Sri Lanka: ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সিংহলি নাগরিককে পুড়িয়ে খুন পাকিস্তানে

Sri Lankan citizen murder in pakistan

News Desk: ধর্ম অবমাননা আইনে বহু নিরীহ ব্যক্তি পাকিস্তানে চরম নিগ্রহের শিকার হন। খুনও করা হয়। তেমনই একজনকে পুড়িয়ে খুনের ঘটনায় এবার আরও বিতর্কে সরকার। মৃত ব্যক্তি শ্রীলংকার (Sri Lanka) নাগরিক। তাঁকে খুনের ঘটনায় শ্রীলংকায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তির নির্দেশ দিয়েছেন।

পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলে ক্ষিপ্ত জনতা শুক্রবার সকালে ইসলামের অবমাননা হয়েছে এই অভিযোগে, শ্রীলংকার নাগরিক প্রিয়ান্থা দিয়াওয়াদানার উপর চড়াও হয়। তাকে পুড়িয়ে খুন করা হয়। পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তি শিয়ালকোটে একটি ব্যক্তিগত স্পোর্টস সরঞ্জাম কারখানায় রপ্তানি ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

শ্রীলংকার নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ইসলামের ধর্মীয় গুরুর বিরুদ্ধে অবমাননাকর কথা বলেছিলেন। তবে এই অভিযোগের কোনও সত্যতা যাচাই না করেই একটি পোস্টারকে ভিত্তি করে ওই সংস্থার কর্মীরা ঘিরে ধরে পুড়িয়ে মারে শ্রীলংকার নাগরিক প্রিয়ান্থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান কারখানার কর্মীরা বিপুল সংখ্যায় একত্রে জমায়েত হয়ে দিয়াওয়াদানাকে আক্রমণ করে খুন করে।

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশ সরকারের মুখপাত্র, হাসান খাওয়ার জানান পরে তারা তার জখম প্রিয়ান্থাকে নিকটস্থ একটি সড়কে নিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি স্থানীয় একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

SAFF Championship: সুজন পেরেরার দুরন্ত গোলকিপিং, ব্লু টাইগার্সদের লজ্জাজনক পারফরম্যন্স

India-Sri Lanka match draw

স্পোর্টস ডেস্ক: দশজনের বাংলাদেশকে হাতের নাগালে পেয়েও ১-১ গোলে ড্র করে কোচ ইগর স্টিমাচের ভারত।লজ্জা দিয়েই সাফ অভিযান (SAFF Championship) শুরু করেছিল ব্লু টাইগার্সরা। বৃ্হস্পতিবার শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে গোলশূন্যতে ড্র করলো। একা কুম্ভ হয়ে দূর্গ রক্ষা করে গেলেন শ্রীলঙ্কার গোলকিপার সুজন পেরেরা।

সুনীল ছেত্রী,উদান্ত সিং, মনবীর সিং,মন্দার রাও’রা গোলের সুযোগ পায়নি, তাও’ও নয়। আসলে সুজন পেরেরা এদিন ভারতের বিরুদ্ধে ‘চীনের প্রাচীর’ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েছিল। দুরন্ত সেভ, সঠিক সময়ে বেরিয়ে এসে বল ক্লিয়ারেন্স, নিজের মোটিভেশন সঙ্গে টিমকে মোটিভেট করা। একজন গোলকিপারের চূড়ান্ত যর্থাথতা(একুরেসি) বলতে যা বোঝায়, সবটা, হ্যাঁ পুরোটাই নিঙড়ে দিলেন সুজন পেরেরা।

অতিরিক্ত সময়ের দশ মিনিট পেয়েছিল ভারত,গোলের লকগেট খোলার।ম্যাচের ৯৭ মিনিটে শুভাশিস থেকে ফারুখ হয়ে সাহাল আব্দুল সামাদ চিপ করে বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হয়, সুজন পেরেরা সেভ করায়। ম্যাচের ১২ মিনিটে মন্দার রাও দেসাই বাঁ দিক থেকে ক্রস তোলে,আর সঠিক সময়ে বেরিয়ে এসে (Anticipation) গোলকিপার সুজন পেরেরা বল গ্লাভস বন্দী করে ফেলে।

গোটা ম্যাচে ভারত শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ডমিনেট করেও গোলের মুখ খুলতে পারনি। শ্রীলঙ্কার ডিফেন্স সঙ্গে গোলকিপার সুজন পেরেরার অনবদ্য সিদ্ধান্তের কাছে অনিরুদ্ধ থাপা, অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী,লিস্টনরা বারে বারে পর্যুদস্ত হয়।৪৯ মিনিটে লিস্টনের নীচু গতির দুরন্ত শট দুরন্ত ভাবে ক্লিয়ার করে শ্রীলঙ্কার ডিফেন্স লাইন।

৫৩ মিনিটে ক্লোজ সিচুয়েশনে ইয়াসির মহম্মদের সুইং ফ্রি কিক সুনীল ছেত্রীকে লক্ষ্য করে দেওয় হয়।কিন্তু বিপদ বুঝে ফেলতেই শ্রীলঙ্কার গোলকিপার সুজন পেরেরা বেরিয়ে এসে শরীর এবং হাত হাওয়ায় ভাসিয়ে দিয়ে বলকে পাঞ্চ করে দুরন্তভাবে ক্লিয়ার করেন, ভারত অধিনায়ক সুনীল ছেত্রী বোকা বনে যায়। ৬০ মিনিটে মন্দার রাও’র গোলমুখী নীচু ক্রস অনিরুদ্ধ থাপা বলের নাগাল পায়নি,বল ক্লিয়ার করে ডিফেন্স লাইন লঙ্কার।

৬৫ সুনীল -লিস্টনের যুগলবন্দী গোলের লকগেট খুলতে পারেনি। ৮৮ মিনিটে উদান্ত সিং বল পিছনে সরে এসে মনবীর সিং’কে লক্ষ্য করে বাড়িয়ে দিলেও শ্রীলঙ্কা ডিফেন্স লাইন সতর্ক থাকায় বল ক্লিয়ার করে দেয়। গোটা ম্যাচে ব্লু টাইগার্সদের সুযোগ হাতছাড়া করার খেসারত, ডিফেন্স লাইনে শ্রীলঙ্কার ফুটবলারদের আটোসাটো ঘেরাটোপ আর লাস্ট লাইন অফ ডিফেন্স গোলকিপার সুজন পেরেরার অনবদ্য গোলকিপিং সাফ কাপে মলদ্বীপের ন্যাশনাল ফুটবল স্টেডিয়ামে ইগর স্টিম্যাচের গেম প্ল্যানের সলিল সমাধি ছাড়া কিছুই নয়।

হস্তি সংরক্ষণে একগুচ্ছ নয়া নিয়ম নিয়ে এল পড়শি দেশ

নিউজ ডেস্ক: বছর দুয়েক আগের ঘটনা। শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো থেকে ৮০ কিলোমিটার পূর্বে কেগাল্লেতে টিকিরি নামে একটি হাতির মৃত্যু হয়। ঠিকমতো খেতে না পেয়েই টিকিরি অস্বাভাবিক রোগা হয়ে গিয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন হস্তি বিশেষজ্ঞ জয়ন্ত জয়বর্ধনে। শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডিতে আয়োজিত একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ওই চেহারাতেই নামানো হয় টিকিরিকে।

অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র সিগিরিয়াতে হাতির পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়ানোটাই আকর্ষণ। অনেকদিন থেকেই একটি হাতিকে সেই কাজে ব্যবহার করা হত। দিনের বেশিরভাগ সময়ই পিঠে পর্যটক নিয়ে চলতে হত তাকে। সামান্য বিশ্রামটুকুও মিলত না। রোজকার মতোই সেরকমই বিশ্রাম না নিয়ে নাগাড়ে সে পিঠে মানুষ নিয়ে ঘুরছিল হাতিটি। পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবেই পরে হাতিটির মৃত্যু হয়।

Elephants can lose two bathtubs full of water in a single day when it gets  hot | Science | AAAS

বারবার এই ঘটনার পর এবার হাতি সংরক্ষণে কঠোর হল শ্রীলঙ্কান সরকার। হাতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী শ্রীলঙ্কায় দুই বছরের কম বয়সী বাচ্চা হাতিদের কাজ করানো নিষেধ, এছাড়াও তাদের মায়েদের সঙ্গে রাখতে হবে। এছাড়াও হাতি হ্যান্ডলার বা মাহুত, কাজ করার সময় মাদক গ্রহণ করতে পারবে না। হাতির সঙ্গে মাদকাসক্ত থাকা অবস্থায় ধরা পড়লে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

সম্প্রতি পড়শি দেশের বন্যপ্রাণী সুরক্ষা প্রতিমন্ত্রী উইমালাবিরা দিসনায়েক এই নোটিশটি প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘প্রতিটি গৃহপালিত হাতির একটি পূর্ণদৈহিক ছবি এবং ডিএনএ বিশদ সহ একটি বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্র থাকতে হবে।’ বিশ্ব বন্যপ্রাণী আইন অনুসারে, হাতি শ্রীলঙ্কায় অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এবং সেদেশে হাতি হত্যা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। যদিও ধর্মীয় মিছিল, পর্যটক আকর্ষণ এবং লগিংয়ের জন্য হাতিকে কাজে লাগানো হয়।

নতুন নিয়মে, লগিং হাতি দিনে মাত্র চার ঘন্টা পর্যন্ত কাজ করতে পারবে, রাতে কাজ করানো নিষিদ্ধ। প্রতিদিন কমপক্ষে আড়াই ঘন্টা স্নানের সময় দিতে হবে, কারণ কাদায় স্নান করে হাতিগুলো ঠান্ডা হয়ে যায়। এছাড়াও একবারে মাত্র চারজন মানুষ হাতিতে চড়তে পারবে, অবশ্যই ভাল প্যাডেড স্যাডে বসতে হবে। বন্দী হাতিদেরও প্রতি ছয় মাসে বাধ্যতামূলকভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। সরকারি প্রযোজনা ছাড়া হাতিগুলিকে চলচ্চিত্রে অংশগ্রহণের অনুমতি নেই। সংবাদসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নিয়ম ভঙ্গকারীদের তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে এবং তাদের হাতিগুলিকে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নেওয়া হতে পারে।

দ্রাবিড়ে মশগুল শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার

কলম্বো: রাহুল দ্রাবিড়ের নামটা শুধু ভারতীয় ক্রিকেটে নয়, বিশ্বক্রিকেটেও সমাদৃত! তিনি রাজি থাকলেই দ্বীপরাষ্ট্র সফরে ভারতের ‘বি’ দলের নয়, অনেক আগেই বিরাট কোহলিদের ‘হেডস্যর’ হতে পারতেন৷ তবে শ্রীলঙ্কা সফরে শিখর ধওয়ানদের কোচ হতে রাজি হয়ে শুধু সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নয়, শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সদস্য অরবিন্দ ডি’ সিলভা’র প্রশংসা আদায় করে নিল ‘দ্য ওয়াল’৷

১৩ জুলাই থেকে শ্রীলঙ্কায় সীমিত ওভারের সিরিজ খেলতে নামছে ভারত। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মারা এই মুহূর্তে ইংল্যান্ডে থাকায় এই সীমিত ওভারের সিরিজে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেবেন ধাওয়ান৷ আর এই দলের প্রধান কোচের ভূমিকায় দেখা যাবে দ্রাবিড়কে৷ অতীতে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ এবং ভারত-এ দলের কোচিং করালেও প্রথমবার জাতীয় সিনিয়র দলের কোচের ভূমিকা পালন করতে দেখা ‘মিস্টার জেন্টেলম্যান’-কে৷ তবে দ্বীপরাষ্ট্রে ভারত তাদের দ্বিতীয় সারির দল পাঠিয়ে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে অপমান করেছে বলে সম্প্রতি প্রশ্ন তুলেছিলেন দ্বীপরাষ্ট্রের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক অর্জুনা রণতুঙ্গা৷

তবে প্রাক্তন অধিনায়কের পাশে দাঁড়ালেন না ১৯৯৬ বিশ্বকাপজয়ী শ্রীলঙ্কা দলের অন্যতম সদস্য ডি’সিলভা। সিরিজ শুরুর আগেই ধাওয়নদের ‘দ্বিতীয় সারির’ দল বলে বিতর্কি উসকে দিয়েছেন রণতুঙ্গা। আপনি কি প্রাক্তন অধিনায়কের সঙ্গে একমত? এই প্রশ্নের উত্তরে ডি’সিলভা বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে এইভাবেই ভেঙে ভেঙে দল পাঠানো ভবিষ্যতের রীতি হতে চলেছে। আর ভারতের রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তি কতটা সবাই জানে।’

শুধু তাই নয়, ভারতীয় দলের এই শক্তির জন্য দ্রাবিড়কেই কৃতিত্ব দিলেন ডি’ সিলভা। তিনি বলেন, ‘সবার আগে রাহুল দ্রাবিড়কে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ করে সব চেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারতীয় বোর্ড।ক্রিকেটারদের গড়ে তোলার জন্য দ্রাবিড় এত দিন ধরে করেছে তার ফল এখন ভারতীয় দল পাচ্ছে।’ তবে শ্রীলঙ্কাও তাদের দলকে শক্তিশালী করতে পারত৷ এ প্রসঙ্গে মাহেলা জয়বর্ধনের প্রসঙ্গ তুলে ডি’ সিলভা বলেন, ‘দ্রাবিড়ের মতো আমরাও এক প্রাক্তন ক্রিকেটারকে পেয়েছিলাম, যার হাত ধরে শ্রীলঙ্কা দলও অনেক উন্নতি হতে পারত। জয়বর্ধনেকে অনেক অনুরোধ করা হয়েছিল শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৯ দলটার দায়িত্ব নিতে। কিন্তু মাহেলাকে আমি কিছুতেই রাজি করাতে পারিনি।’

ডি’সিলভা মনে করেন দ্রাবিড়কে প্রথমে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ করে মাস্টারস্ট্রোক খেলেছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। যার ফল এখন পাচ্ছে ভারত। দ্রাবিড়কে ভবিষ্যতে ভারতের দলের কোচ হিসেবে দেখতে চান লঙ্কার এই প্রাক্তন ব্যাটসম্যান৷ দ্রাবিড়ের কোচিংয়ে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ান ডে এবং তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ খেলবে ভারত৷ মঙ্গলবার সিরিজের প্রথম ম্যাচ৷