শান্তির পথে মোস্ট ওয়ান্টেড পরেশ বড়ুয়া? ফাঁসির আসামীকে নিয়ে ঢাকা-দিল্লি টানাটানি

paresh baruah

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: অনেকগুলো ছদ্মনাম। কখনও কামারুজ্জামান, কখনও নুরুজ্জামান, এই সব নামেই একসময় বাংলাদেশে থেকে বারবার নাশকতার ছক করা শীর্ষ ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি নেতা পরেশ বড়ুয়া শান্তি আলোচনায় আগ্রহী!

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার এমন ইঙ্গিতের পরেই গুয়াহাটি থেকে নয়াদিল্লি হয়ে বাংলাদেশ, চিন, থাইল্যান্ড, ফিলিপিন্স এমনকি মায়ানমারের সামরিক সরকারও হতচকিত। ঢাকা, বেজিং, ব্যাংকক, ম্যানিলা, নেপিদ (ইয়াঙ্গন) সর্বত্র আলোচনা বড়ুয়ার অবস্থান কী হতে পারে।

ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা তীব্র শোরগোল। সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আলফা (স্বাধীনতা) কি অস্ত্র নামিয়ে নেবে? এমনই প্রশ্ন উঠেছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিত, বড়ুয়া সদর্থক বার্তা দিয়েছেন। কারণ, একের পর এক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সদস্যরা আত্মসমর্পণ করছে। ডিমাসাল্যান্ডের দাবিদার ডিএনএলএ, বোড়োল্যান্ডের দাবিদার এনডিএফবি(সংবিজিত) গোষ্ঠীর সদস্যদের ভূমিকায় আলফা (স্বাধীনতা) ক্যাডারদের মনে প্রভাব ফেলছে। পরেশ বড়ুয়া এটা ভালোই বুঝতে পারছেন।

paresh baruah

দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা পরেশ বড়ুয়া স্বশাসিত অসমের দাবিতে আতঙ্ক জাগানো এক নাম। অসমে রক্তাক্ত বিচ্ছিন্নতাবাদ জোরদার করতে নব্বই দশকে পরেশ বড়ুয়া ভারত থেকে বাংলাদেশের আলফার গোপন ডেরায় চলে যায়। ভারত বিরোধী আন্তর্জাতিক আগ্নেয়াস্ত্র পাচারের ষড়যন্ত্রী বড়ুয়া বাংলাদেশের কাছে ফাঁসির আসামী।

আলফা (স্বাধীনতা) প্রধান যদি ভারতে আত্মসমর্পণ করতে চায় সেক্ষেত্রে ঢাকা-নয়াদিল্লি কূটনৈতিক অবস্থান কী হতে পারে। উঠছে এমন প্রশ্ন। এর আগে পরেশ বড়ুয়ার সহযোগী আলফা নেতা অনুপ চেতিয়া সহ কয়েকজন আলফা জঙ্গি নেতাকে ভারতে পুশ ব্যাক (ঠেলে পাঠানো) করেছে বাংলাদেশ সরকার।

কেন টানাপোড়েন সম্ভাবনা?
পরেশ বড়ুয়া ভারত সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিলে বাংলাদেশের তরফে ভারতের উপর চাপ তৈরি করা হবে। বড়ুয়াকে ভারত থেকে এনে সাজা কার্যকরের দাবি ঢাকার তরফে আসবেই  বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। 

অসম সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলননের অন্যতম নেতা পরেশ বড়ুয়ার এখন মূল গতিবিধি চিন, মায়ানমারে। গোয়েন্দা বিভাগের তথ্য, মূলত চিনেই অবস্থান করে এই বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, চিনের তরফে সাড়া না এলে সে দেশে আশ্রিত বড়ুয়ার পক্ষে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।

বাংলাদেশে পরেশ বড়ুয়া
ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহে কামারুজ্জামান, নুরুজ্জামান নামে পরেশ বড়ুয়া সহ অন্যান্য আলফা নেতৃত্ব  ঘাঁটি গেড়েছিল। চট্টগ্রামের ‘দশ ট্রাক অস্ত্র’ মামলায় পরেশ বড়ুয়া বাংলাদেশ সরকারের কাছে ফাঁসির আসামী। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সময় বাংলাদেশে চলছিল বিএনপি-জামাত ইসলামি জোট সরকার। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া।

দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা
খালেদা জিয়ার সরকারের অভ্যন্তরে সুকৌশলে সংযোগ স্থাপন করেছিল বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আলফা। পরিকল্পনা মাফিক চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিপুল পরিমান আগ্নেয়াস্ত্র চোরাচালানের সবুজ সংকেত আসে। ২০০৪  সালের ১লা এপ্রিল চালান হস্তান্তর হওয়ার আগেই পর্দা ফাঁস হয়। বন্দরের নিরাপত্তারক্ষীরা আটক করেন বহু পেটি। আগ্নেয়াস্ত্র বোঝাই সেই পেটিগুলি নিয়ে যেতে দশটি ট্রাক লেগেছিল। এই কারনে নাম দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা। বিপুল পরিমাণ সেই চোরাই আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুতফুজ্জামান বাবর। তবে কাউকেই ধরা যায়নি। প্রশ্ন উঠতে থাকে সরকারের ভূমিকা নিয়েই।

দুই প্রাক্তন মন্ত্রীর ফাঁসির সাজা
বিএনপি সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই দশ ট্রাক অস্ত্র মামলার তদন্তে নাটকীয় মোড় নেয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুতফুজ্জামান বাবর অন্যতম ষড়যন্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত হয়। খালেদা জিয়া সরকারের ততকালীন শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামীর নাম জড়ায়। পরে মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যা চালানোর মামলায় জামাত ইসলামির শীর্ষ নেতা নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করেছে বাংলাদেশ সরকার। আর বাবর ফাঁসির আসামী হয়ে বন্দি। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে নাশকতার মামলা চলছে।

এই মামলায় বাংলাদেশের ৫ প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা ফাঁসির আসামী। তদন্তে উঠে এসেছে সরকারের অভ্যন্তর থেকে সেনাবাহিনীর ভিতরে চক্রান্তের জাল ছড়িয়েছিল আলফা। পলাতক পরেশ বড়ুয়া ওরফে কামারুজ্জামান ওরফে নুরুজ্জামানও ফাঁসির আসামী।

বাংলাদেশ ত্যাগ করার পর উত্তর মায়ানমার ও চিনের সংলগ্ন এলাকায় পরেশ বড়ুয়ার অবস্থান বারবার তথ্য প্রমাণ সহ গোয়েন্দা বিভাগ প্রকাশ করেছে। চিন ও মায়ানমার সরকার নীরব।

অসম সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলে নাশকতা-বিস্ফোরণ, গণহত্যার বিভিন্ন মামলায় জড়িত পরেশ বডুয়ার নাম। আলফা এখন দ্বিখন্ডিত। সশস্ত্র পথের অনুসারী গোষ্ঠী আলফা (স্বাধীনতা)। এর সর্বোচ্চ নেতা পরেশ বড়ুয়া।

Bangladesh: অরণ্য সুন্দরী সাতছড়ি যেন জঙ্গিদের অস্ত্র খনি, পা ফেললেই ভারত সীমান্ত

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: বারবার আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার। প্রতিবারই বিপুল পরিমান। অস্ত্র ভাণ্ডার দেখলেই স্পষ্ট হয় সরাসরি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের জন্য এসব ব্যবহার করা হতো।বাংলাদেশের সাতছড়ি জাতীয় অরণ্য যেমন প্রকৃতির বিপুল বিস্ময় তেমনই এই এলাকা যেন অস্ত্র খনি!

সোমবার এই অরণ্য থেকে ১৫টি মর্টার শেল, ২৫টি বুস্টার ও ৫১০ রাউন্ড অটো মেশিনগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে বারে বারে এমন আগ্নেয়াস্ত্র ভাণ্ডার উদ্ধার হচ্ছে। প্রতিবারই অস্ত্র সম্ভার দেখে চমকে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

সাতছড়ি অরণ্যের অন্দরে
গভীর এই সাতছড়ি সীমান্ত জঙ্গলের এমনও অনেক এলাকা আছে যেখানে আন্তর্জাতিক সীমারেখা অদৃশ্য। কোনদিকে ভারত কোনদিকে বাংলাদেশ তা নির্নয় করা কঠিন। ভারতের দিকে ত্রিপুরা আর বাংলাদেশের দিকে পড়েছে সিলেট। সাতছড়ি অরণ্যের মূলনিবাসী উপজাতি জনগোষ্ঠী ত্রিপুরা জাতির অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় ত্রিপুরা পল্লীর নামকরণ থেকেই স্পষ্ট।

বিরলতম প্রাণী ও উদ্ভিদ গবেষকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাটের সাতছড়ি অরণ্যাঞ্চল। পর্যটকরা আসেন অনবরত। তবে নির্দিষ্ট কিছু এলাকার বাইরে বৃহত্তর বনাঞ্চলে যাতায়াতে দুর্গমতার কারণে এখানেই সীমান্ত পারাপার হয় অতি সহজে। টিলা-জঙ্গল, নদী ঘেরা অদ্ভুত নীরবতা আর আলো আঁধারিময় সাতছড়িতে ছড়িয়ে আছে ভারত বিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৈরি করা বহু বাংকার। মাটির তলায় পোঁতা আছে আগ্নেয়াস্ত্র।

চুপ যা টাইগার আসতাসে, বাঘের থাবা খাবা!

টাইগার?

এই নামটি পরিচিত সমগ্র পার্বত্য ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের সাতছড়ি অরণ্যাঞ্চলে। বেশি কিছু কেউ বলবে না এখনও। ‘বাঘের থাবা’ খেতে কেউ চায় না।

সেই টাইগার কে?

অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্স (ATTF) একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন। মূলত ত্রিপুরার হিন্দু আদিবাসী উপজাতি জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাদের সংগঠন ছড়িয়ে ছিল। দলনেতা রণজিত দেববর্মা পরে আত্মসমর্পণ করে। ত্রিপুরায় বিগত বামফ্রন্ট সরকারের আমলে তৎকালীন মু়খ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের শাসনে টাইগার হয়ে যায় ঘুমন্ত বাঘ। তবে আতঙ্কটা রয়ে গিয়েছে- চুপ যা টাইগার আসতাসে, বাঘের থাবা খাবা!

টাইগারের প্রতিদ্বন্দ্বী ন্যাশনাল লিবারেশন!

পার্বত্য ত্রিপুরার উপজাতি খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে প্রভাবশালী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অফ ত্রিপুরা (NLFT)। সংগঠনটি ফের সক্রিয়। সম্প্রতি তাদের সাংগঠনিক কাঠামোর বড়সড় রদবদল করা হয়। একশ শতাংশ খ্রিষ্টানধর্মাবলম্বী নিয়ে পরিচালিত এনএলএফটি বাংলাদেশের জমিতে ফের ঘাঁটিগুলি পরিচালিত করছে। পুরনো নেতা বিশ্বমোহন দেববর্মার নীতি থেকে সরেছে এই সংগঠন।

তাৎপর্যপূর্ণ, সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ আবার পারস্পরিক সংঘর্ষ এই নিয়েই ত্রিপুরার পার্বত্য এলাকা ও বাংলাদেশ সংলগ্ন অঞ্চলে এলাকা ভিত্তিক সমান্তরাল সরকার কায়েম করেছিল দুটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন। এটিটিএফ ও এনএলএফটি এই দুই সংগঠনের নিরাপদ ঘাঁটি বাংলাদেশের জমিতে।

প্রতিবেশি দেশে জামাত ইসলামি ও বিএনপি জোট সরকারের আমলে ভারত বিরোধী তৎপরতা বেড়েছিল। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বাংলাদেশ থেকে বৃহত্তর বেআইনি অস্ত্র চালান ষড়যন্ত্র (দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা) বানচাল হয়। অসমের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আলফা (এখন আলফা-স্বাধীনতা) প্রধান পরেশ বড়ুয়ার জন্য যাচ্ছিল সেই আগ্নেয়াস্ত্র। চাঞ্চল্যকর সেই ঘটনার পর থেকে সতর্কতা অবলম্বন করে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলো।

বস্তুতপক্ষে ৮০-৯০ দশক থেকে ২০০০ সাল শুরুর কিছু পর পর্যন্ত ত্রিপুরা ছিল উপজাতি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিচরণভূমি। ঠিক সেই সময়েই সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে ছিল নিরাপদ ঘাঁটি। ত্রিপুরায় সন্ত্রাসবাদ বা উপজাতি বিচ্ছিন্নতাবাদ ঘুমিয়ে পড়েছিল গত বিগত বামফ্রন্ট সরকারের আমলে। কড়া বাস্তব, বাম সরকার পতনের পর বিজেপি জোট সরকারের আমলে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সক্রিয়।

বাংলাদেশের মাটিতে যে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সক্রিয় তার দাবি করেছিলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। তিনি এখন বিরোধী নেতা। সম্প্রতি তিনি এনএলএফটির হামলায় দুই বিএসএফ জওয়ানের মৃতুর পর একই দাবি করেন। ত্রিপুরার বিজেপি সরকারও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানায়।

ত্রিপুরায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে সক্রিয় হতে থাকা বিচ্ছিন্নতাবাদীরা কি ফের পুরনো অবস্থান ফিরছে? এই প্রশ্ন বারবার উঠছে। রাজ্যটির তিনদিকে একেবারে গা ঘেঁষে থাকা বাংলাদেশ। সিলেটের সাতছড়ি অরণ্যে বারবার অস্ত্র উদ্ধার প্রমাণ করছে মানিকবাবুর দাবি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর এমন দাবিতে ঢাকা ও নয়াদিল্লি নড়ে চড়ে বসেছিল।

<

p style=”text-align: justify;”>বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। সেই নীতি নিয়েই সাতছড়ির মতো সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বারবার অভিযান চলছে।

Assam: জঙ্গি নেতা পরেশ বড়ুয়াকে আলোচনার টেবিলে আনতে দিল্লি দৌড়লেন মুখ্যমন্ত্রী

CM To Hold Talks With Ulfa (I) Chief

News Desk: মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আলফা (স্বাধীনতা) প্রধান পরেশ বড়ুয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালাতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর দ্বারস্থ হলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। দিল্লিতে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

তিনদিনের দিল্লি সফরে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনটি। তবে তাদের তরফে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। অসম স্বরাষ্ট্র দফতর সূত্রে খবর, রাজ্য সরকার আশা করছে আলোচনায় আলফা (স্বাধীনতা) গোষ্ঠীর সুপ্রিম কমান্ডার পরেশ বড়ুয়ার উপস্থিতি থাকবেন।

দীর্ঘদিন ধরেই আত্মগোপনে অসমের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা পরেশ বড়ুয়া। তার বিরুদ্ধে একাধিক নাশকতা, গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। আলফা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় বারবার রক্তাক্ত হয়েছে অসম। বিভিন্ন সময়ে আলফার কয়েকজম শীর্ষ নেতা আত্মসমর্পণ করে আলোচনাপন্থী হয়েছেন। তারাও জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুকূল তৈরি হলে পরেশ বড়ুয়া আলোচনায় আসতে পারেন সরাসরি।

স্বাধীনতা দিবসের দিন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা সরাসরি পরেশ বড়ুয়াকে আলোচনার জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অসমবাসীর তরফে আপনাকে আলোচনায় বসতে অনুরোধ করছি। তবে মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বানে উত্তর পূর্ব ভারতের অন্যতম সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনটির নেতৃত্ব কী পথ নিয়েছে তা স্পষ্ট নয়।

দিল্লিতে গিয়ে বড়ুয়ার সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে সবুজ সংকেত পেতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সফরে উত্তর পূর্বের অপর আগ্রাসী নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এনএসসিএন এনএসসিএন (খাপলাং) এর সঙ্গে শান্তি আলোচনার সূত্র খুঁজবেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা।

Assam: বাঙালি বিদ্বেষী মনোভাব বাড়ছে অসমে, আলফা জঙ্গি প্রধানের ঠান্ডা হুমকি

Why an assault on former ULFA militants has fuelled fresh anti-Bengali rhetoric in Assam

নিউজ ডেস্ক: অহমিয়া-বাঙালি জাতি বিদ্বেষ দ্রুত ছড়াচ্ছে অসমে (Assam)। বাঙালি অধ্যুষিত বরাক উপত্যকাকে অসম থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রস্তাব দিয়েছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তথা প্রাক্তন সাংসদ নগেন শইকিয়া। তাঁর মন্তব্য ধরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দিল সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আলফা (স্বাধীনতা) (ULFA-I)

আলফা (স্বাধীনতা) সুপ্রিমো পরেশ বড়ুয়া সংবাদমাধ্যম পাঠানো বিবৃতিতে জানান ,ডক্টর ডক্টর শইকিয়ার মতো একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি বরাক উপত্যকা নিয়ে সস্তা মন্তব্য করা ঠিক হয়নি। তাঁর কাছে এমনটা আশা করতে পারিনি। এ ধরণের অদ্ভুত মন্তব্য তুলে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

মোস্ট ওয়ান্টেড বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা পরেশ বড়ুয়া বলেন, বরাক উপত্যকা অহমিয়া চলবেই। সেখানে বাংলা সহযোগী ভাষা৷ কাছাড়কে আমরা বাংলাভাষীর হতে তুলে দিতে পারিনা। সেখানে মণিপুরীরা রাজত্ব করবেন।

আলফা (স্বাধীনতা) প্রধান জানান, ডক্টর শইকিয়া বলেছেন, মায়ের মাথা ব্যাথা যদি হয় ,তাহলে সুযোগ্য সন্তান হিসেবে গলা কেটে দেওয়া উচিৎ। যেটা আমরা কোনও ভাবেই মেনে নিতে পারিনা। একজন বিদ্যান ব্যক্তি হিসেবে এ ধরণের কথা বলাটা যে ঠিক হয়নি, সেটা একজন অশিক্ষিত মানুষও বলবে। তাঁর এই মতামতের আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি।

আলফা প্রধানের ঠান্ডা হুমকির পরেই অসমের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়। তবে ডক্টর শইকিয়া জানান, আমার বক্তব্যকে বিকৃত আকারে তুলে ধরা হয়েছে। নিজের অবস্থানে তিনি অটল বলে ফের জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অসমের ভাষা সংস্কৃতিকে বরাকের একাংশ মানুষ অপমান করার ঘটনা আর নতুন হয়ে থাকেনি। দীর্ঘকাল ধরেই চলে আসছে। এমনকি অসম বিশ্ববিদ্যালয়ে অসমের কোনও সাহিত্যিক ,শিল্পীর ছবি নেই।

ডক্টর শইকিয়ার মন্তব্য নিয়ে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় রাজনৈতিক হাওয়া গরম হয়েছে। সারা অসম ছাত্র সংস্থা (AASU) প্রতিবাদে সামরিক। আসুর উপদেষ্টা ডক্টর সমুজ্জল কুমার ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, অসমের অখণ্ডতা যেকোনো ভাবেই রক্ষা থাকুক। এর বিভক্ত হোক সেটা আমার চাই না। যে কোনও পরিবেশে অসমের বিভাজনের পক্ষে আমরা নেই বলে সাফ জানিয়েছেন তিনি।

অসম জাতীয়তাবাদী যুব ছাত্র পরিষদের নেতা পলাশ সাংমা বলেন, রাজ্যে অখণ্ডতা বজায় থাকাটাই আমাদের কাম্য। অসমের জাতি গঠন প্রক্রিয়ায় বঙ্গভাষী অসমীয়াদের অংশীদার হওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। অসম থেকে আরও একটি পৃথক রাজ্য সৃষ্টি হওয়াটা আমরা চাই না।

বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ডক্টর নগেন শইকিয়া ক্ষোভ ও আবেগের বশবর্তী হয়েই বির্তকিত মন্তব্য করছেন বলে জানান অসম সাহিত্য সভার সভাপতি কুলধর শইকিয়া। তিনি বলেন ,অসমের ভাষা ও সাহিত্য এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্যের প্রতিজন মানুষের অবদান রয়েছে।

সোনাইয়ের বিধায়ক করিমুদ্দিন বড়ভূঁঞা নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন ,বরাকের মানুষ কোনওদিনই অসম থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চায় না।