Covid 19 positive: লিওনেল মেসির কোভিড পজিটিভ রিপোর্ট ঘিরে বিতর্ক

Lionel Messi

সাতবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী লিওনেল মেসি সহ প্যারিস সেন্ট-জার্মেই দলের চারজন খেলোয়াড়ের সোমবার রাতে কোভিড-১৯ (COVID 19) টেস্ট করা হয়। ওই টেস্ট রিপোর্টে মেসি সহ চার ফুটবলারের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ফরাসি কাপ খেলার আগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

শনিবার রাতে এক বিবৃতিতে পিএসজি ক্লাব জানায়,একজন কর্মী সদস্যেরও COVID-19 ছিল। ওই দিন আর কারোরই নাম ছিল না। তবে রবিবার ক্লাবের মেডিকেল নিউজে এক নতুন বিবৃতিতে জানানো হয়, লিওনেল মেসি, লেফট ব্যাক জুয়ান বার্নাট, ব্যাকআপ গোলরক্ষক সার্জিও রিকো এবং ১৯ বছর বয়সী মিডফিল্ডার নাথান বিতুমাজালা কোভিড-১৯ পজিটিভ।

এমন খবরে স্বভাবতই হতাশ হয়ে পড়ে মেসি ভক্তরা। তবে অসমর্থিত সূত্রে খবর, লিওনেল মেসি পরের ম্যাচ লিওনের বিপক্ষে খেলা খেলতে পারবেন।

অসমর্থিত সূত্রে এও খবর, লিও মেসি খ্রীস্টমাসের আগেই কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছিলেন। কিন্তু ওই সময় তিনি সুস্থ বোধ করায় প্যারিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। অসমর্থিত সূত্রের দাবি, রবিবার মোটেও লিওনেল মেসির কোভিড-১৯ টেস্ট করা হয়নি, কিন্তু মেসির ক্লাব লিওনেল মেসির কোভিড-১৯ রিপোর্ট পজিটিভ এমন খবর রবিবার সামনে এনেছে।

Ballon d’Or: সাত সেয়ানের এক সেয়ানে লিওনেল মেসির রেকর্ড “ব্যালন ডি’অরে”

Lionel Messi

Sports desk: সোমবার প্যারিসে এক অনুষ্ঠানে সপ্তমবারের মতো পুরুষদের ব্যালন ডি’অর (Ballon d’Or) পুরস্কার জিতেছেন লিওনেল মেসি। যা এখন রেকর্ড। মহামারীর কারণে গত বছরের পুরস্কার বাতিল হওয়ার আগে মেসি 2019 সালে ব্যালন ডি’অরের শেষ সংস্করণ জিতেছিলেন। মেসি 2009, 2010, 2011, 2012 এবং 2015 সালেও জিতেছিলেন।

34 বছর বয়সী লিওনেল মেসি বার্সেলোনার হয়ে গত মরসুমে 48 ম্যাচে 38 গোল করেছিলেন এবং জুলাইয়ে আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকার গৌরব অর্জনের আগে কোপা দেল রে জিতেছিলেন। এটা ছিল মেসির উজ্জ্বল কেরিয়ারের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা। আগস্টে ক্যাম্প ন্যু থেকে চোখের জলে ভেসে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইতে যাওয়ার আগে বার্সেলোনার সাথে সম্পূর্ণভাবে কাটিয়েছিল।

লিওনেল মেসি এখন পর্যন্ত পিএসজির হয়ে মাত্র 11 ম্যাচে চারটে গোল করেছেন। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে তার অব্যাহত উজ্জ্বলতার জন্য তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন।

মেসি এখন পুরানো প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চেয়ে দুবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন — তাদের মধ্যে তারা গত 13 টি সংস্করণের মধ্যে 12 টি জিতেছে এবং 2018 সালে লুকা মডরিচ পুরস্কার প্রাপ্তি ব্যতিক্রমী।

বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার রবার্ট লেভান্ডোস্কি দ্বিতীয় এবং চেলসি ও ইতালির মিডফিল্ডার জরগিনহো বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের জুরির ভোটে তৃতীয় হয়েছেন। এদিকে রোনালদো এসেছেন ষষ্ঠ স্থানে।
সোমবার প্যারিসে 2021 ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানের বিজয়ীদের তালিকা:

পুরুষদের ব্যালন ডি’অর সেরা 10 জন
1.লিওনেল মেসি (ARG/বার্সেলোনা)
2. রবার্ট লেভান্ডোস্কি (পিওএল/বায়ার্ন মিউনিখ)
3. জর্গিনহো (ITA/চেলসি)
4. করিম বেনজেমা (এফআরএ/রিয়াল মাদ্রিদ)
5. এন’গোলো কান্তে (এফআরএ/চেলসি)
6. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (POR/জুভেন্টাস – ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড)
7. মহ ম্মদ সালাহ (EGY/লিভারপুল)
8. কেভিন ডি ব্রুইন (বিইএল/ম্যানচেস্টার সিটি)
9. কাইলিয়ান এমবাপ্পে (এফআরএ/প্যারিস এসজি)
10. জিয়ানলুইগি ডোনারুম্মা (ITA/AC মিলান – প্যারিস SG)

মহিলাদের ব্যালন ডি’অর সেরা 10 জন
1. আলেক্সিয়া পুটেলাস (ইএসপি/বার্সেলোনা)
2. জেনিফার হারমোসো (ESP/বার্সেলোনা)
3. স্যাম কের (AUS/চেলসি)
4. ভিভিয়ান মিডেমা (NED/আর্সেনাল)
5. লিকে মার্টেনস (NED/বার্সেলোনা)
6. ক্রিস্টিন সিনক্লেয়ার (CAN/পোর্টল্যান্ড স্টর্মস)
7. পার্নিল হার্ডার (DAN/চেলসি)
8. অ্যাশলে লরেন্স (CAN/Paris SG)
9. জেসি ফ্লেমিং (CAN/চেলসি)
10. ফ্রান কিরবি (ইএনজি/চেলসি)

কোপা ট্রফির শীর্ষ ৩ (তরুণ খেলোয়াড়)
1. পেদ্রি (ESP/বার্সেলোনা)
2. জুড বেলিংহাম (ENG/বরুশিয়া ডর্টমুন্ড)
3. জামাল মুসিয়ালা (GER/বায়ার্ন মিউনিখ)

ইয়াশিন ট্রফির শীর্ষ ৩ (গোলরক্ষক)
1. জিয়ানলুইগি ডোনারুম্মা (ITA/AC মিলান – প্যারিস SG)
2. এডুয়ার্ড মেন্ডি (সেন/চেলসি)
3. জান ওব্লাক (এসএলও/অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)

মেসিহীন বার্সার ফুটবল আকাশে নিষেধাজ্ঞার ভ্রুকুটি

Lionel Messi

স্পোর্টস ডেস্ক: সময়টা মোটেও ভাল যাচ্ছে না কাতালানদের। লিওনি মেসির বিদায়ের পর থেকেই ছন্নছাড়া বার্সা ব্রিগেড। ফুটবলারদের মধ্যেও মেসিকে না পাওয়ার শূণ্যতা বার্সেলোনার দৈন্যতাকে আরও বেশি করে প্রকট করে তুলেছে। ফুটবলারদের মন মেসিময়,কিন্তু শরীর আর মনের যুগলবন্দীতে তাল কেটে যাচ্ছে বারে বারে।এরই মধ্যে গোঁদের ওপর বিষ ফোঁড়া। বার্সেলোনার হেড কোচ রোনাল্ড কোম্যান দলের পরের দুই ম্যাচে ডাগ আউটে বসতে পারবেন না। কেননা নিষেদ্ধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ২৩ সেপ্টেম্বর কাদিসের মাঠে গোলশূন্য ড্র করার একদম শেষ মুহূর্তে ডাগ আউটে লাল কার্ড দেখেন কোম্যান।
ওই সময় বার্সার ডাচ কোচকে যথেষ্ট উত্তেজিত হতে দেখা গিয়েছিল। সেই ঘটনার শাস্তির খাঁড়া হিসেবে দুই ম্যাচের নিষেদ্ধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে তাঁর ওপর।
ফলে আগামী দুই ম্যাচ দলের সঙ্গে ডাগআউটে বসতে পারবেন না কোম্যান। এই নিষেধাজ্ঞাটি বাড়তি এক ম্যাচের জন্য। কেননা লাল কার্ড দেখায় এমনিতেই এক ম্যাচ বাইরে থাকতে হতো কোম্যানকে। এর সঙ্গে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন যোগ করেছে আরও এক ম্যাচ। চতুর্থ রেফারির সঙ্গে অভব্য ব্যবহারের কারণে দেওয়া হয়েছে এই শাস্তি।
ম্যাচ শেষে এই নিষেদ্ধাজ্ঞার বিষয়ে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বার্সেলোনা হেড কোচ রোনাল্ড কোম্যান বলেন, “এই দেশে (স্পেনে) তারা কিছু না করতেই আপনাকে (লাল কার্ড দেখিয়ে) বের করে দেয়। আমি জিজ্ঞেস করলাম কেনো? সে (রেফারি) বললো, “এটিচ্যুড! এটিচ্যুড!” যাই হোক আমরা এটি নিয়ে আর কথা বাড়াতে চাই না। “
এখন দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কোচকে পাবে না বার্সেলোনা। রবিবার রাতে ঘরের মাঠে লেভান্তে এবং আগামী রবিবার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে কঠিন ম্যাচ দর্শক আসনে বসে দেখতে হবে বার্সা কোচকে।

চিরশত্রু ব্রাজিলকে হারিয়ে ট্রফি জয়ের শাপমুক্তি মেসির

Lionel-Messi

রিও ডি জেনেইরো: ক্লাব ফুটবলে প্রতিটি ট্রফি জিতেছেন৷ বার্সেলোনার হয়ে জেতা ট্রফিতে ড্রয়িংরুম উপচে পড়ছে লিওনেল মেসির। তবে দেশের জার্সিতে ট্রফি জিততে না-পারার আক্ষেপ অবশেষে মিটল আর্জেন্তাইন সুপারস্টারের৷ রবিবাসরীয় সকালে মেসির হাত ধরেই আর্জেন্তিনা ফুটবলের নতুন সূর্যোদয় দেখলেন ফুটবলপ্রেমীরা৷ মারাকানায় ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন হল আর্জেন্তিনা। সেই সঙ্গে প্রথমবার দেশকে খেতাব এনে দিয়ে শাপমুক্তি হল মেসি’র৷

২৮ বছর পর প্রথম কোনও বড় টুর্নামেন্টে খেতাব জিতল আর্জেন্তিনা। সেই সঙ্গে দেশের জার্সিতে প্রথম ট্রফি জয়ের স্বাদ পেলেন মেসি৷ শেষবার ১৯৯৩ সালে কোপা আমেরিকা খেতাব জিতেছিল আর্জেন্তিনা। এবার জিতে স্পর্শ করল কোপা আমেরিকায় সর্বাধিক ১৫ বার খেতাব জয়ের রেকর্ডধারী উরুগুয়েকে ছুঁল তারা৷ এর আগে দেশের হয়ে একটি বিশ্বকাপ ও তিনটি কোপা আমেরিকার ফাইনালে খেলেছিলেন মেসি। প্রতিবারই ফিরেছিলেন শূন্য হাতে। তবে এবার আর খালি হাতে নয়, সাফল্যের ঝুলি ভরে দেশে ফিরছেন মেসি৷ দেশকে চ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সাফল্যে জিতেছেন গোল্ডেন বুট৷

ফাইনালের আগেই মেসি ও নেইমারকে যৌথভাবে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় ঘোষণা করে কোপা আমেরিকার আয়োজক কনমেবল। ৪ গোলের সঙ্গে ৫ অ্যাসিস্টের জন্য মেসি জিতেছেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার। সময়ের সেরা ছাপিয়ে অনেকে মেসিকে সর্বকালের সেরার তালিকায় রাখেন। ফুটবল কিংবদন্তি পেলে ও মারাদোনার চেয়েও তাঁকে বড় করে দেখেন অনেক বিশেষজ্ঞ। কিন্তু এতদিন দেশের হয়ে কোনও ট্রফি না-থাকায় মেসিকে শুনতে হয়েছিলও অনেক সমালোচনাও৷

কোপা আমেরিকা খেতাব জয়ে আর্জেন্তিনার ২৮ বছরের ট্রফি জয়ের খরা কাটিয়ে মেসি যে বিশ্বজয়ী পেলে, মারাদোনাকে ছাপিয়ে গিয়েছেন এমন নয়। তবে সর্বকালের সেরার আলোচনায় মেসির উপস্থিতি থাকবে এমনটা বলাবাহুল্য। ছ’ ব্যালন ডি’অর জয়ের রেকর্ড আগে থেকেই ছিল মেসির। কোপা আমেরিকার মুকুট মাথায় ওঠার পর সম্ভবত সপ্তমটিও আসতে আর্জেন্তাইন সুপারস্টারের দখলে।

২০১৪ সালে এই মারাকানাতে জার্মানির বিরুদ্ধে হেরে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হয় মেসি৷ সেই মাঠেই কোপা জিতে বিশ্বকাপ হাতছাড়া হওয়ার ক্ষতে কিছুটা হলেও প্রলেপ লাগালেন মেসি৷ ব্রাজিল বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হিসেবে গোল্ডেন বল জিতেছিলেন মেসি। কিন্তু ট্রফি জিততে না-পারায় হতাশায় সেদিন সেলিব্রেশন করেননি আর্জেন্তাইন ফুটবলের রাজপুত্র৷

এদিন কোপা আমেরিকা ট্রফি জেতার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতায় মেসিকে আনন্দে উদ্বেলিত সতীর্থরা৷ ট্রফি জয়ের পরেই মেসিকে নিয়ে মারাকানায় সেলিব্রেশনে মেতে ওঠে টিম আর্জেন্তিনা। মেসিকে কাঁধে নিয়ে তারপর শূন্যে ছুঁড়ে আবেগের বিস্ফোরণ ঘটান সতীর্থরা৷ ম্যাচ জিতেই মাঠের মধ্যে মেসিকে ঘিরে চলে মার্টিনেজ, আগুয়েরোদের উচ্ছাস। গ্রুপ ও নক-আউট পর্ব মিলিয়ে ছ’ ম্যাচের সবকটিতেই খেলেছেন আর্জেন্তিনা অধিনায়ক। এই ছয় ম্যাচের চারটিতেই ম্যাচ সেরা হয়েছেন মেসি। তাঁর চোখে এদিন আনন্দের বিস্ফোরণ হলেও একসময়ে বার্সেলোনায় ব্রাজিলীয় সতীর্থ নেইমারের চোখে জল দেখে স্থির থাকতে পারেন আর্জেন্তাইন তারকা৷ নেইমারকে বুকে জড়িয়ে সান্ত্বনা দিতে দেখা গিয়েছে মেসিকে৷

তিন দশকের অপেক্ষার অবসান, কোপা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্তিনা

copa-argentina

রিও ডি জেনেইরো: ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান। ১৯৯৩ সালের পর প্রথমবার ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকায় খেতাব জয় আর্জেন্তিনার। অতীতের গ্লানি, হতাশাকে এক লহমায় বদলে দিলেন অ্যাঞ্জেল ডি’ মারিয়া৷ তাঁর একমাত্র গোলেই স্বপ্ন সফল লিওনেল মেসির৷ রবিবার সকালে মারাকান স্টেডিয়ামে হলুদ ঝড় থামিয়ে কোপা চ্যাম্পিয়ন হল আর্জেন্তিনা৷

২৮ বছর পর প্রথম কোনও বড় টুর্নামেন্টে খেতাব জিতল আর্জেন্তিনা। সেই সঙ্গে দেশের জার্সিতে প্রথম ট্রফি জয়ের অনন্য স্বাদ পেলেন মেসি৷ আর্জেন্তিনা শেষবার ১৯৯৩ সালে কোপা আমেরিকা খেতাব জিতেছিল। এবার জিতে স্পর্শ করল কোপা আমেরিকায় সর্বাধিক ১৫ বার খেতাব জয়ের রেকর্ডধারী উরুগুয়েকে ছুঁল আর্জেন্তিনা৷ ব্রাজিলের মাটিতে সেলেকাওদের হারানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ জিতল মেসি অ্যান্ড কোং৷ ডি’ মারিয়ার গোলে কোপা আমেরিকায় খেতাব জিতল লিওনেল স্কালোনির দল। ফাইনালে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্তিনা।

১৯৩৭ সালের পর কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলকে হারানোর স্বপ্ন সফল হল আর্জেন্তিনার।
পরপর দু’বার ফাইনালের চিলির কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল মেসির৷ অবশেষে আর্জেন্তিনার জার্সি গায়ে প্রথম খেতাব জয়ের স্বাদ পেলেন এমএল১০৷ সেমিফাইনালের পর ফাইনালেও আসল সময়ে জ্বলে ওঠেন আর্জেন্তাইন গোলরক্ষক মার্টিনেজ। ৮৭ মিনিটে গ্র্যাবিয়েল বারবোসার গোলমুখী শট পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক থেকে সেভ করে ফের নিজের জাত চেনালেন তিনি। আর আগের কয়েক ম্যাচে বদলি নেমে আলো ছড়ানো ডি’ মারিয়া ফাইনালে প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়েই নায়ক হলেন। তাঁর একমাত্র গোলেই খেতাব জয় আর্জেন্তিনা৷ ২১ মিনিটে নিজেদের প্রথম সুযোগেই সাম্বা ঝড় থামিয়ে দেন ডি’মারিয়া। নিজেদের অর্ধ থেকে রদ্রিগো দে পলের পাস রিসিভ করে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠান আর্জেন্তাইন মিডফিল্ডার।

গত বিশ্বকাপের পর এই প্রথম আর্জেন্তিনার হয়ে গোল পেলেন ডি’ মারিয়া। ২০০৫ কনফেডারেশন্স কাপের ফাইনালের পর এই প্রথম কোনও ফাইনালে গোল পেল দু’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। প্রথমবার দেশের মাটিতে কোপা আমেরিকা খেতাব জিততে ব্যর্থ হল ব্রাজিল৷ আগের পাঁচবারই ট্রফি জিতেছিল তারা। লাতিন আমেরিকার সেরা টুর্নামেন্টে দেশের মাটিতে ১৯৭৫ সালের পর এই প্রথমবার খেতাব হাতছাড়া হল ব্রাজিলের।

ফাইনালে আর্জেন্তিনা, মার্টিনেজে মুগ্ধ মেসি

ব্রাসিলিয়া: দেশকে প্রথমবার খেতাব জেতার লক্ষ্যে সাম্বার দেশে পা-রেখেছেন লিওনেল মেসি৷ ফাইনালে আর্জেন্তিনার খেতাব জয়ের সামনে সেই ব্রাজিল৷ গতবার ফাইনালে নেইমারদের কাছে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল মেসির৷ তবে আর্জেন্তিনার ফাইনালে ওঠার নায়ক মেসি নন, নায়ক হলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। পেনাল্টি শুট-আউটে তিনটি সেভ আর্জেন্তিনাকে ফাইনালে তুললেন তিনি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে খেলা ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর টাই-ব্রেকারে গড়ায় ম্যাচ। এই পর্বে মার্টিনেজের বীরত্বে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্তিনা। ব্রাসিলিয়ার মানে গারিঞ্চা স্টেডিয়ামে বুধবার সকালে নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ড্র হওয়ার পর টাই-ব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জেতে মেসি অ্যান্ড কোং৷

টাই-ব্রেকার এড়াতে চেয়েছিলেন আর্জেন্তাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। কিন্তু সেমিফাইনালে সেই ভাগ্য পরীক্ষার মধ্য দিয়েই যেতে হল মেসিদের৷ যাতে ব্যবধান গড়ে দিলেন মার্টিনেস। কলম্বিয়ার তিনটি শট ঠেকিয়ে দলকে কোপা আমেরিকার ফাইনালে তোলার নায়ক এই গোলরক্ষক। আগামী রবিবার রিও ডি জেনেইরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে খেতাব নির্ণায়ক ম্যাচে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে আর্জেন্তিনা।

কোয়ার্টার ফাইনালে টাই-ব্রেকারে উরুগুয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল কলম্বিয়া। হুয়ান কুয়াদরাদোর প্রথম শট গোল হলেও। দাভিনসন সানচেস ও ইয়েরি মিনার পরের দু’টি শট বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন মার্টিনেজ। মিগুয়েল বোরহার বুলেট গতির শট আটকাতে না-পারলেও কারদোনার শট বাঁ-দিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন মার্টিনেজ। সেই সঙ্গে ফাইনালে ওঠার উচ্ছ্বাসে মাতেন আর্জেন্তাইন ফুটবলাররা৷

ম্যাচের পর দলের গোলরক্ষকের মার্টিনেজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মেসি বলেন, ‘আমাদের দলে এমি রয়েছে, যে একটা ফেনোমেনন। আমরা ওর ওপর আস্থা রেখেছিলাম। ফাইনালে পৌছনোর পাশপাশি টুর্নামেন্টের সবক’টি ম্যাচ খেলার আমাদের লক্ষ্যও পূর্ণ হল।’ ‘ফেনোমেনন’, শব্দটা শুনলেই ব্রাজিলের ৯ নম্বর জার্সি গায়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে তছনছ করে দেওয়া রোনাল্ডোর কথা মনে পড়ে। তবে কোপা সেমিফাইনালের রাতে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে আর্জেন্তিনাও নিজেদের ‘ফেনোমেনন’-কে পেল আর্জেন্তিনা৷

আক্রমণাত্মক শুরু করা আর্জেন্তিনা এগিয়ে যেতে পারত ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে। বল পায়ে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে কলম্বিয়ার ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মেসি। খুঁজে নেন পেনাল্টি স্পটের কাছে থাকা গনসালেসকে। কিন্তু তাঁর হেড অল্পের জন্য লক্ষভ্রষ্ট হয়। তবে গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি আর্জেন্তিনাকে। সোলসোর কাছ থেকে ডি-বক্সে বল পেয়ে যান মেসি। কলম্বিয়ান এক ডিফেন্ডার বলে পা-ছোঁয়ালেও দ্রুতই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মেসি পাস বাড়ান মার্টিনেজকে। সুযোগ হাতছাড়া করেননি তিনি৷ ফলে ম্যাচের সপ্তম মিনিটে এগিয়ে যায় দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

চলতি টুর্নামেন্টে এটি মেসির পঞ্চম অ্যাসিস্ট৷ কোপা আমেরিকার ইতিহাসেই যা সর্বোচ্চ। এ নিয়ে কোপায় আর্জেন্টিনার শেষ ১১ গোলের নয়টাতেই থাকল মেসির অবদান। পরের মিনিটেই সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ ছিল কলম্বিয়ার সামনে। বাঁ-দিক থেকে ক্রস ডি-বক্সে পেয়ে যান কুয়াদরাদো। কিন্তু তাঁর রুখে দেন আর্জেন্তাইন গোলরক্ষক। প্রথমার্ধে আর্জেন্তিনা এগিয়ে থেকে মাঠ ছাড়লেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কলম্বিয়াকে সমতায় ফেরান লুইজ দিয়াজ৷ ম্যাচের শেষ তিরিশ মিনিট কোনও দলই গোল করতে পারেনি৷ ফলে ম্যাচ গড়ায় টাই-ব্রেকারে৷ আর এতে বাজিমাত করে আর্জেন্তিনা৷

রোনাল্ডোকে ছাপিয়ে নতুন রেকর্ড মেসি’র

Sports News

রিও ডি জেনেইরো: আর্জেন্তিনা তথা জাতীয় দলের জার্সি গায়ে প্রখম খেতাব জয়ে মরিয়া লিওনেল মেসি৷ ক্লাব ফুটবলের ‘বেতাজ বাদশা’ এখনও দেশকে কোনও বড় ট্রফি দিতে পারেননি৷ এবারের কোপা আমেরিকায় ‘বদনাম’ ঘোচানোর দারুণ সুযোগ৷ ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে অপ্রতিরোধ্য ফর্মে ছিলেন ‘ফুটবলের রাজপুত্র’। ফ্রি-কিক থেকে দুরন্ত গোলের পাশাপাশি দলের অপর দু’টি গোলেও অবদান ছিল মেসির৷ ক্যাপ্টেনের দুরন্ত পারফরম্যান্সে ইকুয়েডরকে ৩-০ হারিয়ে কোপার সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্তিনা৷

মেসির বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ, আর্জেন্তিনা হয়ে বড় টুর্নামেন্টের নক-আউট পর্বে জ্বলে উঠতে পারেন না তিনি! কিন্তু ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে কোপার কোয়ার্টার ফাইনালে গোল করে ও করিয়ে তা ভুল প্রমাণ করলেন মেসি৷ রদ্রিগো দি পল এবং লাউতারো মার্তিনেসরের গোলে অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে গোল করে সমর্থকদের মন কেড়েছেন আর্জেন্তাইন অধিনায়ক৷

আর্জেন্তিনাকে এখনও ট্রফি জেতাতে পারেননি সত্যি। তবে দিয়েগো মারাদোনার পর মেসির ওপরই বেশি ভরসা করেছেন আর্জেন্তাইন সমর্থকরা৷ বিশ্বকাপ কিংবা কোপা আমেরিকার বড় মঞ্চে মেসি আর্জেন্তিনার হয়ে কিছু করতে পারেন না, এটা মেনে নেওয়া কঠিন৷ প্রশ্নটা অবান্তর মনে হবে, রেকর্ডে চোখ বোলালে। বিশ্বকাপ আর মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নশিপ৷ দুই বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এখন সবচেয়ে বেশি গোলে অবদানের রেকর্ড মেসির দখলে। ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে গোল করে ও করিয়ে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনাল্ডো নাজারিওকে টপকে গিয়েছেন মেসি।

এখন পর্যন্ত চারটি বিশ্বকাপ খেললেও নক-আউট পর্বে ৮ ম্যাচে মাঠে নেমেও কোনও গোল করতে পারেননি মেসি৷ গোল করিয়েছেন শুধু তিনটি। আর এবারের কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালে ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে ফ্রি-কিক থেকে চোখধাঁধানো গোল করার পাশাপাশি, দলের বাকি দুই গোলও সহায়তা করেছেন তিনি৷ ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে ম্যাচে নামার আগে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনাল্ডোর সঙ্গে বড় টুর্নামেন্টের নক-আউট পর্বে গোলে অবদানের রেকর্ডের শীর্ষস্থানে ভাগ বসিয়েছিলেন মেসি। দু’জনেরই গোলে অবদান ছিল ১৭টি। আর ইকুয়েড-আর্জেন্তিনা ম্যাচের পর নক-আউট পর্বে মেসির গোলে অবদান ২০টি৷ যার মধ্যে তিনি গোল করেছেন ৫টি ও করিয়েছেন ১৫টি। রোনাল্ডো নাজারিও-র ১৭ গোলে অবদানের মধ্যে গোল করেছেন ১৩টি ও করিয়েছেন ৪টি।

এছাড়াও ব্রাজিলের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার রোনাল্ডোকে ছাপিয়ে গিয়েছেন মেসি। ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে নিজে গোল করে ও সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়ে প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে সর্বাধিক গোলে অবদান রাখা ‘দ্যা ফেনোমেনন’ খ্যাত ব্রাজিলিয়ান রোনাল্ডোর ৪০ গোলের রেকর্ডে টপকে গিয়েছেন ছ’বারের বর্ষসেরা এই ফুটবলার। এতদিন বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও ফিফা কনফাডেরশন্স কাপ মিলিয়ে এতদিন ৩৭ ম্যাচে ৪০ গোল করে এই তালিকায় শীর্ষে ছিলেন রোনাল্ডো৷ দু’টি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন বুট জয়ী ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই স্ট্রাইকার বিশ্বকাপে ১৯ ম্যাচে ১৫ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও ৫টি গোল করেছেন। এছাড়াও লাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের আসর কোপা আমেরিকায় ১০টি গোল করার পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করেছেন ৪টি। কনফাডেরশন্স কাপে অর্থাৎ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্টে ৫ ম্যাচে ৪টি গোল করে ও সতীর্থদের দিয়ে ২টি গোল করিয়েছেন।

আর ইকুয়েডর ম্যাচের পর মেসি বড় টুর্নামেন্টে ৫১ ম্যাচে ৪২ গোলে অবদান রাখলেন। আর্জেন্তিনার হয়ে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকায় ১৯ গোলের পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে ২৩টি গোল করিয়েছেন। আকাশী নীল জার্সি গায়ে বিশ্বকাপে ১৯ ম্যাচে ৬টি গোলের পাশাপাশি ৭টি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন৷ কোপা আমেরিকায় ৩২ ম্যাচে ১৩ গোলের পাশাপাশি আরও ১৬ গোলেও সহায়তা করেছেন আর্জেন্তাইন তারকা ফুটবলার৷

আর্জেন্তিনাকে সেমিফাইনালে তোলার প্রতিদানে গুঁতো খেলেন মেসি

রিও ডি জেনেইরো: দেশকে প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি দেওয়ার লক্ষ্যে আরও একধাপ এগোলেন লিওনেল মেসি৷ ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে অপ্রতিরোধ্য ফর্মে ছিলেন ‘ফুটবলের রাজপুত্র’। ফ্রি-কিক থেকে দুরন্ত গোলের পাশাপাশি দলের অপর দু’টি গোলেও অবদান ছিল মেসির৷ অধিনায়কের দুরন্ত পারফরম্যান্সে ইকুয়েডরকে ৩-০ হারিয়ে কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্তিনা৷ কিন্তু দলকে শেষ চারে তোলার প্রতিদান স্বরূপ সজোরে গুঁতো খেললেন মেসি৷

কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি গোল, সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট করে অন্যদের থেকে এগিয়ে রয়েছেন মেসি। ফলে আর্জেন্তাইন অধিনায়কের সামনে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার এবং সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতির হাতছানি। এবারের কোপায় পাঁচ ম্যাচে চারবার ম্যাচ সেরার ট্রফি উঠেছে তাঁর হাতে। ৪টি গোল করা ও অ্যাসিস্ট করে দু’টিতেই তিনি শীর্ষে। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের স্রোতে একটুও গা-ভাসাতে চান না মেসি। আর্জেন্তাইন অধিনায়কের লক্ষ্য একটাই, দেশকে ট্রফি দেওয়া। সেই লক্ষ্য পূরণের পথে মেসির পায়ের জাদুতে আরও এক ধাপ এগিয়েছে আর্জেন্তিনা৷

প্রথমার্ধে সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে একা পেয়েও জালে বল জড়াতে পারেননি মেসি৷ বল মারেন পোস্টে। কিন্তু সময় যতই গড়িয়েছে, ততই জ্বলে উঠেছেন তিনি৷ রদ্রিগো দি পল এবং লাউতারো মার্তিনেসর দু’জনের গোলে অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে দুর্দান্ত ফ্রি কিকে গোল করে সমর্থকদের মন কেড়েছেন মেসি৷

আর্জেন্তিনার সিনিয়র দলের জার্সি গায়ে নিজের প্রখম খেতাব জয়ে মরিয়া ‘এলএম ১০’। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর পারফরম্যান্সে সতীর্থ, সাপোর্ট স্টাফ এবং সমর্থক সকলেই আপ্লুত অধিনায়কের পারফরম্যান্সে। তবে এই আনন্দের বহিঃপ্রকাশেই বিপত্তি। ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে মেসির পারফরম্যান্সে আপ্লুত আর্জেন্তিনা দলের সাপোর্ট স্টাফ তথা কিট ম্যানেজার মারিও ডি’স্টেফানো৷ খেলা শেষ হওয়ার পর রিজার্ভ বেঞ্চের কাছে উচ্ছ্বাস করছিলেন মেসি, তখনই দ্রুত দৌড়ে গিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন ডি’স্টেফানো। লিও-কে জড়িয়ে ধরতে গিয়েই সজোরে তাঁর চোখের ঠিক ওপরে গুঁতো মারেন তিনি। ব্যাথা জায়গায় হাত বোলাতে দেখা যায় মেসিকে। সঙ্গে সঙ্গে মেসির ব্যাথ্যা জায়গায় হাত বুলিয়ে দেন ডি’স্টেফানো৷

কোপা আমেরিকার অফিসিয়াল টুইটার পেজে এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করা হয়৷ যাতে লেখা হয়, ‘ভালোবাসা যা আঘাত দেয়। কিন্তু ১০ নম্বরকে নিয়ে আরও সতর্ক থাকতে হবে’। আগামী বুধবার সেমিফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ফুটবলের রাজপুত্রের পায়ে ফের একবার ‘জাদু’ দেখার জন্য মুখিয়ে থাকবেন মেসি ভক্তরা৷