Bangladesh: দুর্গাপূজায় সাম্প্রদায়িক হামলার বিচারবিভাগীয় তদন্ত শুরু হচ্ছে

bangladesh durga puja violence

News Desk: বাংলাদেশে দুর্গাপূজার সময় পাঁচ জেলায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাসস্থান ও উপাসনালয়ে হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। বিচারপতি মহ. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহ. কামরুল হোসেন মোল্লার বেঞ্চ আজ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন।

গত ২১ অক্টোবর সারা দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাসস্থান ও উপাসনালয়ে হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। রিটে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং হিন্দু সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ দোষী সরকারি কর্মকর্তাদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ চাওয়া হয়।

রিট আবেদনে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে এমন সব ধরনের পোস্ট ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে অপসারণের নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার সাহা ও মিন্টু চন্দ্র দাস এই রিট দায়ের করেন।

দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে কোরান শরিফ রেখে হামলা ছড়ানো হয়েছিল। এর জেরে পাঁচটি জেলায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলা হয়। হামলা রুখতে পুলিশ গুলি চালায়। গুলিতে ৫ হামলাকারী মারা গেছে। হামলায় খুন হয়েছেন দুই সংখ্যালঘু।

তদন্তে নেমে পুলিশ গ্রেফতার করেছে পূজামণ্ডপে কোরান রেখে হামলা ছড়ানো ব্যক্তি ইকবাল হোসেনকে। আর ভুল ভিডিও দেখিয়ে সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়ানোর অভিযোগে জেলে পাঠানো হয়েছে ঢাকার বদরুন্নেসা কলেজের অধ্যাপিকা রুমা সরকারকে।

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, দুর্গাপূজায় হামলা পূর্ব পরিকল্পিত। দোষী কেউ ছাড় পাবে না।

হাইকোর্টে রিট আবেদনে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি সচিব, সমাজ কল্যাণ সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, রংপুর ও ফেনীর জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারসহ ১৯ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

Bangladesh: ‘কেন দুর্গাপূজা আসে গো’…হামলায় পোড়া বাড়ি থেকে আসছে ভয় মেশানো কান্না

Rangpur violence Durga puja violence minority hindu

বিশেষ প্রতিবেদন, ঢাকা: রাতভর হামলা চলেছে বাংলাদেশের রংপুরের বিভিন্ন সংখ্যালঘু হিন্দুপল্লীতে। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় একাধিক বাড়িতে। সোমবার সকাল হতেই ভয়াবহ পরিস্থিতি কতটা তার টের পাচ্ছে বাংলাদেশবাসী।

রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার মাঝি পাড়ায় পরপর বাড়িতে আগুন ধরানো হয়েছে। দুটি গ্রামে ৫০ থেকে ৬০ টি হিন্দু বাড়ি ও মন্দিরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে।

পুড়ে যাওয়া বাড়ির সামনে কাঁদছেন মহিলারা। সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়ছে সেই দৃশ্য। কাঁদতে কাঁদতে এক মহিলারা চিৎকার কেন দুর্গাপূজা আসে গো…!

রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার, ফেনীর পুলিশ সুপার সহ ৭ কর্মকর্তাকে বদলি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, হামলাকারীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
রংপুরে হামলা ও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার পিছনেও সেই ধর্মীয় উস্কানি। অভিযোগ, পীরগঞ্জের স্থানীয় এক কিশোর ফেসবুক পোস্ট করে ধর্মীয় অবমাননা করেছে। এই উস্কানিতেই রবিবার রাতে পীরগঞ্জে পকপর হিন্দু মহল্লায় হামলা হয়। রাতেই জেলা প্রশাসনিক কর্তারা ঘটনাস্থলে যান। বিরাট পুলিশ বাহিনী যায়। হামলাকারীরা পালায়। পরে ফের তারা হামলা চালায়।

দুর্গাপূজায় পরপর হামলার কারণে বাংলাদেশে বিষাদময় পরিবেশ। কোরান শরিফ অবমাননার অভিযোগে কুমিল্লা থেকে শুরু হয়েছিল সাম্প্রদায়িক হামলা। দুর্গাপূজার মধ্যেই চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, নোয়াখালীতে পরপর হামলা চালানো হয়। ধর্মীয় গ্রন্থ অবমাননার অভিযোগে ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে বের হওয়া বিক্ষোভ মিছিল ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ গুলি চালায় কয়েকজন মারা যান। আর হামলাকারীদের হাতে খুন হন দুজন। সবমিলে ৬ জন মৃত। এসবের মধ্যেই রংপুরে হিন্দু পল্লীতে হামলার ঘটনা আরও বিতর্ক উস্কে দিয়েছে।

Bangladesh: পূজামণ্ডপে হামলার পর সংখ্যালঘু হিন্দুপল্লীতে আগুন, রংপুরে জ্বলছে গ্রাম

Communal-tension

নিউজ ডেস্ক:  কোরান অমাননার মতো ভুয়ো অভিযোগ ও গুজবকে কেন্দ্র করে দুর্গামণ্ডপে হামলার রেশ ধরে বাংলাদেশে ফের আক্রান্ত সংখ্যালঘু হিন্দুরা। এবার রংপুরে একটি গ্রাম জ্বালিয়ে দিল হামলাকারীরা। অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা হয়েছে। প্রশাসন প্রায় নির্বিকার।

রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার মাঝি পাড়ায় পরপর বাড়িতে আগুন ধরানো হয়েছে। দুটি গ্রামে ৫০ থেকে ৬০ টি হিন্দু বাড়ি ও মন্দিরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে।

Communal-tension

রংপুরের জেলা শাসক আসিফ আহসান জানান ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে করিমগঞ্জ গ্রামে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার খবর পেয়ে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে ছুটে যাই এবং পরিস্থিতি শান্ত করি। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে দুর্বৃত্তরা পীরগঞ্জের কয়েকটি গ্রামের কিছু হিন্দু বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় কোরান ‘অবমাননা’ করা হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলা চলছে। কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামে পরপর দুর্গা প্রতিমা, মন্দির ও স্থানীয় সংখ্যালঘুদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে মোট মৃত ৬ জন। মৃতদের বেশিরভাগই চাঁদপুরের হামলাকারী বলে বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের জানান,সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের খুঁজে বের করা হচ্ছে।

Bangladesh: পূজামণ্ডপে হামলা, খুনের অভিযোগে ৪ হাজার ‘আসামি’ বাংলাদেশে!

Security heightened across Bangladesh for Durga Puja celebrations

নিউজ ডেস্ক: হাজার হাজার আসামি। সবার যে নাম আছে তাও নয়। বাংলাদেশ সরকার তদন্ত করছে পূজামণ্ডপে পরপর হামলা, খুনের পিছনে কারা জড়িত। বিবিসি জানাচ্ছে, কুমিল্লায় একটি পূজামণ্ডপে কোরান পাওয়ার পর ওই ঘটনার জের ধরে বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা হয়েছে। এই সংখ্যা চার হাজারের অধিক।

ঢাকা, কুমিল্লা, ফেনি, কিশোরগঞ্জ, চাঁদপুর সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলা, পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বিবিসি জানাচ্ছে পূজামণ্ডপগুলিতে হামলায় জড়িত সন্দেহে করা হাজার হাজার মামলায় কারও কারও নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আর অজ্ঞাতনামা হিসাবে শতাধিক থেকে শুরু করে কয়েক হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। গত বুধবার দুর্গাপূজার সময় থেকে শুরু হওয়া হিংসাত্মক ঘটনায় ৬ জন নিহত। জখম হয়েছেন কয়েকশো।

ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে কুমিল্লায় পূজামণ্ডপ ভাঙার পর চাঁদপুর হয়েছে রক্তাক্ত। সেই রেশ ধরে ঢাকায় পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীদের সংঘর্ষ হয়। এই ঘটনায় আসামি চার হাজারের বেশি। বিবিসি জানাচ্ছে, গত শুক্রবার ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ঢাকায় বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে মিছিল বের করে বিক্ষোভকারীরা। তাদের বাধা দেয় পুলিশ। এর পরেই সংঘর্ষে জড়ায় মিছিলকারীরা।পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ার সেল ও শটগানের গুলি ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসব মামলায় সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।

বাংলাদেশে দুর্গাপূজা মণ্ডপে পরপর হামলা, খুন,পুলিশের গুলি চালনা সবমিলে পরিস্থিতি তীব্র বিতর্কিত। সরকার কেন নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলেও কিছু ব্যবস্থা করেনি এই অভিযোগ বড় করে উঠে আসছে।

প্রবল চাপের মুখে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন ‘কোনও কারণ ছাড়া পূজামণ্ডপগুলোতে অস্থিরতা হয়নি। এর পেছনে নিশ্চয় কোনও কারণ আছে’। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। যারা এর সাথে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। দুর্গাপূজায় হামলা ও মৃত্যুর ঘটনায় তিনি দু:খ প্রকাশ করেন।

Bangladesh: ‘জামাতে ইসলামি ক্ষমতায় থাকলেও এত হিন্দু নির্যাতন হত না’, তসলিমার বিতর্কিত পোস্ট

Taslima Nasrin

নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপূজায় পরপর মন্দিরে হামলা, তান্ডব ও মৃত্যুর জেরে বিতর্কের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ সরকার। তবে ফেসবুক পোস্টের ছত্রে ছত্রে বাংলাদেশ সরকার, সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রবল আক্রমণ করলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের (Taslima Nasrin)। তিনি এখন ভারতে আছেন। এই প্রতিবেদনের কিছু অংশ তসলিমা নাসরিনের ফেসবুক পোস্ট ভিত্তিতে প্রকাশ করেছে www.ekolkata24.com

তসলিমা নাসরিন লিখেছেন, “আফগানিস্তান, পাকিস্তান, জিহাদিস্তান । জিহাদিস্তানের অফিসিয়াল নাম এখনও অবশ্য বাংলাদেশ। এই তিন স্তান সমানে সমান পাল্লা দিয়ে চলছে। যুগ যুগ ধরে পরিকল্পিত ভাবে হিন্দু নির্যাতন চলছে জিহাদিস্তানে। গত তিন দিনে এই নির্যাতন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারের। সম্পূর্ণ দোষ কওমি- কাম-জিহাদি মাতা হাসিনার। তিনিই দেশে জিহাদি পয়দা করেছেন। তিনিই দেশে হিন্দুর নিরাপত্তা নষ্ট করেছেন। বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির শাসনামলেও এত হিন্দু নির্যাতন হয়নি, যত হয়েছে হাসিনার আওয়ামি লীগের আমলে। মনে হয় জামাতে ইসলামি ক্ষমতায় থাকলেও এত হিন্দু নির্যাতন হতো না।”

তসলিমা নাসরিনের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বাংলাদেশে ফের বিতর্ক চরমে। কারণ, এই পোস্টে তিনি সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে পুরো দায়ি করেছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও এমন মন্তব্য করেছেন যা বিতর্ক আরও উস্কে দিল।

তসলিমা তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, “হিন্দুদের দোষ দিয়ে দেশ জুড়ে হিন্দুদের অবাধে নির্যাতন করার উদ্দেশে হিন্দু দেবদেবীর কোলে কোরান রেখে এসেছে মুসলমানেরা, কোরানের ভেতর মাদকদ্রব্য ঢুকিয়ে পাচার করে রোহিঙ্গা মুসলমানেরা। এই কোরান অবমাননাকারী মুসলমানদের বিরুদ্ধে জিহাদিরা কোনও আওয়াজ ওঠায় না। অথচ কোরান অবমাননা করেছে হিন্দুরা, এই মিথ্যে দোষ দিয়ে হিন্দুর ঘর বাড়ি মন্দির ভেংগে ফেলা হয় । এসব কি হাসিনা জানেন না? সব জানেন। জেনেও তিনি হিন্দুদের কোনও নিরাপত্তা দেন না। বিশ্বকে বোকা বানাতে দু’একটা হিন্দুনির্যাতক জিহাদিকে গ্রেফতার করার ব্যবস্থা করবেন হাসিনা, তারপর দুদিন পর তাঁর সবকটা সন্তানকে চুপচাপ মুক্তি দিয়ে দেবেন।
এভাবেই চলছে হাসিনার জিহাদিস্তান।”

Bangladesh: দুর্গাপূজায় ধর্মীয় ষড়যন্ত্র রুখতে বাংলাদেশ জুড়ে নামছে BGB, হাসিনার কড়া ভূমিকা

BgB guards deployed durga puja pandals

নিউজ ডেস্ক: কোনও ঝুঁকি নয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দর্শন ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ’ (Bangladesh) চরিত্র বজায় রাখতে মরিয়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তথা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। সংখ্যালঘু হিন্দুদের দুর্গাপূজা ঘিরে ষড়যন্ত্র রুখে নবমী ও বিজয়া দশমী সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য নিরাপত্তার কড়া নির্দেশ দিল বাংলাদেশ সরকার।

যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মোকাবিলায় পুলিশের পাশাপাশি নামানো হয়েছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB) রক্ষীদের। কুমিল্লা ও ঢাকা বিভাগের নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ সহ ২২টি জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।  সূত্রের খবর, বাংলাদেশের সর্বত্রই দুর্গাপূজা সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে পরপর দুর্গাপূজা মণ্ডপ ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা রুখতে বুধবার পুলিশের সংগে হামলাকারীদের সংঘর্ষের জেরে তিনজনের মৃত্যু, বেশকয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলা। হামলার পর থেকে এই দুই জেলার পরিস্থিতি থমথমে। তবে নতুন করে আর সংঘর্ষের ঘটনা নেই। জারি আছে ১৪৪ ধারা।

বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা রক্ষার্থে দেশব্যাপী বিভিন্ন জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে‌। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান জানান, প্রয়োজন হলে রাজধানী ঢাকাতেও বিজিবি মোতায়েন করা হবে।

বুধবার দুর্গাপূজার অষ্টমী অনুষ্ঠানের আগে সোশ্যাল সাইটের গুজব ছড়ানো হয়, কুমিল্লায় একটি পূজামণ্ডপে মূর্তির নিচে পবিত্র কোরান শরিফ গ্রন্থ রেখে মুসলমান সম্প্রদায়ের অবমাননা করা হয়েছে। কিছু ছবি দ্রুত ছড়ায় ফেসবুকে। এর পরেই কয়েকটি দুর্গামণ্ডপে হামলা হয়। উত্তেজিত হামলাকারীদের থামাতে গুলি চালায় পুলিশ। কয়েকজন জখম হন। রক্তাক্ত সেই ছবি দেখে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এর কিছু পরেই সোশ্যাল সাইটে স্থানীয় কয়েকজন মুসলিম যুবক পোস্ট করেন, কীভাবে দুর্গামণ্ডপ কে ধর্মীয় ষড়যন্ত্রের নিশানা করা হয়। তাদের পোস্ট থেকে স্পষ্ট হয় একটি গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃত এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। তদন্তে নেমে কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানতে পারে সবই ছিল ধর্মীয় উস্কানি।

কুমিল্লার পরিস্থিতি শান্ত হতে না হতেই চাঁদপুর জেলায় শুরু হয় গুজব পোস্ট ঘিরে দুর্গামণ্ডপ ও মন্দিরে হামলা। হামলাকারীদের রুখতে কড়া ভূমিকা নেয় পুলিশ। ‘গুলি’ লেগে ৩ জন মৃত বলে জানান স্থানীয় উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক। কুমিল্লা ও চাঁদপুরের সংখ্যালঘুদের উৎসব ভণ্ডুল করার চেষ্টার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাক ওবায়দুল কাদের জানান, দোষী যেই হোক ছাড় পাবেনা।

বাংলাদেশ ধর্ম মন্ত্রকের জরুরি ঘোষণায় বলা হয়েছে, “কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননা সংক্রান্ত খবর আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। খবরটি খতিয়ে দেখার জন্য ইতোমধ্যে আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করেছি। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে যে কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। সবাইকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।”

Bangladesh: ‘ধর্মীয় গুজব’ ছড়িয়ে বাংলাদেশে দুর্গামণ্ডপে হামলা, ফের ‘গুলি’ নিহত তিন

temple attacked in Chandpur

নিউজ ডেস্ক: কোনোওভাবেই গুজব রুখতে পারা যাচ্ছেনা। সোশ্যাল সাইটে ধর্মীয় উস্কানিমূলক ছবি ও বার্তার জেরে বাংলাদেশের কুমিল্লা পর এবার চাঁদপুর রক্তাক্ত। স্থানীয় একটি মন্দিরে হামলার চালানো হয়। হামলাকারীদের রুখতে কড়া ভূমিকা নেয় পুলিশ। ‘গুলি’ লেগে ৩ জন মৃত।

বুধবার দিনভর কুমিল্লা ছিল উত্তপ্ত। স্থানীয় নুনুয়ারদিঘি পূজামণ্ডপে কোরান শরিফ রাখা নিয়ে ধর্মীয় গুজব ছড়ায়। আক্রান্ত হয় একাধিক মণ্ডপ। পুলিশ ও প্রশাসন কড়া হাতে হামলাকারীদের দমন করে। কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে জানা যায় এই ঘটনা ছিল ধর্মীয় ষড়যন্ত্র।

এদিকে কুমিল্লা থেকে গুজব সোশ্যাল সাইটে ছড়ায় দ্রুত। সন্ধের পর উত্তেজনা তৈরি হয় চাঁদপুরে। জানা গিয়েছে, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারে লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরে হামলা ও ভাংচুর হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে নামে পুলিশ। হামলাকারীদের রুখতে শক্ত ভূমিকা নেয়। জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা, মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।

https://twitter.com/UnityCouncilBD/status/1448228123556732933?s=20

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকরা জানান, তিনজনের মৃতদেহ এসেছে হাসপাতালে। তবে সংঘর্ষে কারও নিহত হওয়ার বিষয়ে পুলিশ নীরব। মন্দিরে হামলা হয়েছে বলে হাজীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রুহিদাস বণিক জানিয়েছেন। তিনি জানান, আরও কয়েকটি স্থানে মন্দিরে হামলা হয়েছে।

কুমিল্লার পরিস্থিতি থমথমে। চাঁদপুরও থমথমে। ধর্মীয় উস্কানিমূলক বার্তা কেমন করে ছড়িয়েছিল তার বর্ণনা দিয়েছেন কুমিল্লার কয়েকজন মুসলিম যুবক। সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা তুলে ধরেন দুর্গা মণ্ডপে কেমন করে হামলার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।

বাংলাদেশ ধর্ম মন্ত্রকের জরুরি ঘোষণায় বলা হয়েছে, “কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননা সংক্রান্ত খবর আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। খবরটি খতিয়ে দেখার জন্য ইতোমধ্যে আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করেছি। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে যে কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। সবাইকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।”