Rafale: নৌবাহিনীর জন্য গোয়ায় শুরু হল রাফাল ফাইটারের প্রদর্শনী

China’s new fighter jet deployed near Taiwan

ভারতীয় নৌবাহিনীর ফাইটার জেট চুক্তির দিকে তাকিয়ে, বৃহস্পতিবার গোয়ায় নৌবাহিনীর কাছে ফ্রান্স (France) একটি রাফালে সামুদ্রিক যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে তার যুদ্ধের ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য। ভারতীয় নৌবাহিনী দেশীয় বিমানবাহী রণতরী বিক্রান্তের (Vikrant) জন্য ফাইটার জেট কেনার পরিকল্পনা করছে যা অগাস্টে চালু হতে পারে।

জানা গেছে, রাফালে জেটের প্রদর্শনীটি গোয়ার উপকূল-ভিত্তিক পরীক্ষা কেন্দ্রে (SBTF) শুরু হয়েছে। ২০১৭ সালে ভারতীয় নৌবাহিনী তার বিমানবাহী রণতরীটির জন্য ৫৭টি মাল্টি-রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট কেনার জন্য রিকোয়েস্ট ফর ইনফরমেশন (RFI) জারি করেছে। চুক্তির প্রতিযোগিতায় ৪টি বিমান রয়েছে। যেমন- রাফালে (ডাসল্ট, ফ্রান্স), এফ-১৮ সুপার হর্নেট (বোয়িং, ইউএস), এমআইজি-২৯কে (রাশিয়া) ও গ্রিপেন (সাব, সুইডেন)। F-18, রাফালে ও MIG-29K টুইন ইঞ্জিনের জেট। অন্যদিকে, গ্রিপেন একক ইঞ্জিনের বিমান। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বাকি প্রতিযোগীরাও তাদের বিমান ভারতে প্রদর্শনের জন্য নিয়ে আসবে। সরকার ভারতেও এই বিমানগুলি তৈরি করতে চেয়েছিল। আরএফআই-তে জানতে চাওয়া হয় কোম্পানিগুলি ভারতের সঙ্গে প্রযুক্তি স্থানান্তর (ToT) ও গভীর মেরামতের দক্ষতা কোন স্তর পর্যন্ত শেয়ার করতে ইচ্ছুক।

ভারত তার বিমান বাহিনীর জন্য প্রায় ৫৯,০০০ কোটি টাকা ব্যয় করে ৩৬টি রাফালে যুদ্ধবিমান কেনার জন্য ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সের সঙ্গে একটি সরকারি চুক্তি স্বাক্ষর করে। ফরাসি সংস্থা নির্মাতা ডাসাল্ট এভিয়েশন (Dassault Aviation) দ্বারা নির্মিত ৫টি রাফালে জেটের প্রথম ব্যাচ ২৯ জুলাই, ২০২০ সালে ভারতে পৌঁছায়। ইতিমধ্যেই নির্মাতা ডাসাল্ট এভিয়েশন ৩৩টি রাফালে জেট IAF-কে দিয়েছে। ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ফ্লোরেন্স পার্লি, গত মাসে ভারত সফরের সময় ইঙ্গিত দেন যে ফ্রান্স ক্যারিয়ার ভিত্তিক জেট সরবরাহ করতে আগ্রহী।

Leclerc Tank: রাফায়েলের পর এবার ফ্রান্স থেকে আসবে ট্যাঙ্ক! খরচ হবে প্রায় ৫০০ কোটি

ফ্রান্স থেকে এসেছে অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমান। এবার আসবে ট্যাঙ্ক! কথাবার্তা চূড়ান্ত না হলেও সম্প্রতি তৈরি হয়েছে এমন সম্ভাবনা।

ভারতে এখনো ব্যবহার করা হয় সোভিয়েত আমলের টি-৭২ ট্যাঙ্ক। সেগুলোকেই বদল করতে উদ্যত হয়েছে কেন্দ্র সরকার। সেই মতো আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে বার্তা। প্রোজেক্টের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফিউচার রেডি কম্ব্যাট ভেহিক্যালস’ (FRCV)। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে ভারত সরকারকে খরচ করতে হতে পারে ৫ বিলিয়ন মার্কিন মুদ্রা। যা ভারতীয় অর্থে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চাইছে ফ্রান্স। যুদ্ধ বিমানের পর ভারতকে তারা বিক্রি করতে চাইছে ট্যাঙ্ক।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, যৌথভাবে ট্যাংক তৈরি করার ভাবনা রয়েছে ভারত সরকারের। ফ্রান্সের নিম্নতর পার্লামেন্টেও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আপাতত শোনা যাচ্ছে ‘লেকরাক মেইন ব্যাটল’ ট্যাঙ্কের (Leclerc Main Battle Tank) ব্যাপারে প্রস্তাব পাঠানো হবে দিল্লিতে। ফরাসি সরকারের কাছে আর্জি রেখেছে ‘নেক্সটার’ নামক সংস্থা। ফ্রান্সের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে ইতিমধ্যে।

ফরাসি সেনার হাতে লেকরাক মেইন ব্যাটল ট্যাঙ্ক এসেছিল ২০০০ সালের মাঝামাঝি সময়ে। ৪০৬ টি ট্যাঙ্ক ছিল তখন। পরবর্তীকালে সংযুক্ত আরব আমীরশাহি এবং জর্ডনেও এই যুদ্ধাস্ত্র পাঠানো হয়েছিল। স্থল থেকে আকাশ পথে আক্রমণ শানাতে পারদর্শী এই যান। ভারতের সঙ্গে ফ্রান্সের আলোচনা এবং চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরেই শুরু হবে কাজ। সেক্ষেত্রে ২০৩০-এর আগে আধুনিক লেকরাক ট্যাঙ্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা কম। ভারত সরকার চাইছে ১ হাজার ৭৭০ টি নতুন ট্যাঙ্ক সামরিকবাহিনীতে যুক্ত করতে। তথ্য চেয়ে আবেদন করা হয়েছে রাশিয়া, ইসরায়েল, ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তুর্কি-সহ ইউরোপের ১২ টি কোম্পানিকে।

রাফায়েল বিমান কেনায় দুর্নীতি হয়েছে, অভিযোগ ফরাসি সংবাদ সংস্থা মিডিয়াপার্টের

News Desk: রাফায়েল চুক্তি বিতর্ক যেন কিছুতেই মিটছে না। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে রাফায়েল (Rafale) চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক বাজার সরগরম করেছিল বিরোধীরা। যদিও তার প্রভাব ভোটবাক্সে পড়েনি। এমনকী, সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল বিরোধীদের। কিন্তু রবিবার এক চাঞ্চল্যকর খবর প্রকাশ হয়েছে ফরাসি সংবাদ সংস্থায়।

ফ্রান্সের (france) পোর্টাল মিডিয়াপার্ট (media part) এই সংক্রান্ত নতুন কিছু রসিদ সামনে এনেছে। মিডিয়াপার্টের দাবি, এই সমস্ত রসিদ থেকেই রাফায়েল চুক্তির ক্ষেত্রে যে দুর্নীতি হয়েছিল তার প্রমাণ মিলতে পারে। রবিবার বেশ কিছু ভুয়ো রসিদ প্রকাশ করেছে এই পোর্টালটি। মিডিয়াপার্টের দাবি, ফরাসি বিমান প্রস্তুতকারী সংস্থা দাসল্ট এভিয়েশন ভারত সরকারের সঙ্গে এই চুক্তি করতে দালালদের ৭.৫ মিলিয়ন ইউরো ঘুষ দিয়েছিল।

এই ঘুষ দেওয়ার যাবতীয় তথ্য প্রমাণ দেখতে পেয়েছিলেন ভারতীয় তদন্তকারীরা। কিন্তু তারপরেও তাঁরা বিষয়টি নিয়ে আর নাড়াঘাটা করেননি। বিভিন্ন তথ্য প্রমাণ থেকে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এবং ইডি ২০১৮ সালে জানতে পেরেছিল যে, রাফাল কাণ্ডে সুষেন গুপ্ত (susen gupta) নামে এক ব্যক্তি ঘুষ পেয়েছিলেন। কিন্তু সব জানার পরেও তাঁরা বিষয়টি নিয়ে আর আগাননি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও এই সংবাদ সংস্থাটি রাফায়েল কেলেঙ্কারিতে ঘুষের অভিযোগ করেছিল। এসময় মিডিয়াপার্ট অভিযোগ করেছিল, দাসল্ট ও তাদের সহযোগী সংস্থা থেলেস সুষেন গুপ্তকে কোটি কোটি টাকা কমিশন দিয়েছে। শুধুমাত্র এই চুক্তি পাওয়ার জন্যই তারা ওই কমিশন দিয়েছে। ২০০৪ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে এই টাকা দেওয়া হয়েছে বলে মিডিয়াপার্টের অভিযোগ। একই সঙ্গে ওই সংবাদ সংস্থা জানায়, সিঙ্গাপুরে ইনডেভ (indev) নামে একটি ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয়েছে। যদিও মিডিয়াপার্টের এই বক্তব্য নিয়ে দাসল্ট এভিয়েশন কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। প্রতিক্রিয়া মেলেনি ফরাসি সরকারের দিক থেকেও।

এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান রাফায়েল নিয়ে ভারতে প্রথম থেকেই শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক বিতর্ক। কংগ্রেসের অভিযোগ মোদি সরকার অকারণে অনেক বেশি অর্থ দিয়ে রাফায়েল বিমান কিনছে। অন্যদিকে বিজেপি কংগ্রেসের এই অভিযোগ উড়িয়ে দেয়। বিজেপি পাল্টা বলে, কংগ্রেস কখনওই রাফাল নিয়ে কোনও চুক্তি চূড়ান্ত করেনি। তাই ঠিক কত টাকায় ফ্রান্সের কাছ থেকে এই বিমান পাওয়া যেত সে ব্যাপারে কংগ্রেসের কোন বক্তব্যই ঠিক নয়। উল্লেখ্য, নরেন্দ্র মোদি সরকার ফ্রান্সের কাছ থেকে ৩৬ টি অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত জন্য চুক্তি করেছিল।

বছর শুরুতেই ৩৬ টি রাফালের শেষটি এসে পৌঁছবে ভারতে

নিউজ ডেস্ক: ২০১৬ সালে ফ্রান্সের ড্যাসল্ট কোম্পানি নির্মিত ৩৬ টি ফাইটার জেট রাফাল কিনেছিল ভারত সরকার। তাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিল বিরোধীরা। ফ্রান্সে এই মামলার পুনর্তদন্ত শুরু হয়েছে ১৪ জুন। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একজন স্বাধীন বিচারককে। এই বিতর্কেই মাঝেই ফ্রান্স থেকে রাফাল এসে পৌঁছাবে ভারতে।

আরও পড়ুন HAL-এর সঙ্গে ৭১৬ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করল GE Aviation

আগামী তিন মাসে ফ্রান্স থেকে প্রতি মাসে তিনটি করে রাফাল যুদ্ধবিমান পাবে আইএএফ (Indian Air Force)। ড্যাসল্ট কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হওয়া ৩৬ টি রাফালের শেষটি এসে পৌঁছবে আগামী বছরের জানুয়ারী মাসে। প্রাথমিকভাবে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড এর সঙ্গে ১২৬ টি ফাইটার বিমান কেনার কথা ছিল। ভারত সরকারের পক্ষে সে চুক্তি ভেঙে ড্যাসল্ট- সঙ্গে চুক্তি করা হয়। বিজেপি সরকার আসার পর নরেন্দ্র মোদি ভারত ফ্রান্সের মধ্যে একটি আন্ত সরকার চুক্তি করেন। ৩৬ টি রাফাল মিডিয়াম মাল্টিরোল কম্বাট এয়ারক্রাফট কেনা হয়।

চলতি বছরের জুলাইতেই হাসিমারায় এসে পৌঁছেছে রাফাল যুদ্ধবিমান। ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আরকেএস ভাদৌরিয়ার পৌরহিত্যে পুনর্গঠিত ১০১ স্কোয়াড্রনে সরকারিভাবে রাফাল যুদ্ধবিমানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বায়ুসেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে হাসিমারায় ভীষণ ভাবনাচিন্তা করেই রাফাল বিমানকে হাসিমারায় মোতায়েন করা হয়েছে। এর ফলে, পূর্বাঞ্চলে বায়ুসেনার শক্তি অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে।

রাফালের জন্য ১০১ স্কোয়াড্রন ‘ফ্যালকন্স অফ ছাম্ব অ্যান্ড আখনুর’- কে পুনর্গঠন করেছে বায়ুসেনা। ১৯৪৯ সালে পালমে এই স্কোয়াড্রনের গঠন হয়েছিল। অতীতে এই স্কোয়াড্রনের আওতায় ছিল হার্ভার্ড, স্পিটফায়ার, ভ্যাম্পায়ার, এসইউ-৭ এবং মিগ-২১এম যুদ্ধবিমানগুলি। এই স্কোয়াড্রন ১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছিল। ২০১১ সালে এই স্কোয়াড্রন অবসর নেয়। এখন, রাফাল আসায় এই স্কোয়াড্রনকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। বায়ুসেনা সুত্রে জানা গিয়েছে, শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছানো যুদ্ধবিমানগুলি হবে সবচেয়ে মারাত্মক রাফাল, যা বায়ুসেনাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।