Rajya Sabha: সাংসদদের সাসপেনশনের নির্দেশ প্রত্যাহার না হওয়ায় ওয়াক আউট বিরোধীদের

Opposition members walked out

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: সংসদের বাদল অধিবেশনে (monsoon season) গন্ডগোল করার কারণে চলতি শীতকালীন অধিবেশন থেকে রাজ্যসভার (Rajya Sabha) ১২ জন সাংসদকে সাসপেন্ড (suspend) করা হয়েছে। শীত অধিবেশন শুরুর প্রথম দিনেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এম ভেঙ্কাইয়া নায়ডু (M. Venkaiah Naidu)।

ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য মঙ্গলবার আর্জি জানান বিরোধীরা। কিন্তু রাজ্যসভার চেয়ারম্যান মঙ্গলবার বিরোধীদের সেই আবেদন খারিজ করে দেন। চেয়ারম্যানের ওই সিদ্ধান্ত জানার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যসভা থেকে ওয়াক আউট (walk out) করে বিরোধীরা।

উল্লেখ্য, সোমবার রাজ্যসভার ১২ জন বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করেছিলেন সভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু। চেয়ারম্যানের ওই সিদ্ধান্তকে নজিরবিহীন বলা যায়। সাসপেন্ড হওয়া সাংসদদের মধ্যে ৬ জন কংগ্রেসের, তৃণমূল কংগ্রেস এবং শিবসেনার দুইজন করে এবং সিপিএম ও সিপিআইয়ের একজন করে সাংসদ ছিলেন। রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সংসদ ভবন চত্বরে বিক্ষোভ দেখায় বিরোধীরা। যদিও এই বিক্ষোভ সমাবেশে তৃণমূল কংগ্রেসকে দেখা যায়নি।

এদিন কংগ্রেসের সংসদীয় দলের নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, গন্ডগোলের ঘটনা ঘটেছিল বাদল অধিবেশনে। সেই ঘটনায় কিভাবে শীতকালীন অধিবেশনে সাংসদদের সাসপেন্ড করা যায়। আসলে মোদি সরকার বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই এভাবেই হেনস্তা করা হচ্ছে। অন্যদিকে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বলেন, প্রয়োজনে হাউস তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সাংসদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতেই পারে। বাদল অধিবেশনের তিক্ত অভিজ্ঞতা এখনও সকলেরই মনে আছে। সেই ঘটনার জন্য বিরোধী নেতারা দুঃখ প্রকাশ করবেন এমনটাই আশা করেছিলাম। কিন্তু তাঁরা তা করেননি, এটা মেনে নেওয়া যায় না।

যদিও রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের এই বক্তব্য বিরোধীরা মানতে রাজি নন। সেকারণেই তাঁরা সাসপেনশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাজ্যসভা থেকে ওয়াক আউট করেন।

Narendra Modi: সর্বদলীয় বৈঠকে অনুপস্থিত মোদী, ওয়াকআউট আম আদমি পার্টির

Narendra Modi did not attend the all-party meeting

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: সোমবার শুরু হচ্ছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন (winter season)। সেই অধিবেশন শুরুর আগে রবিবার সর্বদল বৈঠক (all party meeting) ডেকেছিল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী  (Narendra Modi) সরকার। এদিনের বৈঠকে ৩১ টি রাজনৈতিক দলের ৪২ জন নেতা অংশ নিয়েছিলেন। উপস্থিত থাকবেন বলে জানালেও শেষ পর্যন্ত বৈঠকে দেখা মিলল না প্রধানমন্ত্রীর (prime minister)।

এদিন বৈঠকের শুরুতে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী (prahlad joshi) বলেন, এতদিন সর্বদলীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীরা থাকতেন না। সর্বদলীয় বৈঠকে উপস্থিত থাকার এই নিয়ম মোদীই চালু করেছিলেন। কিন্তু বিশেষ কাজ থাকায় আজ তিনি এই বৈঠকে থাকতে পারলেন না। এর জন্য প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলেও জোশী জানান।

জোশীর ওই কথায় কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে বলেন, তাঁরা আশা করেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে মোদী থাকবেন। কারণ কৃষি আইন প্রত্যাহার বিল-সহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর কাছে জানার ছিল। সেই সুযোগ আর হল না। এদিনের বৈঠকে প্রায় সবকটি বিরোধী দলই দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানীর মূল্য বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, পেগাসাস কাণ্ড, করোনার নতুন স্ট্রেনের মোকাবিলা-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন।

আজকের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গ-সহ আরও কয়েকটি রাজ্যের নেতারা সীমান্তে বিএসএফের এলাকার পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি উত্থাপন করেন। এদিন সর্বদলীয় বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করেন আম আদমি পার্টির নেতা সঞ্জয় সিং। সঞ্জয়ের অভিযোগ, তিনি কৃষকদের দাবি মত ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলােন। কিন্তু সরকার পক্ষ তাঁকে কথা বলতে দেয়নি। তাই এই বৈঠকে থাকার কোনও অর্থ হয় না। এরপরই সঞ্জয় সভা থেকে বেরিয়ে যান।

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য এবং লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির বিনিয়োগের বিষয়ে সরকারের বক্তব্য জানতে চান। বৈঠকে প্রায় সব রাজনৈতিক দলই ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে আইন করার জন্যও সরকারের কাছে অনুরোধ জানান।

বৈঠক শেষে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী জোশী জানান, তাঁরা বিরোধীদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ পেয়েছেন। সরকার সেগুলি নিয়ে সভায় আলোচনা করতে প্রস্তুত। বিরোধীরা সংসদ চালাতে ও গঠনমূলক আলোচনা করতে সরকারকে সাহায্য করবে বলে তাঁদের আশা।