USA: নিউইয়র্কে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে কাঠ শিশুরা

Fire Therapy

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (USA) নিউইয়র্কে একটি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ৯ শিশুসহ ১৯ জন মৃত। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় আরও ৩২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন উদ্ধার কর্মীরা।

নিউইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডাম বলেছেন, মহানগরীটির গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এটি।

রবিবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টার দিকে ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় প্রথম আগুন লাগে। এর পর ১৯তলা অ্যাপার্টম্যান্ট ভবনটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে অগ্নিদগ্ধ ও ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ফক্স নিউজ ও বিবিসি জানাচ্ছে এই খবর।

আগুন ধরে যাওয়ার খবর পেয়ে দুই শতাধিক দমকল কর্মী আগুন নেভানোর কাজে ঝাপিয়ে পড়েন। প্রথমিকভাবে ধারণা করা হয়, বৈদ্যুতিক হিটার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

US: মার্কিন মুলুকের বিরাট বাড়িতে আগুন, শিশুরা পুড়ে মৃত

hong-kong-world-trade-fire

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি তিনতলা ভবনে আগুন লেগে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ১২ জনের মধ্যে ৮ জনই শিশু। পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের পূর্বাঞ্চলীয় ফিলাডেলফিয়া শহরে মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে।

বিবিসি জানাচ্ছে, তিন তলা ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ওই ভবন থেকে ৮ জন বের হতে পারলেও বাকিরা আটকে পড়েন। ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে বেশিরভাগের মৃত্যু হয়। তবে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে

এই ঘটনাকে ফিলাডেলফিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বিপর্যয়কর দিনগুলোর একটি বলে উল্লেখ্য করেছেন শহরের মেয়র জিম কেনি। তিনি বলেন, এভাবে  মানুষের মৃত্যু অনেক কষ্টের। একসঙ্গে এত শিশুর মৃত্যুও বেদনার।

Abhijit Roy: মুক্তমনা অভিজিৎ খুনের চক্রী মেজর জিয়ার খবর আছে? মিলবে কোটি কোটি টাকা

Abhijit roy murder case us reward

News Desk: বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক যুক্তিবাদী লেখক অভিজিৎ রায়কে (Abhijit Roy) ঢাকায় খুন করা হয় ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। প্রকাশ্যে ভিড়ের মাঝে কুপিয়ে খুন করা হয়েছিল তাঁকে। কোপানো হয়েছিল অভিজিতের স্ত্রী রফিদা আহমেদ বন্যাকেও। ভয়াবহ সেই খুনের চক্রী জঙ্গি নেতা মেজর জিয়ার কোনও নির্ভরযোগ্য সংবাদ দিতে পারলেই মিলবে ৫৫ লক্ষ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মূল্যে এর পরিমান (২০.১২.২১) ৪১ কোটি ৬৯ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা।

এমনই বিপুল পরিমান আর্থিক পুরস্কারের কথা ঘোষণা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ মন্ত্রক। বিবিসি জানাচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ দফতরের রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস কর্মসূচির টুইট বার্তায় দুই বাংলাদেশি জঙ্গি নেতা মেজর জিয়া ওরফে জিয়াউল হক ও আকরাম হোসেনের ব্যাপারে কোন তথ্য জানা থাকলে তা টেক্সট করে পাঠাতে। এর জন্য একটি ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে।

জঙ্গি নেতা মেজর জিয়া সম্পর্কে কিছু জানলে যে কেউ +1-202-702-7843 নম্বরে মেসেজ পাঠাতে পারেন। যিনি তথ্য দেবেন তার বিষয়ে সবকিছু গোপন রাখবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার।এই পর্যন্ত বিভিন্ন জঙ্গি নেতা ও সম্পর্কিত তথ্য দিয়ে ১০০ জনের বেশিকে মোট ১৫ কোটি ডলারেরও অধিক অর্থ পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

আনসার আল ইসলাম/ আনসারুল্লাহ বাংলা টিম বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলাম বা পূর্বতন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) এর কমান্ডার মেজর জিয়া। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া সৈয়দ জিয়াউল হক এই সংগঠনটির নেতা। সংগঠনে তার পরিচিতি মেজর জিয়া নামে।

এবিটি জঙ্গিদের মূল লক্ষ্য যুক্তিবাদী ও মুক্তমনা লেখক বুদ্ধিজীবীদের দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া। সেই লক্ষ্যেই ঢাকায় প্রকাশ্যে খুন করা হয়েছিল বাংলাদেশি-আমেরিকান ব্লগার অভিজিৎ রায়কে। তিনি ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে বিজ্ঞান ভিত্তিক লেখক ছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ব্লগ ‘মুক্তমনা’ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিশেষ আলোচিত।

বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি হামলা ও যুক্তিবাদী খুনে জড়িত আনসার আল ইসলাম তথা এবিটি জঙ্গি সংগঠন। জঙ্গি মেজর জিয়ার নির্দেশে এই সব খুন হয় পরপর।

মেজর জিয়ার নির্দেশে খুন হন, বাংলাদেশের প্রথম সমকামী পত্রিকা ‘রূপবান’ এর প্রতিষ্ঠাতা জুলহাজ মান্নান (Xulhaz Mannan) ও তাঁর বন্ধু মাহবুব তনয়॥

এই খুনের মামলায় পলাতক মেজর জিয়ার ফাঁসির সাজা দিয়েছে আদালত। মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতা মেজর জিয়া এখন আত্মগোপনে। তার তৈরি সংগঠন আনসার আল ইসলাম পশ্চিমবঙ্গে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম বা এবিটি জঙ্গি নামে সক্রিয়। বেশকয়েকজন সদস্য কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় ধরা পড়েছে আগেই।

থাকেন আমেরিকায়, বাংলাদেশের বিদ্যালয়ে শিক্ষিকার সুখের চাকরি!

Sylhet teacher

নিউজ ডেস্ক: চাকরি বলে চাকরি-সুখের চাকরি। থাকেন আমেরিকায়। আর বাংলাদেশ (Bangladesh) সরকারি চাকরি করছেন জেসমিন সুলতানা নামে এক প্রধান শিক্ষিকা। তিনি ব্যাংক থেকে নিয়মিত বেতন পান।

অভিযোগ, জেসমিন সুলতানা নামে বাংলাদেশের নাগরিক সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রায়গড় সরকারি প্রাইমারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। তার বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ, তিনি বিদ্যালয়ে একদিনও না এসে দিব্বি আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বেতন তুলছেন আমেরিকা থেকে। অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়েছে তদন্ত। 

জানা গিয়েছে,২০১৩ সালের ২১ এপ্রিল কাজে যোগদানের পর মাত্র এক বছর বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন জেসমিন। ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর থেকে তিনি অনুপস্থিত। ২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি ও ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জেসমিন সুলতানা সোনালী ব্যাংক ঢাকা দক্ষিণ শাখা থেকে বেতনের মোট ৪ লাখ টাকা তুলেছেন।

অভিযুক্ত জেসমিন সুলতানার আত্নীয় রায়হান আহমদ জানান, স্বামীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেসমিন সপরিবারে আমেরিকায় বাস করছেন।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আজিজুর রহমান খান জানান, প্রধান শিক্ষিকা জেসমিন সুলতানা প্রতিষ্ঠানের কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, হাজিরা খাতা ও স্লিপের টাকা নিয়ে প্রায় ৫ বছর ধরে নিখোঁজ। তবে ২০১৭ সালে এসে ব্যাংক থেকে সরকারি বেতন উত্তোলন করার সময় কয়েক দিন বিদ্যালয়ে এসেছিলেন। 

গোলাপগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার দেওয়ান নাজমুল আলম জানান জেসমিন সুলতানা কয়েক বছর আগে তৎকালীন শিক্ষা অফিসারের কাছ থেকে তিন মাসের চিকিৎসাজনিত ছুটি নিয়েছিলেন। এখন তিনি কোথায় আছেন জানা নেই।

নতমস্তকে বাইডেন: প্রবীণ কমিউনিস্ট ভিয়েতকং গেরিলারা ফিরলেন সোনালি অতীতে

Photo of Biden from Afghanistan news conference goes viral

নিউজ ডেস্ক: শতাব্দী পেরিয়েছে, গত শতকের সত্তরের দশকে ভিয়েতনামে (Vietnam war) চরম পরাজয়ের ছায়া এখনও হোয়াইট হাউসে (White House) লম্বা হয়ে পড়ে। এ যেন রীতিমতো এক ‘অভিশাপ’-যেটা আরও কত শতাব্দী বইবে মার্কিন সরকার তা অজানা। ভিয়েতনাম যুদ্ধে পরাজয়ের পর মার্কিন  (USA) প্রেসিডেন্ট নিক্সন মাথা নামিয়েছিলেন। সেই ঘটনা ফিরে এসেছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন (Joe Biden) আফগানিস্তান ইস্যুতে হতাশার চরমে পৌঁছে গেছেন। তিনিও মাথা নামালেন।

Photo of Biden from Afghanistan news conference goes viral
বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন (Joe Biden) আফগানিস্তান ইস্যুতে হতাশার চরমে পৌঁছে গেছেন। তিনিও মাথা নামালেন

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধম্য, সোশ্যাল সাইটে ছড়িয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মাথা নামানোর ছবি। বৃহস্পতিবার আফগান রাজধানী তথা তালিবান (Taliban) অধিকৃত কাবুলের বিমান বন্দরের ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। সেই রক্তাক্ত ঘটনার পর সাংবাদিক সম্মেলনে বাইডেন ছিলেন হতাশ। তবে তিনি শেষ দেখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিস্ফোরণে শতাধিক মৃত। মৃত তালিকায় আছে মার্কিন সেনা।

হোয়াইট হাউসে বাইডেনের মাথা নামানোর ছবি দেখে ১৯৬০-৭০ দশকের প্রবীন ভিয়েতকং গেরিলা কমান্ডার ও যোদ্ধারা ফিরে গিয়েছেন তাঁদের সোনালি জয়ের মুহূর্তে। প্রবল শক্তিশালী মার্কিন সেনা, তাদের অন্যতম সহযোগী ফরাসি সেনাকে পরাজিত করে ভিয়েতনাম স্বাধীনতার যুদ্ধে জয়ী হয়, নেতৃত্বে ছিলেন কিংবদন্তি কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক হো চি মিন।

Richard Nixon
ভিয়েতনাম যুদ্ধে পরাজয়ের পর মার্কিন  (USA) প্রেসিডেন্ট নিক্সন মাথা নামিয়েছিলেন

ভিয়েতনাম যুদ্ধ অতীত। তবে যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে তৎকালীন মার্কিন সেনার দখলে থাকা দক্ষিণ ভিয়েতনামের সায়গনের পতন আলোচিত হয়। যেমনটা হয়েছে গত ১৫ আগস্ট কাবুল থেকে মার্কিন সেনা নিয়ে বিমান উড়ে যাওয়ার ছবি বের হওয়ার পর। সেই দিনই দ্বিতীয়বারের জন্য আফগানিস্তানের দখল নিয়েছে তালিবান জঙ্গিরা।

বিবিসি জানায়, কাবুল তালিবান দখলে যেতেই আমেরিকান দূতাবাস থেকে হেলিকপ্টারে লোকজনকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়। এ যেন সেই ১৯৭৫ সালে দক্ষিণ ভিয়েতনামের রাজধানী সায়গন থেকে মার্কিন সেনা ও দূতাবাসকর্মীদের চলে যাওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ‘৭৫ সালের ৩০শে এপ্রিল সায়গনের দখল নেয় ভিয়েতনামের গেরিলা বাহিনি। ফটোগ্রাফার হিউবার্ট ফন এস এমন একটি ছবি তুলেছিলেন যা ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। ছবিতে ধরা পড়ে ভিয়েতনাম যুদ্ধের শেষ দিনগুলিতে সায়গন শহরের মানুষ হুড়োহুড়ি করে একটি হেলিকপ্টারে উঠে পালিয়ে যাচ্ছে।

Vietnam war
‘৭৫ সালের ৩০শে এপ্রিল সায়গনের দখল নেয় ভিয়েতনামের গেরিলা বাহিনি। ফটোগ্রাফার হিউবার্ট ফন এস এমন একটি ছবি তুলেছিলেন যা ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল

সায়গন দখল করেছিল ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টি। ভিয়েতকং গেরিলা যোদ্ধাদের ভয়ে ভীত মার্কিন সেনা তখন পালাতে ব্যাস্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন হতাশায় ভেঙে পড়েছিলেন। হোয়াইট হাউসের ততকালীন সংবাদাতারা এখন অতি বৃদ্ধ। তাঁরা সেই ঘটনার স্মৃতিতে রেখে দিয়েছেন। ঠিক তেমনই প্রবীণ ভিয়েতকং যোদ্ধারা মনে রেখেছেন তাঁদের সায়গন দখলের কথা।

‘ভিয়েতনামের যুদ্ধ’ বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম রাজনৈতিক বাঁক। সেই যুদ্ধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি চরম ধিকৃত হয় বিশ্বে। খোদ মার্কিন মুলুকেই বিক্ষোভ প্রবল আকার নিয়েছিল। আর ভিয়েতনামে চলছিল ভয়ঙ্কর লড়াই।
বিবিসি জানাচ্ছে, যুদ্ধের দুই পক্ষ, উত্তর ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট সরকার বনাম দক্ষিণ ভিয়েতনামের সরকার ও তাদের সমর্থক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। যুদ্ধ চলেছিল প্রায় ২০ বছর ধরে। ব্যয়বহুল যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকা ছিল আলোড়িত।

ভিয়েতনাম যুদ্ধে উত্তর ভিয়েতনামকে সমর্থন করছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং তার কমিউনিস্ট মিত্র দেশগুলি। আর দক্ষিণ ভিয়েতনামকে সমর্থন করছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা। যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর লক্ষ লক্ষ সেনা ভিয়েতনামে মোতায়েন করা হয়েছিল।

গত কুড়ি বছর ধরে আফগানিস্তানেও মার্কিন সেনা ছিল। বিশাল খরচ বহন করছিল ওয়াশিংটন। প্রেসিডেন্ট বাইডেন আফগান নীতির পরিবর্তন আনেন। সরানো শুরু হয় সেনা। এই গত দু দশকে জঙ্গি হামলায় রক্তাক্ত মার্কিন সেনা তাদের গায়ে শেষ বড় ক্ষত নিয়ে দেশে ফিরছে।

প্রয়াত মার্কিন সাংবাদিক জো গ্যালওয়ে

নিউজ ডেস্ক: প্রয়াত জো গ্যালওয়ে। বর্ষীয়ান এই মার্কিন সাংবাদিক পরিচিত ছিলেন যুদ্ধের খবর সংগ্রহ করার জন্য। ইউনাইটেড প্রেস ইন্টারন্যাশনালের যুদ্ধ প্রতিবেদক এবং ব্যুরো চিফ হিসেবে ২২ বছর কাটিয়েছেন তিনি। এরপর যোগ দেন ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট ম্যাগাজি্নে।

আরও পড়ুন পঞ্জশিরের পর জালালাবাদ, বাড়ছে তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সুর

নাইট রিডার সংবাদপত্রের জন্য একটি সিরিজে কাজ করেন, যার মধ্যে ছিল ১৯৯১ সালের পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধ কভার করা। যদিও তার কর্মজীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ ফ্রন্ট লাইন সাংবাদিক হিসেবে ভিয়েতনামের যুদ্ধ কভার করা।

আরও পড়ুন জেনে নিন: বিশ্বের কোথায় একটি বালতির জন্য যুদ্ধ হয়েছিল

ভিয়েতনামের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর লেখা বইও রয়েছে। পরে যার ওপর ভিত্তি করে হলিউডে সিনেমাও তৈরি হয়। ভিয়েতনাম যুদ্ধের জন্য তিনিই একমাত্র অসামরিক নাগরিক যিনি মার্কিন সেনাবাহিনী কর্তৃক বীরত্বের পদক পেয়েছেন। গ্যালওয়ে কেন বার্নস এবং লিন নোভিক পরিচালিত পিবিএস ডকুমেন্টারি “দ্য ভিয়েতনাম ওয়ার” এর পরামর্শদাতা হিসাবেও কাজ করেছিলেন।

Remembering The Battle Of Ia Drang | Here & Now

 

আরও পড়ুন দেশ ছেড়ে ‘পলাতক’ আফগান প্রেসিডেন্ট ঘানির প্রথম লাইভ শো

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভিয়েতনামের মধ্যে লা দ্রাংয়ের যুদ্ধের সময় আগুনের আঘাতে আহত সৈন্যদের উদ্ধারের জন্য গ্যালওয়েকে ১৯৯৮ সালে ব্রোঞ্জ স্টার মেডেল দিয়েও সম্মান জানানো হয়। তাঁর এই বর্ণময় অভিজ্ঞতাই লিখেছিলেন গ্যালওয়ে, “উই আর সোলজারস ওয়ানস … অ্যান্ড ইয়ং।”

আরও পড়ুন এবারে শীতে বড় পর্দায় আসতে চলেছে দেব-রুক্মিণীর ‘কিশমিশ’, প্রকাশ্যে ছবির অ্যানিমেটেড টিজার

বইটি পরে বেস্টসেলার হয়ে ওঠে, তাছাড়াও ২০০২ সালের সিনেমা “উই উইর সোলজার্স” নির্মিত হয়েছিল তাঁর লেখার ওপর ভিত্তি করেই। গ্যালওয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন হলিউড অভিনেতা ব্যারি পেপার। তাঁর পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, অসুস্থ হওয়ায় নর্থ ক্যারোলিনার একটি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানেই বুধবার মারা যান এই বিখ্যাত সাংবাদিক।

আমেরিকানরা ঘরে ফেরেনি, তারা পালিয়েছে: রাশিয়া সংবাদমাধ্যম

U.S. completes 90 percent of Afghanistan withdrawal

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তান দখলের লড়াইয়ে তালিবানের বিজয় ঘোষণার দুদিন পর সেখানে যেসব ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য আমেরিকাকে দায়ী করে তীব্র সমালোচনা প্রকাশিত হয়েছে রাশিয়ায় আজকের সংবাদপত্রগুলোতে।

সরকারি সংবাদপত্র রসিইসকায়া গেজেটায় বিদেশনীতি বিষয়ক বিশ্লেষক ফিয়োদোর লুকিয়ানফ আফগানিস্তানের ঘটনাবলীকে একটা ‘চরম বিশৃঙ্খলা’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ”আমেরিকার মদতপুষ্ট প্রশাসন তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়েছে৷ আমেরিকানরা ঘরে ফেরেনি, তারা পালিয়েছে।”

বিবিসির মস্কো সংবাদদাতা স্টিভ রোজেনবার্গ টুইটারে সংবাদপত্রগুলোর পর্যালোচনা করেছেন। তিনি বলছেন পত্রিকাগুলোর শিরোনাম হয়েছে মূলত এরকম: “একটা চরম বিশৃঙ্খলা”, ”পশ্চিমা বিশ্ব এবং জো বাইডেনের জন্য পাহাড়-প্রমাণ রাজনৈতিক অপমান”। একটি পত্রিকা এমন প্রশ্নও তুলেছে: “রাশিয়াকে কি এখন আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠাতে হবে?”

https://twitter.com/BBCSteveR/status/1427553647693504522?s=20

অন্যদিকে, মঙ্গলবার তালিবান তাদের যোদ্ধাদের নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা কারও বাড়িতে প্রবেশ না করে৷ রাস্তায় কোন দূতাবাসের গাড়ি চলাচলে বাধা না দেয়৷ বিশেষ করে রাজধানী কাবুলে। এই নির্দেশ জারি করেছেন তালিবানের উপনেতা মোলাভি ইয়াকুব। তালিবান যোদ্ধারা লুটপাটের ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে এরকম খবরের পর ইয়াকুব নিজের কণ্ঠে রেকর্ড করা এক বার্তা জারি করেছেন।

তালিবান আফগানিস্তানে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা শুরু করেছে। সব সরকারি কর্মচারীদের তারা কাজে ফিরতে বলেছে এবং তাদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। যারা লুটপাটের সঙ্গে জড়াবে, ধরা পড়লে তাদের কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছে তালিবান। কাবুলের অনেক জায়গায় এদিন রুটি এবং ওষুধের দোকান খুলেছে৷ রাস্তা ঘাটে আরও বেশি গাড়ি চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে।

কাবুলে একটি টিভি অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে একজন মহিলা উপস্থাপক এক তালিবান নেতার সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। তালিবান বিশ বছর আগে যখন ক্ষমতায় ছিল তখন এটা অকল্পনীয় ছিল। প্রথম সারির টিভি চ্যানেল, টোলো নিউজ তাদের এক মহিলা সংবাদদাতার ছবি টুইট করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে তিনি রাস্তায় ঘুরে ঘুরে রিপোর্টিং করছেন।

তবে কাফেতে, দোকানে বা গাড়িতে এখন আর কোন গান বাজতে শোনা যাচ্ছে না। বড় বড় পোস্টারে বা বিজ্ঞাপনে যেসব মহিলার মুখ আছে, সেগুলো রঙ দিয়ে মুছে দেওয়া হচ্ছে।
মনে করা হচ্ছে, তালিবানের কিছু শীর্ষ নেতা কাবুলে একটি সংবাদ সম্মেলন করছেন। যেখানে নতুন সরকার এবং দেশটির ভবিষ্যত রূপরেখা নিয়ে তাদের পরিকল্পনা তারা জানাচ্ছেন৷