Subrata Mukherjee: কোনদিন খালি হাতে ফিরিনি তাঁর কাছ থেকে, সুব্রত নিয়ে লোপামুদ্রা

Lopamudra Mitra about Subrata Mukherjee

News Desk: সুব্রত মুখোপাধ্যায় যে শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন তা সবার জানা। গানের জগতেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল। তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন লোপামুদ্রা মিত্র।

তিনি জানিয়েছেন, “সুব্রতদাকে প্রথম সামনে থেকে দেখি, ইউনিভার্সিটি ইন্সটিটউট হলে।২০০০ সালে। তখন তিনি সদ্য মেয়র হয়েছেন। আমার গান শুনেছিলেন সামনের সারিতে বসে। সেইদিন প্রথম আলাপ।তারপর থেকেই মানুষটিকে চিনেছিলাম একজন মানুষ হিসেবে। ব্যাক্তিগত কারণে অথবা সহজ পরব, কোনদিন খালি হাতে ফিরিনি তার কাছ থেকে।

প্রথম বছর সহজ পরবের আগে আমি আর কালিকা তাঁর বাড়ি গেছি। সাহায্য করেছেন তাঁর যথাসাধ্য।অনুষ্ঠানের দিন সুব্রতদা নিজে কাজের কারণে আসতে পারেননি, বৌদি এসেছেন। শুধু গানবাজনা ভালোবেসে। তারপর থেকে প্রতিটি বছর সহজ পরব তাঁর সাহায্য পেয়েছে।

শ্রদ্ধা করি তাঁকে শুধু মানুষ হিসেবে শুধু নয়, একজন রাজনীতিবিদ হিসেবেও। যেটা আজকের দিনে অনেককেই করতে পারিনা। এমন মানুষের চলে যাওয়াটা মেনে নিতে কষ্ট হয়।”

৭৫ বছর বয়সে এসএসকেএম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। চার নভেম্বর রাত ৯.২২মিনিটে ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর মৃত্যু হয় তাঁর। পাঁচ তারিখ বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর। হাসপাতাল সূত্রে খবর, এদিন সন্ধে নাগাদ হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডের শৌচাগারে যান তিনি। এরপরই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তড়িঘড়ি তাঁকে দেখতে এসএসকেএমে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে নটা নাগাদ হাসপাতালে যান মমতা। কার্ডিওলজির আইসিসিউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এসএসকেএমে গিয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, নির্মল মাজি। বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট নিয়ে এসএসকেএমে ভর্তি হন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। ধমনীতে স্টেন্ট বসানোর পরেও অবস্থার অবনতি হয় তাঁর।

দীপাবলির আগের সপ্তাহেই হঠাৎ শরীর খারাপ হয় তাঁর। গত ররিবার এসএসকেএমে চেক আপ করাতে গিয়ে আরও অসুস্থ বোধ করেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তাঁকে ভর্তি করা হয় এসএসকেএমে। একসপ্তাহ ধরে ICCU-তে কাটানোর পরে শেষ হল জীবনের সঙ্গে লড়াই। সকলকে চির বিদায় জানালেন বঙ্গ রাজনীতির চিরসবুজ ব্যক্তিত্ব সুব্রত মুখোপাধ্যায়।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজের সারেঙ্গাবাদের ছেলে ছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। ৬-এর দশকে পড়তে আসেন কলকাতায় । অ্যানথ্রোপলজিতে ব্যাচেলর অফ সায়েন্স নিয়ে ভর্তি হলেন বঙ্গবাসী কলেজে। তারপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্কিওলজি-তে মাস্টার্স। এর পর পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিপ্লোমা মিউসিওলজি বা মিউজিয়াম স্টাডিজে। এর পর দীর্ঘ ৫০ বছর সাফল্যের সঙ্গে সেই দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।

Kolkata: খুনের হুমকি সংগীত শিল্পী রশিদ খানকে, ধৃত ২

music artist Rashid Khan

বায়োস্কোপ ডেস্ক: সংগীত শিল্পী রশিদ খানকে খুন করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সংগীতশিল্পীর বাড়ির সামনে স্নাইপার গান তাক করে তাকে খুন করার চেষ্টা করা হয় বলেও জানা গিয়েছে।

ওস্তাদ রশিদ খানের মেয়েকে ফোন করে ৫৯ লক্ষ টাকা চেয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়। হুমকি দেওয়া হয় বাড়ীর বাইরে পা রাখলেই তাকে গুলি করা হবে বলে। অভিযোগ অনুসারে তদন্তে নেমে ২ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জেরা করার পর অভিযুক্তরা অপরাধের কথা স্বীকার করে নিয়েছে।

গত ৯ অক্টোবর সমস্ত প্রমান সহ নেতাজি নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী ওস্তাদ রশিদ খান। তদন্তে নেমে মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন ট্র্যাক করে শেষমেষ অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সূত্র মাধ্যমে জানা যায়, প্রথমে ৫০ লক্ষ টাকার দাবি করা হলেও পরবর্তীকালে তা কমিয়ে ২০ লক্ষ টাকা করা হয়।

দাবি করা হয় টাকা না দেওয়া হলে তাকে মেরে ফেলা হবে। মোবাইল ট্র্যাক করে তদন্তে নেমে অপরাধীদের খুঁজতে উত্তরপ্রদেশে পৌঁছে যায় পুলিশ। শেষ পর্যন্ত লখনৌ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় দুই অভিযুক্তকে। দুই অপরাধী আগে থেকেই ওস্তাদ রশিদ খানের পরিচিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সঙ্গীত শিল্পীর প্রাক্তন অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ও গাড়িচালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সূত্রের খবর, মাস কয়েক আগে চাকরি থেকে তাদের বরখাস্ত করেন রশিদ খান। অভিযুক্তদের জেরা করা হলে জানা যায়, ওই ঘটনার পর অপমানিত বোধ করে রশিদ খানকে খুনের হুমকি দেয় দুই অভিযুক্ত।

এই ঘটনার সাথে আরো কোন বড় অপরাধের যোগসুত্র রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রসঙ্গত, ধ্রুপদী সংগীত শিল্পী সংগীত নাটক অ্যাকাডেমী পুরস্কার ও পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। আপাতত সংগীতশিল্পী ও তার পরিবারের সুরক্ষার্থে পুলিশি সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

খানিক অবসরে মিউজিক থেরাপি, মুহূর্তে সারিয়ে দিতে পারে মনের রোগ

music

গান শুনতে ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। এর পাশাপাশি মিউজিক শুনতেও পছন্দ করেন অনেকেই। সকালে উঠে অফিসে যাওয়ার তার, আবার বাড়ি ফিরে নানা কাজের চাপ। এই একঘে জীবনে একটুখানি শান্তি খুঁজে পেতে আমরা মিউজিকে বেছেনি। আসলে মিউজিক শোনার সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে থাকে। জীবনের প্রতিতা মুহূর্তের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা মিউজিক শুনতে ভালোবাসি।

যেমন দুঃখ, কষ্টের সময় আমরা একটু সফট মিউজিক শুনতে পছন্দ করি। আবার আনন্দ কিনবা উল্লাসের সময় আমরা লাউড মিউজিক শুনি। প্রকৃত অর্থে সঠিক সময়ে সঠিক মিউজিক আমাদের শারীরিক ও মানসিক শান্তি দেয়। তাই বর্তমানে মিউজিক থেরাপির প্রচলন বেড়েছে। এখন অনেক হসপিটালেও রোগীদের মানসিকভাবে সুস্থ করতে মিউজিক থেরাপি দেওয়া হছে। চলুন একনজরে দেখে নেওয়া যাক মিউজিক থেরাপির কিছু গুন।

এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগবে মিউজিক থেরাপি কি? মূলত কোন রোগীকে যখন সংগীত ও সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে তাঁর অসুখ বা রোগের তীব্রতা কমানোর চেষ্টা করা হয়, তখন তাকে মিউজিক থেরাপি বলে।

১) যারা মারাত্মক মানসিক চাপ বা টেনশনে খুব কষ্ট পান, তারা যদি সঠিক মিউজিকে নিজেদের মগ্ন করতে পারেন, তবেই কেল্লা ফতে। এতে মনের ভিতর তৈরি হয় সাময়িক ভাললাগা। এটি এন্ডোরফিন নামক হরমোন নিঃসরণ করে ও পেশীকে শিথিল করে রক্ত চাপকে নিয়ন্ত্রণে আনে।

২) মেজর ডিপ্রেশনেও মিউজিক থেরাপি দারুন কাজ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট জাতীয় ওষুধ খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি মিউজিক থেরাপি করানো যায় তবে, আশাতীত ফল পাওয়া যায়।

৩) বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায় যে ডিমেনশিয়ার ক্ষেত্রে রোগীর হার্ট বা সেরিব্রাল স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। মিউজিক থেরাপি এই হৃদয় রোগ বা সেরিব্রাল অ্যাটাক নিয়ন্ত্রণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৪) বিজ্ঞানীদের মতে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের পূর্বে সঠিক মিউজিক শুনলে, ওই কাজের প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি পায়। এর পাশাপাশি গবেষকদের দাবি, গান শোনার পর ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পড়ার আগ্রহের সঙ্গে মনোযোগ ও দক্ষতাও বাড়ে।

৫) চিকিৎসকদের মতে গর্ভাবস্থায় মিউজিক থেরাপি নেওয়া উচিৎ। এতে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ সুন্দর হয়। এছাড়াও এতে শিশুর মনের উপর ভালো প্রভাব পড়ে।