Bangladesh: ফের আন্তর্জাতিক সীমাম্তে বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার বাংলাদেশে

RAB_bangladesh

আন্তর্জাতিক সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় আবারও বিপুল আইনসভা উদ্ধার করল বাংলাদেশের ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন বাহিনী। এবার মায়ানমার সীমাম্তের কাছাকাছি এলাকার গভীর বনাঞ্চলে অভিযান চলেছে। চলতি মাসেই ভারত সীমাম্তের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র সম্ভার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশোর ব়্যাব বাহিনীর অভিযান সংঘটিত হয় বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত। ঘটনাস্থল চট্টগ্রাম বিভাগের পার্বত্য চট্টগ্রামের জঙ্গল বেষ্টিত নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা।

বিখ্যাত পর্যটনস্খল এই এলাকা বান্দরবান জেলার অন্তর্গত। প্রকৃতির সৌন্দর্যের আড়ালে দুর্গম সীমান্ত অঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সক্রিয় বরাবর। গোপনে খবর পেয়ে বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার গহীন অরণ্যে র‍্যাবের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে।

র‌্যাব বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ধৃত চারজনই রোহিঙ্গা নাগরিক। তারা মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশের বাসিন্দা। তাদের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে পরে।

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ লাগোয়া। রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা এখন বাংলাদেশের শরণার্থী। তাদের মধ্যে জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলি অতি সক্রিয়। বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়িতে স্থানীয় উপজাতিদের মধ্যে যে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলি সক্রিয় তাদের সঙ্গেও বিভিন্ন রোহিঙ্গা গোষ্ঠীর সংযোগ আছে।

গত মাসে ভারত সীমান্তের সিলেটের হবিগঞ্জের সাতছড়ি অরণ্যে অভিযানে বিপুল পরিমান গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশের জঙ্গি দমন শাখা সিটিটিসি। সেই ঘটনার পর এবার চট্টগ্রামের নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হলো।

এই এলাকাটি মায়ানমারের লাগোয়া হলেও, পার্বত্য পথে ভারতের দিকে ত্রিপুরা ও মিজোরামের কাছাকাছি। বিভিন্ন ভারত বিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলির গোপন শিবির ছড়িয়ে আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চলে।

Bangladesh: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রক্তারক্তি কান্ড, পর পর পড়ছে দেহ

heavy-gun-fire-and-group-clash-at-coxsbazar-rohingya-camp

নিউজ ডেস্ক: গুলি চালিয়ে হামলা। সেই হামলায় রক্তাক্ত বাংলাদেশেপ রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির। বেশ কয়েকজন মৃত। ঘটনাস্থল কক্সবাজারের উখিয়া। এখানেই বৃহত্তম রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ। এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষের  ঘটনায় ছয় জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে উখিয়ার ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই ঘটনা ঘটে।

রোহিঙ্গাদের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে দু পক্ষগুলি চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাত করা হয়। কয়েকজন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয় ঘটনাস্থলে। জখম হয়েছে ১০-১২ জন রোহিঙ্গা। ঘটনার পর পরই পুলিশ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান শুরু করেছে। 

সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলি করে খুন করা হয় আন্তর্জাতিক রোহিঙ্গা নেতা মুজিবুল্লাহকে। সেই ঘটনার পরে এবার নতুন করে রক্তাক্ত শরণার্থী শিবির। তবে রোহিঙ্গা শিবিরে আগেও গোষ্ঠী সংঘর্ষ হয়েছে।

Myanmar: রোহিঙ্গা নেতা খুনে জড়িত বর্মী সেনা সরকার, বিস্ফোরক দাবি জঙ্গি সংগঠনের

Mohib Ullah

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে খুন হয়েছেন রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ। তাঁর খুনে জড়িত মায়ানমারের (Myanmar) বর্তমান সামরিক সরকার। এমনই বিস্ফোরক দাবি করেছে পাকিস্তান মদতপুষ্ট রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠন আরসা (ARSA)। বিবৃতি দিয়েছে এই সংগঠনটি।

আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সক্রিয়। বাংলাদেশের চট্টগ্রামের কুতুপালং রোঙিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে খুন হওয়া মুহিবুল্লাহর পরিবারের অভিযোগ, আরসা জঙ্গিরা গুলি করেছিল। যদিও বাংলাদেশ সরকার এখনও তদন্ত চালাচ্ছে কিন্তু কোনও সংগঠনের নাম বলেনি।

মুহিবুল্লাহ কে খুনের পর আরসা জঙ্গি সংগঠনের মুখপাত্র মৌলভি শোয়েব জানায়, মায়ানমার সরকারের এজেন্টরাই মুহিবুল্লাহ হত্যায় জড়িত। আরসার দাবি, এই খুনের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

মৃত রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর আন্তর্জাতিক পরিচিত ছিল। তিনি বাংলাদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফের মায়ানমারে পাঠানোর বিষয়ে রাষ্ট্রসংঘ ও তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাত করেন।

অভিযোগ, মায়ানমার সরকার কোনওভাবেই রোহিঙ্গাদের ফেরাতে চায় না। তাই মুহিবুল্লাহর মতো নেতাকে সরিয়ে দিতে জঙ্গি সংগঠন আরসা কে কাজে লাগিয়েছে মায়ানমারে সেনা সরকার।

বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলির মধ্যে আরসা জঙ্গি ও কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয়। মুহিবুল্লাহ খুনের তদন্তে উঠে এসেছে রাত নামলেই শরণার্থী শিবিরগুলিতে তাদের গতিবিধির কথা।

কয়েকবছর আগে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে (পূর্বতন আরকান) রক্তাক্ত গোষ্ঠী সংঘর্ষের পর তৎকালীন আউং সান সু কি নেতৃত্বে চলা সরকার দমন নীতি নেয়। সেনা অভিযানে গণহত্যা শুরু হয়। লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা পাহাড়ি পথে ও বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে ঢুকে পড়েন। তাদের জন্য বৃহত্তম শরণার্থী শিবির চালাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। ঢাকার অভিযোগ, বারবার শরণার্থী রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বলা হয়। কিন্তু মায়ানমার সরকার উদ্যোগ নেয়না।