেষ করতে মরিয়া তালিবান জঙ্গিরা। পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনার ভার নিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। পাক গুপ্তচর প্রধান এখন কাবুলেই। তার নির্দেশে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ গঠন চূড়ান্ত। ইসলামাবাদের আশীর্বাদ নিয়েই কাবুলে তালিবান সরকার তার কাজ শুরু করবে।

কী কাজ করবে তালিবান জঙ্গি সরকার ? প্রাথমিকভাবে স্থির হয়েছে সরকার শুরুর প্রথম দিন থেকেই শরিয়া আইনের কঠোর প্রয়োগ হবে আফগানিস্তানের সর্বত্র। ইতিমধ্যেই আফগান যৌনকর্মীদের মেরে ফেলার জন্য তালিকা তৈরি হয়েছে।

তবে বিশ্বকে কূটনৈতিক বার্তা দিয়ে চলেছে তালিবান। এর পিছনে আইএসআই বুদ্ধি রয়েছে বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের। সরকার গড়ার অনুষ্ঠানে চিন, রাশিয়া, ইরান, পাকিস্তান, তুরস্কের মতো দেশগুলির কাছে গিয়েছে আমন্ত্রণপত্র। তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি হবে কিনা তা নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে।

ভারতের সঙ্গে তালিবান সরকারের সম্পর্ক কী হবে?উঠছে এই প্রশ্ন। তালিবান জঙ্গিদের দ্বিতীয় সরকারের অন্যতম এক মন্ত্রী হিসেবে ফের আলোচিত শের মহম্মদ আব্বাস স্তানেকজাই। আশির দশকে দেরাদুন মিলিটারি একাডেমির সেনা প্রশিক্ষণ নেওয়া ‘শেরু’ প্রথম দফার তালিবান সরকারের উপ প্রধানমন্ত্রী ছিল। এবারে তার কপালে বিদেশমন্ত্রক জুটতে পারে বলেই আলোচনা। তাকে সামনে রেখেই নয়াদিল্লিকে কূটনৈতিক বার্তা পাঠাবে তালিবান সরকার।

আফগানিস্তান এখন সম্পূর্ণরূপে তালিবান কব্জায়। এক পথের কাঁটা পঞ্জশিরের শাসক আহমেদ মাসুদ এখন কোনঠাসা। পঞ্জশির দখল করে হাঁফ ছেড়েছে তালিবান। গত ১৯৯৬-২০০১ প্রথম তালিবান সরকারের আমলে পঞ্জশির দখল করা সম্ভব হয়নি জঙ্গিদের পক্ষে।

তালিবানের পঞ্জশির উপত্যকা দখলের পর জরুরি বৈঠকে বসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। সবার নজর পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই পরিকল্পনার দিকে। তাদেরই অঙ্গুলি হেলনে চলবে তালিবান সরকার। আফগানিস্তান এখন পাকিস্তানের সেফ জোন-বড় খুঁটি।

আবদুল গণি বরাদার: তালিবানদের ক্ষমতা দখলের সিংহভাগ কৃতিত্ব যার প্রাপ্য

Abdul Ghani Baradar

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান দখল করেছে তালিবানরা। তারপরেই পাকিস্তানের জইশ-ই-মহম্মদ নেতা মৌলানা মাসুদ আজহার (Masood Azhar) জম্মু-কাশ্মীরে দখলের জন্য তালিবানদের সহযোগিতা চাইলেন। সূত্র উদ্ধৃত করে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে গোপন বৈঠক সারতে কান্দাহারও গিয়েছিলেন তিনি।

২৬/১১ মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী মাসুদ আজহারের সঙ্গে বৈঠক করে তালিবান নেতা মোল্লা আবদুল গণি বরাদার। আফগানিস্তানে তালিবানরা ক্ষমতা দখলের পর থেকেই অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, এর পিছনে মদত রয়েছে পাকিস্তানের। দেশে শরিয়তি আইন কায়েম হওয়াতে গোটা পাকিস্তানজুড়েই রীতিমতো উতসবের মেজাজে দেখা গিয়েছে কট্টরপন্থীদের।

কে এই আবদুল গণি বরাদার ?
কয়েক দশক পর আফগানিস্তানের ক্ষমতা পেয়েছে তালিবানরা। ১৫ আগস্ট কাবুলে আসরাফ ঘানি সরকারকে হারিয়ে ক্ষমতা কায়েম করেছে। আফগানিস্তানের নাম বদলে নাম রেখেছে ইসলামিক এমিরেটস অফ আফগানিস্তান। এই সমস্ত ঘটনার পেছনে অন্যতম নাম আবদুল গণি বরাদার।

১৯৬৮ সালে দক্ষিণ আফগানিস্তানের এক পুস্তুন (আফগান উপজাতি) পরিবারে জন্ম। মুজাহিদদের হয়ে সোভিয়েত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধেও অংশ নিয়েছেন। তারপর মহম্মদ ওমারের সঙ্গে প্রতিষ্টা করেন তালিবান গোষ্ঠী।

১৯৯৬ সাল নাগাদ দ্রুত উঠতে থাকে তালিবানিরা। দখল করতে থাকে একের পর এক রাজ্য। সে সময়েই উল্কা গতিতে উত্থান হয় বরাদারেরও। পরবর্তী ২০ বছর তালিবানদের হয়ে যুদ্ধবাহিনী পরিচালনা এবং কুটনৈতিক দিক পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০১০ সালে পাকিস্তানের করাচি থেকে তাকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি, আইএসআই।

দোহা চুক্তি এবং বরাদার

গ্রেফতারের আট বছর পর দোহাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আফগানদের মধ্যে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে বরাদারকে মুক্তি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন জালম্যে খালিজাদ। পাকিস্তান তার অনুরোধ মেনে নিলে দু’বছর পর দোহায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালিবানদের হয়ে চুক্তি করেন তিনি।

US-Taliban Deal Is a Conditions Based Pact

মাসুদ আজহারের মুক্তি এবং বরাদার
কয়েক দিন আগে মাসুদ আজহার “মার্কিন সমর্থিত আফগান সরকারকে” হটিয়ে ক্ষমতা দখল করায় তালিবানদের প্রশংসা করেছিলেন। জইশ-ই-মহম্মদ নেতা “মঞ্জিল কি তারফ” (গন্তব্যের দিকে) শিরোনামের একটি নিবন্ধে আফগানিস্তানে “মুজাহিদিনের সাফল্যের” প্রশংসা করেছেন। পাকিস্তানের বাহওয়ালপুর মারকাজে জইশ-ই-মহম্মদ কর্মীদেরও তালিবানদের বিজয়ের আনন্দে অভিনন্দন বিনিময় করতে দেখা গিয়েছে।

১৯৯৯ সালে মাসুদ আজহারের মুক্তির পর থেকেই জইশ-ই-মহম্মদ জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে শুরু করে। কাঠমান্ডু থেকে লখনউ যাওয়ার পথে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট আইসি-৮১৪ হাইজ্যাক করে পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদীরা। এরপর ফ্লাইটটি আফগানিস্তানের কান্দাহারে নিয়ে যাওয়া হয়, সেসময় আফগানিস্তান শাসন করছিল তালিবানরা। ফলে চাপে পড়ে মাসুদ আজহারকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল ভারত সরকার। অনেক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলেন, গোটা প্ল্যানের পেছনে ছিল বরাদারের মস্তিষ্ক।

কাশ্মীর ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ’ বিষয়: তালিবান
আফগানিস্তান দখল করার কয়েকদিন পরেই তালিবানরা কাশ্মীরের ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয়। সরকারীভাবে জানিয়ে দেয়, এটি একটি “দ্বিপক্ষীয়; এবং ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়”।

ইন্ডিয়ান ইনটেলিজেন্সের রিপোর্ট অনুযায়ী তালিবানদের কাবুল দখলের পর থেকেই জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাস এবং দেশের গুরুত্বপূর্ন অঞ্চলে নাশকতার সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছে। মাসুদ আজহারের গলাতেও কাশ্মীর দখলের সুর শোনা গিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল ‘পাকিস্তান তহেরিক-ই-ইনসাফ’-এর জনপ্রিয় নেত্রী নীলম ইরশাদ শেখও বলেন, ”তালিবান বলেছে ওরা আমাদের সঙ্গে আছে। এবং কাশ্মীরকে স্বাধীন করতে আমাদের সাহায্যও করবে।” আফগানিস্তান্মে তালিবানরা ক্ষমতা দখলের পর থেকেই অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, এর পিছনে মদত রয়েছে পাকিস্তানের। নীলমও জানান যে তালিবানের পাশে পাকিস্তান যেভাবে দাঁড়িয়েছে তাতে আফগানিস্তানের তালিবান নেতৃত্ব খুব খুশি। তার প্রতিদানেই কাশ্মীর দখলে পাকিস্তানকে সাহায্য করবে তারা।

প্রথমে কাশ্মীরকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে নিজেদের সরকারীভাবে সুরক্ষিত করা এবং কাশ্মীর সমস্যাতে পেছন থেকে অনুঘটক হিসেবে কাজ করা, সমস্ত ঘটনার পেছনেই রয়েছে আফগানিস্তানের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতির মস্তিষ্ক।

তালিবানদের ‘জয়ে’ আনন্দে আত্মহারা পাকিস্তান, হুমকির মুখে ভারত-আমেরিকা

One week after taliban occupied Afghanistan

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান দখল করেছে তালিবানরা। দেশের প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই কায়েম হচ্ছে শরিয়তি আইন। ইসলামের আদেশ অনুসারেই চলছে দেশ। আর তাতেই উচ্ছ্বসিত পাকিস্তানের ইসলামীয় ধর্ম সংগঠনগুলি। গোটা পাকিস্তানজুড়েই রীতিমতো উতসবের মেজাজে কট্টরপন্থীরা।

আরও পড়ুন G-7 Summit: তালিবানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে বিশ্বের সুপার পাওয়ার’ দেশ

সংবাদসংস্থা আইএএনএস (Indo-Asian News Service) সূত্রে খবর, তালিবানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ পাকিস্তানের ইসলামীয় সংগঠনগুলি। বহুদিন ধরেই পাকিস্তানের বিভিন্ন সংগঠন মদত দিয়ে আসছে। এবার সরকারীভাবে ইসলামাবাদের প্রভাবশালী সংগঠন জমিয়ত-ই-উলেমা-ই-ইসলাম ও দিফা-ই-পাকিস্তান কাউন্সিল-এর প্রধান মৌলানা হামিদ-উল-হক হাক্কানি তালিবানের কাবুল জয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও তালিবানদের আফগানিস্তান দখল এবং আমেরিকান সৈন্য প্রত্যাহার করার জন্য ‘আল্লাকে ধন্যবাদ জানাতে’ ২৭ আগস্ট একটি অনুষ্ঠান পালন করা হবে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে।

Pakistan and Taliban: Back to where it all began - The Week

পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় সেই অনুষ্ঠান এবং তালিবান ও লস্করের জঙ্গিদের জন্য চাঁদা সংগ্রহ করতে দেখা গিয়েছে সেদেশের বিভিন্ন সংগঠনগুলিকে। তালিবানের জন্ম হয় পাকিস্তানেই। পাকিস্তানেই মহিলাদের বিভিন্নভাবে কোনঠাসা করা শুরু হয়েছিল, গুলি করা হয়েছিল মালালা ইউসুফজাইকেও।

আরও পড়ুন শিল্পেই বিপ্লব: তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কাবুলের গ্রাফিতি শিল্পী শামসিয়া হাসানি

এরপর আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সৈন্য ফিরে যাওয়ার পর মুজাহিদিনরা রীতিমতো ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে। আইএসআইয়ের হাত থেকে তাদের রাশ বেরিয়ে যায়। গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার, আহমেদ শাহ মাসুদের মতো মুজাহিদ কমান্ডাররা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করে তোলে। মুজাহিদিনদের শায়েস্তা করতেই নয়ের দশকে তালিবান প্রতিষ্ঠা করে পাকিস্তান।

আরও পড়ুন রাজনীতিতে পা রেখেই পুর-প্রার্থী হচ্ছেন ‘করোনা-হিরো’ সোনু সুদ

জমিয়ত-ই-উলেমা-ই-ইসলাম ও দিফা-ই-পাকিস্তান কাউন্সিল-এর প্রধান মৌলানা হামিদ সাংবাদিক সন্মেলনে জানিয়েছেন, ‘বিশ্বের উচিত আফগানিস্তানে এক্ষুনি তালিবান সরকারকে মান্যতা দেওয়া।’ শুধু তাই নয়, আমেরিকা এবং ভারতের মদতেই এতদিন আফগানিস্তানে অশান্তি লেগে ছিল। ফলে তাঁর কথায় আবার নতুন করে ভারতে জঙ্গিহামলার আশঙ্কা বেড়ে গেল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তালিবান সরকারের অংশীদার হাক্কানি নেটওয়ার্ক সক্রিয় নেপাল থেকে উত্তরবঙ্গে

ISI backed afghan mikitant group Haqqani network

বিশেষ প্রতিবদেন: আফগানিস্তানে দ্বিতীয় তালিবান সরকারের অর্থমন্ত্রকের দায়িত্ব পেতে চলেছে হাক্কানি নেটওয়ার্ক জঙ্গি সংগঠন। এই সংগঠন পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই মদতপুষ্ট। কাবুলে তালিবান প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাক্তন আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের বৈঠকে হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রধান আনাস হাক্কানির ছবি দেখা গিয়েছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, যেহেতু হাক্কানি নেটওয়ার্ক দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সঙ্গে সংযোগ রাখে ফলে তাদের ততপরতা বাড়বে উত্তরবঙ্গে। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে নেপালে থাকা হাক্কানি এজেন্টরা ফের সক্রিয়। তারা পশ্চিমবঙ্গের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনকে উস্কানি দিতে তৈরি। একইভাবে উত্তর পূর্ব ভারতের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সঙ্গে হাক্কানি নেটওয়ার্কের যোগাযোগ আছে।
নেপালের সংলগ্ন উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং জেলা। দার্জিলিং সংলগ্ন কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার জেলার স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক ততপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলেই গোয়েন্দা বিভাগের অনুমান।

তাৎপর্যপূর্ন দুটি ঘটনা,
প্রথমত, ফের সক্রিয় হতে দেখা গিয়েছে কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশন (KLO) সংগঠনকে। আত্মগোপনে থাকা বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা জীবন সিংহ সরাসরি ভিডিও বার্তায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে হুমকি দিয়েছে। কেএলও এমন সময়ে হুমকি দেয় যখম তালিবান ও আফগান সরকারের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল।

দ্বিতীয়ত, অনেকটা কাকতালীয় হলেও গত রবিবার যখন কাবুল দখল করছিল তালিবান জঙ্গিরা, ঠিক সেই সময় মেঘালয়ের রাজধানী শিলং ছিল বিচ্ছিন্নতাবাদী এইচএনএলসি (HNLC) সংগঠনের হামলায় বিপর্যস্ত। নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশ ছিল অসহায়। তবে সংগঠনটির অভিযোগ তাদের নেতা অসুস্থ চেস্টারফিল্ডকে ঠান্ডা মাথায় এনকউন্টার করা হয়েছে। তারই প্রতিবাদ হয়েছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা দুটি ঘটনাকে তলিয়ে দেখছেন। তাঁদের অনেকের আশঙ্কা, উত্তরবঙ্গ ও উত্তর পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠিগুলির সঙ্গে হাক্কানি নেটওয়ার্কের একটা সংযোগ আগে থেকেই রয়েছে। আফগানিস্তানের ক্ষমতা তাদের হাতে চলে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই সংগঠন ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলিকে উস্কানি দেবে।

উত্তর পূর্বাঞ্চলের সবকটি রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলি গত কয়েকমাসে বিশেষ সক্রিয়। দীর্ঘ দেড় দশক বাদে ত্রিপুরার বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অফ ত্রিপুরা (NLFT) গুলি চালিয়েছে। তাদের গুলিতে দুই বিএসএফ জওয়ানের মৃত্যু হয়। গত কয়েকমাস ধরেই উত্তরপূর্বের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠির ততপরতা বেশি। ত্রিপুরা ও মিজোরা সীমানায় বিরাট আগ্নেয়াস্ত্র চালান ধরা পড়ে। বাংলাদেশের অতি নিকটে এই চোরাচালান চলছিল। হাক্কানি নেট ওয়ার্ক বাংলাদেশে সক্রিয়।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যেহেতু উত্তর পূর্বের প্রথম সারির বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতৃত্ব চিন ও মায়ানমারে থাকে, ফলে হাক্কানির পক্ষে তাদের সঙ্গে ‘কনটাক্ট’ করা সহজ। নেপাল সরকারের কাছে হাক্কানি নেটওয়ার্ক বিষয়ে সতর্কবার্তা রয়েছে। কিন্তু নেপালেও রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতি। এই সুযোগ নেবে আফগানিস্তান সরকারের শরিক হাক্কানি নেটওয়ার্ক জঙ্গি গোষ্ঠী।

সম্প্রতি সরকার বদল হয়েছে নেপালে। নেপালি কমিউনিস্ট পার্টির নির্বাচিত সাংসদদের বড় অংশ সমর্থন হারান ওলি। আস্থাভোটে পরাজিত হন। সরকারে এসেছে নেপালি কংগ্রেস। তবে এই সরকার নড়বড়ে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন কে পি ওলির সঙ্গে চিনের অতিরিক্ত সখ্যতা নিয়ে কাঠমাণ্ডু ও নয়াদিল্লির মধ্যে সম্পর্ক বারে বারে গরম হয়। একইভাবে নেপালের অভ্যন্তরে চিনা কূটনীতিকর বড়সড় প্রভাব পড়ে। চিন এখন আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের প্রতি নরম।

নেপালে বরাবর সক্রিয় পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। তাদের মদত পায় হাক্কানি নেটওয়ার্ক। নেপাল থেকে তারা নাশকতার পরিকল্পনা করবে বলেই আশঙ্কা। আফগানিস্তানে প্রথম তালিবান সরকারের (১৯৯৬-২০০১) আমলে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের IC814 বিমান অপহরণ কাঠমাণ্ডু থেকেই হয়েছিল। কান্দাহারে সেই বিমান নামায় পাক জঙ্গিরা। মাসুদ আজাহারের মুক্তির বিনিময়ে যাত্রীদের ছাড়ায় ভারত সরকার।