Covid 19: বাড়ছে করোনা, ‘সাথে আছি’ বলল রেড ভলান্টিয়ার্স

News Desk: রাজ্য জুড়ে করোনার বাড়তে থাকা গতিতে ফের আতঙ্ক। সঙ্গে দোসর ওমিক্রন ও ফ্লোরোনা। সবমিলে নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। আংশিক লকডাউনের পথেই যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে বার্তা দিল করোনা বিপদে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পাওয়া রেড ভলান্টিয়ার্স।

সিপিআইএমের ছাত্র ও যুব সংগঠন সহ বিভিন্ন বাম দলগুলির সমর্থকদের নিয়ে তৈরি এই স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর তরফে একটি পোস্টার ছাড়া হয়েছে সোশ্যাল সাইটে। রেড ভলান্টিয়ার্স জানাচ্ছে, “সতর্ক থাকুন। সাবধানে থাকুন। প্রয়োজনে আমরা আবার আছি আপনাদের সাথে। এটাই আমাদের নতুন বছরের অঙ্গীকার।”

এই পোস্টার সোশ্যাল সাইটে শেয়ার করেছেন সিপিআইএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আভাস রায়চৌধুরী। তাঁর পোস্টের প্রেক্ষিতে শুভেচ্ছা মন্তব্য এসেছে পরপর।

রেড ভলান্টিয়ার্সদের করোনা মোকাবিলা বিশ্ব জুড়ে আলোচিত। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রবল প্রশংসিত। গত করোনা প্রকোপে অক্সিজেন সংকট, মৃতদেহ শ্মশানে বা কবরস্থানে নিয়ে যাওয়ার সময় রেড ভলান্টিয়ার্স ছাড়া প্রশাসন কার্যত অচল হয়ে গেছিল।

পরিস্থিতি এমন হয় যে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস, বিরোধী দল বিজেপির মন্ত্রী, নেতারা বিপদের সময় সিপিআইএমের রেড ভলান্টিয়ার্সের স্মরণাপন্ন হন। অভিযোগ, শাসক ও বিরোধী দলের যুব সদস্যদের এরকম ভূমিকা নিতে ততটা দেখা যায়নি।

বিধানসভা ভোটে সিপিআইএম ও বামেরা শূন্য হয়েছে। একটিও আসন নেই তাদের। এর পরেও লাগাতার পরিষেবা দিয়ে আরও আলোচনায় রেড ভলান্টিয়ার্স। সম্প্রতি কলকাতা পুরনিগমের ভোটে বাম প্রার্থীদের তালিকায় ছিলেন একগুচ্ছ রেড ভলান্টিয়ার্স। একজনও নির্বাচিত হননি। তবে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, কলকাতা পুরনিগমে ভোটের নিরিখে বিজেপিকে টপকে বাম শিবির বিরোধী হয়েছে। এমনটা হওয়ার পিছনে রেড ভলান্টিয়ার্সের ভূমিকা বেশ উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হচ্ছে।

Shantipur: লকডাউনে রাত-বিরেতের ‘অক্সিজেন দাতা’ বাম প্রার্থী সৌমেন ‘জামানত বাঁচাতে’ লড়বেন

Soumen Mahato

নিউজ ডেস্ক: লড়াই হবে জমানত বাঁচানোর। আপাতত এই লক্ষ্যেই আসন্ন উপনির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে টানা ৩৪ বছর রাজ্যের শাসকপক্ষ বামফ্রন্ট! এই পর্বের উপনির্বাচনে বামেদের অন্যতম প্রার্থী শান্তিপুর (Shantipur) বিধানসভার কেন্দ্রের সৌমেন মাহাতো।

কে তিনি? সিপিআইএমের যুব সংগঠনের নেতা। তার থেকেও বড় কথা, সৌমেন রেড ভলান্টিয়ার্স এই নামে একটি মোবাইল নম্বর নদিয়ার শান্তিপুর বা সংলগ্ন এলাকায় বহুজনের মোবাইলে সেভ করা আছে।

করোনাভাইরাস হামলা ও তীব্র অক্সিজেন সংকটের সময় যখন ঘরে ঘরে মৃতদেহ পড়ে থাকছিল বা অক্সিজেন চেয়েও না পাওয়া মানুষ অসহায় হয়েছিলেন তখন এগিয়ে আসে রেড ভলান্টিয়ার্স।

তীব্র অক্সিজেন সংকটের সেই সময়ে বারবার ভাইরাল হয় রেড ভলান্টিয়ার্স কর্মকান্ড। শান্তিপুরের বাম যুব কর্মীদের নেতা সৌমেন মাহাতো অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে করোনা আক্রান্তদের ঘরে ঘরে চলে যান। পরিস্থিতি এমন হয় যে রেড ভলান্টিয়ার্সে-ই ভরসা করেন তৃ়ণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের মোবাইলেও নম্বরগুলো সেভ করা আছে।

Soumen Mahato

সিপিআইএম ও বিভিন্ন বাম দলগুলির ছাত্র যুব সংগঠনের কর্মীদের নিয়ে গঠিত রেড ভলান্টিয়ার্সের ভূমিকায় রাজ্যবাসী চমকে যান। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকস্তরে প্রবল আলোচিত হয় সংগঠনটির ভূমিকা। প্রশাসনিক স্বাস্থ্য পরিষেবা কাঠামো ভেঙে পড়ছিল। তখন বিপদের বন্ধু ছিল রেড ভলান্টিয়ার্স।

শান্তিপুরের করোনা রোগীদের জন্য ‘অক্সিজেন দাতা’ সৌমেন মাহাতো আর অন্যান্য রেড ভলান্টিয়ার্সদের বিভিন্ন মুহূর্ত ভাইরাল হতে শুরু করে।

আসন্ন উপনির্বাচনে সেই ভূমিকা থেকে ভোটের লড়াইতে শান্তিপুরের ‘অক্সিজেন দাতা’।সিপিআইএম এই কেন্দ্রে সৌমেন মাহাতো কে প্রার্থী করার পরেই পুরো বিধানসভা জুড়ে শোরগোল। মূলত তৃ়ণমূল ও বিজেপিতে বিভক্ত ভোটারদের কাছেও দ্বিধা তৈরি হচ্ছে।

চমক ছিল সৌমেন মাহাতোর মনোনয়ন জমার মিছিল। সদ্য সমাপ্ত তিনটি কেন্দ্রের উপনির্বাচনে যা দেখা যায়নি। সর্বত্রই জামানত খোয়ান বাম প্রার্থীরা।

বিধানসভা ভোটে জিতেও শান্তিপুরের বিধায়ক পদ ছেড়েছেন বিজেপির জগন্নাথ সরকার। ফলে আগামী ৩০ অক্টোবর উপনির্বাচন।

শান্তিপুরে বামফ্রন্টের সিপিআইএম প্রার্থী সৌমেন কি ‘জামানত কাঁটা’ দূর করতে পারবেন? সেটাই মূল প্রশ্ন বাম শিবিরে। বহু ভোটের পোড় খাওয়া বাম নেতারা জানেন জনসেবা এক বিষয় আর ভোটের লড়াই ভিন্ন।