চোখের জলে বার্সেলোনা ছাড়লেন লিও মেসি

Messi

স্পোর্টস ডেস্ক: সাধের বার্সেলোনায় শেষ মেসি জমানা। ক্যাম্প ন্যু’তে শেষবারের মতো প্রেস কনফারেন্স করে জানিয়ে দিলেন কাতালুনিয়ার ঘরের ছেলে। দীর্ঘ ১৭ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে অন্য ক্লাবের মহাতারকা লিওনেল মেসি। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনার লা মাসিয়া অ্যাকাডেমিতে এসেছিলেন। ফলে বিদায়লগ্নের প্রেস কনাফারেন্সে নিজেকে আর সামলাতে পারলেন না তিনি।

আর্জেন্তিনার হয়ে কোপা জয়ের পর নিজের পারিশ্রমিক অর্ধেক করেও বার্সেলোনার সঙ্গে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করতে রাজিও হয়ে গিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। কথা ছিল কয়েকদিনের মধ্যেই সরকারিভাবে মেসির নতুন চুক্তির কথা ঘোষণা করা হবে। কিন্তু শেষ কয়েকদিনে বদলে যায় ছবিটা।

MARCA-র রিপোর্ট অনুযায়ী মেসির এজেন্টদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে আলোচনায় বসে বার্সা বোর্ড। এই আলোচনা সভার পরেই মেসির সঙ্গে চুক্তি বাড়ানোর কথাবার্তা ভেস্তে যায়। ক্লাবের পক্ষ থেকে পরিস্কার করে দেওয়া হয়, বার্সা ছাড়ছেন তাদের ঘরের ছেলে।

সেই সিদ্ধান্তের কথা জানাতেই আজ ক্লাবের পক্ষ আজ প্রেস কনফারেন্সে আসেন মেসি। কনফারেন্স চলাকালীন টিস্যু পেপারে মেসির চোখ মোছার দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। দু’দশক আগে বার্সেলোনার সঙ্গে কিশোর লিওর চুক্তি হয়েছিল টিসু পেপারে সই করেই।

আরও পড়ুন নীরজের বর্শায় সোনার লক্ষ্যভেদ ভারতের

আরও পড়ুন বড়পর্দায় আসছে রুপোর মেয়ে চানুর বায়োপিক

কার্যত তার ইচ্ছের বিরুদ্ধেই ক্লাব ছাড়তে হচ্ছে বলে স্পষ্ট করে দেন মেসি। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এই কঠিন পরিস্থিতির জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না। গত বছর আমি দল ছাড়তে চেয়েছিলাম, কিন্তু এই বছর আমি, আমার পরিবার সকলেই চেয়েছিলাম যাতে এখানেই আমি খেলা চালিয়ে যাই। এটাই আমার বাড়ি। ১৩ বছর বয়সে আমি এখানে এসেছিলাম। আজ ২১ বছর বাদে আমার স্ত্রী এবং তিন সন্তানের সঙ্গে আমি দল ছাড়ছি।’

নীরজের বর্শায় সোনার লক্ষ্যভেদ ভারতের

Neeraj chopra

নিউজ ডেস্ক: ১৩ বছরের অপেক্ষা। অভিনব বিন্দ্রার পর আবার ব্যক্তিগত ইভেন্টে সোনা জিতল ভারত। ১৩৩ কোটি ভারতবাসীর মুখে হাসি ফোটালেন নীরজ চোপড়া। শনিবার টোকিও অলিম্পিক্স থেকে দেশকে জ্যাভলিন থ্রো’তে সোনা এনে দিলেন নীরজ। এক অবিস্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী থাকল দেশ। জীবনের প্রথম অলিম্পিক্সেই সোনা ছিনিয়ে নিলেন এই আর্মিম্যান। 

দুর্দান্ত দুই থ্রোয়ে অলিম্পিক্সের ইতিহাসে ভারতের সোনার খরা কাটিয়ে দিলেন এই অ্যাথলিট। অলিম্পিক্সের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় হিসেবে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের কোনও ইভেন্টে পদক জিতলেন। শনিবার ফাইনালে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ৮৭.৫৮ মিটার জ্যাভলিন ছুঁড়ে পদক জিতলেন তিনি। এর আগে অ্যাথলেটিক্সে ভারত কোনও পদকই জেতেনি অলিম্পিক্সে। 

ফাইনালের শুরুতেই প্রথম রাউন্ডে নীরজ ছুঁড়েছিলেন ৮৭.০৩ মিটার, দ্বিতীয় রাউন্ডে নিজেকে ছাপিয়ে ছুড়লেন ৮৭.৫৮ মিটার। ফাইনালে প্রথম তিন প্রচেষ্টার পরেই ছিটকে তিনি ছিটকে জার্মানির জোহানেস ভেটার।

তেরঙা হাতে নীরজ।

ফলে নীরজের লড়াইটা মূলত ছিল চেক প্রজাতন্ত্রের দুই থ্রোয়ারের সঙ্গে। কিন্তু দু’জনেই শেষ দুটি থ্রোয়ে ফাউল করে বসেন। ফলে নিজের ষষ্ঠ থ্রোয়ের আগেই সোনা জিতে যান নীরজ।

এর আগে অলিম্পিক্সের মঞ্চে মিলখা সিংহ, পি টি ঊষা, অঞ্জু ববি জর্জ, বিকাশ গৌড়ার মতো ক্রীড়াবিদরা কাছে এসেও পদক জিততে পারেননি। ব্যক্তিগত ইভেন্টে একমাত্র সোনা ছিল অভিনব বিন্দ্রার কাছে। বিন্দ্রা ২০০৮ সালে বেজিং অলিম্পিক্সে শুটিংয়ে সোনা পান। ১৩ বছর পর ফের কেউ সেই নজির গড়লেন। তিনিও উচ্ছ্বসিত ভারতের নতুন সোনার ছেলের এই পারফরম্যান্সে।

দেশে ফিরে এয়ারপোর্টেই বিয়ের প্রস্তাব পেলেন অলিম্পিকে পদকজয়ী

Jeffer-Abel

অলিম্পিকে দেশের হয়ে অংশ নিতে যাওয়া প্রত্যেকেরই লক্ষ থাকে গায়ে দেশের পতাকা জড়িয়ে পোডিয়ামে ওঠা। পদক পেলে খুশির অন্ত থাকে না দেশবাসীরও। ফলে পদক নিয়ে দেশে ফিরতেই আদরের বন্যায় ভেসে যান পদকজয়ীরা। আদর-অভ্যর্থনা শুরু হয়ে যায় এয়ারপোর্ট থেকেই। কিন্তু, টোকিও অলিম্পিকের পদকজয়ী দেশে ফিরে এয়ারপোর্টে শুধু অভিনন্দনই নয়, পেলেন আরেকটি গুরুত্বপূর্ন উপহারও।

আরও পড়ুন নাম বদলে রাজীব গান্ধী খেলরত্ন এবার মেজর ধ্যানচাঁদ খেলরত্ন পুরস্কার

অলিম্পিকে রুপোর পদক পেয়ে কানাডিয়ান ডাইভার জেনিফার আবেল তিন মিটার সিঙ্ক্রোনাইজড স্প্রিং বোর্ড ইভেন্টে দেশকে গর্বের আসনে বসিয়েছেন। মনের আনন্দে দেশে ফিরছিলেন তিনি। তবে এয়ারপোর্টেই যে আরেক চমক অপেক্ষা করছিল তা আন্দাজও করতে পারেননি তিনি।

Silver for Jennifer Abel in synchronized diving at the Tokyo Olympics after  disappointment five years ago - The Globe and Mail

বিমানবন্দরেই তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন এক ব্যক্তি। খালি হাতে নয়, ডায়মন্ড রিং হাতে হাঁটু গেড়ে বসে নিজের মনের কথা জানান ওই ব্যক্তি। আর তাতেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ২৯ বছর বয়সী জেনিফার। কারণ ওই ব্যক্তি তার বয়ফ্রেন্ড ডেভিড লেমিইউক্স।

ডেভিড নিজে একজন বক্সার এবং তিনি নিজেও যথেষ্ট খুশি জেনিফারের এই সাফল্যে। সঙ্গীনির জীবনের এই সাফল্য উদযাপন করতেই ডেভিডের এমন বহিঃপ্রকাশ তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিমানবন্দরে উপস্থিত সকলেই তাঁদের প্রেমের উদযাপনে অংশগ্রহণ করেন।

Watch: Canadian Olympic medallist gets surprise marriage proposal from  boyfriend at airport | Lifestyle News,The Indian Express

পরে জেনিফার সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আই সেড ইয়েস টু মাই সোলমেট।” অর্থাৎ জাপানে রুপো প্রাপ্তির পর এবার দেশে ফিরেও আরেক উফার পেলেন তিনি। টিম কানাডার টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে ঘটনার ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

নাম বদলে রাজীব গান্ধী খেলরত্ন এবার মেজর ধ্যানচাঁদ খেলরত্ন পুরস্কার

modi rajib gandhi

নিউজ ডেস্ক: এতদিন দেশের ক্রীড়া জগতের সর্বোচ্চ সম্মান ছিল রাজীব গান্ধী খেলরত্ন পুরস্কার। দেশের ক্রীড়া জগতে অবদানের জন্য যা পেয়েছেন তাবড় তাবড় ক্রীড়াব্যক্তিত্বরা। এবার নাম বদলে গেল সেই পুরস্কারের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করলেন, যে রাজীব গান্ধী খেলরত্ন পুরস্কার এবার থেকে “মেজর ধ্যানচাঁদ খেলরত্ন পুরস্কার” নামে পরিচিত হবে।

তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “আমি মেজর ধ্যানচাঁদের নামে খেলরত্ন পুরস্কারের নাম রাখার জন্য দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে অনেক অনুরোধ পেয়েছি। তাদের মতামতের জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। তাদের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে খেলরত্ন পুরস্কারকে মেজর ধ্যানচাঁদ খেলরত্ন পুরস্কার বলা হবে! জয় হিন্দ!”

১৯৯১-১৯৯২ সালে প্রথম দেওয়া হয় রাজীব গান্ধী খেলরত্ন পুরস্কার। প্রথমবার এই পুরস্কার পেয়েছিলেন দাবা কিংবদন্তি বিশ্বনাথন আনন্দ। এছাড়াও লিয়েন্ডার পেজ, শচীন টেন্ডুলকার, ধনরাজ পিল্লাই, পুল্লেলা গোপীচাঁদ, অভিনব বিন্দ্রা, অঞ্জু ববি জর্জ, মেরি কম এবং রানী রামপাল এই পুরস্কার পেয়েছেন।

ধ্যানচাঁদ ও হকি এই শব্দ দুটি সমার্থক। ধ্যানচাঁদের সতীর্থ এবং পাকিস্তান হকির অন্যতম রূপকার আলি ইক্তিদার শাহ্দারা বলে গেছেন- Cricket may affectionately recall its Grace, Hobbs and Bradman, and soccer its Matthews and Puskas, but hockey has one and only one Dhyan Chand, incomparable and unique.

ধ্যানচাঁদের জন্মদিন ভারতে পালিত হয় জাতীয় ক্রীড়া দিবস হিসাবে। কিন্তু ভারতের এই সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ প্রায় উপেক্ষিতই থেকেছেন চিরকাল। ২০১৩ সালে ভারতরত্নের জন্য ক্রীড়া দপ্তর তার নাম সুপারিশ করলেও তৎকালীন ইউপিএ সরকার শচীন তেণ্ডুলকারকে বেছে নেন। ধ্যানচাঁদ নিজেও জানতেন এই উপেক্ষার কথা। তাই মৃত্যুশয্যায় শুয়ে তিনি বলেছিলেন- When I die, the world will cry, but India’s people will not shed a tear for me, I know them.” তাকেই এবার সম্মান জানালো কেন্দ্রীয় সরকার।

যদিও খেলাধুলায় আজীবন কৃতিত্বের জন্য দেশের সর্বোচ্চ পুরস্কার ধ্যানচাঁদ পুরস্কার নামে পরিচিত। এছাড়াও ২০০২ সালে নয়াদিল্লির জাতীয় স্টেডিয়ামের নামকরণ হয় ধ্যানচাঁদ জাতীয় স্টেডিয়াম।

অলিম্পিক্স হকিতে এক ডজন পদক, সর্বকালের সেরা ভারতই

Hockey team india

শেষবার ১৯৮০’র অলিম্পিকে সোনা জিতেছিল ভারত। বিশ্ব মঞ্চে সেটাই ছিল ভারতের শেষ বড় সাফল্য। তারপর দীর্ঘ ৪১ বছর সেভাবে বিশ্ব মঞ্চে সাফল্যের মুখ দেখেনি ভারতীয় হকি টিম। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল শ্রীজেশদের হাত ধরে। ৪১ বছর পর অলিম্পিক হকিতে পদক জিতল ভারত। ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে ৫-৪ গোলে জার্মানিকে হারাল ভারত। জোড়া গোল করে ম্যাচের নায়ক সিমরণজিৎ।

সেই সঙ্গে অলিম্পিক্সে হকি থেকে এক ডজন পদক হয়ে গেল ভারতের। মাঝের সময়টায় পদকের খরা থাকলেও সব মিলিয়ে অলিম্পিক্স হকিতে মোট পদক জয়ে ভারতই বিশ্বের সেরা। অলিম্পিক্স হকিতে মোট ৮টি সোনা জিতেছে ভারত। ১৯২৮, ১৯৩২, ১৯৩৬, ১৯৪৮, ১৯৫২, ১৯৫৬, ১৯৬৪, ১৯৮০ সালে। রুপো জয় এক বার, ১৯৬০ সালে। ব্রোঞ্জ এসেছে এই নিয়ে তিন বার। আগের দু’ বার, ১৯৬৮ ও ১৯৭২ সালে। ভারতের মোট পদক সংখ্যা ১২।

Hat-trick For India Under Dhyan Chand In 1936 Olympics - ...और इस तरह  ध्यानचंद ने 1936 ओलंपिक में पूरी की गोल्ड मेडल की हैट्रिक - Amar Ujala  Hindi News Live

হকিতে সোনা জয়ে ভারতের পরে এই তালিকায় রয়েছে জার্মানি। তারা চার বার সোনা জিতেছে। ১৯৭২, ১৯৯২, ২০০৮ এবং ২০১২ সালে। মোট পদক সংখ্যাতেও ভারতের থেকে পিছিয়ে তারা, তাদের মোট পদক সংখ্যা ১১। চারবার সোনা তিন বার রুপো (১৯৩৬, ১৯৮৪, ১৯৮৮) এবং চার বার ব্রোঞ্জ (১৯২৮, ১৯৫৬, ২০০৪, ২০১৬) জিতেছে। সোনা জয়ে ভারত আর জার্মানির পরে রয়েছে পাকিস্তান ও গ্রেট ব্রিটেন। তিনটি করে সোনা পেয়েছে দুটি দলই। এরপর রয়েছে নেদারল্যান্ডস। তারা দু’বার অলিম্পিক্স হকিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা এক বার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

শুরুতে ৩-১ গোলে পিছিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নিল হকি টিম। টোকিও অলিম্পিক্সে প্রথম থেকেই ভারতীয় পুরুষ দলের পারফরম্যান্স খারাপ ছিল না। টানা চার ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালের লড়াই ছিল। যদিও তৃতীয় স্থান নির্ণায়ক ম্যাচে জার্মানির বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইটা একেবারেই সহজ ছিল না। খেলতে নেমে প্রথম ২ মিনিটেই ধাক্কা পেয়েছিল মনপ্রীতরা। শুরুতেই গোল করে ভারতকে চাপের মুখে রেখেছিল জার্মানি। ১৭ মিনিটে গোল শোধ করে সমতা ফেরান সিমরনজিত সিং। এরপর ২৪ এবং ২৫ মিনিটে পরপর দু’গোল করে ৩-১ গোলে এগিয়ে যায় জার্মানরা।

২৭ এবং ২৯ মিনিটে পরপর দুগোল করে সমতা ফেরায় টিম ইন্ডিয়া। ম্যাচের তৃতীয় কোয়ার্টারের শুরুতেই এগিয়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। এবারে পেনাল্টি কর্নার থেকে দুর্দান্ত গোল করেন রুপিন্দর পাল সিং। টিম ইন্ডিয়া এগিয়ে যায় ৫-৩ গোলে। ম্যাচের চতুর্থ কোয়ার্টারে এসে আরও এক গোল শোধ করে জার্মানরা।

টোকিও অলিম্পিকে এটা ভারতের পঞ্চম পদক। ভারতীয় হকি দলের এই সাফল্যকে ঐতিহাসিক বলে বর্ণনা করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, ”ঐতিহাসিক! আজকের দিন সকল ভারতীয়র মনে থাকবে।” প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি ভারতীয় হকি দলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দও। টুইট করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী, জগদীপ ধনখড়ও।

ইতিহাস ভারতের, ৪১ বছর পর অলিম্পিক পোডিয়ামে হকি টিম

Mens-Hockey tean india

শেষবার ১৯৮০’র অলিম্পিকে সোনা জিতেছিল ভারত। বিশ্ব মঞ্চে সেটাই ছিল ভারতের শেষ বড় সাফল্য। তারপর দীর্ঘ ৪১ বছর সেভাবে বিশ্ব মঞ্চে সাফল্যের মুখ দেখেনি ভারতীয় হকি টিম। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল শ্রীজেশদের হাত ধরে। ৪১ বছর পর অলিম্পিক হকিতে পদক জিতল ভারত। ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে ৫-৪ গোলে জার্মানিকে হারাল ভারত। জোড়া গোল করে ম্যাচের নায়ক সিমরণজিৎ।

শুরুতে ৩-১ গোলে পিছিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত জয় ছিনিয়ে নিল হকি টিম। টোকিও অলিম্পিক্সে প্রথম থেকেই ভারতীয় পুরুষ দলের পারফরম্যান্স খারাপ ছিল না। টানা চার ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালের লড়াই ছিল। যদিও তৃতীয় স্থান নির্ণায়ক ম্যাচে জার্মানির বিরুদ্ধে ভারতের লড়াইটা একেবারেই সহজ ছিল না। খেলতে নেমে প্রথম ২ মিনিটেই ধাক্কা পেয়েছিল মনপ্রীতরা। শুরুতেই গোল করে ভারতকে চাপের মুখে রেখেছিল জার্মানি। ১৭ মিনিটে গোল শোধ করে সমতা ফেরান সিমরনজিত সিং। এরপর ২৪ এবং ২৫ মিনিটে পরপর দু’গোল করে ৩-১ গোলে এগিয়ে যায় জার্মানরা।

২৭ এবং ২৯ মিনিটে পরপর দুগোল করে সমতা ফেরায় টিম ইন্ডিয়া। ম্যাচের তৃতীয় কোয়ার্টারের শুরুতেই এগিয়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। এবারে পেনাল্টি কর্নার থেকে দুর্দান্ত গোল করেন রুপিন্দর পাল সিং। টিম ইন্ডিয়া এগিয়ে যায় ৫-৩ গোলে। ম্যাচের চতুর্থ কোয়ার্টারে এসে আরও এক গোল শোধ করে জার্মানরা।

টোকিও অলিম্পিকে এটা ভারতের পঞ্চম পদক। ভারতীয় হকি দলের এই সাফল্যকে ঐতিহাসিক বলে বর্ণনা করেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, ”ঐতিহাসিক! আজকের দিন সকল ভারতীয়র মনে থাকবে।” প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি ভারতীয় হকি দলকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দও। টুইট করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী, জগদীপ ধনখড়ও।

Special Olympics-এ ভারতের মুখ সোনু সুদ

Sonu sood

গত বছরের তৃতীয় মাস থেকেই ভারতবর্ষে ভয়াবহ আকার নিয়েছে অতিমারী। ফলে সেই মাসেই মাত্র ৪ ঘণ্টার নোটিশে দেশজুড়ে লকডাউন ডাকে কেন্দ্রীয় সরকার। তাতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছিলেন বিভিন্ন রাজ্যে কাজের সূত্রে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকরা। ঠিক সেময়েই হিরোর মতো তাদের পাশে এসে দাঁড়ান সোনু সুদ।

আরও পড়ুন বিজয়ীর মেডেল হিসাবে সোনা নয়, মানুষের মাথা দিত এই আদিবাসী গোষ্ঠী

করোনাকালে যেভাবে পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি, তাতে কার্যত অভিভূত হয়ে গিয়েছিল গোটা দেশ। শুধু পরিযায়ী শ্রমিকই নয়, সাধারণ মানুষের যে কোনও সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন তিনি। বলিউডের নামকরা ভিলেন থেকে হয়ে উঠেছিলেন বাস্তবের হিরো। এবার তাকে জানানো হল বিরল সম্মান। রাশিয়ায় আয়োজিত Special Olympics-এ তাকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ঘোষণা করা হল তাকে।

Sonu Sood to accompany India's contingent to 2022 Special Olympics World  Winter Games

২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে রাশিয়াতে অনুষ্ঠিত হবে স্পেশাল অলিম্পিকস ওয়ার্ল্ড উইন্টার গেমস। ১৯৬৮ সাল থেকে প্রতি দু’বছর অন্তর অনুষ্ঠিত হয় স্পেশাল অলিম্পিকস ওয়ার্ল্ড উইন্টার গেমস। বিশেষভাবে সক্ষম মানুষেরা অংশ নিতে পারেন এই অলিম্পিকে। সেই গেমসেই ভারতের মুখ হলেন তিনি।

এই সুযোগ পেয়ে আপ্লুত অভিনেতার ফ্যানেরা। ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাদের হিরোকে। সোনুও সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘এরকম একটা সুযোগ পেয়ে সত্যিই গর্ব হচ্ছে। বিদেশের মাটিতে নিজের ট্যালেন্টকে
প্রমাণ করার এটাই সবচেয়ে বড় সুযোগ। আশা করি, দেশের খেলোয়াড়েরা রাশিয়ার মাটিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবেন।’

বড়পর্দায় আসছে রুপোর মেয়ে চানুর বায়োপিক

Olympic silver medallist Mirabai Chanu

নিউজ ডেস্ক: মীরাবাঈ সাইখোম চানুর হাত ধরেই চলতি টোকিও অলিম্পিক্সের মঞ্চ থেকে এসেছে প্রথম পদক। ২১ বছরের খরা কাটিয়ে ভারোত্তোলনে দেশকে অলিম্পিক্স পদক এনে দিয়েছেন তিনি। ৪৯ কেজি বিভাগে রূপো জয় করেছেন চানু। পাঁচ বছর আগে রিও অলিম্পিক থেকে খালি হাতে ফিরতে হলেও টোকিওতে ভারতকে প্রথম পদক দিয়েছেন তিনি।

এবার সেই মীরাবাঈ সাইখোম চানুর আত্মজীবনী ফুটে উঠবে বড় পর্দায়। মেরি কম, সাইনা নেহওয়ালদের পর এবার বায়োপিকের তালিকায় জুড়ে গেল মীরাবাঈয়ের নামও। মণিপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে কীভাবে বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন, কীভাবে দারিদ্রকে হারিয়ে লক্ষ্যে অবিচল থাকলেন, কীভাবে কঠোর পরিশ্রমের পর রুপো এনে দিলেন দেশকে, চানুর জীবনের এসব কাহিনিই এবার ভেসে উঠবে রুপোলি পর্দায়।

সদ্য রূপোর পদক নিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন চানু। ২ বছর পর বাড়ির খাবার খেয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে বাড়ি ফিরে মাটিতে বসে তার সেই খাওয়ার ছবি। যা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছেন অভিনেতা আর.মাধবণ। চানুর জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। তার সঙ্গে দেখা করেছেন ক্রীড়ামন্ত্রী কিরণ রিজিজু। মণিপুরের সরকার তাঁর জন্য এক কোটি টাকা পুরস্কার অর্থ ঘোষণা করেছে। চানুকে সম্মান জানিয়ে পুলিশের এএসপি পদে নিযুক্ত করা হয়েছে। চানুর অতি সাধারণ জীবন যাপন,পরিশ্রম ও সংগ্রাম নিয়ে এখনও নেটিজেনরা সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা করেন। এবার মণিপুরী ছবিতে অলিম্পিক্স পদকজয়ীর এই সাধারণ জীবনযাপনই ফুটে উঠবে।

ইতিমধ্যেই এ নিয়ে ইম্ফলের সেউতি ফিল্মস প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে কথাবার্তাও নাকি হয়ে গিয়েছে চানুর। শুধু মণিপুরী ভাষাই নয়, পাশাপাশি ইংরাজি ও অন্যান্য কিছু ভাষাতেও মুক্তি পাবে। প্রাথমিক চুক্তিপত্রে সইও সেরে ফেলেছেন চানু। এবার প্রশ্ন হল, চানুর চরিত্রে কাকে দেখা যাবে? এর আগে মেরি কমের চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেছিলেন প্রিয়ঙ্কা চোপড়া, সাইনা এখনও মুক্তি না পেলেও শুটিঙয়ে নিজেকে নিংড়ে দিচ্ছেন প্রিয়ঙ্কার বোন পরিণীতিও। সেরকমই চানুর চরিত্রের জন্যও প্রয়োজন একজন বলিষ্ঠ অভিনেত্রীর।

প্রযোজনা সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ‘‌মীরাবাঈ চানু হিসেবে মানাবে, এমন একজনকে আমরা খুঁজছি। বয়স, উচ্চতা, শরীরের গঠন- সবদিক থেকেই চানুর সঙ্গে মানানসই হওয়া প্রয়োজন। তারপর তাঁকে চানুর মতো করে ট্রেনিং দেওয়া হবে। চানুর মতোই কঠিন ট্রেনিং করতে হবে অভিনেত্রীকে। সব মিলিয়ে শুটিং শুরু হতে এখনও মাস ছয়েক দেরি।’‌ যদিও, বলিউডে চানুর বায়োপিক নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে কিনা তা জানতেই এখন উৎসুক প্রত্যেকে।

ঝড়ের নাম সিন্ধু: অলিম্পিক্সে জোড়া পদকে প্রথম ভারতীয় মহিলা

PV Sindhu Beats He Bing Jiao To Win Historic Bronze

স্পোর্টস ডেস্ক: রিও-র পর এবার টোকিওতেও ইতিহাস গড়ে ফেললেন পিভি সিন্ধু। চিনের তাই জুর কাছে হেরে টোকিওর সোনা জেতার সুযোগ আগেই হাতছাড়া হয়েছিল। তবে ব্রোঞ্জ জিতে সেই খেদ কিছুটা হলেও মিটিয়ে ফেললেন ভারতের ব্যাডমিন্টন রানি৷ কুস্তিগীর সুশীল কুমারের পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে অলিম্পিক্সে ব্যক্তিগত ইভেন্টে জোড়া পদক এখন সিন্ধুর ঝুলিতে।

চলতি সপ্তাহের রবিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারক ম্যাচে চিনের হি জিংবিয়াও’কে স্ট্রেট সেটে পরাস্ত করেন ভারতীয় শাটলার। খেলার ফলাফল ২১-১৩, ২১-১৫। সবমিলিয়ে চলতি অলিম্পিকে ভারতের পদক সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে দুইয়ে গিয়ে পৌঁছল। ভারোত্তোলনে মীরাবাই চানুর রুপো জয়ের পর, ব্রোঞ্জ এল ভারতের ঝুলিতে। বক্সিংয়ে নিশ্চিত হয়ে রয়েছে লভলিনা বড়গোহাঁইয়ের পদক। এবারের অলিম্পিক্স থেকে তিনটি পদক নিশ্চিত ভারতের। আর কোনও পদক আসে কি না সেই দিকে নজর থাকবে দেশবাসীর।

সেমিফাইনালে হারের পর টোকিও অলিম্পিকের তৃতীয় স্থান নির্ধারক ম্যাচে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেন ভারতীয় শাটলার। প্রথম গেমের শুরু থেকেই এগোতে থাকেন পুলেল্লা গোপীচাঁদের প্রাক্তন ছাত্রী। চিনা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ৫-২ ফলাফলে এগিয়ে যান পিভি সিন্ধু। তবে দ্বিতীয় গেমে কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেন বিংজিয়ায়ো। যদিও তা কাজে আসেনি। উচ্চতা কাজে লাগিয়ে কোর্টে নিজে বেশি না দৌড়ে চিনের প্রতিপক্ষকে দৌড় করালেন সিন্ধু।

২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকের ফাইনালে পৌঁছেছিলেন পিভি সিন্ধু। যদিও সেই ম্যাচে তাঁকে হারতে হয়েছিল বিশ্বের তৎকালীন এক নম্বর ক্যারোলিনা মারিনের কাছে। ফলে সেবার তাঁকে রূপো জিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। চলতি অলিম্পিকেও সেমিফাইনালে হেরে যান ভারতীয় শাটলার। তৃতীয় স্থান নির্ধারক ম্যাচ জিতে ব্রোঞ্জ জিতে ইতিহাস রচনা করলেন পিভি। প্রথম মহিলা অ্যাথলিট হিসেবে অলিম্পিক থেকে দুটি পদক জিতলেন তিনি। দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে বিশ্বের সেরা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ব্যক্তিগত ইভেন্টে দুইবার পোডিয়ামে ওঠার সুযোগ পেলেন সিন্ধু। তাঁর আগে ভারতীয় কুস্তিগীর সুশীল কুমার অলিম্পিকের ব্যক্তিগত ইভেন্ট থেকে দুটি পদক জিতেছিলেন। ২০০৮ সালের বেজিং অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন সুশীল। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকের কুস্তি ইভেন্ট থেকে রূপো জিতেছিলেন এই ভারতীয়।

অন্যদিকে, বিশ্বের চতুর্থ অ্যাথলিট হিসেবে পরপর দুটি অলিম্পিকের ব্যাডমিন্টনের ব্যক্তিগত ইভেন্ট থেকে পদক জিতলেন পিভি সিন্ধু। দক্ষিণ কোরিয়ার বাং সু-হিয়ুন ১৯৯২ সালের বার্সেলোনা অলিম্পিকে রূপো জিতেছিলেন। পরের বার আটলান্টা অলিম্পিকে জেতেন সোনা। ২০০৪ সালের এথেন্স অলিম্পিকে সোনা জেতা চিনা শাটলার জাং নিং ২০০৮ সালের বেজিং অলিম্পিকে দ্বিতীয় হয়েছিলেন। ১৯৯২ সালের অলিম্পিকে সোনা জেতা ইন্দোনেশিয়ার সুসি সুসান্তি চার বছর পর ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। এবার চতুর্থ শাটলার হিসেবে পরপর দুটি পদক নিয়ে ইতিহাসে নাম লেখালেন সিন্ধু।

মোহনবাগানের শিল্ড জেতা ছাড়াও ১৯১১ সালে আরও দু’টি ঘটনা ঘটেছিল

Mohun Bagan and the fight for Indian independence

বিশেষ প্রতিবেদন: ১৯১১ সাল বললেই বাঙালির মনে পড়ে যায় মোহনাবাগানের ব্রিটিশদের হারিয়ে আইএফএ শিল্ড জেতার কথা৷ বাঙালিদের কাছে তো বটেই গোটা দেশের কাছে সেদিনের মোহনবাগানের জয়টা স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতীক হয়ে গিয়েছে৷ সেই জয়ের মাধ্যমে যেন পরাধীনতার গ্লানি থেকে আলাদা মুক্তির স্বাদ পেয়েছিল কলকাতার মানুষ৷

এদিকে ওই বছরটায় বাঙালির জীবনে আরও দু’টি ঘটনা ঘটে গিয়েছিল৷ একটা হল স্বদেশি আন্দোলনের জেরে ব্রিটিশ সরকার পিছু হটে বঙ্গভঙ্গ রদ করেছিল৷ অন্যদিকে পাশাপাশি ঘোষণা করা হয়, ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করা হবে৷

গত শতাব্দীর শুরুতে জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্ব ছিল বাঙালির নিয়ন্ত্রণে৷ আর তখন বাঙালিই বলতে গেলে গোটা দেশকে পথ দেখাচ্ছে ৷ ভারতের রাজধানী কলকাতায় বাঙালির প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী মনোভাব দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন লর্ড কার্জন৷ রাজনৈতিক চেতনা সম্পন্ন বাঙালিকে দুর্বল করতে ১৯০৫ সালে বাংলা ভাগকেই একমাত্র উপায় বলে মনে হয়েছিল বড়লাটের ৷ বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ চেয়েছিল, একটি মুসলমান প্রধান রাজ্য গঠন করতে ৷ এর আসল উদ্দেশ্য ছিল বাংলায় হিন্দু-মুসলমানদের মধ্য বিভেদ সৃষ্টি করা ৷ কার্জনের পরিকল্পনা বানচাল করতে নড়ে চড়ে উঠল বাঙালি৷

ওই সময় ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিপ্লবীরা যখন লড়ছে তখনই আবার ফুটবল মাঠে গোরাদের বিরুদ্ধে লড়ে গেল মোহনবাগান৷ ১৯১১সালে ২৯জুলাই ব্রিটিশদের দল ইস্ট ইয়র্কশায়ারকে হারিয়ে মোহনবাগান ক্লাব আই এফ এ শিল্ড জিতল৷ বুট পরা গোরাদের সঙ্গে সেদিন খালি পায়ে খেলে ২-১ গোলে জিতেছিল মোহনবাগান ৷ যা বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলেনর যুগে অন্যমাত্রা পেয়েছিল৷

কিন্তু এই ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যেই অবশ্য ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানাস্থরিত করার কথা ঘোষণা করেছিলেন সম্রাট পঞ্চম জর্জ। আর সেদিনই অবশ্য ঘোষণা করা হয়েছিল বঙ্গভঙ্গ রদের কথা।

দ্বিতীয় ঘোষণা ঘিরে বাঙালির বিজয়োল্লাসের শেষ ছিল না৷ অনেকেই সেদিন গর্বের সঙ্গে বলেছিলেন-Settle Fact -কে Unsettle Fact করা গিয়েছে৷ কিন্তু বঙ্গভঙ্গ রদের অন্তরালে এই রাজধানী স্থানান্তরের মাধ্যমে ধীরে ধীরে আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক দিক থেকে চরম আঘাত আনা হয়েছিল কলকাতার উপর। সেদিনের capital shift এর অর্থ শুধুমাত্র রাজধানী স্থানান্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তা যে আদতে কলকাতা থেকে মূলধনের স্থানান্তরও ঘটিয়েছিল ৷

বক্তৃতা- গান- বোমার মাধ্যমে যারা বঙ্গভঙ্গ রদ করতে চেয়েছিলেন তাদের যেন উচিত শিক্ষা দিয়ে গেলেন ব্রিটিশ সম্রাট ৷ তাঁর কূটনৈতিক চাল তখন বুঝতে পারেনি আপামর বাঙালি৷ তখন থেকেই আসলে শুরু হল কলকাতার পতন ৷ আর তার আগে দুই শতাব্দী ধরে নানা আক্রমণে জর্জরিত দিল্লি যেন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর রসদ পেল৷ কলকাতার এসপ্লানেড- ডালহাউসি অঞ্চল থেকে সরকারি দফতর সরল দিল্লিতে৷ আবার ক্লাইভ স্ট্রিট অথবা চৌরঙ্গিতে থাকা ম্যানেজিং এজেন্সিগুলি কেমন যেন প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে লাগল প্রতিদ্বন্দ্বী বম্বের সঙ্গে৷

বঙ্গভঙ্গ রদ হলেও তার আগে অনেক রক্ত ক্ষয়,জেল দ্বীপান্তর ঘটেছিল ৷ অন্যদিকে অর্থনৈতিক ক্ষতির সীমা পরিসীমা থাকল না৷ রাজনৈতিক প্রতিবাদের ফলে ১৯১১ সালে বঙ্গ আবার একত্রিত হল ঠিকই কিন্তু ভাষাতাত্ত্বিক এক নতুন মাধ্যমে বিহার, ওডিশা, অসমের অঞ্চলগুলো বঙ্গ হতে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনা হয়।

পাট ও অন্যান্য কৃষি পণ্যে সম্বৃদ্ধ সুর্মা ভ্যালি বেরিয়ে গেল৷ বাদ পড়ল খনিজ সম্পদে সম্বৃদ্ধ মানভূম সিংভূম জেলা৷ একদিকে পাটের মতো কৃষি পণ্য অন্যদিকে লোহা কয়লা ম্যাঙ্গানিজ অভ্র সহ কত রকমের খনিজ পণ্য সম্বৃদ্ধ অঞ্চলকে বাংলা হারাল৷ বাংলার অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়ে বাঙালির উপর ভালই প্রতিশোধ নিল ব্রিটিশ৷ পাশাপাশি রাজনৈতিক-সামাজিক পরিস্থিতি এমনই অস্থির করে তোলা হল যার জেরে সাড়ে তিন-চার দশক পরে বঙ্গভঙ্গকেই মেনে নিল বাঙালি৷

অলিম্পিক: ইজরায়েলের প্রতিদ্বন্দ্বীকে এড়াতে ইভেন্ট থেকে সরলেন সুদানি জুডো খেলোয়াড়

Algerian judoka Fethi Nourine

নিউজ ডেস্ক: টোকিও অলিম্পিকের আসরও ইহুদিবাদী ইস্যু মাথাচাড়া দিল৷ আর সেই কারণেই ইহুদিবাদী ইজরায়ালির প্রতিদ্বন্দ্বীকে এড়াতে নিজের ইভেন্ট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সুদানের জুডো খেলোয়াড় মহম্মদ আব্দুর রসুল। এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত টোকিও অলিম্পিকে দুইজন অ্যাথলিট ইজরায়েলের প্রতিদ্বন্দ্বীকে এড়াতে অলিম্পিকের এই ইভেন্ট থেকে সরে দাঁড়ালেন।

ফিলিস্তিনের ওয়াফা নিউজ এজেন্সি জানাচ্ছে, সুদানের খেলোয়াড় আব্দুর রসুল পুরুষদের ৭৩ কেজি ওজন বিভাগে ইহুদিবাদী ইজরায়েলের প্রতিদ্বন্দ্বী তোহার বুটবুলের বিরুদ্ধে খেলায় অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার আলজেরিয়ার জুডো খেলোয়াড় ফেথি নুরাইন ইজরায়েলের একই খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে না খেলার সিদ্ধান্ত নেন। এরইমধ্যে নুরাইন আলজেরিয়ায় ফিরে গিয়েছেন। আজ, সোমবার সুদানের আব্দুর রসুলের সঙ্গে তার খেলার কথা ছিল।

অলিম্পিকের ইভেন্ট থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার মধ্যদিয়ে নুরাইন ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “অলিম্পিকে খেলার জন্য নির্বাচিত হতে তাদেরকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। কিন্তু এই খেলার চেয়ে ফিলিস্তিনি ইস্যুটি তার কাছে অনেক বেশি বড় বিষয় এবং এই সিদ্ধান্ত অপরিবর্তনযোগ্য।”

নুরাইনের কোচ আমর বিন ইয়াকলিফও বলেছেন, “আমরা এই খেলায় ভাগ্যবান ছিলাম না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পড়েছে ইসরায়লি এবং এই কারণে আমরা নিজেদেরকে প্রত্যাহার করে নিয়েছি। আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

২০১৯ সালে টোকিওতে জুডো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও ইজরায়েলের খেলোয়াড় বুটবুলের বিরুদ্ধে তার ম্যাচ পড়েছিল এবং নুরাইন নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। এছাড়া, ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে মিশরীয় খেলোয়াড় ইসলাম আল-শাহাবী ইসরায়লি প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে খেলতে অস্বীকার করেছিলেন৷

করোনালিম্পিক! জাপান উপকূলে ভাইরাস সুনামি

Tokyo cancels public viewing sites for summer Olympics

নিউজ ডেস্ক: শুরু হয়েছে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ রঙ্গমঞ্চ-অলিম্পিক। একইসঙ্গে জাপান উপকূলে ধেয়ে এসেছে ভাইরাস সুনামি। রাজধানী টোকিও অর্থাৎ অলিম্পিক নগরীতে “গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ” যেমন চলছে, তেমনি চলছে জরুরি অবস্থা। করোনা ও অলিম্পিকের মাঝে পড়েছেন টোকিওবাসী।

চলতি বিশ্ব শ্রেষ্ঠ ক্রীড়ানুষ্ঠানের মাঝেই জাপানে করোনার আরও একটি ঢেউ আসার সম্ভাবনা প্রবল। চিন্তিত বিশেষজ্ঞরা। প্রশ্ন উঠছে চিকিৎসক মহলে, কেন এই ঝুঁকি নিতে গেল সরকার।

পরিস্থিতি এমনই যে অলিম্পিক নগরী টোকিওর রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ চলছেই। এতে অংশ নিয়েছেন চিকিৎসার সঙ্গে যুক্তরা। আছেন চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, যেভাবে গত কয়েকদিনে করোনা ছড়িয়েছে তাতে অলিম্পিকের মাঝেই বড়সড় ভাইরাস সংক্রমণ হবে।

জাপানের বহুল প্রচারিত সংবাদপত্র জাপান টাইমসের রিপোর্ট, শুক্রবার সকালে টোকিও শহরে করোনা সংক্রমণের তালিকায় ১৩৫৯ জন এসেছেন। জাপানের সামগ্রিক করোনা পরিস্থিতি বলছে ১৫ হাজারের বেশি মৃত। ৮৬ হাজারের অধিক আক্রান্ত।

তবে অলিম্পিক আসরে আসা বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের কড়া স্বাস্থ্যবিধির মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। তার পরেও সংক্রমণের চেহারা দেখে চিন্তার সুনামি ধেয়ে আসছে জাপান উপকূলে।

জন জীবনে করোনার ভয় প্রবল। সেটাই পুঞ্জিভূত ক্ষোভের আকার নিয়ে বড়সড় বিক্ষোভে ফেটে পড়ার দিকেই এগোচ্ছে। শুক্রবার অলিম্পিক শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে টোকিও শহরের করোনা চিত্র রীতিমতো আশঙ্কাজনক বলেই জানাচ্ছে জাপান টাইমস।

অভিযোগ উঠেছে, খোদ অলিম্পিক ভিলেজেই করোনা সংক্রমিত বহু। তাদের মধ্য দিয়ে সংক্রমণ আরও ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।জাপানবাসীর বেশিরভাগ আগে থেকেই অলিম্পিক বন্ধের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন। পরে অলিম্পিক কমিটির চাপের মু়খে সরকার রাজি হয় প্রতিযোগিতা চালিয়ে যেতে।

করোনার লাল চোখ সর্বত্র। তবে করোনাকে চ্যালেঞ্জ করেই বিশ্বজোড়া আশার বার্তা দিতে মরিয়া অলিম্পিক কমিটি। পরিস্থিতি কতটা খারাপ হতে পারে সেই আশঙ্কায় টোকিও শহরের চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে জড়িতদের বিক্ষোভ থেকেই আন্দাজ করা যাচ্ছে।

করোনা ভাইরাসের পরিসংখ্যান দেওয়া ওয়ার্ল্ডোমিটার জানাচ্ছে, জাপানে শুক্রবার পর্যন্ত সংক্রমিত রোগী ৮ লক্ষ ৫২ হাজারের বেশি। মৃত ১৫ হাজার পার করেছে। তবে গত এক সপ্তাহে করোনার সংক্রমণ বেড়েছে জাপানে। অলিম্পিক নগরী টোকিওতে সংক্রমণের রেখচিত্র উর্ধমুখী। অলিম্পিক ভিলেজে করোনা হানা ও সংক্রমণ ছড়ানোর ঘটনায় জাপানবাসী আরও আতঙ্কিত। অতি সংক্রামক এই ভাইরাস অলিম্পিকের মাঝেই তার রূদ্ররূপ নেবে এমনই আশঙ্কা।

চিরশত্রু ব্রাজিলকে হারিয়ে ট্রফি জয়ের শাপমুক্তি মেসির

Lionel-Messi

রিও ডি জেনেইরো: ক্লাব ফুটবলে প্রতিটি ট্রফি জিতেছেন৷ বার্সেলোনার হয়ে জেতা ট্রফিতে ড্রয়িংরুম উপচে পড়ছে লিওনেল মেসির। তবে দেশের জার্সিতে ট্রফি জিততে না-পারার আক্ষেপ অবশেষে মিটল আর্জেন্তাইন সুপারস্টারের৷ রবিবাসরীয় সকালে মেসির হাত ধরেই আর্জেন্তিনা ফুটবলের নতুন সূর্যোদয় দেখলেন ফুটবলপ্রেমীরা৷ মারাকানায় ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন হল আর্জেন্তিনা। সেই সঙ্গে প্রথমবার দেশকে খেতাব এনে দিয়ে শাপমুক্তি হল মেসি’র৷

২৮ বছর পর প্রথম কোনও বড় টুর্নামেন্টে খেতাব জিতল আর্জেন্তিনা। সেই সঙ্গে দেশের জার্সিতে প্রথম ট্রফি জয়ের স্বাদ পেলেন মেসি৷ শেষবার ১৯৯৩ সালে কোপা আমেরিকা খেতাব জিতেছিল আর্জেন্তিনা। এবার জিতে স্পর্শ করল কোপা আমেরিকায় সর্বাধিক ১৫ বার খেতাব জয়ের রেকর্ডধারী উরুগুয়েকে ছুঁল তারা৷ এর আগে দেশের হয়ে একটি বিশ্বকাপ ও তিনটি কোপা আমেরিকার ফাইনালে খেলেছিলেন মেসি। প্রতিবারই ফিরেছিলেন শূন্য হাতে। তবে এবার আর খালি হাতে নয়, সাফল্যের ঝুলি ভরে দেশে ফিরছেন মেসি৷ দেশকে চ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সাফল্যে জিতেছেন গোল্ডেন বুট৷

ফাইনালের আগেই মেসি ও নেইমারকে যৌথভাবে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় ঘোষণা করে কোপা আমেরিকার আয়োজক কনমেবল। ৪ গোলের সঙ্গে ৫ অ্যাসিস্টের জন্য মেসি জিতেছেন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার। সময়ের সেরা ছাপিয়ে অনেকে মেসিকে সর্বকালের সেরার তালিকায় রাখেন। ফুটবল কিংবদন্তি পেলে ও মারাদোনার চেয়েও তাঁকে বড় করে দেখেন অনেক বিশেষজ্ঞ। কিন্তু এতদিন দেশের হয়ে কোনও ট্রফি না-থাকায় মেসিকে শুনতে হয়েছিলও অনেক সমালোচনাও৷

কোপা আমেরিকা খেতাব জয়ে আর্জেন্তিনার ২৮ বছরের ট্রফি জয়ের খরা কাটিয়ে মেসি যে বিশ্বজয়ী পেলে, মারাদোনাকে ছাপিয়ে গিয়েছেন এমন নয়। তবে সর্বকালের সেরার আলোচনায় মেসির উপস্থিতি থাকবে এমনটা বলাবাহুল্য। ছ’ ব্যালন ডি’অর জয়ের রেকর্ড আগে থেকেই ছিল মেসির। কোপা আমেরিকার মুকুট মাথায় ওঠার পর সম্ভবত সপ্তমটিও আসতে আর্জেন্তাইন সুপারস্টারের দখলে।

২০১৪ সালে এই মারাকানাতে জার্মানির বিরুদ্ধে হেরে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হয় মেসি৷ সেই মাঠেই কোপা জিতে বিশ্বকাপ হাতছাড়া হওয়ার ক্ষতে কিছুটা হলেও প্রলেপ লাগালেন মেসি৷ ব্রাজিল বিশ্বকাপে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার হিসেবে গোল্ডেন বল জিতেছিলেন মেসি। কিন্তু ট্রফি জিততে না-পারায় হতাশায় সেদিন সেলিব্রেশন করেননি আর্জেন্তাইন ফুটবলের রাজপুত্র৷

এদিন কোপা আমেরিকা ট্রফি জেতার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতায় মেসিকে আনন্দে উদ্বেলিত সতীর্থরা৷ ট্রফি জয়ের পরেই মেসিকে নিয়ে মারাকানায় সেলিব্রেশনে মেতে ওঠে টিম আর্জেন্তিনা। মেসিকে কাঁধে নিয়ে তারপর শূন্যে ছুঁড়ে আবেগের বিস্ফোরণ ঘটান সতীর্থরা৷ ম্যাচ জিতেই মাঠের মধ্যে মেসিকে ঘিরে চলে মার্টিনেজ, আগুয়েরোদের উচ্ছাস। গ্রুপ ও নক-আউট পর্ব মিলিয়ে ছ’ ম্যাচের সবকটিতেই খেলেছেন আর্জেন্তিনা অধিনায়ক। এই ছয় ম্যাচের চারটিতেই ম্যাচ সেরা হয়েছেন মেসি। তাঁর চোখে এদিন আনন্দের বিস্ফোরণ হলেও একসময়ে বার্সেলোনায় ব্রাজিলীয় সতীর্থ নেইমারের চোখে জল দেখে স্থির থাকতে পারেন আর্জেন্তাইন তারকা৷ নেইমারকে বুকে জড়িয়ে সান্ত্বনা দিতে দেখা গিয়েছে মেসিকে৷

তিন দশকের অপেক্ষার অবসান, কোপা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্তিনা

copa-argentina

রিও ডি জেনেইরো: ২৮ বছরের অপেক্ষার অবসান। ১৯৯৩ সালের পর প্রথমবার ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকায় খেতাব জয় আর্জেন্তিনার। অতীতের গ্লানি, হতাশাকে এক লহমায় বদলে দিলেন অ্যাঞ্জেল ডি’ মারিয়া৷ তাঁর একমাত্র গোলেই স্বপ্ন সফল লিওনেল মেসির৷ রবিবার সকালে মারাকান স্টেডিয়ামে হলুদ ঝড় থামিয়ে কোপা চ্যাম্পিয়ন হল আর্জেন্তিনা৷

২৮ বছর পর প্রথম কোনও বড় টুর্নামেন্টে খেতাব জিতল আর্জেন্তিনা। সেই সঙ্গে দেশের জার্সিতে প্রথম ট্রফি জয়ের অনন্য স্বাদ পেলেন মেসি৷ আর্জেন্তিনা শেষবার ১৯৯৩ সালে কোপা আমেরিকা খেতাব জিতেছিল। এবার জিতে স্পর্শ করল কোপা আমেরিকায় সর্বাধিক ১৫ বার খেতাব জয়ের রেকর্ডধারী উরুগুয়েকে ছুঁল আর্জেন্তিনা৷ ব্রাজিলের মাটিতে সেলেকাওদের হারানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ জিতল মেসি অ্যান্ড কোং৷ ডি’ মারিয়ার গোলে কোপা আমেরিকায় খেতাব জিতল লিওনেল স্কালোনির দল। ফাইনালে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্তিনা।

১৯৩৭ সালের পর কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলকে হারানোর স্বপ্ন সফল হল আর্জেন্তিনার।
পরপর দু’বার ফাইনালের চিলির কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল মেসির৷ অবশেষে আর্জেন্তিনার জার্সি গায়ে প্রথম খেতাব জয়ের স্বাদ পেলেন এমএল১০৷ সেমিফাইনালের পর ফাইনালেও আসল সময়ে জ্বলে ওঠেন আর্জেন্তাইন গোলরক্ষক মার্টিনেজ। ৮৭ মিনিটে গ্র্যাবিয়েল বারবোসার গোলমুখী শট পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক থেকে সেভ করে ফের নিজের জাত চেনালেন তিনি। আর আগের কয়েক ম্যাচে বদলি নেমে আলো ছড়ানো ডি’ মারিয়া ফাইনালে প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়েই নায়ক হলেন। তাঁর একমাত্র গোলেই খেতাব জয় আর্জেন্তিনা৷ ২১ মিনিটে নিজেদের প্রথম সুযোগেই সাম্বা ঝড় থামিয়ে দেন ডি’মারিয়া। নিজেদের অর্ধ থেকে রদ্রিগো দে পলের পাস রিসিভ করে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে জালে পাঠান আর্জেন্তাইন মিডফিল্ডার।

গত বিশ্বকাপের পর এই প্রথম আর্জেন্তিনার হয়ে গোল পেলেন ডি’ মারিয়া। ২০০৫ কনফেডারেশন্স কাপের ফাইনালের পর এই প্রথম কোনও ফাইনালে গোল পেল দু’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। প্রথমবার দেশের মাটিতে কোপা আমেরিকা খেতাব জিততে ব্যর্থ হল ব্রাজিল৷ আগের পাঁচবারই ট্রফি জিতেছিল তারা। লাতিন আমেরিকার সেরা টুর্নামেন্টে দেশের মাটিতে ১৯৭৫ সালের পর এই প্রথমবার খেতাব হাতছাড়া হল ব্রাজিলের।

দ্রাবিড়ে মশগুল শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার

কলম্বো: রাহুল দ্রাবিড়ের নামটা শুধু ভারতীয় ক্রিকেটে নয়, বিশ্বক্রিকেটেও সমাদৃত! তিনি রাজি থাকলেই দ্বীপরাষ্ট্র সফরে ভারতের ‘বি’ দলের নয়, অনেক আগেই বিরাট কোহলিদের ‘হেডস্যর’ হতে পারতেন৷ তবে শ্রীলঙ্কা সফরে শিখর ধওয়ানদের কোচ হতে রাজি হয়ে শুধু সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নয়, শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সদস্য অরবিন্দ ডি’ সিলভা’র প্রশংসা আদায় করে নিল ‘দ্য ওয়াল’৷

১৩ জুলাই থেকে শ্রীলঙ্কায় সীমিত ওভারের সিরিজ খেলতে নামছে ভারত। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মারা এই মুহূর্তে ইংল্যান্ডে থাকায় এই সীমিত ওভারের সিরিজে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেবেন ধাওয়ান৷ আর এই দলের প্রধান কোচের ভূমিকায় দেখা যাবে দ্রাবিড়কে৷ অতীতে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ এবং ভারত-এ দলের কোচিং করালেও প্রথমবার জাতীয় সিনিয়র দলের কোচের ভূমিকা পালন করতে দেখা ‘মিস্টার জেন্টেলম্যান’-কে৷ তবে দ্বীপরাষ্ট্রে ভারত তাদের দ্বিতীয় সারির দল পাঠিয়ে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে অপমান করেছে বলে সম্প্রতি প্রশ্ন তুলেছিলেন দ্বীপরাষ্ট্রের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক অর্জুনা রণতুঙ্গা৷

তবে প্রাক্তন অধিনায়কের পাশে দাঁড়ালেন না ১৯৯৬ বিশ্বকাপজয়ী শ্রীলঙ্কা দলের অন্যতম সদস্য ডি’সিলভা। সিরিজ শুরুর আগেই ধাওয়নদের ‘দ্বিতীয় সারির’ দল বলে বিতর্কি উসকে দিয়েছেন রণতুঙ্গা। আপনি কি প্রাক্তন অধিনায়কের সঙ্গে একমত? এই প্রশ্নের উত্তরে ডি’সিলভা বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে এইভাবেই ভেঙে ভেঙে দল পাঠানো ভবিষ্যতের রীতি হতে চলেছে। আর ভারতের রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তি কতটা সবাই জানে।’

শুধু তাই নয়, ভারতীয় দলের এই শক্তির জন্য দ্রাবিড়কেই কৃতিত্ব দিলেন ডি’ সিলভা। তিনি বলেন, ‘সবার আগে রাহুল দ্রাবিড়কে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ করে সব চেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ভারতীয় বোর্ড।ক্রিকেটারদের গড়ে তোলার জন্য দ্রাবিড় এত দিন ধরে করেছে তার ফল এখন ভারতীয় দল পাচ্ছে।’ তবে শ্রীলঙ্কাও তাদের দলকে শক্তিশালী করতে পারত৷ এ প্রসঙ্গে মাহেলা জয়বর্ধনের প্রসঙ্গ তুলে ডি’ সিলভা বলেন, ‘দ্রাবিড়ের মতো আমরাও এক প্রাক্তন ক্রিকেটারকে পেয়েছিলাম, যার হাত ধরে শ্রীলঙ্কা দলও অনেক উন্নতি হতে পারত। জয়বর্ধনেকে অনেক অনুরোধ করা হয়েছিল শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৯ দলটার দায়িত্ব নিতে। কিন্তু মাহেলাকে আমি কিছুতেই রাজি করাতে পারিনি।’

ডি’সিলভা মনে করেন দ্রাবিড়কে প্রথমে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ করে মাস্টারস্ট্রোক খেলেছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। যার ফল এখন পাচ্ছে ভারত। দ্রাবিড়কে ভবিষ্যতে ভারতের দলের কোচ হিসেবে দেখতে চান লঙ্কার এই প্রাক্তন ব্যাটসম্যান৷ দ্রাবিড়ের কোচিংয়ে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ান ডে এবং তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ খেলবে ভারত৷ মঙ্গলবার সিরিজের প্রথম ম্যাচ৷

স্পেনকে হারিয়ে ইউরো ফাইনালে অপ্রতিরোধ্য ইতালি

লন্ডন: রবার্তো মানচিনির হাত ধরে অন্য ইতালিকে দেখছে ফুটবলবিশ্ব৷ ওয়েম্বলিতে ফুটবলীয় রোমাঞ্চে শেষ হাসি হাসল ইতালি৷। টাই-ব্রেকারে স্পেনকে হারিয়ে ইউরো কাপের ফাইনালে উঠল মানচিনির দল। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ১-১ গোলে শেষ হয়৷ প্রথমার্থ গোলশূন্য থাকার পর ৬০ মিনিটে ফেডেরিকো কিয়েসার গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ইতালি৷ কিন্তু স্পেনের হয়ে ৮০ মিনিটে গোল শোধ করেন আলভারো মোরাতা। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাই-ব্রেকারে৷ পেনাল্টি শুট-আউটে বাজিমাত করে ইতালি৷

টানা ৩৩ ম্যাচে অপরাজিত থেকে ইউরো কাপের ফাইনালে নামবে মানচিনির দল৷ লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে ইউরোর প্রথম সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে জেতে ইতালি। আজুরিদের সামনে ভেঙে পড়ে স্প্যানিশ আর্মার্ডা৷ জয়োল্লাসে ফেটে পড়ে ইতালি, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার আনন্দে আত্মহারা আজুরিরা৷

টাই-ব্রেকারে লোকাতেল্লির নেওয়া ইতালির প্রথম শট ঠেকিয়ে দেন উনাই সিমোন। কিন্তু নিজেদের প্রথম শট উড়িয়ে মেরে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেন দানি ওলমো। তারপর আর পিছন ফিরে তাকায়নি মানচিনির ছেলেরা৷ পরের তিন শটে একে একে বল জালে পাঠান বেলোত্তি, বোনুচ্চি, বের্নারদেস্কি। স্পেনের দুই ও তিন নম্বর শটে জেরার্দ মোরেনো ও থিয়াগো আলকান্তারা গোল করেন। কিন্তু মোরাতার শট আটকে দেন জানলুইজি দোন্নারুমা। এরপর জর্জিনিও ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়াতেই সেলিব্রেশন শুরু হয়ে যায় আজুরিদের৷

টানা ৩৩ ম্যাচ অপরাজিত থেকে ইউরোর ফাইনালে ইতালি। ইউরোপের দুই বিশ্বজয়ী ফুটবল শক্তির এই সেমিফাইনাল ম্যাচটা নিয়ে আমার আগ্রহ ছিল প্রবল। এই দুই দেশই আকর্ষণীয় ফুটবল খেলে শেষ চারে উঠে এসেছিল। ম্যাচের শুরু থেকে দেখা মেলে স্পেনের চিরপরিচিত ফুটবল। প্রথম ১৫ মিনিটে ৭৫ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রাখলেও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি৷ ধীরে ধীরে গুছিয়ে নিতে থাকে ইতালি। প্রতি আক্রমণ থেকেই দুর্দান্ত এক ডান পায়ের বাঁকানো শটে ৬০ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন জুভেন্তাসের উইঙ্গার কিয়েসা।

গোল খেয়ে স্পেন আরও বেশি চেপে ধরে ইতালিকে। এর মধ্যে অবশ্য ফেরান তোরেস ও মিকেল ওইয়ারসাবালের জায়গায় জেরার্দ মোরেনো ও আলভারো মোরাতাকে মাঠে নামায় লুই হেনরিকে। অলমোর পাসে ৮০ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে স্পেনকে সমতায় ফেরান মোতেরা। ইউরোর ইতিহাসে স্পেনের হয়ে ছ’টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেন তিনি। পেছনে ফেললেন ফার্নান্দো তোরেসকে। মোতেরার গোল হেনরিকের মুখে হাসি ফোটালেও টাই-ব্রেকারে বাজিমাত করেন মানচিনির ছেলেরা৷

৯ বছর আগের ফাইনালে এই স্পেনের বিরুদ্ধে ভরাডুবি হয়েছিল ইতালির। এবার সেই স্পেনকে হারিয়েই ফাইনালে উঠল আজুরিরা। টানা ৩৩ ম্যাচে অপরাজিত আগামী রবিবার এই ওয়েম্বলিতে ইউরোপ সেরা হওয়ার লড়াইয়ে নামবে ইতালি৷ প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড কিংবা ডেনমার্ক।

ফাইনালে আর্জেন্তিনা, মার্টিনেজে মুগ্ধ মেসি

ব্রাসিলিয়া: দেশকে প্রথমবার খেতাব জেতার লক্ষ্যে সাম্বার দেশে পা-রেখেছেন লিওনেল মেসি৷ ফাইনালে আর্জেন্তিনার খেতাব জয়ের সামনে সেই ব্রাজিল৷ গতবার ফাইনালে নেইমারদের কাছে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল মেসির৷ তবে আর্জেন্তিনার ফাইনালে ওঠার নায়ক মেসি নন, নায়ক হলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। পেনাল্টি শুট-আউটে তিনটি সেভ আর্জেন্তিনাকে ফাইনালে তুললেন তিনি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে খেলা ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর টাই-ব্রেকারে গড়ায় ম্যাচ। এই পর্বে মার্টিনেজের বীরত্বে ফাইনালে ওঠে আর্জেন্তিনা। ব্রাসিলিয়ার মানে গারিঞ্চা স্টেডিয়ামে বুধবার সকালে নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ড্র হওয়ার পর টাই-ব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে জেতে মেসি অ্যান্ড কোং৷

টাই-ব্রেকার এড়াতে চেয়েছিলেন আর্জেন্তাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি। কিন্তু সেমিফাইনালে সেই ভাগ্য পরীক্ষার মধ্য দিয়েই যেতে হল মেসিদের৷ যাতে ব্যবধান গড়ে দিলেন মার্টিনেস। কলম্বিয়ার তিনটি শট ঠেকিয়ে দলকে কোপা আমেরিকার ফাইনালে তোলার নায়ক এই গোলরক্ষক। আগামী রবিবার রিও ডি জেনেইরোর মারাকানা স্টেডিয়ামে খেতাব নির্ণায়ক ম্যাচে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে আর্জেন্তিনা।

কোয়ার্টার ফাইনালে টাই-ব্রেকারে উরুগুয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল কলম্বিয়া। হুয়ান কুয়াদরাদোর প্রথম শট গোল হলেও। দাভিনসন সানচেস ও ইয়েরি মিনার পরের দু’টি শট বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন মার্টিনেজ। মিগুয়েল বোরহার বুলেট গতির শট আটকাতে না-পারলেও কারদোনার শট বাঁ-দিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন মার্টিনেজ। সেই সঙ্গে ফাইনালে ওঠার উচ্ছ্বাসে মাতেন আর্জেন্তাইন ফুটবলাররা৷

ম্যাচের পর দলের গোলরক্ষকের মার্টিনেজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মেসি বলেন, ‘আমাদের দলে এমি রয়েছে, যে একটা ফেনোমেনন। আমরা ওর ওপর আস্থা রেখেছিলাম। ফাইনালে পৌছনোর পাশপাশি টুর্নামেন্টের সবক’টি ম্যাচ খেলার আমাদের লক্ষ্যও পূর্ণ হল।’ ‘ফেনোমেনন’, শব্দটা শুনলেই ব্রাজিলের ৯ নম্বর জার্সি গায়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে তছনছ করে দেওয়া রোনাল্ডোর কথা মনে পড়ে। তবে কোপা সেমিফাইনালের রাতে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে আর্জেন্তিনাও নিজেদের ‘ফেনোমেনন’-কে পেল আর্জেন্তিনা৷

আক্রমণাত্মক শুরু করা আর্জেন্তিনা এগিয়ে যেতে পারত ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে। বল পায়ে তিন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে কলম্বিয়ার ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন মেসি। খুঁজে নেন পেনাল্টি স্পটের কাছে থাকা গনসালেসকে। কিন্তু তাঁর হেড অল্পের জন্য লক্ষভ্রষ্ট হয়। তবে গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি আর্জেন্তিনাকে। সোলসোর কাছ থেকে ডি-বক্সে বল পেয়ে যান মেসি। কলম্বিয়ান এক ডিফেন্ডার বলে পা-ছোঁয়ালেও দ্রুতই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে মেসি পাস বাড়ান মার্টিনেজকে। সুযোগ হাতছাড়া করেননি তিনি৷ ফলে ম্যাচের সপ্তম মিনিটে এগিয়ে যায় দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

চলতি টুর্নামেন্টে এটি মেসির পঞ্চম অ্যাসিস্ট৷ কোপা আমেরিকার ইতিহাসেই যা সর্বোচ্চ। এ নিয়ে কোপায় আর্জেন্টিনার শেষ ১১ গোলের নয়টাতেই থাকল মেসির অবদান। পরের মিনিটেই সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ ছিল কলম্বিয়ার সামনে। বাঁ-দিক থেকে ক্রস ডি-বক্সে পেয়ে যান কুয়াদরাদো। কিন্তু তাঁর রুখে দেন আর্জেন্তাইন গোলরক্ষক। প্রথমার্ধে আর্জেন্তিনা এগিয়ে থেকে মাঠ ছাড়লেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কলম্বিয়াকে সমতায় ফেরান লুইজ দিয়াজ৷ ম্যাচের শেষ তিরিশ মিনিট কোনও দলই গোল করতে পারেনি৷ ফলে ম্যাচ গড়ায় টাই-ব্রেকারে৷ আর এতে বাজিমাত করে আর্জেন্তিনা৷

রোনাল্ডোকে ছাপিয়ে নতুন রেকর্ড মেসি’র

Sports News

রিও ডি জেনেইরো: আর্জেন্তিনা তথা জাতীয় দলের জার্সি গায়ে প্রখম খেতাব জয়ে মরিয়া লিওনেল মেসি৷ ক্লাব ফুটবলের ‘বেতাজ বাদশা’ এখনও দেশকে কোনও বড় ট্রফি দিতে পারেননি৷ এবারের কোপা আমেরিকায় ‘বদনাম’ ঘোচানোর দারুণ সুযোগ৷ ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে অপ্রতিরোধ্য ফর্মে ছিলেন ‘ফুটবলের রাজপুত্র’। ফ্রি-কিক থেকে দুরন্ত গোলের পাশাপাশি দলের অপর দু’টি গোলেও অবদান ছিল মেসির৷ ক্যাপ্টেনের দুরন্ত পারফরম্যান্সে ইকুয়েডরকে ৩-০ হারিয়ে কোপার সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্তিনা৷

মেসির বিরুদ্ধে বড় অভিযোগ, আর্জেন্তিনা হয়ে বড় টুর্নামেন্টের নক-আউট পর্বে জ্বলে উঠতে পারেন না তিনি! কিন্তু ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে কোপার কোয়ার্টার ফাইনালে গোল করে ও করিয়ে তা ভুল প্রমাণ করলেন মেসি৷ রদ্রিগো দি পল এবং লাউতারো মার্তিনেসরের গোলে অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে গোল করে সমর্থকদের মন কেড়েছেন আর্জেন্তাইন অধিনায়ক৷

আর্জেন্তিনাকে এখনও ট্রফি জেতাতে পারেননি সত্যি। তবে দিয়েগো মারাদোনার পর মেসির ওপরই বেশি ভরসা করেছেন আর্জেন্তাইন সমর্থকরা৷ বিশ্বকাপ কিংবা কোপা আমেরিকার বড় মঞ্চে মেসি আর্জেন্তিনার হয়ে কিছু করতে পারেন না, এটা মেনে নেওয়া কঠিন৷ প্রশ্নটা অবান্তর মনে হবে, রেকর্ডে চোখ বোলালে। বিশ্বকাপ আর মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নশিপ৷ দুই বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এখন সবচেয়ে বেশি গোলে অবদানের রেকর্ড মেসির দখলে। ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে গোল করে ও করিয়ে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনাল্ডো নাজারিওকে টপকে গিয়েছেন মেসি।

এখন পর্যন্ত চারটি বিশ্বকাপ খেললেও নক-আউট পর্বে ৮ ম্যাচে মাঠে নেমেও কোনও গোল করতে পারেননি মেসি৷ গোল করিয়েছেন শুধু তিনটি। আর এবারের কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালে ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে ফ্রি-কিক থেকে চোখধাঁধানো গোল করার পাশাপাশি, দলের বাকি দুই গোলও সহায়তা করেছেন তিনি৷ ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে ম্যাচে নামার আগে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনাল্ডোর সঙ্গে বড় টুর্নামেন্টের নক-আউট পর্বে গোলে অবদানের রেকর্ডের শীর্ষস্থানে ভাগ বসিয়েছিলেন মেসি। দু’জনেরই গোলে অবদান ছিল ১৭টি। আর ইকুয়েড-আর্জেন্তিনা ম্যাচের পর নক-আউট পর্বে মেসির গোলে অবদান ২০টি৷ যার মধ্যে তিনি গোল করেছেন ৫টি ও করিয়েছেন ১৫টি। রোনাল্ডো নাজারিও-র ১৭ গোলে অবদানের মধ্যে গোল করেছেন ১৩টি ও করিয়েছেন ৪টি।

এছাড়াও ব্রাজিলের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার রোনাল্ডোকে ছাপিয়ে গিয়েছেন মেসি। ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে নিজে গোল করে ও সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়ে প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে সর্বাধিক গোলে অবদান রাখা ‘দ্যা ফেনোমেনন’ খ্যাত ব্রাজিলিয়ান রোনাল্ডোর ৪০ গোলের রেকর্ডে টপকে গিয়েছেন ছ’বারের বর্ষসেরা এই ফুটবলার। এতদিন বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও ফিফা কনফাডেরশন্স কাপ মিলিয়ে এতদিন ৩৭ ম্যাচে ৪০ গোল করে এই তালিকায় শীর্ষে ছিলেন রোনাল্ডো৷ দু’টি বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল ও গোল্ডেন বুট জয়ী ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই স্ট্রাইকার বিশ্বকাপে ১৯ ম্যাচে ১৫ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে আরও ৫টি গোল করেছেন। এছাড়াও লাতিন আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্বের আসর কোপা আমেরিকায় ১০টি গোল করার পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করেছেন ৪টি। কনফাডেরশন্স কাপে অর্থাৎ বিশ্বকাপের প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্টে ৫ ম্যাচে ৪টি গোল করে ও সতীর্থদের দিয়ে ২টি গোল করিয়েছেন।

আর ইকুয়েডর ম্যাচের পর মেসি বড় টুর্নামেন্টে ৫১ ম্যাচে ৪২ গোলে অবদান রাখলেন। আর্জেন্তিনার হয়ে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকায় ১৯ গোলের পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে ২৩টি গোল করিয়েছেন। আকাশী নীল জার্সি গায়ে বিশ্বকাপে ১৯ ম্যাচে ৬টি গোলের পাশাপাশি ৭টি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন৷ কোপা আমেরিকায় ৩২ ম্যাচে ১৩ গোলের পাশাপাশি আরও ১৬ গোলেও সহায়তা করেছেন আর্জেন্তাইন তারকা ফুটবলার৷

আর্জেন্তিনাকে সেমিফাইনালে তোলার প্রতিদানে গুঁতো খেলেন মেসি

রিও ডি জেনেইরো: দেশকে প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রফি দেওয়ার লক্ষ্যে আরও একধাপ এগোলেন লিওনেল মেসি৷ ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে অপ্রতিরোধ্য ফর্মে ছিলেন ‘ফুটবলের রাজপুত্র’। ফ্রি-কিক থেকে দুরন্ত গোলের পাশাপাশি দলের অপর দু’টি গোলেও অবদান ছিল মেসির৷ অধিনায়কের দুরন্ত পারফরম্যান্সে ইকুয়েডরকে ৩-০ হারিয়ে কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্তিনা৷ কিন্তু দলকে শেষ চারে তোলার প্রতিদান স্বরূপ সজোরে গুঁতো খেললেন মেসি৷

কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বেশি গোল, সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট করে অন্যদের থেকে এগিয়ে রয়েছেন মেসি। ফলে আর্জেন্তাইন অধিনায়কের সামনে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার এবং সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতির হাতছানি। এবারের কোপায় পাঁচ ম্যাচে চারবার ম্যাচ সেরার ট্রফি উঠেছে তাঁর হাতে। ৪টি গোল করা ও অ্যাসিস্ট করে দু’টিতেই তিনি শীর্ষে। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের স্রোতে একটুও গা-ভাসাতে চান না মেসি। আর্জেন্তাইন অধিনায়কের লক্ষ্য একটাই, দেশকে ট্রফি দেওয়া। সেই লক্ষ্য পূরণের পথে মেসির পায়ের জাদুতে আরও এক ধাপ এগিয়েছে আর্জেন্তিনা৷

প্রথমার্ধে সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে একা পেয়েও জালে বল জড়াতে পারেননি মেসি৷ বল মারেন পোস্টে। কিন্তু সময় যতই গড়িয়েছে, ততই জ্বলে উঠেছেন তিনি৷ রদ্রিগো দি পল এবং লাউতারো মার্তিনেসর দু’জনের গোলে অ্যাসিস্ট করার পাশাপাশি ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে দুর্দান্ত ফ্রি কিকে গোল করে সমর্থকদের মন কেড়েছেন মেসি৷

আর্জেন্তিনার সিনিয়র দলের জার্সি গায়ে নিজের প্রখম খেতাব জয়ে মরিয়া ‘এলএম ১০’। স্বাভাবিকভাবেই তাঁর পারফরম্যান্সে সতীর্থ, সাপোর্ট স্টাফ এবং সমর্থক সকলেই আপ্লুত অধিনায়কের পারফরম্যান্সে। তবে এই আনন্দের বহিঃপ্রকাশেই বিপত্তি। ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে মেসির পারফরম্যান্সে আপ্লুত আর্জেন্তিনা দলের সাপোর্ট স্টাফ তথা কিট ম্যানেজার মারিও ডি’স্টেফানো৷ খেলা শেষ হওয়ার পর রিজার্ভ বেঞ্চের কাছে উচ্ছ্বাস করছিলেন মেসি, তখনই দ্রুত দৌড়ে গিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন ডি’স্টেফানো। লিও-কে জড়িয়ে ধরতে গিয়েই সজোরে তাঁর চোখের ঠিক ওপরে গুঁতো মারেন তিনি। ব্যাথা জায়গায় হাত বোলাতে দেখা যায় মেসিকে। সঙ্গে সঙ্গে মেসির ব্যাথ্যা জায়গায় হাত বুলিয়ে দেন ডি’স্টেফানো৷

কোপা আমেরিকার অফিসিয়াল টুইটার পেজে এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করা হয়৷ যাতে লেখা হয়, ‘ভালোবাসা যা আঘাত দেয়। কিন্তু ১০ নম্বরকে নিয়ে আরও সতর্ক থাকতে হবে’। আগামী বুধবার সেমিফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে ফুটবলের রাজপুত্রের পায়ে ফের একবার ‘জাদু’ দেখার জন্য মুখিয়ে থাকবেন মেসি ভক্তরা৷

১০ জনের সাম্বার ছন্দে সেমিফাইনালে ব্রাজিল

রিও ডি জেনেইরো: কোপায় সাম্বার ছন্দ অব্যাহত৷ রোমাঞ্চকর ম্যাচে নাটকীয় জয়ে কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে পৌঁছল গেল ব্রাজিল৷ খেতাব ধরে রাখার দৌড়ে আরও এক ধাপ এগোল গতবারের চ্যাম্পিয়নরা৷ শনিবার সকালে রিও ডি জেনেইরোর এস্তাদিও নিল্টন সান্তোস স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে চিলিকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট হাতে পায় তিতের দল।

ম্যাচের ৪২ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন গ্যাব্রিয়েল জেসুস৷ দ্বিতীয়ার্ধের বাকি সময়টা ১০ জনেই খেলতে হয় ব্রাজিলকে। তবে জেসুসের লাল কার্ড দেখার আগে চিলির জালে বল জড়িয়ে ব্রাজিলকে এগিয়ে দিয়ে ছিলেন লুকাস পাকুয়েতা৷ তাঁর একমাত্র গোলেই শেষ হাসি হাসেন নেইমাররা৷ সেমিফাইনালে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ গতবারের রানার্স পেরু। এদিন অন্য কোয়ার্টার ফাইনালে প্যারাগুয়েকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে পেরু। গতবার ফাইনালে পেরুকে ৩-১ গোলে হারিয়ে কোপায় খেতাব জিতেছিল ব্রাজিল।

কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে চিলি শুরুটা মন্দ হয়নি। ১০ মিনিটে মাথায় দারুণ এক সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি তারা। তবে আধ ঘন্টার মধ্যেই খেলা গুছিয়ে নেয় নেইমাররা। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই লুকাস পাকুয়েতা গোল করে ব্রাজিলকে এগিয়ে দেয়। বদলি হিসেবে নেমে লুকাস পাকুয়েতার গোলে ৪৬ মিনিটে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। এর দুই মিনিট পরই ম্যাচের নক্কারজনক দৃশ্যের জন্ম দেন জেসুস। বাতাসে বলের দখল নিতে গিয়ে মেনার মুখে লাথি মারেন তিন৷ ফুটবল ম্যাচে দেখা গেল রেসলিংয়ের ‘ফ্লাইং কিক’!

ফলস্বরূপ লাল কার্ড অনিবার্য ছিল৷ রেফারি তা দেখাতে ভুল করেননি৷ আর জেসুসের সতীর্থরাও কোনও প্রতিবাদ জানানোর প্রয়োজনও মনে করেননি। বাকি ম্যাচে ১০ খেলোয়াড় নিয়ে ১-০ জিতে মাঠ ছাড়ে তিতের ছেলেরা৷ তবে একজন কম নিয়ে রক্ষণে হাঁসফাঁস করতে দেখা গিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। দ্বিতীয়ার্ধের প্রায় পুরোটা ১০ জন নিয়েও খেলেও জয়ের পর নেইমার কৃতিত্ব দিলেন দলের সবাইকে।

১০ জনে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতে স্বস্তির কথা জানান সাম্বা অধিনায়ক৷ নেইমার বলেন, ‘আমরা এমন একটা চ্যালেঞ্জ জিতেছি, যা সব সময় জেতা যায় না। আমাদের জন্য বড় পরীক্ষা ছিল। কঠিন চ্যালেঞ্জ জিতে আমরা সেমিফাইনালে উঠেছি।’এদিন গোল না-পেলেও দারুণ খেলেন নেইমার৷ চাপের মধ্যে নিজেদের মেলে ধরায় সতীর্থদের বাহবা দিলেন নেইমার৷ তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন নতুন নতুন পরীক্ষা আমাদের আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। এতেই প্রমাণ হয়, যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে আমরা প্রস্তুত৷ চিলি ভালো দল, দারুণ সব ফুটবলার ছিল। একজন কম নিয়ে খেলা সবসময়ই কঠিন। আজকের জয়ে সবার কৃতিত্ব প্রাপ্য, ডিফেন্স, মিড-ফিল্ড, ফরোয়ার্ড সবারই।’ মঙ্গলবার সেমিফাইনালে পেরুর বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে খেলবে ব্রাজিল৷