ভোরে সোনালি, সাঁঝবেলায় লালিমা কাঞ্চনজঙ্ঘা, ‘ঘুমন্ত বুদ্ধ’ দর্শন করে বাংলাদেশ

kanchenjunga

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: ভৌগোলিক কারণে প্রতিবেশি বাংলাদেশের এমন কোনও পর্বত নেই যেখানে তুষার শীর্ষ রয়েছে। তবে বাংলাদেশিরা কিন্তু নিজ দেশ থেকেই হিমালয়ের অপূর্ব কাঞ্চনজঙ্ঘা রূপ দেখেন। শীত এলেই এই দৃশ্য দেখা যায়, কারণ আকাশ পরিষ্কার থাকে। বছরের অন্যান্য সময়ে কমবেশি দেখা যায়।

বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের রংপুর বিভাগ। এই বিভাগের পূরাতাত্বিক নিদর্শন সমৃদ্ধ পঞ্চগড় জেলার অন্তর্গত তেঁতুলিয়া উপজেলা। পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার লাগোয়া বাংলাদেশের তেঁতুলিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান এমনই যে এখান থেকে ‘ঘুমন্ত বুদ্ধদেব’ (এই নামেই কাঞ্চনজঙ্ঘার পর্বত শিখরগুলি পর্যটন দুনিয়ায় পরিচিত) দেখেন।

kanchenjunga

চলতি বছর শীতল হাওয়া ঢুকতেই আকাশ মেঘমুক্ত হতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার তাপমাত্রা হু হু করে নামতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানাচ্ছে, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পঞ্চগড়ে নথিভুক্ত করা হয়েছে।

শীত আসতেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে বাংলাদেশি পর্যটকরা যাচ্ছেন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার বিভিন্ন রূপ ছড়িয়ে পড়েছে। ভোর হলেই সোনালি, সাঁঝবেলায় লালিমা কাঞ্চনজঙ্ঘার এই সব ছবি বিশ্বজুড়ে শোরগোল ফেলেছে।

পঞ্চগড় বৌদ্ধ স্থাপত্যের কেন্দ্র। ফলে তেঁতুলিয়াতে ছড়িয়ে আছে অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শন। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হওয়ার পর পঞ্চগড় পড়ে পাকিস্তানে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্ত হিসেবে এই এলাকার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের যোগাযোগ থেকেই যায়। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ তৈরির পরেও পঞ্চগড়ের সঙ্গে ভারতের সংযোগ বেড়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ-ভারত-ভুটান-নেপালের মধ্যে সড়ক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট। এর খুব নিকটবর্তী পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বাণিজ্য শহর শিলিগুড়ি।

<

p style=”text-align: justify;”>নেপাল ভুটান ভারতের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথের কেন্দ্র পঞ্চগড় যেমন, তেমনই কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য দেখার জন্য বিখ্যাত। করতোয়া,  মহানন্দার মতো পশ্চিমবঙ্গ থেকে চলে আসা আন্তর্জাতিক নদীগুলি বাংলাদেশের তেঁতুলিয়া উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত।

Bangladesh: পূজামণ্ডপে হামলার পর সংখ্যালঘু হিন্দুপল্লীতে আগুন, রংপুরে জ্বলছে গ্রাম

Communal-tension

নিউজ ডেস্ক:  কোরান অমাননার মতো ভুয়ো অভিযোগ ও গুজবকে কেন্দ্র করে দুর্গামণ্ডপে হামলার রেশ ধরে বাংলাদেশে ফের আক্রান্ত সংখ্যালঘু হিন্দুরা। এবার রংপুরে একটি গ্রাম জ্বালিয়ে দিল হামলাকারীরা। অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা হয়েছে। প্রশাসন প্রায় নির্বিকার।

রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার মাঝি পাড়ায় পরপর বাড়িতে আগুন ধরানো হয়েছে। দুটি গ্রামে ৫০ থেকে ৬০ টি হিন্দু বাড়ি ও মন্দিরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে।

Communal-tension

রংপুরের জেলা শাসক আসিফ আহসান জানান ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে করিমগঞ্জ গ্রামে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার খবর পেয়ে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে ছুটে যাই এবং পরিস্থিতি শান্ত করি। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে দুর্বৃত্তরা পীরগঞ্জের কয়েকটি গ্রামের কিছু হিন্দু বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় কোরান ‘অবমাননা’ করা হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলা চলছে। কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামে পরপর দুর্গা প্রতিমা, মন্দির ও স্থানীয় সংখ্যালঘুদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে মোট মৃত ৬ জন। মৃতদের বেশিরভাগই চাঁদপুরের হামলাকারী বলে বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের জানান,সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের খুঁজে বের করা হচ্ছে।

হৃদয়ে শৈশবের বরিশাল-রংপুরে না যাওয়া আক্ষেপ, বুদ্ধদেব গুহর প্রয়াণে শোক শেখ হাসিনার

Buddhadeb Guha

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: আর যাওয়াই হলো না জল-জঙ্গলের বরিশালে। কীর্তনখোলা নদীর তীরে, সেই ছোট বেলার অনেক দেখা মনে রেখে দেওয়া স্মৃতির দুনিয়ায়। সেই ছিমছাম বাগান ঘেরা রংপুরে। জীবনভর বহু পাওয়ার মাঝে একটা আক্ষেপ ছিলই। সেই আক্ষেপ নিয়েই বিদায় নিয়েছেন কিংবদন্তি সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ (Buddhadeb Guha)।

বুদ্ধদেব গুহর জন্ম ১৯৩৬ সালে কলকাতায়। তখনও অভিভক্ত ভারত। পারিবারিক সূত্রে তাঁর ছোটবেলা কেটেছিল বরিশাল ও রংপুরের। পরে ভারত ভাগ হয় প্রিয় দুটি স্থান পড়ে যায় পাকিস্তানে। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ব বাংলা থেকে গিয়েছিল তাঁর হৃদয়ে।

ভয়েস অফ আমেরিকা জানাচ্ছে, এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বুদ্ধদেব গুহ তাঁর শৈশবের স্মৃতি মন খুলে বলেছিলেন। সেই স্মৃতিতে মিশেছিল বরিশাল ও রংপুর। ১৯৭১ সালের পরবর্তী এই দুই স্থান বাংলাদেশের অন্তর্গত।

সেই সাক্ষাৎকারে বুদ্ধদেব গুহ বলেছিলেন, “ছোট বেলায় বাবার চাকরির সূত্রে বরিশাল ও রংপুরে একটা বড় সময় কাটিয়েছিলাম। আহা বরিশালের সেই নদী, গাছপালা এখনো টানে। মনে হয় দৌড়ে ছুটে যাই এখনই। আ হা সেই সব দিন। রংপুরও ছিল অন্য রকম একটি শহর। ছুটে বেড়াতাম স্কুল থেকে খেলার মাঠে।”

বরিশাল ও রংপুর না যাওয়ার আক্ষেপ নিয়েই জীবন খাতার হিসেব শেষ করেছেন বুদ্ধদেব গুহ। তাঁর প্রয়াণ সংবাদে বাংলাদেশের সাহিত্য সংস্কৃতি মহল শোকাচ্ছন্ন।

বুদ্ধদেব গুহর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বাংলাদেশ সরকার। গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, প্রয়াত লেখকের আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।
বহুদর্শী জীবনের আক্ষেপ ছিল শৈশবকে না ধরতে পারা। সব ইচ্ছে সবসময় পূরণ হয় না।