Covaxin : দীপাবলির সকালে আরও এক সুখবর শোনাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

Covaxin

News Desk: দীপাবলীর সকালেই আরও এক সুখবর শোনালো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। মাত্র ২৪ ঘন্টা আগে ভারতীয় সংস্থা ভারত বায়োটেকের তৈরি করোনা টিকা কোভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দিয়েছে হু। বৃহস্পতিবার সকালে হু-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাচ্চাদের টিকা করণের জন্য খুব শীঘ্রই ছাড়পত্র দেওয়া হবে কোভ্যাকসিনকে।

বৃহস্পতিবার হু-র শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথন বলেন, শিশুদের উপর কোভ্যাকসিনের পরীক্ষা ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। শিশুদের উপর কোভ্যাকসিনের কার্যকারিতা অত্যন্ত ভালো বলে প্রমাণ হয়েছে। এখন শুধুমাত্র ড্রাগ কন্ট্রোলারের অনুমতির অপেক্ষা। ড্রাগ কন্ট্রোলারের অনুমতি মিললে শিশুদের শরীরে কোভ্যাকসিন প্রয়োগে আর কোনও সমস্যা থাকবে না। উল্লেখ্য, দেশে শিশুদের উপর কোভ্যাকসিনের পরীক্ষা বেশ কিছুদিন আগেই শুরু করেছিল ভারত বায়োটেক।

আমেরিকার সংস্থা ফাইজারের টিকাও শিশুদের জন্য উপযুক্ত। কিন্তু ফাইজারের টিকা শুধুমাত্র ১২ বছরের উর্ধ্বে থাকা শিশুরাই পেয়ে থাকে। শেষ পর্যন্ত হু যদি ছাড়পত্র দেয় তবে ২ বছর থেকে ১৮ বছর বয়সিদের জন্য কোভ্যাকসিন শীঘ্রই আসতে পারে দেশের বাজারে। তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে।

এদিন টিকা নির্মাতা সংস্থা ভারত বায়োটেকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিন ভাগে ভাগ করে তারা শিশুদের উপর কোভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালিয়েছে। প্রথম ধাপে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সি, দ্বিতীয় ধাপে ৬ থেকে ১২ এবং তৃতীয় ধাপে ২ থেকে ৬ বছর বয়সিদের টিকা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে যত জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে তাদের সকলের শরীরেই তৈরি হয়েছে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি। স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা। এ থেকেই প্রমাণ হচ্ছে যে শিশুদের উপরেও কোভ্যাকসিন যথেষ্ট কার্যকর।

এখন গোটা দেশ তথা বিশ্ব তাকিয়ে রয়েছে হু-র দিকে। কারণ যত তাড়াতাড়ি হু-র ছাড়পত্র মিলবে তত তাড়াতাড়ি শিশুদের টিকাকরণ শুরু হয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন করানোর তৃতীয় ঢেউ শিশুদের উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। সে কারণে খুব তাড়াতাড়ি শিশুদের টিকা দেওয়ার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। ভারত বায়োটেকের দাবি, তারা যে সমস্ত শিশুদের উপর টিকা প্রয়োগ করেছিল তাদের শরীরে এই ভ্যাকসিন প্রায় ৭৯ শতাংশই কার্যকর হয়েছে। পাশাপাশি টিকা দেওয়ায় কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দেয়নি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ছাড়পত্র পেল কোভ্যাকসিন, কাটল বিদেশ সফরের বাধা

Covaxin Gets WHO Approval

News Desk: শেষ পর্যন্ত ভারতে তৈরি প্রথম করোনা টিকা কোভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বুধবার হু-র বিশেষজ্ঞ কমিটি জরুরি ভিত্তিতে কোভ্যাকসিন ব্যবহার করার অনুমোদন দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই সিদ্ধান্তে যারা কোভ্যাকসিনের দু’টি ডোজ নিয়েছেন তারা সহজেই ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশে যাওয়ার অনুমতি পাবেন। উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহেই অস্ট্রেলিয়া সরকার কোভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দিয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে হু-র বিশেষজ্ঞ কমিটি কোভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়ে আলোচনায় বসে ছিল। কিন্তু কোভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা ভারত বায়োটেকের সব প্রশ্নের উত্তরে সন্তুষ্ট হতে পারেননি বিশেষজ্ঞরা। যে কারণে কোভ্যাকসিন ছাড়পত্র পায়নি। ছাড়পত্র দেওয়ার আগে ভারত বায়োটেকের কাছে আরও বিভিন্ন নথিপত্র চেয়ে পাঠানো হয়। সংস্থার পক্ষ থেকে টিকা সংক্রান্ত ওই সমস্ত নথিপত্র হু-র বিশেষজ্ঞদের কাছে পেশ করা হয়। এমনকী, মানুষের শরীরে তৃতীয় পর্যায়ের পরীক্ষার ফলাফলের বিস্তারিত রিপোর্টও হু-র বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠায় ভারত বায়োটেক।

বুধবার ওই সমস্ত নথিপত্র নিয়ে পুনরায় আলোচনায় বসে হু-র বিশেষজ্ঞ কমিটি। দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর বিশেষজ্ঞ কমিটি কোভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দেয়। হু-র বিশেষজ্ঞ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁরা এই টিকা সম্পর্কে যে সমস্ত তথ্য জানতে চেয়েছিলেন ভারত বায়োটেক সেগুলি তাঁদের জানিয়েছে। শুধু জানানোই নয়, তাঁরা পরীক্ষা করে দেখেছেন এই ভ্যাকসিন যথেষ্ট নিরাপদ, সুরক্ষিত ও কার্যকর। কোভ্যাকসিন সম্পর্কে তাঁদের মনে যে সমস্ত প্রশ্ন ছিল ভারত বায়োটেকের দেওয়া তথ্যে সেগুলি দূর হয়েছে।

তাই ভারত বায়োটেকের তৈরি করোনার টিকা কোভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দিতে আর কোন সমস্যা নেই। এরপরই হুর বিশেষজ্ঞ কমিটি সর্বসম্মতভাবে কোভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে হু-র বিজ্ঞানী সৌম্যা স্বামীনাথন জানিয়েছিলেন, ভারত বায়োটেকের তৈরি টিকা কোভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে তাঁরা প্রাথমিকভাবে সন্তুষ্ট। তবে এই টিকা সম্পর্কে তাঁরা আরও কিছু তথ্য প্রমাণ চান। সেগুলি পেলেই তাঁরা কোভ্যাকসিনকে ছাড়পত্র দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। শেষ পর্যন্ত কোভ্যাকসিন সম্পর্কে যাবতীয় সন্দেহের নিরসন হওয়ার পরই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এই টিকাকে অনুমোদন দিল।

প্রসঙ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন না থাকায় কোভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নেওয়ার পরেও কেউই বিদেশ সফরে যেতে পারছেন না। হু-র ছাড়পত্র না থাকায় আমেরিকা ও ইউরোপের একাধিক দেশ কোভ্যাকসিনকে মেনে নেয়নি। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এদিনের সিদ্ধান্তে সেই সমস্যা নিশ্চিতভাবেই মিটতে চলেছে। অর্থাৎ যারা কোভ্যাকসিনের দু’টি ডোজ জানিয়েছেন তাঁরা চাকরি বা পড়াশোনা করার প্রয়োজনে আমেরিকা, ইউরোপ-সহ বিশ্বের যে কোনও দেশেই যেতে পারবেন।

Covid 19: জীবাণু বোমা নয় করোনা, চাঞ্চল্যকর দাবি মার্কিন গোয়েন্দাদের

Director of National Intelligence Avril Haines

News Desk: করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পিছনে কোনও জীবাণু বোমার প্রয়োগ নয়, এটির সংক্রমণ পরিবেশগত কারণেই। এমনই জানিয়ে দিল ইউএস ডিরেক্টর অফ ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (ওডিএনআই)।

মার্কিন গোয়েন্দাদের আরও দাবি, করোনার উৎপত্তি সম্ভবত কখনোই জানা যাবে না। তবে ভাইরাসটি জীবাণু অস্ত্র হিসেবে তৈরি করা হয়নি।

বিবিসি জানাচ্ছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংখ্যাগুলির রিপোর্টে লেখা আছে, করোনা ছড়ানোর ক্ষেত্রে একটি প্রাণী থেকে মানুষে সংক্রমণ এবং ল্যাব লিক দুটোই যুক্তিযুক্ত অনুমান। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য পর্যাপ্ত তথ্য নেই।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের শেষের দিকে চিনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে কোভিড-১৯ প্রাথমিক প্রাদুর্ভাবের আগে ভাইরাসটির অস্তিত্ব সম্পর্কে জানা ছিল না চিনা কর্মকর্তাদের।

বিবিসি আরও জানাচ্ছে, ইউএস ডিরেক্টর অফ ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের রিপোর্টে বলা হয়, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ভাইরাসটির সম্ভাব্য উৎস নিয়ে বিভক্ত। চারটি গোয়েন্দা সংস্থার দাবি একটি সংক্রমিত প্রাণি বা অন্য কোনও ভাইরাস থেকে উদ্ভূত হয়েছিল করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর।।

চিন থেকেই এই ভাইরাস বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। করোনার হামলায় বিশ্ব বিপর্যস্ত হয়েছে। মৃত্যু মিছিল চলেছে। আপাতত টিকা প্রয়োগ চলছে। এতে মৃত্যুর হার কমানো গিয়েছে।

তবে করোনা সংক্রমণের প্রথমদিকে এই ভাইরাস ছড়ানোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার তৎকালীন প্রেসিডেন্সি ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রমাগত চিনকে দোষারোপ করেছিলেন। কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছিল চিন। করোনা নিয়ে চিন-মার্কিন দ্বন্দ্বে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) পড়ে যায় মাঝখানে। ট্রাম্প সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কিছুটা কম। জীবাণু হামলার দু বছরের মাথায় এসেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলির রিপোর্ট। এতে চিনকে দায়ভার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, কোভিড-১৯ মোকাবিলার জন্য আগামী এক বছরে ২ হাজার ৩৪০ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন। এর জন্য সংস্থাটি জি-২০ গোষ্ঠীকে অর্থ প্রদানের আহবান জানিয়েছে।

‘হু’ প্রধান জানান, করোনা মহামারিতে দীর্ঘ সময় ধরে গরিব দেশগুলিকে সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত রাখতে পারবে না ধনী দেশগুলি। এর জন্য জি-২০ নেতারা এগিয়ে আসুন।

WHO: করোনার হামলা ২০২২ সাল জুড়েই, এসেছে সতর্কতা

WHO: Corona attacks throughout 2022

নিউজ ডেস্ক: করোনা এখনই কমছে না। এই জীবাণু সংক্রমণের কারণে মহামারি চলবে ২০২২ সাল পর্যন্ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এমন সতর্কতা দিয়েছে।  হু জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী করোনার টিকা পাচ্ছে না দরিদ্র দেশগুলো। এই কারণে এই মহামারি আগামী

বছরও গভীরভাবে বিদ্যমান থাকতে পারে।
হু কর্মকর্তা ব্রুস আইলওয়ার্ড বলেন, দরিদ্র দেশগুলিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক টিকা না পাওয়ার অর্থ করোনা সংকট অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ হতে চলেছে। তিনি বলেন, অর্থাৎ করোনা মহামারি ২০২২ সালেও থাকতে পারে। ডব্লিউএইচওর কর্মকর্তা বলেন, টিকাদানের ক্ষেত্রে আমরা সঠিক গতি পথে নেই। সএই কার্যক্রমকে গতিশীল করা দরকার।

হু রিপোর্ট ভিত্তি করে বিবিসি জানাচ্ছে,অন্যান্য মহাদেশের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ মানুষ যেখানে টিকা পেয়েছেন, সেখানে আফ্রিকা মহাদেশের মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশেরও কমসংখ্যক মানুষ এখন পর্যন্ত টিকার আওতায় এসেছে। এই দেশগুলির অসংগতি মানুষ প্রবল করোনা সংক্রমণের মুখে রয়েছেন।

বিবিসি জানাচ্ছে, টিকার অভাবে থাকা দেশগুলিতে এক কোটির বেশি ডোজ টিকা সরবরাহ করেছে ইংল্যান্ডে।  মোট ১০ কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তারা।

বিবিসি জানিয়েছে করোনা টিকার সিংহভাগ উচ্চসআয়ের দেশে চলে গেছে। বিশ্বব্যাপি করোনার টিকার মাত্র ২. ৬ শতাংশ পেয়েছে আফ্রিকা।

Red Volunteers: উৎসবে করোনার অট্টহাসি টের পেয়েই যুদ্ধে নামছে বামেদের রেড ভলান্টিয়ার্স

Red Volunteers

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: ‘আমরা তৈরি আছি’, বার্তা দিয়েছে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিরোধী সিপিআইএম সহ বামদলগুলির উদ্যোগে তৈরি বিখ্যাত রেড ভলান্টিয়ার্স (Red Volunteers)। অদৃশ্য জীবাণু ঘাতকের বিরুদ্ধে লড়তে দার্জিলিং থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা- সবকটি জেলার যত সদস্য রয়েছেন সবাইকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। কারণ, উৎসব শেষে করোনা সংক্রমণের হার বাড়তে চলেছে বলেই আশঙ্কা।

লোকসভার পর বিধানসভা ভোটে রাজ্যে বামেরা শূন্য হয়ে গেছে। কে বলবে সিপিআইএম এই রাজ্যে টানা সাড়ে তিন দশকের সরকার চালিয়েছে। এখন পরিস্থিতি এমন যে জামানত বাঁচানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। তার পরেও সিপিআইএমের মূল উদ্যোগে তৈরি রেড ভলান্টিয়ার্সদের ভূমিকা দেখেছেন রাজ্যবাসী। শাসক তৃণমূল কংগ্রেস, বিরোধী দল বিজেপির নেতা মন্ত্রীরা নিজেদের মোবাইলে স্থানীয় রেড ভলান্টিয়ার্সদের নাম ও নম্বর সেভ করেছেন। দুই দলের বহু নেতার স্পষ্ট মতামত, বলা তো যায় না বিপদ কখন হয়। তখন আর কেই বা আছে !

Red Volunteers

রেড ভলান্টিয়ার্স মানেই করোনা সংক্রমণ সংকটে বিপদের বন্ধু। যেভাবে লকডাউনের মাঝে এই লাল স্বেচ্ছাসেবকরা এগিয়ে এসেছিলেন ‘সিংহের মতো সাহস ও বাজপাখির মতো চোখ’ নিয়ে তাতে রাজ্য দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রবল আলোচিত হয় সংগঠনটি। বামপন্থী ছাত্র-যুব সংগঠনগুলির সদস্যদের নিয়ে তৈরি রেড ভলান্টিয়ার্স ফের সক্রিয়।

সোশ্যাল সাইটে রেড ভলান্টিয়ার্স গ্রুপে বারবার আবেদন জনানো হচ্ছে পরিস্থিতি বুঝে বাইরে বের হওয়ার। ইতিমধ্যেই করোনা আক্রান্তদের বাড়ি বাড়ি যেতে শুরু করেছেন রেড ভলান্টিয়ার্স সদস্যরা। পৌঁছে যাচ্ছে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও ওষুধ। উৎসব চলছে। যে যার মতো আনন্দ করছেন।

শারোদৎসবে প্রবল ভিড় ও উদাসীনতার কারণে করোনা সংক্রমণের বড়সড় আশঙ্কায় বুক কাঁপছে চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। তাঁদের আশঙ্কা, অতি দ্রুত বড়সড় সংক্রমণ ঢেউ আসতে চলেছে। তাঁদের মতে এর কারণ উৎসবে উদাসীন হয়ে ঘোরা অন্যতম কারণ।

Red Volunteers

বিশেষজ্ঞদের অভিমত ও সতর্কতা পেয়েই রেডভলান্টিয়ার্স সদস্যরা আসন্ন যুদ্ধের জন্য তৈরি হয়েছেন। পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার তাঁদের ভূমিকা আরও জবরদস্ত হবে এমনই আশা করছেন সদস্যরা। উৎসবের মাঝেও চলছে করোনা আক্রান্তদের জন্য পরিষেবা।

অভিযোগ, রাজ্য সরকার বাইরে বের হওয়ার নিয়ম শিথিল করতেই মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় বিপদ ডেকে এনেছে। আসন্ন বিপদের সতর্কতা দিতে শুরু করেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট। বলা হয়েছে, উৎসবের মাঝে দেশে ফের বাড়ল দৈনিক করোনা সংক্রমণ। বেড়েছে মৃত্যু। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৮,৯৮৭ জন। মৃত ২৪৬ জন। তবে একদিনে সুস্থ হয়েছেন ১৯,৮০৮ জন। করোনা আক্রান্তের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ সপ্তম স্থানে। রাজ্যে করোনা আক্রান্ত ১৫,৭৮,৪৮২ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৮,৯৩৫ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১৫,৫১,৮৯০জন।

Covid 19 : উৎসবে ‘কমছে’ কোভিড টেস্ট, ভিড়ে করোনার অট্টহাসি

durga puja pandal hopping

নিউজ ডেস্ক: সরকারি দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি গেছে গোল্লায়। করোনার প্রকোপ কম এই খবরটুকুই যেন সবাইকে উদ্বেলিত করেছে। ফলে রাস্তায় ভিড়, আর মন্ডপ দর্শনের আকাঙ্খা টেনে নিয়ে আসছে বিপদ। ভিড়ের মাঝে করোনাভাইরাসের অট্টহাসি সাধারণ মানুষ না শুনতে পেলেও বিশেষজ্ঞরা চিন্তিত। আশঙ্কা উৎসব শেষ হলেই বাড়বে এই ভাইরাস সংক্রমণ।

বিশেষজ্ঞরা কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখছেন, শারোদতসবের ছুটির আমেজে ক্রমাগত কমছে কোভিড টেস্ট। গত দু দিনে অর্থাৎ উৎসবের পঞ্চমী ও ষষ্ঠির দিনেই করোনা পরীক্ষা কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। রিপোর্টে উঠে এসেছে রবিবার করোনা সংক্রমণ পরীক্ষা হয়েছিল ৩৬ হাজার। আর সোমবার পরীক্ষা হয় ২৬ হাজার। অর্থাৎ গত ৪৮ ঘন্টায় রাজ্যে করোনা সংক্রমণের পরীক্ষা ১০ হাজার কমেছে।

durga puja pandal hopping

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মঙ্গলবার থেকে বাকি চারদিন শারোদতসবের মূল অনুষ্ঠানের মাঝে করোনা সংক্রমণের পরীক্ষা আরও কমে যাবে। এই প্রবণতা ভয়াবহ। কারণ সংক্রমণ পরীক্ষা কম হলে করোনা আক্রান্তের সঠিক সংখ্যা আরও কম নথিভুক্ত হবে। সেটাই প্রকাশ হবে। সেই রিপোর্ট দেখে আরও উল্লসিত হয়ে দর্শনার্থীদের ঢল নামবে মন্ডপে। বিপদ এখানেই। এমনই আশঙ্কা।

করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েছেন যারা তাদের স্বাভাবিক ধারণা, টিকা নিলে করোনা হবে না। বিপদ এখানেও। বিশেষজ্ঞরা বলছে, টিকা গ্রহীতা করোনায় আক্রান্ত হতেই পারেন। তবে তাঁর মৃত্যুর আশঙ্কা কম। সেই কারণে টিকা নেওয়া ব্যক্তি বেশি উদাসীন। তাঁর থেকেই করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে বেশি।

Who Report: করোনা তো শিশু! বায়ু দূষণে বছরে মৃত্যু ৭০ লক্ষ

air pollution

নিউজ ডেস্ক: টানা দু বছর ভয়াবহ করোনাভাইরাসের কবলে বিশ্ব। মৃত্যুর মিছিল চলেছে সর্বত্র। গবেষণা রিপোর্ট বলছে, করোনায় মৃত্যুর চেয়ে বায়ু দূষণে মৃত মানুষের সংখ্যা আরও ভয়াল। বছরে অন্তত ৭০ লক্ষ মানুষ মারা যান।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) আরও জানাচ্ছে, বিশ্বজুড়ে বায়ুর মান উন্নত করতে এয়ার কোয়ালিটি গাইডলাইনসে (একিউজিএস) পালনে কঠোর শর্ত আরোপ করা হচ্ছে। বুধবার নতুন একিউজিএস প্রকাশ করে হু।

হু বলেছে, তীব্র বায়ুদূষণ প্রতিরোধ করতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। কেননা বিশ্বজুড়ে বায়ুর মানের প্রতিটি সূচক নিম্নমুখী রয়েছে। জনস্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। এই অবস্থা অস্বাস্থ্যকর খাবার ও ধূমপানের চেয়েও বেশি স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি তৈরি করেছে।

air pollution

হু মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস বলেন, বায়ু দূষণের ফলে প্রতি বছর অন্তত ৭০ লক্ষ মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে। গবেষকেরা দেখিয়েছেন, এমনকি কম মাত্রায়ও দূষিত বায়ুও মানুষের শরীরের সব অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে মায়ের গর্ভে থাকা সন্তান এতে ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
রয়টার্স জানাচ্ছে, ২০০৫ সালের পর এবার এয়ার কোয়ালিটি গাইডলাইন আরও কঠোর করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আগের গাইডলাইন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বিশ্বের ৯০ শতাংশ মানুষ অস্বাস্থ্যকর বায়ুতে শ্বাসপ্রশ্বাস নিয়েছেন।

নতুন একিউজিএসে নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড ও কার্বন মনোক্সাইড সহ ছয় ধরনের দূষণ থেকে বায়ুমান উন্নত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
রয়টার্স জানাচ্ছে, অক্টোবরে স্কট

কোন পথে করোনা মুক্তি? উত্তর দিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান

Addressing a virtual community, Dr Tedros

নিউজ ডেস্ক, জেনেভা: মারণ ভাইরাস করোনার হাত থেকে মুক্তি মিলবে কবে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম ঘেব্রিয়েসুস জানিয়েছেন, বিশ্ববাসীর হাতেই রয়েছে করোনা-মুক্তির চাবিকাঠি। বিশ্বের সমস্ত দেশের নাগরিকরা যখন চাইবেন, তখনই শেষ হবে করোনার এই করাল কাল।

করোনার গ্রাসে গোটা বিশ্ব। দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে মারণ ভাইরাস। এখনও একাধিক দেশে করোনার সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। করোনায় মৃত্যু মিছিল দেখছে একের পর এক দেশ। মারণ এই সংক্রমণ থেকে মুক্তি মিলবে কবে?বিশ্বজুড়ে এই একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে।

গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মত আতঙ্ক বাড়াচ্ছে করোনার ডেল্টা স্ট্রেন। ভাইরাসের এই ধরনই এখন মাথাব্যথা বিশ্ববাসীর কাছে। অত্যন্ত সংক্রামক এই ডেল্টা স্ট্রেন। দ্রুত একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ঢুকে পড়তে পারে এই স্ট্রেন। এমনকী মানবদেহে তৈরি টিকার প্রাচীরও সহজেই ভেঙে ফেলতে সক্ষম করোনার এই নয়া ধরন।

বিশ্বের কমপক্ষে ১৩২ টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনার ডেল্টা স্ট্রেন। একের পর এক দেশ সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফের লকডাউনের পথে হাঁটতে শুরু করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কিছুদিন আগে জানিয়েছিলেন, করোনার টিকার সম্পূর্ণ ডোজ নেওয়া থাকলে মাস্ক পরার দরকার নেই। কিন্তু করোনার ডেল্টা স্ট্রেনের আতঙ্কে তিনিও অবস্থান বদলেছেন। দেশবাসীকে আবারও মাস্ক পরতে জোর দিতে বলছেন মার্কিন প্রশাসন।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধানের মতে, সংক্রমণ রুখতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই একমাত্র কর্তব্য। করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রুখতে স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে। এছাড়াও দ্রুতগতিতে টিকাকরণ, সংক্রমিতকে চিহ্নিত করে দ্রুত তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং সংক্রমিতের সংস্পর্শে আসা প্রত্যেককে চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা। করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রুখতে এই বিষয়গুলোর ওপর জোর দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বিপর্যস্ত বাংলার প্রতিবেশি দেশে করোনায় মৃত মাত্র এক

bhutan corona

নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদ রুখতে একদিন কুয়াশা ঢেকে থাকা অরণ্যের মাঝে গুলির ঝড় তুলেছিল রয়াল ভুটান আর্মি। ভারত বিরোধী জঙ্গি সংগঠনগুলির তখন ছেড়ে দে কেঁদে বাঁচি অবস্থা। এমনই ভুটান কিন্তু অদৃশ্য ঘাতক করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ চালাচ্ছে। ফলাফল চমকে দেওয়ার মতো। গত ১ বছর চার মাসের মধ্যে মৃত ১ জন!

পশ্চিমবঙ্গের পাশের এই দেশ আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং ও জলপাইগুড়ি জেলার সীমান্ত দিয়ে ঘেরা প্রতিবেশি ভুটান (ড্রাগনভূমি)। উত্তরবঙ্গ যখন করোনা সংক্রমণে জর্জরিত তখন এই এলাকা লাগোয়া বিদেশে চলছে করোনা বিরোধী মারাত্মক লড়াই।

রাজ্যের তিনটি জেলার লাগোয়া দক্ষিণ ভুটানের অন্তত ছটি জেলায় যখনই সংক্রমণ বেশি ছড়িয়েছে তখনই দেশটির সরকার জারি করেছে এলাকাভিত্তিক লকডাউন। ভুটান স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সর্বশেষ রিপোর্ট (৯.৭.২১) বলছে ২ হাজারের বেশি করোনা আক্রান্ত, ১,৯০০ জনের বেশি সুস্থ হয়েছেন। মৃত ১ জন।

আসছে করোনার তৃতীয় ঢেউ। সতর্ক সব দেশ। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার ভারত ও বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) আশঙ্কিত। পশ্চিমবঙ্গের আগামী করোনা পরিস্থিতি কী হবে তাও চিন্তার। আর একের পর এক সব সীমান্ত ফটক বন্ধ করে বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে ভুটান অসম এক লড়াইয়ে মত্ত।

ড্রাগন ফটকগুলি বন্ধ হলেও দেশটির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ১৮৩ কিলোমিটারের সীমান্তের বেশিরভাগই খোলা। ১৯৪৯ সালে জওহরলাল নেহরুর অবিস্মরণীয় ভুটান সফরের পর ভারতের সঙ্গে ‘মৈত্রী চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছিল ভুটান। সেই চুক্তির বলে দুই দেশের জনগণ ভিসা ছাড়া যাতায়াত করতে পারেন। জঙ্গল ও পাহাড় ঘেরা এই সীমান্ত সংলগ্ন দুই দেশের গ্রামগুলিতে কড়া নজর রেখে চলেছে ভুটান সরকার। শ’য়ে শ’য়ে স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন করা হয়েছে।

ভুটানের এই করোনা যোদ্ধাদের নাম অরেঞ্জ ফাইটার্স। ভুটানে পরিচিত ডি সুং (ডি সুপ) নামে। মূলত বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য সীমিত পরিকাঠামো দিয়ে অতি আধুনিক মানের এই বাহিনির (কমলা যোদ্ধা) কর্মকুশলতায় চমকে গিয়েছে হু। দুর্গম এলাকার কোনও অংশই বাকি নেই তাদের নজরদারি থেকে। এলাকাভিত্তিক গণস্বাস্থ্য কর্মসূচির বিরাট প্রয়োগ করছে অনুন্নত দেশের তালিকায় থাকা ভুটান।

ফল মিলছে হাতে হাতে। কড়া বাঁধুনিতে মোড়া দেশটি এখন করোনা বিরোধী লড়াইয়ে বিশ্বের কাছে চমক। এই চমকের আরও বাকি আছে। ভুটানের লড়াইকে স্বীকৃতি দিয়ে ভুটানকে সভাপতির পদে বসিয়েছে ওয়ার্ল্ড হেল্থ অ্যাসেম্বলি (WHA)। এর মাধ্যমে পরিচালিত হয় হু। সদস্য দেশগুলি একযোগে সমর্থন করেছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভুল উচ্চারণে ব্যাঙ্গ করে ‘বাটন’ বা বোতামের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন পূর্বতন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই ভুটানকে WHA সভাপতি পদে মেনে নিতে হয়েছে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই।

নিষিদ্ধ দেশ ঠিক নয়। তবে নিজেকে রহস্যের ঘেরাটোপে রেখে চমকে দেওয়া ভুটান কিন্তু এমনই। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশি দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডা লোটে শেরিং বাংলা ভালোই বোঝেন ও বলেন। তাঁর সূক্ষ্ণ বৈজ্ঞানিক নজরে থাকছে এই রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি। তাঁর নির্দেশে রোজকার তথ্য বিশ্লেষণে হচ্ছে পরের দিনের পরিকল্পনা। করোনা বিরোধী লড়াইয়ে রোজই দুর্গ রক্ষায় কোমরবেঁধে নেমে পড়ছেন ভুটানিরা।