মোদীর দেওয়া নিরাপত্তা হারালেন মমতা স্মরণে আশ্রিত রাজীব

Rajiv, who was sheltered by Mamata, lost the security provided by Modi

তৃণমূলে যোগ দেওয়ার দেড় মাসের মাথায় রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হল। পশ্চিমবঙ্গে ‘জেড’ ক্যাটাগরি এবং দেশজুড়ে ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পেতেন রাজীব। সূত্রের খবর, বুধবার রাজীবের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

চলতি বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে চার্টার্ড ফ্লাইটে দিল্লি উড়ে গিয়েছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় সহ আরও কয়েকজন। গত ২১ জানুয়ারি তৃণমূল ছাড়েন এবং ২২ জানুয়ারি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন রাজীব। দিল্লিতে অমিত শাহের বাসভবনে বিজেপিতে যোগদান করেন তিনি। এরপর ৩১ জানুয়ারি ডোমজুড়ের প্রাক্তন বিধায়ককে জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেয় মোদী সরকার।

গত বিধানসভা নির্বাচনে ডোমজুড় কেন্দ্রেই রাজীব ব্যানার্জীকে প্রার্থী করে বিজেপি। তবে নিজের ঘাঁটিতেই পরাজিত হন তিনি। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর থেকে একাধিকবার বিজেপির বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাজীব। অবশেষে গত ৩১ অক্টোবর ত্রিপুরায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন হয় রাজীবের।

Tripura: TMC জিততেই ‘মীরজাফর’ রাজীব রসগোল্লা আমেজে মত্ত

News Desk: এখনও মন ফেরত পাননি দলীয় কর্মীদের। সর্বশেষ হাওড়ায় গিয়ে মীরজাফর গো ব্যাক শুনে মাথা নামিয়ে ফেরত এসেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের রোষ এতটাই যে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রবাসী রাজনীতি মেনে নিতেই হয়েছে। বিজেপি থেকে ফের তৃণমূলে ফিরেও রক্ষে নেই নিজভূমে।

তবে দল জিতলে আনন্দ করবেন না তা কী হয় নাকি ! মঙ্গলবার যখন কলকাতা পুরনিগমে বিপুল জয় পাচ্ছিল তৃণমূল কংগ্রেস, তখন আগরতলাতেও টিএমসি উল্লাস শুরু হয়। সেই উল্লাসে মেতে উঠতে দেখা গেছে মীরজাফর রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

ত্রিপুরায় তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা সুবল ভৌমিক রসগোল্লার হাঁড়ি নিয়ে সমর্থকদের ঘেরাটোপে। যে পারছে টপাটপ রসগোল্লা খাচ্ছে। সেই ভিড়ে কে যে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে ভরে দিয়েছে রসগোল্লা। তিনি গবগবিয়ে খাচ্ছেন। মুখে অনাবিল হাসির ছোঁয়া।

কটা রসগোল্লা খেয়েছেন রাজীববাবু? কেউ জানে না। তবে কানাঘুষোয় শোনা যাচ্ছে গোটা কতক খেয়েছেন। ত্রিপুরায় তিনি টিএমসির হয়ে রাজনৈতিক জমি খুঁজছেন।

পশ্চিমবঙ্গের টিএমসি সমর্থকদের বিশেষত হাওড়ার সমর্থকদের নজরে ‘মীরজাফর’ রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ, তিনি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের আগে টিএমসি ছেড়ে চাটার্ড প্লেনে চেপে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। ভোটে হারেন। বিজেপি সরকার গড়তে পারেনি। ফের তৃণমূলে ফিরেছেন। ত্রিপুরায় পৌর ভোটের আগে তিনি আগরতলায় এসে টিএমসিতে যোগ দেন। প্রবল লড়ে আগরতলা পুরনিগমে একটি ওয়ার্ড দখলে আনতে পেরেছেন।

আপাতত ত্রিপুরাতেই তিন আছেন। কারণ, আগামী বিধানসভা ভোটে এই রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস প্রবল শক্তি নিয়ে নামবে বলেই জানিয়েছেন দলনেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানে তাঁর লড়াই শাসক বিজেপি ও বিরোধী সিপিআইএমের সঙ্গে।

Tripura: ‘ভাড়া ফেরত দাও, বেশ তো উড়েছিলে’ ‘গদ্দার’!! কটাক্ষ স্রোতে ভাসছেন রাজীব

Rajib Banerjee

নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে দলত্যাগ আবার ত্রিপুরাতেও দলত্যাগ!! রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলত্যাগ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে কটাক্ষ স্রোত। সূত্রের খবর, আগামী যে কোনওরকম মন্তব্য এড়িয়ে যাওয়ার নির্দেশ পেয়েছেন রাজীব।

রাজীব তৃণমূলে ফের ফিরতেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে শুরু হয় তাঁকে নিয়ে কটাক্ষের পালা। অনেকেই একটি চাটার্ড বিমানের ছবি পোস্ট করেছেন। সঙ্গে থাকছে মন্তব্য, “চাটার্ড বিমানের ভাড়া ফেরত দিয়ে যেও!”, কেউ বলছেন “আবার গদ্দার এসেছে ফিরে।”

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের আগে এই বিমান পাঠান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাতে চড়ে রাজীব, বৈশালী ডালমিয়া,মুকুল রায়রা গিয়েছিলেন দিল্লি। অমিত শাহর হাত থেকে বিজেপির পতাকা নেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।

ভোটে বিজেপি হেরে যেতেই মুকুল রায় ফিরেছেন তৃণমূল কংগ্রেসে। রাজীব বারবার ফিরতে চেয়েছেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তখন রাজি হননি। অবশেষে ত্রিপুরাতে ঠাঁই হলো রাজীবের।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল কংগ্রেসে নেমেছিল ধস। দলে দলে নেতা বিধায়করা বিজেপিতে সামিল হয়েছিলেন। তবে টিএমসি জয়ী হয়। তারা ফিরতে শুরু করেছেন। সেই তালিকায় এবার রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। যার নামে হাওড়ায় টিএমসি কর্মীরা দেওয়ালে দেওয়ালে গদ্দার লিখেছিলেন। খোদ টিএমসি দলনেত্রীর মুখ দিয়েই ‘গদ্দার’ শব্দে চিহ্নিত হন দলত্যাগীরা।

সূত্রের খবর, আপাতত তিনি ত্রিপুরায় সাংগঠনিক কাজ করবেন। কারণ, তাকে হাওড়ার দলীয় কর্মীদের ক্ষোভের মুখে ফেলতে চাননি মমতা-অভিষেক। সেই কারণে আগরতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় বিজেপি ছেড়ে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ফের এলেন তৃণমূল কংগ্রেসে।