কৃষকদের হাত কেটে ও চোখ উপড়ে নেওয়ার হুমকি দিলেন বিজেপি সাংসদ অরবিন্দ শর্মা

Arvind Sharma

News Desk: আন্দোলনরত কৃষকদের হাত কেটে নেওয়া হবে। তাদের চোখও উপড়ে নেওয়া হবে বলে হুমকি দিলেন হরিয়ানার (Hariyana) বিজেপি সাংসদ অরবিন্দ শর্মা (Arvind Sharma)। বিজেপি সাংসদের এই মন্তব্যে যথারীতি দেশ জুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

নরেন্দ্র মোদি সরকারের আনা তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে এক বছর ধরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কৃষকরা। বিশেষ করে পাঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকরা এ ব্যাপারে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছেন।

প্রশ্ন হল, হঠাৎ করে কেন কৃষকদের এ ধরনের হুমকি দিলেন সাংসদ শর্মা। শুক্রবার হরিয়ানার বিজেপি নেতা মণীশ গ্রোভার রোহতকের Rohotak) কিলোই গ্রামে একটি মন্দিরে গিয়েছিলেন। মণীশের সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী রবীন্দ্র রাজু, রোহতকের মেয়র মনমোহন গয়াল (Monmohan Goyal), বিজেপি নেতা সতীশ নন্দাল-সহ (Satish Nandal) আরও কয়েকজন বিজেপি নেতা।

বিজেপি নেতা মণীশকে ওই মন্দিরে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখেন স্থানীয় কৃষকরা। আন্দোলনরত কৃষকদের অভিযোগ, বিজেপি নেতা মণীশ আন্দোলনরত কৃষকদের ‘বেকার, মদ্যপ, বাজে লোকজন’ বলে অভিহিত করেছেন। ওই মন্তব্যের জন্য বিজেপি নেতাকে ক্ষমা চাইতে হবে। যতক্ষণ না ওই বিজেপি নেতা ক্ষমা চাইবেন ততক্ষণ তাঁকে আটকে রাখা হবে। এভাবেই ওই বিজেপি নেতাকে প্রায় আট ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।

শেষ পর্যন্ত মুক্তি পেতে মনীশ কৃষকদের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে নেন। ক্ষমা চাওয়ার পরই কৃষকরা মণীশকে মন্দির থেকে বেরিয়ে যাওয়ার রাস্তা করে দেন। যদিও পরবর্তী ক্ষেত্রে মণীশ কৃষকদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথা অস্বীকার করেন। শনিবার তিনি বলেছেন, আমাকে বাইরের লোকজনের উদ্দেশ্যে হাত নাড়তে বলা হয়েছিল। আমি হাত নেড়েছিলাম, কখনওই ক্ষমা চাইনি। আমার যখন ইচ্ছা হবে তখনই এই মন্দিরে আসব। দেখব আমায় কে আটকায়!

রাজ্যের মন্ত্রী-সহ অন্য নেতাদের এভাবে আটকে রাখার কারণে কৃষকদের ওপর প্রবল ক্ষুব্ধ হন বিজেপি সাংসদ অরবিন্দ শর্মা। এই কীর্তিমান সাংসদ এদিন বলেন, যারা তাঁর বন্ধু মণীশ-সহ অন্য বিজেপি নেতাদের বিরোধিতা করবে তিনি তাদের চোখ উপড়ে নেবেন। এমনকী প্রয়োজনে হাত কেটে নিতেও দ্বিধা করবেন না।

যথারীতি বিজেপি সাংসদের এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। হরিয়ানা, পাঞ্জাব সহ অন্যান্য রাজ্যের কৃষক নেতারাও ওই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন। অনেকেই একধাপ এগিয়ে শর্মাকে ওই মন্তব্য প্রত্যাহার করে নিতে হবে বলে দাবি তুলেছেন। কেউ বলেছেন, ওই মন্তব্যের জন্য অরবিন্দ শর্মাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

তাইওয়ানকে রক্ষার প্রতিশ্রুতি আমেরিকার, আগুন নিয়ে খেলা ঠিক নয় বলে হুমকি বেজিংয়ের

America's promise to protect Taiwan

News Desk: তাইওয়ানকে বেজিংয়ের অন্তর্ভুক্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে শি জিনপিং সরকার। অন্যদিকে নিজেদের স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখতে আমেরিকার সাহায্য চেয়েছেন তাইওয়ান প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন। এই অবস্থার প্রেক্ষিতে আমেরিকা স্পষ্ট জানাল, তারা সর্বশক্তি দিয়ে তাইওয়ানের স্বাধীনতা রক্ষা করবে। স্বাভাবিকভাবেই আমেরিকার ওই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বেজিং।

চিনের বিদেশমন্ত্রক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, আমেরিকার কখনওই আগুন নিয়ে খেলা করা উচিত নয়। আমেরিকা যদি কোন একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলায় তবে তাদের উপযুক্ত ফল ভোগ করতে হবে। বিশ্বের শক্তিশালী দুই দেশের এভাবে বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই তাইওয়ান নিয়ে মুখ খুলে ছিলেন জিনপিং। চিনের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, চিন ও তাইওয়ানের পুনর্মিলন সময়ের অপেক্ষা। তাইওয়ান চিনের অংশ। তাই আগামী দিনে এই দেশ চিনের সঙ্গে মিশে যাবে। জিনপিংয়ের ওই বক্তব্যের পর তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট ওয়েন স্পষ্ট বলেছিলেন, চিনের থেকে তাঁদের বিপদ বাড়ছে। কিন্তু দ্বীপরাষ্ট্রের আড়াই কোটি মানুষ নিজেদের স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখতে চান। বেজিং যদি কোনওভাবে তাইওয়ানের দখল নেয় তাহলে সেটা গণতন্ত্রের পক্ষে এক কালোদিন হিসেবে চিহ্নিত হবে। গোটা বিশ্বের মানুষ গণতন্ত্রের উপর বিশ্বাস হারাবে।

পাশাপাশি লালফৌজের আগ্রাসন ঠেকাতে ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়েছে তাইওয়ান। তারা নিজেদের সেনাবাহিনীকে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত করে তুলেছে। পাশাপাশি নিজেদের রক্ষা করার জন্য আমেরিকার কাছে আবেদন জানিয়েছে। তার প্রেক্ষিতেই আমেরিকার পক্ষ থেকে ওই মন্তব্য করা হয়।

তাইওয়ানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সান্দ্রা আউকার্ক বলেন, তাইওয়ানকে রক্ষা করতে আমেরিকা প্রতিশ্রুতি বদ্ধ। আমেরিকা ও তাইওয়ানের সম্পর্ক পাথরের মত শক্ত ও মজবুত। কেউ কোনওভাবেই এই সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারবে না। তাইওয়ানের স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখতে আমেরিকা সব ধরনের সাহায্য করবে। সান্দ্রার ওই বক্তব্য জানার পরই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে চিনের বিদেশমন্ত্রক।

বেজিং পাল্টা বলেছে, আমেরিকা আগুন নিয়ে খেলছে। এটা ঠিক নয়। আগুন নিয়ে খেলতে গিয়ে তারা নিজেরাই পুড়ে মরবে। চিন ও আমেরিকার এই বাক্য যুদ্ধের প্রভাব গোটা বিশ্বের রাজনীতিতে পড়বে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। পাশাপাশি তাইওয়ান প্রণালীর শান্তিও নষ্ট হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।

Kolkata: খুনের হুমকি সংগীত শিল্পী রশিদ খানকে, ধৃত ২

music artist Rashid Khan

বায়োস্কোপ ডেস্ক: সংগীত শিল্পী রশিদ খানকে খুন করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সংগীতশিল্পীর বাড়ির সামনে স্নাইপার গান তাক করে তাকে খুন করার চেষ্টা করা হয় বলেও জানা গিয়েছে।

ওস্তাদ রশিদ খানের মেয়েকে ফোন করে ৫৯ লক্ষ টাকা চেয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়। হুমকি দেওয়া হয় বাড়ীর বাইরে পা রাখলেই তাকে গুলি করা হবে বলে। অভিযোগ অনুসারে তদন্তে নেমে ২ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জেরা করার পর অভিযুক্তরা অপরাধের কথা স্বীকার করে নিয়েছে।

গত ৯ অক্টোবর সমস্ত প্রমান সহ নেতাজি নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী ওস্তাদ রশিদ খান। তদন্তে নেমে মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন ট্র্যাক করে শেষমেষ অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সূত্র মাধ্যমে জানা যায়, প্রথমে ৫০ লক্ষ টাকার দাবি করা হলেও পরবর্তীকালে তা কমিয়ে ২০ লক্ষ টাকা করা হয়।

দাবি করা হয় টাকা না দেওয়া হলে তাকে মেরে ফেলা হবে। মোবাইল ট্র্যাক করে তদন্তে নেমে অপরাধীদের খুঁজতে উত্তরপ্রদেশে পৌঁছে যায় পুলিশ। শেষ পর্যন্ত লখনৌ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় দুই অভিযুক্তকে। দুই অপরাধী আগে থেকেই ওস্তাদ রশিদ খানের পরিচিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। সঙ্গীত শিল্পীর প্রাক্তন অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ও গাড়িচালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সূত্রের খবর, মাস কয়েক আগে চাকরি থেকে তাদের বরখাস্ত করেন রশিদ খান। অভিযুক্তদের জেরা করা হলে জানা যায়, ওই ঘটনার পর অপমানিত বোধ করে রশিদ খানকে খুনের হুমকি দেয় দুই অভিযুক্ত।

এই ঘটনার সাথে আরো কোন বড় অপরাধের যোগসুত্র রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রসঙ্গত, ধ্রুপদী সংগীত শিল্পী সংগীত নাটক অ্যাকাডেমী পুরস্কার ও পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। আপাতত সংগীতশিল্পী ও তার পরিবারের সুরক্ষার্থে পুলিশি সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

আফগান তালিবান সরকারকে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের হুশিয়ার

president vladimir putin

নিউজ ডেস্ক: রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin) ১৩তম ব্রিকস সম্মেলনে আফগানিস্তান ইস্যু নিয়ে জোর আলোচনা করলেন৷ তিনি তালিবান সরকারকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আফগানিস্তান যেন তার প্রতিবেশী দেশগুলোর কাজে হুমকির কারণ হয়ে না ওঠে৷ তিনি বলেন, ” প্রতিবেশি দেশগুলোতে যেন সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচারের মতো বিপদ তৈরি না করে আফগানিস্তান৷’

আরও পড়ুন: তালিবান সরকার ইস্যু: পুতিন-মোদী আলোচনার পর প্রশ্ন ‘সমর্থন ইঙ্গিত’

ব্রিকস সন্মলনে পুতিন আরও বলেন, ‘আমেরিকান সেনাবাহিনী এবং তাদের মিত্র বাহিনী প্রত্যাহারের পর আফগানিস্তান একটি নতুন ট্র্যাজেডিতে জড়িয়ে পড়েছে। এখনও পরিষ্কার নয় যে এটি কীভাবে বিশ্ব এবং অঞ্চলের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করবে। আমাদের সব দেশ এই বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দিয়েছে।

president vladimir putin with Modi

রাশিয়ার এই মন্তব্যটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনেই করা হচ্ছে৷ কারণ, মস্কো থেকে তালিবানদের সমর্থন পাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। রাশিয়া ছাড়াও চিন থেকে তালিবানদের প্রতি সহায়ক মনোভাব দেখানো হয়েছে। তালিবান প্রীতি সম্পর্কে পাকিস্তানের ভুমিকা বিশ্বের সামনে প্রকাশ্যে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে পুতিনের এই কঠোর মন্তব্য বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন: আফগান সংকটমোচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত মিলছে

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৩ তম ব্রিকস সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী বৈঠকে বলেন, ‘সম্প্রতি প্রথম “ব্রিকস ডিজিটাল স্বাস্থ্য সম্মেলন” আয়োজন করা হয়েছিল। প্রযুক্তির সাহায্যে স্বাস্থ্য সুবিধা বাড়ানোর জন্য এটি একটি উদ্ভাবনী পদক্ষেপ। নভেম্বরে ভারতের জলসম্পদমন্ত্রী প্রথমবারের মতো ব্রিকস ফরম্যাটে মিলিত হবেন। আমরা ব্রিকস সদস্যরা ‘কাউন্টার টেরোরিজম অ্যাকশন প্ল্যান’ অর্থাৎ সন্ত্রাসবিরোধী কর্মপরিকল্পনাকেও সমর্থন করেছি।