Farm Laws Repeal Bill: রাজ্যসভাতেও ধ্বনি ভোটে পাস হয়ে গেল কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল

Rajya Sabha

News Desk, New Delhi: শেষ পর্যন্ত লোকসভার মতই রাজ্যসভাতেও (Rajya Sabha) সোমবারই পাস হয়ে গেল কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল (Farm Laws Repeal Bill)। সোমবার সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের (winter season) প্রথম দিনেই সংসদের উভয় কক্ষে কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল পাস হল।

বিরোধীরা এই বিল নিয়ে আলোচনার দাবি জানালেও সরকার সেই দাবি উড়িয়ে দিয়ে সংসদের উভয় কক্ষেই ধ্বনী ভোটে (voice vote) এই বিল পাশ করিয়ে নেয়। ঘটনার জেরে বিরোধীরা রাজ্যসভাতেও তুমুল হই হট্টগোল করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। তাই কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল পাস হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজ্য সভার অধিবেশন স্থগিত করে দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চলতি মাসের ১৯ তারিখে ঘোষণা করেছিলেন, কৃষি আইন প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। কৃষকদের দাবি মেনেই সরকার এই আইন প্রত্যাহার করবে। এই আইনের জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে ক্ষমাও চেয়ে নেন।

অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি ছিল, কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল পাস করার আগে তা নিয়ে সংসদে আলোচনা করা হোক। এদিন রাজ্যসভাতেও কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর। বিল পাস হওয়ার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা নিয়ে আলোচনার দাবি জানাতে থাকেন বিরোধীরা। বিল নিয়ে আলোচনার দাবিতে বিরোধীরা যখন চিৎকার চেঁচামেচি করছেন সে সময়ে সরকার ধ্বনী ভোটে বিলটি পাস করিয়ে নেয়। সংসদের উভয় কক্ষেই কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল পাস হয়ে যাওয়ায় আইন প্রত্যাহারের কাজটি একপ্রকার সম্পন্ন হল বলা যায়।

কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, “আমরা সরকারের কাছে ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চয়তা আইন নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলাম। যে সমস্ত কৃষক আন্দোলন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার আমাদের কোনও কথা বলার সুযোগ দিল না। বিরোধীদের হই হট্টগোলের কারণে লোকসভার অধিবেশন মঙ্গলবার সকাল ১১টা পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল রাজ্যসভায় পাস হওয়ার পর কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী বলেন, আমরা অনেক আগেই সরকারকে এই বিতর্কিত আইন প্রত্যাহার করার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। আজ সেই আইন প্রত্যাহার করা হল।

তবে এটা খুবই দুঃখের যে, সরকার আইন বাতিল নিয়ে কোনও আলোচনা করল না। আসলে মোদি সরকার আলোচনা করতে ভয় পায়। এই সরকার কৃষকদের সামনে দাঁড়াতে ভয় পাচ্ছে। তবে সরকার যে কৃষকদের কথা ভেবে আইন প্রত্যাহার করেছে তা নয়। বরং সরকারের মাথায় রয়েছে আগামী বছরের শুরুতেই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। ভোটে জেতার লক্ষ্যেই মোদি সরকার তড়িঘড়ি আইন প্রত্যাহারের রাস্তায় হেঁটেছে।

Farm Laws Repeal Bill: বিরোধীদের হট্টগোলের মধ্যেই লোকসভায় পাস কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল

Farm Laws Repeal Bill

News Desk: শেষপর্যন্ত বিরোধীদের তুমুল হই হট্টগোলের মাঝেই লোকসভায় (Loksabha) পাস হয়ে গেল কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল (Farm Laws Repeal Bill)। সোমবার (Monday) সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের (Winter Season) প্রথম দিনেই পাস হল বিতর্কিত কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল নিয়ে আলোচনার দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা বিরোধী সাংসদদের বারবার শান্ত হওয়ার আবেদন করেন। কিন্তু স্পিকারের অনুরোধে বিরোধীরা কর্ণপাত করেনি। যে কারণে প্রথম দফায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত লোকসভা স্থগিত করে দেওয়া হয়।

দ্বিতীয় দফায় অধিবেশন শুরু হলে কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল পেশ করেন এবং মাত্র ৪ মিনিটের মধ্যেই ধ্বনী ভোটে এই বিল পাস হয়ে যায়। এরপর রাজ্যসভাতেও এই বিল পেশ করা হয়।

উল্লেখ্য, ১৯ নভেম্বর গুরু নানকের জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি কৃষি বিল প্রত্যাহার করার কথা ঘোষণা করেছিলেন। শুধু তাই নয়, কৃষি আইন নিয়ে গোটা দেশের কাছে তিনি ক্ষমাও চেয়ে নিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, শীতকালীন অধিবেশনের শুরুতেই এই বিল প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতি মতই সোমবার শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই লোকসভায় তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার করে নেওয়া হল।

এদিন কোনওরকম আলোচনা ছাড়াই কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল পাস হওয়ায় বিরোধীরা তার তীব্র সমালোচনা করেন। বিরোধীদের প্রবল চিৎকার চেঁচামেচির ফলে দ্বিতীয় দফায় দুপুর ২টা পর্যন্ত সংসদের উভয় কক্ষই স্থগিত করে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় দুপুর দু’টোর পর রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হলে কৃষি আইন প্রত্যাহার বিলটি পেশ করা হয়। তবে সোমবার রাজ্যসভায় এই বিল পাস হবে এমন কোনও সম্ভাবনা নেই।

কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল লোকসভায় পাস হওয়ার খবরে কৃষকনেতা রাকেশ টিকায়েত বলেছেন একটি ধাপ পূরণ হল। কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে যে সমস্ত কৃষক প্রাণ হারিয়েছেন এই আইন প্রত্যাহার তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ। একইসঙ্গে টিকায়েত জানান, তাঁদের এই আন্দোলন জারি থাকবে। কারণ ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের নিশ্চয়তার বিষয়টি এখনও সরকার মেনে নেয়নি।

এই বিষয়টি ছাড়াও আরও কয়েকটি বিষয় নিয়ে সরকারের সঙ্গে তাঁদের আলোচনা চলছে। আলোচনায় সমস্যার সমাধান হয়ে গেলে তবেই তাঁরা আন্দোলনের পথ থেকে সরে আসবেন। টিকায়েত এদিন আরও জানিয়েছেন, ৪ ডিসেম্বর তাঁরা ফের আলোচনায় বসবেন। সেদিনই তাঁদের আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।