শক্তিক্ষয়: ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে আমেরিকা

US combat forces

নিউজ ডেস্ক: সুপার পাওয়ারে থাকা আমেরিকা কি শক্তি হারাচ্ছে? জো বাইডেন সরকারের একের পর এক পদক্ষেপে সেটাই ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে৷ আফগানিস্তানের পর এবার ইরাক থেকেও মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করছে বাইডেন সরকার৷

সরকারি সূত্রের খবর, আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে আমেরিকা। দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত আলোচনার ভিত্তিতে এই তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরাক সেনাবাহিনীর জয়েন্ট অপারেশন্স কমান্ডের মুখপাত্র তাহসিন আল খাফাজি।

US combat forces

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তাহসিন আল খাফাজি শুক্রবার সংবাদমাধ্যমকে আরও জানান, দুই দেশের মধ্যে অর্জিত সমঝোতার ভিত্তিতে ইতিমধ্যে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা ইরাক ছাড়তে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, আইন আল আসাদ ঘাঁটির একাংশ এবং আল হারির ঘাঁটি ছাড়া আর কোথাও মার্কিন সেনা নেই। আর এই আইন আল আসাদ ঘাঁটিটির কমান্ডিংয়ের দায়িত্বও এখন ইরাকি সেনাবাহিনীর হাতে। এছাড়া আল হারির ঘাঁটির একটা বড় অংশই নিয়ন্ত্রণ করছে কুর্দিস্তানের পিশমার্গা বাহিনী।

২০০৩ সাল থেকে ইরাকে দখল নিতে মার্কিন সেনারা হানা দেয়৷ তবে ইরাকের জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলি মার্কিন সেনা উপস্থিতির বিরোধী। এর আগে ইরাকের সংসদও মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাব পাস করেছে।

অ-মঙ্গল: গান্ধার দেশে মঙ্গলেই তালিবান আস্ফালন শুরু

Biden to Withdraw Combat Troops From Afghanistan

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: কুড়ি বছরের মারাত্মক অভিযান শেষ হয়ে যাচ্ছে। আজ ৩১ আগস্ট, ২০২১ আমেরিকার (US) সেনা পুরোপুরি সরে যাবে আফগানিস্তান (Afghanistan) থেকে।

আমেরিকা সরকার তালিবানের (Taliban) সঙ্গে যে শান্তি বৈঠক করেছিল তার ফল হিসেবে জঙ্গিরা এখন দ্বিতীয়বারের জন্য আফগানভূমির ক্ষমতায়। আজই আমেরিকান সেনা তাদের সর্ববৃহৎ বিদেশে সামরিক কর্মসূচি তুলে নিচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার, আজ মাথা কাটার তালিবানি আস্ফালনের দিন
ঠিক পনের দিন আগে, গত ১৫ আগস্ট ভারতের ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবসের দিন দ্বিতীয়বার তালিবান জঙ্গি কব্জায় ঢুকেছিল আফগান রাজধানী কাবুল। সেইদিনই বিশ্ববিখ্যাত সাংবাদিক সম্মেলনে তালিবান জঙ্গিদের ঝাঁ চকচকে কর্পোরেট আদল দেখাতে মরিয়া চেষ্টা করে সংগঠনটির মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। আন্তর্জাতিক সংবাদদাতাদের সামনে তার দাবি ছিল, এই তালিবান তাদের পূর্বসূরিদের তুলনায় নরম মনোভাব দেখাবে।

আরও পড়ুন: ২০ বছরের যুদ্ধ শেষে আফগানিস্তানে পরাজিত আমেরিকা

তালিবান তার চরিত্র বদলাবে না এটা আফগানবাসীর পালানো দেখেই স্পষ্ট। ঘরপোড়া গোরু যেমন সিঁদূরে মেঘ দেখলে ডরায় তেমনই ভুক্তভোগী আফগানিরা ভীত। তাঁরা প্লেনের চাকা ধরে পালাতে গিয়ে মরেছেন। কিন্তু পালাতে চাইছেন দেশ থেকে। কারণ সরকার গড়বে তালিবান। যে তালিবানের ভয়ঙ্কর মাথা কাটার রূপ গত ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে দেখা গিয়েছিল।

প্রথম তালিবান সরকার তৈরি হয় আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের লাল ফৌজ সরে যাওয়ার পর নির্বাচিত সরকারের প্রেসিডেন্ট ড নাজিবুল্লাহকে খুন করে। সম্পূর্ণ আমেরিকান মদতে তালিবান দখল করেছিল আফগানিস্তানের কুর্সি। তারপরেই তাদের বন্ধু জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদার বাড়বাড়ন্ত। ২০০১ সালে আল কায়েদার হামলায় আমেরিকা সর্বাধিক নাশকতার কবলে পড়ে। ভয়াবহ ৯/১১ হামলার পরেই আফগানিস্তানে প্রবেশ করেছিল আমেরিকান সেনা।

আরও পড়ুন : মার্কিন-আফগানিস্তান যুদ্ধে মৃত্যু এবং খরচ হল কত?

২০০১-২০২১ এই কুড়ি বছরে আমেরিকা তাদের সর্ববৃহৎ সামরিক অভিযান সংঘটিত করেছে আফগানিস্তানে। এই অভিযান শেষের চূড়ান্ত মুহূর্ত কাতারের রাজধানী দোহা শহরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তালিবান উপপ্রধা মোল্লা আবদুল বারাদারের মধ্যে শান্তি আলোচনায় তৈরি হয়। আফগানিস্তানের পুতুল সরকারের পক্ষে কিছুই করার ছিলনা। একপ্রকার পতন বুঝেই যায় আফগান সরকার।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতো আমেরিকা সেনা সরাতে শুরু করে। বিভিন্ন প্রদেশের দখল নেয় তালিবান। ন্যুনতম প্রতিরোধ করে আফগান সেনা পালাতে থাকে। অবশেষে গত ১৫ আগস্ট কাবুলে আফগান সরকারের পতন হয়। প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি দেশত্যাগ করেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে তালিবান এখনও আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেয়নি। ৩১ আগস্ট আমেরিকার সেনা পুরো সরে গেলে কী হবে তা তালিবান ও আফগান জনতা জানে।

ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানে ফিরেছে আল কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের দেহরক্ষী আমিন উল হক। লাদেন মৃত। আফগান সীমান্তের কাছে রুশ সামরিক মহড়া চলছে।রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক হয়েছে।

সবই ৩১ আগস্টের পরের পরিস্থিতি বিচার করে পদক্ষেপ নেওয়ার পালা। আজকেই তালিবান আফগানভূমিতে ফের মুক্ত। তাদের আস্ফালন শুনছে বিশ্ব। ঘর ফেরত আমেরিকান সেনারা জানেন তারা কী পরিস্থিতি পিছনে ফেলে যাচ্ছেন। অসহায় আফগানিরা মাথা কাটার ভয়ে দিন শুরু করবেন আজ থেকে।

আফগানিস্তানের মহিলাদের রোবোটিক্স টিমকে উদ্ধার করল মার্কিন মহিলা

Afghan Girls Robotic Team

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান জুড়ে ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে তালিবানদের আক্রমণ এবং তার সঙ্গে আতঙ্ক। আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আগ্রাসন দেশজুড়ে ঊর্ধ্বমুখী। তালিবানদের কাবুল দখল নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা হচ্ছে। আফগানিস্তানে মহিলাদের অবস্থা নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করেছেন অনেকে। এর মধ্যেই আফগানিস্তানের মহিলা রোবোটিক্স টিমকে উদ্ধার করল এক মার্কিন মহিলা। ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী দশজন ছাত্রীর রোবটিক টিমকে উদ্ধার করেন অ্যালিসন রেন্যু নামের এক মার্কিন মহিলা। ২০১৯ সালেও মহিলা রোবোটিক্স টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন রেন্যু। তাঁর সাহসিকতার জন্য মার্কিন মহলে তাঁকে ‘সুপারউম্যান’ বলে ডাকা হয়।

Afghan Girls Robotic Team

তালিবান এবং আফগানিস্তানের নারীশিক্ষা
তালিবানরা কোনও এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সেখানে শিক্ষার পরিবেশ কেমন হয়, তার একটি সরেজমিন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল দ্য ডিপ্লোম্যাট। ওই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ২০১৬ সালে কুন্দুজ প্রদেশের কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় তালিবানেরা। এরপর সেসব এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে খেলাধুলা, সমাজবিজ্ঞান ও ইংরেজি ছেঁটে ফেলে তারা। সেই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৯৯০–এর দশকে ক্ষমতায় আসার পর ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা কারিকুলাম বাতিল করে তালিবানেরা। সেই সময় মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল তারা। আর এখন যেসব এলাকা তালিবানদের নিয়ন্ত্রণে, সেখানে মেয়েদের এখনও স্কুলে যেতে দেওয়া হয় না। অর্থাৎ নারীশিক্ষার বিষয়ে তালিবানদের মনোভাবের পরিবর্তন হয়নি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, অ্যালিসন রেন্যু কাতার চলে যান। সেখানকার মার্কিন দূতাবাসের এক বন্ধু তাকে সাহায্য করেছিল। দুজন মিলে আফগান রোবোটিক্স টিমকে উদ্ধার করেন। ১৯ আগস্ট, অ্যালিসন তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন যে আফগান মেয়েদের মধ্যে ১০ জনকে সরিয়ে আফগানিস্তানের বাইরে একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

কে এই অ্যালিসন রেন্যু কে?
তাঁর ইনস্টাগ্রাম বায়ো অনুসারে, রেন্যু একজন হার্ভার্ড স্নাতক। তাছাড়াও তিনি একজন আন্তর্জাতিক বক্তা, পাইলট, জিমন্যাস্টিকস কোচ, রানার, অশ্বারোহী এবং হিউম্যান অ্যাক্টিভিস্ট।

কাবুল বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী

নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য সহযোগী দেশের কূটনৈতিক এবং কর্মীদের সরিয়ে নিতে কাবুল বিমানবন্দরের পুরো নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে আমেরিকান সৈন্যরা। তারা এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাও নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেছে।

তালিবানরা কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর হাজারে হাজারে মানুষ রাজধানী থেকে থেকে পালাতে চাইছে৷ তাদের দূরে সরিয়ে রাখতে বিমানবন্দরের রানওয়েতে কাঁটাতারের বেড়াও দিয়েছে মার্কিন সৈন্যরা। বাণিজ্যিক বিমান চলাচল বেশিরভাগ স্থগিত হয়ে রয়েছে। ফলে হাজার হাজার সাধারণ আফগান এবং বিদেশি নাগরিক বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন।

অন্যদিকে দেশ ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি৷ তালিবানরা কাবুল দখলের বেশ কয়েক ঘণ্টা বাদে রীতিমতো ফেসবুকে পোস্ট করে বিশ্ববাসীকে জানিয়েছেন, তালিবান কাবুল নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগেই রবিবার আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি৷

রবিবার রাতে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, তিনি একটি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছিলেন৷ তিনি কি সশস্ত্র তালিবানের মুখোমুখি হবেন? নাকি যে দেশের জন্য ২০টি বছর দিয়েছেন, সেই দেশ ছেড়ে যাবেন। তিনি লিখেছেন, ‘’আমাকে সরিয়ে দিতে তালিবানরা পুরো কাবুল ও বাসিন্দাদের ওপর হামলা করতে এসেছে। রক্তপাত এড়াতে দেশ ছেড়ে যাওয়া ভালো হবে বলে আমি মনে করেছি,’’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘’তরবারি আর বন্দুকের ওপর নির্ভর করে তারা বিজয়ী হয়েছে। এখন আমাদের দেশবাসীর সম্মান, সম্পদ আর আত্মমর্যাদা রক্ষার দায়িত্বও তাদের,’’ তবে আশরাফ গনি তাজিকিস্তান নাকি উজবেকিস্তান গিয়েছেন, তা এখনও পরিষ্কার নয়।

মার্কিন পরমাণু বোমা হামলার বার্ষিকী পালন করল হিরোসিমা

Hiroshima marks 76th anniversary of US atomic bombing

নিউজ ডেস্ক: আজ শুক্রবার ৬ অগস্ট। মানব সভ্যতার ইতিহাসে এই দিনেই আমেরিকা প্রথম পারমাণবিক বোমার হামলা করেছিল৷ এই ঘটনা জাপানের এক লক্ষ ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এ ঘটনাকে পর্যবেক্ষকরা বিশ্বের জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায় বলে উল্লেখ করে থাকেন। সেই কলঙ্কিত দিনে শুক্রবার জাপানের হিরোসিমা শহরের মানুষ মার্কিন অ্যাটম বোমা হামলার ৭৬তম বার্ষিকী পালন করেছেন।

Hiroshima marks 76th anniversary of US atomic bombing

হিরোশিমা দিবস উপলক্ষে শহরটির মেয়র পরমাণু অস্ত্র ধ্বংস করার প্রচেষ্টায় বিশ্ব নেতাদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। মেয়র কাক্সুমি মাতসুই এদিন বলেন, “যুদ্ধে জয়লাভের জন্য পরমাণু অস্ত্র তৈরির ঘটনা মানব সভ্যতাকে সম্পূর্ণ বিনাশের একটি হুমকি৷ তবে যদি সব দেশ একসঙ্গে কাজ করে তাহলে আমরা অবশ্যম্ভাবীভাবে এই হুমকির অবসান ঘটাতে পারি।” নির্বিচারে গণহত্যা চালানোর জন্য এই জঘন্য অস্ত্র হাতে রেখে কোনও টেকসই সমাজ সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Hiroshima marks 76th anniversary of US atomic bombing

মেয়র মাতসুই জোর দিয়ে বলেন, আমেরিকা যে গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল, তার তথ্য ও দলিল-দস্তাবেজ সংরক্ষণের প্রচেষ্টা থেকে কখনও হিরোশিমা সরে যাবে না, পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী শান্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রাখবে।

১৯৪৫ সালের ৬ অগস্ট সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের সময় মার্কিন সামরিক বাহিনী হিরোশিমা শহরের ওপর ‘লিটল বয়’ নামে একটি অ্যাটম বোমাবর্ষণ করে। মুহূর্তের মধ্যে শহরটি মাটির সঙ্গে মিশে যায় এবং সেখানে এক লক্ষ ৪০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়৷ এরপর ৯ অগস্ট জাপানের নাগাসাকি শহরে অ্যাটম ফের বোমা হামলা চালায় আমেরিকা৷ এই ঘটনায় নিহত হন ওই শহরের ৭০ হাজার মানুষ৷