লেফটেন্যান্ট থেকে কর্নেল… কত বছর চাকরি করার পর একজন ব্রিগেডিয়ার হন?

আপনি যদি সেনাবাহিনীতে অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, তাহলে লেফটেন্যান্ট থেকে কর্নেল এবং পরবর্তীতে ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতির পথ কীভাবে নির্ধারিত হয়, তা জানা জরুরি। যেসব প্রার্থী এনডিএ বা সিডিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, তাঁরা শুধু চমৎকার প্রশিক্ষণই পান না, বরং কর্মজীবনে উন্নতির অসংখ্য সুযোগও লাভ করেন। তাই, সেনাবাহিনীতে কীভাবে পদোন্নতি লাভ করা যায় এবং এনডিএ পাস করার পর ব্রিগেডিয়ার হতে কত বছর সময় লাগে, তা প্রার্থীদের বোঝা জরুরি।

এনডিএ-এর পর কীভাবে অফিসার হওয়া যায়?
এনডিএ বা এএফএমসি-তে পড়াশোনা শেষ করার পর, প্রার্থীদের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী বা বিমান বাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত অফিসার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাঁদের স্থায়ী কমিশন (Permanent Commission) বা শর্ট সার্ভিস কমিশন (SSC) প্রদান করা হয়। মেধা এবং পছন্দের ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়।

লেফটেন্যান্ট থেকে কর্নেল পদে পদোন্নতির সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া
সেনাবাহিনীতে পদোন্নতি একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, যেখানে চাকরির মেয়াদ এবং কর্মক্ষমতা উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ।

  • লেফটেন্যান্ট – কমিশন লাভের পর এটিই প্রথম পদমর্যাদা।
  • ক্যাপ্টেন – প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর পদোন্নতি দেওয়া হয় এবং লেফটেন্যান্ট হিসেবে যোগদানকারী একজন প্রার্থী ক্যাপ্টেন হন।
  • মেজর – ক্যাপ্টেন হিসেবে প্রায় চার বছর চাকরি করার পর মেজর পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
  • লেফটেন্যান্ট কর্নেল – মেজর হিসেবে প্রায় সাত বছর চাকরি করার পর পদোন্নতি দেওয়া হয় এবং তারপর লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদমর্যাদা প্রদান করা হয়।
  • কর্নেল – লেফটেন্যান্ট কর্নেলের পর সেনাবাহিনীতে পদোন্নতি চাকরির অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে হয় না। লেফটেন্যান্ট কর্নেলের পরের পদটি হলো কর্নেল, কিন্তু এই পদে পদোন্নতি একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দেওয়া হয়।
  • ব্রিগেডিয়ার – কর্নেলের পরবর্তী পদ হলো ব্রিগেডিয়ার। এই পদে পদোন্নতিও একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়া হয়।
  • মেজর জেনারেল: ব্রিগেডিয়ারের পরবর্তী পদ হলো মেজর জেনারেল। এই পদে পদোন্নতিও একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়া হয়।
  • লেফটেন্যান্ট জেনারেল: মেজর জেনারেলের পরবর্তী পদমর্যাদা হলো লেফটেন্যান্ট জেনারেল। এই পদে পদোন্নতির জন্যও একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে।

সাধারণত, একজন অফিসারের ব্রিগেডিয়ার হতে ২০-২৫ বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে, তবে তা সম্পূর্ণভাবে তার যোগ্যতা ও কৃতিত্বের উপর নির্ভর করে।

বেতন ও অন্যান্য সুবিধা
সেনা কর্মকর্তারা আকর্ষণীয় বেতন এবং বহুবিধ সুবিধা পেয়ে থাকেন, যার মধ্যে রয়েছে:

  • সামরিক সেবা ভাতা (এমএসপি),
  • মহার্ঘ ভাতা এবং অন্যান্য ভাতা।
  • ছাড়যুক্ত আবাসন
  • ৬০ দিনের বার্ষিক ছুটি + ২০ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি
  • এলটিসি (ভ্রমণ সুবিধা)
  • পরিবারের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা
  • ৭৫ লক্ষ টাকার বীমা
  • সিএসডি ক্যান্টিন সুবিধা