মহামেডান স্পোর্টিং’র 𝐁𝐫𝐚𝐧𝐝 𝐀𝐦𝐛𝐚𝐬𝐬𝐚𝐝𝐨𝐫 ইরফান পাঠান

irfan pathan

Sports desk: মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর হলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ইরফান পাঠান।মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব অফিসিয়াল পেজে এই ঘোষণা করেছে সোমবার।
অফিসিয়াল পেজের ওই ঘোষণাতে বলা হয়েছে, ” 𝐋𝐚𝐝𝐢𝐞𝐬 𝐚𝐧𝐝 𝐆𝐞𝐧𝐭𝐥𝐞𝐦𝐞𝐧, 𝐁𝐨𝐞𝐞𝐧, 𝐁𝐨𝐲𝐚𝐬৷ এটা অফিসিয়াল. অপরিসীম আনন্দ এবং গর্বের সাথে, বাঙ্কারহিল স্পোর্টস ইরফান পাঠানকে নতুন 𝐁𝐫𝐚𝐧𝐝 𝐀𝐦𝐛𝐚𝐬𝐬𝐚𝐝𝐨𝐫 হিসেবে ঘোষণা করেছে #ইরফানপাঠান #জানজান মহম্মদ #ভারতীয় ফুটবল”।

অন্যদিকে, সোমবার আই লিগের ম্যাচে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ২-১ গোলে জিতেছে, সুদেবা দিল্লী এফসি’র বিরুদ্ধে। মহামেডান স্পোর্টিং ম্যাচের শুরুটা বেশ ভালো করে এবং পুরো ম্যাচেই নিয়ন্ত্রণ ছিল তাদের। ব্ল্যাক প্যান্থাররা অনেক সুযোগ তৈরি করে এবং সেখ ফৈয়াজের গোলে তারা এগিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে লিড দ্বিগুণ করেন মার্কাস জোসেফ।

সুদেবা দিল্লী এফসি ফুটবলার অভিজিৎ সরকারের একটি দুর্দান্ত গোল না হওয়া পর্যন্ত তাদের পার্কে সহজ হাঁটা ছিল এবং তাদের সুদেবার চূড়ান্ত ঝড়ের মোকাবিলা করতে হয়েছিল। শেষমেশ মহামেডান স্পোর্টিং তিন পয়েন্ট নিয়ে অভিযান শুরু করেছে।

Durand Cup: ফাইনাল উত্তাপ, সুদূর নাইজেরিয়া থেকে পেন ওর্জির শুভেচ্ছা মহামেডান তাঁবুতে

Mohammedan Sporting Club

স্পোর্টস ডেস্ক: রবিবাসরীয় ডুরান্ড কাপের মেগা ফাইনালে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মুখোমুখি হতে চলেছে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব,বিপক্ষে এফসি গোয়া। মেগা ফাইনালের আগে মহামেডানের প্রাক্তন ফুটবলার পেন ওর্জি মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এবং সমর্থকদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বার্তার ভিডিও পোস্ট করেন।

নিজের শুভেচ্ছা বার্তায় ২০১৩ সালে মহামেডানের ডুরান্ড কাপ জয়ী নায়ক পেন ওর্জি বলেন,”ডুরান্ডের ফাইনালের সুযোগ পাওয়ার জন্য আমি দুই দলকেই অভিনন্দন জানাই।” ডুরান্ডের ফাইনালের আগে নাইজেরিয়ান মিডিও মহামেডান ক্লাবকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে বলেন,” মহামেডান কোচ আন্দ্রে চের্নিশভ দুরন্ত কোচিং করে চলেছেন, সঙ্গে টপ স্কোরার মার্কোস জোসেফ এবং অধিনায়ক নিকোলা দুরন্ত ছন্দে রয়েছেন। ফাইনালের আগে আমার পূর্ণ সমর্থন রইল।”

সুদূর নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজা থেকে নিজের ভিডিও বার্তায় পেন ওর্জি বলেন,”আমরা আমাদের সময়ে করে দেখিয়েছিলাম (ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে), আমার সমর্থন রইল তোমাদের সঙ্গে( মহামেডান ফুটবলার), আমি চাই তোমাদের সামনে এখন সময় এসে গিয়েছে করে দেখানোর(ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন হওয়ার)।”পেনের কথায়,”আমি মহামেডানের স্পনসর বঙ্কারহিলকে ধন্যবাদ জানাই।গোটা টুর্নামেন্টে দল সাফল্যের সঙ্গে এগিয়েছে, তা টিম গেমের ফসল।টুর্নামেন্টের এই জায়গাতে দাঁড়িয়ে (ডুরান্ডের ফাইনালের কয়েক ঘন্টা আগে) আমি আশায় রয়েছি, আর এক ধাপ এগোলেই ট্রফি জিতবে( মহামেডান ক্লাব ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন হবে)। মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের প্রতি আমার সমর্থন রইল( ডানহাত মুঠো করে)।”

ডুরান্ডের প্রথম সেমিফাইনালে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ৪-২ গোলের বড় ব্যবধানে এফসি বেঙ্গালুরুর ইউনাইটেডকে হারিয়ে ফাইনালের যোগ্যতা অর্জন করে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় সেমিফাইনালে এফসি গোয়া বনাম বেঙ্গালুরু এফসি ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে ২-২ গোলে ড্র হয়। অবশেষে ট্রাইবেকারে এফসি গোয়া ৭-৬ গোলে বেঙ্গালুরু এফসিকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। আগামী রবিবার,যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সন্ধ্যে ৬ টা থেকে শুরু হতে চলেছে, ১৩০ তম ডুরান্ড কাপের মেগা ফাইনাল।

Durand Cup: বেঙ্গালুরু এফসিকে ট্রাইবেকারে হারিয়ে ফাইনালে মহামেডানের মুখোমুখি এফসি গোয়া

Durand Cup

স্পোর্টস ডেস্ক: ১৩০ তম ডুরান্ডের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে এফসি গোয়া বনাম বেঙ্গালুরু এফসি ম্যাচেও যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এটিকের সঙ্গে মোহনবাগান ক্লাবের মার্জার ভাঙার দাবিতে সবুজ মেরুন সমর্থকেরা পোস্টার লাগালেন #Break The Merger। এদিনের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ১ মিনিটের মাথায় শিভাশক্তির করা গোলে ১-০ এগিয়ে যায় বেঙ্গালুরু এফসি। 

অবশ্য এই লিড বেশিক্ষণ বজায় ছিল না। এফসি গোয়া দুরন্ত কামব্যাক করে ম্যাচে ফিরে আসে। ম্যাচের ৮ মিনিটের মাথায় দেভেন্দ্র’র করা গোলে ১-১ গোলের সমতায় ফিরে আসে গোয়ার দলটি।ম্যাচের প্রথমার্ধে এফসি গোয়া গোলের লিড বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল,কিন্তু খুব বাজে ভাবে গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে।

ডুরান্ডের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের প্রথমার্ধে ১-১ গোলে স্কোরলাইন থেকে সেকেন্ড হাফে দুই দলই গোলের ব্যবধান বাড়াতে তেড়েফুঁড়ে খেলতে শুরু করে।ম্যাচের ৭২ মিনিটে এফসি গোয়ার হয়ে ২-১ গোলের লিড দেয় রিদিম। কিন্তু এবারও এফসি গোয়া গোলের লিড ধরে রাখতে পারেনি। ১০ মিনিটের মাথায় বেঙ্গালুরু এফসি শিভার গোলে ২-২ গোলের সমতায় ফিরে আসে। ম্যাচের ৯০ মিনিট ২-২ গোলের স্কোরলাইন ছিল।

এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। কিন্তু ১২০ মিনিটে কোনও দলই গোলের মুখ খুলতে পারেনি। নিজেদের ডিফেন্সকে জমাট করে রাখে দুই দল। ফলে ২-২ গোলের সমতায় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ ট্রাইবেকারে গড়ায়।

রুদ্ধশ্বাস ট্রাইবেকারে শুট আউটে এফসি গোয়া১-১ বেঙ্গালুরু এফসি গোলের পর দুই দলই গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে পেনাল্টি শ্যুটে।এরপর যথারীতি দুই দলই ট্রাইবেকারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৬-৬ গোলের স্কোরলাইন দাঁড় করায়। এরপর এফসি গোয়া স্কোরলাইন ৭-৬ লিড নেয়।কিন্তু এরপরেই ঘটে অঘটন, শেষে ট্রাইবেকারে বেঙ্গালুরু এফসি গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে বসতেই এফসি গোয়া ডুরান্ড কাপ ফাইনালের টিকিট পকেটে পুড়ে ফেলে। ডুরান্ডের ফাইনালে ৩ অক্টোবর সন্ধ্যে ছটার সময়ে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের মুখোমুখি হবে এফসি গোয়া।

Durand Cup: বড় ব্যবধানে জিতে ডুরান্ডের ফাইনালে মহামেডান স্পোর্টিং

Mohammedan Sporting Club in the final

স্পোর্টস ডেস্ক: ১৩০ তম ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব।৪-২ গোলে এফসি বেঙ্গালুরু ইউনাইটেডকে হারিয়ে ফাইনালে সাদা কালো শিবির।

মহামেডানের হয়ে মার্কোস জোসেফ(৮),ফৈজল আলি(৩৭),ব্র‍্যান্ডন (১০৬) এবং নিকোলার পেনাল্টি থেকে গোল করে কালো চিতারা ডুরান্ড ফাইনালের আগে হুঙ্কার দিচ্ছে। এই জয়ের সঙ্গে গ্রুপ ম্যাচের মধুর প্রতিশোধ নিল মহামেডান। দীর্ঘ ৮ বছর পর এফসি বেঙ্গালুরু ইউনাইটেডকে হারিয়ে ডুরান্ডের ফাইনালে।

কলকাতা ফুটবলের মক্কা তা ফের একবার প্রমাণিত হল আজকের সেমিফাইনাল ম্যাচ ঘিরে। ডুরান্ডে কলকাতার হয়ে খেলছে একমাত্র মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। এদিনের ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরা মহামেডান ক্লাবের সমর্থনে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বসে গলা ফাটায়।অন্যদিকে মোহনবাগান সমর্থকেরাও যুবভারতীর গ্যালারিতে বসে মহামেডান ক্লাবকে সমর্থনের সঙ্গে#Break The Merger পোস্টার নিয়ে প্রতিবাদ জানায়।

তবে যুবভারতীর পুরনো রোগ ফের একবার মাথা চাড়া দেয়,ম্যাচ শুরুর আগে।আলো বিভ্রাটে গোটা যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন অন্ধকার হয়ে যায়।ফলে ম্যাচ শুরু হতে বিলম্ব হয়।ম্যাচ চলাকালীন ৯১ মিনিটে এফসি বেঙ্গালুরু ইউনাইটেডের পেড্রো মানঝি লাল কার্ড দেখেন। ম্যাচ পেন্ডুলামের মতো ঘুরেছে বয়স যত গড়িয়েছে।ম্যাচের ৩৬ সেকেন্ডে পেড্রো মানঝির ১৮ গজ দূর থেকে নেওয়া জোরালো শট আর ৭৮ মিনিটে কিংশুক দেবনাথ এফসি বেঙ্গালুরুর হয়ে গোল করেন।মার্কোস মহামেডানকে ৮ মিনিটের মাথায় ১-১ গোলের সমতায় ফেরায়।ম্যাচের ৩৬ সেকেন্ডে ঝটিকায় পেড্রো মানঝির করা দুরন্ত গোল সাদা কালো শিবিরকে জোরালো ধাক্কা দেয়।

কিন্তু মহামেডান ম্যাচে দ্রুত কামব্যাক করে গোলের সমতায় ফিরে আসে।৩৭ মিনিটে মার্কোসের পাস থেকে ফৈজল গোল করে মহামেডানকে ২-১ লিড দেয়। ম্যাচের ৯০ মিনিটে স্কোরলাইন ২-২ গোল হওয়ার জন্য ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ায়।১০৬ মিনিটে ব্র‍্যান্ডন এবং ১০৯ মিনিটে এফসি বেঙ্গালুরু ইউনাইটেডের রাভাননের হাত বল লাগলে রেফারি পেনাল্টির অর্ডার দেয়। নিকোলা মহামেডানকে পেনাল্টি শ্যুট আউটে ৪-২ গোলে ডুরান্ডের সেমিফাইনাল ম্যাচ জিতিয়ে ফাইনালের টিকিট পকেটে পুড়ে ফেলে।

Durand Cup: গোকুলাম বধ করে শেষ চারে মহমেডান

স্পোর্টস ডেস্ক: একদিন আগেই উজবেকিস্তানের নাসাফ এফসির কাছে নাস্তানাবুদ হয়েছে এটিকে মোহনবাগান। এএফসি কাপের ইন্টারজোনাল সেমিফাইনালে ছ’গোল খেয়ে টুর্নামেন্ট অভিযান শেষ করেছে তারা। কিন্তু তার পরদিনই অন্য ফর্মে শহরের আরেক প্রধান। বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাব ডুরান্ড কাপের (Durand Cup) গতবারের চ্যাম্পিয়ন গোকুলাম কেরালা এফসিকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে। মার্কাস জোসেফ 88 মিনিটের মাথায় ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন।

আরও পড়ুন: এএফসির টিকিটে শুধুই Mohun Bagan, ATK উধাও হওয়ায় উচ্ছ্বসিত সবুজ-মেরুন সমর্থকরা


আরও পড়ুন: নাসাফে নাজেহাল ATK Mohun Bagan, হাফডজন গোল খেয়ে শেষ AFC Cup অভিযান

পিছন থেকে খেলে, সাদা কালো শিবিরের কোচ আন্দ্রে চের্নিশভের উচু বলে পাস বাড়ানোর টার্গেট বারে বারে ধাক্কা খাচ্ছিল। কারণ, গোকুলাম ডিফেন্সে থাকা বউবা আমিনো, ক্যারিবিয়ান ফরোয়ার্ডকে লক্ষ্য করে লম্বা বল এবং ক্রস খুঁজতে একটু অসুবিধা হয়েছিল।

Mohammedan SC in the semis of Durand Cup

চলতি ডুরান্ডে তিন ম্যাচে হারের যন্ত্রণা নিয়ে ব্ল্যাক প্যান্থার্সেরা টগবগ করে ফুটছিল জয়ের মুখ দেখার জন্যে। ৪০ মিনিটের মাথায় গোকুলামের গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। এরপর বল পেয়ে প্রতি আক্রমণে উঠে আসে মহমেডান। এই প্রতি আক্রমণে উঠে আসায় গোকুলামের ডিফেন্স লাইন কেঁপে ওঠে। প্রতি আক্রমণের ঢেউ সামলাতে পারেনি গতবারের ডুরান্ড চ্যাম্পিয়নরা। এই সুযোগে দুরন্ত গোল করেন মার্কাস জোসেফ। মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ১-০ গোলে এগিয়ে যায়।

আরও পড়ুন: মোহনবাগানের শিল্ড জেতা ছাড়াও ১৯১১ সালে আরও দু’টি ঘটনা ঘটেছিল


আরও পড়ুন: ATK-নাম মোছার দাবিতে এবার বিক্ষোভের পথে সবুজ-মেরুন জনতা

এরপর গোকুলাম এফসিও গোলের সমতায় ফিরে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু গোলের লকগেট খুলতে পারেনি। মহামেডানের জমাট ডিফেন্স ভেদ করতে বারে বারে ব্যর্থ হতে হয়। রেফারি শেষ বাঁশি বাজতেই কোয়ার্টার ফাইনালে দারুণ জয় ছিনিয়ে নেয় মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাব। ডুরান্ডের সেমিফাইনালে পৌছে যায় সাদা কালো শিবির।

Durand Cup: খরা কাটাতে আত্মবিশ্বাসী মহামেডান স্পোর্টিং

Mohammedan Sporting Club

স্পোর্টস ডেস্ক: আগামীকাল, বৃ্হস্পতিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে খেলতে নামছে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব৷ বিপক্ষে গোকুলাম কেরালা এফসি। কেরালার এই ক্লাব গত বছরেও ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

সাদা-কালো শিবির ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ১৯৪০ সালে প্রথমবার। ভারত তখন পরাধীন, ইংরেজ উপনিবেশ কায়েম।ব্রিটিশ রেজিমেন্ট দল রয়্যাল ওয়ার্কশিয়র রেজিমেন্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথম বার ডুরান্ড ট্রফি নিজেদের ক্লাব তাঁবুতে তুলে আনে। মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব মোট তিন বার ডুরান্ডের ফাইনালে পৌছলেও মাত্র ২ বারই ট্রফি জিতেছে। ২০১৩ সালে তারা সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন হয়৷

১৩৩ বছরের প্রাচীন এই ফুটবল টুর্নামেন্ট বিশ্বের তৃতীয় পুরনো ফুটবল টুর্নামেন্টের মধ্যে অন্যতম। ইংলিশ এফ এ কাপ এবং স্কটিশ এফ এ কাপ বিশ্বের প্রাচীন ফুটবল টুর্নামেন্টের মধ্যে পড়ে।

Mohammedan Sporting Club

মহামেডান কোচ আন্দ্রে চের্নিসভ ডুরান্ড কাপ শুরু হওয়ার আগে থেকেই বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। স্থানীয় দল হিসেবে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব একমাত্র ডুরান্ড কাপে অংশ নিচ্ছে,তাই প্রত্যাশাও আকাশ ছোঁয়া। এই নিয়ে ব্ল্যাক প্যান্থার্সের রাশিয়ান কোচ জানিয়েছেন,”প্রতিটি খেলা এবং প্রতিটি টুর্নামেন্টে চাপ থাকে। ভক্ত এবং ক্লাবের ব্যবস্থাপনা আমাদের কাছ থেকে জয় আশা করে। আমরা এই বিষয়ে খেলোয়াড়দের সাথে অনেক কথা বলি এবং তারা এর জন্য প্রস্তুত।”

প্রস্তুতিতে কোনও খামতি ছিল না এবং ফুটবলারেরা গোটা টুর্নামেন্টে নিজেদের সেরাটা নিঙড়ে দিয়ে কোয়াটার ফাইনাল স্টেজে উঠে এসেছে তা সাদা কালো শিবিরের কোচ আন্দ্রে চের্নিসভের বক্তব্যকেই তুলে ধরে। মহামেডান কোচের সাফ কথা গোটা মরশুম নিয়ে তিনি এখনই কোনও চিন্তা ভাবনা করছেন না। এখন ফোকাস শুধুই ডুরান্ড কাপ।

Mohammedan Sporting Club

কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন,মোহনবাগান ক্লাব মাঠ এবং কল্যাণী স্টেডিয়াম এই তিন ভেন্যুতে চলতি ডুরান্ড কাপ আয়োজিত হচ্ছে। ১৮৮৮ সালে হিমাচল প্রদেশের সিমলায় ডুরান্ড কাপ প্রথম আয়োজিত হয়। প্রথম বার ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রয়্যাল স্কটশ ফুসিলারস।২-১ গোলে তারা হারিয়েছিল হাইল্যান্ড লাইট ইনফ্রেন্টিকে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, দেশবিভাগের সময়ে এবং ভারত -চীন যুদ্ধের সময়ে ডুরান্ড কাপ সাময়িক ভাবে স্থগিত করা হয়েছিল।

ব্রিটিশ শাসনে বিদেশ সচিব মরটিমার ডুরান্ডের নামে ডুরান্ড ফুটবল টুর্নামেন্ট সোসাইটি এই ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু করে। ভারত স্বাধীন হওয়ার পর ভারতীয় সেনাবাহিনী এই টুর্নামেন্টের দায়িত্বতে। ১৯৪০ সালে ডুরান্ডের ভেন্যুতে বদল আসে এবং তা দিল্লীতে আয়োজিত হতে শুরু করে।

ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগান দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী ডুরান্ড কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বিগত সময়ে।দুই আর্চ রাইভাল ১৬ বার করে ডুরান্ড ট্রফি নিজেদের ক্লাব তাঁবুতে তুলে এনেছে। সবথেকে বেশি ২৮ বার ডুরান্ড কাপ ফাইনাল খেলেছে সবুজ মেরুন শিবির। ডুরান্ডে সবথেকে বড় ব্যবধানে জয় এসেছে ১৮৮৯ সালে,হাইল্যান্ড লাইট ইনফ্রেন্টি ৮-১ গোলে হারিয়েছিল সিমলা রাইফেলসকে(দ্বিতীয় পাঞ্জাব ভলেন্টিয়ার্স রাইফেল কুপর্স)। আগামীকাল দুপুর ২ টোর সময়ে মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে খেলতে নামবে গোকুলাম কেরালা এফ সি’র বিরুদ্ধে।

ব্রিটিশকে হারিয়ে ডুরান্ড জয়ী, পাকিস্তানকেও গোল দিয়ে চিরকালীন নজির মহামেডানের

Mohammedan Sporting Club

#MohammedanSportingClub
প্রসেনজিৎ চৌধুরী: ভারত তখনও পরাধীন। ১১ জনের ভারতীয় ফুটবল যোদ্ধারা ঐতিহ্যবাহী ডুরান্ড কাপ, প্রথম কোনও ভারতীয় দল হিসেবে জিতে নিল। বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ফুটবল ট্রফি ঢুকল ক্লাব তাঁবুতে। ফুটবল মক্কা কলকাতা সেলাম করছে। সুদূর নিজামশাহী হায়দরাবাদে আতশবাজি ফুটছে। পরাধীন জাতির কাছে এই ডুরান্ড জয় মারাত্মক ব্যাপার।

সাদা-কালো জার্সির এই রঙিন ইতিহাসের ফলাফল ২-১, সেবারই প্রথমবার ব্রিটিশ আধিপত্য কাটল ডুরান্ড ট্রফিতে। মহামেডানের কাছে হারল ব্রিটিশ সেনাবাহিনির Royal Warwickshire Regiment দল। মহানগরী পাগল হয়ে গেছিল। আইএফএ শিল্ড, কলকাতা লিগ তো জয় করেছে আগেই মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল। এবার তৃতীয় ফুটবল শিরোপা ঢুকে পড়ল ভারতের খাতায়। চমকের আরও বাকি আছে।

Mohammedan Sporting Club

চরম আবেগের কলকাতা ফুটবল লিগ জয়ীদের খতিয়ানে লেখা আছে ‘৩০ দশকটি। ১৯৩৫ সালে মহামেডানের আরও এক নজির-প্রথম কোনও ভারতীয় দল যারা জিতে নিয়েছিল লিগ ট্রফি। ফুটবল মক্কায় তখন একটাই শব্দ ‘হারা দিয়া হামনে গোরে লোগো কো’। ১৯৩৫-৩৮ ভারতীয় ফুটবল দল হিসেবে ময়দানে সাদা কালো দাপট। পরপর কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে মহামেডান। ধারে পাশে কেউ নেই। ময়দানের কথা-খেলছে কালো প্যান্থার দল।

১৮৯১ সালে জন্ম এই ক্লাবের। মূলত ভারতীয় বিত্তশালী মুসলমান সমাজের ফুটবল প্রীতি এই ক্লাবকে ময়দানে নিয়ে এসেছিল। ১৯৩৬ সালে তৈরি হয় ‘ঢাকা মোহামেডান’। ব্ল্যাক প্যান্থার্স-কলকাতা মহামেডানের ডাক নাম।

সাদা-কালো জার্সির কলকাতা মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সোনালি অতীত এমনই জ্বলজ্বলে যে তার পাশে সমকালীন ক্লাবটি যেন মলিন বটপাতার মতো। এই ক্লাবের অবনমন ‘ফুটবলের মক্কা’ নগরীর জৌলুস কমাচ্ছে।
মহামেডানের যে নজির আসলেই নজিরবিহীনভাবে বিশ্বে আলোচিত সেটি হলো স্বাধীনতার পর প্রথম কোনও ভারতীয় ফুটবল দল হিসেবে বিদেশে চ্যাম্পিয়ন। এই মারাত্মক ঘটনার কেন্দ্র ততকালীন যুক্ত পাকিস্তানের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর ঢাকা। ১৯৬০ সালে পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী শহর ঢাকায় অনুষ্ঠিত আগা খান ট্রফি ঘিরে মারমার কাটকাট পরিস্থিতি। দর্শক ভেঙে পড়ছিল ঢাকা স্টেডিয়ামে। সেবার পাকিস্তান দল আর ফাইনালে নেই। তাতে কী হয়েছে ! কলকাতার মহামেডান তো আছে।

Mohammedan Sporting Club

পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকাতে রয়েছে ‘ঢাকা মোহামেডান’ ক্লাব। তাদেরও জার্সি সাদা কালো। ফলে যাবতীয় দর্শক সমর্থন ফাইনাল খেলতে নামা কলকাতার মহামেডানের দিকে। প্রতিদ্বন্দ্বী ইন্দোনেশিয়া তথা এশিয়ার বেশ সাড়া জাগানো PSM Makassar ক্লাব।

ঢাকায় আগা খান কাপের ফাইনালে প্রথম ভারতীয় ক্লাব হিসেবে মহামেডানের দাপট বজায় থাকল। ৪-১ গোলে জয়ী হয়ে পাকিস্তান কাঁপিয়ে ভারতীয় দল মহামেডান ফিরতেই কলকাতা ফের পাগল। গোটা দেশে লেগেছিল চমক। ভারতীয় ফুটবলের এই সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ল বিশ্বে।

ষাট, সত্তর, আশি, নব্বই দশক কলকাতার তিন ফুটবল প্রধান দলের মারকাটারি লড়াইয়ের দিন শেষ। ব্ল্যাক প্যান্থার্সের অবনমন চলছে। এ ভারতীয় ফুটবলের পক্ষে লজ্জার। যে ইতিহাস, গৌরব মহামেডান দিয়েছে সেটি এখন ময়দান থেকেই বিলীন। তবে দলটি আছে। আধুনিকতার মোড়কে মুড়ছে। সফলতা ব্যর্থতার মাঝে ঝিলিক মারে এর ইতিহাস, যে ইতিহাসে ১১ জন ভারতীয় বারবার বল নিয়ে দেশে ও বিদেশের মাঠে ভারত গৌরব হয়েছেন।