Bangladesh: মমতা দি জিত্যা গেল…খবরে নজর বাংলাদেশিদের

mamata-hasina

News Desk: ওপার বাংলার রাজধানী কলকাতার ভোট ফলাফলে নজর রেখেছেন বাংলাদেশবাসী। ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহি, রংপুর সর্বত্র খবরের ব্রেকিং কলকাতা সিটি কর্পোরেশনের (কলকাতা পুরসভা) প্রায় সবটাই শাসক অনুকূলে। খবরে নজর রাখা বাংলাদেশি বিশেষত পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তবর্তী জেলা উপজেলাগুলিতে আলোচনা মমতা দি জিত্যা গেল…।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জয়ের দিনও একইভাবে বাংলাদেশের নজরে ছিলেন। রাজধানী ঢাকা সহ সব বিভাগের সংবাদপত্রের ওয়েব সংস্করণ, টিভি চ্যানেল ও ওয়েব পোর্টালের শিরোনামটিও দখল করেছিলেন মমতা।

বাংলাদেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপরিচিত। তবে সমালোচিতও। কারণ, তাঁর অনড় অবস্থানে ‘তিস্তা পানি বন্টন’ (জল বন্টন) হয়নি। যদিও ভারত সরকার আগ্রহী এই চুক্তিতে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি দৌত্য ব্যর্থ হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘না’ মনোভাবে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর যুক্তি, শুখা মরশুমে তিস্তার জল এমনিতেই কম থাকে, তখন কোনওভাবেই প্রতিবেশি দেশে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে ঢাকার যুক্তি, তিস্তা আন্তর্জাতিক নদী হওয়ায় আন্তর্জাতিক নিয়মে এই জলের অংশীদার বাংলাদেশ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস জমানার আগে বামফ্রন্ট জমানায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর উদ্যোগে ও কূটনৈতিক অবস্থানে ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জল বণ্টন চুক্তি হয়। সেই কারণে প্রয়াত জ্যোতি বসুর বিশেষ কদর এখনও ঢাকার রাজনৈতিক মহলে। তবে পশ্চিমবঙ্গে বামেদের এখন ভোটের ভাঁড়ে মা ভবানী। বিধানসভা নির্বাচনে শূন্য হয়ে গিয়েছে বামেরা।

ঢাকায় আলোচনা, যেহেতু ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী তিস্তা চুক্তিতে আগ্রহী ছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন হলে সেই চুক্তির সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে গত বিধানসভা ভোটে বিপুল জয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টানা তিনবার সরকার ধরে রেখেছেন। তাঁর অবস্থান বদলাবে না। ফলে তিস্তা চুক্তি এখন দুরাশা।

এত সবের পরেও মমতার খবরেই নজর বাংলাদেশের। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে থাকা রংপুর, রাজশাহি, খুলনার মফস্বলে চলছে চর্চা।

Sikkim: জ্যোতিবাবুর রেকর্ড ভাঙা চামলিংকে দিয়ে কূটচাল মমতার ? BJP চিন্তিত

Tmc trying to reach sikkim's assembly as opposition party

News Desk: পশ্চিমবঙ্গ প্রতিবেশি সিকিমের (Sikkim) রাজনীতিতে কোনওদিনই বঙ্গ প্রভাব পড়েনি। অথচ সিকিমের যোগসূত্র শিলিগুড়ির সঙ্গেই বেশি। দীর্ঘ বাম আমলে রাজ্যের লাগোয়া সিকিমের একটাও গ্রাম পঞ্চায়েতে সিপিআইএম ছিল না।

বঙ্গ বামেদের দাপটের সেই চৌত্রিশ বছরের জ্যোতিবাবু-বুদ্ধবাবু মু়খ্যমন্ত্রী। আর সিকিমে ছিলেন নরবাহাদুর ভাণ্ডারি ও পবন কুমার চামলিং। সিকিম সংগ্রাম পরিষদের নরবাহাদুর থেকে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়েছিল সিকিম ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের চামলিংয়ের হাতে।

উত্তর পূর্বাঞ্চলের সিকিমের রাজধানী গ্যাংটক তো বটেই, রাজ্যটির যে কোনও পাহাড়ি শহরে বাঙালিদের দেখা পাওয়া কোনও ব্যাপারই না। বাংলা শোনা যায় কান পাতলেই। তেমনই রাজ্যে এবার নজর তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

পড়ুন: Manipur: বিরোধী আসন দখলে মমতার অভিযান, কংগ্রেস কাঁপছে মনিপুরে

সূত্রের খবর, সিকিমে জোড়াফুলের পতাকা তুলতে ক্ষমতা হারানো চামলিংকে বেছে নিয়েছেন মমতা। অচিরেই দুজনের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা হতে চলেছে। সেক্ষেত্রে টিএমসি চাইছে ‘ঘটিহারা’ চামলিংকে তাদের দলে টেনে আনতে।

সিকিমের সর্বশেষ বিধানসভা ভোটে নীরবে পরিবর্তন হয়। ১৯৯৪ সাল থেকে টানা সাড়ে ২৪ বছর (২৪.৪ বছর) একটানা ক্ষমতায় থাকা চামলিং সরকারের পতন হয় ২০১৯ সালে। ক্ষমতা হারানোর ঠিক আগে চামলিং একটি নজির গড়েন। তিনি দেশের সর্বাধিক সময়ে কুর্সিতে থাকা মুখ্যমন্ত্রী। এক্ষেত্রে ২৩ বছর টানা কুর্সিতে থেকে দ্বিতীয় স্থানে প্রয়াত জ্যোতি বসু।

জ্যোতিবাবু যখন পশ্চিমবঙ্গের শাসনে তখনই সিকিমের মধ্যগগনে চামলিং। দুই রাজ্যের দুই শক্তিশালী মু়খ্যমন্ত্রী পারস্পরিক সৌহার্দ্য ছিল। তেমনই সৌহার্দ্য চামলিং ও মমতার মধ্যে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী।

আরও পড়ুন: Meghalaya: মেঘের দেশে ‘কংগ্রেসের শেষের কবিতা’ লিখলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা

গত বিধানসভা ভোটে সিকিমে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়েছিল এসডিএফ তথা চামলিং সরকার। নতুন দল হিসেবে ক্ষমতায় আসে সিকিম ক্রান্তিকারি মোর্চা। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন প্রেমসিং তামাং।

সিকিমের এই ক্রান্তিলগ্নে বিজেপি ছিল না ভোট যুদ্ধে। বিধানসভার ভোটে না থেকেও আচমকা চামলিং শিবিরে ‘অপারেশন লোটাস’ ধাক্কায় কোণঠাসা হয়ে যান চামলিং। ভোট না লড়েও বিজেপি ঢোকে বিধানসভায়! আপাতত চামলিং একমাত্র এসডিএফ নেতা। তাঁর পুরো দলকেই ভাঙিয়ে নিয়েছে বিজেপি।

সূত্রের খবর, যেভাবে বিনা ভোটযুদ্ধে সিকিমের রাজনীতিতে ঢুকেছে বিজেপি, একই কায়দায় টিএমসি চেষ্টা শুরু করেছে। বিশেষ সূত্রে kolkata24x7.in জানতে পেরেছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চামলিংকে দিয়েই বিজেপিতে চলে যাওয়া বিধায়কদের টেনে আনতে পরিকল্পনা শুরু করেছে টিএমসির ভোটকুশলীরা।

এক নজরে সিকিম বিধানসভার অংক
মোট আসন ৩২
সরকারপক্ষে আছে ৩১ জন
সিকিম ক্রান্তিকারি মোর্চা ১৯
বিজেপি ১২

বিরোধী পক্ষ
সিকিম ডেমোক্রেটিক পার্টি ১

তবে হামরো সিকিম নেতা প্রাক্তন টিএমসি ও ভারতীয় ফুটবল অধিনায়ক বাইচুং ভুটিয়ার ভূমিকা নিয়েও বিশেষ ভাবনা রয়েছে মমতার। বাইচুংকে ঘোড়া করেও ২০১৪ সালের দার্জিলিং লোকসভা ও ২০১৬ সালে শিলিগুড়ির বিধানসভাতে সফলতা পাননি মমতা। টিএমসি ছেড়ে সিকিম গিয়ে নতুন দল গড়েছেন বাইচুং।

২০২১ বিধানসভা ভোটে বাইচুং সরাসরি সিপিআইএমের অশোক ভট্টাচার্যের হয়ে সমর্থনে মিছিল করেন। শিলিগুড়িতে সিপিআইএম হেরে যায়। বাইচুং কি মমতার জন্য অনুকূল, ভাবছে টিএমসির ভোটকুশলীরা। সেক্ষেত্রে চামলিং পাচ্ছেন বেশি গুরুত্ব।