ভারতের এই রেলস্টেশনে ভিসা ছাড়া প্রবেশ নিষিদ্ধ

Atari Shyam Singh Railway Station

News Desk: সাধারণত কোনও দেশের রেল স্টেশনে ঢুকতে গেলে সে দেশের নাগরিকদের পাসপোর্ট-ভিসা লাগে না। সাধারণত পাসপোর্ট ভিসা প্রয়োজন হয় বিদেশি নাগরিকদের। কিন্তু আমাদের দেশে এমনই একটি রেলস্টেশন আছে যেখানে ঢুকতে গেলে পাসপোর্ট এবং ভিসা থাকা আবশ্যিক। বিনা পাসপোর্ট-ভিসায় এই স্টেশনে ঢুকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে গ্রেফতার করবে পুলিশ। শুধু তাই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া হবে আইন মোতাবেক ব্যবস্থাও। ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে ব্যতিক্রমী এই স্টেশনটির নাম ‘আটারি’ (Atari Shyam Singh Railway Station )।

সীমান্তবর্তী এই স্টেশনে ভারতীয় নাগরিকদের প্রবেশ করতে গেলে পাসপোর্ট এবং ভিসা রাখা বাধ্যতামূলক। যদি কেউ বিনা ভিসায় স্টেশনে প্রবেশ করেন তাহলে তিনি আইন ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত হবেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জামিন পাওয়া যথেষ্ট কঠিন। জামিন পেতে কয়েক বছর গড়িয়ে যেতে পারে। শুধুমাত্র দেশের এই স্টেশনে প্রবেশ করতে গেলেই ভারতীয় নাগরিকদের কাছে পাকিস্তানের ভিসা থাকা বাধ্যতামূলক।

আটারি স্টেশন থেকেই চলাচল করে সমঝোতা এক্সপ্রেস। ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে এখানে এক বিশেষ নিয়ম মানা হয়। এই স্টেশনে সমঝোতা এক্সপ্রেস ছাড়ার আগে যাত্রীদের অনুমতি নেয় কর্তৃপক্ষ। কোনও কারণে যদি এই স্টেশনে ট্রেন লেট করে ছাড়ে বা প্রবেশ করতে দেরি করে সে ক্ষেত্রে ভারত-পাকিস্তান দুই দেশের রেজিস্টারেই স্বাক্ষর করতে হয়।

সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার এই রেল স্টেশনটি কড়া সুরক্ষা বলয়ে মোড়া। স্টেশনে রয়েছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একাধিক সুরক্ষা সংস্থা স্টেশনের উপর সর্বদা নজরদারি চালায়। স্টেশনের সুরক্ষার দায়িত্ব রয়েছে সেনাবাহিনীর হাতে। যা অন্য কোনও স্টেশনের ক্ষেত্রে থাকে না। পাশাপাশি এই স্টেশনের ওয়েটিং রুমের টেলিভিশনে সর্বদাই দেশপ্রেমের গান চালানো হয়।

এই স্টেশনে যেমন পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়া প্রবেশ করা যায় না তেমনই অতিরিক্ত জিনিসপত্র নিয়ে গেলেও যাত্রীদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে। কারণ এই স্টেশনে মালবাহকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। যাত্রীদের নিজেদের জিনিসপত্র নিজেদেরই বহন করতে হয়। তবে জিনিসপত্র নিয়ে যাবার জন্য রয়েছে বিশেষ ধরনের ট্রলি। এই স্টেশনের আরও একটি বিশেষত্ব রয়েছে। সেই বিশেষত্ব হল, এখানে এমন এমন সব খাবার মেলে যা একবার চেখে দেখলে ওই খাবারের টানেই বারবার আটারি স্টেশনে ছুটে আসতে হবে। বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবারের জন্য আটারি স্টেশন বিখ্যাত।

খেলা শুরু: তালিবানি কায়দায় পাকিস্তানে শিক্ষাকর্মীদের নিষিদ্ধ আঁটসাঁট পোশাক

Pak Takes Taliban Line

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানে তালিবানি রাজ (Taliban Line) কায়েম হতেই আঁচ এসে পড়ল পাকিস্তানে৷ ইসলামাবাদে স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের জন্য একটি বিস্তারিত ড্রেস কোড জারি করা হয়েছে৷ শিক্ষাবিদদের ডিউটির সময় জিন্স, আঁটসাঁট পোশাক, টি-শার্ট এবং চপ্পল পরা নিষিদ্ধ করেছে। পাকিস্তান সংবাদপত্র ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের ফেডারেল শিক্ষা অধিদপ্তর (এফডিই) পুরুষ এবং মহিলা শিক্ষকদের জিন্স পরা নিষিদ্ধ করেছে৷ ড্রেস কোড এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে শিক্ষাদানসহ অশিক্ষক কর্মীদের জন্য বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছে।

এফডিই-এর চিঠিতে বলা হয়েছে, সমস্ত প্রতিষ্ঠান প্রধান/বিভাগীয় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে, প্রত্যেক কর্মী সদস্য “তাদের শারীরিক গঠন এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে যথাযথভাবে মেনে চলছেন৷” তারমধ্যে রয়েছে নিয়মিত চুল কাটা, দাড়ি ছাঁটা, নখ কাটা, ডিওডোরেন্ট এবং পারফিউমের ব্যবহার।
ওই চিঠিতে মহিলা শিক্ষক এবং মহিলা কর্মীদের জন্য একটি সরকারি পোশাকের সুপারিশ করা হয়েছে৷ যা “উপযুক্ত সহজ এবং শালীন” হতে হবে৷ এরমধ্যে রয়েছে সালোয়ার কামিজ, ট্রাউজার, দোপাট্টা/শালসহ শার্ট৷ পরিষ্কার এবং ঝরঝরে চেহারা। কোন অবস্থাতেই জিন্স এবং আঁটসাঁট পোশাক পরা যাবে না। পাকিস্তান সরকার জুতোর ক্ষেত্রেও নির্দেশিকাও জারি করেছে৷ যাতে বলা হয়েছে, আরামদায়ক জুতা (স্নিকার এবং স্যান্ডেল) পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পুরুষ শিক্ষক এবং কর্মীদের জন্যও অনুরূপ নির্দেশাবলী জারি করা হয়েছে৷ তাতে জিন্স পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ডন অনুসারে চিঠিতে বলা হয়েছে, “আবহাওয়া অনুকূলে উপযুক্ত, সহজ এবং শালীন কামিজ এবং কোট পরতে হবে৷ কোন অবস্থাতেই জিন্স পরা অনুমোদিত নয়। “গ্রীষ্মের জন্য পুরুষ কর্মীদের হাফ হাতা শার্ট বা বুশ শার্ট পরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু কোনও ধরনের টি-শার্ট অনুমোদিত নয়। পুরুষ কর্মীদের জন্য চপ্পল পরাও নিষিদ্ধ।