Farmers Protest: আন্দোলনের পথ সরে আসার কথা ভাবছেন কৃষক নেতারা

farmer movement

News Desk, New Delhi: শেষ পর্যন্ত আন্দোলনের পথ থেকে সরে আসতে চলেছেন কৃষক নেতারা (Farmers Leader), এমনটাই ইঙ্গিত মিলল। সূত্রের খবর, তিন কৃষি আইন (Farm Law) বাতিলের পর কৃষকরা যে সমস্ত দাবি জানিয়েছিলেন সেগুলিও বেশিরভাগই মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার (Narendra Modi Government)।

সরকারের এই লিখিত আশ্বাসের মধ্যে ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করার বিষয়টিও রয়েছে। এরপরই শোনা যাচ্ছে প্রায় ১৫ মাস ধরে যে আন্দোলন চলছে সেই আন্দোলন থেকে সরে আসার পরিকল্পনা (Planning) করছেন কৃষক নেতারা।

বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষক সংগঠনগুলির কাছে কেন্দ্রের মোদি সরকার যে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাতে জানানো হয়েছে, ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একটি কমিটি তৈরি করা হবে। ফসলের গোড়া পোড়ানোর জন্য কৃষকদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত মামলা করা হয়েছে সেগুলি তুলে নেওয়া হবে। গত এক বছরে কৃষক আন্দোলন চলাকালীন কৃষকদের বিরুদ্ধ যে সমস্ত মামলা দায়ের হয়েছে সেই মামলাগুলি যদি কেন্দ্র প্রত্যাহার বা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় সেক্ষেত্রে কৃষক নেতারা আন্দোলনের পথ থেকে সরে আসবেন বলে সরকারকে পাল্টা আশ্বাস দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২০-র সেপ্টেম্বর মাসে সংসদে তিন কৃষি আইন তৈরি হয়েছিল। সরকারের দাবি ছিল, ওই আইন কৃষকদের জীবনের মানোন্নয়ন করবে। কিন্তু কৃষকদের পাল্টা দাবি ছিল, তাদের বড় মাপের ক্ষতি করবে এই আইন। সে কারণেই তাঁরা এই আইন প্রত্যাহার করার জন্য প্রায় ১৫ মাস ধরে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়েছেন। কৃষকদের সেই প্রবল আন্দোলনের চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে সাংবিধানিকভাবেই মোদি সরকার তিন কৃষি আইন প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

ছোট কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্যে তাঁদের ফসল বিক্রি করতে পারেন সে জন্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন কৃষক নেতারা।

Rajya Sabha: সাংসদদের সাসপেনশনের নির্দেশ প্রত্যাহার না হওয়ায় ওয়াক আউট বিরোধীদের

Opposition members walked out

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: সংসদের বাদল অধিবেশনে (monsoon season) গন্ডগোল করার কারণে চলতি শীতকালীন অধিবেশন থেকে রাজ্যসভার (Rajya Sabha) ১২ জন সাংসদকে সাসপেন্ড (suspend) করা হয়েছে। শীত অধিবেশন শুরুর প্রথম দিনেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান এম ভেঙ্কাইয়া নায়ডু (M. Venkaiah Naidu)।

ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য মঙ্গলবার আর্জি জানান বিরোধীরা। কিন্তু রাজ্যসভার চেয়ারম্যান মঙ্গলবার বিরোধীদের সেই আবেদন খারিজ করে দেন। চেয়ারম্যানের ওই সিদ্ধান্ত জানার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যসভা থেকে ওয়াক আউট (walk out) করে বিরোধীরা।

উল্লেখ্য, সোমবার রাজ্যসভার ১২ জন বিরোধী সাংসদকে সাসপেন্ড করেছিলেন সভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নাইডু। চেয়ারম্যানের ওই সিদ্ধান্তকে নজিরবিহীন বলা যায়। সাসপেন্ড হওয়া সাংসদদের মধ্যে ৬ জন কংগ্রেসের, তৃণমূল কংগ্রেস এবং শিবসেনার দুইজন করে এবং সিপিএম ও সিপিআইয়ের একজন করে সাংসদ ছিলেন। রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সংসদ ভবন চত্বরে বিক্ষোভ দেখায় বিরোধীরা। যদিও এই বিক্ষোভ সমাবেশে তৃণমূল কংগ্রেসকে দেখা যায়নি।

এদিন কংগ্রেসের সংসদীয় দলের নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, গন্ডগোলের ঘটনা ঘটেছিল বাদল অধিবেশনে। সেই ঘটনায় কিভাবে শীতকালীন অধিবেশনে সাংসদদের সাসপেন্ড করা যায়। আসলে মোদি সরকার বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই এভাবেই হেনস্তা করা হচ্ছে। অন্যদিকে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বলেন, প্রয়োজনে হাউস তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সাংসদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতেই পারে। বাদল অধিবেশনের তিক্ত অভিজ্ঞতা এখনও সকলেরই মনে আছে। সেই ঘটনার জন্য বিরোধী নেতারা দুঃখ প্রকাশ করবেন এমনটাই আশা করেছিলাম। কিন্তু তাঁরা তা করেননি, এটা মেনে নেওয়া যায় না।

যদিও রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের এই বক্তব্য বিরোধীরা মানতে রাজি নন। সেকারণেই তাঁরা সাসপেনশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাজ্যসভা থেকে ওয়াক আউট করেন।

Farm Laws Withdrawn: বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে পড়তে পারে সিলমোহর

Farm Laws Withdrawn

News Desk: গত শুক্রবার গুরু নানকের (guru nanak) জন্মদিন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তিন কৃষি আইন বাতিল করার কথা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু সেটা ছিল নিতান্তই মৌখিক বিষয়। তাই কৃষকরা বিশ্বাস ও ভরসা রাখতে পারেননি মোদি সরকারের উপর। কৃষক নেতারা সাফ জানিয়ে দেন, যতক্ষণ না সাংবিধানিকভাবে আইন বাতিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে ততক্ষণ তাঁরা আন্দোলনের রাস্তা থেকে সরে দাঁড়াবেন না।

কৃষকদের সেই দাবিকে মেনে নিয়েই কৃষি আইন বাতিলের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল নরেন্দ্র মোদি সরকার (narendra modi)। চলতি সপ্তাহেই সংসদের শীতকালীন অধিবেশন শুরু হচ্ছে। শীতকালীন অধিবেশনের (winter season) আগেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই আইন বাতিলের সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেওয়া হতে চলেছে বলে সূত্রের খবর।  আগামী বুধবার (wednesday) মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে। সেই বৈঠকেই কৃষি আইন প্রত্যাহারের বিষয়টিতে দেওয়া হবে চূড়ান্ত সিলমোহর।

farmers

উল্লেখ্য, শনিবার ঠিক এই বিষয়টিকে সামনে রেখেই কৃষি আইন বাতিলের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন দেশের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম। এই প্রবীণ কংগ্রেস নেতা বলেছিলেন, মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন ছাড়াই কীভাবে কৃষি আইন বাতিল হতে পারে? এই তিন কৃষি আইনকে কেন্দ্র করে বিগত এক বছর ধরে বিজেপিকে যথেষ্ট ব্যাকফুটে চলে যেতে হয়েছে। সে কারণে আগামী বছরের শুরুতেই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের (election) আগে কোনও ঝুঁকি নিতে চায়নি মোদি সরকার।

তারই ফলশ্রুতিতে তড়িঘড়ি বাতিল করা হয়েছে তিন কৃষি আইন। শুধু বাতিল করাই নয়, আইন বাতিল করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যেক দেশবাসীর কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন। যদিও তিনি বলেছেন, কৃষকদের উন্নতির কথা ভেবেই কৃষি আইন তৈরি করেছিলেন কিন্তু তাঁরা সেটা কৃষকদের বোঝাতে পারেননি। এটা তাঁদের ব্যর্থতা।

তবে শুধু তিন কৃষি আইন নয়। মোদি সরকারের কাছে কৃষকদেরও আরও কয়েকটি দাবি রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হল ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষকরা বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়েছেন। কৃষি আইন প্রত্যাহারের মূল দাবিটি মোদি সরকার মেনে নিলেও বাকিগুলোর বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারের তরফে কোনও ইঙ্গিত মেলেনি।