Bangladesh: ভারতের সঙ্গে চুক্তির সমালোচনায় পিটিয়ে খুন, ২০ বাংলাদেশি ছাত্রের মৃত্যুদণ্ড

students given death penalty for Abrar murder

News Desk: বাংলাদেশ (Bangladesh) প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বীকে পিটিয়ে খুনের মামলায় তারই সহপাঠি ২০ জনকে ফাঁসির সাজা দিল আদালত। চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় জানতে বাংলাদেশবাসী ছিলেন মুখিয়ে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের শাখা সংগঠন ছাত্র লীগের সঙ্গে জড়িত ছিল। বিতর্কের মুখে অভিযুক্তদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ছাত্র লীগ সংগঠনটি।

আবরার হত্যা মামলায় অভিযুক্তরা দোষী প্রমানিত হয়। বুধবার তাদের ২০ জনকে ফাঁসির সাজা আরও ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনানো হয়েছে। এই মামলার তিন আসামী পলাতক। রায়ের জেরে চরম অস্বস্তিতে শেখ হাসিনার সরকার। রায় দ্রুত কার্যকরী হোক দাবি করেছে মৃত ছাত্রের পরিবার।

students given death penalty for Abrar murder

২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বিভিন্ন চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন বুয়েট (Bangladesh University of Engineering and Technology) ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বী। তিনি নিজের ফেসবুকে ফেসবুক পোস্টে ভারত সরকারকে বাংলাদেশের মংলা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া, ফেনী নদী জলবন্টন সহ কিছু বিষয়ে সরকারের সমালোচনা করেছিলেন।

এর জের ধরে পরদিন ৬ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরারকে তার কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে যায় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী।  হোস্টেলের ১০১১ নম্বর রুমে আবরারকে পিটিয়ে খুন করা হয়। তদন্তে নেমে শেরেবাংলা হলের সিঁড়ি থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

<

p style=”text-align: justify;”>পুরো ঘটনা সিসিটিভি ফুটেজ হয় অন্যতম সূত্র। এই ফুটেজ ভাইরাল হয় সামাজিক মাধ্যমে। চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তে উঠে আসে বাকি সূত্র। জেরায় অভিযুক্তরা দায় স্বীকার করেছে বলে জানায় পুলিশ।

Bangladesh 50: ছায়ামানুষ মি: ভট্টাচার্যের সেই গোপন বৈঠক, গেরিলাদের স্বাধীন বাংলা বেতার

Swadhin Bangla Betar Kendra

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: একাত্তরের রাতের কলকাতা। রাস্তার হলদে ডুম আলোর নিচেটাই যা একটু স্পষ্ট। তারপর অন্ধকার। গলির ভিতরগুলো? একপক্ষ অন্যপক্ষকে তাড়া করছে। রাজনৈতিক লড়াইয়ে দুই বামপক্ষ, তাদের প্রতিপক্ষ প্রশাসন ও কংগ্রেস। মহানগরের এই রূপ যারা দেখেছেন তারাই জানেন।

তেমনই এক রাত। বালিগঞ্জ শুনশান। দশটা বাজার আগেই একটা দোতলা বাড়িতে দু’জন ঢুকে গেলেন। এই বাড়িতেই হয়েছিল ঐতিহাসিক একটি সিদ্ধান্ত। আন্তর্জাতিক রণাঙ্গনের ইতিহাসে বেতার সম্প্রচারের গৌরবময় পর্বের একটি।

৫০ বছর আগের সেই রাতে ফিরে যাওয়া যাক। বাড়িটায় সেদিনের গোপন বৈঠকে যারা ছিলেন তাদের দুজনের পরিচয় এখনও অস্পষ্ট। এদের একজন ছায়ামানুষ- মি: ভট্টাচার্য। সে রাতের পর ভট্টাচার্য মশাই আর দেখা দেননি।

Swadhin Bangla Betar Kendra

মুক্তিযুদ্ধের কথক বাংলাদেশের কিংবদন্তি সাংবাদিক এম আর আখতার মুকুল লিখেছেন, “একাত্তরের মে মাসের বাইশ তারিখ। মান্নান ভাই বললেন, ‘আজ রাত দশটায় বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের বাড়িটাতে একটা গোপন বৈঠক আছে। আপনি হাজির থাকবেন। স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র চালু করার ব্যাপারে চূড়ান্ত আলোচনা হবে।’ দোতলা বাড়ি। উপরের তলায় মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীবর্গ আর বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আস্তানা। তাই বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। আমি আর মান্নান ভাই একটু আগেই গিয়ে হাজির হলাম। নিচের তলায় ড্রয়িং রুমে দু’জনে অধীর আগ্রহে বসে রইলাম। ঠিক রাত দশটায় সাদা পোশাকে দু’জন ভদ্রলোক এলেন। দু’জনেই ভারতীয় বাঙালি। একজন তো তেমন কোন কথাই বললেন না। অন্যজন নিজের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিয়ে নাম বললেন, ভট্টাচার্য। অনেক কষ্টে কৌতূহল দমন করলাম। ওদের পুরো পরিচয় জিজ্ঞেস করলাম না।”
সৌ: আমি বিজয় দেখেছি। এম আর আখতার মুকুল।

মি ভট্টাচার্য অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলেন। সেটি তাঁর পেশাগত গোপনীয়তা বলেই ধরে নেওয়া যাক। কিন্তু তাঁর উপস্থিতিতে সেদিন বৈঠকে স্থির হয়েছিল ভারত সরকারের তরফে পূর্ব পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় রেডিও বার্তা সম্প্রচার করা হবে। এই রেডিও সংবাদে থাকবে মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা বাহিনীর কথা।

রণাঙ্গনে রেডিও পাকিস্তান বনাম আকাশবাণী ও স্বাধীন বাংলা বেতারের সেই তরঙ্গ যুদ্ধ বিশ্ব বেতার সম্প্রচার ইতিহাসের অতি চমকপ্রদ অধ্যায়। যার ভূমিকাটুকু করতে সেই রাতে ভট্টাচার্য মশাইয়ের আগমন হয়েছিল।

‘স্বাধীন বাংলা বেতার’ এমন এক রেডিও মাধ্যম যা গেরিলা যুদ্ধের অংশীদার হয়ে রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তীর পাশাপাশি এই রেডিওর পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হয়েছে। তবে বাংলাদেশ তৈরির পর এই রেডিও বার্তার আর প্রয়োজন হয়নি।

এম আর আখতার মুকুল লিখেছেন, “ভট্টাচার্য মশায় সরাসরি বললেন, ‘ একটা পঞ্চাশ কিলোওয়াট ট্রান্সমিটার বাংলাদেশের সীমান্তে বসানো হয়েছে। এই ট্রান্সমিটার চালু রাখার দায়িত্ব ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে। এর অবস্থানটা স্বাভাবিক কারণেই গোপনীয় থাকবে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোলকাতায় প্রতিদিন বেতার অনুষ্ঠান রেকর্ড করতে হবে। রেকর্ডকৃত অনুষ্ঠান ট্রান্সমিটার ভবনে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব ভারতীয় কর্তৃপক্ষের।”

সেদিনের সেই গোপন আলোচনায় গেরিলা যুদ্ধের প্রচার মাধ্যম হিসেবে রেডিও হয়েছিল বিশেষ উপযোগী। সিদ্ধান্ত পাকা হয়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে রণাঙ্গনের প্রথম সম্প্রচার হয় ১৯৭১ সালের ২৫ মে। সেদিন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিন।

Bangladesh 50: হাতে হাত রেখে চলার পাঁচ দশকের বাংলা নামে দেশ

Bangladesh Liberation War

50 years of Bangladesh Liberation War
প্রসেনজিৎ চৌধুরী: খেজুর গুড়ের সুবাস মাখা শীতল অঘ্রাণের ভোর আসার কথা ছিল দিনপঞ্জিকা মেনে। তবে সেবার আসেনি। সেবার মানে পঞ্চাশ বছর আগের কথা। সেবার শীত এসেছিল পচা লাসের গন্ধ নিয়ে। মৃতদেহের স্তূপের উপর দিয়ে, বুলেট বিদ্ধ সদ্য ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া বহু মানুষের গা ছুঁয়ে-পদ্মা, করতোয়া, কর্ণফুলী, ধানসিঁড়ি তীরে ওই বাংলায়।

অগ্রহায়ণ-ডিসেম্বর, বিশ্ব ইতিহাসের রক্তাক্ত সালতামামিতে এই মাস আসলে বিজয়ের। বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বাংলা নামে এক দেশ-বাংলাদেশ। বাঙালি জাতিসত্তার ভিত্তিতে এই দেশের জন্মের রক্তাক্ত মুহূর্ত পেরিয়ে আসার পাঁচটি দশক বহু ঘটনার ঘাত প্রতিঘাতে মিশে আছে।

আগামী ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পালন করবে তাদের স্বাধীনতার লড়াইয়ের চূডাম্ত বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী, জয়ের ৫০ বছর। এ যেন ঘোষিত স্বাধীনতার দিন ২৬ মার্চের থেকেও বেশি আলোচিত।

আগামী ১৬ ডিসেম্বর ভারত পালন করবে পাকিস্তানের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর বিজয় দিবসের ৫০ বছর।

আগামী ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান দ্বিখণ্ডিত হওয়ার ৫০ বছর। পূর্ব পাকিস্তান নাম অবলুপ্তির পঞ্চাশ বছর।

ভারত ভাগ। পাকিস্তান তৈরি। পাকিস্তান ভাগ। বাংলাদেশ তৈরি- নতুন করে চিহ্নিত হওয়া পূর্ব বাংলার সুবর্ণজয়ন্তীতে মিশে আছে আরও দুটি ঐতিহাসিক ঘটনা-

১.বিশ্বে সর্বপ্রথম বাংলাদেশকে কূটনৈতিক স্বীকৃতিদানের ক্ষেত্রে ভুটান সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক সম্পর্কের উষ্ণতাপূর্ণ পঞ্চাশ বছর।
২. একইভাবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কেরও পাঁচ দশক।

চলতি ডিসেম্বর পালিত হবে এই প্রেক্ষিতে। ১৯৭১-২০২১ এই পাঁচ দশকের ঘটনাবহুল বাংলাদেশ বহু চর্চিত-সমালোচিত-প্রশংসিত। সরকার উত্থান-পতন, রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে পরপর সেনা অভ্যুত্থান, গণঅভ্যুত্থানে সেনার বুক কেঁপে যাওয়া সবই হয়েছে প্রতিবেশি দেশে।

মধ্যরাত পেরিয়ে বুড়িগঙ্গার ধারে ঢাকার সদরঘাটে দুলতে থাকা স্টিমারগুলো যেন বাংলাদেশের প্রাণের স্বাক্ষী। ডিসেম্বর শুরুর বিজয় মাসে, তাদের যাত্রা শুরু পরবর্তী গন্তব্যে। হাতে হাত রেখে চলার পাঁচ দশকের রোমাঞ্চ কথায় মিশে আছে গণঅভ্যুত্থান, রাষ্ট্রক্ষমতা দখল, রাষ্ট্র নায়কদের খুন, সামরিক অভ্যুত্থান, জনতার গর্জনে সেনাবাহিনীর বুকে কাঁপন, গণতন্ত্র বনাম বিরোধী শক্তির সংঘর্ষ, ধর্মীয় মৌলবাদের হাতে যুক্তিবাদীদের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকা, ধর্মনিরপেক্ষতাকে ভাঙার খেলা ও তার প্রতিবাদে লক্ষ মানুষের সাড়া॥ বাংলাদেশ-এমনই।

Bangladesh: পাকিস্তানের কাছে পরপর হার, দেশের নাম ‘BAMGLADESH’ লিখে আরও বিতর্কে

bangladesh-team

News Desk: দেশের নামের ভুল বানানে জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের তালিকা প্রকাশ করে চরম বিতর্কে বাংলাদেশ (Bangladesh) ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অভিযোগ, ভুলের খেলা শুরু করেছেন ক্রিকেট প্রশাসকরা। এতদিন ছিল ক্রিকেটারদের নাম, খেলার সময় নিয়ে ভুল বানান ও তথ্য পেশের অভিযোগ, এবার দেশের নামটাই ভুল লিখেছে বিসিবি।

খেলোয়াড়দের তালিকায় Bangladesh এর বদলে ‘Bamgladesh’ লিখেছে বিসিবি। সেটি বাংলা উচ্চারণে হয়েছে ‘বামলাদেশ’। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে চলছে মস্করা। পাকিস্তানের সমর্থকরা তুমুল তামাশা শুরু করেছেন।

চট্টগ্রামে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে টসের পর যে ক্রিকেটার লিস্ট বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সংবাদমাধ্যমকে সরবরাহ করেছে, সেখানে দেশের নাম ভুল বানানে লিখেছে বিসিবি।  বাংলাদেশ (BANGLADESH) বানানে ‘এন’-এর পরিবর্তে ‘এম’ ব্যবহার করেছে। হয়ে গেছে ‘BAMGLADESH’। ওই তালিকায় স্বাক্ষর রয়েছে অধিনায়ক মুমিনুল হক ও ম্যানেজার নাফিস ইকবাল খানের। অভিযোগ, দেশের নাম ভুল নিয়ে বিতর্কের জবাব দিতে মুখ লুকাচ্ছেন ক্রিকেট কর্তারা।

bangladesh

পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশের পর সমালোচনার তীরে বিদ্ধ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্ট নিয়ে বিসিবির ওপর যখন তুমুল ক্ষুব্ধ দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। এর পর এমন ভুল নিয়ে পরিস্থিতি আরও তাতিয়ে তুলেছেন বোর্ড কর্তারা। অভিযোগ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) যেন ভুলের প্রতিযোগিতা শুরু করেছে। 

এর আগে টি-টোয়েন্টি সিরিজে সাকিব আল হাসানের মাথা কেটে শহিদুলের মাথা বসানো হয় বিসিবির অফিসিয়াল পেজে। এর পর চট্টগ্রাম টেস্টের টিকিটে খেলার সময় ‘এএম’ না লিখে ‘পিএম’ লেখা হয়েছিল।এবার দেশের নাম ভুল করল বিসিবি। ভুলটি মেনে নিতে পারছেন না বাংলাদেশবাসী। বিসিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ তীব্র হয়েছে।

Bangladesh 50: গণহত্যার কেন্দ্র মিরপুর যেন ‘মিনি পাকিস্তান’, উল্লাসে উড়ছে পাক পতাকা

Pakistan flag with Bangladeshi Suporters cheering when their country loosing match

News Desk: মুক্তিযুদ্ধ অর্থাৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের যে রক্তাক্ত সংগ্রাম চলেছিল টানা ৯ মাস ধরে, তার চূড়ান্ত বিজয়ের ঠিক আগেই বাংলাদেশি বুদ্ধিজীবী গণহত্যা চালিয়েছিল পাকিস্তান সরকার ও তাদের সেনাবাহিনী। গণহত্যার সেই কেন্দ্র ঢাকার মিরপুর। সেখানেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছর পূর্তিতে পাকিস্তানের পতাকা নিয়েই উল্লসিত বহু বাংলাদেশি!

বিখ্যাত মিরপুর স্টেডিয়াম জুড়ে পাকিস্তানের পতাকা উড়িয়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন বহু বাংলাদেশি। এমনকি পাকিস্তানের নামে চলছে বিজয়ধ্বনী। এই ঘটনায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে তৈরি করেছে তীব্র আলোড়ন। এননকি পাকিস্তানের রাজনীতিতেও ফেলেছে শোরগোল। সেইসঙ্গে ভারতেও শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।

ঘটনার কেন্দ্রে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ক্রিকেট সিরিজ। এই সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছে পাকিস্তান দল। ঢাকার মিরপুর স্টেডিয়ামে এত বাংলাদেশি পাকপন্থী সমর্থক দেখে হতবাক পাক ক্রিকেটাররা। তাদের দেশেরই জাতীয় পতাকা নিয়ে বাংলাদেশি ‘পাকপন্থীদের’ উল্লাস এতটাই যে পাকিস্তান ক্রিকেটারদের অনেকেই বলছেন, মনে হচ্ছে করাচি, লাহোর বা নিজের দেশের কোথাও ম্যাচ চলছে।

Pakistan flag with Bangladeshi Suporters cheering when their country loosing match

এদিকে সিরিজ খুইয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের কাছে পরপর পরাজয় হয়েছে বাংলাদেশের। বিবিসি ও ঢাকার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে, যতবার বাংলাদেশের ক্রিকেটার আউট হচ্ছে, ততবারই মিরপুর জুড়ে ‘পাকিস্তান পাকিস্তান’ বলে উল্লাস শুরু। বাংলাদেশের পরাজয় ঘোষণা হতেই দর্শকদের একাংশ পাকিস্তানের পতাকা নিয়ে বিজয় উল্লাস করছেন।

বিতর্ক এখানেই প্রবল। পাকিস্তান দ্বিখণ্ডিত হয়ে বাংলাদেশ জন্ম নেয়। ১৯৭১ পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক ততটা বাড়েনি যতটা গত কয়েকবছরে বেড়েছে। চলতি বছর বাংলাদেশ পালন করছে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। ভারতীয় ও মুক্তিবাহিনীর যৌথ অভিযানে ঢাকাতেই পাকিস্তানি সেনা ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণ করেছিল ১৬ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের সেই দিনটি উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার এবারে বিশেষ উদযাপন করবে। তার আগে পাকিস্তানের প্রতি এমন সমর্থন বাড়ছে দেখে চিন্তিত মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ও বাংলাদেশি বুদ্ধিজীবীদের বেশিরভাগ।

নিজের দেশ হারছে আর মিরপুর স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের পতাকা নিয়ে বাংলাদেশি দর্শকদের একাংশের বিজয় পালনের প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন দেশটির প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক মাশরাফি বিন মোর্তাজা।

মাশরাফি ফেসবুকে লিখেছেন,”দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, মিরপুরের গ্যালারিতে পাকিস্তানি দর্শকদের পাশাপাশি বাংলাদেশি দর্শকদের হাতেও পাকিস্তানি পতাকা দেখা গেছে। এই দৃশ্য দেখে কোটি কোটি বাঙালির মতো মাশরাফি বিন মর্তুজার হৃদয়েও রক্তক্ষরণ হয়েছে। খেলার সঙ্গে কোনো কিছু মেলানো যায় না এটা ঠিক, কিন্তু খেলাটা যখন আমাদের দেশে আর খেলছে আমাদের দেশ, সেখানে অন্য যে দেশই খেলুক না কেন, তাদের পতাকা তাদের দেশের মানুষ ছাড়া আমাদের দেশের মানুষ উড়াবে, এটা দেখে সত্যি কষ্ট লাগে। যে যাই বলুক, ভাই দেশটা কিন্তু আপনার। আজ হয়নি তো কাল হবে, না হলে পরশু হবে। আপনারা পাশে না থাকলে আর হবেই না। হারি বা জিতি স্টেডিয়ামে আমাদের দেশের পতাকা উড়ুক চিৎকার হোক বাংলাদেশ।”

Bangladesh: পাকিস্তান কেটে বাংলাদেশ জন্মের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান শুরু ১৬ ডিসেম্বর

bangladesh

News desk: রক্তাক্ত নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ শেষ করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ আত্মপ্রকাশ করে। জন্ম নেওয়ার পর ৫০ বছর পার হতে চলেছে। সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান পালিত হবে এই দিনেই। জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছে। ১৬ ডিসেম্বরের আগেই মুজিব শতবর্ষ অনুষ্ঠান সরকার শেষ করতে চায় বলেও জানান বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: Kolkata: বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করেই কলকাতা বইমেলা

Bangladesh 16 december

অনুষ্ঠানে বিদেশি অনেক অতিথি আসার কথা। দু’জন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান আসতে পারেন। দুই দিনব্যাপী (১৬-১৭ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠান হবে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। এমনই জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট না করলেও মনে করা হচ্ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ড. লোটে শেরিং ঢাকায় আসতে পারেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছিল ভুটান। তার পরেই ভারত স্বীকৃতি দেয়।

বাংলাদেশের সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠান ঘিরে চলছে ব্যপাক প্রস্তুতি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ১৬ তারিখে অনুষ্ঠান হবে। কড়া নিরপত্তা থাকবে। অনুষ্ঠান ও উৎসবস্থলের এক কিলোমিটারের মধ্যে গ্যাস সিলিন্ডারের গাড়ি ঢুকতে করতে পারবে না। এই সময় ভ্রাম্যমাণ দোকান থাকবেন না এবং নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থল ও সারাদেশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

<

p style=”text-align: justify;”>১৯৭১ সালে পাকিস্তান দ্বিখণ্ডিত হয়। রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধ শেষে ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ পাকিস্তান আত্মসমর্পণ করেছিল ভারতীয় ও মুক্তিবাহিনীর যৌথ কমান্ডের কাছে।

Bangladesh: পূজামণ্ডপে কোরান রেখে হামলায় ধৃত বেগম খালেদার দলনেতা

Bangladesh

News Desk: কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরান রেখে হামলার ঘটনায় এবার কুমিল্লা সিটি কর্পোরশেনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর পিএস (ব্যক্তিগত সহকারী) মঈনুদ্দিন আহমেদ বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে পলাতক ছিল। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের বাড়ির কাছেই ছিল সেই দুর্গাপূজা মণ্ডপ। বাংলাদেশের অন্যতম বিরোধী দল বিএনপির দখলে এই কর্পোরেশন। দলটির নেত্রী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

পুলিশ জানায়, গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লার নানুয়াদিঘী এলাকায় অস্থায়ী পূজা মন্ডপে কোরান উদ্ধারের পর হামলাকারীদের মধ্যে ছিল কর্পোরেশনের মেয়রের সহকারী মইনুদ্দিন বাবু। ভিডিও ফুটেজে হামলাকারীদের সাথে তাকে চিহ্নিত করা হয়। পরে তাকে নানুয়া দীঘিরপাড় অস্থায়ী মণ্ডপ ও ঠাকুরপাড়া কালিগাছতলা কালী মন্দিরে হামলা মামলায় আসামী করা হয়।

কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আনওয়ারুল আজিম জানান ঘটনার এক দিন পর মইনুদ্দিন তালা ঝুলিয়ে পরিবার নিয়ে আত্মগোপন করে।তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে ধরা গিয়েছে।

শনিবার বিকেলে পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ির একটি রিসর্ট থেকে আটক করা হয় মইনুদ্দিনকে। দুটি মণ্ডপে হামলা-ভাঙচুরের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রবিবার কুমিল্লার আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে তাকে জেলে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশে দুর্গাপূজার সময় সাম্প্রদায়িক হামলা হয় কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে কোরান পাওয়া নিয়ে। সেই ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা ব্যক্তি ইকবাল হোসেন ধৃত। সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়ানোয় ঢাকার বদরুন্নেসা কলেজের অধ্যাপিকা রুমা সরকারকে জেলে পাঠানো হয়েছে।

দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লার ঘটনার জেরে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলায় রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পুলিশের গুলিতে পাঁচ হামলাকারী মারা যায় চাঁদপুরে। নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম দুই সংখ্যালঘু প্রাণ হারান। রংপুরে সংখ্যালঘু মহল্লায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

Bangladesh: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রক্তারক্তি কান্ড, পর পর পড়ছে দেহ

heavy-gun-fire-and-group-clash-at-coxsbazar-rohingya-camp

নিউজ ডেস্ক: গুলি চালিয়ে হামলা। সেই হামলায় রক্তাক্ত বাংলাদেশেপ রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির। বেশ কয়েকজন মৃত। ঘটনাস্থল কক্সবাজারের উখিয়া। এখানেই বৃহত্তম রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ। এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। তিনি জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংঘর্ষের  ঘটনায় ছয় জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে উখিয়ার ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই ঘটনা ঘটে।

রোহিঙ্গাদের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে দু পক্ষগুলি চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাত করা হয়। কয়েকজন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয় ঘটনাস্থলে। জখম হয়েছে ১০-১২ জন রোহিঙ্গা। ঘটনার পর পরই পুলিশ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান শুরু করেছে। 

সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলি করে খুন করা হয় আন্তর্জাতিক রোহিঙ্গা নেতা মুজিবুল্লাহকে। সেই ঘটনার পরে এবার নতুন করে রক্তাক্ত শরণার্থী শিবির। তবে রোহিঙ্গা শিবিরে আগেও গোষ্ঠী সংঘর্ষ হয়েছে।

Bangladesh: দুর্গাপূজায় হামলার ‘উস্কানিমূলক ভিডিও’ ছড়ানোয় জেরা হবে অধ্যাপিকা রুমা সরকারের

Bangladesh ruma sarkar

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে দুর্গাপূজা ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ধর্মীয় উস্কানি দেওয়ার মামলায় কলেজ শিক্ষিকা রুমা সরকার রিমান্ডে নিয়ে জেরা করবে পুলিশ। অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে সম্প্রীতি বিনষ্ট করার অভিযোগ রয়েছে। তিনি ঢাকার বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপিকা।

এর আগে বুধবার বাংলাদেশ পুলিশ গ্রেফতার করেছে কুমিল্লার দুর্গাপূজা প্যান্ডেলে কোরান শরিফ রেখে আসা ব্যক্তি ইকবাল হোসেনকে। কুমিল্লা থেকেই বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রদায়িক হামলা ছড়ায়। এর জেরে নোয়াখালীতে হামলার মুখে পড়েন সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজারী যতন সাহা। তাঁকে খুন করা হয়। সেই ঘটনার বিবরণ ফেসবুক লাইভে দিতে গিয়ে অভিযুক্ত রুমা সরকার অন্য একটি ঘটনার ছবি ও প্রসঙ্গ আনেন। তাঁর মন্তব্য থেকে আরও উত্তেজনা ছড়ায় বলে অভিযোগ।

তদন্তে নেমে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রমনা থানায় রুমা সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে বাংলাদেশ র‌্যাব বাহিনী। আটক করা হয় রুমা সরকারকে। ব়ৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম।

পুরনো একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে ধর্মীয় উস্কানি ও অপপ্রচারের অভিযোগে বদরুন্নেসা কলেজের অধ্যাপিকা রুমা সরকারকে দু দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।  বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ উর রহমান এই আদেশ দেন।বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, দুর্গাপূজার সময় সোশাল মিডিয়ায় ‘অপপ্রচার’ চলেছে