J&K: জঙ্গি খতম অভিযানে নিকেশ ৯, সীমান্তে কড়া নজর

J&K: Nikesh 9 in the operation to eliminate militants, keep a close eye on the border

প্রতিবেদন, বছরের শেষ লগ্নে এসেও জম্মু ও কাশ্মীরে শান্তি অধরাই রয়ে গেল। বৃহস্পতিবার রাতেও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তিন জঙ্গি খতম হয়েছে। যার মধ্যে একজন জইশ-ই- মহম্মদের সদস্য। চলতি মাসের ১৩ তারিখে সিআরপিএফ বাহিনীর বাসে যে হামলা হয়েছিল মৃত জঙ্গিদের মধ্যে একজন সেই হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের এই সংঘর্ষে এক সিআরপিএফ জওয়ান ও তিন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার মাঝরাতে শ্রীনগরের শহরের বাইরে পাঠানচক এলাকায় এই সংঘর্ষ ঘটে। পুলিশ ও সিআরপিএফের যৌথ বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের গুলির লড়াই শুরু হয়। এই গুলির লড়াইয়ে তিন জঙ্গি খতম হয়েছে। ৩ জঙ্গির মৃত্যুর সঙ্গে শেষ ৩৬ ঘন্টায় ভূস্বর্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৯ জঙ্গির মৃত্যু হল।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ৩ জঙ্গির মধ্যে সুহেল আহমেদ রাঠের হল জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সদস্য।

চলতি মাসের প্রথম দিকে সিআরপিএফ বাহিনীর বাসে হামলায় জড়িত ছিল সুহেল। তবে অপর দু’জনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের দাবি, সিআরপিএফ বাহিনীর বাসে যে সমস্ত জঙ্গিরা হামলা চালিয়েছিল সুহেলের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তাদের সকলকেই খতম করা হল। গত ৩৬ ঘণ্টায় কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৯ জনের মৃত্যু হল। মৃত জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে প্রচুর পরিমাণে অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ।

বৃহস্পতিবার অনন্তনাগ এবং কুলগাম জেলাতেও দুটি পৃথক অভিযানে ৬ জঙ্গির মৃত্যু হয়েছিল। অন্যদিকে চলতি মাসের ১৩ তারিখে সিআরপিএফ বাহিনীর বাসে হামলায় তিন পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়েছিল। জখম হয়েছিলেন ১৫ জন।

New Delhi: বড়সড় নাশকতার ছক ভেস্তে দিল পুলিশ, গ্রেফতার দুই পাক জঙ্গি

suspected terrorists being taken to the Anti-Terror Cell

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: গোয়েন্দারা আগেই সতর্ক বার্তা দিয়েছিলেন যে, উৎসবের সময় দিল্লিতে জঙ্গি হামলা হতে পারে। গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তায় সতর্ক ছিল দিল্লি পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার রাতে দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল রাজধানীজুড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। এই তল্লাশি অভিযানে সোমবার রাতে দিল্লির রমেশ পার্ক ও লক্ষ্মীনগর এলাকা থেকে দুই সন্দেহভাজন পাক জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে রমেশ পার্ক এলাকা থেকে ধৃত মহম্মদ আশরাফের জন্ম পাকিস্তানে। ভুয়ো পরিচয় পত্র নিয়ে সে দিল্লিতে বাস করছিল। লক্ষ্মীনগর এলাকা থেকে ওমরউদ্দিন নামে আরও একজনকে ধরা হয়েছে। ওমরের কাছ থেকেও পাকিস্তানের পরিচয় পত্র মিলেছে। ধৃতদের কাছ থেকে একে-৪৭ অ্যাসল্ট রাইফেল, হ্যান্ড গ্রেনেড, পিস্তল ও ৬০ রাউন্ড গুলি মিলেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মহম্মদ আশরাফ আদতে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বাসিন্দা। সে কবে ভারতে ঢুকেছিল তা জানার চেষ্টা চলছে। আশরফ আইএসআইয়ের মত পাক গুপ্তচর সংস্থার কাছে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়েছে। জানা গিয়েছে, শুধু তাই নয় আশরফের বিস্ফোরক তৈরির প্রশিক্ষণও আছে। পুলিশের অনুমান, রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটানোর জন্য আশরফকে ভারতে পাঠানো হয়েছিল। ধৃত দুই জঙ্গি কোথা থেকে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করল তা জানার চেষ্টা চলছে।

সম্প্রতি আফগানিস্তান তালিবানের দখলে যাওয়ার পর ভারতে জঙ্গি হামলার প্রবণতা বেশ কিছুটা বেড়েছে। বিশেষত কাশ্মীরে। এরই মধ্যে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা ভারতের যেকোনও জায়গাতেই নাশকতা চালাতে পারে বলে গোয়েন্দা রিপোর্টে জানানো হয়েছিল। কার্যত গোয়েন্দাদের সেই সতর্কবার্তাই মিলে গেল সোমবার রাতের ঘটনায়। গোয়েন্দা সতর্কবার্তার কারণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক নিরাপত্তাবাহিনীকে গোটা দেশজুড়ে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে আফগান ফেরত লস্কর-জইশ জঙ্গিদের সমাবেশ

Jaish-e-Mohammad, Lashkar-e-Taiba

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তান দখলের পর এবার কি তালিবান সহযোগী পাক-মদতপুষ্ট জঙ্গিদের লক্ষ্য ভারতের ভূ-স্বর্গ? গত কয়েকদিন তালিবানের বন্ধু জঙ্গি সংগঠনগুলির গতিবিধি কিন্তু সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে৷ দু’দিন আগেই জঙ্গিগোষ্ঠী হিজবুল মুজাহিদিনের প্রধান সৈয়দ সালাহউদ্দিন ভারতকে হুমকি দিয়ে একটি অডিও বার্তা প্রকাশ করেছে৷

তার পরেই সোমবার কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা এবং জইশ-ই-মহম্মদ পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) বেশ কয়েকটি সমাবেশ করেছে। এই দুই জঙ্গিগোষ্টীর সদস্যরা আফগানিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে তালিবানদের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়েছিল৷ কাবুল দখলের পরে পাকিস্তানের মদতে তারা পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে ফিরে এসেছে।

Jaish-e-Mohammad, Lashkar-e-Taiba

কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা এবং জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গিগোষ্ঠীর পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে সমাবেশ করার বেশ কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে৷ সেই ভিডিওতে জঙ্গি সদস্যরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে বাতাসে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। ভিজ্যুয়ালগুলি আব্বাসপুর, হাজিরা এবং সেন্সা এলাকার৷ এই এলাকাগুলি নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলওসি) খুব কাছে৷

hizbul mujahideens chief syed salahuddin

তালিবানদের নিয়ে কাশ্মীর দখলের হুমকি হিজবুল মুজাহিদিন প্রধানের
গোটা আফগানিস্তান জুড়ে ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে তালিবানদের আক্রমণ এবং তার সঙ্গে আতঙ্ক। এবার সেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল ভারতেও। সৌজন্যে জঙ্গিগোষ্ঠী হিজবুল মুজাহিদিনের প্রধান সৈয়দ সালাহউদ্দিন। তালিবানরা আফগানিস্তান দখল করার পরেই ভারতকে হুমকি দিয়ে একটি অডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন এই জঙ্গিনেতা। জম্মু ও কাশ্মীরে সক্রিয় একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন। এরা মূলত জম্মু ও কাশ্মীরকে পাকিস্তানের সঙ্গে সংযুক্তিকরণের পক্ষে।

অডিও বার্তায় তিনি তালেবান জঙ্গিদের জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানোর জন্য সাহায্যের অনুরোধ জানান। অনলাইনে পোস্ট করা ওই বিবৃতিতে হিজবুল মুজাহিদিন প্রধান সৈয়দ সালাহউদ্দিন বলেন, “আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যে তিনি আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাতকে শক্তিশালী করুন যাতে তারা ভারতের বিরুদ্ধে কাশ্মীরিদের সমর্থন করতে পারে।”

এদিকে, তালিবানিদের শান্তির আশ্বাস সত্ত্বেও, আফগান এবং বিদেশীরা কাবুল থেকে পালিয়ে চলেছে। মার্কিন জেনারেল বলেছেন, আগস্ট থেকে তালিবানি শাসন শুরুর পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৭০০০ জনকে অন্য দেশে সরিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে ভারতীয় সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানি। মৃত্যুর পর তাঁর দেহকে পাকিস্তানি পতাকায় মুড়ে ঘোরানো হয় উপত্যকায়। সেই মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন কাশ্মীরের প্রচুর মানুষ, যারা প্রত্যেকেই সমর্থন করেন সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনকে। সেই বুরহান ওয়ানির বাবা মোজাফফর ওয়ানি সম্প্রতি স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ভারতীয় তেরঙ্গা উত্তোলন করেছেন।

হিজবুল মুজাহিদিনের ‘পোস্টার বয়’ ছিলেন বুরহান ওয়াদি। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিয়মিত কাশ্মীরি যুবকদের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য অস্ত্রের ছবি পোস্ট করতেন এই কমান্ডার। ২০১০ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে হিজবুল মুজাহিদিনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর পর প্রায় ছ’মাস ব্যাপক অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছিল কাশ্মীরজুড়ে।

গতকালও সেনার গুলিতে নিহত হয় দুই হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার পম্পোরে এনকাউন্টার শুরু হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমান অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম। ঠিক তার পরেই মুজাহিদিন কমান্ডারের এই ভিডিও বার্তা চিন্তা বাড়িয়েছে সরকারের।