বিস্ফোরক মন্তব্য কিংবদন্তি প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান হাসিম আমলার

South African batsman Hashim Amla

Sports desk: ‘বক্সিং ডে’ টেস্টে সেঞ্চুরিয়নের সুপারস্পোর্ট পার্কে প্রথম টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১১৩ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছে ভারত। প্রোটিয়াদের শক্ত ঘাটি হিসেবে পরিচিত সেঞ্চুরিয়নে ডিন এলগারদের এমন হতশ্রী পারফরম্যান্সের পর মুখ খুলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান হাসিম আমলা।

কিংবদন্তি এই ব্যাটসম্যান হাসিম আমলা ভারতীয় দল এবং দক্ষিণ আফ্রিকা দলের মধ্যে পার্থক্য প্রসঙ্গে বলেন,সেঞ্চুরিয়নে সিরিজের প্রথম ম্যাচে তাদের সহজ জয়ের মূল কারণ ছিল ভারতীয় দলের উচ্চতর যৌথ অভিজ্ঞতা।

প্রথম টেস্টে হারের প্রতিক্রিয়াতে, ভারতের বিরুদ্ধে প্রোটিয়া দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা’র(CSA) ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আমলা বলেন, প্রথম ম্যাচে যা হয়েছে তা একেবারেই ঠিক ছিল। গত দুই বছরে ভারতীয় দল একটি শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে উঠে এসেছে। তাদের সম্মিলিতভাবে অনেক বেশি অভিজ্ঞতা আছে এবং যখন আপনার রক্ষা করার জন্য একটি শক্তিশালী স্কোর থাকে তখন এটা সর্বদা একটি বড় পার্থক্য করে তোলে।

ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে প্রোটিয়াদের পারফরম্যান্স নিয়ে আমলা এও বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় কেবল অধিনায়ক ডিন এলগার, কুইন্টন ডি কক, কাগিসো রাবাদা এবং লুঙ্গি এনগিদির মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় রয়েছে।

CSA’র ওয়েবসাইটকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে প্রথম ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট বিষয়ে আমলা বলেন, প্রথম ইনিংসে ভারতের বড় লিড ম্যাচের ফলাফলে পার্থক্য তৈরি করেছে।

CSA’র ওয়েবসাইটে কথোপকথনে হাসিম আমলা সেঞ্চুরিয়নে পিচের চরিত্র বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে বলেন, সেঞ্চুরিয়নে খেলা যত এগোয় ব্যাট করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই ভারত যখন টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৩০০ রান করে, তখন পুরো দায়িত্ব পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের ওপর।

বক্সিং ডে টেস্টে প্রোটিয়া বোলিং লাইন আপকে কাঠগড়ায় তুলে দক্ষিণ আফ্রিকার এই কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান হাসিম আমলার সাফ কথা, “প্রথম ইনিংসে ১৩০ রানে পিছিয়ে পড়া তার জন্য একটি ধাক্কা ছিল এবং এটাই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য তৈরি করেছিল”।

হাসিম আমলা নিজের আন্তজার্তিক ক্রিকেট কেরিয়ারে প্রোটিয়াদের হয়ে ২৮ সেঞ্চুরি সহ ৪৬.৬৪ গড়ে ১২৪ ম্যাচে ৯২৮২ রান করেছেন।

সেঞ্চুরিয়ন টেস্টের প্রথম দিনে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের দুর্দান্ত ব্যাটিং’র প্রশংসা করতে গিয়ে ৩৮ বছর বয়সী আমলা বলেন, “প্রথম দিনের পিচটি ব্যাট করার জন্য সবচেয়ে ভাল লাগছিল এবং এর কৃতিত্ব ভারতীয়দের। তারা সুশৃঙ্খল ক্রিকেট খেলেছেন”।

আগামী ৩ জানুয়ারি চলতি ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে ফ্রিডম ট্রফি সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ জোবার্গের, ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।

প্রয়াত কিংবদন্তী অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন টেস্ট তারকা ক্রিকেটার অ্যাশলে ম্যালেট

Australia Ashley Mallett

Sports Desk: প্রাক্তন টেস্ট স্পিনার অ্যাশলে ম্যালেট ক্যান্সারের সাথে দীর্ঘ লড়াইয়ের পরে ৭৬ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন, শনিবার। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া একজন নম্র মানুষ হিসাবে স্মরণ করা হয় অ্যাশলে ম্যালেটকে। শান্তভাবে কথা বলার স্বভাবের মানুষ অ্যাশলের ডাকনাম ছিল “রাউডি”, এই ডাকনাম তার স্বভাবের একেবারে বিপরীত ছিল।

অ্যাশলে ম্যালেট ১৯৬৮ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তার অভিষেক ঘটে। গোটা ক্রিকেট কেরিয়ারে ৩৮ টি টেস্ট খেলে ২৯.৮৪ গড়ে ১৩২ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ১৯৭২’র অ্যাডিলেডে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৫৯ রানে ৮ উইকেট অস্ট্রেলিয়ায় ফিঙ্গার স্পিনারের হিসেবে অ্যাশলের পারফরম্যান্স আজও প্রশংসিত।

কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে পারফরম্যান্সকে অ্যাশলে ম্যালেটের সর্বশ্রেষ্ঠ পরিসংখ্যান হিসেবে ধরা হয়। ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া টেস্ট সিরিজে ১৯৬৯-৭০ ভারত সফরে, অ্যাশলে ২৮ উইকেট নিয়েছিলেন ভারতের বিরুদ্ধে, যা আজও অস্ট্রেলিয়ার ভারত সফরে অ্যাশলে ম্যালেটের এই পারফরম্যান্সকে একটি বিরল সিরিজ জয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে আলোচিত হয়ে আসে।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান রিচার্ড ফ্রয়েডেনস্টাইন বলেছেন, “অ্যাশলে ম্যালেট একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড়, প্রশংসিত সাংবাদিক এবং অত্যন্ত প্রশংসিত লেখক ছিলেন।” “তিনি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে শুধুমাত্র একজন খেলোয়াড় হিসেবেই নয়, একজন অসাধারণ লেখক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, যিনি সকল সময়ে মানুষের উপভোগ করার জন্য গেমের সেরা কিছু স্মৃতি এবং মুহূর্তগুলোকে সংরক্ষণ করেছিলেন। “অ্যাশলে একজন নম্র স্বভাবের মানুষ ছিলেন যা তার কাজগুলোকে তাঁর সংরক্ষিত ব্যক্তিত্ব জীবনকেও ছাপিয়ে গিয়েছে।”
অ্যাশলে ম্যালেট তার ক্রিকেট কেরিয়ার শেষ হওয়ার পর অনেক তরুণ স্পিনারকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন, স্পিন অস্ট্রেলিয়া প্রোগ্রাম এবং শ্রীলঙ্কায় স্পিন একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রয়াত অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তী ক্রিকেটার অ্যাশলে ম্যালেট ব্যাটিং গ্রেট ভিক্টর ট্রাম্পার এবং সহযোগী স্পিন উইজার্ড ক্ল্যারি গ্রিমেটের জীবনী সহ অসংখ্য বই লিখেছেন।