राष्ट्रपति-उपराष्ट्रपति ने पुरी में पटाखा विस्फोट में मरने वालों पर दुख जताया

नई दिल्ली : राष्ट्रपति द्रौपदी मुर्मू और उपराष्ट्रपति जगदीप धनखड़ ने गुरुवार को पुरी में भगवान जगन्नाथ की चंदन यात्रा उत्सव के दौरान पटाखों में हुए विस्फोट में हुई मौत की घटना पर दुख जताया है।

राष्ट्रपति ने अपने शोक संदेश में कहा कि पुरी, ओडिशा में चंदन यात्रा के दौरान पटाखों में विस्फोट के कारण आग लगने से कई लोगों की मृत्यु का समाचार बहुत दुःखदाई है। मैं शोक संतप्त परिजनों के प्रति गहन संवेदना व्यक्त करती हूं और घायल हुए सभी लोगों के शीघ्र स्वस्थ होने की कामना करती हूं।

उपराष्ट्रपति ने कहा कि ओडिशा के पुरी में चंदन यात्रा के दौरान पटाखा विस्फोट की घटना में हुई दुःखद मौत से व्यथित हूं। दुख की इस घड़ी में मैं शोक संतप्त परिवारों के प्रति अपनी गहरी संवेदना व्यक्त करता हूं तथा घायलों के शीघ्र स्वस्थ होने की प्रार्थना करता हूं।

उल्लेखनीय है कि ओडिशा के पुरी में भगवान जगन्नाथ की चंदन यात्रा उत्सव के दौरान पटाखों के ढेर में विस्फोट होने से तीन लोगों की मौत हो गई जबकि 30 लोग घायल हैं।

Odisha: করোনা হামলায় সোমবার থেকে বন্ধ জগন্নাথ মন্দির

Puri  Jagannath temple

ফের বন্ধ হচ্ছে পুরীর বিখ্যাত জগন্নাথ মন্দির। ওডিশা (Odisha) সরকার দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও করোনা (coronavirus) সংক্রমণ গতি দেখে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

করোনার তৃতীয় ঢেউতে ভারত তথৈবচ। পুরীর জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীদের ভিড় এড়াতে চলতি মাস জুড়ে মন্দির বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার থেকে দর্শনার্থীদের জন্য ফের বন্ধ হচ্ছে মন্দির৷ তবে পুজো হবে। দর্শনার্থীদের জন্য দরজা বন্ধ থাকবে৷

বাড়তে থাকা করোনা সংক্রমণ দেখে চিন্তিত ওডিশা সরকার। পুরীর জেলাশাসক জানিয়েছেন, আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে মন্দির৷ ৩১ জানুয়ারির পর করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে পুনরায় খোলা হতে পারে জগন্নাথ মন্দিরের দরজা৷

করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে জগন্নাথ মন্দির বন্ধ হয়েছিল। গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত জগন্নাথ দর্শন করতে পারেননি দর্শনার্থীরা।

Omicron: ওমিক্রন রুখতে তিনদিন বন্ধ থাকবে পুরীর জগন্নাথ মন্দির

Jagannath Temple

নিউজ ডেস্ক:  করোনার নতুন ভেরিয়েন্ট ওমিক্রন (omicron) আক্রান্তের সংখ্যা দেশে ক্রমশই বাড়ছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে চলতি বছরের শেষে ফের পুরীর জগন্নাথ মন্দির (jaganath temple) তিন দিন বন্ধ রাখা হবে বলে সিদ্ধান্ত নিল মন্দির কর্তৃপক্ষ।

মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩১ ডিসেম্বর (december) থেকে আগামী বছরের ২ জানুয়ারি (january) পর্যন্ত অর্থাৎ তিন দিন জগন্নাথ মন্দির বন্ধ থাকবে। বছরের শেষে সাধারণত পুরীর (puri) মন্দিরে ভিড় থাকে অত্যন্ত বেশি। সেই ভিড় ঠেকাতেই মন্দির বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত।

দেশে ইতিমধ্যেই ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। মহারাষ্ট্রে তিন বছরের শিশুর শরীরেও নতুন ভেরিয়েন্টের হদিশ মিলেছে। এই অবস্থায় যাতে নতুন করে যাতে ওমিক্রনের সংক্রমণ না ছড়ায় তার জন্যই সক্রিয় হল পুরীর জগন্নাথ মন্দির কমিটি। শুক্রবার সন্ধ্যায় মন্দির কমিটির সদস্যরা বৈঠকে বসেন। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয় বছরের শেষ দিন এবং নতুন বছরের প্রথম দু’দিন মন্দির বন্ধ রাখা হবে।

মন্দির কমিটির প্রধান কৃষ্ণ কুমার জানিয়েছেন, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের ১ ও ২ জানুয়ারি এই তিনদিন মন্দির বন্ধ রাখা হবে। করোনার নতুন ভেরিয়েন্টের কথা মাথায় রেখেই এই সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকেই পুরীর জগন্নাথ মন্দির বন্ধ ছিল। দীর্ঘ নয় মাস বন্ধ থাকার পর ওই বছরের ডিসেম্বরে মন্দির খুলেছিল। তবে ভক্তদের সব ধরনের করোনাবিধি মেনে মন্দিরে আসতে হত। চলতি বছরে পুরীতে রথযাত্রা হলেও সেখানে জমায়েত ছিল নিষিদ্ধ। শুধুমাত্র চিরাচরিত আচার-আচরণ পালন করা হয়েছিল।

প্রতি বছরের শেষেই পুরীতে দর্শনার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ ভক্ত মানুষের ঢল নামে। সে ক্ষেত্রে পুরীর মন্দিরের ভিড়ও হয় অনেক বেশি। সেকারণেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বছরের শেষ এবং নতুন বছরের শুরুর দু’দিন মন্দির বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত।

Odisha: জাওয়াদের হামলা হবে সৈকত শহর পুরীতে, ফেনিল ঢেউয়ে দুলছে সাগর

odisha-cyclone-jawad

News Desk: পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘনীভূত গভীর নিম্নচাপ সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়ে ওডিশা (Odisha)ও অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

পিআইবি জানাচ্ছে, উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে জাওয়াদ নামে এই ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ ও দক্ষিণ ওডিশা উপকূলের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছবে। উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে, ওডিশা উপকূল বরাবর বাঁক নিয়ে, রবিবার দুপুর নাগাদ এটি পুরীর কাছে গিয়ে পৌঁছবে বলে, আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস।

জাওয়াদ হামলার কারণে ৪ ডিসেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর উপকূলের পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিতে জারি সতর্কতা। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে।

পড়ুন: Asani cyclone: জাওয়াদের পর জন্ম নেবে অশনি, সাগর দানবের মরণ নেই

পিআইবি জানাচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়-জাওয়াদ উপকূলের দিকে এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি সমুদ্র উত্তাল হতে পারে। ঝড়ের গতি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। মৎস্যজীবীদের ৫ তারিখ পর্যন্ত সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। যারা গেছেন, তাঁদের দ্রুত ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাইক্লোন জাওয়াদ সতর্কতার প্রেক্ষিতে দক্ষিণ পূর্ব এবং দক্ষিণ মধ্য রেলের বেশ কিছু এক্সপ্রেস ও সুপার ফাস্ট ট্রেন শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত বাতিল থাকবে। দক্ষিণ পূর্ব রেল সূত্রে এই খবর।

লন্ডনে তৈরি হচ্ছে পুরীর আদলে জগন্নাথ মন্দির, ওড়িশা থেকে গেল নিম কাঠ

Jagannath temple

News Desk, Kolkata: পুরীর জগন্নাথদেবের (Jagannathan) মন্দিরের আদলে আর এক বিশাল মন্দির তৈরি হতে চলেছে লন্ডনে (London)। ইতিমধ্যেই জগন্নাথ বলরাম (Balarama) ও সুভদ্রার (Suvadra) মূর্তি তৈরির জন্য ওড়িশা (Odisha) থেকে পৌঁছে গিয়েছে নিম কাঠ। ২০২৪ সালের মধ্যেই এই মন্দির তৈরির কাজ শেষ হবে। মন্দির তৈরির কাজ করছে ব্রিটেনের জগন্নাথ সোসাইটি।

মন্দির তৈরি শুরু না হলেও ইতিমধ্যেই লন্ডনের সাউথহলের রাম মন্দিরে জগন্নাথ দেবের পূজার্চনা শুরু হয়ে গিয়েছে। জগন্নাথ সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ ভক্তবৎসল পান্ডা (panda) জানিয়েছেন, প্রায় ৪০ একর জমি নিয়ে পুরীর মন্দিরের আদলে লন্ডনেও জগন্নাথ দেবের মন্দির তৈরি হচ্ছে। তবে তাঁরা এখনও ব্রিটেন সরকারের কাছ থেকে জমি হাতে পাননি।

আগামী বছরের শুরুতেই তাঁরা এই জমি পাবেন। জমি পেলেই জোরকদমে শুরু হবে নির্মাণ কাজ। তবে মন্দির তৈরির কাজ শুরু না হলেও ইতিমধ্যেই জগন্নাথ বলরাম ও সুভদ্রা তিন দেবতার মূর্তি গড়ার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। মূর্তি গড়ার জন্য ওড়িশা থেকে আনা হয়েছে নিম কাঠ। পুরীর মতোই এখানেও মন্দির চত্বরে তৈরি করা হবে তুলসী বন। পাশাপাশি লাগানো হবে বিভিন্ন ধরনের ফুল ও ফলের গাছ।

মন্দির নির্মাণের পর শুরু হবে রথযাত্রা উৎসব। এমনকী, তৈরি করা হবে জগন্নাথ দেবের মাসির বাড়িও। মন্দির তৈরির জন্য ইতিমধ্যেই ভক্তরা অর্থ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন। আগামী দিনে ভারত থেকে আসা পুণ্যার্থীরা যাতে জগন্নাথ মন্দির চত্বরে থাকতে পারেন তার ব্যবস্থা করা হবে বলেও ভক্তবৎসল জানিয়েছেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিকঠাক হলে ২০২৪ সালের মধ্যেই মন্দির নির্মাণের কাজ শেষ হবে।

Puri temple: সেবাইতদের জন্য চালু হল নয়া পোশাক বিধি

Puri temple

News Desk: পুরীর মন্দিরের (Puri temple) সেবাইত বা পুরোহিতদের জন্য চালু হল পোশাক বিধি। যে সমস্ত পুরোহিত বা সেবাইত মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করবেন বা ভক্তদের পুজো দেওয়ার কাজ করবেন তাঁদের জন্যই এই পোশাক বিধি চালু করা হল। রবিবার মন্দির কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পূজারীদের চিরাচরিত সনাতন ঐতিহ্যবাহী পোশাকেই জগন্নাথ মন্দিরের ভিতরে ঢুকতে হবে।

চিরাচরিত সনাতনী পোশাক বলতে কি বলা হচ্ছে সে বিষয়টিও মন্দির কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরোহিতরা শুধুমাত্র ঐতিহ্যশালী ধুতি, পট্টবস্ত্র এবং গলায় গামছা দিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন। ধুতি ও পট্টবস্ত্র ছাড়া অন্য পোশাকে কোনও পূজারীকে মন্দিরের মধ্যে ঢুকতে দেওয়া হবে না। মন্দিরে ঢুকতে হলে পুরোহিতদের সনাতন ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরেই প্রবেশ করতে হবে।

কী কারণে এই পোশাক বিধি? সে বিষয়টিও মন্দির কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, আজকাল অনেক পুরোহিত ও সেবাইত আধুনিক পোশাক পরে মন্দিরের ভিতরে ঢুকে পড়েন। পাজামা-পাঞ্জাবী, ছাড়াও অনেক পুরোহিতকে জিন্স পরেও পুজো করতে দেখা গিয়েছে। এটা ঠিক নয়। ভক্তরা অনেকেই পুরোহিতদের এই পোশাক নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন।

তাছাড়া মন্দিরের ভিতরে এধরনের আধুনিক পোশাকে সজ্জিত পুরোহিতকে সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা করে চেনা যায় না। ফলে পুরোহিতদের ভক্তরা ঠিকমতো চিনতে পারেন না। এছাড়াও পুরোহিতদের একাংশও এ ধরনের আধুনিক পোশাকের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁরা অভিযোগ করেছিলেন, জগন্নাথের কাছে কখনোই এ ধরনের আধুনিক পোশাক পরে যাওয়া ঠিক নয়। এই সমস্ত কথা বিবেচনা করেই মন্দিরের পুরোহিত বা সেবাইতদের জন্য পোশাক বিধি চালু করা হল।

যে সমস্ত পুরোহিত বা সেবাইত মন্দিরে প্রবেশ করবেন তাঁদের অবশ্যই এই পোশাক বিধি মেনে চলতে হবে। পোশাক বিধি না মানলে কোন পুরোহিতকেই মন্দিরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

Odisha: পুরীর মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে পুরোহিতের লালসার শিকার নাবালিকা

Puri  Jagannath temple

নিউজ ডেস্ক: মুম্বইয়ের পর এবার পুরী। এবার পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ভিতরেই এক নাবালিকাকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠল মন্দিরের পুরোহিতের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত পুরোহিতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নির্যাতিতা নাবালিকা হায়দরাবাদের বাসিন্দা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সে পুরীর মন্দিরে গিয়েছিল।

সন্ধ্যারতির সময় ওই নাবালিকা জগন্নাথ মন্দিরের ভিতর বামন মন্দিরে বসে প্রার্থনা করছিল। পরিবারের অন্য সদস্যরা ছিল কিছুটা দূরে। সে সময় নাবালিকাকে একা পেয়ে এই কাজটি করে অভিযুক্ত পুরোহিত। ঘটনার পর নাবালিকা কাঁদতে কাঁদতে মন্দির থেকে বেরিয়ে আসে। পরিবারের সদস্যদের সে পুরো ঘটনা খুলে বলে। অভিযুক্ত পুরোহিতের বিরুদ্ধে সিংহদ্ধার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। নির্যাতিতা নাবালিকাও ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ঘটনার বিবরণ দেয়। নাবালিকার বক্তব্যের ভিত্তিতে ওই পুরোহিতকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ভিতর ছোটো-বড় মিলিয়ে মোট ১৩৬টি মন্দির রয়েছে। তারই একটি হল বামন মন্দির। মন্দিরের পূজারী বা পুরোহিতের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। কয়েকদিন আগেই দিল্লির ক্যান্টমেন্ট এলাকায় এক কিশোরীকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে ছিল এক পুরোহিত।

এধরনের একটি ধর্ষণের মামলায় মন্দিরের পূজারীর পৌরহিত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল কেরল হাইকোর্ট। এক কিশোরীকে তার দুই বোনের সামনেই নিয়মিত ধর্ষণ ও নৃশংস অত্যাচারের ঘটনায় অভিযোগ উঠেছিল এক পূজারীর বিরুদ্ধে। সেই মামলায় বিচারপতি বলেন, ‘কোন দেবতা এমন পুরোহিতের পুজো গ্রহণ করেন।’ পকসো আইনে মামলা দায়ের হয় ওই পুরোহিতের বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত ওই মামলায় পুরোহিতের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

কেরলের ইদুক্কির এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তানকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। অসহায় ওই মহিলা নিজের তিন সন্তানের জন্য একটু আশ্রয় খুঁজছিলেন। নিরাশ্রয়, অসহায় মহিলার কথা জানতে পেরে তাঁদের আশ্রয় দিয়েছিলেন ওই পূজারী। এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। কিন্তু এরপর সামনে আসে ওই পুরোহিতের আসল চেহারা। মহিলার বড় মেয়েকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করতে থাকে ওই পুরোহিত। অন্য দুই মেয়ের সামনেই চলত যৌন নির্যাতন। প্রায় এক বছর ধরে এই অত্যাচার সহ্য করতে হয় ওই নিবালিকাকে।

সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি বলেন, স্ত্রী ও সন্তানদের ছেড়ে যখন স্বামী চলে যায়, তখন তিনি খুবই অসহায় হয়ে পড়েন। পূজারি সেই অসহায় মহিলাকে আশ্রয় দিয়েছিল শুধুমাত্র ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের জন্য। এটা ভাবা যায় না।’ এমন পুরোহিতের পুজো কোন দেবতা গ্রহণ করেন সেটাই জানতে ইচ্ছে করে।

পুরাণ কথা: জগন্নাথ ও রথযাত্রার ইতিহাস

প্রথম পর্ব: আগামী সোমবার, ২৭ আষাঢ় অর্থাৎ ইংরাজির ১২ জুলাই শুভ রথযাত্রা৷ তার আগে রথযাত্রা নিয়ে ধারাবাহিক লিখছেন  টিঙ্কু মণ্ডল৷

কথায় আছে, ‘বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বন’! আর সেই তেরো পার্বনের একটি হল রথযাত্রা৷ এই রথযাত্রার উদ্ভব পুরীর জগন্নাথ মন্দির থেকে৷ আজ আমরা জানবো জগন্নাথ মন্দিরের সেই কাহিনী৷ তবে তার আগে আমাদের জানতে হবে জগন্নাথ মন্দিরের ইতিহাস৷ কীভাবে তৈরি হয়েছিল জগন্নাথ মন্দির? কী-ইবা তার উৎস্য? সেই মূর্তির রহস্যই বা কী?

এই কাহিনীর উৎস্য দ্বাপর যুগের ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যুর পর থেকে৷ কৃষ্ণের মৃত্যুর পর যখন অর্জুন দ্বারকাতে আসেন তখন যদু বংশের শেষ হয়েছে৷ অর্জুন কৃষ্ণের দাহ সৎকারের কাজ করার পর দেখেন, দেহ তো সম্পূর্ণরূপে ভষ্মীভুত হয়ে গিয়েছে কিন্তু তাঁর হৃদপিন্ড তখনও নীলরূপে জ্বলছে৷ আর তখন অর্জুন সেই জ্বলন্ত হৃদপিন্ড জলে ভাসিয়ে দ্বারকার শিশু ও মহিলাদের নিয়ে হস্তিনাপুরে চলে যান৷ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জ্বলন্ত হৃদপিন্ড সাগরের নিচে গিয়ে লোহার রডে পরিণত হয়ে যায়৷

অন্যদিকে ভগবান বিষ্ণুর পরম ভক্ত মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্ন স্বপ্নাদেশ পান, নীলমাধব রূপে তাঁর কাছে আসতে চান৷ তারপর তিনি পাগলের মতো চতুর্দিকে শ্রীবিষ্ণুর নীলমাধব মূর্তির সন্ধান করতে থাকেন৷ অবশেষে একদিন সমুদ্রের তীরে তিনি শ্রীবিষ্ণুর নীলমাধব মূর্তি দেখতে পান৷ সেখানেই নীলমাধবের মন্দির স্থাপন করেন৷ এরপর একদিন সমুদ্রের জলে স্নান করার সময় তিনি দেখেন, একটি নরম লোহার টুকরো ভেসে যাচ্ছে৷ তিনি লোহার টুকরোটি হাতে নিতেই এক দৈব্যবাণী শুনতে পান৷ তিনি শোনেন, এই নরম লোহার টুকরোটি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের হৃদয় এবং এটি পৃথিবীতে বরাবরের জন্য থাকবে৷ এই টুকরোটি যেন জগন্নাথ দেবের মূর্তির মধ্যেই স্থাপন করা হয়৷ আর এমনভাবে এটি করতে হবে, যাতে তা কোনওদিন কারোর নজরে না-আসে৷

রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন সেই টুকরোটি নিয়ে নীলমাধব মূর্তির মধ্যে রাখেন৷ কিন্তু এরপর থেকে তাঁর চিন্তা আরও বাড়তে থাকে এইভেবে যে, কীভাবে জগন্নাথের মূর্তি তৈরি হবে? এরপর তিনি আবারও একদিন স্বপ্নাদেশ পান যে, সমুদ্রে ভেসে আসা কাঠ দিয়েই জগন্নাথ দেবের মূর্তি তৈরি করতে হবে৷ পরের দিন তিনি দেখেন, সমুদ্রে তিনটি কাঠ ভেসে আসছে৷ তিনি সেই কাঠগুলি সংগ্রহ করেন৷ কিন্তু তাতেও তাঁর চিন্তা দূর হয় না৷ কারণ তিনি ভাবেন, যেকোনও মূর্তি সাধারণত ধাতু এবং কষ্ঠিপাথর দিয়ে তৈরি হয়৷ কাঠ দিয়ে তখনও কোনও দেব-দেবীর মূর্তি তৈরি হয়নি৷ তাহলে তিনি কীভাবে সেই মূর্তি বানাবেন? এমন সময় হঠাৎ করেই এক ব্রাহ্মণ সেখানে উপস্থিত হন৷ তিনি নিজেই কাঠ দিয়ে মূর্তি বানানোর দায়িত্ব রাজার কাছে চেয়ে নেন৷ শুধু একটাই শর্ত তিনি রাজাকে দেন যে, যতদিন তিনি এই মূর্তি বানানোর কাজ করবেন, ততদিন ঘরের দরজা বন্ধ থাকবে৷ কেউ যেন তাঁর ঘরের দরজা না-খোলে৷ যদি দরজা খোলা হয়, তাহলে মূর্তি বানানোর কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে৷

ব্রাহ্মণের শর্তে রাজি হয়ে যান রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন৷ ফলে মূর্তি বানানোর কাজ শুরু হয়৷ রাজা প্রতিদিন মূর্তি বানানোর ঘরের কাছে দাঁড়াতেন এবং বাইরে থেকে আওয়াজ শুনতে পেতেন৷ এইভাবে সাতদিন কেটে যাওয়ার পর রাজা একদিন বাইরে দাঁড়িয়ে থাকাকালীন মূর্তি তৈরির আওয়াজ বন্ধ হয়ে যায়৷ ধৈর্য সামলাতে না-পেরে সেই বন্ধ ঘরের দরজা খুলে ভেরতে ঢুকে পড়েন রানি তপসিয়া৷ তখনই তিনি দেখেন যে, সেখানে কাঠমিস্ত্রী নেই এবং মূর্তি নির্মাণের কাজও সম্পন্ন হয়নি৷ মূর্তির হাত গড়ার কাজ তখনও বাকি রয়েছে৷ এতে রাজার চিন্তা আরও বেড়ে যায়৷ তিনি ভাবতে থাকেন, এই অসম্পূর্ণ মূর্তি কীভাবে সম্পন্ন হবে? আর সম্পূর্ণ না-হলে তা পুজো হবে কীভাবে? ঠিক তখনই নারদ মুনির আবির্ভাব হয়৷ তিনি রাজাকে জানান যে, এই রকমই এক অর্ধসমাপ্ত মূর্তি স্বর্গের স্বীকৃতিস্বরূপ৷ তাই সেই মূর্তির পুজো করলে তা মর্ত্যেও স্বীকৃতি পাবে৷ নারদের কথা শুনে রাজা তখন সেই অর্ধসমাপ্ত মূর্তির পুজো শুরু করেন৷ সেই সঙ্গে সমুদ্রে ভেসে আসা নরম লোহার টুকরোটি জগন্নাথ মূর্তির মধ্যে প্রতিষ্ঠা করেন৷ এমনভাবে স্থাপন করেন, যা আজ পর্যন্ত সকলের দৃষ্টির আড়ালে রয়েছে৷

আজও বারো বছর পর পর সমুদ্রে তিনটি কাঠ ভেসে আসে৷ সেই কাঠ দিয়ে একটি জগন্নাথ দেব, একটি বলরাম এবং আর একটি দিয়ে সুভদ্রার মূর্তি তৈরি করা হয়, যা ‘নবকলেবর’ নামে পরিচিত৷ এই নবকলেবরের নিয়মানুযায়ী আজও যে পণ্ডিত স্বপ্নাদেশ পান, সেই পন্ডিতই সমুদ্রে ভেসে আসা কাঠ সংগ্রহ করেন৷ আর সেই পন্ডিতই দায়িত্ব নিয়ে নবেকলেবর তৈরি করেন৷ কোথা থেকে কাঠ ভেসে আসে, আজও তা সবার অজানা৷ শুধু এটুকু জানা যায় যে, যে কাঠগুলি ভেসে আসে তা শুধুমাত্র সেই গাছেরই হবে যেখানে শঙ্খ, চক্র, গদা ও পদ্ম চিহ্নিত থাকবে৷ কিন্তু তা কোথায়, কোন গাছ তার কোনও ঠিকানা মেলেনি৷

আজ আমরা ‘রথযাত্রা’র-প্রথম পর্বে জানলাম জগন্নাথ মন্দির ও জগন্নাথ দেবের মূর্তির আবির্ভাবের কথা৷ পরের অর্থাৎ দ্বিতীয় পর্বে আমরা জানবো রথযাত্রা কী এবং কেন তা পালন করা হয়৷