গেরিলা কায়দায় পঞ্জশিরকে তালিবান মুক্ত করতে মাসুদ বাহিনীর লড়াই

Saleh Rigistani, the commander, said they will continue fighting the Taliban forces

নিউজ ডেস্ক: পরস্পর বিরোধী বার্তা আসছে ক্ষণে ক্ষণে। তালিবান (Taliban) দাবি করছে পঞ্জশির (Panjshir valley) তাদের দখলে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আফগান (Afghanistan) সংবাদ মাধ্যমেরও একই খবর। পঞ্জশিরের মূল সদর শহর সহ বিভিন্ন নগর, জেলা থেকে হটে গিয়েছে জুনিয়র মাসুদের আফগান রেজিস্ট্যান্স ফোর্স।

আবার সংবাদ মাধ্যমেই আসছে মাসুদ বাহিনীর ভিডিও বার্তা-লড়াই এখনও শেষ হয়নি। তালিকা জঙ্গি বিরোধী আফগান রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের দাবি, পার্বত্যাঞ্চলে তাদের শক্তি অটুট।

Ahmad Massoud, son of the slain hero of the anti-Soviet resistance Ahmad Shah Massoud
আহমদ মাসুদ, সোভিয়েত বিরোধী প্রতিরোধ আহমদ শাহ মাসুদ এর নিহত বীরের পুত্র

তালিবান বনাম পঞ্জশিরের অপসারিত শাসক আহমেদ মাসুদের বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। এখানেই আছেন অপসারিত আফগান সরকারের স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ। শুক্রবারই জানা যায় তাঁর ভাইকে কুপিয়ে খুন করেছে তালিবান।

পঞ্জশিরের পরিস্থিতি তীব্র সংঘাতময়। এখানেই একমাত্র তালিবান বিরোধী শক্তি সংগঠিত। তবে ক্রমাগত হামলায় তারা পিছু হটে। পঞ্জশিরের সিংহ প্রয়াত আহমেদ শাহ মাসুদের বাড়ি দখল করে তালিবান। তাঁর পুত্র আহমেদ মাসুদ সরে গিয়েছেন পার্বত্য এলাকায়। পঞ্জশির দখল করতে বহু ক্ষতি হয়েছে তালিবান তাও স্বীকার করে নেয়।

শনিবার কাবুলে দ্বিতীয় তালিবান অন্তর্বতীকালীন সরকার। এই জঙ্গি সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই জারি থাকবে জানায় আফগান রেজিস্ট্যান্স ফোর্স। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর, মানুষের বাহিনী কাবুলের তালিবান সরকারকে কোনওভাবেই মেনে নেবে না বলেই জানিয়েছে।

কুপিয়ে-চোখ উপড়ে আফগানের স্বঘোষিত প্রেসিডেন্টের ভাইকে হত্যা করল তালিবানরা

Taliban kills Rohullah Saleh

নিউজ ডেস্ক: রাস্তার ধারে পড়ে দেহ। কুপিয়ে কুপিয়ে খুন করে চোখ উপড়ে নিয়েছে তালিবান (Taliban) জঙ্গিরা। মৃত ব্যক্তির নাম রুহুল্লাহ সালেহ। তিনি অপসারিত আফগান (Afghanistan) সরকারের স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট আমারুল্লাহর (Amrullah Saleh) ভাই। নৃশংস এই খুন মনে করিয়েছে প্রথম তালিবান সরকারের আমলে কাবুলে খুন করা ততকালীন প্রেসিডেন্ট ডক্টর নাজিবুল্লাহের ক্ষতবিক্ষত দেহ।

আমারুল্লাহ সালেহর জীবন বিপন্ন। কারণ তালিবান দখল করেছে পঞ্জশির। এখানকার জঙ্গি বিরোধী শাসক আহমেদ মাসুদের বাহিনি এখন মূল এলাকা ছেড়ে গেরিলা যুদ্ধ করছে। আমারুল্লাহ সালেহ ও আহমেদ মাসুদের বাহিনি লড়াই চালালেও পঞ্জশির তালিবান দখলেই।

পঞ্জশিরে যেখানে আমরুল্লাহ সালেহর ভবন রয়েছে।সেই ভবনে হামলা চালিয়েছে তালিবান। সেখানেই আমরুল্লাহ সালেহর বড় ভাই রুহুল্লাহ সালেহকে খুন করা হয়েছে।

গত ১৫ আগস্ট আমেরিকান সেনা আফগানিস্তান ত্যাগ করে। সেই দিনই কাবুল দখল করে তালিবান। দেশত্যাগ করেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। তিনি দেশ ছাড়তেই ভাইস প্রেসিডেন্ট আমারুল্লাহ সালেহ পঞ্জশিরে আশ্রয় নেন নিজেকে আফগান সরকারের প্রেসিডেন্ট দাবি করে তালিবান বিরোধী আহমেদ মাসুদের সঙ্গে জোট করে লড়াই করছেন।

২৫০০ বছরের অজেয় পঞ্জশিরের ‘পতন’, উড়ল তালিবান পতাকা

Taliban Flag In Panjshir Valley

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের (Afghanistan) শেষ জঙ্গি বিরোধী এলাকার পতন হয়েছে। দেশটির নিয়ন্ত্রক তালিবান (Taliban) জঙ্গিরা প্রবল ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার করে অবশেষে পঞ্জশির উপত্যকার (Panjshir valley) গভর্নর হাউসে নিজেদের পতাকা উড়িয়ে দিল।

পঞ্জশির বরাবর তালিবান বিরোধী এলাকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই এলাকার শাসক আহমেদ মাসুদ (Ahmed Masud) এখনও লড়াই চালাচ্ছেন। তাঁর আফগান রেজিস্টেন্স বাহিনি রবিবার রাতে প্রবল প্রত্যাঘাতে তালিবান জঙ্গিদের ছিন্নভিন্ন করে দেয়।কিন্তু সোমবার সকালেই মাসুদ বাহিনীর কমান্ডার ও মুখপাত্রের মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত হয়। এর পর আহমেদ মাসুদের তরফে গেরিলা হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পঞ্জশিরের বড় অংশ এখন তালিবান জঙ্গি কবলিত। তবে গেরিলা হামলা চলছেই।

কাবুল থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে পঞ্জশির দখলে তালিবান প্রথম সাফল্য পেল। আশঙ্কা পঞ্জশিরের শাসক আহমেদ মাসুদ ও অপসারিত আফগান সরকারের স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ যে কোনও মুহূর্তে মারা যেতে পারেন। আফগান রেজিস্টেন্স ফোর্স জানিয়েছে লড়াই চলবে।

https://twitter.com/MilitaryBWF/status/1434789979205476352?s=20

পঞ্জশির দখল করে তালিবান নজির গড়েছে। ইতিহাস বলছে, ১৯৯৬-২০০১ সালে আফগানিস্তানের প্রথম তালিবান সরকারের আমলে পঞ্জশির ছিল জঙ্গি মুক্ত এলাকা। তৎকালীন পঞ্জশির শাসক আহমেদ শাহ মাসুদ জঙ্গিদের ঠেকিয়ে রাখেন। তবে তিনিও নাশকতায় মারা যান। তাঁর পুত্র আহমেদ মাসুদ গত ১৫ আগস্ট থেকে ক্রমাগত তালিবান বিরোধী লড়াই চালাচ্ছেন।

কাবুল পুনরায় তালিবান কব্জায় চলে যাওয়ার পর জঙ্গিদের তরফে পঞ্জশিরকে বাগে আনতে সন্ধি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই চুক্তি বাতিল হয়।এর মাঝে পাকিস্তানের সামরিক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই প্রধান কাবুল সফর শুরু করেছেন। মনে করা হচ্ছে, তার সাহায্যেই পঞ্জশির অভিযানে সফল হলো তালিবান জঙ্গিরা।

ক্রমাগত মর্টার চার্জ, এত শক্তি মাসুদের! তালিবান চিন্তিত

Anti Taliban nrf force attack taliban claimed 1000 militant captured at Panjshir valley

নিউজ ডেস্ক: এত শক্তি কোথা থেকে এসেছে? কাবুল (Kabul) থেকে বারবার প্রশ্ন আসছে পঞ্জশির ঘিরে রাখা তালিবান (Taliban) জঙ্গিদের কাছে। টুইটে ছড়িয়েছে পঞ্জশির (Panjshir valley ) থেকে ক্রমাগত মর্টার চার্জের ছবি। প্রবল প্রত্যাঘাত করছেন পঞ্জশিরের শাসক আহমেদ মাসুদ। তাঁর বাহিনী আফগান ন্যাশনাল রেসিস্ট্যান্স ফ্রন্টের দাবি, অন্তত ১০০০ তালিবান জঙ্গি ধরা পড়েছে।

অন্যদিকে তালিবান জঙ্গি নিয়ন্ত্রিত ইসলামি আমিরশাহী আফগানিস্তানের হামলাকারীদের দাবি, ধৃতদের ছবি দিয়ে প্রমাণ দিক পঞ্জশিরের শাসক। তবে আল জাজিরা জানাচ্ছে,পঞ্জশিরের কিছু এলাকায় তালিবান কব্জা আছে। কিছু এলাকা থেকে আহমেদ মাসুদের বাহিনী পার্বত্যাঞ্চলের দিকে সরে গিয়েছে।
রুশ, ইরানের সংবাদ মাধ্যমের খবর, পঞ্জশির দখলে প্রবল শক্তি প্রয়োগ করছে তালিবান। রবিবার বিকেল পর্যন্ত এলাকাটি তালিবান নিয়ন্ত্রণের বাইরে। পঞ্জশির থেকে সংঘর্ষ বারবার মোড় নিচ্ছে।

বিবিসি জানাচ্ছে, আফগানিস্তানে দ্বিতীয় দফার তালিবান সরকার গঠন সাময়িক পিছিয়েছে তালিবান। এদিকে আফগানিস্তানের সঙ্গে পরবর্তী কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেছে রাশিয়া, ইরান, চিন ও পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট,কেন পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার প্রধান কাবুলে সফর করছেন, তাও তুমুল আলোচিত। ধারণা করা হচ্ছে আইএসআই তার পূর্ব নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুসারে তালিবান সরকারের কর্মসূচি রূপায়ণ করছে। তবে পথের কাঁটা পঞ্জশির।

আফগানিস্তানের একমাত্র পঞ্জশির উপত্যকা বরারবর বিদেশি হামলা ও জঙ্গি বিরোধী অবস্থানে অনড়। সোভিয়েত সেনার বিরুদ্ধেও তারা ছিল কট্টর। আবার তালিবান বিরোধী তাদের অবস্থান। ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত গত তালিবান সরকারের আমলেও পঞ্জশির ছিল জঙ্গি মুক্ত। নেতৃত্বে ছিলেন আহমেদ শাহ মাসুদ। তাঁর পুত্র আহমেদ মাসুদ এখন নেতৃত্বে।

পথের কাঁটা পঞ্জশির দখলের পরেই তালিবান সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

Taliban and the Resistance Front in Panjshir Valley

নিউজ ডেস্ক: কী হবে পঞ্জশিরে? তালিবান কব্জা নাকি জঙ্গি বিরোধী আফগানি শক্তির নেতা মাসুদের জয় প্রায় পুরো আফগানিস্তানের দখল নিলেও তালিবান এখনও কব্জা করতে পারেনি। শনিবার ভোর থেকে প্রবল সংঘর্ষ চলছে এই এলাকায়। পঞ্জশির ঘিরে মূল সংঘর্ষ তালিবান ও আফগান রেজিস্টেন্সের।  আল জাজিরা জানাচ্ছে, পঞ্জশিরের কিছু এলাকায় তালিবান জঙ্গি বাহিনি ঢুকেছে। পঞ্জশির চেক পোস্ট সংলগ্ন একটি জেলার বাসিন্দারা দূরবর্তী এলাকায় চলে যাচ্ছেন। এলাকাটি দখলের দাবি করেছে তালিবান।

শুক্রবার তালিবান সরকার গঠনের বার্তা ছিল। কিন্তু সরকার ঘোষণা হয়নি। আফগানিস্তানের সংবাদ মাধ্যমের খবর, আপাতত সরকার ঘোষণা পিছিয়ে দিয়েছে তালিবান। তবে সরকারের প্রধান হিসেবে তালিবান জঙ্গি সংগঠনের সহ প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আবদুল বারাদারের নাম চূডান্ত হয়েছে। আর সরকারের সর্বশীর্ষে থাকছে বর্তমান তালিবান প্রধান হিবাতুল্লাহ আখুন্দাজাদা। মনে করা হচ্ছে, পঞ্জশির দখল করেই তালিবান সরকার গঠন সম্পূর্ণ করবে।

Taliban and the Resistance Front in Panjshir Valley

পঞ্জশির ঘিরে লড়াই কেমন? আলজাজিরা জানাচ্ছে পরিস্থিতি প্রবল সংঘর্ষপূর্ণ। তালিবান বেগ পাচ্ছে। আফগান সংবাদ মাধ্যম টোলো নিউজের খবর, পঞ্জশিরে উভয়পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে।  রুশ সংবাদ সংস্থা তাস জানাচ্ছে, তালিবানের বিরাট ক্ষতি হচ্ছে। তবে পঞ্জশিরের কিছু অংশে তালিবান প্রথম দিকে ঢুকে পড়েছিল। তাদের হটিয়েছে আহমেদ মাসুদের বাহিনি।

তবে পঞ্জশিরে থাকা অপসারিত আফগান সরকারের স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট আমারুল্লাহ সালেহ বিবিসি কে জানান লড়াই জোরদার চলছে। কঠিন পরিস্থিতি। গত ১৫ আগস্ট তালিবান দ্বিতীয়বারের জন্য কাবুল দখল করার পরেই তিনি পঞ্জশিরে আশ্রয় নেন। তখন তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট। তবে প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি দেশত্যাগ করতেই সামারুল্লাহ নিজেকে সংবিধান মাফিক প্রেসিডেন্ট বলে ঘোষণা করেন।

কাবুল থেকে দলের পর দল তালিবান যাচ্ছে মার্কিন সেনার ফেলে যাওয়া অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে। পঞ্জশির উপত্যকার শাসক আহমেদ মাসুদ তাঁর বাহিনি নিয়ে প্রবল প্রতিরোধ গড়েছেন। দু পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি বিস্তর। পঞ্জশির উপত্যকা একমাত্র আফগান এলাকা যেখানে তালিবান বিরোধী নিয়ম চলে।  পঞ্জশিরের শাসক আহমেদ মাসুদের পিতা আহমেদ শাহ মাসুদ ছিলেন তালিবান বিরোধী নেতা ও আফগানিস্তানের জাতীয় বীর। তিনি প্রথম তালিবান সরকার (১৯৯৬-২০০১) সময়ে পঞ্জশিরকে বিচ্ছিন্ন রাখতে সমর্থ হন। পরে নাশকতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

পঞ্জশির রক্তাক্ত: যে ছবি প্রমাণ দিচ্ছে মাসুদ বাহিনিকে কেন ভয় তালিবানের

#Panjshir valley
নিউজ ডেস্ক: তালিবান ঘিরছে, প্রত্যাঘাতের হামলায় মাসুদ বাহিনি। আফগানিস্তানের যে অংশটি কোনোদিন কারোর সামনে নত হয়নি সেই পঞ্জশির উপত্যকা এখনও প্রতিরোধের লড়াইয়ে সামিল। কাবুল থেকে দলে দলে জঙ্গি তালিবান যাচ্ছে পঞ্জশিরের দখল নিতে। তাদের মুখোমুখি হচ্ছে আফগান রেজিস্ট্যান্স ফোর্স। আফগান সংবাদ মাধ্যমের খবর, তালিবান ও পঞ্জশিরের শাসক আহমেদ মানুষের মিলিশিয়া সংঘর্ষে লিপ্ত।

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে তালিবান জঙ্গিরা পঞ্জশিরের ভিতর কিছুটা অংশে ঢুকেছে। বেশকিছু তালিবান জঙ্গিরা মৃত্যু হয়েছে। পঞ্জশির উপত্যকার শাসক আহমেদ মাসুদ তাঁর পিতার আহমেদ শাহ মাসুদের মতো তীব্র তালিবান বিরোধী। তিনি লড়াই চালাচ্ছেন। নিচে থাকল সংঘর্ষের সময়কার কিছু ছবি। কোথাও তালিবান বিরোধী মাসুদের মিলিশিয়া, কোথাও তালিবান জঙ্গিদের অবস্থান।  এক নজরে দেখুন বিখ্যাত পঞ্জশির এখন কেমন।

পঞ্জশির দখল নিতে এগোচ্ছে তালিবান বাহিনি

আফগানিস্তানে তালিবানি পতাকা কেনার হিড়িক, জঙ্গি বিরোধী পঞ্জশির বলছে ‘না’

Afghanistan Taliban National flag,

#Afghanistan
নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে একটি ছবি। এতে দেখা যাচ্ছে, কাবুলের রাজপথে এক কিশোরকে সদ্য অধিগ্রহন করা তালিবান পতাকা হাতে যেতে। আফগানিস্তানের জাতীয় পতাকা এখন এটি। গত ১৫ আগস্ট তালিবান (Taliban) যখন কাবুল দ্বিতীয়বার দখল করে, কিছু পরেই আফগান জাতীয় পতাকা নামিয়ে দেয়।
তালিবান জঙ্গি অধিকৃত আফগানিস্তানের নতুন নামরণ করা হয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র আফগানিস্তান নাম আর নেই। এর বদলে তালিবান দিয়েছে ইসলামিক আমিরশাহী আফগানিস্তান নাম। প্রচলিত অর্থে দেশটিতে পুরনো আমিরতন্ত্র ফিরিয়েছে তালিবান জঙ্গি সংগঠন।

১৫ আগস্ট তালিবান দখলে কাবুল চলে যাওয়ার পরেই আফগানিস্তানের পূর্বতন জাতীয় পতাকা নিয়ে কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ হয়েছিল। বিক্ষোভরত আফগানিদের দাবি কোনওভাবেই জাতীয় পতাকা পরিবর্তন করা যাবে না। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তালিবান রক্ষীদের বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। তবে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে নতুন তালিবানি পতাকা নিতে দেখা গিয়েছে অনেক আফগানিকেই। অতীত স্মৃতি হচ্ছে সদ্য অপসারিত নির্বাচিত সরকারের আমলের পতাকা।

বিভিন্ন সময়ে কাবুলের তখতে যারা ক্ষমতা এসেছে তখনই বদলেছে আফগান জাতীয় পতাকা। গত একশ বছরে এই পরিবর্তন হয়েছে অন্তত ১৯ বার। আফগান জাতীয় পতাকার এই পরিবর্তন দেশটির প্রতিটি জমানার একেকটি ইঙ্গিতবাহী দিক মনে করেন গবেষকরা।

কাবুলের সংবাদমাধ্যমেও নতুন তালিবান পতাকা দিয়ে খবর সম্প্রচার শুরু হয় ১৫ আগস্ট দুপুরের পর থেকেই। সেইদিনই সকাল পর্যন্ত যতক্ষণ কাবুলে প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি ছিলেন ততক্ষণ আফগান জাতীয় পতাকা উড়েছিল কাবুল প্যালেস ও আইনসভার উপর। তিনি পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। তালিবান জঙ্গিরা দখল করে নেয় কাবুল। আফগান রাজধানীতে নিজেদের সংগঠনের পতাকা হাতে জঙ্গি তালিবান টহল শুরু হয়। সেই পতাকা এখন সব সরকারি ভবন, আইনসভা ও প্রেসিডেন্ট ভবনে উড়ছে।

কাবুলের সংবাদ মাধ্যমের খবর, ৩১ সেপ্টেম্বরে মার্কিন সেনা পুরোপুরি আফগানভূমি ত্যাগ করার পরই হুড়মুড়িয়ে বেড়েছে তালিবানের কায়দার পোশাক, বোরখা কেনার পালা। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দাম। পাল্লা দিয়ে বিকোচ্ছে নতুন তালিবানি পতাকা। সাধারণ আফগানির মনে রয়েছে সদ্য পুরনো হওয়া পতাকাটি। তবে তারা নিজেদের নিরাপদে রাখতে নতুন পতাকায় মুড়ে নিচ্ছেন।

ব্যতিক্রম আছে। আফগানিস্তানের একমাত্র তালিবান বিরোধী এলাকা পঞ্জশির। সেখানে কোনও তালিবানি শাসন নেই। পঞ্জশিরের শাসক আহমেদ মাসুদ জানিয়েছেন, পিতার মতো তিনিও আফগানিস্তানের কৌলীন্য বজায় রাখতে তালিবান বিরোধী যুদ্ধ চালাবেন। পঞ্জশিরের সিংহ বলে সুপরিচিত আহমেদ শাহ মাসুদ গত তালিবান সরকারের আমলে প্রবল যুদ্ধ করে নিজের এলাকা তালিবান মুক্ত রেখেছিলেন। পরে নাশকতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

পিতার মতোই পঞ্জশিরকে তালিবান মুক্ত রাখতে নিজস্ব সেনাবাহিনির প্রস্তুতি শুরু করেছেন জুনিয়র মাসুদ। এখানেই রয়েছেন অপসারিত আফগান সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট সামারুল্লাহ। তিনি নিজেকে প্রেসিডেন্ট বলে ঘোষণা করেছেন। একমাত্র পঞ্জশিরেই এখনও উড়ছে তালিবানি আমলে সদ্য উপড়ে ফেলা আফগান জাতীয় পতাকা।

লাল তারিখ ৩১ আগস্ট: তারপর মাথা কাটা? হিন্দুকুশের নিচে পঞ্জশির তৈরি তালিবান খতম অভিযানে

The Panjshir Valley, the only area not taken by the Taliban or any invading force

নিউজ ডেস্ক: সর্বশেষ সংবাদ এসেছে কোনও যোগাযোগ নেই। পঞ্জশির বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। বিবিসি জানিয়েছে, আফগানিস্তানের তালিবান কব্জার বাইরে পঞ্জশির এখনও অটুট। তবে সেখানকার শাসক আহমেদ মাসুদের (জুনিয়র মাসুদ) সঙ্গে তালিবান কর্তৃপক্ষের সন্ধি হয়েছে। বৈঠকে স্থির হয় পঞ্জশির থাকবে মাসুদের হাতেই।
রবিবার রাত থেকেই পঞ্জশিরের সঙ্গে টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন। স্বাভাবিকভাবেই পঞ্জশিরে ক্ষমতাসীন নর্দান অ্যালায়েন্সের আশঙ্কা তালিবান হামলার পূর্ব প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তারা কোনওভাবেই সন্ধি মানবে না।

লাল তারিখ ৩১ আগস্ট। কী হবে ?
এই দিনই মার্কিন সেনা পুরোপুরি আফগানিস্তান মিশন শেষ করবে। টানা কুড়ি বছরের এই মিশন শেষ হলেই আফগানিস্তানের শাসন ক্ষমতায় পাকাপাকিভাবে বসবে তালিবান জঙ্গিরা-দ্বিতীয়বারের মতো। গত ১৫ আগস্ট তারা কাবুল দখল করে। পঞ্জশির আর একটি ক্ষুদ্র অংশ বাদে পুরো আফগানিস্তানই তালিবান দখলে।
পঞ্জশিরে যা যা ঘটার সম্ভাবনা

Whatever is likely to happen in Panjshir১. পঞ্জশির দখলের জন্য তালিবান অভিযান শুরু হবে ৩১ আগস্টের পরেই।
২. পঞ্জশির উপত্যকাবাসী প্রবল লড়াই করবেন। গত তালিবান সরকারের আমলেও এই এলাকা ছিল জঙ্গি মুক্ত এলাকা।
৩. পঞ্জশিরের পতন হতে পারে। শাসক আহমেদ মাসুদ হয় পলাতক অথবা মারা যেতে পারেন। আহমেদ মাসুদের পিতা আহমেদ শাহ মাসুদ পঞ্জশিরের সিংহ বলে পরিচিত। সুপরিচিত তালিবান বিরোধী নেতা ছিলেন।
আড়াই হাজার বছর ধরে অজেয় পঞ্জশির

পঞ্জশির উপত্যকা হাজার হাজার বছর ধরে অজেয়। মহাবীর আলেকজান্ডার, গজনীর সুলতান মামুদ, পাঞ্জাব কেশরী শিখ সম্রাট রণজিৎ সিং, ব্রিটিশ, সোভিয়েত ইউনিয়নের বিশাল সেনা কেউ এই আফগান উপত্যকা দখল করতে পারেনি। এমনকি প্রথম তালিবান সরকারের আমলেও এই এলাকা ছিল জঙ্গি মুক্ত। দ্বিতীয় তালিবান সরকারের আমলেও চরিত্র ধরে রাখল পঞ্জশির ২৫০০ বছর ধরে অজেয় চরিত্র। এও এক নজির।

এই পঞ্জশির নিয়ে তালিবানের মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড়। ৩১ তারিখের পর তালিবান সরকার ঘোষণা করেই পঞ্জশির অভিযান করতে মরিয়া। বিবিসি জানাচ্ছে, পঞ্জশিরের শাসক মাসুদ সব দিক খতিয়ে দেখেছেন। তাঁর বাহিনি প্রস্তুতি শেষ করেছে। অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়েছে মাসুদের নর্দান অ্যালায়েন্স রক্ষীরা। যারা তালিবানদের মাথা কাটার জন্য সুপরিচিত।

তালিবান জঙ্গিরা দুবার তারা আফগান ক্ষমতার কেন্দ্রে। কাবুলের নিকটস্থ হিন্দুকুশ পর্বতমালা দিয়ে ঘেরা বিখ্যাত পঞ্জশির এলাকা দখল করতে পারেনি তারা। পঞ্জশির দখলে শত শত জঙ্গি পাঠালেও, এখানকার তাজিক বংশজাত যোদ্ধারা প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। শেষ পর্যন্ত আলোচনার কৌশল নেয় জঙ্গিরা। আফগান সংবাদ মাধ্যমের খবর পঞ্জশিরের শাসক আহমেদ সন্ধির প্রস্তাব দেয় তালিবান জঙ্গিরা। বৈঠকে স্থির হয় পঞ্জশিরে কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকবে না তালিবান জঙ্গিদের। এই এলাকায় তালিবানি শরিয়তি আইন চলবে না, এমনই কড়া শর্ত দেন জুনিয়র মাসুদ। তবে আলোচনার আগে রাশিয়া সরকারে প্রতি বার্তা দিয়েছিলেন পঞ্জশিরের শাসক মাসুদ। তিনি বলেন, মস্কো যেন তালিবানকে বোঝায়। এবার পঞ্জশিরে ইন্টারনেট বন্ধের ইঙ্গিত সন্ধি ভাঙতে চলেছে।

বৈঠকের আগে তালিবান হুমকি দিয়েছিল, আলোচনায় ব্যর্থ হলে বলপ্রয়োগ করে পঞ্জশিরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হবে। সঙ্গে সঙ্গে আহমেদ মাসুদ জানিয়েছিলেন, উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ তালিবানের হাতে কোনওভাবেই ছেড়ে দেবেন না।

অপরাজেয় পঞ্জশির: ২৫০০ বছরের অজেয় তকমা ধরে রাখল, তালিবান পাঠিয়েছে সন্ধি প্রস্তাব

Panjshir valley

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তান দখল করেছে তালিবান জঙ্গিরা। এই নিয়ে দুবার তারা আফগান ক্ষমতার কেন্দ্রে। কিন্তু কোনওভাবেই কাবুলের নিকটস্থ হিন্দুকুশ পর্বতমালা দিয়ে ঘেরা বিখ্যাত পঞ্জশির এলাকা দখল করতে পারল না। অবশেষে অপরাজেয় পঞ্জশির উপত্যকা নিয়ে সমঝোতার পথেই হাঁটল তালিবান।

পঞ্জশির দখলে শত শত জঙ্গি পাঠালেও, এখানকার তাজিক বংশজাত যোদ্ধারা প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। শেষ পর্যন্ত পঞ্জশির দখলে ব্যর্থ হলো তালিবান। এরপরেই আলোচনার কৌশল নেয় জঙ্গিরা। আফগান সংবাদ মাধ্যমের খবর পঞ্জশিরের শাসক আহমেদ মাসুদের সঙ্গে তালিবান প্রতিনিধিরা বৈঠক করে। সেই বৈঠকে সন্ধির প্রস্তাব দেয় তালিবান জঙ্গিরা।

Ex-Afghan VP Amrullah Saleh

বর্তমান পঞ্জশির শাসক আহমেদ মাসুদের পিতা ছিলেন কিংবদন্তি তালিবান বিরোধী নেতা আহমেদ শাহ মাসুদ। তিনি পঞ্জশিরের সিংহ বলেও সুপরিচিত। বিগত ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত যখন প্রথমবার আফগানিস্তানে তালিবান জঙ্গি সরকার ছিল তখন সিনিয়র মাসুদ প্রবল লড়াই চালিয়ে তাঁর এলাকা জঙ্গি মুক্ত করে রাখেন। পরে ১৯৯৭ সালে বিস্ফোরণে আহমেদ শাহ মাসুদের মৃত্যু হয়।

আফগান সংবাদ মাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, জুনিয়র মাসুদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য কাবুল থেকে তালিবান জঙ্গিদের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল উত্তরাঞ্চলীয় পারওয়ান প্রদেশের রাজধানী চারিকারে গিয়েছিল। সেখানেই হয়েছে আলোচনা। এই প্রথম আহমেদ মাসুদের সঙ্গে কোনও তালিবান প্রতিনিধিদলের সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে স্থির হয়েছে পঞ্জশিরে কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকবে না তালিবান জঙ্গিদের। এই এলাকায় তালিবানি শরিয়তি আইন চলবে না, এমনই কড়া শর্ত দিয়েছেন জুনিয়র মাসুদ। পঞ্জশিরের সব ক্ষমতা তাঁর হাতেই থাকছে। সব মেনে নিয়েছে জঙ্গি সরকারের প্রতিনিধিরা। তবে আলোচনার আগে রাশিয়া সরকারে প্রতি বার্তা দিয়েছিলেন পঞ্জশিরের শাসক মাসুদ। তিনি বলেন, মস্কো যেন তালিবানকে বোঝায়।

বৈঠকের আগে তালিবান হুমকি দিয়েছিল, আলোচনায় ব্যর্থ হলে বলপ্রয়োগ করে পঞ্জশিরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হবে। সঙ্গে সঙ্গে আহমেদ মাসুদ জানিয়েছিলেন, উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ তালিবানের হাতে কোনওভাবেই ছেড়ে দেবেন না। এর পরেই পঞ্জশিরে নিজের মিলিশিয়া বাহিনির বিভিন্ন ফুটেজ প্রকাশ করেন তিনি। তাতে দেখা যায় অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিতে শুরু করেছে নর্দান অ্যালায়েন্স রক্ষীরা। যারা তালিবানদের মাথা কাটার জন্য সুপরিচিত।

পঞ্জশির উপত্যকা হাজার হাজার বছর ধরে অজেয়। মহাবীর আলেকজান্ডার, গজনীর সুলতান মামুদ, পাঞ্জাব কেশরী শিখ সম্রাট রণজিৎ সিং, ব্রিটিশ, সোভিয়েত ইউনিয়নের বিশাল সেনা কেউ এই আফগান উপত্যকা দখল করতে পারেনি। এমনকি প্রথম তালিবান সরকারের আমলেও এই এলাকা ছিল জঙ্গি মুক্ত। দ্বিতীয় তালিবান সরকারের আমলেও চরিত্র ধরে রাখল পঞ্জশির ২৫০০ বছর ধরে অজেয় চরিত্র। এও এক নজির।

পতনের মুখে পঞ্জশির? তালিবান থমকে, রুশ সাহায্য চান মাসুদ

Biden keeps to August 31 deadline for Kabul airlift

নিউজ ডেস্ক: ‘পঞ্জশিরের সিংহ’ বাবা আহমেদ শাহ মাসুদের মারাত্মক তালিবান বিরোধিতার পথেই এবারও গর্জন করছেন পুত্র মাসুদ। কিন্তু পঞ্জশির বাদে পুরো আফগানিস্তানের কব্জা এখন তালিবান দখলে। বিশ্বশক্তি ইতিবাচক বার্তা দিতে শুরু করেছে। আর তালিবানি শরিয়া আইন বিরোধী গোষ্ঠী নর্দান অ্যালায়েন্স লড়াই চালাচ্ছে।

আফগান সংবাদ মাধ্যমের খবর, পঞ্জশির দখলে মরিয়া তালিবান। তাদের নেতা হাইবাখান্দা আখুন্দাজাদা কোনওভাবেই আফগান মাটিতে বিরোধী শক্তির অবস্থান চায় না। তালিবান মিলিটারি কাউন্সিল তথা জঙ্গি সংগঠনটির সর্বচ্চো এই নেতার নির্দেশ যে করেই হোক পঞ্জশির দখল করতে হবে।

এদিকে পঞ্জশির থেকে প্রত্যাঘাত শুরু হয়েছে তালিবান বিরোধী আফগান শক্তির। পঞ্জশিরের বর্তমান শাসক আহমেদ মাসুদ জানিয়েছেন কোনও অবস্থায় তালিবানকে মেনে নেওয়া হবে না।

অপর একটি তালিবান বিরোধী শক্তি আফগান মার্শাল আবদুল রশিদ দোস্তাম গেরিলা কায়দায় হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেই খবর। তিনি মাজার ই শরিফের শাসক ছিলেন। গত ১৫ আগস্ট তালিবান জঙ্গিরা দ্বিতীয়বার কাবু্ল দখল করার কিছু আগে তিনি দেশত্যাগ করে সীমান্তবর্তী উজবেকিস্তানের গোপন আস্তানায় চলে যান।

সোভিয়েত জমানার আফগান মার্শাল দোস্তাম ও সোভিয়েত বিরোধী পঞ্জশিরের সিংহ আহমেদ শাহ মাসুদের দোস্তি ছিল তীব্র আলোচিত। তাঁর প্রয়াণের পর দোস্তামের সঙ্গে জুনিয়র মাসুদের সম্পর্ক অটুট। দোস্তাম বার্তা পাঠিয়ে লড়াই জারি রাখতে বলেছেন।

কিন্তু কাবুল থেকে বেশি দূরে নয় পঞ্জশির। ফলে তালিবান তার পুরো শক্তি ব্যবহার করছে এই এলাকা দখলের। পঞ্জশির থেকে তারই জবাব দিয়ে চলেছেন জুনিয়র মাসুদ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর, পঞ্জশিরের দোরগোড়ায় থমকে গিয়েছে তালিবান। তবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন আহমদ মাসুদ। এই অবস্থায় তালিবানের সঙ্গে আলোচনার পথ নিতে চলেছেন তিনি। এই বিষয়ে রাশিয়া সরকারের সাহায্য চেয়েছেন।

রুশ সংবাদমাধ্যমের খবর,তালিবান বিরোধী গোষ্ঠীর আহমদ মাসুদ বলেন, আমি আশা করছি রাশিয়া একমাত্র আফগানিস্তানের পরিস্থিতি এই মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যারা আফগানিস্তান ত্যাগ করতে পারছে না, তাদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল তৈরি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, রাশিয়াসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলো তালিবানকে চাপ দিতে পারে।

মাসুদ বলেন, আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি শান্তি আলোচনাই একমাত্র সমাধান। কিন্তু পঞ্জশির উপত্যকায় কিছু সামরিক কূটচাল এবং প্রস্তুতি আছে, আমরাও আত্মরক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি।