Travel: মন কিংবা শরীর, ঘুরতে গেলেই যেন পলকে চাঙ্গা

trip india girl

Online Desk: ব্যস্ততা থেকে একটু অবসর নিয়ে ঘুরে (Travel) এলে কমবে মানসিক অবসাদ। এমনকী নিয়মিত ভ্রমণ হৃদরোগসহ অন্য শারীরিক ও মানসিক রোগের ঝুঁকি কমায়। মন কিংবা শরীর, ঘুরতে গেলেই যেন পলকে চাঙ্গা এছাড়া, নতুন কোনো জায়গা ঘুরে এলে পাবেন ওই এলাকার নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, জীবনযাপন ও খাবারের স্বাদ।

নতুন কোনো জায়গায় ভ্রমণে গেলে নাগরিক সব ঝুট-ঝামেলা থেকে দূরে থাকা যায় সব নেগেটিভিটি দূর হয়ে জীবনে আসে পজিটিভিটি। পাশাপাশি নতুন অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়। তাই ব্যস্ত জীবনে হাঁপিয়ে উঠলে একটু সময় বের করে কোথাও ঘুরে এসে নতুন উদ্দীপনা নিয়ে শুরু করতে পারেন কর্মজীবন।

অনেকের কাছে ভ্রমণ শুধু একটা শখ। অনেকের এটাই পেশা। সত্যি বলতে, মানুষের জন্মই হয়েছে সারাবিশ্ব ঘুরে নতুন কিছু জানার জন্য যারা ভ্রমণ করেন তাদের মন অনেক উদার হয়। ফলে, জীবনের অনেক জটিল সমস্যা তারা সহজ করে দেখতে পারেন। কেউ যদি এক জায়গায় ‘কুয়ার ব্যাঙ’ হয়ে জীবন কাটায়, এই বিশাল পৃথিবীর অনেক কিছুই তার অজানা থেকে যায়।

trip india girl

অন্যদিকে, কাজের চাপ ও নাগরিক জীবনের ব্যস্ততার সব নেগেটিভিটি তার জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। এতে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক রোগের সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রতিটি মানুষের জন্যই ভ্রমণ গুরুত্বপূর্ণ। শত ব্যস্ততার মধ্যেও সবারই নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করতে হয় সব ভিড় থেকে দূরে মুক্ত জীবনের স্বাদ নিতে ও জীবনের মানে খুঁজতে বের হতে হয় ভ্রমণে।

যদি আপনি নতুন কোনো জাতির জীবনযাপন, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ইতিহাস, এসবে আগ্রহী হন, তাহলে ঘুরে আসতে পারেন নতুন কোনো দেশে। যদি প্রকৃতির কাছাকাছি যেতে চান অ্যাডভেঞ্চারে, তাহলে ঘুরে আসতে পারেন হিমালয় পর্বত, উপভোগ করতে পারেন হিমালয়ের সৌন্দর্য।

আপনি কী ধরনের ভ্রমণে আগ্রহী তার ওপর নির্ভর করে আপনার কোথায় ঘুরতে যাওয়া উচিত। তবে গন্তব্য যেটাই হোক না কেনো, ভ্রমণ জরুরি। তাই শারীরিক ও মানসিক অবসাদ ঝেড়ে সতেজ শরীর ও মন নিয়ে কাজে যোগ দিতে আপনার মনমতো কোথাও ঘুরে আসুন।

দেখবেন জীবনটাকে আপনি নতুনভাবে দেখছেন। পাশাপাশি সারাজীবন মনে রাখার মতো স্মৃতি জমা হবে আপনার ঝুলিতে। এমন কী ঘুরতে গিয়ে অচেনা বা ভিনদেশি কারো সঙ্গে বন্ধুত্বও তৈরি হতে পারে।

Travel: ভ্রমণ তালিকায় ভিন্ন স্বাদের জগত, ঘুরে আসুন বৃষ্টিবহুল স্থান মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি

cherrapunji-travel-details

Online Desk: বিশ্বের আর্দ্রতম ও সবথেকে বেশি বৃষ্টিবহুল স্থান মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি। ভারতের উত্তর-পূর্বে ঘন জঙ্গলে ঘেরা এই অঞ্চলে (Travel) এসে ছুটি কাটাতে মন্দ লাগবে না আপনার। ছুটিতে চেরাপুঞ্জি ভ্রমণ, রইল বিস্তারিত তথ্য, শহরের কোলাহল থেকে দূরে শান্ত নিরিবিলি মেঘের দেশে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে মনকে সতেজটায় ভরিয়ে তুলুন।

কি দেখবেন?
শিলং থেকে চেরাপুঞ্জি আসার পথে ম্যাকডক ব্রিজের উপর থেকে দৃশ্য খুব সুন্দর। ম্যাকডক ব্রিজ পেরিয়ে রাস্তায় যেতে পাড়বে ডুয়ান্ সিং ফলস।মেন রাস্তা থেকে হেঁটে ১০ মিনিট গেলে পাহাড়ের গায়ে এই সুন্দর ঝর্নাটি দেখতে পাবেন।

cherrapunji-travel-details

চেরাপুঞ্জি থেকে ৪ কিমি আগে পড়বে ড্যানথ্লেন ঝর্না। বর্ষার সময় এই ফলসটি কাছ থেকে দেখার সুযোগ থাকে না জলের তোড়ের জন্য। কিন্তু বছরের অন্য সময় বিশেষত অক্টোবর মাসে খুব কাছ থেকে আপনি ঝর্নার প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে পাড়বেন।

ড্যানথ্লেন ফলস থেকে এগিয়ে গেলে পড়বে ওয়ে সাদং ফলস। স্বচ্ছ কাঁচের মতো জল ও ছোট্ট ঝর্নাটি একবার দেখে যেতে পারেন তবে রাস্তা একটু ঝুঁকিপূর্ণ সঙ্গে বয়স্ক কেউ থাকলে এই ফলস দেখার ঝুঁকি নেবেন সাবধানে।
এরপরে যান নোকালিখাই ফলস দেখতে, পৃথিবীর ৪ষ্ঠ উচ্চতম এই ঝর্নাটি খাসি পাহাড়ের উপর ১১৫০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত চেরাপুঞ্জির অন্যতম আকর্ষণ।

চেরাপুঞ্জির ইকো পার্ক ঘুরে দেখুন। মসমাই কেভ ও ফলস দেখতে ভুলবেন না। মসমাই কেভ ও ফলস দেখে এগিয়ে যান সেভেন সিসটার ফলস দেখতে। পর পর সাতটি ঝর্না পাহাড়ের গা বেয়ে নীচের দিকে পড়ছে। সবুজ পরিবেশে ঘেরা এই ফলস আপনাকে দেবে এক অভূতপূর্ব অনুভূতি।

টেরনা গ্রাম থেকে এগিয়ে ৭কিমি রাস্তা ট্রেক করে আপনাকে আসতে হবে ডাবাল ডেকার লিভিং রুট ব্রিজ। রবার গাছের ডাল একসঙ্গে জুড়ে ৩কিমি লম্বা ও ২৪০০ ফুট উঁচু এই ব্রিজটি তৈরি হয়েছে। এই ব্রিজের নীচে বয়ে গেছে উমসিয়াঙ নদী। ব্রিজে আসার আগে সঙ্গে জল ও শুকনো খাবার নিতে ভুলবেন না কারণ ট্রেকং এ সময় লাগবে প্রায় ৪ঘণ্টা। চেরাপুঞ্জির মাউলিনং গ্রাম দেখতে ভুলবেন না। ২০০৫সালে এই গ্রামটি এশিয়ার সবথেকে পরিচ্ছন্ন গ্রামের তকমা পেয়েছে।

কোথায় থাকবেন?
চেরাপুঞ্জিতে থাকার জন্য হোটেল ও লজ পাবেন সঙ্গে আছে খাবারে সুব্যবস্থা। এখানে ঘুরে আসতে আপনার মাথাপিছু খরচ হবে ৬০০০ টাকা।

কীভাবে যাবেন?
গুয়াহাটি থেকে শিলং হয়ে আপনি পৌছাতে পারবেন চেরাপুঞ্জিতে। চেরাপুঞ্জিতে এসে ট্যাক্সি ভাড়া করে সাইট সিয়িং করতে পারবেন।

করোনার চাপে ক্লান্ত, ঘুরতে যাওয়ার প্লানিং করলে মাথায় রাখুন কয়েকটি টিপস

বাঙালী ভ্রমণপ্রিয় জাতি। বছরে একবার-দুবার ঘুরতে না গেলে বছর সম্পূর্ণ হয় না। কিন্তু ২০২০ সালের শুরু থেকে মারণ ভাইরাসের ভয়ে ঘুরতে যাওয়ার বন্ধ। করোনার চোখরাঙানী এড়িয়ে ভ্রমণ? রইল কিছু টিপস.

সরকার বাহাদুরের ঘোষণায় দীর্ঘ লকডাউনে ঘরে বন্দীদশায় কাটাতে হয়েছে। এখন পরিস্থিতি সামলে নিউ নর্মাল লাইফ স্টাইলে খাপখাইয়ে নিতে হচ্ছে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে খুলেছে টুরিস্ট ডেসটিনেশনগুলি।

কাছে পিঠে ঘুরতে যান এখন বেশি দূরে যাওয়ার প্ল্যানগুলো পরের বছরের জন্য তুলে রাখুন।

ট্রেনে বুকিং করা থাকলে করোনা আবহে রেল কতৃপক্ষ থেকে যা যা স্বাস্থ্যবিধি জারী করা হয়েছে তা মেনে চলুন।

প্রয়োজনে আইআরসিটিসি-র ওয়েবসাইট থেকে তাদের জারী করা বিজ্ঞপ্তি ভালো করে পড়ে নিন ও পরিবারের অন্য সদস্যদেরও বুঝিয়ে দিন।

দূরপাল্লা ট্রেনের টিকিটের পিএনআর চেক করে নিন। যাত্রার সময় ও তারিখ ভালো করে দেখে নিন।

ট্রেনে বাতিল হওয়া বা সিটের নম্বর দেখে নিন। অনলাইনে টিকিট বুক করলে তার প্রিন্ট কপি নিজের সঙ্গে রাখবেন ভ্রমণ করার আগে।

ফোনে অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট বুক করলে ফোনে আসা অনুমোদন মেসেজ বা ওই সম্বন্ধীয় অন্য মেসেজ ডিলিট করবেন না।

গাড়ি বুকিং করুন বিশ্বস্ত কোনো এজেন্সির মাধ্যমে, তাদের গাড়ি স্যানিটাইজিং সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য যাচাই করে নিন।

অনলাইনে হোটেল বুক করার আগে রিভিউ ও রেটিং চেক করে নিন। প্রয়োজনে উক্ত নম্বরে ফোন করে খোঁজ নিন।

বিশ্বস্ত কোনো ট্যুর এজেন্সির মাধ্যমেও হোটেল বুক করাতে পারেন এই অতিমারির আবহে।

যাওয়ার আগে হোটেলে ফোন করে কনফার্ম হয়ে নিন।

ভ্রমণ করার আগে আপনার ও আপনার পরিবারের সদস্যদের আই ডি নিতে ভুলবেন না। আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড সঙ্গে অবশ্যই নেবেন।

সঙ্গে ছোটো বাচ্চা থাকলে তার বার্থ সার্টিফিকেট নিন। আই ডি র জেরক্স কপি রাখুন আপনার সঙ্গে।

ট্রেনে বা ফ্লাইটে বুকিং থাকলে সময়ের অন্তত ২ ঘণ্টা আগে সেখানে পৌঁছান।

গাড়ি বুক করা থাকলে ড্রাইভারের ফোন নাম্বার, গাড়ীর নাম্বার নিতে ভুলবেন না।

গাড়িতে ও ঘোরার জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি ও দূরত্ববিধি মেনে চলুন। বেশি ভিড় জায়গা হলে এড়িয়ে চলুন।

যেখানে বেড়াতে যাচ্ছেন সেই জায়গার সম্বন্ধে আগে ভাগে একটু জেনে নিন, রাস্তার পরিস্থিতি, কাছে পিঠের হোটেল এগুলি নিয়ে একটু গুগল করে নিন। কবে কোন জায়গা দেখবেন সেই নিয়ে একটা প্ল্যান করে ফেলুন।

প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা ভাইরাসের ভয় কাটিয়ে মন খুলে ঘোরার আনন্দ নিন।