ট্যাক্স ফাঁকি: ‘প্যান্ডোরা বক্স’ কাণ্ডে নাম জড়াল সচিন তেন্ডুলকরের

Sachin Tendulkar's name involved in 'Pandora's Box' scandal

স্পোর্টস ডেস্ক: ট্যাক্স ফাঁকি অর্থাৎ ‘প্যান্ডোরা বক্স’ জালিয়াতি কান্ডে ভারত সহ ৯১ টি দেশের বর্তমান এবং প্রাক্তন বিশ্ব নেতা, রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সরকারি আধিকারিকদের নাম এই আর্থিক কেলেঙ্কারিতে উঠে এসেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এই আন্তজার্তিক ট্যাক্স ফাঁকি কান্ডে ক্রিকেটের ভগবান সচীন তেণ্ডুলকরের (Sachin Tendulkar) নাম তালিকায় থাকা। 

আন্তজার্তিক এই ট্যাক্স জালিয়াতি চক্রকে প্রকাশ্যে এনেছেন কিছু সাংবাদিক, প্যান্ডোরা বক্সের মাধ্যমে। এই জালিয়াতি কান্ডে বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। প্যান্ডোরা বক্সের তালিকার তথ্য থেকে নাম উঠে এসেছে কিংবদন্তী ক্রিকেটার সচীন তেন্ডুলকরের। স্বভাবতই মাস্টার ব্লাস্টারের নাম এই জালিয়াতি তালিকায় উঠে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এই নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমেও জোর চর্চ্চা শুরু হয়েছে।

এদিকে প্যান্ডোরা বক্স ট্যাক্স ফাঁকি কান্ডে সচীন তেন্ডুলকর যথেষ্ট অস্বস্তির মধ্যে পড়েছেন। লিটল মাস্টারের আইনজীবী এই প্রসঙ্গে বলেন, “ক্রিকেট খেলোয়াড়ের বিনিয়োগ বৈধ এবং কর কর্তৃপক্ষের কাছে ঘোষণা করা হয়েছে।” তবে ট্যাক্স ফাঁকি কান্ডের তথ্য থেকে উঠে এসেছে যে, সচীন তেন্ডুলকর তাঁর স্ত্রী অঞ্জলি তেন্ডুলকর এবং শ্বশুর আনন্দ মেহতার সঙ্গে সচীনকে বিভিআই-ভিত্তিক কোম্পানি বিও এবং পরিচালক হিসাবে নাম দেওয়া হয়েছে সাস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড।

প্রসঙ্গত, সচীন তেন্ডুলকর ফাউন্ডেশনের সিইও মৃন্ময় মুখোপাধ্যায় বলেছেন, “লিবারেলাইজড রেমিট্যান্স স্কিম (এলআরএস) স্কীমের অধীনে কর প্রদান করা হয়েছে তহবিলে তেন্ডুলকরের নির্দেশ মতো বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং তার করের যথাযথ হিসাব ও ঘোষণা করা হয়েছে।”

নিজের ভাবমূর্তি নিয়ে সকল সময়েই সচীন তেন্ডুলকর সতর্ক। তাই আজ পর্যন্ত আন্তজার্তিক মদ প্রস্তুতকারী সংস্থা মাস্টার ব্লাস্টারের কাছে ব্র‍্যান্ড অয়্যাম্বাসেডার হওয়ার প্রস্তাব আনলেও সচীন তা ফিরিয়ে দিয়েছে। দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনিই যে রোল মডেল তা নির্দ্ধিধায় বলাই যায়। সেই সচীন তেন্ডুলকরের নাম ট্যাক্স ফাঁকি কান্ডের তালিকায় উঠে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশ জুড়ে।

আইপিএলের স্পট ফিক্সিং কাণ্ড নিয়ে শ্রীসন্থের বিস্ফোরক মন্তব্য

Sreesanth explosive remarks

স্পোর্টস ডেস্ক: ভারতীয় জোরে বোলার এস শ্রীসন্থ (Sreesanth) আইপিএলে স্পট ফিক্সিং কাণ্ড নিয়ে শেষ পর্যন্ত নিজের নীরবতা ভঙ্গ করলেন। ২০১৩ সালে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) স্পট ফিক্সিং কাণ্ড প্রকাশ্যে আসে। এই কাণ্ডের সঙ্গে নাম জড়ায় শ্রীসন্থ সহ অঙ্কিত চৌহান এবং অজিত চাণ্ডিলার।এই ঘটনার জেরে এই তিন ক্রিকেটারের ক্রিকেট কেরিয়ারের ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

শ্রীসন্থ এক সাক্ষাৎকারে নিজের নীরবতা ভেঙে মুখ খুলতে গিয়ে বলেন,’এই ঘটনা নিয়ে এটাই প্রথম সাক্ষাৎকার, যেখানে আমি কিছু বিষয় শেয়ার করবো বিষয় বোঝানোর জন্য।বিষয়টা এরকম যে এক ওভারে ১৪ অথবা বেশি রান খরচ করতে হবে।আমি ৪ বলে ৫ রান দিয়েছিলাম। কোন নো বল,কিংবা কোন ওয়াইড বল এমনকি আইপিএলে মহ্নর গতিতে বল পর্যন্ত করিনি।আমি আমার পায়ের আঙুলে ১২ টি সার্জারি করার পরেও ১৩০ কিলোমিটারের বেশি জোরে বল করেছিলাম।

এই প্রসঙ্গে খোলসা করতে গিয়ে শ্রীসন্থ জানিয়েছেন,চোট মুক্ত হয়ে তিনি ভারতের জাতীয় দলে কামব্যাকের প্রতি মনোযোগী ছিলেন। শ্রীসন্থ বলেন,’আমি ইরানি ট্রফির ম্যাচ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের দিকে ফোকাসড ছিলাম, যাতে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে আমরা সিরিজ জিততে পারি।আমরা তাড়াতাড়ি যাচ্ছিলাম এবং সেপ্টেম্বরে বলের মুভমেন্ট দুরন্ত হয়ে থাকে।আমার লক্ষ্য ছিল ওই সিরিজে খেলা। এমন চিন্তাভাবনার মধ্যে থাকা ব্যক্তি কেন ১০ লাখ টাকার জন্য এমন কাজ কেন করবে?আমি বড় কথা বলতে চাইনা,কিন্তু আমি যখন পার্টি করতাম ওই সময়ে বিল ২ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে যেতো। ‘

শ্রীসন্থ আরও বলেন যে,আমি বিল পেমেন্ট করতাম নিজের কার্ডের মাধ্যমে।আমি কখনই নগদে (ক্যাশ) বিল পেমেন্ট করিনি। এরই সঙ্গে তিনি বলেন,শুভাঙ্কাক্ষীদের প্রার্থনার তাকে এই সঙ্কট থেকে মুক্ত হতে সহায়তা করেছে।

শ্রীসন্থ’র কথায় ‘বিল পেমেন্ট তিনি নিজের কার্ডের মাধ্যমে করতেন।যদি আমার কাছে এত পরিমাণ নগদ অর্থ থাকতো তাহলে আমি তা উড়িয়ে দিতাম।আমি ওই সময়েও সাধারণ মানুষের সঙ্গে জুড়ে থাকতাম। আমি জীবনে সকল সময়ে সহায়তা করে এসেছি এবং বিশ্বাস করে এসেছি।আমি অনেককে সহায়তা করেছি এবং তাদের সকলের প্রার্থনা আমাকে এইসব কিছুর থেকে বের করে এনেছে।আমাকে শুধু এটুকুই জিঞ্জাসা করা হয়েছিল,দুই বল, পাঁচ রান,দুই বল বাকি আছে।আমি সেসব কি করে দিয়ে দেবো,যা আমি সপে দিয়েছি?কখনই নয়।’শ্রীসন্থ’র ওপর থেকে নিষেদ্ধাঞ্জা উঠে যাওয়ার তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে মন দেন। সৈয়দ মুস্তাক আলি টি-২০ ফর্ম্যাটের হাত ধরে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরে আসেন।