উত্তরপ্রদেশে ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় ৬ পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের সিবিআইয়ের

UP-Police

News Desk: সেপ্টেম্বর মাসে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের হোটেলে মণীশ গুপ্তা নামে এক ব্যবসায়ীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, ওই ব্যবসায়ীকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কয়েকজন কর্মী পিটিয়ে খুন করেছে। ব্যবসায়ী মণীশ গুপ্তার মৃত্যু নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়। এরপরেই অভিযুক্ত ৬ পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সেই ছয় পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে এবার খুনের মামলা দায়ের করল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই।

রাজ্য জুড়ে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে যোগী সরকার মণীশ গুপ্তা হত্যা মামলার তদন্তের ভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তের পর সিবিআই ওই ছয় পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করায় বিষয়টি চাঞ্চল্যকর মোড় নিল বলেই মনে করা হচ্ছে।

ওই ব্যবসায়ী খুনের পর বিরোধীরা অভিযোগ করেছিল, মুখ্যমন্ত্রী যোগী দোষীদের আড়াল করছেন। মৃতের পরিবার স্পষ্ট জানায়, ৬ পুলিশ কর্মী মণীশকে পিটিয়ে খুন করেছে। এমনকী, গুরুতর জখম মণীশকে ঠিক সময়ে তারা হাসপাতালেও নিয়ে যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও মাণীশের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন মেলে।

ওই ঘটনার কিছুদিন পরেই আম আদমি পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিং একটি ভিডিওয়ো পোস্ট করেছিলেন । ওই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছিল, গোরক্ষপুরের জেলাশাসক বিজয়কিরণ আনন্দ মৃত ব্যবসায়ীর পরিবারকে মামলা না করার জন্য অনুরোধ করছেন। শুধু জেলাশাসক নন, জেলার পুলিশ সুপারও মৃতের স্ত্রীকে একইভাবে মামলা তুলে নেওয়ার কথা বলছেন ওই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই যোগী সরকারের ওপর আরও চাপ বাড়ে।

ওই ব্যবসায়ীর পরিবারের চাপ বিরোধীদের হই হট্টগোলের কারণে অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করেছিল যোগী সরকার। আর কয়েক মাস পরেই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। বিরোধীদের মুখ বন্ধ করতে যোগী সরকার তড়িঘড়ি ৬ পুলিশকর্মী সাসপেন্ড করে। কিন্তু তাতেও বিরোধীদের মুখ বন্ধ না হওয়ায় ওই খুনের মামলার তদন্তভার সিবিআইকে দেন যোগী। মণীশ গুপ্তা খুনের তদন্তভার হাতে নিয়ে প্রাথমিক তদন্তের পরই সিবিআই ছয় পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করল।

UP assembly elections: বিধানসভা নির্বাচনে লড়বেন অখিলেশ

akhilesh yadab

News Desk, New Delhi: হাতে গোনা আর কয়েক মাস পরেই উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু সেই নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মহলকে অবাক করে রাজ্যের প্রধান বিরোধীদল সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব জানালেন, তিনি এবার কোন বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই ভোটে লড়বেন না। তবে কি কারণে অখিলেশ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন সে বিষয়ে তিনি কোনও কিছুই জানাননি।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, বিজেপির বিরুদ্ধে গোটা রাজ্য জুড়ে প্রচার চালাতে চান সপা প্রধান। তাই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে কোন একটি কেন্দ্রে আটকে থাকতে রাজি নন। তিনি যদি নিজে কোন কেন্দ্রে প্রার্থী হন তাহলে সেই কেন্দ্রে তাঁকে সময় দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে তিনি গোটা রাজ্য জুড়ে প্রচার চালানোর জন্য যথেষ্ট সময় পাবেন না। যা দলের নির্বাচনী প্রচারে প্রভাব ফেলতে পারে সে কারণেই অখিলেশ আগে থাকতেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার কথা জানালেন।

যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশ এবং সপার সর্মথকরা মনে করছেন, অখিলেশ এই সিদ্ধান্ত ঠিক নয়। কারণ দলপতি যদি লড়াইয়ের ময়দানে না থাকেন তাহলে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে তার বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। বিজেপি এই সুযোগটা নেবে। গেরুয়া দল প্রচার করবে, পরাজয়ের ভয়েই অখিলেশ এবার ভোটে লড়ছেন না। অন্যদের লড়াইয়ের ময়দানে ঠেলে দিয়ে তিনি নিজে সরে দাঁড়িয়েছেন। সেটা নিশ্চিত ভাবেই সবার ক্ষেত্রে এক বিড়ম্বনা।

এরই মধ্যে রাজ্যের অন্যতম রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় লোকতান্ত্রিক পার্টিকে নিয়ে কংগ্রেস ও সপার মধ্যে দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে। রবিবার লখনউ বিমানবন্দরে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন আরএলডি নেতা জয়ন্ত চৌধুরী। অনেকেই মনে করছেন, আসন্ন নির্বাচনে আরএলডির সঙ্গে কংগ্রেসের জোট হতে পারে। জয়ন্ত-প্রিয়াঙ্কার ওই বৈঠকের কথা প্রকাশ্যে আসতেই সপা প্রধান অখিলেশ সোোমবার বলেন, আরএলডির সঙ্গে তাঁদের জোট চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। এমনকি আরএলডি কোন কোন আসনে লড়বে সে ব্যাপারেও কথা অনেকটা এগিয়েছে ।

প্রশ্ন হল, এই মুহূর্তে আরএলডিকে নিয়ে কংগ্রেস ও সপার মধ্যে দড়ি টানাটানির কারণ কী। রাজনৈনিত মহল মনে করছে, উত্তরপ্রদেশের অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ টি আসনে আরএলডির ভালরকম প্রভাব রয়েছে। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকাতেও আরএলডির প্রভাব রয়েছে। সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে মানুষের ভোট নিজেদের অনুকূলে টানতে উদ্যোগী হয়েছে কংগ্রেস ও সপা। এখন দেখার শেষ পর্যন্ত আরএলডি কার সঙ্গে যায়।

Priyanka Gandhi: নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে উত্তরপ্রদেশের ৪০ শতাংশ আসনের মহিলা প্রার্থী, ঘোষণা প্রিয়াঙ্কার

Priyanka Gandhi Congress

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: আসন্ন উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে ৪০ শতাংশ মহিলাকে কংগ্রেস টিকিট দেবে বলে সোমবার ঘোষণা করলেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। মঙ্গলবার লখনউয়ে সংবাদমাধ্যমকে প্রিয়াঙ্কা বলেন, কংগ্রেসে সিদ্ধান্ত হয়েছে রাজ্যের মোট আসনের ৪০ শতাংশ কেন্দ্রে মহিলাদের প্রার্থী করা হবে। মহিলারা যাতে রাজনীতিতে আরও বেশি করে অংশ নিতে পারেন সেজন্যই এই সিদ্ধান্ত।

প্রিয়াঙ্কা এদিন বলেন, মহিলারা মনে করলে সমস্ত পরিস্থিতিকে বদলে দিতে পারেন। এই মুহূর্তে উত্তরপ্রদেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। আইনশৃঙ্খলা বলে কোন বস্তু আছে বলে মনে হয় না। রাজ্যে বিভিন্ন প্রান্তে খুন, ধর্ষণের ঘটনা প্রতিদিনই ঘটে চলেছে। অথচ তার বিচার হচ্ছে না। একমাত্র মহিলারাই এই পরিস্থিতি বদলাতে পারেন। সে কারণেই কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নিয়েছে, উত্তরপ্রদেশে এবার ৪০ শতাংশ মহিলাকে টিকিট দেওয়া হবে। উন্নাও, হাথরসে মহিলাদের উপর যে ঘটনা ঘটেছে সে কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত। মহিলাদের ক্ষমতায়ন হলে রাজ্যের পরিস্থিতি নিশ্চিতভাবেই আমূল বদলে যাবে।

Priyanka Gandhi Congress

প্রিয়াঙ্কা এদিন আরও জানান, প্রয়োজন হলে তিনি নিজেও উত্তরপ্রদেশ থেকে লড়তে পারেন। মেধা ও যোগ্যতার মাপকাঠিতে মহিলাদের টিকিট বন্টন করা হবে বলেও জানান কংগ্রেস নেত্রী। প্রিয়াঙ্কা আরও বলেন, ৪০ শতাংশ মহিলাকে টিকিট দেওয়া কংগ্রেসের প্রাথমিক লক্ষ্য হলেও আগামী দিনে ৫০ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করা হবে।

প্রিয়াঙ্কার এই সিদ্ধান্তকে অবশ্য ও রাজনৈতিক মহল চমক বলে মনে করছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেসের অবস্থা খুবই খারাপ। ২০১৯- এর লোকসভা নির্বাচনেই তার প্রমাণ মিলেছে। রাজ্যের চার শতাধিক আসনে প্রার্থী দেওয়ার মত সামর্থ্য নেই কংগ্রেসের। সে কারণেই এবার মহিলাদের উপর ভরসা করতে চলেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। পাশাপাশি যোগী আদিত্যনাথের শাসনে উন্নাও থেকে শুরু করে হাথরস একের পরে এক নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। দুষ্কৃতীরা প্রকাশ্যেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তাই মহিলা মহলকে এভাবেই কাছে টানতে চাইছেন প্রিয়াঙ্কা। দলের পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তবে প্রিয়াঙ্কার এই সিদ্ধান্ত আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসকে কতটা সাহায্য করবে তা এখন ভবিষ্যতই বলবে।

কংগ্রেস সূত্রে খবর, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ৭৫টি জেলাতেই যাবেন প্রিয়াঙ্কা। উত্তরপ্রদেশে দলের প্রচার কর্মসূচির মূল দায়িত্ব থাকছে প্রিয়াঙ্কার উপর। দলের তরফে দায়িত্ব পেয়ে ইতিমধ্যেই প্রার্থী বাছাই, বিজেপি বিরোধী অন্যান্য দলগুলির সঙ্গে জোট গঠন, নির্বাচনী রণকৌশল নির্ধারণ সবকিছুর কাজ শুরু করে দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। উল্লেখ্য, ২০১৭-র সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ৪০৩ টি আসনের মধ্যে কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছিল মাত্র ৭টি।

উত্তরপ্রদেশে আদালতের ভিতরেই গুলি করে খুন আইনজীবীকে

Uttar Pradesh, lawyer , shot dead,  court

অনলাইন ডেস্ক: সোমবার সকালে আদালতের ভিতরে ঢুকে গুলি চালিয়ে খুন করা হল এক আইনজীবীকে। চাঞ্চল্যকর এই খুনের ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুর জেলা আদালতে। মৃত আইনজীবীর নাম ভূপেন্দ্র সিং। সোমবার সকাল পৌনে ১২টা নাগাদ জেলা আদালতের তিনতলায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। মৃতদেহের পাশেই পড়েছিল একটি দেশি পিস্তল। কে বা কারা এবং কেন আইনজীবী ভূপেন্দ্র সিংকে খুন করেছে তা এখনও জানা যায়নি।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিদিনের মতো সোমবার সকালেও আদালতে এসেছিলেন ওই আইনজীবী। কিছু কাজের জন্য তিনি তিনতলায় এসিজেএম এর অফিসে গিয়েছিলেন। সকাল ১১ টা ৪৫ মিনিট নাগাদ হঠাৎই বেশ তিনতলায় গুলির শব্দ শোনা যায়। আদালতের নিরাপত্তারক্ষীরা দৌড়ে গিয়ে দেখেন আইনজীবী ভূপেন্দ্র সিং রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। তাঁর পাশে পড়ে রয়েছে একটি দেশি বন্দুক। কিভাবে বা কারা এই খুন করল সে বিষয়ে পুলিশ কোনও কথা বলেনি।

তবে একটি সূত্রের খবর, ঘটনার সময় ওই আইনজীবী একজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। সে সময় হঠাৎই গুলির শব্দ এবং তারপরই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আইনজীবী ভূপেন্দ্র সিং।

শাহজাহানপুরের পুলিশ সুপার এস আনন্দ বলেছেন, প্রাথমিক তদন্তের পর মনে করা হচ্ছে ঘটনার সময় ওই আইনজীবী একাই ছিলেন। তাঁর আশপাশেও কেউ ছিল না। তবে কিভাবে বা কেন ওই আইনজীবীকে খুন করা হল তা জানতে ফরেনসিক দল তদন্ত করছে। আততায়ীর খোঁজ পেতে ইতিমধ্যেই জেলা আদালতের লাগানো সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আদালতের অন্য এক আইনজীবী বলেন, তাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। হঠাৎই গুলির আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন। তার পরেই কয়েকজন এসে জানায় যে, তিনতলায় এক আইনজীবী গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে আছেন। পুলিশ এই খুনের ঘটনায় সবধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। ওই আইনজীবীর কোন পুরনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল কিনা, কোনও মামলার প্রেক্ষিতে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিনের ঘটনায় আরও একবার প্রমাণ হল যে, বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। যোগী আদিত্যনাথ সরকার সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। যে কারণে প্রকাশ্য দিবালোকে বহু মানুষের উপস্থিতির মাঝেও একজন আইনজীবীকে এভাবে প্রাণ দিতে হল।

Lakhimpur Kheri: মোদী-‘ঠোঙ্গি’ সবেতেই ‘বকওয়াস’, কৃষক খুনে নীরব, কংগ্রেসি কানহাইয়ার হামলা

Lakhimpur Kheri Modi jogi-kanahya kumar

নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি সিপিআই (CPI) ছেড়েছেন। এর পরেই ঘটেছে উত্তর প্রদেশের লখিমপুর খেরিতে (Lakhimpur Kheri) কৃষকদের গাড়ি চাপা দিয়ে ‘খুন’ ইস্যু। বর্তমান কংগ্রেস (INC) নেতা কানহাইয়া কুমারের (Kanhiya Kumar) যুক্তি ও প্রশ্ন হামলার মুখে পড়তে শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। একের পর এক টুইট হামলায় মোদীকে জর্জরিত করতে শুরু করেছেন কানহাইয়া।

উত্তর প্রদেশের লখিমপুর খেরিতে কৃষকদের উপর গাড়ি চালিয়ে দেওয়া ও মোট ৯ জনের মৃত্যুর জেরে গোটা দেশ উত্তাল। কানহাইয়া কুমার তাঁর বর্তমান দলনেতা রাহুল গান্ধী, দলনেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সমর্থনে প্রশ্লবাণে মোদী, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিজেপি সরকারকে যুক্তি জালে ঘিরতে শুরু করলেন।

কংগ্রেস নেতা কানহাইয়ার যুক্তি, সব বিষয়ে ‘বকওয়াস’ (অযৌক্তিক কথা) করা প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের মৃত্যুর পর নীরব। তাঁর নীরব থাকার রহস্য হয় তিনি কৃষকদের অন্ন খান না। বা তিনি বেইমানির কমিশন খান।

উত্তর প্রদেশের (UP) মু়খ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে কটাক্ষ করে কানহাইয়ার টুইট, ‘ঠোঙ্গি জী’ যতটা শক্তি দেখিয়ে বিরোধীদের আটকাচ্ছেন, ততটা শক্তি দিয়ে বিজেপির অহঙ্কারি মন্ত্রী ও তার গোল্লায় যাওয়া পুত্রের গাড়ি আটকাতেন তাহলে নির্দোষ কৃষকদের জীবন যেত না। নিজের দেশের কোথাও যেতে পাসপোর্ট লাগবে নাকি ? কানহাইয়া কুমারের টুইট রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কার টুইটের চেয়েও ঝড়ের গতিতে দেশ জুড়ে ছড়াতে শুরু করেছে। পরপর টুইটে আক্রমণ শুরু করেছেন কানহাইয়া।

কৃষক একতা মঞ্চ, সারা ভারত কৃষক সভা (AIKS) ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন (BKU) সহ বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের দাবি, নিহতদের পকিবার পিছু আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা সরকারি চাকরি দিয়ে এই ক্ষত মেটানো যাবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রীর পুত্র আশিস মিশ্রকে গ্রেফতার করতে হবে।

লখিমপুর খেরির ঘটনায় কেন আশিস মিশ্রকে তাকে গ্রেফতার করা হয়নি প্রশ্ন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী অজয় মিশ্র জানান, তাঁর পুত্র ঘটনাস্থলে ছিল না। এদিকে ভাইরাল ভিডিওতে উঠে এসেছে আশিস মিশ্রর গাড়ি কৃষকদের পিছন থেকে পিষে মারছে।

Lakhimpur Kheri: গ্রেফতার কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, আরও বিতর্কে বিজেপি

priyanka gandhi Arrested

নিউজ ডেস্ক: উত্তর প্রদেশের লখিমপুর খেরিতে কৃষকদের গাড়ি চাপা দিয়ে খুনের ঘটনায় ভাইরাল ভিডিও উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর (priyanka gandhi) বিরুদ্ধে।

১৪৪ ধারা ভাঙার অভিযোগে  সীতাপুরে গান্ধী পরিবারের কন্যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সীতাপুর গেস্ট হাউসকেই সাময়িক জেল বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরপর নাটকীয় মুহূর্ত চলছে লখনউয়ের রাজনীতিতে। সেই ধাক্কা লাগছে দেশের সর্বত্র।

লখিমপুর খেরিতে কৃষকের গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে ফেলার ঘটমায় উত্তর প্রদেশ ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকার প্রবল বিতর্কে। মঙ্গলবার কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী একটি ভাইরাল ভিডিও দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তুলোধনা করেন। ওই ভিডিও তিনি টুইট করেন। এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একটি এসইউভি গাড়ি পিছন থেকে এসে কৃষকদের পিষে দিয়ে চলে গেল।

অভিযোগ, এই গাড়ি চালিয়ে কৃষকদের মেরেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী অজয় মিশ্রের পুত্র আশিস মিশ্র। মৃত ৯ জন। এদের মধ্যে ৬ জন কৃষক ও একজন সাংবাদিক। জানা গিয়েছে দুজন নাকি সেই গাড়ির আরোহী। ঘটনাস্থলে গুলি চলেছে। এক মৃত কৃষকের দেহে গুলির আঘাত রয়েছে। জানা গিয়েছে উত্তেজিত কৃষকরা ওই গাড়ি আগুন ধরান। পালাতে গিয়ে দুই আরোহী মারা যায়। তবে মূল অভিযুক্ত আশিস মিশ্র অধরা।

AIKS Leader

লখিমপুর খেরিতে এই ‘কৃষক গণহত্যা’র প্রতিবাদে অ-বিজেপি দলগুলি প্রবল সরব। কংগ্রেস শাসিত ছত্তিসগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে দেখা করতে লখনউ আসেন। তাঁকে বিমান বন্দরে আটকে দেয় উত্তর প্রদেশ পুলিশ। ছত্তিসগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিমান বন্দরেই বসে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন।
এদিকে লখিমপুর খেরিতে যেতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হন তৃ়ণমূল কংগ্রেস সাংসদরা। সাংসদ সুস্মিতা দেব সহ বাকিদের আটকে দেয় পুলিশ। যদিও তারা দাবি করেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

লখিমপুর খেরি যেতে গিয়েছিলেন উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ সিং যাদব। তাঁকে সহ সমাজবাদী পার্টির নেতাদের আটকে দেয় পুলিশ। ভিডিও বার্তায় রাজ্যের বিজেপি সরকারের প্রবল সমালোচনা করেছেন অখিলেশ। সরব অপর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী।

তবে যোগী সরকারের পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে লখিমপুর খেরিতে ঢুকেছেন বাম সংগঠন সারা ভারত কৃষক সভার নেতৃত্ব। তাঁদের পৌঁছে যাওয়া নিয়ে তীব্র শোরগোল। কী করে এমন সম্ভব হলো এই বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির।

Lakhimpur Kheri : যোগী পুলিশের সাথে লুকোচুরি, বাম নেতৃত্ব ঢুকলেন ‘কৃষক গণহত্যা’র কেন্দ্রে

aiks leaders have reached lakhimpur kheri

নিউজ ডেস্ক: ঠিক যেন গোয়েন্দা কাহিনীর প্লট। চোরাপথে এ ওর পিছনে ছুটছে। অনেকটা তেমনই করে গেঁয়ো পথ ধরে মুখ্যমন্ত্রী যোগীআদিত্যনাথের পুলিশের ‘আঁখ মে ধুল’ (চোখ এড়ানো) ছিটিয়ে ‘কৃষক গণহত্যা’র কেন্দ্র উত্তর প্রদেশের লখিমপুর খেরিতে ঢুকলেন বাম কৃষক সংগঠনের নেতারা। সারা ভারত কৃষকসভার (AIKS) নেতারা ঢুকতেই এলাকাবাসী ভিড় করে এগিয়ে আসেন। শুরু হয় নিহতদের পরিবারের কান্না।

aiks leaders have reached lakhimpur kheri

সিপিআইএম (CPIM) ও সিপিআই (CPI) দুই দলের কৃষক সংগঠন কৃষকসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর কড়া পুলিশি পাহারা এড়িয়ে লখিমপুর খেরিতে কৃষক নেতারা ঢুকতে পারলেন। প্রতিনিধি দলে আছেন কৃষক সভার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডিপি সিং, উত্তর প্রদেশ রাজ্য সম্পাদক মুকুট সিং, কৃষক নেতা চন্দ্রপাল সিং সহ অন্যান্যরা।

এই রক্তাক্ত লখিমপুর খেরি ঢুকতে গিয়ে কংগ্রেস(INC) নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী পুলিশের ঘেরাটোপে আটকে পড়েন। তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সাংসদ সুস্মিতা দেব সহ বাকি প্রতিনিধিরা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে যাচ্ছিলেন। তাঁদেরও আটকে দেওয়া হয়। তবে টিএমসি প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন তারা লখিমপুর খেরি ঢুকেছিলেন। উত্তর প্রদেশের পূর্বতন দুই শাসক দল সমাজবাদী পার্টি(SP) ও বহুজন সমাজপার্টির (BSP) প্রতিনিধিরাও রাজ্য পুলিশের ঘেরাটোপে আটকে পড়ে ঘটনাস্থলে যেতে পারেননি। বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়েছেন দুই দলের নেতা প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ সিং যাদব ও মায়াবতী।

aiks leaders have reached lakhimpur kheri

অভিযোগ, লখিমপুর খেরিতেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কৃষি আইনের বিরোধিতা করে কৃষক জমায়েত চলছিল। সেই জমায়েতের উপর গাড়ি চালিয়ে পিষে মারা হয়েছে কয়েকজনকে। চলেছে গুলি। মোট মৃত ৯ জন। মৃতদের ৬ জন কৃষক। একজন সাংবাদিক আর দুজন হামলাকারী গাড়িতে ছিল।

গোটা ঘটনায় মূল অভিযুক্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী অজয় মিশ্রর পুত্র আশিস। তাঁর পিতা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সহকারী মন্ত্রী। আরও অভিযোগ এই কারণেই আশিসকে এখনও গ্রেফতার করেনি উত্তর প্রদেশ পুলিশ। অভিযোগ আশিস মিশ্র ও তার বন্ধুরা কৃষকদের পিষে মারে।

Lakhimpur Kheri: ভিডিও প্রমাণ দিল যোগীর রাজ্যে গাড়ির চাকায় পিষে মরলেন কৃষকরা

নিউজ ডেস্ক: কৃষকদের গাড়ি চাপা দিয়ে খুন এই অভিযোগে উত্তরপ্রদেশ (Uttar Pradedsh) সরকারের তথৈবচ অবস্থা। আর্থিক ক্ষতিপূরণের ঘোষণা ও সরকারি চাকরি দেওয়ার বার্তা দিলেও প্রবল বিতর্কে মুখে পড়েছেন বিজেপি শাসিত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। লখনউ সরগরম। নয়াদিল্লি থেকে গোটা দেশ জুড়ে বিতর্ক প্রবল। আর কৃষক ‘খুন’ ঘটনাস্থল লখিমপুর খেরিতে কী ঘটেছিল তার ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে।

video proved that the farmers were crushed to death by the wheel of the car

 

সেই ফুটেজ একের পর এক বিজেপি বিরোধী নেতা নেত্রীরা টুইট করছেন। কেউ ফেসবুকে দিতে শুরু করেছেন। কংগ্রেস (INC) নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী টুইট করেন গাড়ি চাপা দিয়ে কৃষকদের পিষে মেরে ফেলার ভিডিও। তাঁর অভিযোগ, কেন অভিযুক্ত আশিস মিশ্রকে গ্রেফতার করছে না সরকার। অভিযুক্ত আশিস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রের রাষ্ট্রমন্ত্রী অজয় মিশ্রের পুত্র।

video proved that the farmers were crushed to death by the wheel of the car

সর্বভারতীয় কৃষক নেতা তথা সারা ভারত কৃষকসভার (AIKS) সাধারণ সম্পাদক হান্নান মোল্লার দাবি, অবিলম্বে আশিস মিশ্রকে গ্রেফতার করতে হবে। ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের নেতা রাকেশ টিকায়েত অভিযোগ করেন, যোগী সরকার ও বিজেপি (BJP) সবকিছু ধামাচাপা দিতে চাইছে।

আরও অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সহকারি তথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী অজয় মিশ্রর পুত্র বলেই আশিসকে এখনও গ্রেফতার করেনি পুলিশ। অভিযোগ আশিস মিশ্র ও তার বন্ধুরা কৃষকদের পিষে মারে।
কেন্দ্রের কৃষি নীতির বিরুদ্ধে লখিমপুর খেরিতে জমায়েত করা কৃষদের উপর এসইউভি গাড়ি চালিয়ে দেওয়া হয়। পিষে মারা যান কয়েকজন। পরে জখম আরও কয়েকজনের মৃত্যু হয়। এক সাংবাদিকের মৃত্যু হয়েছে। মোট ৯ জন মৃত। এদের ছয় জন কৃষক।

এই ভিডিও এখন বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক মহলের প্রধান অস্ত্র। তবে এই ভিডিওর সত্যতা www.ekolkata24x7 যাচাই করেনি। দেখা যাচ্ছে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর টুইট থেকে ক্রমাগত ভিডিওর লিংকটি রি টুইট করা হচ্ছে। এছাড়াও সমাজবাদী পার্টি, বিএসপি, আরজেডি, সিপিআই, সিপিআইএম সমর্থকরা এই ভিডিও পোস্ট করছেন। বিভিন্ন কৃষক সংগঠন সরাসরি অভিযোগ তুলেছে, গাড়ি চালিয়েছিল আশিস মিশ্র।

Lakhimpur Kheri: মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ‘শুধর যাও’ গাড়িতে পিষে কৃষকদের ‘খুনের’ পর কী ঘটেছিল?

Lakhimpur Kheri

নিউজ ডেস্ক: নেপাল সীমান্ত লাগোয়া উত্তর প্রদেশের লখিমপুর খেরির পরিস্থিতি তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ। রবিবার এখানেই গাড়ি চাপা দিয়ে কয়েকজন কৃষককে মারার অভিযোগ উঠেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী অজয় মিশ্রর পুত্র আশিসের বিরুদ্ধে।

কী ঘটেছিল লখিমপুর খেরিতে?
www.ekolkata24x7.com আন্দোলনকারী কিছু কৃষকদের নম্বর যোগাড় করে। তারা জানান, এই এলাকায় বিজেপির সাংসদ অজয় মিশ্র সম্প্রতি কৃষি আইনের বিরোধিতাকারী কৃষকদের হুমকি দেন ‘শুধর যাও’ বলে। এর পর জমায়েত আরও বড় হতে থাকে।

Lakhimpurkheri

কুস্তি প্রতিযেগিতা শুরু হওয়ার আগে…
রবিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সহকারী রাষ্ট্রমন্ত্রী অজয় মিশ্র নিজ এলাকায় একটি কুস্তি প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যেতে চাইলে তাঁকে রাজ্য পুলিশের তরফে সাবধান করা হয়। বলা হয়েছিল, কৃষকদের বিক্ষোভ থেকে হামলার আশঙ্কা রয়েছে। অজয় মিশ্র সেকথা মানেননি। তিনি ও উত্তর প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশবপ্রসাদ মৌর্য লখিমপুর খেরি যান।

আচমকা আসল গাড়িটা…
রাস্তাতেই খবর আসে কৃষকদের জমায়েত বিরাট আকার নিয়েছে। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রর পুত্র তার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে একটি গাড়িতে করে জমায়েতের মাঝে জোরে চালিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলেই দু জনের মৃত্যু হয়। উত্তেজিত কৃষকরা ওই গাড়ি তাড়া করেন। তখন গুলি চালায় আশিসের বন্ধুরা। গাড়ি থেকে কোনওরকমে পালায় আশিস মিশ্র। তবে গাড়িটিতে আগুন ধরানো হয়। এর পর গাড়িটা রাস্তার ঢাল থেকে ফেলে দেওয়া হয়। গাড়িতে থাকা আশিসের তিন জন পরিচিত ও কয়েকজন কৃষক গুরুতর জখম হয়। পরে তারা মারা যায়।

টার্গেট কৃষক নেতারা ?
বেশ কয়েকজন কৃষক নেতাকে টার্গেট করা হয়েছিল। এমনই অভিযোগ, কিষাণ একতা মঞ্চ, ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন (BKU) ও সারা ভারত কৃষকসভা (AIKS) সংগঠনের।

সর্বশেষ খবর, লখিমপুর খেরিতে সরকারিভাবে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন গুলিবিদ্ধ কৃষক। আন্দোলনরত কৃষকদের দাবি মৃত ৯ জন। তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রর দাবি, ঘটনার সময় তাঁর পুত্র ছিলেন না।

বিধানসভা ভোটের আগে লখিমপুর খেরির রক্তাক্ত ঘটনায় প্রবল উত্তপ্ত দেশ। বিজেপি (BJP) শাসিত দুই রাজ্য অসম ও উত্তর প্রদেশের পরপর হিংসাত্মক ঘটনায় উঠে এসেছে বিকৃত মানসিকতার পরিচয়। অসমের (Assam) দরং জেলার গরুখুঁটিতে পুলিশের গুলিতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির মৃতদেহে লাথি মারার বিতর্ক যেমন তেমনই উত্তর প্রদেশের (Uttar Pradesh) লখিমপুর খেরিতে কৃষদের গাড়ির চাকায় পিষে মারার ঘটনাও তীব্র বিতর্কিত।

পরিস্থিতির চাপে ও কৃষক সংগঠনগুলির ঘেরাও অভিযানের আহ্বানে প্রমাদ গুনছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সংবাদ সংস্থাগুলির খবর, লখিমপুর খেরিতে মৃতদের পরিবার পিছু ৪০-৪৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণা করল রাজ্যের বিজেপি সরকার।

UP Election: রাহুল বাবা ভরসার নন, বেটি প্রিয়াঙ্কা কংগ্রেসের খুঁটি

Priyanka gandhi attacked up cm

নিউজ ডেস্ক: একলা চলো রে…। উত্তর প্রদেশের মতো মরণফাঁদে একলাই চলতে চাইছে কংগ্রেস। আপাতত এমন সিদ্ধান্ত, ভবিষ্যৎ জোট অন্য কথা।

দেশের রাজনৈতিক ভার কেন্দ্র উত্তর প্রদেশে কংগ্রেসের মুখ কে? এআইসিসি চাইছে, প্রিয়াঙ্কা বঢরা গান্ধীকে। রাজীব সোনিয়ার উত্তরসূরী হিসেবে রাহুল গান্ধী জনপ্রিয় তবে রাজনীতিতে তেমন কিছু করতে পারছেন না। তাঁকে কেরল থেকে সাংসদ হতে হয়েছে।

উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে শাসক বিজেপি ও আপনা দল জোট বনাম অ-বিজেপি দলগুলির লড়াই। তবে এদের মধ্যে জোট সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন রয়েছে।

সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি, রাষ্ট্রীয় লোকদল, বাকি কিছু স্থানীয় দলের শক্তিকে একত্রিত করা কঠিন বুঝেই কংগ্রেস একলা চলতে চায়। তাৎপর্যপূর্ণ, এবারের উত্তর প্রদেশ নির্বাচনে প্রথম থেকেই সক্রিয় প্রিয়াঙ্কা। কংগ্রেস মহলের খবর, ঠাকুমার মুখের আদল রয়েছে প্রিয়াঙ্কার। আর দেশে এখনও ইন্দিরা গান্ধী নাম বহুল পরিচিত।

প্রিয়াঙ্কা কি রাজনীতিতে সরাসরি? লখনউ থেকে ছড়াচ্ছে গুঞ্জন। বিজেপি প্রদেশ কার্যালয়ে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার অবস্থান নিয়ে চর্চা চলছে।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে ক্রমাগত সরব হচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি বলেছেন, গত উত্তর প্রদেশ সবদিক দিয়েই পিছিয়ে পড়েছে। বেকারদের চাকরি নেই। কৃষকদের সুখ-শান্তি নেই।

কৃষক আন্দোলনকে চাবিকাঠি করছেন প্রিয়াঙ্কা। এই কৃষক আন্দোলন রাজ্যে রাজনৈতিক মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

🅱🅸🅶 🅽🅴🆆🆂: মুম্বই-ইউপি-দিল্লিতে নাশকতার ছক বানচাল, গ্রেফতার পাকিস্তানে প্রশিক্ষিত জঙ্গি

Pakistan terror

নিউজ ডেস্ক: দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল (Delhi Police Special Cel) পাকিস্তান পরিচালিত জঙ্গি মডিউলকে চক্রান্ত তছনছ করে দিল৷ দিল্লি পুলিশ ৬ জন সন্দেহভাজন সন্ত্রাসবাদীকে গ্রেফতার করেছে৷ তারমধ্যে দু’জন পাকিস্তানি জঙ্গি রয়েছে। পুলিশ জানাচ্ছে, এই দুই জঙ্গি পাকিস্তান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছিল। এই সন্দেহভাজনদের উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের হেফাজত থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার করা হয়েছে।

স্পেশাল সেলের অভিযানে কর্তৃক গ্রেফতার হওয়া দুই জঙ্গির নাম ওসামা এবং জিশান বাই। তথ্য অনুযায়ী, ধৃত জঙ্গিদের আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে। সূত্রের খবর, উত্তরপ্রদেশ এটিএসের সহযোগিতায় প্রয়াগরাজে অভিযান চালানো হয়। স্পেশাল সেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রয়াগরাজের কারেলি থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ধৃতদের হেফাজত থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের খবর রয়েছে।

পুলিশ জানাচ্ছে, ধৃত জঙ্গিদের মডিউলটি আইএসআইয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের বড় বড় শহরে বিস্ফোরণ এবং জঙ্গি হামলার ষড়যন্ত্র করছিল। এই ষড়যন্ত্র চালানোর জন্য অস্ত্র ও বিস্ফোরক সংগ্রহ করা হয়েছিল। গ্রেফতার হওয়া দুই জঙ্গির ‘ ডি কোম্পানি’র সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে।

আরও বলা হচ্ছে, এই মডিউল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে। অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, তাদের নেটওয়ার্ক ভারতের অনেক রাজ্যে ছড়িয়ে আছে। এই অভিযানের পরে মহারাষ্ট্রে বসবাসকারী একজন জঙ্গিকে কোটা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া দিল্লি থেকে দু’জন এবং উত্তরপ্রদেশ এটিএসের সহায়তায় তিনজন ধরা পড়ে।

পুলিশ-গোয়েন্দারা তদন্তে জানতে পেরেছে, জঙ্গিরা ২ টি দল গঠন করেছিল। আনিস ইব্রাহিম একটি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন এবং তাদের তহবিল যোগর করার কাজ ছিল। ধৃত লালা আন্ডার ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যুক্ত৷ দ্বিতীয় দলের কাজ ছিল ভারতে উৎসব উপলক্ষে সারা দেশে বিস্ফোরণের জন্য শহরগুলি চিহ্নিত করা। তাদের পরিকল্পনা ছিল দিল্লি, উত্তর প্রদেশ এবং মহারাষ্ট্রে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো। রামলীলা এবং নবরাত্রির অনুষ্ঠানগুলি তাদের টার্গেট ছিল।

স্পেশাল সেলের স্পেশাল সিপি নীরজ ঠাকুর সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আমরা ৬ জন সন্ত্রাসবাদীকে গ্রেফতার করেছি৷ তার মধ্যে ২ জন প্রশিক্ষণ শেষে পাকিস্তান থেকে ফিরে এসেছে। এর মধ্যে ২ জন প্রথমে মাস্কাটে যান, তারপর তাদের নৌকায় করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি আরও জানান, সেখানে থাকা ১৪ জন বাংলায় কথা বলতে পারে৷ পাকিস্তানে তাদের একটি খামার বাড়িতে ১৫ দিনের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল।

সংবাদপত্র ক্ষমা চাইলেও কমছে না বিতর্ক, যোগীর বিজ্ঞাপনকান্ডে এবার RTI করল তৃণমূল

yogi adityanaths advertisement

নিউজ ডেস্ক: পরের বছরই উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন। যোগী ম্যাজিকে আবার ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তার আগেই বিতর্কে জড়িয়েছে যোগী আদিত্যনাথের সরকার। যোগী আদিত্যনাথের উন্নয়নের বিজ্ঞাপনে দিতে গিয়েই কেলেঙ্কারি। সংবাদপত্রে দেওয়া ওই বিজ্ঞাপনে কলকাতার মা উড়ালপুলের ছবি ব্যবহার করে বিতর্কে জড়িয়েছিল যোগী সরকার।

আরও পড়ুন নাম পরিবর্তনের পথে যোগী রাজ্যের তৃতীয় জেলা, সুলতানপুর হচ্ছে কুশভবনপুর

যদিও বিভিন্ন মহল থেকেই বলা হচ্ছিল যে সংবাদপত্র গুলির ক্ষেত্রে এই ধরনের বিজ্ঞাপন বেসরকারি সংস্থা বা তাদের নিজস্ব বিভাগই বানিয়ে থাকে। ফলে তাদের ভুলেই ঘটেছে এই কান্ড। যোগী সরকারের তরফে পশ্চিমবঙ্গের কোনও ছবি দেওয়া হয়নি বলেও মনে করা হচ্ছে। ভারতীয় জনতা পার্টির পশ্চিমবঙ্গের মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যও বলেন, ‘‘ওই সংবাদপত্র বা বিজ্ঞাপন সংস্থা ভুল করে এটা করেছে।’’ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের পক্ষ থেকেও টুইট করে জানানো হয়েছে, ‘উত্তরপ্রদেশ নিয়ে বিজ্ঞাপনের কভারে আমাদের সংবাদপত্রের মার্কেটিং বিভাগ একটি ভুল ছবি ব্যবহার করেছে। সংবাদপত্রের সব ডিজিটাল মাধ্যম থেকে ওই ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

কিন্তু তাতেও বিতর্ক থামছে কই? ছবি ভাইরাল হওয়ার পরেই উত্তরপ্রদেশ সরকারকে একে একে তোপ দাগতে শুরু করেছিলেন তৃণমূল নেতারা। টুইট করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও লেখেন, ‘যোগীর কাছে উত্তরপ্রদেশের পরিবর্তন মানে বাংলার পরিকাঠামোর ছবি চুরি করা।’ এবার যোগীর বিজ্ঞাপন বিতর্কে RTI দায়ের করলেন তৃণমূলের ‌নেতা সাকেত গোখলে। উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে তিনি জানতে চেয়েছেন, ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত ওই ‌বিজ্ঞাপনের অনুমোদন কে দিয়েছিল? চুক্তির প্রতিলিপি এবং বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত সমস্ত ছবি চাওয়া হয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছ থেকে।’‌

বিজ্ঞাপনের ওই ছবি যে কলকাতার, তা উড়ালপুলের পাশের একটি হোটেলের ছবি থেকেও স্পষ্ট। শুধু তাই নয়, উড়ালপুলের উপর চলছে কলকাতার অন্যতম পরিচয় হলুদ ট্যাক্সিও। যা উত্তরপ্রদেশে দেখা যায় না। দেশের জনপ্রিয় সংবাদ প্রতিষ্ঠান ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ এর ডিজিটাল এবং প্রিন্ট, দুই মাধ্যমেই ওই ছবি প্রকাশ্যে আসার পর সমালোচনার ঝড় উঠেছিল নেট মাধ্যমে। অনেকেই দাবি করেছেন, বেসরকারি সংস্থা কিংবা সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপন এবং মার্কেটিং বিভাগ বিজ্ঞাপন তৈরি করলেও ক্লায়েন্টের গ্রীণ সিগনাল ছাড়া তা প্রকাশিত হয় না। ফলে এই ঘটনায় খানিকটা হলেও যোগী সরকারের দায় থেকেই যায়। এর আগেও বাংলার বিভিন্ন ছবি ব্যবহার করে অন্য রাজ্যের ভোটের প্রচারে কাজে লাগিয়েছে বিজেপি, সেকথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন অনেকে।

যোগী সরকার নয়, উত্তরপ্রদেশ উন্নয়নে ভুল করে ‘মা’ উড়ালপুল জুড়েছিল জনপ্রিয় সংবাদপত্র

yogi adityanaths advertisement

নিউজ ডেস্ক: পরের বছরই উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন। যোগী ম্যাজিকে আবার ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তার আগেই বিতর্কে জড়াল যোগী আদিত্যনাথের সরকার। যোগী আদিত্যনাথের উন্নয়নের বিজ্ঞাপনে দিতে গিয়েই কেলেঙ্কারি। সংবাদপত্রে দেওয়া ওই বিজ্ঞাপনে কলকাতার মা উড়ালপুলের ছবি ব্যবহার করল যোগী সরকার।

আরও পড়ুন মমতার বিরুদ্ধে লড়বেন, চিনে নিন পদ্মপ্রার্থী প্রিয়ঙ্কা টিবরেওয়াল


আরও পড়ুন মমতাও হেরেছেন বলেই আবার ভোটে লড়ছেন, এন্টালিতে প্রিয়ঙ্কার হার প্রসঙ্গে তৃণমূলকে কটাক্ষ তথাগতর

বিজ্ঞাপনের ওই ছবি যে কলকাতার, তা উড়ালপুলের পাশের একটি হোটেলের ছবি থেকেও স্পষ্ট। শুধু তাই নয়, উড়ালপুলের উপর চলছে কলকাতার অন্যতম পরিচয় হলুদ ট্যাক্সিও। যা উত্তরপ্রদেশে দেখা যায় না। দেশের জনপ্রিয় সংবাদ প্রতিষ্ঠান ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ এর ডিজিটাল এবং প্রিন্ট, দুই মাধ্যমেই ওই ছবি প্রকাশ্যে আসার পর সমালোচনার ঝড় উঠেছিল নেট মাধ্যমে।  টুইট করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও লেখেন, ‘যোগীর কাছে উত্তরপ্রদেশের পরিবর্তন মানে বাংলার পরিকাঠামোর ছবি চুরি করা।’

যদিও বিভিন্ন মহল থেকেই বলা হচ্ছিল যে সংবাদপত্র গুলির ক্ষেত্রে এই ধরনের বিজ্ঞাপন বেসরকারি সংস্থা বা তাদের নিজস্ব বিভাগই বানিয়ে থাকে। ফলে তাদের ভুলেই ঘটেছে এই কান্ড। যোগী সরকারের তরফে পশ্চিমবঙ্গের কোনও ছবি দেওয়া হয়নি বলেও মনে করা হচ্ছে। ভারতীয় জনতা পার্টির পশ্চিমবঙ্গের মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্যও বলেন, ‘‘ওই সংবাদপত্র বা বিজ্ঞাপন সংস্থা ভুল করে এটা করেছে।’’ এবার এই ঘটনার জন্য দায় স্বীকার করল জনপ্রিয় সংবাদপত্র ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’। তারা জানিয়েছে, তাদের মার্কেটিং বিভাগের ভুলেই এই বিজ্ঞাপন প্রচারিত হয়েছে। এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে টুইট করেছে তারা।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের পক্ষ থেকে টুইট করে জানানো হয়েছে, ‘উত্তরপ্রদেশ নিয়ে বিজ্ঞাপনের কভারে আমাদের সংবাদপত্রের মার্কেটিং বিভাগ একটি ভুল ছবি ব্যবহার করেছে। সংবাদপত্রের সব ডিজিটাল মাধ্যম থেকে ওই ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

নারীশক্তি: মা মজুর খেটে পিতৃহারা পাঁচ ছেলেমেয়েকেই পুলিশের উর্দি পরালেন

Four real sisters sunita ranjeeta anjali kunti

নিউজ ডেস্ক: উত্তর প্রদেশের মথুরা সীমান্তে আছনেরা জেলার আগ্রার ছোট্ট গ্রাম রায়পুরা আহির। এই গ্রামের বীরেন্দ্র সিংয়ের পরিবারের সব থেকে বড় লড়াই ছিল প্রতিকূলতার মধ্যেও বেঁচে থাকা৷  কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে শিক্ষা লাভ এবং সাফল্য পাওয়ার বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়াল এই পরিবার৷ শৈশবে বাবাকে হারানো পাঁচজন প্রকৃত ভাই-বোন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কনস্টেবল হল৷ তারমধ্যে চারজনই মেয়ে৷

ইউপির কয়েকটি পরিবারের মধ্যে এমন একটি পরিবার, যাদের শিশুরা চরম দারিদ্র্য দেখেছে৷ তারপরেও দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করেছে। দেখেছে সাফল্যের মুখ৷ একে অপরকে অনুসরণ করে চার বোন এবং এক ভাই ইউপি পুলিশে যোগ দিয়েছেন। এই বোনদের মধ্যে একজন এখন অবশ্য পুলিশ কনস্টেবল পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন৷ পুলিশের চাকরি ছেড়ে শিক্ষকতা করছেন৷

ইউপি পুলিশ কনস্টেবল ভাইবোনদের বড় বোন সুনীতা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথপোকথনে জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারের কঠিন সংগ্রাম এবং তাঁর ভাই-বোনদের সাফল্যের পুরো গল্প বর্ণনা৷ যা অনেকের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক৷ যাদের ছোটবেলাতেই পিতৃহারা হতে হয়েছে এবং কঠোর পরিশ্রম করার পরিবর্তে, তারা ভাগ্যকে অভিশাপ দিতে থাকে।

সুনীতা কনস্টেবল, পুলিশ লাইন বেরেলি
এই পুলিশ কনস্টেবল ভাইবোনদের মধ্যে বড়৷ সুনিতা ২০১৬ সালে ইউপি কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। বিবিএ পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণ করা সুনীতা অতীতে বেরেলি জেলার কিলা থানায় কর্মরত৷ এখনও বরেলি পুলিশ লাইন্সে কর্মরত।

রঞ্জিতা: প্রথমে কনস্টেবল, এখন শিক্ষক
দ্বিতীয় বোন রঞ্জিতা৷ বিএড এবং বিএসসি ডিগ্রি পেয়েছেন৷ তাঁর দুই ছোট বোন কুন্তি এবং অঞ্জলির সঙ্গে ২০১৯ সালের ইউপি পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় পাস করেন। রঞ্জিতা ইউপির মালওয়া থানায় পোস্টিং পেয়েছিলেন। পুলিশ কনস্টেবল হওয়ার পরও তিনি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি অব্যাহত রাখেন। সম্প্রতি তিনি শিক্ষক নিয়োগে নির্বাচিত হন এবং পুলিশ কনস্টেবল থেকে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

অঞ্জলি এবং কুন্তী কনস্টেবল, হুসাইনগঞ্জ
তৃতীয় ও চতুর্থ বোন অঞ্জলি এবং কুন্তীও৷ তাঁরাও বড় বোনের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ২০১৯ সালের ইউপি পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষা পাস করেছে। অঞ্জলি ইন্টার এবং কুন্তী বিএ প্রথম বর্ষ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন৷ এই দুই বোনই বর্তমানে ফতেহপুর জেলার হুসাইনগঞ্জ থানায় কর্মরত। এটি তাঁদের প্রথম পোস্টিং।

ধীরাজ পিএসি’তে প্রশিক্ষণরত
চার বোন ছাড়াও সম্প্রতি তাঁদের ভাই ধীরাজও সফল হয়েছে। তিনি পিএসি’তে কনস্টেবল পদে নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি পিএসিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ধীরজ বিএ দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনার সময়ই এই সাফল্য পেয়েছেন৷

বড় বোন সুনীতা জানান, ২০০২ সালে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁদের বাবা মারা যান৷ তাঁর মৃত্যুর খবরও এক সপ্তাহ পরে তাঁদের পরিবার পেয়েছিল। দুর্ঘটনার পরিচয় না পাওয়ার পর পুলিশ তাঁদের বাবার মৃতদেহ দাহ করেছিল। এরপর সংবাদপত্রে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে পরিবার তাকে পোশাকের মাধ্যমে চিহ্নিত করে৷।

স্বামীর মৃত্যুর পর মা মছলা দেবী সাত সন্তানের দেখাশোনা করেন। স্বামীর মৃত্যুর সময় ছোট মেয়ে অঞ্জলির বয়স ছিল মাত্র ১০ মাস। সুনীতার বয়স ছিল আট বছর, রঞ্জিতা ছয় বছর, কুন্তী দুই বছর, ধীরজ চার বছর, দ্বিতীয় ভাই সুধীর কুমারের বয়স ছিল ১৪ বছর। বড় বোন শশীর বিয়ে দিয়েছিলেন তাঁদের বাবা৷

সুনীতা জানান, তাঁদের কিছু জমি আছে। এছাড়াও তাঁর বাবার মৃত্যুর পর তারা মহিষ পালন শুরু করেন। গবাদি পশু এবং কৃষিকাজের মাধ্যমে মাছলা দেবী সব ছেলেমেয়ে পড়াশোনা করিয়েছেন৷ প্রত্যেকই সফল করেছেন৷ সুনীতা এবং তাঁর বোনরা তাঁদের মাকে সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করেন৷

মোদীর নাম জপেই বিজেপি-বিরোধী প্রচার চালাবে দেশের কৃষকরা

নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি-র বিরুদ্ধে প্রচার করবেন কৃষকরা। আর তাতেই রয়েছে চমক, বিজেপির কায়দাতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) নামেই এ বার প্রচার চালাবেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। রবিবার মুজফ্‌ফরনগরে মহাপঞ্চায়েত থেকে এমনটাই ঘোষণা করলেন কৃষক নেতা রাকেশ তিকাইত।

আরও পড়ুন সোমবার মাঝরাতে কৃষকদের অ্যাকাউন্টে টাকা দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে কৃষকদের শক্তি দেখাতে আয়োজন করা হয়েছিল মহাপঞ্চায়েতের। কৃষক নেতা রাকেশ তিকাইত জানান, ‘‘যদি সরকার আমাদের সমস্যা বোঝে তা হলে ভাল। না হলে দেশ জুড়ে এই ধরনের বৈঠক হবে। দেশ যাতে বিক্রি না হয়ে যায়, সে দিকে আমাদের নজর রাখতে হবে।’’

আরও পড়ুন বাইডেন সাক্ষাতে শীঘ্রই মার্কিন মুলুকে যাবেন মোদী


আরও পড়ুন দিল্লির কৃষক আন্দোলন ভুয়ো, বিরোধীদের মদতপুষ্ট: দিলীপ ঘোষ

কৃষকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গায় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবেন। আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে নির্বাচনের আগে যোগী আদিত্যনাথ ও তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো হবে। শুধু উত্তরপ্রদেশ নয়, গোটা দেশ জুড়ে এই রকমের প্রতিবাদের পরিকল্পনা করা হয়েছে। যেহেতু বিজেপি শুধু প্রধানমন্ত্রীর নামেই প্রচার চালায়, তাই আন্দোলনরত কৃষকরাও এ বার থেকে ওনার নামেই প্রচার চালাবে। এছাড়াও জানানো হয়েছে, আগামী ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যদি আন্দোলনকারী কৃষকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগগুলি প্রত্যাহার না করা হয়, তবে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা।

অন্যদিকে গত বছর থেকেই কৃষক আন্দোলনের বিরোধীতা করে আসছেন বিজেপি নেতারা। দিনকয়েক আগেই কৃষক আন্দোলন নিয়ে সরব হয়েছিলেন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে দিল্লির রাজপথে চলা কৃষক আন্দোলন ভুয়ো। সরাসরি অভিযোগ করলেন, এই আন্দোলন সংগঠিত নয়।, টাকা দিয়ে ভাড়া করে লোককে আনা হয়েছে। এদের শুধু মোদি বিরোধিতা করাই লক্ষ্য।

Atmanirbhar Bharat: স্বদেশী এই হাই-টেক বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট শত্রুকেও গুলি চালাবে

tech-jacke -made in meerut

#Atmanirbhar Bharat
নিউজ ডেস্ক: এটা কোন সাধারণ বুলেট প্রুফ জ্যাকেট নয়৷ এই জ্যাকেট একদিকে যেমন সেনা-পুলিশ জওয়ানের (soldiers) প্রাণ রক্ষা করবে৷ অন্যদিকে বুলেট থেকেই সরাসরি শত্রুকে লক্ষ্য করে গুলিও করবে৷ আর এই হাইটেক জ্যাকেট (Hi-tech jacket) তৈরি করেছে মিরাট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অটল কমিউনিটি ইনোভেশন সেন্টার (Atal Community Innovation Center)৷ এখানে শেষ নয়, এই সংস্থার দাবি, কোনও জওয়ান জখম হলে জ্যাকেটে থাকা হাইটেক প্রযুক্তি সরাসরি তা কন্ট্রোলকে জানিয়ে দেবে৷

আরও পড়ুন: নারীশক্তি: মা মজুর খেটে পিতৃহারা পাঁচ ছেলেমেয়েকেই পুলিশের উর্দি পরালেন

মিরাটের এমআইইটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের উদ্ভাবক শ্যাম চৌরাসিয়া দাবি করেছেন, এমন ধরনের একটি হাই-টেক জ্যাকেট ডিজাইন করা হয়েছে, যা গুলি চালানোর পাশাপাশি জওয়ানের আঘাত হওয়ার খবর ও তার অবস্থানসহ বিস্তারিত তথ্য কন্ট্রোল রুমকে জানাবে৷ যাতে আহত জওয়াদের চিকিৎসা অবিলম্বে শুরু করা যায় এবং তাদের জীবন বাঁচানো যায়। শ্যাম আরও বলেছেন, এই জ্যাকেটটি ওয়্যারলেস প্রযুক্তিতে সজ্জিত। এই হাই-টেক বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের একটি ওয়্যারলেস ট্রিগারও রয়েছে, যার সাহায্যে সেনা জওয়ানরা সীমান্তে ১০টিরও বেশি বন্দুক রেখে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে শত্রুদের উপযুক্ত জবাব দিতে সক্ষম হবে। এই জ্যাকেটটি মাত্র ১৫ দিনে প্রস্তুত করা হয়েছে। হাই-টেক জ্যাকেট ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সক্রিয় থাকে।

tech-jacke -made in meerut

অটল কমিউনিটি ইনোভেশন সেন্টারের প্রযুক্তিবিদ শ্যাম চৌরাসিয়া জানিয়েছে, এই প্রযুক্তির সাহায্যে সীমান্তে নিযুক্ত জওয়ানরা কখনও একা থাকবে না৷ কারণ, এই জ্যাকেট জওয়ানদের সীমান্তের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে ২৪ ঘন্টা যোগাযোগ রাখবে। জ্যাকেটে ১১ মিমি দু’টি ব্যারেল রয়েছে, যা জ্যাকেটের সামনে বা পিছনে লাগানো যেতে পারে। জ্যাকেটটি লাইভ ক্যামেরা দিয়ে সজ্জিত, যাতে শত্রুরা পিছন থেকে আক্রমণ করতে পারবে না৷ কারণ, কন্ট্রোল রুম এবং জওয়ান পিছনসহ আশপাশের ছবি দেখতে পাবেন. আর সেই মতো শত্রুকে উপযুক্ত জবাব দিতে পারবে৷ জ্যাকেটে থাকা লাইভ বন্দুকটি ইন্টারনেট থেকেও চালানো যায় এবং যদি কোনও শত্রু কোনও জওয়ানকে আক্রমণ করে, তাহলে এই জ্যাকেট তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুলি করবে। দাবি করা হয়েছে, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটে লাগানো বন্দুকের ফায়ার রেঞ্জ ২০০ মিটার। এই জ্যাকেটের সাহায্যে যে কোন ধরনের অস্ত্র চালানো যায়।

আরও পড়ুন: নাম না-জানা জারারাকুস্সু পিট ভাইপারের বিষেই মরছে করোনা ভাইরাস

এই সম্পূর্ণ সিস্টেমটি MIET ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অটল কমিউনিটি ইনোভেশন সেন্টারে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশেষ বিষয় হল এই জ্যাকেটে ইনস্টল করা সমস্ত সরঞ্জাম ভারতীয়। এটি তৈরি করতে ২৫ দিন লেগেছিল। সম্পূর্ণ প্রোটোটাইপ প্রকল্পগুলি প্রস্তুত করতে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এটি কলেজে পড়ে থাকা আবর্জনা থেকে প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে ৩.৭ ভোল্ট ব্যাটারি, ৯ ভোল্ট ব্যাটারি, সোলার প্লেট ৬ ভোল্ট, এলার্ম, ট্রান্সমিটার রিসিভার, জিপিএস, মেটাল পাইপ, রিলে ৫ ভোল্ট, ক্যামেরা, ১০ মিমি পাইপ রয়েছে।

আরও পড়ুন: BA-BCom পাস করে ঠেলাগাড়িতেই স্বপ্নের ঠিকানা খুঁজছেন শহরের চার যুবক

এমআইইটির ভাইস-চেয়ারম্যান পুনিত আগরওয়াল বলেন, যারা কিছু উদ্ভাবক করতে চায়, অটল কমিউনিটি ইনোভেশন সেন্টার সায়েন্স ল্যাব সম্পূর্ণরূপে সহযোগিতা করে শিক্ষার্থীদের৷ যাতে তরুণরা তাদের চিন্তাকে প্রোটোটাইপে রূপান্তর করতে পারে এবং পেটেন্ট করতে পারে। তিনি বলছেন, যে সমস্ত মেধাবীরা সুযোগ পাচ্ছে না, তারা তাদের নতুন আইডিয়া নিয়ে এখানে প্রজেক্ট তৈরি করছে। এই হাই-টেক জ্যাকেটটিও পেটেন্ট করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: হোমিওপ্যাথি ওষুধ খেলে কয়েকটি নিয়ম মেনে চলুন, সুফল পাবেন তাড়াতাড়ি

তবে প্রতিরক্ষার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, যতক্ষণ না এর পরীক্ষা শেষ হচ্ছে, ততক্ষণ এর উপযোগিতা সম্পর্কে কিছু বলা যাবে না। এই প্রকল্পের পেটেন্ট করার আগে সেনাবাহিনীর সঙ্গে একটি পরীক্ষা করা উচিত৷ তবেই এর উপযোগিতা জানা যাবে। তবে এই জ্যাকেটটি আজকাল মানুষের মধ্যে অবশ্যই আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নাম পরিবর্তনের পথে যোগী রাজ্যের তৃতীয় জেলা, সুলতানপুর হচ্ছে কুশভবনপুর

নিউজ ডেস্ক: নামবদলের দাবির হিড়িক পড়েছে উত্তরপ্রদেশে। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের জমানাতেই এলাহাবাদ হল প্রয়াগরাজ, মোঘলসরাই হয়েছে দীনদয়াল উপাধ্যায় নগর, ফৈজাবাদ বদলে হল অযোধ্যায়, ফিরোজাবাদ হয়েছে চন্দ্রনগর। সম্প্রতি বিজেপি নেতা কল্যাণ সিংহের নামে আলিগড় বিমানবন্দরের নাম রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আলিগড় জেলা পঞ্চায়েতের প্রথম বৈঠকেই প্রস্তাবটি পাশ হয়েছে। পঞ্চায়েতের ৭২ সদস্যের মধ্যে ৫০ জন এই প্রস্তাব সমর্থন করেছেন। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। ‘মিঞাগঞ্জ’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘মায়াগঞ্জ’ রাখার দাবিও তোলা হয়েছে সম্প্রতি। তারও আগে মির্জাপুরের নাম বদলে ‘বিন্ধ্য ধাম’ করার দাবি উঠেছে।

আরও পড়ুন যোগী-রাজ্যের ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রে ভয়ে কাঁপবে পাকিস্তান-চিন

এবার দাবি উঠেছে, সুলতানপুরের নাম বদলে করা হোক কুশভবনপুর। রামের পুত্র কুশের নামেই ওই স্থানের নামকরণের পরিকল্পনা নিয়েছে যোগী আদিত্যনাথের সরকার। ২০১৮ সালে উত্তরপ্রদেশের বিধায়ক দেবমণি দ্বিবেদী এই প্রস্তাব রেখেছিলেন। পরে সুলতানপুরের জেলাশাসক ও অযোধ্যার ডিভিশনাল কমিশনারও রাজ্য সরকারের কাছে এই প্রস্তাব রেখেছিলেন। পরের বছর, ২০১৯ সালে উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল রাম নায়েক মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে চিঠি লিখে ওই পরিবর্তনের আরজি জানান।

এর আগে উত্তরপ্রদেশের দুটি জেলার নাম পরিবর্তন হয়েছে। ফৈজাবাদের নাম বদলে অযোধ্যা ও এলাহাবাদের নাম বদলে প্রয়াগরাজ করা হয়েছিল। এবার সুলতানপুরের নাম বদলে কুশভবনপুর করা হলে সেটি রাজ্যের তৃতীয় নাম পরিবর্তিত জেলা হবে। এই মুহূর্তে সেই প্রস্তাব নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।

মিঞাগঞ্জের নাম বদলে নতুন নাম হোক মায়াগঞ্জ। উন্নাওয়ের জেলাশাসক রবীন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে তাঁর কাছে নাম বদলের সুপারিশ এসেছে। গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে ‘মিঞাগঞ্জ’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘মায়াগঞ্জ’ রাখার দাবি তোলা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য তিনি তা রাজ্য সরকারের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এছাড়াও মির্জাপুরের নাম বদলে ‘বিন্ধ্য ধাম’ করার দাবিও উঠেছে। রাজ্যের মন্ত্রী রামশংকর সিং প্যাটেল এমনই দাবি তুলেছেন। ফলে নাম পরিবর্তনের ‘রাজনীতি’ নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে উত্তরপ্রদেশ জুড়ে।

যোগী-রাজ্যের ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রে ভয়ে কাঁপবে পাকিস্তান-চিন

নিউজ ডেস্ক: সোমবারই হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (Hindustan Aeronautics Limited) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিই এভিয়েশনের সঙ্গে ৭১৬ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করল। দেশীয় তেজাস লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এলসিএ) এমকে-১ এর শক্তি বাড়ানোর জন্য ৯৯ টি এফ-৪০৪ এয়ারক্রাফট ইঞ্জিন এবং সাপোর্ট সার্ভিসের দেবে হ্যাল। এবার উত্তরপ্রদেশে তৈরি হতে চলেছে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র। সে রাজ্যে কারখানা নির্মাণের ছাড়পত্র দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

আরও পড়ুন HAL-এর সঙ্গে ৭১৬ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করল GE Aviation

ডিফেন্স করিডর প্রকল্পের জন্য ২০০ একর জমি চেয়ে ইউপিইআইডিএ-র (U.P. Expressways Industrial Development Authority) সিইও ও অতিরিক্ত মুখ্যসচিবকে (স্বরাষ্ট্র) অবনীশ অবস্তিকে চিঠি দিয়েছিলেন ব্রহ্মস এরোস্পেসের ডিরেকটর জেনারেল সুধীরকুমার মিশ্র। ব্রহ্মস এরোস্পেস সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার মিটিং করার পর ইতিমধ্যেই ব্রহ্মস এরোস্পেসকে জমি দেওয়ার বিষয়ে শীলমোহর দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। গোটা প্রকল্পে ইতিমধ্যেই সবুজ সংকেত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

আরও পড়ুন NASA Report: কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চলসহ দেশের ১২টি শহর নিশ্চিহ্ন হবে

কারখানা তৈরি হলে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে উত্তরপ্রদেশ। গোটা প্রকল্পে ৩০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হতে চলেছে। উৎপাদন কেন্দ্রে কর্মসংস্থান হবে প্রায় ৫০০ ইঞ্জিনিয়ার ও প্রযুক্তিবিদের। কাজ করবেন অন্তত ১০ হাজার শ্রমিক। অন্যান্যভাবে কারখানার সঙ্গে যুক্ত হবেন আরও কয়েক হাজার লোক। শুধু আর্থ-সামাজিক ভাবে উত্তরপ্রদেশকেই এগিয়ে নিয়ে যাবে না, এই প্রকল্পে সামরিক ক্ষেত্রেও অনেক শক্তিশালী হবে ভারত। এমনটাই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন শিল্পেই বিপ্লব: তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কাবুলের গ্রাফিতি শিল্পী শামসিয়া হাসানি

উত্তরপ্রদেশ সরকার বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, ‘আগামী তিন বছরে ১০০-র বেশি ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি প্রকল্প এবং ক্ষেপনাস্ত্র উৎপাদনের কাজ শুরু হবে। শুধু ক্ষেপনাস্ত্র উৎপাদনই নয়, একইসঙ্গে ক্ষেপনাস্ত্র বিষয়ক গবেষণাগার তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।’

বাংলার ভাঁড়ার ‘গড়ের মাঠ’ হলেও পর্যাপ্ত করোনা টিকা পাচ্ছে গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ

Covid vaccination

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে করোনার টিকাকরণ কর্মসূচিতে গতি আনতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যে-রাজ্যে টিকাকরণ কর্মসূচি আরও জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে বাংলায় এখনও টিকার জোগান কম। অন্যান্য বেশ কয়েকটি রাজ্যে বাংলার চেয়েও বেশি পরিমাণ টিকা পাঠানো হয়েছে। সংসদে খোদ এই তথ্য দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। বাংলার চেয়েও বেশি টিকা পাঠানো হয়েছে গুজরাত, কর্ণাটক, উত্তর প্রদেশ-সহ পাঁচটি রাজ্যে।

পর্যাপ্ত টিকা পাঠানো হচ্ছে না বাংলায়। বারবার এই অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্র টিকা দিচ্ছে না বলেই রাজ্যের টিকাকরণ কর্মসূচি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ সরকারের। প্রকাশ্যে টিকা নিয়ে বহু বার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিমাতৃসুলভ আচরণের অভিযোগ এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি টিকা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠিও পাঠিয়েছেন তিনি।

এরপরেও পর্যাপ্ত টিকা পাঠানো হচ্ছে না বাংলায়। তবে বাংলা না পেলেও গুজরাত, কর্ণাটক উত্তরপ্রদেশ সহ পাঁচটি রাজ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে টিকা পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তৃণমূল সাংসদ মালা রায় সংসদে জানতে চেয়েছিলেন,৩০ জুন পর্যন্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোতে কেন্দ্র কত টিকা পাঠিয়েছে?সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী টিকার বন্টন নিয়ে এই তথ্য তুলে ধরেছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ৩০ জুন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গকে ২ কোটি ২৮ লক্ষ ৫৮ হাজার ৭৬০ টিকার ডোজ পাঠানো হয়েছে।

দলিত ভুলে ব্রাহ্মণদের ভোট পেতে মরিয়া মায়াবতী

mayawati targets bramhin voters for next assembly election

নিউজ ডেস্ক: নিজেকে দলিত সমাজের প্রতিনিধি বলে বরাবর দাবি করেন বহজন সমাজবাদী পার্টির নেত্রী মায়াবতী। জাতীয় রাজনীতিতে ‘দলিত কী বেটি’ বা দলিতের মেয়ে বলে তাঁর আলাদা পরিচয় রয়েছে। এই অবস্থায় বিধানসভা ভোটের মুখে বড় চমক দিলেন উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

বিপুল সংখ্যক ব্রাহ্মণদের নিয়ে সম্মেলনের আয়োজন করতে চলেছেন বিএসপি নেত্রী মায়াবতী। চলতি মাসের ২৩ তারিখ থেকে শুরু হবে সেই সম্মেলন। যা চলবে আগামী ২৯ জুলাই পর্যন্ত। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে এই ব্রাহ্মণ সম্মেলন শুরু হবে রাম জন্মভূমি অযোধ্যা থেকে। ছয়টি জেলায় ব্রাহ্মণদের নিয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত করা হবে।

জানা গিয়েছে যে ২৩ জুলাই সতীশ্চন্দ্র মিশ্রের মাধ্যমে এই সম্মেলন শুরু হবে। তিনি ব্রাহ্মণদের অযোধ্যার মন্দির দর্শন করাবেন। ইতিমধ্যেই শতাধিক ব্রাহ্মণ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজধানী লখনউ শহরে এসে উপস্থিত হয়েছেন। আর দলিত বা সংখ্যালঘু নয়, এবার ব্রাহ্মণদের সমর্থন নিয়েই ভোটের বৈতরণী পার করতে চাইছেন মায়াবতী। সেই কারণেই এই উদ্যোগ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

আগামী বছরের শুরুর দিকে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা ভোট রয়েছে। যার উপরে আগামী লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল নির্ভর করছে। সকল রাজনৈতিক দল বিজেপিকে পরাস্ত করতে মরিয়া। তবে সপা, বিএসপি বা কংগ্রেস কেউই জোটের পথে হাঁটবে না বলে জানিয়েছে। এই অবস্থায় মায়াবতীর এই ব্রাহ্মণ সম্মেলন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

ব্রাহ্মণদের একাংশ যোগী সরকারের উপরে সন্তুষ্ট নয়। অন্যদিকে, ব্রাহ্মণ ভোট ব্যাংক ফিরিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে কংগ্রেস এবং সপা। সেই একই পথে হাঁটছেন বিএসপি নেত্রী মায়াবতী। যদিও ব্রাহ্মণ বা উচ্চবর্ণের সমর্থন কখনই মায়াবতীর দিকে ছিল না। ২০০৭ সালে বিএসপি ব্রাহ্মণদের কিছু ভোট পেলেও পরে সেই ভোট বাংকে ভাটা পরে। যা ফেরাতে সচেষ্ট হয়েছেন তিনি। তবে ভোট ভাগাভাগিতে বিজেপির সুবিধা হয়ে হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।