Panchayat Counting: বাহিনী অসহায়-পুলিশ নিরুপায়, গণনা কেন্দ্র যেন যুদ্ধক্ষেত্র

Panchayat Counting west bengal

Panchayat Counting: কড়া নিরাপত্তা বলয়ে রাজ্যের ২২টি জেলার ৩৩৯টি কেন্দ্রে চলছে ভোট গণনা৷ প্রতিটি গণনা কেন্দ্রে রয়েছে এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। জেলায় জেলায় গণনাকেন্দ্র যেন যুদ্ধক্ষেত্র৷ বাঙ্কার বানিয়ে পাহারা দিতে দেখা গেল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের।

ঢোকা ও বেরোনোর মুখে বাহিনীর তল্লাশির মুখে পড়তে হচ্ছে প্রত্যেককে। ভোটের দিন বিভিন্ন জেলার বুথে বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল৷ সকাল থেকে গণনা কেন্দ্রগুলিতে রাজনৈতিক সংঘর্ষ চলেছে। শাসক তৃণমূল বনাম বিরোধীদের সংঘর্ষ চলেছে। বোমা পড়ছে। পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের সামনেই বোমা পড়ছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে চলছে নিরাপত্তারক্ষীদের তাড়া।

গণনার দিন যাতে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ না ওঠে, সে জন্য শুরু থেকেই সতর্ক রাজ্য নির্বাচন কমিশন। হুগলি জেলার ১৮টি গণনাকেন্দ্রের ভিতরে ও বাইরে কড়া নিরাপত্তা রয়েছে। গণনায় হলগুলির সামনেও অত্যাধুনিক রাইফেল নিয়ে দায়িত্বে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। পঞ্চায়েত ভোটগণনার এই দৃশ্য বিরল৷

হুগলির পোলবা-দাদপুরের আলিনগর স্কুলে আবার দেখা গেল লাইট মেশিনগান নিয়ে পাহারা দিচ্ছেন বাহিনীর জওয়ানরা। আশপাশে জমায়েত দেখলেই তেড়ে যাচ্ছেন তারা। কোনও কোনও জায়গায় জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে হালকা লাঠিচার্জও করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

টাকা দিলে তবেই ভোট মিলবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন গ্রামবাসীরা

vote for cash

News Desk, New Delhi: রাত পোহালেই তেলেঙ্গানার হুজুরাবাদ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন। কিন্তু এই উপনির্বাচনের আগে ওই কেন্দ্রের বীনাবাঙ্কা গঙ্গারাম গ্রামের গ্রামবাসীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে রাজনৈতিক কাজিয়া। বিধানসভা নির্বাচনে হুজুরাবাদ কেন্দ্রটি দখল করেছিল রাজ্যের শাসক দল টিআরএস। কিন্তু বিধায়কের মৃত্যু হওয়ায় ওই কেন্দ্রে উপ-নির্বাচন হচ্ছে আগামীকাল শনিবার।

উপ নির্বাচনের আগে গত কয়েকদিন ধরেই বীনাবাঙ্কা গঙ্গারাম গ্রামের বাসিন্দারা তুমুল বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। গ্রামবাসীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের একটি মূল্যবান ভোট পেতে হলে টাকা দিতে হবে। আগে টাকা পরে ভোট। টাকা না পেলে কোনওভাবেই তাঁরা বুথমুখো হবেন না।

গ্রামের মহিলাদের অভিযোগ, আগের বিধানসভা নির্বাচনে টিআরএস তাঁদের ভোট দেওয়ার জন্য টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেকারণেই তাঁরা টিআরএস প্রার্থীকে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু ভোট মিটে গেলেও টিআরএসের পক্ষ থেকে আর টাকা দেওয়া হয়নি।

শুক্রবার সকালে ওই গ্রামের সরপঞ্চের বাড়ির সামনে বহু মহিলা বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, বেছে বেছে কিছু পরিবারকে মুখ বন্ধ খামে টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু টাকা যদি দিতেই হয় তবে সকলকেই দিতে হবে। টাকা না দিলে তাঁরা কেউ ভোট দিতে যাবেন না। ওই মহিলারা আরও বলেন, তাঁরা নিতান্তই গরীব। তাঁদের বাড়িঘর কিছুই নেই। দু’বেলা দু’মুঠো খাবারও জোটে না। এই অবস্থায় ভোট দিলে যদি কিছু টাকা মেলে তো সেটাই লাভ। তাই টাকা না পেলে তাঁরা ভোট দেবেন না।

গ্রামবাসীদের দাবি মুখ্যমন্ত্রী কেসিআর তাঁদের জন্য টাকা পাঠান। কিন্তু স্থানীয় নেতারা সেই টাকা নিজেদের পকেট পুরেছেন। মহিলাদের বিক্ষোভ ও দাবির বিষয়টি সামনে আসতেই সরব হয়েছে কংগ্রেস। তেলেঙ্গানার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অভিযোগ করেছেন, বিজেপি ও টিআরএস দুই দলই ভোটারদের কিনতে এভাবেই টাকা ছড়িয়ে থাকে।

এতদিন তাঁরা টাকা দেওয়ার অভিযোগ করলেও কেউ সে কথা বিশ্বাস করেনি। কিন্তু বীনাবাঙ্কা গ্রামের বাসিন্দাদের এই বিক্ষোভই প্রমাণ করে দিল যে, বিজেপি এবং টিআরএস রীতিমতো টাকা দিয়ে ভোট কেনে। এই মুহূর্তে কেন্দ্রে ক্ষমতায় রয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে রাজ্যে টিআরএস। তাই তাদের টাকার কোনও অভাব নেই। টিআরএস তো এক একটি পরিবারকে ছয় থেকে আট হাজার টাকা দিচ্ছে। বিজেপিও পিছিয়ে নেই। তারাও দিচ্ছে দেড় থেকে দু’হাজার টাকা।

কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, নির্বাচন কমিশনের উচিত হুজুরাবাদ কেন্দ্রের উপনির্বাচন বাতিল করা। কারণ এই নির্বাচনে বিজেপি ও টিআরএস টাকা দিয়ে ভোট কিনছে। তাই এই ভোটে মানুষের মতামতের প্রকৃত প্রতিফলন হবে না। বিজেপিও টিআরএস ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বাচনকে পরিহাসে পরিণত করেছে।