Bankura: অতি বৃষ্টিতে শিলাবতী ভয়াবহ, স্রোতের টানে নিখোঁজ ব্যক্তি

flood situation in bankura

বাঁকুড়া: সিভিক ভলান্টিয়াদের নিষেধ অমান্য করে শিলাবতী নদী পেরোতে গিয়ে জলের তোড়ে ভেসে গেলেন এক ব্যক্তি। নিখোঁজ ব্যক্তির নাম সুভাষ গুলি মাঝি (৫০)। বৃহস্পতিবার বাঁকুড়ার সিমলাপাল থানা এলাকার পাথরডাঙ্গা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে খবর, নিম্নচাপজনিত ধারাবাহিক বৃষ্টির ফলে শিলাবতী নদীর পাথরডাঙ্গা কজওয়ে জলের তলায়। এদিন সকালে মাচাতোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের জফলা গ্রামের বাসিন্দা সুভাষ গুলি মাঝি নদী পেরিয়ে নিজের কুমড়ো চাষের জমি দেখতে যাওয়া চেষ্টা করেন। সিভিক ভলান্টিয়াররা বাধা দেন।

কোনও নিষেধ না শুনে ওই ব্যক্তি নদী পেরোনোর চেষ্টা করলে জলের তোড়ে ভেসে যান। পুলিশের পক্ষ থেকে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের কর্মীদের দিয়ে নদীতে তল্লাশি চলছে। নিম্নচাপজনিত ধারাবাহিক বৃষ্টির ফলে জলমগ্ন বাঁকুড়ার একটা বড় অংশ। জেলার গন্ধেশ্বরী, দ্বারকেশ্বর, শিলাবতী, কংসাবতী, দামোদর সহ প্রতিটি নদীতেই জলস্তর বাড়ছে। 

দ্বারকেশ্বর নদের মীনাপুর, ভাদুল, গন্ধেশ্বরীর ছাতনা, মানকানালী, জেলার দক্ষিণের শিলাবতীর হাড়মাসড়া সংলগ্ন ইঁটাপোড়া, পাথরডাঙ্গা ও সিমলাপাল সেতু জলের তলায়। ফলে জেলার একটা বড় অংশ জুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।

হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত বাঁকুড়া জেলায় ৩৫৪.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। রেকর্ড পরিমান এই বৃষ্টিপাতের ফলে বাঁকুড়া শহরের একটা অংশে বন্যা পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে।

কে বলে বঙ্গের দুর্গাপূজা চার দিনের! মল্লভূমে ১৮ দিন হয়

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: মল্ল রাজারা আর নেই, নেই রাজ্যপাঠ। ভাঙ্গাচোরা রাজবাড়ির দেওয়ালে কান পাতলে আজও যেন শোনা যায় মল্লরাজাদের প্রাচীণ ইতিহাসের পদধ্বনি। প্রাচীন রীতি ও ঐতিহ্য মেনে  বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর মল্লরাজাদের দুর্গোৎসবের সূচনা হয়ে গেল। প্রাচীণ রীতি মেনে এদিন থেক শুরু হয়ে টানা ১৮ দিন চলবে পুজো।

‘পট পুজো’ই এখানকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। শহরের শাঁখারি বাজারের ফৌজদার পরিবারের সদস্যরা ধারাবাহিকতা মেনে আজও ফি বছর বড় ঠাকুরাণী, মেজ ঠাকুরাণী ও ছোটো ঠাকুরাণীর আলাদা আলাদা তিনটি পট আঁকেন। মন্দিরে দেবী মৃন্ময়ী প্রতিমার পাশেই নির্দিষ্ট জায়গায় এই তিনটি পট রেখে পুজো হয়।

বৃহস্পতিবার নবম্যাদি কল্প থেকে বড় ঠাকুরাণী অর্থাৎ দেবী মহালক্ষীর পুজো শুরু হলো। এদিন সকালে রাজবাড়ি সংলগ্ন রঘুনাথ সায়রে বড়ঠাকুরাণীর পটের স্নান পর্ব শেষে মন্দিরে প্রবেশের পর প্রথানুযায়ী তিন বার মূর্চ্ছা পাহাড়ে কামানের তোপধ্বণি দেওয়া হলো। পরে গর্ভগৃহে প্রবেশের মুহূর্তেও তোপধ্বণি দেওয়া হয়। পরে দেবীকে অন্নভোগ নিবেদনের সময় আরো তিনবার কামানের তোপধ্বণি দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে বড় ঠাকুরাণীর পুজোর দিন থেকেই মল্ল রাজাদের প্রাচীণ এই রাজধানীতে শারদোৎসবের সুচনা হয়ে গেল।

durga puja of Mallabhum kingdom

প্রাচীণ প্রথানুযায়ী, দেবী পক্ষের চতুর্থীর দিন থেকে রাজপরিবারের মেজ ঠাকরুন অর্থাৎ দেবী সরস্বতী ও সপ্তমীর দিন থেকে ছোটো ঠাকরণী অর্থাৎ দেবী মহাকালীর পুজো শুরু হয়। বড়, মেজো ও ছোটো ঠাকরুণী এই তিনজনকেই দেবী মহামায়ার রুপ হিসেবে মল্লরাজাদের হস্ত লিখিত বলীনারায়নী পুথি অনুযায়ী পূজিতা হন।

৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ, বাংলা ৪০৪ সাল, মল্লাব্দ ৩০৩ মল্লাব্দে তৎকালীন রাজা জগৎ মল্ল বিষ্ণুপুরে দেবী মৃন্ময়ী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। ইনি মল্ল রাজাদের কূলদেবী। অতীতে রাজাদের আমলে যে আড়ম্বর ছিল সময়ের দাবী মেনে তাতে কিছু ভাটা পড়লেও শহরবাসীর মধ্যে উৎসাহে ভাটা এতোটুকুও কমেনি, বরং বেড়েছে। অন্যান্য পুজো কালিকাপূরাণ মতে হলেও এই রাজ্যে একমাত্র বিষ্ণুপুর রাজ পরিবারে বলিনারায়ণী মতে দুর্গাপূজা হয় বলে দাবী করা হয়। একসময় এখানে পূজোয় বলি প্রথা চালু থাকলেও রাজা হাম্বির মল্ল বৈষ্ণব মতে দীক্ষা নেওয়ার পর চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় বলি প্রথা।

তোপধ্বণির শব্দকে ব্রহ্ম হিসেবে ধরে সেই সময় থেকেই পাহাড়ের উপর কামানের তোপধ্বণির চালু বলে জানা গেছে। প্রাচীণ রীতি অনুযায়ী প্রতি বছর অষ্টমীর দিন থেকেই মন্দিরের গর্ভগৃহে অষ্ট ধাতু নির্মীত বিশালাক্ষ্মী ও নবমীর রাতে খচ্চরবাহিনী দেবীর পুজো হয়। বিজয়া দশমীতে দেবী মৃন্ময়ীর ঘট বিসর্জনের পর বড় ঠাকুরাণী, মেজ ঠাকুরাণী ও ছোট ঠাকুরাণীর ঘট বিসর্জন হয়। সব শেষে এই তিন ঠাকুরাণীর পট রাজবাড়ির অন্দর মহলে নিয়ে যাওয়া হয়।

সারা বছরের পাশাপাশি পুজোর এই দিন গুলিতে মন্দির নগরীতে বিষ্ণুপুরে পর্যটকদের ঢল নামে। প্রাচীন ঐতিহ্য আর পরম্পরার সাক্ষী থাকতে আজও জেলা, রাজ্য, দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশ থেকেও প্রচুর মানুষ ভীড় করেন। সব মিলিয়ে মল্লরাজারা থাকলেও তাঁদের কীর্তির জেরে বিষ্ণুপুর আছে বিষ্ণুপুরেই।

Bankura: কে বলবে শরৎকাল! ৩৫৪.৩ মিলিমিটার বৃষ্টির রেকর্ড

flood situation in bankura district

অনলাইন ডেস্ক, বাঁকুড়া: আকাশ দেখে কে বলবে শরৎকাল ! এ যেন ভরা বর্ষা। জল থই থই বাঁকুড়ায় বন্যা পরিস্থিতি। সবকটি নদ-নদীর জলস্তর বাড়ছে। নিম্নচাপজনিত ধারাবাহিক বৃষ্টির ফলে জলমগ্ন বাঁকুড়ার একটা বড় অংশ। জেলার গন্ধেশ্বরী, দ্বারকেশ্বর, শিলাবতী, কংসাবতী, দামোদর সহ প্রতিটি নদীতেই জলস্তর বাড়ছে। 

দ্বারকেশ্বর নদের মীনাপুর, ভাদুল, গন্ধেশ্বরীর ছাতনা, মানকানালী, জেলার দক্ষিণের শিলাবতীর হাড়মাসড়া সংলগ্ন ইঁটাপোড়া, পাথরডাঙ্গা ও সিমলাপাল সেতু জলের তলায়। ফলে জেলার একটা বড় অংশ জুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।

হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত বাঁকুড়া জেলায় ৩৫৪.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। রেকর্ড পরিমান এই বৃষ্টিপাতের ফলে বাঁকুড়া শহরের একটা অংশে বন্যা পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে।

সকাল থেকে গন্ধেশ্বররী নদী সংলগ্ন বাইপাস রোড সম্পূর্ণ জলের তলায়। প্রায় কোমর সমান জল রাস্তার উপর দিয়ে বইছে।  বেশ কিছু দোকান জলে ডুবে গেছে।  একই সঙ্গে শহরের লক্ষ্যাতড়া মহাশ্মশান, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের হরিতকী বাগান, জুনবেদিয়া রামকৃষ্ণ পল্লী, পলাশতলা, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের মল্লেশ্বর পল্লী, প্রতাপবাগান এলাকায় জল থৈ থৈ অবস্থা। বেশ কিছু বাড়িতেও ইতিমধ্যে জল ঢুকে গেছে। চরম সমস্যায় শহরবাসী।

Bankura: টেণ্ডার দুর্নীতি কাণ্ডে গ্রেফতার প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদের ছায়াসঙ্গী

Bankura tender corruption case

নিউজ ডেস্ক, বাঁকুড়া: টেণ্ডার দুর্নীতি কাণ্ডে গ্রেফতার হলেন ঘটনায় মূল অভিযুক্ত রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিষ্ণুপুর পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর এক সময়ের ছায়াসঙ্গী উজ্জ্বল নন্দী।

ধৃত উজ্জ্বল নন্দী দীর্ঘদিন বাঁকুড়া (Bankura) জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি ও বিষ্ণুপুর টাউন সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী অর্চিতা বিদের সঙ্গে প্রচারেও দেখা গেছে তাকে। সব মিলিয়ে এখনো পর্যন্ত টেণ্ডার দুর্নীতি ঘটনায় গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে হলো ৪।

Bankura tender corruption case

উজ্জ্বল নন্দীকে মঙ্গলবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। জেরায় তার বক্তব্যে অসঙ্গতি মেলায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। বুধবার ধৃতকে পুলিশের পক্ষ থেকে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে।

টেন্ডার দুর্নীতি-কাণ্ডে কাণ্ডে গত ২২ অগস্ট গ্রেফতার হন প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। একুশের ভোটে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি যান তিনি।

শ্যামাপ্রসাদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে মোট ৬টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ করেছে পুলিশ। শ্যামাপ্রসাদের নামে বেআইনিভাবে রাখা জমি ও একাধিক পেট্রোল পাম্পের মালিক হিসাবেও উঠে এসেছে প্রাক্তন মন্ত্রীর নাম।

Durga Puja: ডাক পাচ্ছে না ‘ডাকের সাজ’, দুর্গা আসছে বাপের বাড়ি

traditional art of goddess durga now faccing problems

নিউজ ডেস্ক, বাঁকুড়া: ডাক আসেনি। ডাকের সাজ মলিন হচ্ছে। তবে দুর্গা আসছে ঘরে। শরতের আকাশে পেঁজা তুলো মেঘ৷ বাতাসে শিউলি ফুলের গন্ধ। বাতাসে দোলা খাচ্ছে শ্বেতশুভ্র কাশ ফুল। পুজো পুজো গন্ধে মাতোয়ারা চারিদিক৷ মিলেমিশে সব কিছু জানান দিচ্ছে ‘মা আসছেন’।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতেও থিমভাবনা আর বিষয়-বৈচিত্রে বাংলার গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র মণ্ডপ সজ্জায় এসেছে অভিনবত্বের ছোঁয়া। সঙ্গে সঙ্গে  আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে প্রতিমার পোশাক ও অলঙ্কার-সজ্জাতেও। কিন্তু ভালো নেই ওঁরা। ওঁরা মানে সেই সব ডাক শিল্পী, যাঁরা উৎসবের অন্যতম মূল কাণ্ডারি, যাঁদের হাত ধরেই মা আসেন এই মর্ত্যধামে।

বর্তমান সময়ে হারিয়ে যেতে বসেছে পুরাতনী ডাকের সাজ। মানুষের রুচি ও ইচ্ছার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলে যাচ্ছে দেবদেবীর সাজসজ্জাও। এমনকি দাম বেড়েছে কাঁচা মালেরও। কিন্তু দাম বাড়ছে শিল্পীর অফূরান ধৈর্য্য আর পরিশ্রমের ফসল প্রতিমা অঙ্গ সজ্জার সামগ্রীর। ফলে এইই বাংলার শোলা শিল্প ও শিল্পী দু’জনই বিপন্ন।

বংশপরম্পরায় প্রতিমার ডাকের সাজ তৈরী করে আসছেন বাঁকুড়া শহরের ইদগমহল্লার রামু মালাকার। বাপ-ঠাকুর্দার হাত ধরে তিনি নিজেও এই শিল্পে হাত পাকিয়েছিলেন। তাঁর তৈরী প্রতিমার ডাক বাঁকুড়া শহরের গণ্ডি ছাড়িয়ে পুরুলিয়া-চাইবাসা ছাড়াও এক সময় পাড়ি দিয়েছে আমেরিকার মতো দেশেও। কিন্তু তার পরেও জোটেনি সরকারীভাবে ‘শিল্পী’র তকমা।

সারা বছর কাজ করেও সংসার চলেনা। কারণ কাঁচামালের দাম প্রতিদিন হু-হু করে বাড়ছে। সেই তুলনায় কিছুই দাম মেলেনি উৎপাদিত দ্রব্যের। ফলে সমস্যা দিন দিন বাড়ছে বৈ কমেনি। কথা গুলো বলতে গিয়ে আক্ষেপ ঝরে পড়ছিল এই শিল্পীর গলায়।

হাজারো সমস্যায় জর্জরিত ঐতিহ্যবাহী ডাকশিল্প কি ধ্বংসের মুখে? অনেকেই ইতিমধ্যে এই শিল্পের কাজ ছেড়ে বিকল্প পেশার দিকে ঝুঁকছেন ৷ নতুন প্রজন্মও সেভাবে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হতে চাইছেন না ৷
চরম সংকটে শিল্পীরা। তার মধ্যেও রামু মালাকারের মতো কিছু শিল্পী শুধুমাত্র ‘নেশা’র টানে এখনো এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন ৷ কিন্তু এভাবে আর কতো দিন? উত্তরটা জানা নেই রামু মালাকারদের।

শূন্যপদে মৃতের উত্তরাধিকারীর চাকরি চেয়ে বাম সংগঠনের ডেপুটেশন

Left union submited deputation on job distribution

নিউজ ডেস্ক, বাঁকুড়া: শূণ্যপদে মৃতের উত্তরাধিকারীর চাকুরী, অস্থায়ী কর্মীদের পূর্ণবেতন ও স্থায়ীকরণ, নতুন পে স্কেলে ঘোষিত গ্র্যাচুইটি প্রদান সহ বেশ কিছু দাবিতে আন্দোলনে নামলেন সি.আই.টি.ইউ এবং এ.আই.টি.ইউ.সি কর্মীরা।

বৃহস্পতিবার দুই বাম শ্রমিক সংগঠন অনুমোদিত বাঁকুড়া জেলা পৌর শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন ও বাঁকুড়া জেলা পৌর মজদুর ও কর্মচারী ইউনিয়নের তরফে বাঁকুড়া পৌরসভার ‘প্রশাসক’কে নিজেদের দাবী-দাওয়া সম্বলিত দাবিপত্র তুলে দেওয়া হয়।

স্মারক লিপি জমা দেওয়ার আগে বাঁকুড়া পৌরসভার সামনে এক সংক্ষিপ্ত সভায় সিপিআইএম বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক অজিত পতি সহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।

আন্দোলনকারী দুই সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে, এর আগে কর্মরত অবস্থায় কোন পৌরকর্মী মারা গেলে সংশ্লিষ্ট পরিবারের একজনকে দৈনিক ২৫০ টাকা মজুরীতে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ করা হতো। কিন্তু বিগত পৌর বোর্ড সেই প্রথা ভেঙ্গে মৃত কর্মচারীর পরিবারের একজনকে দৈনিক ১৫০ টাকা মজুরীতে নিয়োগ করছে। এই ঘটনার বারবার প্রতিবাদ জানালেও কোন কাজ হয়নি বলে অভিযোগ।

বাঁকুড়া পৌরসভার প্রশাসক অলকা সেন মজুমদার এবিষয়ে বলেন, ওদের দাবি দাওয়া থাকবেই। তবে ওই বিষয়ে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

বৃষ্টি হলেই বিষ্ণুপুর পার্কিং জোন ডুবে যায়, পুরসভা আসলে ‘জলসভা’

Bishnupur municipality parking

বাঁকুড়া: ‘মন্দির নগরী’ হিসেবেই খ্যাত বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর। মল্ল রাজাদের অসামান্য কীর্তির টানে বছরভর দেশ বিদেশ থেকে অসংখ্য পর্যটক এখানে আসেন। আগত পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভেবে বিগত ২০০৩ সালে পৌরসভার তরফে ইন্দিরা মার্কেটের নিচে একটি পার্কিং জোন তৈরী করা হয়। উদ্বোধন করেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী। বর্তমানে সেই পার্কিং জোন নিয়ে বেড়েছে বিড়ম্বনা। অল্প বৃষ্টিতেই সেই পার্কিং জোন স্যুইমিং পুলের চেহারা নেয়।

ইন্দিরা মার্কেটের পার্কিং জোনে গিয়ে দেখা গেল পুরো এরাকা জুড়ে প্রায় হাঁটু সমান জল। তার মধ্যেও যারা একান্তই নিরুপায় তারাই জলের মধ্যে গাড়ি রাখছেন, আবার অনেকেই সযত্নে এড়িয়ে চলছেন পার্কিং জোনটিকে। আর এই সুযোগে শাসক দলকে বিঁধতে ছাড়ছেন না বিরোধীরাও।

পার্কিং জোনের দায়িত্বে থাকা কর্মী প্রদীপ কর্মকার বলেন, পৌরসভাকে জানানোর পর জল বের করা হয়েছিল। ফের নতুন করে জলে ভরে যাচ্ছে পুরো পার্কিং জোন। এই অবস্থায় অনেকেই এখানে গাড়ি রাখতে চাইছেননা বলে তিনি জানান।

বিজেপির নগর মণ্ডল সভাপতি উত্তম সরকার এবিষয়ে বলেন, ‘পরিকল্পনাহীন’ কাজের জন্য সাধারণ মানুষকে ভূগতে হচ্ছে। সরকারী অর্থের অপচয় হয়েছে। ঐ জায়গায় যারা গাড়ি রাখেন তারা পৌরসভা নির্দ্ধারিত টাকা দেন। তারপরেই এই চূড়ান্ত অব্যবস্থা কেন? সে নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই বিজেপি নেতা।

বাঁকুড়া জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক দেবু চ্যাটার্জীর দাবি, সাধারণ মানুষের সুবিধা-অসুবিধার কথা ভেবে বিষ্ণুপুর পৌরসভা পরিচালিত হয়না। এই পৌরসভা ‘জলসভা’তে পরিনত হয়েছে। পৌরসভার সঠিক নজরদারীর অভাবেই এই সমস্যা বলে তার দাবি।

দুর্গা আসছে: দালান কোঠায় ঝাড়বাতির ধুলো ঝাড়তেই খুশিখুশি ভাব

Historic durga puja

তিমিরকান্তি পতি বাঁকুড়া: সালটা ১৭১২-৪৮। সেই সময় বিষ্ণুপুরের  গোপাল সিংহ ও চৈতন্য সিংহের আমল। ঠিক সেই সময় বর্ধমানের নীলপুর গ্রাম থেকে ভাগ্যান্বেষণে বেরিয়ে বর্তমান পাত্রসায়রের হদল গ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন জনৈক মুচিরাম ঘোষ। পরে বিষ্ণুপুর মল্লরাজাদের দেওয়ান  শুভঙ্কর রায়ের সৌজন্যে বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজাদের সান্নিধ্য লাভ করেন তিনি।

মল্ল রাজাদের দাক্ষিন্যেই নামমাত্র খাজনার বিনিময়ে দামোদরের উপনদী বোদাই এর তীরে পারুলিয়া পরগণার বিশাল জমিদারী লাভ করার পাশাশি ‘মণ্ডল’ উপাধি পান মুচিরাম । পরবর্তীকালে বেশ কিছু নীলকুঠি পরিচালনা করে বিশাল সম্পত্তি র মালিক হন তিনি।

আর্থিক প্রাচূর্যের ফলে বাঁকুড়ার হদল ও নারায়ানপুর গ্রামের মাঝে তৈরী হয় বিশাল জমিদারবাড়ি। শুরু হয় দুর্গা পুজাও। ৩০০ আগে শুরু হওয়া সেই পুজোকে ঘিরে আজও ঐ এলাকার মানুষের উন্মাদনায় এতটুকুও ভাঁটা পড়েনি। 

জনশ্রুতি,  নীলের ব্যবসা করে মণ্ডলরা তখন আর্থিক দিক থেকে বেশ ফুলে ফেঁপে উঠেছেন। ঠিক সেই সময় নীল বিক্রি করে প্রচুর ধন সম্পদ নিয়ে বজরায় করে গ্রামে ফেরার পথে কোন এক জায়গায় জল দস্যুদের কবলে পড়েছিল মণ্ডল বাড়ির তৎকালীন এক সদস্য। জল দস্যুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার কোন উপায় না পেয়ে দেবী দুর্গার স্মরণাপন্ন হন। আর তাই বেঁচে ফিরলে বজরায় থাকা যাবতীয় সম্পত্তি দুর্গা র নামে দেবোত্তর করে দেওয়ার মানত করেন তিনি।

পরে তিনি সুস্থ শরীরে বাড়ি ফিরে এলে ওই বজরায় থাকা সমস্ত ধন সম্পদ দিয়ে বিশাল দুর্গা দালান, রাস মঞ্চ, রথ মন্দির, নাট মন্দির, নহবত খানা তৈরি মানত শোধ করেন তিনি। এমনকি বংশ পরম্পরায় পুজা পরিচালনার  জন্য বহু জমি ও পুকুর কিনে সেগুলি দুর্গা র নামে দেবোত্তর করে দেন। এক দিকে নীল কুঠির বিপুল আয় অন্যদিকে বিশাল জমিদারির খাজনায় ফুলে ফেপে ওঠে রাজকোষ। প্রত্যাশিতভাবে তার প্রভাব পড়ে দুর্গোৎসব পরিচালনাতেও। সেই সময় পুজোয় টানা সাত দিন নহবৎ খানায় বসত নহবৎ। দুর্গা মন্দির সহ সমস্ত মন্দির সাজানো হত বেলজিয়াম গ্লাসের বিশাল বিশাল ঝাড়বাতিতে। বসতো পুতুল নাচের আসর, হতো যাত্রাপালাও। দুর্গা পুজার প্রতিটি নির্ঘণ্ট ঘোষিত হত তোপ ধ্বনির দ্বারা। দূর দূরান্তের অসংখ্য মানুষ আর  প্রজারা হাজির হতেন মণ্ডলদের জমিদারবাড়িতে।

আজ আর সেই নীল কুঠিও নেই, নেই জমিদারীও। তবু বিশাল দেবোত্তর সম্পত্তির আয়ে দুর্গা পুজায় আয়োজনের ত্রুটি রাখেন না মণ্ডল বাড়ির বর্তমান প্রজন্ম। আজও পুজো এলেই মণ্ডল জমিদারবাড়ির নহবৎ খানায়  বেজে ওঠে সানাই।  ভাঁড়ার ঘর থেকে পুরানো দিনের সেই ঝাড়বাতি বের করে তার ধুলো ঝেড়ে দুর্গাদালানে টাঙ্গানো হয়। এমনকি কর্মসূত্রে দেশ বিদেশে ছড়িয়ে থাকা পরিবারের সদস্য রা আজও  পুজোর দিন গুলিতে পূর্ব পুরুষের ভিটেয় ছুটে আসেন শুধুমাত্র ইতিহাস কে আরো একবার ছুঁয়ে দেখার লোভে।

Durga Puja: ভক্তি আছে জৌলুস কমেছে, মল্লভূমের দুর্গা পূজা চমকে দেয় গল্প কাহিনিতে

Heritage durga puja

তিমিরকান্তি পতি: জেলার ইতিহাসে মল্ল রাজাদের জৌলুস এমনই ছিল যে বাঁকুড়ার একটি ডাক নাম মল্লভূম। এই মল্লভূমের জৌলুস এখন ইতিহাস। তবে বাঁকুড়ার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঝলমলে দিকটা মল্লভূম গরিমা ঘেরা। মল্লভূমের দুর্গা (Durga Puja) আরাধনায় আরও অনেক চমক মিশে আছে।

সে সময়ের কথা। দেশ তখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন মধ্যগগণে। শাসকদের অতিরিক্ত করের বোঝা টানতে না পেরে মল্ল রাজাদের একের পর এক তালুক তখন নিলামে উঠছে। এই সময়ই বিষ্ণুপুরের শেষ মল্ল রাজা চৈতন্য সিংহের দেওয়ান ছিলেন চণ্ডীচরণ মুখোপাধ্যায়। তাঁর সময়েই ময়নাপুর তালুকের জমিদারী লাভ করে মুখোপাধ্যায় পরিবার।

Heritage durga puja

জমিদারী লাভের পর ইংরেজী ১৭৯১ সাল নাগাদ দুর্গাপুজার সূচনা হয়। তার অনেক পরে ১৮৪৭ সাল নাগাদ তৈরী হয় স্থায়ী মন্দির। সেই হিসেবে এবছর ২৩১ বছরে পড়লো ময়নাপুর মুখোপাধ্যায় বাড়ির পুজো।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জমিদারির জেল্লা এখন অনেকটাই ফিকে। তবে ভাঙাচোরা, পলেস্তারা খসা জমিদার বাড়িতে এখনো শরতের রোদ ঝলকায়। কারণ ‘ঘরের মেয়ে’ উমা আসবে ঘরে…। তাই জমিদারির রং না থাকলেও মুখোপাধ্যায়দের ঠাকুরদালানে পুজোর রং লাগে নিয়ম মেনেই।

আগে যেখানে ঝাড়বাতির আলোর ছটায় বসত যাত্রাপালা। রামায়ণ গান আর পুতুলনাচে গমগম করত চণ্ডীমণ্ডপ। এখন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে সব অতিত। তার জায়গা নিয়েছে রঙবাহারি বৈদ্যুতিক আলো। মূলতঃ লোক বলের অভাবে ন’দিনের পুজো কমে হয়েছে পাঁচ দিনে, বন্ধ হয়েছে ছাগবলি। কিন্তু সময়ের দাবি মেনে এ সব পরিবর্তন মেনে নিলেও নিষ্ঠা আর ভক্তিতে কোন ছেদ পড়তে দেননি মুখোপাধ্যায় বাড়ির বর্তমান বংশধরেরা।

অজানা জ্বরে আতঙ্কিত হবেন না: জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

Dr Parthapratim pradhan

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ‘অজানা জ্বর নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। সব ধরণের পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত দক্ষিণ বঙ্গের অন্যতম বড় সরকারী চিকিৎসাকেন্দ্র বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। এমনটাই জানানো হয়েছে কর্তৃপক্ষের তরফে।

বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডঃ পার্থ প্রতিম প্রধান জ্বরের উপসর্গ নিয়ে প্রচুর রোগী হাসপাতালে আসছেন। তবে বিষয়টি এখনো অস্বাভাবিক পর্যায়ে যায়নি। একদিকে ‘অজানা জ্বরে’র যেমন কোন তথ্য নেই, তেমনি এখনো পর্যন্ত চলতি বছরে জ্বরের কারণে কোন শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, জাপানি এনকেফেলাইটিসে আক্রান্তরা হাসপাতালে ভর্তির তালিকায় আছেন। সাধারণভাবে প্রতিদিন ১৫-২০ জন রোগী আসছেন। শিশুদের জন্য পাঁচ শয্যার সি.সি.ইউ সহ ২৫ শয্যার এস.জি.ইউ তৈরী রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বড়দের জন্য ২৪ শয্যার এস.জি.ইউ তৈরী হচ্ছে। একই সঙ্গে অক্সিজেনের ঘাটতি মেটাতে হাসপাতালেই লিক্যুইড মেডিক্যাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট ও পি.এস.এ অক্সিজেন প্ল্যান্ট বসানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

পুজো এলেও একটাও অর্ডার নেই টেরাকোটা গ্রাম পাঁচমুড়ায়

Teracotta Durga

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: আর মাত্র ক’টা দিনের অপেক্ষা। তারপর পুজোর আনন্দ উৎসবে মেতে উঠবে আমবাঙালি। কিন্তু এতোসবের পরেও মন ভালো নেই ‘টেরাকোটার গ্রাম’ পাঁচমুড়ার মৃৎ শিল্পীদের। করোনা আবহে গত বছরও পুজোয় উল্লেখযোগ্য তেমন কোনও বরাত তারা পাননি, এবারও তাই। ফলে চরম সমস্যায় এখানের শিল্পীরা।

টেরাকোটার হাতি, ঘোড়া থেকে ঘর সাজানোর নানান জিনিসপত্র, এমনকি পোড়া মাটির গহনা তৈরীতেও পাঁচমুড়ার কুমোর পাড়ার শিল্পীদের বিশ্বজুড়ে ব্যাপক খ্যাতি রয়েছে। একটা সময় ‘পাঁচমুড়ার ঘোড়া’ আন্তর্জাতিকস্তরেও সদর্পে দাপিয়ে বেড়িয়েছে। আর এই জায়গা থেকেই মণ্ডপ সজ্জা থেকে প্রতিমা সব বিষয়েই কলকাতা সহ রাজ্য জুড়ে ব্যাপক চাহিদা ছিল মৃৎশিল্পীদের।সেই সুযোগে বাড়তি কিছু রোজগারের সুযোগ তৈরী হতো তাঁদের।

Teracotta village of bankura facing problems

কিন্তু করোনা এসে সব আশাতেই জল ঢেলে দিয়ে গেল। এবছর এখনো পর্যন্ত এখানকার একজন শিল্পীও প্রতিমা তৈরী থেকে মণ্ডপ সজ্জার ডাক পাননি। ফলে চরম হতাশা গ্রাস করছে এখানকার এই শিল্পীদের।

মৃৎশিল্পী ও শিক্ষক বিশ্বনাথ কুম্ভকার বলেন, করোনা আবহে শিল্প ও শিল্পী দু’জনই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। পুজোর অর্ডার আমরা এখনো কেউ পাইনি। এরপর পেলে বড়কাজে সমস্যা হবে। কারণ টেরাকোটা শিল্প কর্ম ফুটিয়ে তোলা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। আর সেই সময়টা এখন হাতে নেই, কারণ পুজো প্রায় দোরগোড়ায়। এখনো অর্ডার এলে ছোটো প্রতিমা বা মণ্ডপ সজ্জার কাজ সঠিক সময়ে করে ফেলতে পারবেন বলে তিনি জানান।

Teracotta village of bankura facing problems

আর এক শিল্পী ভূতনাথ কুম্ভকারও একই কথা বলেন। তাঁর কথায় করোনায় সব ওলট পালট করে দিল। পুজোর মণ্ডপ সজ্জা বা প্রতিমা তৈরী করে মোটা অঙ্কের রোজগার হতো। কিন্তু এবার পুজো কমিটির তরফে তেমন কোন উৎসাহই চোখে পড়ছেনা। ফলে তারা পুজোর কাজ আদৌ পাবেন কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত আছেন বলে তিনি জানান।

অ্যাত্তো বড় ! জিলিপি মেলায় গেলে চমকে যাবেনই

Unique jalebi fair of kenjakura village

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ‘হ্যাঁ, অ্যাত্তো বড়!’ ভাদ্র সংক্রান্তি এলেই কয়েক বছর আগে পুজোর সময় একটি বহুজাতিক সংস্থার বহুল প্রচারিত বিজ্ঞাপনটিকেই যেন মনে করায় বাঁকুড়া- ১ ব্লকের প্রাচীণ ও সমৃদ্ধশালী গ্রাম কেঞ্জাকুড়া। 

কারণ প্যাঁচেভরা জিলিপির সাইজ নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে৷ কিন্তু এখানে এই সময় তৈরী জিলিপির সাইজের কোনও সীমা নেই৷ আপনি চাইলে আপনার প্রিয়জনকে দশ কেজি ওজনেরও জিলিপি উপহার দিতে পারেন৷ একদম হেঁয়ালি নয়, ফি বছরই ভাদ্র সংক্রান্তিতে জিলিপি মেলার আয়োজন হয় বাঁকুড়ার এই গ্রামে। সেখানেই মেলে বৃহদাকার এই জিলিপি।

Unique jalebi fair of kenjakura village

গ্রামে জিলিপি মেলার শুরু কিভাবে কিংবা এই মেলা কত বছরের পুরনো তা অবশ্য জানা নেই এলাকার প্রবীণদেরও৷ তাঁদের কথায়, জ্ঞান হওয়া থেকেই দেখে আসছি গ্রামে জিলিপি মেলা হচ্ছে৷ তবে এর উৎপত্তি কিভাবে তা আমাদেরও জানা নেই৷ বাসিন্দার জানান, ফি বছর ভাদ্র সংক্রান্তিতে রাঢ় বঙ্গে ভাদু পুজো হয়৷ আর এই পুজোকে কেন্দ্র করেই কেঞ্জাকুড়া গ্রামে বসে জিলিপি মেলা৷

ভোজনরসিক হিসেবে বাঙালির সুখ্যাতি কারও অজানা নয়৷ আর সেই খাবার    ‘মিষ্টি’ হলে তো কথায় নেই। তাও আবার যে সে মিষ্টি নয়, জিলিপি৷ যার একেকটির সাইজ দেখলে মাথা ঘুরে যাওয়াটাই স্বাভাবিক৷ বাসিন্দারা জানান, এই মেলার প্রধান আকর্ষণ জিলিপির সাইজ৷

Unique jalebi fair of kenjakura village

জিলিপি মেলায় জিলিপির নুন্যতম ওজন তিন থেকে চার কেজি। এছাড়াও ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী জিলিপির ওজন দশ কেজিও হতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই বাঁকুড়া ছাপিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ভিড় করেন একদিনের এই জিলিপি মেলায়। এমনকি কে কত বড় সাইজের জিলিপি তৈরি করতে পারেন, তা নিয়ে মেলায় কারিগরদের মধ্যেও প্রতিযোগিতা হয়।

কিন্তু এবার করোনা পরিস্থিতিতে পুরো বিষয়টা কেমন যেন এলোমেলো। সব কিছুই হচ্ছে নিয়ম মেনে। কিন্ত বিক্রিবাটা তেমন নেই। কিছু মানুষ এসেছেন অভ্যেস মতো। তবে ফি বছর যেখানে পাশের জেলার মানুষও এখানকার ‘জাম্বো’ জিলিপির টানে এখানে ছুটে আসেন, এবার সেই ছবির অভাব অনুভব করছেন কারীগর, বিক্রেতা থেকে কেঞ্জাকুড়ার মানুষও।

কিভাবে তৈরি করেন এই জিলিপি? রহস্য উন্মোচনে আগ্রহী নন জিলিপি-র কারিগররা। তবে তাঁদের সঙ্গে কথা বলে যেটুকু জানা গেল, তা হল- জিলিপি তৈরির মূল উপাদান বিরির বেসন ও আতপ চালের গুঁড়ি। আগের দিন রাত্রে আতপ চালের গুড়ি, বিরির বেসন, সামান্য পরিমানে ময়দা একটি বড় পাত্রে জল দিয়ে মেখে রাখা হয়। এই মিশ্রনটিকে বলা হয় ‘খামি’৷

কারিগররা জানান, ‘খামি’ যত পুরনো হবে জিলিপি ততই সুস্বাদু ও মুচমুচে হবে। এরপর ছিদ্র যুক্ত বিশেষ ধরণের কাপড়ের একটি পাত্র থেকে ঘি ভর্তি গরম কড়াইয়ে সাধারণ চলতি জিলিপির মতো তৈরি করা হয়। ভাজা হয়ে গেলে তা চিনির রসে ডুবিয়ে রাখা হয়৷ তাহলে আর দেরী কেন?  জিভে জল আনা গরম মুচমুচে ঢাউস এই জিলিপির প্যাঁচ ভেঙ্গে স্বাদ গ্রহণের সুযোগ নিতে এক্ষুনি আপনার গন্তব্য হোক বাঁকুড়া শহর থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরের প্রাচীণ জনপদ কেঞ্জাকুড়া।

NRC কোপে ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দি, কাটখড় পুড়িয়ে গঙ্গাধর ফিরল ঘরে

Gangadhar Pramanik

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: কাজের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে অসমে পাড়ি দিয়েছিলেন বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের রাধানগর গ্রামের গঙ্গাধর প্রামানিক। কিন্তু কাজ নয়, জুটেছিল কারাবাস! মাত্র ১৬ বছর বয়সে বাড়ি থেকে অসমে পাড়ি দেওয়ায় সঙ্গে ছিলনা ভোটার কার্ড সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। ফলে ২০১৭ সালে অসম সীমান্ত শাখার পুলিশ বাংলাদেশী সন্দেহে গঙ্গাধরকে গ্রেফতার করে। পরে ঐ বছরেরই ১২ ডিসেম্বর থেকে আদালতের নির্দেশে ‘গোয়ালপাড়া ডিটেনশান ক্যাম্পে’ বন্দী জীবন কাটায় রাধানগর গ্রামের এই যুবক।

এই অবস্থায় বেশ কয়েক বছর কেটে গেছে। দীর্ঘদিন ছেলের খবর না পেয়ে গঙ্গাধরের বৃদ্ধা মা ভারতী প্রামানিক ধরেই নিয়েছিলেন ‘ছেলে আর বেঁচে নেই’। এই অবস্থায় ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় আসামের সিটিজেন ফর জাস্টিস অ্যাণ্ড পিসে’র সদস্যরা। ঐ ডিটেনশান ক্যাম্প থেকে মুক্তি পাওয়া দুই আবাসিকের কাছে গঙ্গাধরের খবর পেয়ে দীর্ঘ আইনী লড়াই শেষে ‘ঘরের ছেলেকে ঘরে’ ফিরিয়ে দিলেন তাঁরা। বুধবারই ঐ সংস্থার প্রতিনিধিরা গঙ্গাধর প্রামানিককে তার রাধানগরের বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে গেলেন।

১৪ বছর আগে বাড়ি থেকে কাজে খোঁজে বেরোনোর সময় মা, বাবা আর ছোটো বোনকে রেখে গেলেও জনমজুর বাবা মন্টু প্রামানিক আর নেই। কয়েক বছর আগেই বোনেরও বিয়ে হয়ে গেছে। বাড়িতে অসহায় বৃদ্ধা মা একাই থাকতেন। এক যুগ আগে ‘হারিয়ে যাওয়া’ ছেলেকে ফিরে পেয়ে আনন্দে চোখের জল আটকে রাখতে পারেননি তিনি।

কাজহীন কেঞ্জাকুড়া ‘শিল্পগ্রাম’ ভাবছে বিশ্বকর্মার আরাধনা হবে তো!

Femous industrial village kenjakura

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: রাত পোহালেই সনাতন হিন্দু মতে ‘শিল্পের দেবতা’ বিশ্বকর্মার আরাধনায় যখন মাতবে এ রাজ্য সহ গোটা দেশ। উল্টো ছবি বাঁকুড়ার ‘শিল্প গ্রাম’ হিসেবে পরিচিত কেঞ্জাকুড়ায়। কাঁসা শিল্পের জন্য বিখ্যাত এই গ্রাম একটা সময় বিশ্বকর্মা পুজো উপলক্ষে ঢাকের বাদ্যি আর আলোর রোশনাইয়ে ভেসে উঠতো। প্রতিটি বাড়িতে আলাদা আলাদাভাবে ‘কূল দেবতা’র পুজোর পাশাপাশি গ্রামে বিশালাকার প্যাণ্ডেল তৈরী করে প্রতিমা এনে পুজো হতো। এখন সে সব অতীত।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কাঁসা শিল্পের চাহিদা কমতে শুরু করেছে। তার উপর ‘গোদের উপর বিষফোঁড়া’র উপর হাজির ‘করোনা’। উৎপাদিত দ্রব্যের বিক্রিবাটা নেই। এই অবস্থায় যখন শিল্পীদের প্রতিদিনের সংসার খরচ চালানোই দূস্কর হয়ে পড়েছে, তখন পুজো কী করে হবে! গ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও শিল্পী দু’জনেই বিপন্ন। ফলে এখন পুজো করতে হয়, তাই ধারাবাহিকতা রক্ষায় যেটুকু না করলেই নয়, সেভাবেই পুজো হবে। আগের সেই জৌলুস আর নেই।

Femous industrial village kenjakura

বাঁকুড়া শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে দ্বারকেশ্বর নদের তীরে কেঞ্জাকুড়া গ্রামে এক সময় পাঁচশোর বেশী কাঁসার বাসন তৈরীর কারখানা ছিল। সারা দিন ছিনি, হাতুড়ি, বৈদ্যুতিক যন্ত্র আর হাপরের শব্দে মুখরিত থাকতো পুরো গ্রাম। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। বর্তমানে সেই সংখ্যাটা অনেকটাই কমে এসেছে। এখানকার তৈরী কাঁসার তৈরী জিনিষপত্র রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে পাড়ি দিত ভিন রাজ্যে। বর্তমানে কাঁচামালের অভাব ও উৎপাদিত দ্রব্যের চাহিদা ক্রমশ কমতে থাকা ও করোনার উপস্থিতিতে ‘শাল’ বন্ধ থাকায় এই শিল্প আজ ধুঁকছে। ফলে শিল্পীর ঘরেই যখন টান, তখন শিল্পের দেবতা বিশ্বকর্মা পুজো এখন একরকম নিয়ম রক্ষার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই শিল্পকে বাঁচাতে সরকারীভাবে উদ্যোগ নেওয়া না হলে হয়তো চিরতরে হারিয়ে যাবে কয়েকশো বছরের প্রাচীণ এই শিল্প। কেঞ্জাকুড়া গ্রাম হারাবে তার ‘শিল্প গ্রাম’ তকমা। এখন এই বিষয়টাই বেশী করে ভাবাচ্ছে গ্রামের শিল্পী থেকে জেলার শিল্প দরদী মানুষদের।

🅾🅵🅵🅱🅴🅰🆃: মল্লভূম বিষ্ণুপুরে পটেশ্বরী ‘বড় ঠাকরুণ’ নামই তো চলে

Unique durga art still exist in heritage city Bishnupur

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: সময়ের দাবি মেনে বেড়েছে পুজোর জৌলুস। থিম পুজোয় মেতেছে আম বাঙালী। কিন্তু সে সবকিছুকে ছাপিয়ে, গড্ডলিকা প্রবাহে গা না ভাসিয়ে প্রাচীণ ঐতিহ্য আর পরম্পরা মেনে বিষ্ণুপুর মল্ল রাজবাড়ি সহ বেশ কিছু জায়গাতে পটচিত্রেই পূজিতা হন দেবী দুর্গা।

বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করে কাপড়ের তৈরী পটে সুনিপুন দক্ষতায় বংশ পরম্পরায় দেবী দুর্গার প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলার কাজ করছেন বিষ্ণুপুরের ফৌজদার পরিবার। বর্তমান সদস্যরা হাতে তুলে নিয়েছেন তুলি। পুজোর আগে এই মুহূর্তে তাঁদের ব্যস্ততার শেষ নেই। নাওয়া-খাওয়া ভুলে চলছে অবিশ্রান্ত তুলির টান। মনন আর ধৈর্যের মিশেলে এঁকে চলেছেন পটের দুর্গা।

Unique durga art still exist in heritage city Bishnupur

হাতে গোনা কয়েকটা দিনের মধ্যেই যে তাঁদের এঁকে ফেলতে হবে ছ’টি পটের দুর্গা। বিষ্ণুপুর মল্ল রাজবাড়ির পাশাপাশি কয়েকটি সাবেকি পরিবারেও যাবে এখানকার পট দুর্গা। এই তালিকায় বিষ্ণুপুর রাজবাড়ির পাশাপাশি শহরের কাদাকুলি, মহাপাত্র বাড়ি, আইকাত বাড়ি, চক্রবর্ত্তী বাড়ি, ভট্টাচার্য বাড়ি ও কুচিয়াকোল রাজবাড়ির নাম রয়েছে।

চলতি বছরে অধিকাংশ পরিবারের দুর্গার পটচিত্র তৈরির বরাত পেয়েছেন বিষ্ণুপুরের ফৌজদার পরিবার। পরম্পরা মেনে মল্ল রাজবাড়ির জন্যই তিনটি পটের দুর্গা তৈরি করবেন তাঁরা। যেমন ‘বড় ঠাকুরুনে’র পটচিত্র যাবে জিতাষ্টমীতে। তারপর নিয়ম মেনে ‘মেজো ঠাকুরণ’ ও ‘ছোট ঠাকুরণে’র পট আঁকা শুরু হবে।

পট চিত্র আঁকার এই পারিবারিক ঐতিহ্য কতো দিন টিকে থাকবে, জানেননা শিল্পী শীতল ফৌজদার। এবিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আক্ষেপের সূর ঝরে পড়ে তাঁর গলায়। তিনি বলেন, এই কাজে তেমন রোজগার নেই, ফলে বর্তমান প্রজন্মের কেউই আর এই কাজে আগ্রহী নয়। একমাত্র ভাইপোকে তিনি নিজে এই পটচিত্র আঁকার কাজ শিখিয়েছিলেন কিন্তু সেও ‘পেটের দায়ে’ অন্যকাজে ব্যস্ত। ফলে হয়তো একদিন ইতিহাস হয়ে যাবে ফৌজদারির পরিবারের পটচিত্র তৈরীর বিষয়টিও বলে তিনি জানান।

বর্ধমান থেকে ভেসে আসা দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দিরের কামান আওয়াজে বাঁকুড়ায় হতো পুজো

durga puja of indas zamindar family

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া (Bankura): আলোর রোশনাই, নহবতের সুর, শৌখিন যাত্রাপালা, রামলীলা, পুতুল নাচ আর কবি গানের আসরে জমজমাট পুজো মণ্ডপ। এলাকার জমিদার দু’হাত ভরে প্রজাদের তুলে দিচ্ছেন নতুন বস্ত্র। হিন্দু, মুসলিম, জাতি-ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলে পাতপেড়ে পুজোর প্রসাদ খাচ্ছেন। আজ সেই সব ইতিহাস।

কাপড়ের সেই ব্যবসা নেই। নেই জমিদারী। নেই সেই সাবেকী আয়োজন।এখন সাধ আর সাধ্যের ফারাকটা ভালো মতোই বোঝেন এঁরা। তবুও এতো সব ‘নেই’ এর মধ্যে ভক্তি আর শ্রদ্ধার মিশ্রণে আছে পুজো। ঠিক কতো বছর আগে কে এই পুজো শুরু করেছিলেন তার কোন প্রামাণ্য তথ্যও নেই। তবুও নিজেদের মতো করে এখনও মাতৃ আরাধনায় মেতে ওঠেন বাঁকুড়ার ইন্দাসের সোমসার জমিদার বাড়ির বর্তমান সদস্যেরা।

দামোদর নদ আর শালী নদীর সঙ্গমস্থলে সমৃদ্ধশালী জনপদ সোমসার। ইন্দাসের এই গ্রামের পাল পরিবার এক সময় ব্যবসা বাণিজ্য করে ফুলে ফেঁপে উঠেছিলেন। আর সেই সূত্রেই দামোদর তীরবর্তী সোমসার গ্রামে গড়ে উঠেছিল সুবিশাল জমিদারী। সেই জমিদারীর সূত্র ধরেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন দেবী দুর্গা। এখন সেসব ইতিহাস।
জমিদারী প্রথার বিলোপের সঙ্গে সঙ্গেই পাল পরিবারের সেই অতীতের বনেদীয়ানা না থাকলেও কোন রকমে সুপ্রাচীন ঐতিহ্য বহন করে চলেছেন বর্তমান বংশধরেরা।

durga puja of indas zamindar family

কথিত আছে, সোমসারের পালেরা বস্ত্র ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সুবিশাল জমিদারি পত্তন করেছিলেন। সোমসার এলাকায় মোট ছ’টি তালুক কিনেছিলেন তিনি। জমিদারী প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সময়ের দাবি মেনে জমিদার বাড়িতে শুরু হয় দুর্গা পুজো। এক সময় এই বংশের চন্দ্র মোহন পালের হাত ধরে যে উত্তরোত্তর পালেদের শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছিল আজ সেসব ইতিহাস। শোনা যায় এই চন্দ্রমোহন পাল নিজের ব্যবসার প্রয়োজনে কলকাতার গঙ্গা নদীতে একটি ঘাট নির্মাণ করেন। যে ঘাটে বিদেশ থেকে জলপথে কাপড় ভরতি জাহাজ এসে থামতো।

পুজোর ঠিক আগে এখানকার প্রজাদের জন্য সরাসরি কলকাতা থেকে জলপথে কাপড় বোঝাই বজরা এসে থামতো সোমসার সংলগ্ন দামোদরের ঘাটে। বস্ত্র ব্যবসা সেই সময় লাভজনক ছিল৷ কলকাতা সহ বর্ধমানে বিশাল বিশাল বাড়ি সহ জমিদারী পরিচালনার সোমসার গ্রামেও ছিল সুদৃশ্য বিশালাকার বাড়ি। কিন্তু এখন সোমসারের সেই পলেস্তারা খসে খসে পড়ে। সাধ্যের অভাবে বর্তমান বংশধরেরা সেই ঐতিহ্যবাহী বাড়ি সংস্কারের কাজেও হাত লাগাতে পারেননি। কিন্তু এতও সবের পরেও একটা ঐতিহ্য আজও বহন করে চলেছেন সোমসারের জমিদার বাড়ির সদস্যরা। সেই সময় ব্যবসার প্রয়োজনে যে যেখানেই থাকুন না কেন পুজোর চারদিন সোমসারে ঠিক পৌঁছে যেতেন। সেই ধারাবাহিকতা মেনে বর্তমান প্রজন্মও কর্মসূত্রে পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুক না কেন পুজোর দিন গুলিতে ঠিক বাড়িতে উপস্থিত থাকবেন।

আগে যেখানে আলোর রোশনাই, রামলীলা, কবিগানের আসরে সোমসারের জমিদার বাড়ির পুজো মণ্ডপ গম গম করত৷ এখন সেসব ইতিহাস। সাধ থাকলেও সাধ্যের অভাবে সেসব বন্ধ হয়েছে কবেই। তবুও ঐতিহ্যের টানে এখনও অসংখ্য মানুষ প্রাক্তন হয়ে যাওয়া সোমসার জমিদার বাড়ির পুজোতে অংশ নেন। সোমসার জমিদার বাড়ির বর্তমান সদস্য (মামাবাড়ি সূত্রে) শ্যামসুন্দর দে বলেন, ‘আমাদের ছোট বয়সেও পুজোর যে জাঁকজমক দেখেছি৷ তার অনেকটাই এখন কমে গিয়েছে।

তবুও কষ্টের মধ্যেও নানান প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করে এখনও আমরা পুজো চালিয়ে যাচ্ছি। আগে বলিদানের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে শঙ্খচিল এসে উপস্থিত হত বলে শুনেছি। পরে বর্ধমান রাজবাড়ির সর্বমঙ্গলা মন্দিরের তোপধ্বনি শুনে বলিদান হত। বর্তমানে পঞ্জিকা নির্ধারিত সময় ধরে অষ্টমী ও নবমী তিথিতে মাস কলাই বলিদান হয়। একই সঙ্গে ব্যবসা বর্ধমান, কলকাতা, বার্ণপুরে পরিবারের সদস্যরা বসবাস করলেও পুজোর দিনগুলিতে সোমসারের বাড়িতে তারা ঠিক হাজির হয়ে যান৷

এ এক তাসের দেশ ! দশাবতারের তাস দুনিয়া বাঁকুড়া

Dashabatar Cards Bankura Bishnupur

তিমিরকান্তি পতি বাঁকুড়া: এ এক তাসের দেশ। তবে অন্য তাসের দেশ। আসলে ‘মন্দির-নগরী’ হিসেবেই খ্যাত বাঁকুড়ার (Bankura) বিষ্ণুপুর (Bishnupur)। এক সময়ের মল্ল রাজাদের রাজধানী প্রাচীন এই পৌর শহরের টেরাকোটার মন্দিরগুলি যেমন পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ, তেমনি বাংলার সুপ্রাচীন শিল্পকলার টানে এখানে ছুটে আসেন অসংখ্য মানুষ।

প্রাচীণ ঐতিহ্য আর পরম্পরা মেনে শহরের আজও বংশপরম্পরায় ‘দশাবতার’  (Dashabatar) তাস তৈরি করে আসছেন শহরের ফৌজদার পরিবার। মাঝে এই শিল্পে কিছুটা ভাটা দেখা গেলেও বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে এবিষয়ে আগ্রহ বাড়ছে। সাধারণ তাসের সঙ্গে এই তাসের পার্থক্য অনেক। ৫২ নয়, এখানে দশাবতার তাসের সংখ্যা ১২০। আর এখানে মৎস্য, কূর্ম, বরাহ, নৃসিংহ, বামন, পরশুরাম, রাম, বলরাম, জগন্নাথ এবং কল্কি। বিষ্ণুর এই দশ অবতারের মূর্তি আঁকা থাকে তাসে। প্রত্যেক অবতারের জন্য নির্ধারিত ১২টি করে তাস। তার মধ্যে একটা রাজা ও একটি মন্ত্রী।

দশাবতারের বাকি দশটিতে থাকে অবতারের প্রহরণ বা জ্ঞাপক চিহ্ন। যেমন মৎস্য অবতারের মাছ, কূর্মর কচ্ছপ, বরাহের শঙ্খ, নৃসিংহের চক্র, বামনের হাঁড়ি, পরশুরামের টাঙ্গি, রামের বাণ, বলরামের গদা, জগন্নাথের পদ্ম এবং কল্কির তরবারি। প্রথম পাঁচ অবতার, অর্থাৎ মীন, কূর্ম, বরাহ, নৃসিংহ, বামন— এই পাঁচটি তাসের ক্রমপর্যায় হলো রাজা, মন্ত্রী, তার পর দশ, নয়, আটি অর্থাৎ আট, সাতি অর্থাৎ সাত ইত্যাদি। এক্কা (এক) সব চেয়ে ছোট। দশাবতার তাস পাঁচ জন মিলে খেলা যায়। তবে বর্তমান সময়ে এই তাস খেলার চেয়ে ঘর সাজানোর কাজেই মানুষ বেশি ব্যবহার করছেন।

এই দশাবতার তাস তৈরির সঙ্গে যুক্ত শিল্পী বাঁশরী ফৌজদার বলেন, তাঁদের পূর্বপুরুষরা মল্ল রাজার সেনাপ্রধান হিসেবে দক্ষতা অর্জন করায় ফৌজদার পদবী পান। সেই থেকেই তাঁর পরিবারের পদবী ফৌজদার। একই সঙ্গে রাজার নির্দেশেই এই তাস তাঁরা তৈরির কাজ শুরু করেন। সেই ধারাবাহিকতা এখনো চলছে।

বাঁশরী ফৌজদারের মেয়ে সুইটি ফৌজদার ইতিমধ্যে রাজ্যস্তরের কারুশিল্প প্রতিযোগিতায় শিল্প বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন। পড়াশুনা করেও চাকরী সন্ধান না মেলায় তিনি পারিবারিক এই পেশাতেই যোগ দিয়েছেন বলে জানান।