কে মেয়র, মমতার রহস্যের আড়ালে ববির মুচকি হাসি

mamata banerjee

News Desk, Kolkata: মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভায় সবুজের ঝড় তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর থেকেই নতুন মেয়র কে হবে তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, মঙ্গলবার অসমের কামাখ্যা মন্দিরে দর্শনে গিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে তিনি জানিয়েছেন, আগামী ২৩ ডিসেম্বর দুপুর ২ টোয় মহারাষ্ট্র ভবনে সকল জয়ী প্রার্থীদের উপস্থিতিতে নতুন মেয়রের নাম প্রস্তাব করা হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে এবং সকলের মত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম পুরভোটে জয়লাভ করেছেন। ফলে আগামী মেয়র হিসেবে তাঁর নামই অগ্রাধিকার পেয়েছে। যদিও ফিরহাদ হাকিম নিজেকে দলের ‘অনুগত সৈনিক’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন। তাঁর কথায়, দলের হয়ে যেকোনো কাজই নিষ্ঠার সাথে করতে রাজি তিনি। নতুন মেয়রের পদের জন্য উঠে এসেছে ৪৪ নং ওয়ার্ডের জয়ী প্রার্থী মালা রায়ের নামও। তবে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নতুন মেয়রের নাম জানতে এখনও আরও একটি দিন অপেক্ষা করতে হবে বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এখনই গোটা দেশে NRC কার্যকর হচ্ছে না, জানাল কেন্দ্র

union minister

News Desk: এখনই গোটা দেশে এনআরসি (NRC) বা জাতীয় নাগরিকপঞ্জি কার্যকর করার কোনও পরিকল্পনা নেই সরকারের। মঙ্গলবার সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে জানালেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই।

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মালা রায় কেন্দ্রের কাছে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি সম্পর্কে জানতে চান। সাংসদ প্রশ্ন করেন,দেশে কবে থেকে এনআরসি চালু হবে? প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এখনই দেশজুড়ে এনআরসি কার্যকর করার কোনও পরিকল্পনা কেন্দ্রের নেই।

উল্লেখ্য,এনআরসি নিয়ে রক্তাক্ত চেহারা নিয়েছিল অসম। এনআরসি বিরোধিতা করে দেশজুড়ে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু করেছিল বিরোধীরা। ঘটনার জেরে এনআরসি এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ নিয়ে ধীরে চলো নীতি নিয়েছে মোদী সরকার।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত শুধু অসমে এনআরসি কার্যকর হয়েছে। ২০১৯-এর ৩১ অগাস্টে অসমে এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে গোটা দেশে এখনই এনআরসি বা জাতীয় নাগরিকপঞ্জি কার্যকর করার কোনও চিন্তা-ভাবনা নেই সরকারের।

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ ব্যাপারে ২০১৯ সালের ১২ ডিসেম্বর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। ২০২০ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ইতিমধ্যেই এই আইন চালু হয়েছে।

এনআরসি ও সিএএ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটে তীব্র আক্রমনাত্মক ছিলেন বিজেপির হয়ে প্রচারে আসা অমিত শাহ, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। অপর দিকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন তীব্র বিরোধিতায়। এনআরসি ও সিএএ বিরোধিতা করে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস। রাজ্যের নাগরিক সমাজের বড় অংশ এই নিয়ম প্রয়োগের বিরোধিতা করেন। প্রচারে বিজেপি বারবার দাবি করে রাজ্যে ক্ষমতায় এলে লাগু হবে এনআরসি।

বিজেপি বিরোধীরা অসমের উদাহরণ টেনে দেখান সে রাজ্যে এনআরসি ও সিএএ প্রয়োগে বাংলাভাষীদের চরম দূর্দশার চিত্র। অসমে যে ১৯ লক্ষ মানুষ এন়ারসিতে কাটা পড়েছেন তাদের বেশিরভাগ হিন্দু। ফলে চরম বিড়ম্বনায় পড়ে বিজেপি। তবে অসমে বিজেপি সরকার ধরে রেখেছে। অভিযোগ, এনআরসি ও সিএএ নিয়ে সে রাজ্যে দুর্দশার কবলে পড়া বাংলাভাষী সমাজ ক্ষুব্ধ। তারা অচিরেই বিজেপি থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাঙালি সংগঠনগুলি।