টাকা দিলে তবেই ভোট মিলবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন গ্রামবাসীরা

vote for cash

News Desk, New Delhi: রাত পোহালেই তেলেঙ্গানার হুজুরাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। কিন্তু এই উপনির্বাচনের আগে ওই কেন্দ্রের বীনাবাঙ্কা গঙ্গারাম গ্রামের গ্রামবাসীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে রাজনৈতিক কাজিয়া। বিধানসভা নির্বাচনে হুজুরাবাদ কেন্দ্রটি দখল করেছিল রাজ্যের শাসক দল টিআরএস। কিন্তু বিধায়কের মৃত্যু হওয়ায় ওই কেন্দ্রে উপ-নির্বাচন হচ্ছে আগামীকাল শনিবার।

উপ নির্বাচনের আগে গত কয়েকদিন ধরেই বীনাবাঙ্কা গঙ্গারাম গ্রামের বাসিন্দারা তুমুল বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। গ্রামবাসীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের একটি মূল্যবান ভোট পেতে হলে টাকা দিতে হবে। আগে টাকা পরে ভোট। টাকা না পেলে কোনওভাবেই তাঁরা বুথমুখো হবেন না।

গ্রামের মহিলাদের অভিযোগ, আগের বিধানসভা নির্বাচনে টিআরএস তাঁদের ভোট দেওয়ার জন্য টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেকারণেই তাঁরা টিআরএস প্রার্থীকে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু ভোট মিটে গেলেও টিআরএসের পক্ষ থেকে আর টাকা দেওয়া হয়নি।

শুক্রবার সকালে ওই গ্রামের সরপঞ্চের বাড়ির সামনে বহু মহিলা বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, বেছে বেছে কিছু পরিবারকে মুখ বন্ধ খামে টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু টাকা যদি দিতেই হয় তবে সকলকেই দিতে হবে। টাকা না দিলে তাঁরা কেউ ভোট দিতে যাবেন না। ওই মহিলারা আরও বলেন, তাঁরা নিতান্তই গরীব। তাঁদের বাড়িঘর কিছুই নেই। দু’বেলা দু’মুঠো খাবারও জোটে না। এই অবস্থায় ভোট দিলে যদি কিছু টাকা মেলে তো সেটাই লাভ। তাই টাকা না পেলে তাঁরা ভোট দেবেন না।

গ্রামবাসীদের দাবি মুখ্যমন্ত্রী কেসিআর তাঁদের জন্য টাকা পাঠান। কিন্তু স্থানীয় নেতারা সেই টাকা নিজেদের পকেট পুরেছেন। মহিলাদের বিক্ষোভ ও দাবির বিষয়টি সামনে আসতেই সরব হয়েছে কংগ্রেস। তেলেঙ্গানার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অভিযোগ করেছেন, বিজেপি ও টিআরএস দুই দলই ভোটারদের কিনতে এভাবেই টাকা ছড়িয়ে থাকে।

এতদিন তাঁরা টাকা দেওয়ার অভিযোগ করলেও কেউ সে কথা বিশ্বাস করেনি। কিন্তু বীনাবাঙ্কা গ্রামের বাসিন্দাদের এই বিক্ষোভই প্রমাণ করে দিল যে, বিজেপি এবং টিআরএস রীতিমতো টাকা দিয়ে ভোট কেনে। এই মুহূর্তে কেন্দ্রে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে রাজ্যে টিআরএস। তাই তাদের টাকার কোনও অভাব নেই। টিআরএস তো এক একটি পরিবারকে ছয় থেকে আট হাজার টাকা দিচ্ছে। বিজেপিও পিছিয়ে নেই। তারাও দিচ্ছে দেড় থেকে দু’হাজার টাকা।

কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, নির্বাচন কমিশনের উচিত হুজুরাবাদ কেন্দ্রের উপনির্বাচন বাতিল করা। কারণ এই নির্বাচনে বিজেপি ও টিআরএস টাকা দিয়ে ভোট কিনছে। তাই এই ভোটে মানুষের মতামতের প্রকৃত প্রতিফলন হবে না। বিজেপিও টিআরএস ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বাচনকে পরিহাসে পরিণত করেছে।

সুন্দরী গরান রোপণের বদলে গ্রামবাসীদের পুজোর জামা উপহার ‘ম্যানগ্রোভ ম্যানে’র

Mangrove man Umashankar mandal

বিশেষ প্রতিবেদন: তিনি বাংলার ম্যানগ্রোভ ম্যান (Mangrove man)। পরিবেশবিদরা বলছেন পরিবেশ বাঁচাতে ম্যানগ্রোভ রোপন করতে। একার চেষ্টায় তা করে যাচ্ছেন বছর বিয়াল্লিশের গোসাবার বাসিন্দা উমাশঙ্কর মন্ডল ওরফে ম্যানগ্রোভ ম্যান। এবার তিনি পুজোয় এক দারুণ উদ্যোগ নিয়েছেন। যে গ্রামবাসীরা ম্যানগ্রোভ বাঁচাতে লড়াই করছেন তাঁদের পুজোর স্পেশ্যাল গিফট দেবেন তিনি।

অনেকটা ‘তোমরা আমাকে রক্ত দাও আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব ‘, এমন শোনাল কী? উমাচরণ বাঁচার স্বাধীনতা দেবেন। তাঁর কথায়, ‘যারা সারাবছর সুন্দরবন বাঁচানোর লড়াই করেন, আপনার আমার অক্সিজেনের যোগান দেওয়ার কাজ করে থাকে, পূজোয় কিছু উপহার দেওয়ার চিন্তাভাবনা তাদের জন্য।’ ম্যানগ্রোভ ম্যান’ উমাশঙ্কর মণ্ডল মনে করেন, সুন্দরবনের স্বার্থে আরও বেশি করে ম্যানগ্রোভ চারা লাগাতে হবে। আর পরিচর্যাও করতে হবে। ম্যানগ্রোভ চারা লাগানো আর পরিচর্যার উৎসাহ দিতেই পুজোর আগে গ্রামবাসীদের নতুন পোশাক বিতরণের ভাবনা। ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে এই কাজের আর্থিক তহবিল গড়ার কাজ করছেন তিনি।

Mangrove man Umashankar mandal

তিনি বলেছেন, “বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা স্বত্বেও আমরা মেতে উঠব উৎসবের আনন্দে, সমস্ত ভয় ভীতি আতঙ্ক জয় করে। জীবনের, বেঁচে থাকার, ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে মানুষের সাথে নিজেকে এক করে জীবন উপভোগ করার নামই হলো উৎসব। সামনেই বাঙালির অন্যতম বড় উৎসব দুর্গাপূজা।

প্রান্তিক মানুষের কাছে উৎসব এখন বাড়তি বোঝা। তাই আমরা ঠিক করেছি সুন্দরবনের একেবারেই প্রান্তিক এলাকার ২ থেকে ১০ বছরের বাচ্চাদের হাতে নতুন জামা উপহার। যাতে তাঁরাও উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়।পাশাপাশি বাঘের দ্বারা আক্রান্ত পরিবার ও একেবারেই আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া ৩৫০ জন মায়েদের একটি ছাপা শাড়ী দিয়ে সাহায্য করা। বিভিন্নভাবে বির্পযস্ত হয়ে যাওয়া মানসিক স্বাস্থ্যর কিছু উন্নতি ঘটানো। “

Mangrove man Umashankar mandal

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “আপনার নিজের পরিবারের পাশাপাশি বৃহৎ পরিবারের কথা ভেবে সাধ্যমত সামান্য সাহায্যের আবেদন নিয়ে হাত পেতে দাঁড়ালাম। উৎসবের দিনগুলিতে সুন্দরবনের সেই বাচ্চাটার গায়ের নতুন জামায় আপনার ভালবাসায় ছোঁয়া থাকুক, সেই প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুটির সারা গায়ে ভালবাসা হয়ে জড়িয়ে থাকুন উৎসবের কটা দিন। একটু চোখ বন্ধ করে ভাবুন উৎসবের দিনে একঝাঁক ফুলের মত শিশুর আনন্দ উচ্ছ্বাসে জড়িয়ে আছেন আপনি; নিজের হৃদয় নিজের সবটুকু ভালবাসা দিয়ে।”

Mangrove man Umashankar mandal

প্রাথমিক ভাবে ৪০০ শিশুর মুখে হাসি ফোটানর লক্ষ্যমাত্রা তাঁর। ৫০টি মেয়েদের কুর্তি ও ৩৫০ মায়ের হৃদয়ের টুকরোর উৎসবে মেতে ওঠার আনন্দ।বর্তমান সময়ে সকলের অর্থনৈতিক সঙ্কট। তবু সাহস করে এই কাজে নেমেছেন তিনি। তাঁরমূল লক্ষ্য, ১) দশ হাজার ম্যানগ্রোভ রোপন (২) চারশ শিশুকে জামা দেওয়া। (৩) তিনশ পঞ্চাশ জন মায়েদের ছাপা সূতির শাড়ী। (৪) কুড়ি জন মেয়েকে কুর্তি। (৫) পচিঁশ জন ছেলেদের গেঞ্জি দেওয়া।(৬) দুশজন বাচ্চা ও মায়ের দুপুরের খাওয়ার ব্যাবস্হা। এরা সকলে ম্যানগ্রোভ রোপন ও পরিচর্যার সাথে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত।