বাংলায় ৩ টি নতুন ক্যান্সার হাসপাতাল তৈরি হবে, ঘোষণা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর

3 new cancer hospitals will be built in Bengal, announced the Union Minister

শুক্রবার ভার্চুয়ালি চিত্তরঞ্জন ন্যাশানাল কান্সার হাসপাতালের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে কলকাতায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী মানসুখ মান্ডাভিয়া। উদ্বোধনের পর আরও একটি বড় খবর সামনে আনলেন তিনি।

নতুন হাসপাতাল উদ্বোধনের পর ভাষণ দিতে গিয়ে মান্ডাভিয়া বলেন, এই হাসপাতাল ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন আলোর সঞ্চার করবে। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে থেকেও ক্যান্সার রোগীরা চিকিৎসা করাতে আসতে পারবে। বিশেষ করে পূর্ব ভারত ও উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে বহু ক্যান্সার রোগী বাংলায় এসে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ পাবে। আগামীদিনে বর্ধমান, কলকাতা এবং মুর্শিদাবাদে আরও তিনটি ক্যান্সার হাসপাতাল খোলা হবে। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার একযোগে এই কাজ করবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ক্যান্সারে আক্রান্ত শুনলেই অনেক রোগী টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে চান না। কিন্তু ক্যান্সার এখন আর কোনও মারণ রোগ নয়। চিত্তরঞ্জনের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে তুলনামূলক কম খরচে সেইসমস্ত রোগী চিকিৎসা করাতে পারবেন। নতুন এই হাসপাতালে সাড়ে চারশোর বেশী বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিও রয়েছে। অন্যদিকে, হাজরা মোড়ে অবস্থিত চিত্তরঞ্জনের প্রথম ক্যাম্পাসে রয়েছে দুশোর কিছু বেশী বেড।

আজ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতাল তৈরিতে রাজ্যে ২৫ শতাংশ খরচ দিয়েছে বলে জানান তিনি।

ওমিক্রনের বিরুদ্ধে লড়তে কতটা প্রস্তুত দেশ, জানালেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী

How much the country is ready to fight against Omicron, said the Union Health Minister

News Desk: দেশে এই মুহূর্তে দেখা দিয়েছে করোনার নতুন রূপ ওমিক্রনের উদ্বেগ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পেশ করা তথ্য অনুসারে, ইতিমধ্যেই দেশে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা ২০০ ছুঁয়েছে। এই সময় দেশের মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে ওমিক্রনের সংক্রমণ থেকে রেহাই পেতে কি ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মানসুখ মান্ডাভিয়ার দাবি, ভারত ওমিক্রনের বিরুদ্ধে লড়তে সবরকমভাবে প্রস্তুত। তিনি জানিয়েছেন, ওমিক্রনের উদ্বেগ কমাতে আগামী দু’মাসের মধ্যে দেশের করোনা টিকা উৎপাদন প্রায় ৪৫ কোটি বাড়ানো হবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং রাজ্যগুলিতে ৪৮ হাজার ভেন্টিলেটর বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, দেশের মানুষদের করোনাবিধি মেনে চলার আবেদন জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ৪ ডিসেম্বর কর্ণাটকে প্রথম ওমিক্রন সক্রমিত রোগীর হদিশ মেলে। এরপর একে একে দিল্লি, মহারাষ্ট্র, কেরল-সহ মোট ১১ টি রাজ্যে ওমিক্রন সংক্রমণের খোঁজ মিলেছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গেও একজন করোনা রোগীর দেহে ওমিক্রনের হদিশ পাওয়া গেছে।

দেশে সারের কোনও সমস্যাই নেই, জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য

Union Minister Mansukh Mandbay

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: ​রবিশস্য বপনের ভরা মরসুম চলছে। কিন্তু বিভিন্ন রাজ্য থেকে কৃষকরা (farmer) অভিযোগ করেছেন তাঁরা প্রয়োজনীয় সার (Fertilizer) বাজারে পাচ্ছেন না। কৃষকদের এই অভিযোগকে সামনে রেখে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত (Sougata ray) রায় ও মালা রায় শুক্রবার সংসদে কেন্দ্রীয় সার ও রসায়ন মন্ত্রীর (Minister of Fertilizer) কাছে জানতে চান, দেশে কি কৃষকদের প্রয়োজনীয় সারের অভাব রয়েছে? কোন কোন রাজ্য থেকে পর্যাপ্ত সার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে?

কোন ধরনের সার পাওয়া যাচ্ছে না? সারের এই সঙ্কট দূর করতে কেন্দ্র কি কোনও ব্যবস্থা নিয়েছে? বিভিন্ন রাজ্যে কোন ধরনের সার এবং কি পরিমাণ পাঠানো হয় সে ব্যাপারে সরকারের কাছে কি কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে? সারের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে? রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার ব্যবহার বাড়ানোর জন্য সরকার কি কোনও উদ্যোগ নিয়েছে?

সৌগত রায়ের এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় সার ও রসায়ন মন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য বলেন, দেশের বাজারে সারের কোনও সঙ্কট নেই। কয়েকটি রাজ্যের নির্দিষ্ট কিছু জেলায় ডিএপি সারের যোগান কম ছিল। কিন্তু ওই সমস্ত জেলাগুলিতে সময়মতোই ডিএপি পাঠানো হয়েছে। ২০২১-২২ রবিশস্যের মরসুমে ডিএপির কোনও অভাব নেই। রবি মরসুমে গোটা দেশে সারের মোট চাহিদা ৩৪.৬৫ লক্ষ মেট্রিক টন। কিন্তু সরকারের কাছে ৩৬.৬০ লক্ষ মেট্রিক টন ডিএপি রয়েছে। কাজেই সারের সঙ্কট আছে এটা বলা যায় না।

ফসলের মরসুম শুরুর আগেই যাতে কোথাও কোন সারের সঙ্কট না থাকে সে জন্য কেন্দ্রীয় কৃষি এবং কৃষক উন্নয়ন মন্ত্রক সব রাজ্যের সঙ্গে আলোচনায় বসে। প্রতিটি রাজ্যের কী পরিমাণ সার প্রয়োজন আছে তা জানার পর সরবরাহের ব্যবস্থা করে কেন্দ্র। যে সমস্ত সারে সরকার ভর্তুকি দিয়ে থাকে সেই সমস্ত সার বিক্রির ওপর সরকার অনলাইন ব্যবস্থায় গোটা দেশে নজরদারি চালায়। বিভিন্ন রাজ্যে সার যাতে সময়মতো পৌঁছে দেওয়া যায় সে জন্য প্রতিনিয়ত উৎপাদক এবং আমদানিকারকদের সঙ্গেও কথা বলে সরকার। সারের বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য জানতে প্রতি সপ্তাহে একবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজ্যের কৃষি দফতরগুলির সঙ্গে সরকারিভাবে আলোচনা করা হয়। যে সমস্ত সার চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কিছুটা কম হয় সেগুলি বিদেশ থেকে আনা হয়।

শুধু তাই নয়, যাতে সময় মতো সেই সার কৃষকদের কাছে পৌঁছয় তার জন্য অনেক আগেই সরকার আমদানি করে থাকে। মন্ত্রী আরও বলেন, গোটা দেশেই ভর্তুকি মূল্যে সরকার ইউরিয়া বিক্রি করে থাকে। ইউরিয়ার ৪৫ কেজি ব্যাগের দাম ২৪২ টাকা। সারের অভাবের জন্য কৃষকরা যাতে কোনও রকম সমস্যায় না পড়েন সে বিষয়ে সরকার সজাগ রয়েছে। তাই চাষ শুরুর আগেই কৃষকরা যাতে তাঁদের প্রয়োজনীয় সার পেয়ে যান তার জন্য সরকার আগাম ব্যবস্থা নিয়ে থাকে