বিজেপি শাসিত রাজ্যে নির্মাণ শ্রমিকদের মজুরি সবচেয়ে কম

Construction-Workers'-Wages-Lowest-in-BJP-Ruled-States

ভারতের গ্রামীণ এলাকায় নির্মাণ শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি (Construction Workers Wages) নিয়ে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে। তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে নির্মাণ শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বিশেষ করে মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, ওড়িশা, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলিতে শ্রমিকদের আয় জাতীয় গড়ের (₹৪১৭.৩) নিচে রয়েছে।

বিজেপি শাসিত রাজ্যে নিম্নতম মজুরি
পরিসংখ্যান অনুসারে, মধ্যপ্রদেশে নির্মাণ শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি মাত্র ₹২৯২.৪, যা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিজেপি শাসিত গুজরাটে মজুরি ₹৩৪৪.৪, ওড়িশায় ₹৩৫৫.২, বিহারে ₹৩৬৫.৭ এবং উত্তরপ্রদেশে ₹৩৭৬.৬। এই রাজ্যগুলিতে নির্মাণ শ্রমিকরা প্রতিদিন গড়ে মাত্র ₹৩০০-₹৩৭০ আয় করেন, যা জীবিকা নির্বাহের জন্য অপ্রতুল। অন্যদিকে, বিজেপি শাসিত রাজ্য রাজস্থানে এই মজুরি ₹৪৩২.৭ টাকা। আর কংগ্রেস শাসিত কর্ণাটকে ₹৪৫৭.৬, যা কিছুটা ভালো হলেও জাতীয় গড়ের তুলনায় কম।

অন্য রাজ্যের তুলনায় বিশাল পার্থক্য
অন্যদিকে, কেরালা, তামিলনাড়ু, হিমাচল প্রদেশ এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মতো অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে শ্রমিকদের মজুরি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। কেরালায় দৈনিক মজুরি ₹৮৯৩.৬, যা মধ্যপ্রদেশের তুলনায় তিনগুণেরও বেশি। তামিলনাড়ুতে এটি ₹৫৩৯.৭, হিমাচল প্রদেশে ₹৫২৬.৯ এবং অন্ধ্রপ্রদেশে ₹৫২৪.৫। এসব রাজ্যে নির্মাণ শ্রমিকদের আয় অনেকটাই বেশি, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সাহায্য করে।

বিজেপি শাসিত রাজ্যে মজুরি কম থাকার কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে নির্মাণ শ্রমিকদের মজুরি কম থাকার পেছনে কয়েকটি মূল কারণ রয়েছে—
১. শ্রম নীতির অভাব: বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির অধিকাংশে শ্রম আইনের কঠোর প্রয়োগ নেই এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার দিকে খুব একটা নজর দেওয়া হয় না।
2. শিল্পায়নের অভাব: মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ওড়িশা ও উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলিতে পর্যাপ্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান ও নির্মাণ প্রকল্পের অভাব রয়েছে, যা শ্রমিকদের জন্য ভালো মজুরি নিশ্চিত করতে পারত।
৩. অসংগঠিত শ্রম বাজার: এসব রাজ্যে নির্মাণ শ্রমিকদের বেশিরভাগই অসংগঠিত শ্রম বাজারের অন্তর্ভুক্ত, যেখানে তারা নিয়মিত কাজ পান না এবং ন্যূনতম মজুরির অধিকারও প্রায়শই লঙ্ঘিত হয়।
৪. কেন্দ্রের ভূমিকা: কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিও মজুরির হ্রাসের একটি কারণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির অধীনে শ্রমিকদের যথাযথ মজুরি দেওয়া হচ্ছে না এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণও অনেক ক্ষেত্রে শিথিল রাখা হয়েছে।

শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই নিম্ন মজুরির প্রবণতা চলতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির শ্রমিকরা ব্যাপক আর্থিক সংকটে পড়তে পারেন। অনেক শ্রমিক ইতোমধ্যে উচ্চ মজুরির আশায় দক্ষিণ বা পশ্চিম ভারতের রাজ্যগুলিতে পাড়ি জমাচ্ছেন, যার ফলে স্থানীয় অর্থনীতির উপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

এছাড়া, বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির হার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধির ফলে এই কম মজুরি শ্রমিকদের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে। সরকারের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে শ্রমিকদের জন্য উপযুক্ত মজুরি নিশ্চিত করা, যাতে তারা ন্যূনতম জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে পারেন।

রিজার্ভ ব্যাংকের এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে নির্মাণ শ্রমিকদের মজুরি অত্যন্ত কম, যা তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথে বড় বাধা। শ্রমিকদের সুরক্ষা ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকারগুলির উচিত নীতিগত পরিবর্তন আনা এবং কেন্দ্রীয় সরকারেরও উচিত এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। নাহলে ভবিষ্যতে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি আরও বেশি শ্রমিক সংকটের মুখোমুখি হতে পারে।

কে এস শানকে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার ২ সংঘ কর্মী

murder of KS Shan

নিউজ ডেস্ক: শনিবার রাতে কাজ সেরে বাড়ি ফেরার পথে দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়ার (এসডিপিআই) রাজ্য সম্পাদক কে এস শান (k s shan)। দুষ্কৃতীদের এলোপাথাড়ি অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম শানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও রবিবার সকালে তাঁর মৃত্যু (death) হয়। শানের হত্যার ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে সোমবার কেরল পুলিশ দুই আরএসএস (rss) কর্মীকে গ্রেফতার করেছে।

শানের জখম হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রবিবার সকালে বিজেপি ওবিসি মোর্চার রাজ্য সম্পাদক রঞ্জিত শ্রীনিবাসনের (ranjit shrinibasan) উপর চড়াও হয় কয়েকজন দুষ্কৃতী। দুষ্কৃতীদের ছুরির আঘাতে নিজের বাড়িতেই প্রাণ হারান বিজেপির এই নেতা। একই দিনে জোড়াখুনের এই ঘটনায় কেরলের আলাপ্পুঝা জেলায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দু’দিনের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয় জেলায়।

পুলিশ এই জোড়া খুনের তদন্ত শুরু করে সোমবার রথিশ ও প্রসাদ নামে দুই সঙ্ঘ কর্মীকে গ্রেফতার করে। আলাপ্পুঝার পুলিশ সুপার জি জয়দেব জানিয়েছেন, শান যে গ্রামে থাকতেন ধৃত দুই ব্যক্তি সেই গ্রামেরই লোক। শানের হত্যার ষড়যন্ত্রে এই দুইজন জড়িত ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে পুরো বিষয়টি জানতে ধৃতদের জেরা করা হচ্ছে। তবে ধৃতরা সরাসরি শানের খুনের সঙ্গে যুক্ত নয়। শানের উপর হামলা চালাতে দুষ্কৃতীরা যে গাড়ি ব্যবহার করেছিল সেই গাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়েছিল এই দুই সঙ্ঘ কর্মী। তবে শানকে খুনের ঘটনায় জড়িতরা এখনও সকলেই পলাতক।

অন্যদিকে বিজেপি নেতা শ্রীনিবাসনকে খুনের ঘটনাতেও অভিযুক্তরা কেউই ধরা পড়েনি। রঞ্জিতের বাড়ির সামনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ছটি মোটরবাইকে করে ১২ জন যুবক এসেছিল। তাদের সকলের মুখই ছিল ঢাকা।

জোড়াখুনের এই ঘটনায় পুলিশ গোটা রাজ্য জুড়ে জোরদার তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। প্রতিটি গাড়িতেও তল্লাশি চলছে। ইতিমধ্যেই সব ধরনের জমায়েতে, সভা ও মিছিলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সোমবার আলাপ্পুঝায় গ্রামের বাড়িতে রঞ্জিতের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাইয়ের নেতৃত্বে বিজেপির এক প্রতিনিধি দল শ্রীনিবাসনের শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন।

জোড়া খুনের ঘটনা সকলের সঙ্গে কথা বলতে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছিলেন। তবে বিজেপির প্রতিবাদে শেষ পর্যন্ত ওই বৈঠক বাতিল হয়। জানা গিয়েছে এই বৈঠক হবে মঙ্গলবার। বিজেপির অভিযোগ, সোমবার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে মৃতদের প্রতি অসম্মান প্রকাশ করেছে বিজয়ন সরকার।

অভাব-অসুখ-যন্ত্রণা সরিয়ে ১০০ দিনের কর্মীদের অন্যরকম বিজয়া

100 day workers bijaya sammilani

News Desk, Kolkata: অন্যরকম বিজয়া সম্মিলনী। সাধারণত বাঙালিদের কাছে বিজয়া মানে নমস্কার করা, মিষ্টি মুখ এবং কোলাকুলি। একটু অন্যরকম ভাবে এক বিজয়া অনুষ্ঠান পালন করল পুরনো কলকাতার গল্প। পালিত হল ১০০ দিনের কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে। ওরা নিজের মনের কথা বললেন কেউ কেউ আবার গান গিয়েও শোনালেন।

সত্যিই তো ওদেরও যে একটা বিজয়া সম্মিলনী হতে পারে কেউ ভাবেনি। ভেবেছে পুরনো কলকাতার গল্পের সদস্যরা। সেই ভাবনা থেকেই এক অন্যরকম সান্ধ্য অনুষ্ঠান।

স্বর্ণালী চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “নিমতলা জোড়াবাগান অঞ্চলে অনাদরে পরে থাকা দুই কামানকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করার পরে আমাদের এক সুন্দর সম্পর্ক শুরু হয় প্রাক্তন পৌরপ্রতিনিধি শ্রী অজয় সাহার সাথে। ওনার আমন্ত্রণে গত বছর থেকেই এক অসাধারণ বিজয়া সম্মিলন অনুষ্ঠানে আমরা উপস্থিত থাকি।”

এই আয়োজন হয় নিমতলা অঞ্চলে ১০০ দিনের কাজ করেন যাঁরা তাঁদের সাথে। বছরের এই দিনটির জন্য আগ্রহ নিয়ে বসে থাকেন এঁরা। নিজেদের গান, কবিতা,নাটকের মাধ্যমে কিছুটা সময় একটু আনন্দে কাটান। অভাব অনটন,অসুখ, যন্ত্রণা দূরে সরিয়ে রেখে আজ তারা সবাই উৎসবে মেতে ওঠেন। সাফাইকর্মী, স্বাস্থকর্মী,সিকিউরিটি গার্ড,পানীয়জল সরবরাহ কর্মীদের নিয়ে গত ১০ বছর ধরে নিমতলা অঞ্চলের পৌরপ্রতিনিধি শ্রীমতি সুজাতা সাহা এবং শ্রী অজয় সাহা এই অসাধারণ অনুষ্ঠানটি করে আসছেন।

একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, “এই বছরে আমাদের সোসাইটির তরফ থেকে ৫০ জন অপরিহার্য মহিলা কর্মীদের সম্মান জানিয়ে দেওয়া হল নতুন শাড়ি। পরিবর্তে আমরা শুনলাম তাদের আন্তরিক উপস্থাপনা।”

Surat: প্যাকেজিং কারখানায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত দুই শ্রমিক

surat-fire

নিউজ ডেস্ক: সোমবার ভোরে সুরাতের কাদোদরা এলাকায় একটি প্যাকেজিং কারখানায় ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী। দমকল বাহিনীর তৎপরতায় কারখানার শতাধিক কর্মীকে নিরাপদে উদ্ধার করা গিয়েছে। আগুন লাগার ঘটনায় গোটা কারখানাটি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। কারখানার ভিতরে থেকে কর্মরত শ্রমিকরা বাঁচার জন্য তীব্র চিৎকার করছেন। সুরাতের কাদোদরা এলাকায় রয়েছে একাধিক বস্ত্র কারখানা। তারই মাঝে ছিল এই প্যাকেজিং কারখানাটি। অন্য দিনের মতো সোমবার ভোরের শিফটেও কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎই কোনওভাবে ওই কারখানায় আগুন লেগে যায়। দ্রুত কারখানায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কারখানা থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারাই দমকলকে খবর দেন। খবর পেয়ে দমকলের ১০টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক জখম হয়েছেন তবে তাদের অবস্থা গুরুতর এমন নয়।

সোমবার দমকলবাহিনী প্রথমেই কারখানার ভিতরে আটকা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করে। আগুন লাগার পর শ্রমিকরা কোনও রকমে কারখানার ছাদে উঠে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই দমকলের বিশাল মই দিয়ে তাঁদেরকে একে একে নামিয়ে আনা হয়। দমকল বাহিনী কয়েক মিনিটের মধ্যেই ওই কারখানা থেকে ১২৫ জনকে নিরাপদে বাইরে বের করে আনেন। তবে দুই শ্রমিককে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আগুনে ঝলসে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার রুপল সোলাঙ্কি। আগুনের হাত থেকে বাঁচতে কয়েকজন শ্রমিক ছাদ থেকে ঝাঁপ দেন। তাঁরাই আহত হয়েছেন। কিভাবে ওই কারখানায় আগুন লাগল তা তদন্ত করে দেখছে দমকল বাহিনী।

কাশ্মীরে ২ বিহারী শ্রমিককে গুলি করে হত্যা করল পাক-মদতপুষ্ট জঙ্গিরা

militants shot dead two Bihari workers in Kashmir

নিউজ ডেস্ক, শ্রীনগর: গোয়েন্দা বাহিনী কয়েকদিন আগেই এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছিল, কাশ্মীরে সাধারণ মানুষ ও অকাশ্মীরিদের নিশানা করছে জঙ্গিরা। সেই সতর্কবার্তা মিলিয়ে দিয়ে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে কাশ্মীরে ১১ জন নিরীহ মানুষকে খুন করল জঙ্গিরা।

শুধু তাই নয়, জঙ্গিদের হাতে খুন হওয়াদের মধ্যে বেশিরভাগই ভিন রাজ্য থেকে কাশ্মীরে এসেছিলেন। রবিবার সন্ধ্যায় কুলগামের ওয়ানপোহ এলাকায় আচমকাই ভিন রাজ্যের কয়েকজন শ্রমিককে লক্ষ্য করে গুলি চালায় জঙ্গিরা। জঙ্গিদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। একজন গুরুতর জখম হয়েছেন। হতাহতেরা সকলেই বিহারের বাসিন্দা।

এর আগে শুক্রবার শ্রীনগরে এক বিহারী ফুচকা বিক্রেতাকে গুলি করে মেরে ছিল জঙ্গিরা। পাশাপাশি পুলওয়ামায় উত্তরপ্রদেশের এক কাঠমিস্ত্রিও জঙ্গিদের হাতে খুন হয়। এ দিনের ঘটনার পর এক বিশাল পুলিশবাহিনী ও সেনা ঘটনাস্থলে গিয়েছে। গোটা এলাকা কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। জঙ্গিদের খোঁজে শুরু হয়েছে চিরুনি তল্লাশি।

ঘটনার জেরে ভিন রাজ্যের শ্রমিকদের জন্য বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কাশ্মীর পুলিশ। উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় থাকা শ্রমিকদের অবিলম্বে সেনা ছাউনি, সিআরপিএফ ক্যাম্প বা স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে শ্রমিকদের স্থানীয় থানা বা সেনা শিবিরে থাকার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে কাশ্মীরে ‘হরকত ৩১৩’ নামে এক নতুন জঙ্গি গোষ্ঠীর উপস্থিতি টের পাওয়া গিয়েছে। কাশ্মীরে নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এই জঙ্গিগোষ্ঠী, এমনটাই দাবি গোয়েন্দাবাহিনীর। গত কয়েকদিন ধরে কাশ্মীরে নিরীহ মানুষ খুনের ঘটনায় জড়িত রয়েছে হরকত ৩১৩। এই জঙ্গিগোষ্ঠীকে সরাসরি হাক্কানী গোষ্ঠীর সদরদফতর মিরানশাহ থেকে পরিচালনা করা হয় বলে গোয়েন্দাদের ধারণা। এই জঙ্গিগোষ্ঠীর উপর বিশেষ প্রভাব রয়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ইলিয়াস কাশ্মীরির।

পাশাপাশি এই জঙ্গিগোষ্ঠীর পিছনে পুরোদস্তুর মত রয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের। তবে আইএসআই সরাসরি নয়, তালিবানের মাধ্যমে হরকত ৩১৩ জঙ্গিগোষ্ঠীকে সব ধরনের মদত জুগিয়ে চলেছে। তাদের মূল লক্ষ্য হল কাশ্মীর-সহ গোটা ভারতে হরকতকে- ৩১৩ কে দিয়ে নাশকতা চালানো। এর মূল উদ্দেশ্য হল, ভারতীয় সেনাদের বিভিন্ন জায়গায় ব্যস্ত রেখে সেই সুযোগে লস্কর জঙ্গিদের ভারতে ঢুকিয়ে দেওয়া।

Lakhimpur Kheri: মৃত ২ বিজেপি কর্মীর পরিবারের দিকে ফিরেও তাকায়নি বিজেপি নেতারা, তীব্র ক্ষোভ এলাকায়

lakhimpur-bjp

নিউজ ডেস্ক: লখিমপুর খেরিতে (Lakhimpur Kheri) গাড়ির ধাক্কায় ৪ কৃষকের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু হয়েছিল আরও ৪ জনের। যার মধ্যে দুই বিজেপি কর্মীও ছিলেন। গেরুয়া দলের দুই কর্মীর পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর কোনও নেতা মন্ত্রী তো দূরের কথা এলাকার কোনও বিজেপি নেতাও এখনও পর্যন্ত তাঁদের কাছে একবারের জন্যও আসেননি। তাঁদের কী সুবিধা-অসুবিধা সে বিষয়ে জানতে চাননি। এমনকী, সামান্য সমবেদনা জানাতেও কাউকে আসতে দেখা যায়নি।

বিজেপি নেতাদের এই আচরণে মৃত ২ বিজেপি কর্মীর পরিবার ক্ষোভে ফুঁসছে। লখিমপুর খেরিতে মৃত দুই বিজেপি কর্মীর নাম শ্যামসুন্দর ও শুভম মিশ্র। এই দুজনেই দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। বিজেপির বুথ ইনচার্জ হিসেবেও ভোটের সময় কাজ করেছেন।

lakhimpur-bjp-worker

শ্যামসুন্দরের বাবা বলেছেন, আমার ছেলে কুস্তি প্রতিযোগিতা দেখতে খুব ভালোবাসত। সে জন্যই গত রবিবার সে বানবীরপুরে গিয়েছিল। ও তো কোন দোষ করেনি। দলের কাজ করতে গিয়ে ওকে প্রাণ দিতে হল। কিন্তু দলের নেতারা একবারও সে কথা মনে রাখলেন না।

মৃত শুভমের পরিবারেরও একই অভিযোগ। মাত্র বছর তিনেক আগে শুভম বিয়ে করেছে। তার একবছরের ছোটো মেয়ে আছে। দলের কাজ করতে গিয়ে পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য প্রাণ দেওয়ার পর কীভাবে তাঁর পরিবারের ভরণপোষণ চলবে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। যদিও এ বিষয়ে একটি শব্দও খরচ করেনি দল।

বিজেপি নেতাদের এহেন আচরণে শুভমের বিধবা স্ত্রী ও মা প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ ঘটনায় গোটা এলাকাতেই বিজেপির উপর মানুষের প্রবল ক্ষোভ দেখা গিয়েছে।