East Bengal: কথা বলছে ইতিহাস, দেখিয়ে দিচ্ছে ইস্টবেঙ্গল, বাকিরা শিখবে কবে?

আইএসএল-এ (ISL) এখনও জয় আসেনি বটে। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) দেখিয়ে দিচ্ছে এভাবেও লড়াইয়ে ফিরে আসা যায়। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পরেও ফের লড়াই। ইস্টবেঙ্গলের ইতিহাস ঘাঁটলে এমন উদাহর

মিলবে অনেক। ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবল ইচ্ছা। তাও একজন স্বদেশী কোচের হাত ধরে।

মুম্বই সিটি এফসির (Mumbai City FC) বিরুদ্ধে হাইপ্রোফাইল ম্যাচে গোলশূন্য ড্র। এসেছে এক পয়েন্ট। শতবর্ষ প্রাচীন ক্লাবের জন্য এই ফলাফল অবশ্যই গৌরবের। কিন্তু চলতি মরশুমের নিরিখে অবশ্যই বলার মতো। ভাঙাচোরা টিম নিয়েও অরিন্দমরা রুখে দিয়েছেন লিগ টেবল টপারদের।

দলের জঘন্য ফর্ম, দল গঠন নিয়ে প্রশ্ন, কোচ-ফুটবলারের মধ্যে দুরত্ব ইত্যাদি সমস্যায় জর্জরিত এসসি ইস্টবেঙ্গল। সামনেএ মরশুমে ইনভেস্টর থাকবে কি না জানা নেই। এতোকিছুর মধ্যে নিজের কাজটুকু করে চলেছেন রেনেডি সিং। মানালো দিয়াজের ফেলে যাওয়া ভগ্নাংশের মধ্যেও যিনি কষে চলেছেন অংক। দলের মধ্যে বাঁধার চেষ্টা করছেন সুর। তথকথিত ফ্লপ ফুটবলারদের নিয়ে করতে চাইছেন বাজিমাত। আপাতত তিনি সফল। রেনেডির দায়িত্বে খেলা দু’টি ম্যাচ থেকেই পয়েন্ট পেয়েছে ইস্টবেঙ্গল। প্রতিটা বলের জন্য ঝাঁপানোর চেষ্টা করছেন ফুটবলাররা৷ ম্যাচের পর ম্যাচ বেঞ্চে বসে থাকা আদিল খান এদিন বুঝিয়ে দিলেন, কেন তাঁকে নেওয়া হয়েছে দলে। ড্যানিয়াল চিমার মতো বিদেশেকেও সামালাচ্ছেন রেনেডি। কে বলে ভারতীয় কোচ পারবেন না?

সুব্রত ভট্টাচার্য, সুভাষ ভৌমিকরা বারংবার সওয়াল করেছেন স্বদেশী কোচের কাঁধে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার জন্য। কিন্তু কেউ কর্ণপাত করলে তো? কর্পোরেট ফুটবলের জমানায় কলকাতা ময়দানেও বিদেশি কোচেদের রমরমা। রিয়াল মাদ্রিদের মানালো দিয়াজ যে কাজটা করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন, সেখান থেকেই নতুন করে কাজ শুরু করে করেছেন রেনেডি সিং। যিনি একজন ভারতীয় কোচ।

SC East Bengal: দল না হাসপাতাল! ‘শাস্তি’র আশঙ্কায় রেনেডি

আবার চোট। মুম্বই ম্যাচে নামার আগে কপালে চওড়া হয়েছে চিন্তার ভাঁজ। আরও এক বিদেশি দু-তিন সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে। বিদেশিদের মধ্যে কার্যত একা চিমা।

এসসি ইস্টবেঙ্গলকে বিদায় জানিয়েছেন হাইপ্রোফাইল কোচ মানালো দিয়াজ৷ আপাতত অন্তবর্তী কোচের ভূমিকায় রেনেডি সিং। তাঁর তত্তাবধানে খেলা প্রথম ম্যাচে আশার আলো দেখছেন লাল-হলুদ সমর্থকদের কেউ কেউ। হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে পয়েন্ট ভাগাভাগি করলেও আগের তুলনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ফুটবল খেলতে পেরেছিল ইস্টবেঙ্গল। সামনে এবার মুম্বই সিটি এফসি।

চোট এবং নির্বাসনের জন্য একাধিক বিদেশিকে পাচ্ছেন না সিং। আন্তোনিয়ো পেরোসেভিচ নির্বাসিত। চোটের তালিকায় টমিস্লাভ মার্সেলাও সদ্য নাম লিখিয়েছেন। তাই ভারতীয় ব্রিগেডের ওপরেই আস্থা রাখতে হবে রেনেডিকে। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে নামার আগে তিনি বলেছেন, ‘হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে আমরা যতটা খেলেছিলাম তাতে এটা বুঝতে পেরেছি যে আমরাও ভাল খেলতে পারি। সমস্যা একটা রয়েছে। পায়ে বল থাকার সময় আরও একটু আত্মবিশ্বাসী হতে হবে আমাদের।’

‘আইএসএল-এর অন্যতম কঠিন প্রতিপক্ষ মুম্বই। তাদের ক্ষমতা সম্পর্কে আমরা সকলেই ওয়াকিবহাল৷ আমাদের একটা টিম হিসেবে মাঠে খেলতে হবে। মুম্বই নিজের মতো খেলতে শুরু করলে মুশকিল। তখন আমাদেরকেই শাস্তি ভোগ করতে হবে।’ ন’টা ম্যাচ খেলে হয়ে গিয়েছি ইস্টবেঙ্গলের। এখনও লিগের লাস্টবয়। জয় আসেনি একটি ম্যাচেও। ড্র ৫ ম্যাচে। হার ৪ ম্যাচে। প্রাপ্ত পয়েন্ট পাঁচ।

East Bengal: ‘খারাপ ফুটবলার’দের দায়িত্বও একজন কোচের, মন্তব্য রেনেডির

বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে নামতে চলেছে শ্রী সিমেন্ট ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। তার আগে যথারীতি একগুচ্ছ প্রশ্ন দলকে কেন্দ্র করে। লাল-হলুদের অন্তর্বর্তী কোচের ভূমিকায় এখন রেনেডি সিং। প্রি-ম্যাচ প্রেস কনফারেন্সে তাঁর বক্তব্যে উঠে এল ‘খারাপ ফুটবলার’দের প্রসঙ্গ।

লিগ ক্রম তালিকার একেবারে তলানিতে ইস্টবেঙ্গল। আট ম্যাচ শেষে তাদের সংগ্রহে মাত্র ৪ পয়েন্ট। ড্র হয়েছে চারটি ম্যাচে এবং চারটি ম্যাচে পরাজয়। চলতি আইএসএলে এখনো জয়ের মুখ দেখেনি শতবর্ষ প্রাচীন এই ক্লাব। হেড কোচের পদ থেকে বিদায় নিয়েছেন মানালো ডিয়াজ৷ পরিবর্তে এখন দায়িত্ব সামলাচ্ছেন রেনেডি সিং। কিছু দিন পরেই ইস্টবেঙ্গল ডাউ-আউটে দেখা যাবে মারিও রিভেরাকে। আপাতত রেনেডিকেই সামলাতে হচ্ছে প্রশ্নবাণ।

সাংবাদিক সম্মেলনে রিনেডি বলেছেন, ‘আগামী তিন থেকে চারটি ম্যাচের দায়িত্বে আমি রয়েছি। ছেলেরা কঠিন পরিশ্রম করছে। ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আমরা বদ্ধপরিকর। আশা করছি ভালো কিছু করে দেখাতে পারব।’

‘রাতারাতি আমি সবকিছু ঠিক করতে পারব না। সাধ্যমত চেষ্টা করছি। মারিও রিভেরার সঙ্গে আমার এখনো কথা হয়নি। আমার দায়িত্বে থেকে ম্যাচগুলো আগে শেষ হোক। মারিওর সঙ্গে যাবতীয় কথা বলবো।’

ইস্টবেঙ্গলের হতশ্রী পারফরম্যান্সের জন্য অনেকেই আঙুল তুলছেন খেলোয়াড় রিক্রুটমেন্ট এর দিকে। ‘খারাপ ফুটবলার’ শব্দদুটি ঘুরছে কলকাতার ময়দানে। সে সম্পর্কে অন্তবর্তী কোচ জানিয়েছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা যায় সেদিকেই এখন আমাদের ফোকাস। লোকে যে ফুটবলারদের ‘খারাপ’ বলছেন তাদেরকে সঙ্গে করেই আমাদের এই কাজ করে দেখাতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, ফুটবলার যেমনই হোক তার দায়িত্ব একজন কোচের।’

এসসি ইস্টবেঙ্গলের অন্তর্বর্তীকালীন হেডকোচের দায়িত্ব রেনেডি সিংকে

Renedy Singh

Sports desk: এসসি ইস্টবেঙ্গল ঘোষণা করেছে যে হেডকে হোসে মানুয়েল দিয়াজ এবং সহকারী অ্যাঞ্জেল পুয়েব্লা গার্সিয়া ব্যক্তিগত কারণে ক্লাবের সাথে আলাদা হতে পারস্পরিকভাবে সম্মত হয়েছেন।

রেড এবং গোল্ড ব্রিগেড চলতি ইন্ডিয়ান সুপার লিগে তাদের দ্বিতীয় মরসুমে এখনও একটি ম্যাচও জিততে পারেনি এবং লিগ টেবিলে লাস্ট বয়,১১ তম স্থানে,৮ ম্যাচ খেলে।

এসসি ইস্টবেঙ্গল ক্লাব এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “হোসে মানুয়েল দিয়াজ এবং তার ডেপুটি অ্যাঞ্জেল পুয়েব্লা গার্সিয়া ব্যক্তিগত কারণে আলাদা হতে পারস্পরিকভাবে সম্মত হয়েছেন”।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে,”প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক এবং এসসি ইস্ট বেঙ্গল সহকারী কোচ রেনেডি সিং অন্তর্বর্তী প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন”।

এসসি ইস্টবেঙ্গল সিইও কর্নেল শিবাজি সমাদ্দার বলেন, “চলতি মরসুমে দলকে তাদের অবদান এবং সমর্থনের জন্য আমরা হোস এবং অ্যাঞ্জেলকে ধন্যবাদ জানাই। আমি তাদের উভয়ের ভবিষ্যতের প্রচেষ্টার জন্য শুভ কামনা করি”।

এসসি ইস্টবেঙ্গল চলতি আইএসএল ২০২১-২২ মরসুমে চারটি ড্র করেছে এবং চারটি ম্যাচ হেরেছে। হায়দ্রাবাদ এফসির বিরুদ্ধে তাদের শেষ ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র শেষ হয়েছে।

লাল হলুদ শিবিরের পরের ম্যাচ ৪ জানুয়ারী, ২০২২ বেঙ্গালুরু এফসি’র বিরুদ্ধে। এখন অন্তর্বর্তীকালীন হেডকোচের দায়িত্বতে থাকা রেনেডি সিং’র কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ এসসি ইস্টবেঙ্গলকে চলতি আইএসএলে প্রথম জয়ের মুখ দেখানো।