এক সপ্তাহের মধ্যেই বঙ্গে আছড়ে পড়বে তৃতীয় ঢেউ, আশঙ্কার নয়া তথ্য

The third wave will hit Bengal in a week, raising new fears

News Desk: ওমিক্রন সংক্রমণ বাড়তে থাকায় চিন্তার ভাঁজ বেড়েছে রাজ্যের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বছরের শুরু থেকেই কঠোর বিধিনিষেধ জারি হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এরই মধ্যে প্রকাশ্যে এল এক উদ্বেগজনক তথ্য। তথ্য বলছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যে তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। এমনকি গোষ্ঠী সংক্রমণের অঙ্গিত মিলেছে কলকাতায়।

তথ্য অনুযায়ী, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যে শক্তিশালী তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। জার ফলে দ্বিগুণ হারে বাড়বে সংক্রমণ। দ্বিতীয় ঢেউয়ে দৈনিক সংক্রমণ ছিল ২০-২৫ হাজার। তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়লে দৈনিক সংক্রমণ ৩০-৩৫ হাজারের গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলতে পারে।

কলকাতায় গোষ্ঠী সংক্রমণের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই জেলার পাঁচ জনের মধ্যে চার জনের নমুনা পরীক্ষায় ওমিক্রনের হদিশ মিলেছে।

তৃতীয় ঢেউ নিয়ে ইতিমধ্যেই জেলাগুলিকে সতর্কতা জারি করেছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে জেলার দৈনিক সংক্রমণের পরিসংখ্যান। স্বাস্থ্য দফতরের অধিকর্তারা জানিয়েছেন, রাজ্যের দৈনিক সংক্রমণের যে চিত্র সামনে এসেছে তাতে আগামী কয়েকদিনেই দ্বিগুণেরও বেশী হবে বলে আশঙ্কা। জেলার সরকারি হাসপাতালে সকল বিভাগে করোনা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক কড়া হয়েছে।

রাজ্যের ৬ টি জেলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য দফতর। বীরভূম, উত্তর দিনাজপুর, মালদা, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, বাঁকুড়া- এই ৬ টি জেলায় পজিটিভিটি রেট অনেক বেশী এবং নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা তুলনায় অনেক কম।

Omicron Updates: আগামী বছরের শুরুতেই আসছে করোনার থার্ড ওয়েভ, জানাল কানপুর আইআইটি

IIT-Kanpur Scientist Manindra Agrawal

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: দেশ তো বটেই, গত ১০ দিন ধরে গোটা বিশ্বেই ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট (omicron varient) নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। শনিবারের পর রবিবার দেশে আরও একজন ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হয়েছেন।

এই নিয়ে দেশে রবিবার পর্যন্ত পাঁচজন ওমিক্রন ভেরিয়েন্টে সংক্রামিত হলেন। এরই মাঝে দেশকে এক সতর্কবার্তা দিল কানপুর আইআইটি (kanpur iit)। কানপুর আইআইটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২২-এর জানুয়ারির (january) শেষ বা ফেব্রুয়ারির (February) গোড়া থেকেই শুরু হবে করোনার তৃতীয় ওয়েভ (third wave)। করোনার নতুন ভেরিয়েন্ট ওমিক্রন ভয়ঙ্কর চেহারায় আত্মপ্রকাশ করবে।

কানপুর আইআইটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর অধ্যাপক ডক্টর মনিন্দর আগরওয়াল বলেছেন, ২০২২ সালের জানুয়ারির শেষ দিকে বা ফেব্রুয়ারির প্রথম থেকেই মারাত্মক আকার ধারণ করবে ওমিক্রন। এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট হয়তো ততটা প্রাণঘাতী নয়। কিন্তু এই নতুন ভ্যারিয়েন্টের বৈশিষ্ট্য হল, এটি অতি বিপজ্জনক মাত্রায় সংক্রামক। অর্থাৎ দ্রুত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রবিবারই দেশে ওমিক্রন আক্রান্ত পঞ্চম ব্যক্তির সন্ধান মিলেছে। এদিন নতুন করে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হয়েছেন দিল্লির এক ব্যক্তি। দিল্লির স্বাস্থ্য মন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন জানিয়েছেন, দিল্লির ওই ব্যক্তি সম্প্রতি তানজানিয়া থেকে দেশে ফিরেছিলেন। আক্রান্ত ব্যক্তি দিল্লির লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তানজানিয়া থেকে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরেই তাঁর করোনা পরীক্ষা করা হয়। তখনই রিপোর্ট আসে পজিটিভ। সঙ্গে সঙ্গেই ওই ব্যক্তির নমুনা জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পাঠানো হয়। রবিবার সেই পরীক্ষার রিপোর্টে জানা যায় ওই ব্যক্তি ওমিক্রন আক্রান্ত।

উল্লেখ্য, দুদিন আগেই জানা গিয়েছিল তানজানিয়া থেকে আসা ১২ জন বিদেশি যাত্রী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। ওই বিদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দর থেকেই সরাসরি লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। ১২ জনের মধ্যে একজন ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট আক্রান্ত বলে খবর। দিল্লিতে ওমিক্রন আক্রান্ত ওই ব্যক্তি গত কয়েকদিনে যাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন তাদের চিহ্নিত করে করোনা পরীক্ষার চেষ্টা চলছে।

এখনও পর্যন্ত গোটা দুনিয়ায় ৪০টি দেশে ওমিক্রনের সন্ধান মিলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, ওমিক্রন নিয়ে অহেতুক উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কারণ এই ভাইরাস খুব একটা প্রাণঘাতী নয়। তবে খুবই সংক্রামক। বিধিনিষেধ মেনে চললে ওমিক্রন ঠেকানো যাবে।

প্রসঙ্গত, শনিবার রাতেই মুম্বইয়ে এক মেরিন ইঞ্জিনিয়ারের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানা যায়। দেশে প্রথম ওমিক্রন আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল কর্নাটকে। সেখানে দুই ব্যক্তির শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে। তারপরই গুজরাতেও হদিশ মিলেছে ওমিক্রনের।

দু’বছরে এই প্রথম মুম্বইয়ে করোনায় মৃত্যুশূন্য, তৃতীয় ঢেউ নাও আসতে পারে: অনুমান বিশেষজ্ঞদের

third wave may not come: Experts

নিউজ ডেস্ক, মুম্বই: ২০২১-এর মার্চ মাসে থেকে গোটা দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছিল। দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে করোনায় সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত ও মারা গিয়েছিল মহারাষ্ট্রে। রাজধানী মুম্বইয়ের পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। এরই মধ্যে দেড় বছর পর এই প্রথম সামনে এল এক আশার খবর। দীর্ঘ ১৮ মাস ২১ দিন পর রবিবার করোনায় মৃত্যুর কোন খবর নেই মুম্বইয়ে। পাশাপাশি এদিনই এক আশার কথা শুনিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেছেন, দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ নাও আসতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২০ – ২৭ মার্চ মুম্বইয়ে প্রথম করোনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। তারপর ক্রমশ করোনার হটস্পট হয়ে উঠেছিল মুম্বই। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন মুম্বইয়ে। করোনা রুখতে মহারাষ্ট্রের উদ্ধব ঠাকরে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছিল। সরকারের সেই গৃহীত ব্যবস্থার সুফল এতদিনে মিলল। করোনার প্রথম ঢেউয়ে মুম্বইয়ে ২০২০-র ২১ জুন সবচেয়ে বেশি ১৩৬ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।

third wave may not come: Experts

২০২১ সালের ১ মে মুম্বইয়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সর্বাধিক ৯০ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। করোনা রুখতে এই শহরে জোর গতিতে চলছে টিকাদান। জানা গিয়েছে মুম্বইয়ে ৯৭ শতাংশ মানুষ ইতিমধ্যেই করোনা টিকার অন্তত একটি ডোজ পেয়েছেন। ৫৫ শতাংশ মানুষ পেয়েছেন দুটি ডোজ। মুম্বইয়ের পুরো কমিশনার ইকবাল সিং চাহাল জানিয়েছেন মুম্বইতে, খুব শীঘ্রই দৈনিক মৃত্যু শূন্যে নেমে আসবে। এজন্য বৃহনমুম্বই পুরোনিগমের স্বাস্থ্য কর্মীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

বিএমসির অতিরিক্ত কমিশনার সুরেশ কাকানি বলেছেন, শেষ পর্যন্ত আমরা মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে সফল হয়েছি। এই মুহূর্তে শহরে করোনা পজিটিভিটি রেট ১.২ শতাংশ।

অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন করানোর তৃতীয় ঢেউ ভারতে নাও আসতে পারে। হরিয়ানার সোনিপত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গৌতম মেনন বলেছেন, দেশে দ্রুত গতিতে টিকাকরণ চলছে। মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডির পরিমাণ বেড়েছে। পাশাপাশি ডেল্টা ভেরিয়েন্টের প্রকোপ অনেকটাই কমেছে। এসবের জেরে শেষ পর্যন্ত হয়তো ভারতে করোনার তৃতীয় ঢেউ নাও আসতে পারে।

দেশের মহামারী বিশেষজ্ঞ চন্দ্রকান্ত লাহড়িয়া বলেছেন, ডেল্টা ভেরিয়েন্ট অনেক ক্ষেত্রেই মানুষের শরীরে বন্ধুর মতন আচরণ করে। ডেল্টা ভেরিয়েন্টের জন্যই কোভিডের অন্যান্য ভেরিয়েন্ট আর সংক্রমণ ছড়াতে পারছে না। লাহড়িয়া আরও বলেন, সম্প্রতি দেখা গিয়েছে প্রায় ৭৬ শতাংশ মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের ৭০ শতাংশকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়ে গিয়েছে। এসবের কারণে ভারতে করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা এখন অনেক কম।