Travel: ভ্রমণ তালিকায় ভিন্ন স্বাদের জগত, ঘুরে আসুন বৃষ্টিবহুল স্থান মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি

cherrapunji-travel-details

Online Desk: বিশ্বের আর্দ্রতম ও সবথেকে বেশি বৃষ্টিবহুল স্থান মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি। ভারতের উত্তর-পূর্বে ঘন জঙ্গলে ঘেরা এই অঞ্চলে (Travel) এসে ছুটি কাটাতে মন্দ লাগবে না আপনার। ছুটিতে চেরাপুঞ্জি ভ্রমণ, রইল বিস্তারিত তথ্য, শহরের কোলাহল থেকে দূরে শান্ত নিরিবিলি মেঘের দেশে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে মনকে সতেজটায় ভরিয়ে তুলুন।

কি দেখবেন?
শিলং থেকে চেরাপুঞ্জি আসার পথে ম্যাকডক ব্রিজের উপর থেকে দৃশ্য খুব সুন্দর। ম্যাকডক ব্রিজ পেরিয়ে রাস্তায় যেতে পাড়বে ডুয়ান্ সিং ফলস।মেন রাস্তা থেকে হেঁটে ১০ মিনিট গেলে পাহাড়ের গায়ে এই সুন্দর ঝর্নাটি দেখতে পাবেন।

cherrapunji-travel-details

চেরাপুঞ্জি থেকে ৪ কিমি আগে পড়বে ড্যানথ্লেন ঝর্না। বর্ষার সময় এই ফলসটি কাছ থেকে দেখার সুযোগ থাকে না জলের তোড়ের জন্য। কিন্তু বছরের অন্য সময় বিশেষত অক্টোবর মাসে খুব কাছ থেকে আপনি ঝর্নার প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে পাড়বেন।

ড্যানথ্লেন ফলস থেকে এগিয়ে গেলে পড়বে ওয়ে সাদং ফলস। স্বচ্ছ কাঁচের মতো জল ও ছোট্ট ঝর্নাটি একবার দেখে যেতে পারেন তবে রাস্তা একটু ঝুঁকিপূর্ণ সঙ্গে বয়স্ক কেউ থাকলে এই ফলস দেখার ঝুঁকি নেবেন সাবধানে।
এরপরে যান নোকালিখাই ফলস দেখতে, পৃথিবীর ৪ষ্ঠ উচ্চতম এই ঝর্নাটি খাসি পাহাড়ের উপর ১১৫০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত চেরাপুঞ্জির অন্যতম আকর্ষণ।

চেরাপুঞ্জির ইকো পার্ক ঘুরে দেখুন। মসমাই কেভ ও ফলস দেখতে ভুলবেন না। মসমাই কেভ ও ফলস দেখে এগিয়ে যান সেভেন সিসটার ফলস দেখতে। পর পর সাতটি ঝর্না পাহাড়ের গা বেয়ে নীচের দিকে পড়ছে। সবুজ পরিবেশে ঘেরা এই ফলস আপনাকে দেবে এক অভূতপূর্ব অনুভূতি।

টেরনা গ্রাম থেকে এগিয়ে ৭কিমি রাস্তা ট্রেক করে আপনাকে আসতে হবে ডাবাল ডেকার লিভিং রুট ব্রিজ। রবার গাছের ডাল একসঙ্গে জুড়ে ৩কিমি লম্বা ও ২৪০০ ফুট উঁচু এই ব্রিজটি তৈরি হয়েছে। এই ব্রিজের নীচে বয়ে গেছে উমসিয়াঙ নদী। ব্রিজে আসার আগে সঙ্গে জল ও শুকনো খাবার নিতে ভুলবেন না কারণ ট্রেকং এ সময় লাগবে প্রায় ৪ঘণ্টা। চেরাপুঞ্জির মাউলিনং গ্রাম দেখতে ভুলবেন না। ২০০৫সালে এই গ্রামটি এশিয়ার সবথেকে পরিচ্ছন্ন গ্রামের তকমা পেয়েছে।

কোথায় থাকবেন?
চেরাপুঞ্জিতে থাকার জন্য হোটেল ও লজ পাবেন সঙ্গে আছে খাবারে সুব্যবস্থা। এখানে ঘুরে আসতে আপনার মাথাপিছু খরচ হবে ৬০০০ টাকা।

কীভাবে যাবেন?
গুয়াহাটি থেকে শিলং হয়ে আপনি পৌছাতে পারবেন চেরাপুঞ্জিতে। চেরাপুঞ্জিতে এসে ট্যাক্সি ভাড়া করে সাইট সিয়িং করতে পারবেন।

শেষ পর্যন্ত কড়া বিধিনিষেধের কাছে হার মানল দিঘার পর্যটন শিল্প

Travel

করোনার তৃতীয় ঢেউকে হারাতে আগে থেকেই প্রস্তুতি চলছে সর্বত্র। দিঘা, মন্দারমনি সহ বেশ কিছু পর্যটনকেন্দ্রে কড়া বিধিনিষেধ জারি করেছে প্রশাসন। বিশেষ করে লকডাউন কিছুটা হালকা হতেই ভিড় উপচে পড়ছিল দিঘাতে। কার্যত সেই ভিড়কে সামলাতে পথে নামে কাঁথি প্রশাসন।

প্রশাসনের তরফ থেকে জানান হয়, এবার থেকে দিঘায় আসতে হলে পর্যটকদের করোনা টিকার দুটি ডোজের প্রমাণপত্র অথবা ৪৮ ঘণ্টা আগের করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট লাগবে। এরপর থেকেই কমছিল পর্যটকের সংখ্যা। তবে পরবর্তীতে হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের জন্য করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। তাতে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছিলেন পর্যটকরা।

তবে প্রশাসনের সক্রিয়তায় বেশ কিছু হোটেলে অসংগতি ধরা পরে। হোটেলের অতিথিদের সঠিক নথি দেখাতে না পারায়, বেশ কিছু হোটেলকে সিল করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই কমেছে পর্যটকদের সংখ্যা। তাই হোটেল মালিকরা সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা হোটেল বন্ধ করে দেবেন। দিঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সুশান্ত পাত্র জানান, ‘পর্যটক প্রায় নেই বললেই চলে। এই পরিস্থিতিতে হোটেল খুলে রেখে ভারী লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে। বিদ্যুতের বিল দিতে পারছি না, স্টাফদের ঠিক মতো মাইনে দিতে পারছি না। তাই হোটেল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে’। সব মিলিয়ে কিছুদিন আগের দিঘার ছবির সঙ্গে বর্তমানের দিঘার কোনও মিল নেই। এখনকার দিঘার ছবি আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে এখনও করোনাকে হারানো যায়নি।