ক্ষুদ্র-অতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের দুর্ঘটনায় বা আত্মহত্যার তথ্য নেই কেন্দ্রের কাছে

accidents and suicides enterprises

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকা কতজন ব্যক্তি ২০২০ সালে দুর্ঘটনাজনিত কারণে প্রাণ হারিয়েছেন বা আত্মহত্যা করেছেন? ওই সমস্ত ব্যক্তিদের পরিবারকে কি কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষতিপূরণ দিয়েছে?

বিভিন্ন অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের যাতে এ ধরনের অকালে প্রাণ না যায় তা নিশ্চিত করতে সরকার কি কোনও পরিকল্পনা নিয়েছে? এই সমস্ত শিল্পের সঙ্গে যুক্তদের করোনাজনিত কারণে সাহায্য করতে সরকার কত টাকা বরাদ্দ করেছে? বরাদ্দকৃত অর্থের কি পরিমাণ অর্থ খরচ হয়েছে? বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প মন্ত্রকের কাছে এই প্রশ্নগুলির উত্তর জানতে চান তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রশ্নের উত্তরে সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী নারায়ন রানে জানিয়েছেন৷ এধরনের শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কতজন ব্যক্তি দুর্ঘটনাজনিত কারণে বা আত্মহত্যা করে প্রাণ হারিয়েছেন সে বিষয়ে কোনও তথ্য মন্ত্রকের কাছে নেই। স্বাভাবিকভাবেই এই সমস্ত মৃতদের পরিবারকে কোনওরকম আর্থিক সাহায্যের দেওয়ার প্রস্তাব সরকারের কাছে নেই। তবে এই সমস্ত প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষরা করোনাজনিত কারণে যে সমস্যায় পড়েছেন তা দূর করতে সরকার একাধিক পরিকল্পনা নিয়েছে।

এ ধরনের প্রকল্পের সঙ্গে যুক্তদের সাহায্য করতে সরকার ‘আত্মনির্ভর ভারত অভিযান’ প্রকল্প চালু করেছে। এই প্রকল্পে বিভিন্ন অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সাহায্য করতে সাড়ে চার লক্ষ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম হিসেবে বরাদ্দ করা হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে ৫০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এসআরআই তহবিলে।

মন্ত্রী আরও বলেন, ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে চাঙ্গা করতেও কেন্দ্র একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছে। এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্তদের করোনাজনিত কারণে ত্রাণ দিতে সরকার চলতি বছরের নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ২.৮২ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করেছে। একই সঙ্গে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমে সরকার এপর্যন্ত ৮১.৪৭ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করেছে।

Netaji is alive or dead: নেতাজী জীবিত না মৃত, ৮ সপ্তাহের মধ্যে জানাতে কেন্দ্রকে নির্দেশ হাইকোর্টের

Netaji is alive or dead

News Desk: নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু (Netaji Subhas Chandra Bose) জীবিত আছেন নাকি, তাঁর মৃত্যু হয়েছে তা ৮ সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিয়ে কেন্দ্রকে জানানোর নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির প্রকাশ শ্রীবাস্তবের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ সোমবার এই নির্দেশ জারি করে।

নেতাজী জীবিত আছেন নাকি তাঁর মৃত্যু হয়েছে তা জানতে চেয়ে আদালতে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার এই নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এদিন বেঞ্চ তার নির্দেশে দেশে ব্যবহৃত টাকায় নেতাজির ছবি ব্যবহার করা যাবে কিনা তাও হলফনামা দিয়ে কেন্দ্রকে জানাতে বলেছে।

সোমবার আবেদনকারীর আইনজীবী রবীন্দ্রনারায়ণ দত্ত আদালতে বলেন, নেতাজীর অন্তর্ধান রহস্যের সমাধান করতে কেন্দ্র বিভিন্ন সময়ে একাধিক কমিশন গঠন করেছে। ওই কমিশনের জন্য সরকারের বিপুল অর্থ খরচ হয়েছে। কিন্তু এখনও প্রকৃত সত্য সামনে আসেনি। অযথা সরকারি অর্থের অপচয় না করে নেতাজির অন্তর্ধান রহস্যের প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করুক কেন্দ্রীয় সরকার। আদালত এ বিষয়ে নির্দেশ জারি করুক বলে আইনজীবী রবীন্দ্রনারায়ণ দত্ত দাবি করেন।

আইনজীবী দত্ত বলেন, নেতাজী দেশের জন্য যা করেছেন তা মানুষ কোনওদিন ভুলবে না। তাই ভারতীয় মুদ্রায় নেতাজির ছবি ছাপানোর জন্য ইতিমধ্যেই রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাবে উৎসাহ দেখিয়েছে আরবিআই। কিন্তু এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা তা এখনও জানা যায়নি। সেই তথ্যও আদালতকে জানাক সরকার।

আবেদনকারীর আইনজীবীর এই বক্তব্যের পর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, নেতাজীর অন্তর্ধানের বিষয়ে সরকার তাদের বক্তব্য স্পষ্ট করুক। একইসঙ্গে নেতাজির ছবি দেশের টাকায় ছাপা হবে কিনা তাও জানানোর জন্য কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছে বেঞ্চ।

আগামী ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কেন্দ্রকে হলফনামা দিয়ে এই দুই প্রশ্নের উত্তর জানাতে হবে হাইকোর্টকে। উল্লেখ্য, নেতাজীর অন্তর্ধানের বিষয়ে সাম্প্রতিক কিছু ফাইল প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু তাঁর বেঁচে থাকা বা মৃত্যু হয়েছে কিনা সে বিষয়ে কোনও ফাইল প্রকাশ করা হয়নি।

১৯৪৫ সালে তাইহোকু বিমান বন্দরে দুর্ঘটনায় নেতাজীর মৃত্যু হয়েছিল কিনা সে ব্যাপারে অসংখ্য প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। সেই জট এখনও কাটানো যায়নি। এরইমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

বন্ধ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রয়ত্ত সংস্থার কর্মীদের জন্য কেন্দ্রের কোন চিন্তাভাবনাই নেই

Dr Bhagwat Kishanrao Karad

News Desk, New Delhi:  যে সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (public sector unit) সম্প্রতি বন্ধ হয়ে গিয়েছে সেই সমস্ত সংস্থার কর্মীরা চরম আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন। এই সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মীদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর (Finance Minister) কাছে একাধিক প্রশ্ন রাখেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee )।

তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamul congress) সাংসদ জানতে চান, বন্ধ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির কর্মীদের আর্থিক পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে তাঁরা তাঁদের ছেলে মেয়েদের স্কুলের বেতন দিতে পারছেন না। এজন্য তাঁরা মানুষের কাছ থেকে সাহায্য চাইছেন, এই অভিযোগ কি ঠিক? যদি এই অভিযোগ ঠিক হয়, তবে তা দূর করার জন্য কেন্দ্র কি ব্যবস্থা নিয়েছে।

একইসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ জানতে চান, ২০২১-২২ অর্থবর্ষে কেন্দ্র আর কোন কোন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিলগ্নীকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে? যে সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিলগ্নীকরণ হতে চলেছে সেই সমস্ত সংস্থার স্থায়ী এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কেন্দ্রের পরিকল্পনা কি? আগামী পাঁচ বছরের জন্য কেন্দ্রের বিলগ্নীকরণ পরিকল্পনার কথাও জানতে চান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদের ওই প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ভাগবত কৃষ্ণরাও কারাড বলেন, যে সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিলগ্নীকরণ হয়েছে সেই সমস্ত সংস্থার কর্মীদের ভিআরএস ও ভিএসএস নীতি মেনে সব ধরনের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া ওই সব সংস্থার কর্মীদের জন্য যাতে বিকল্প কোনও কাজের ব্যবস্থা করা যায় সরকার সে ব্যাপারেও আলোচনা করছে।

অর্থপ্রতিমন্ত্রী কারাড আরও বলেন, ২০১৬ সাল থেকে মোট ৩৫ টি রাষ্ট্রয়ত্ত সংস্থাকে বিলগ্নীকরণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ৩৫টি সংস্থার মধ্যে রয়েছে ব্রিজ অ্যান্ড রুফ, বিইএমএল লিমিটেড, দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট, পবন হংস লিমিটেড, এয়ার ইন্ডিয়া এবং তার অধিনস্ত আরও পাঁচটি সংস্থা। এছাড়াও বিলগ্নিকরণের তালিকায় আছে ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড, শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড, নীলাচল ইস্পাত নিগম, রাষ্ট্রীয় ইস্পাত নিগম বেঙ্গল কেমিক্যালস অ্যান্ড ফার্মাকিউটিক্যালস লিমিটেড, হিন্দুস্থান নিউজপ্রিন্ট লিমিটেড, হিন্দুস্থান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড, রুরাল এলেক্ট্রিফিকেশন কর্পোরেশন লিমিটেড প্রভৃতি।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্নের উত্তরে এদিন বন্ধ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মীদের তাৎক্ষণিক সাহায্যের জন্য কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের পক্ষ থেকে কোনও আশ্বাস দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির কর্মীদের পুনর্নিয়োগের জন্য চিন্তাভাবনা করছে সরকার। কিন্তু কবে পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হবে সে বিষয়ে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কোনও কিছুই বলা হয়নি।

GST: ২০১৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ সব রাজ্যকে মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে, দাবি কেন্দ্রের

GST is increasing, the price of daily necessities will increase with the new year!

News Desk, New Delhi: ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য গুডস অ্যান্ড এবং সার্ভিস ট্যাক্স বা GST বাবদ কেন্দ্র কী পরিমাণ ক্ষতিপূরণ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গুলিকে দিয়েছে? জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের যে পাওনা আছে তা মিটিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে অর্থমন্ত্রক কী চিন্তা-ভাবনা করছে? সোমবার সংসদে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর কাছে এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চান তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ নুসরত জাহান।

নুসরতের এই প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী জানান, পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের প্রতিটি রাজ্যকে জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯, এবং ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের পাওনা সম্পূর্ণ মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। করোনাজনিত পরিস্থিতিতে জিএসটি আদায় কম হলেও রাজ্যগুলিকে জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ২০২০-র এপ্রিল থেকে ২০২১- এর মার্চ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ বাবদ ৬১২৮ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। জিএসটি কাউন্সিলের ৪১ এবং ৪২ তম বৈঠকে প্রতিটি রাজ্যকে ক্ষতিপূরণ বাবদ কী পরিমাণ অর্থ দেওয়া হবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, করোনাজনিত কারণে গত অর্থবর্ষে জিএসটির আদায় অনেকটাই কম ছিল। কিন্তু রাজ্যগুলিকে সাহায্য করতে কেন্দ্র ১.১ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে সেই অর্থ বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছে। প্রত্যেকটি রাজ্যের সঙ্গে আলোচনার পরেই এই অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে ঋণ বাবদ নেওয়া অর্থ থেকে শুধু পশ্চিমবঙ্গকে ৪৪৩১ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। ২০২০-র এপ্রিল থেকে ২০২১-এর মার্চ পর্যন্ত জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ পশ্চিমবঙ্গের পাওনা রয়েছে ১৬৯৯ কোটি টাকা।

মন্ত্রী আরও বলেন, জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রতিটি পাই- পয়সা কেন্দ্র রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে মিটিয়ে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জিএসটি আইন ২০১৭ অনুযায়ী পরর্বর্তী পাঁচ বছর রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ দেওয়ার কথা ছিল কেন্দ্রের। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে জিএসটি আদায় কম হওয়ায় সেই সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে। জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ অর্থ মেটাতে কেন্দ্র ২০২০-২১ অর্থবর্ষে বাজার থেকে ১.৫৯ লক্ষ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। বাজার থেকে নেওয়া এই ঋণ বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে বন্টন করে দিয়েছে কেন্দ্র।

একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী এদিন এবং বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ২০২০-২১ অর্থবর্ষে জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ কী পরিমাণ অর্থ বকেয়া আছে তাও জানিয়ে দিয়েছেন। এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত জিএসটি ক্ষতিপূরণ বাবদ মহারাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি ৬৭২৩ কোটি টাকা বকেয়া আছে। কর্নাটকের বকেয়া আছে ৩৫২৮ কোটি টাকা। গুজরাতের বকেয়ার পরিমাণ ৩১৪৫ কোটি কোটি টাকা এবং উত্তরপ্রদেশের বকেয়া রয়েছে ৩১২০ কোটি কোটি টাকা।

Corona vaccine: করোনার টিকা বণ্টনে বাংলা বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ খারিজ কেন্দ্রের

Corona vaccine bengal

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, টিকা বণ্টনের (Corona vaccine distribution) ক্ষেত্রে বৈষম্য করছে নরেন্দ্র মোদি সরকার (modi government)। বেছে বেছে বিজেপি শাসিত (bjp ruled state) রাজ্যগুলিতে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন পাঠানো হচ্ছে। বাংলাকে সেভাবে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর করা অভিযোগ যে একেবারেই ভিত্তিহীন শুক্রবার সেটা রাজ্যসভায় জানিয়ে দিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

এদিন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সুস্মিতা দেবের এক প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্য জানান, প্রাপ্ত টিকার নিরিখে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাংলা। বাংলার আগে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে উত্তরপ্রদেশ এবং মহারাষ্ট্র। মহারাষ্ট্র ক্ষমতায় আছে বিজেপি বিরোধী জোট। অর্থাৎ টিকা প্রাপ্তির নিরিখে দেখতে গেলে দেশের প্রথম তিনটি রাজ্যের মধ্যে দুটিই অবিজেপি শাসিত।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এদিন যে পরিসংখ্যান দিয়েছেন তাতে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশকে ১৮ কোটি ১২ লক্ষ ৬৯ হাজার ৬৬৫ ডোজ ভ্যাকসিন পাঠানো হয়েছে। মহারাষ্ট্রকে দেওয়া হয়েছে ১১ কোটি ৩১ লক্ষ ৫ হাজার ১৩০ ডোজ। তৃতীয় স্থানে থাকা পশ্চিমবঙ্গ পেয়েছে ৯ কোটি ৮১ লাখ ৫ হাজার ১৩০ ডোজ। বাংলার পর চতুর্থ স্থানে রয়েছে বিহার। পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট এবং রাজস্থান।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরিসংখ্যান বলছে, পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত ৮৬.৬ শতাংশ মানুষ করোনার একটি ডোজ পেয়েছেন। দুটি ডোজ পেয়েছেন ৩৯.৪ শতাংশ মানুষ।

অন্যদিকে গোয়া এবং হিমাচল প্রদেশের ১০০ শতাংশ মানুষের প্রথম ডোজ হয়ে গিয়েছে। হিমাচল প্রদেশ দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৯১.৯ শতাংশ মানুষ। অন্যদিকে গোয়ায় দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন ৮৭.৯ শতাংশ মানুষ। অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদির রাজ্য গুজরাতে প্রথম এবং দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছেন যথাক্রমে ৯৩.৫ ও ৭০.৩ শতাংশ মানুষ। কেন্দ্রের এদিনের পেশ করা পরিসংখ্যান থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে, টিকা বণ্টন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে অভিযোগ করছেন তা আদৌ ঠিক নয়।

বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ১১৬ টি দেশের মধ্যে ভারত ১০১ নম্বরে স্বীকার করল কেন্দ্র

World Hunger Index

Kolkata24x7 Desk: সাম্প্রতিক বিশ্ব ক্ষুধা সূচকের (world hunger index) তালিকায় দেখা গিয়েছে ১১৬ টি দেশের মধ্যে ভারতের (india) স্থান ১০১ নম্বরে। মূলত অপুষ্টি, শিশুমৃত্যু, শিশুদের স্বাস্থ্য ও দারিদ্র্যের (poverty) মত কয়েকটি মানদণ্ডের নিরিখে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়।

বিশ্ব ক্ষুধা সূচক তালিকার বিষয়ে এদিন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদরা (opposition mp) একযোগে কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রকের কাছে একাধিক প্রশ্ন রাখেন। তাঁরা জানতে চান, দেশের শিশু ও মহিলাদের অপুষ্টিজনিত সমস্যা দূর করতে সরকার কি কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে? বিশ্ব ক্ষুধা সূচকের তালিকায় দেখা যাচ্ছে, ২০২০ সালে দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য যেমন ছিল ২০২১ সালে তেমনই রয়েছে।

এটা কি ঠিক? অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভোগা শিশু ও মহিলাদের শারীরিক অবস্থার উন্নয়নে সরকার কি কোনও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে? অপুষ্টিজনিত কারণে মৃত্যু ঠেকাতে সরকারের কি কোনও পরিকল্পনা আছে? দেশের একজন মানুষও যাতে খাবারের অভাবে না ভোগেন এবং বিশ্ব ক্ষুধা সূচকের তালিকায় নিজের অবস্থান আরও সামনের দিকে আনতে সরকারের কি কোনও পরিকল্পনা আছে?

বিরোধী সাংসদদের তোলা এই প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী জুবিন ইরানি বলেন, বিরোধীরা ঠিক কথাই বলছেন। অর্থাৎ সম্প্রতি প্রকাশ হওয়া বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ভারত ১১৬ টি দেশের মধ্যে ১০১ নম্বর স্থান পেয়েছে। ভারতের প্রাপ্ত নম্বর ২৭.৫। অপুষ্টি, শিশুদের বৃদ্ধির হার, শিশু মৃত্যু এবং বয়স অনুযায়ী শিশুদের ওজনের মত একাধিক বিষয়ের উপর নির্ভর করে এই তালিকা তৈরি করা হয়। তবে এই তালিকায় ভারতের অবস্থান দেখে দেশের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে ধারণা করা যাবে না।

কারণ এই তালিকায় দেশের প্রকৃত চিত্র কখনওই ধরা পড়ে না। কারণ যে ৪টি মানদণ্ডের উপর নির্ভর করে এই তালিকা তৈরি করা হয় তার মধ্যে একমাত্র অপুষ্টি সরাসরি ক্ষুধার সঙ্গে জড়িত। অন্যদিকে শিশুদের বৃদ্ধির হার এবং শিশু মৃত্যুর বিষয়টি একাধিক বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যার মধ্যে রয়েছে উপযুক্ত শৌচালয়, জিনগত চরিত্র, পরিবেশ এবং পুষ্টিকর খাদ্যের উপযুক্ত ব্যবহার প্রভৃতি। তবে মন্ত্রী এটা স্বীকার করে নেন যে, শিশু মৃত্যুর হার বিষয়টি কিছুটা হলেও ক্ষুধার সঙ্গেও জড়িত।

মন্ত্রী আরও জানান, মানুষের পুষ্টি-বৃদ্ধি, বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে সরকার নিয়মিত ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে চালিয়ে থাকে। সাম্প্রতিক করা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে শিশুদের উপযুক্ত বৃদ্ধি না হওয়ার হার ৩৮.৪ শতাংশ থেকে কমে ৩৫.৫ শতাংশ হয়েছে। শারীরিক দুর্বলতার কারণে বহু শিশুর বয়স অনুপাতে ওজন ঠিক থাকে না। কিন্তু সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে সেক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। ২০১৫-১৬ সালে কম ওজনের শিশুর সংখ্যা ছিল ৩৫.১ শতাংশ। ২০২০-২১ সালে যা কমে হয়েছে ৩২.১ শতাংশ।

শিশুদের অপুষ্টি ও অন্যান্য সমস্যা দূর করতে কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। শিশুদের অপুষ্টি জনিত সমস্যা দূর করতে কেন্দ্র মিশন পোষণ-২ প্রকল্প চালু করেছে। অপুষ্টি এবং দুর্বলতাজনিত বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে শিশু ও মহিলাদের রক্ষা করতে প্রতিটি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে আয়ুষ প্রকল্প কার্যকর করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিশু ও মহিলাদের অপুষ্টি দূর করতে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে কাজ চালানো হচ্ছে।

মন্ত্রী এদিন আরও বলেন, পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে অপুষ্টি সরাসরি কোনও কারণ নয়। তবে শিশুদের অপুষ্টি দূর করা গেলে কিছুটা হলেও মৃত্যু হার কমতে পারে। কারণ শিশু যদি সুস্থ ও সবল হয় তাহলে তার মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তুলনায় অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা সহজেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়। গোটা দেশে ২০১৫-১৬ সালে যেখানে অপুষ্টিজনিত কারণে শিশু মৃত্যুর হার ছিল ৪৯.৭ শতাংশ সেটা ২০২০-২১ সালে কমে হয়েছে ৪১.৯ শতাংশ।

মন্ত্রী জুবিন ইরানি আরও বলেন দেশের একজন মানুষও যাতে ক্ষুধার্থ না থাকেন সেজন্য ন্যাশনাল ফুড সিকিউরিটি আইন বা জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইন চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ এলাকার ৭৫ শতাংশ এবং শহরতলী এলাকার ৫০ শতাংশ মানুষকে ভর্তুকি মূল্যে খাদ্য সরবরাহ করা হয়। এই হিসেবে বর্তমানে গোটা দেশের ৮১.৩৫ শতাংশ মানুষ ভর্তুকি মূল্যে খাদ্যশস্য পেয়ে থাকেন। আর্থিক সমস্যার কারণে দুঃস্থ মানুষের যাতে রেশনের পণ্য পেতে কোনও সমস্যা না হয় সেজন্য অন্তঃদয় অন্ন যোজনা চালু করা হয়েছে। অন্তঃদয় অন্য যোজনা প্রকল্পে দেশের হতদরিদ্র প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ৩৫ কেজি খাদ্যশস্য দেওয়া হয়। প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই প্রকল্প চালু আছে। সরকারের লক্ষ্য হল, প্রতিটি মানুষের মুখে পর্যাপ্ত পরিমাণে অন্ন তুলে দেওয়া।

সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টে শূন্যপদে দ্রুত বিচারপতি নিয়োগ করতে চায় কেন্দ্র, জানালেন আইনমন্ত্রী

Kiren Rijiju

Kolkata24x7 Desk: ভারতীয় বিচারব্যবস্থার (judicial system) দীর্ঘসূত্রতা সর্বজনবিদিত। বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতার অন্যতম কারণ পর্যাপ্ত বিচারপতির (justice) অভাব। বেশিরভাগ হাইকোর্ট (high court) এবং সুপ্রিম কোর্টে (supreme court) পর্যাপ্ত বিচারপতি না থাকায় বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়।

এ প্রসঙ্গটি আজ লোকসভায় উত্থাপন করেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংসদ জানতে চান, বিভিন্ন রাজ্যের হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে ৪০৭ জনেরও বেশি বিচারপতির পদ শূন্য আছে। এর কারণ কী? বিভিন্ন রাজ্যের হাইকোর্টের ২৩৩ জন স্থায়ী বিচারপতি এবং ১৭৪ জন অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগের সুপারিশ করেছে কলেজিয়াম। সেই সুপারিশ কি বাস্তবায়িত হয়েছে? যদি হয়ে থাকে তবে সরকার বিষয়টি বিস্তারিত জানাক।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে একজন মাত্র বিচারপতির পদ ফাঁকা আছে। অন্যদিকে বিভিন্ন রাজ্যের হাইকোর্টে ৪০২ জন বিচারপতির পদ শূন্য রয়েছে। যার মধ্যে ১৬৪ জন বিচারপতি নিয়োগের প্রস্তাব কেন্দ্র ও কলেজিয়ামের মধ্যে আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে বিভিন্ন রাজ্যের হাইকোর্টের কলেজিয়াম থেকে ২৩৮ টি পদে নিয়োগের ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনও সুপারিশ এসে পৌঁছয়নি। সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম যে সমস্ত নাম সুপারিশ করেছে একমাত্র তাঁদেরই হাইকোর্টের বিচারপতি পদে নিয়োগ করা হয়েছে।

রিজিজু আরও বলেন, বিভিন্ন হাইকোর্টের বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য সিনিয়র বিচারপতিরা আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। শূন্যপদে তৈরির ছয় মাস আগেই তাঁরা এই নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করেন। বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্য স্তরে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে হয়। তবে সরকার চেষ্টা করছে, বিভিন্ন হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের শূন্যপদের দ্রুত নিয়োগ করতে। বিভিন্ন বিচারপতির অবসর নেওয়া, বদলি হওয়া এবং পদোন্নতির হওয়ার কারণে বিভিন্ন হাইকোর্টের শূন্যপদ তৈরি হয় বলে রিজিজু জানান।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, চলতি বছরের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের ৯ জন এবং বিভিন্ন হাইকোর্টের ১১৮ জন বিচারপতি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে।

Omicrin: করোনার নয়া ভেরিয়েন্ট ঠেকাতে মধ্যরাত থেকেই কেন্দ্র চালু করছে নতুন নির্দেশিকা

new variants of corona

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: গোটা বিশ্বে করোনা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে অনেকটাই স্বাভাবিক হতে শুরু করেছিল। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বিশ্বের সব দেশেই ফিরছিল জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ। কিন্তু গত সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকায় (south africa) করোনার নতুন ভাইরাস ওমিক্রন, (omicrin) সেই ছন্দের পতন ঘটাল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (who) ইতিমধ্যেই করোনার এই নতুন প্রজাতিকে ‘উদ্বেগজনক’ তালিকাভুক্ত করেছে। ওমিক্রন ভাইরাস যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য আন্তর্জাতিক যাত্রীদের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নির্দেশিকার কথা ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার ১ ডিসেম্বর (december) থেকেই এই নির্দেশিকা কার্যকর হবে।

মঙ্গলবার কেন্দ্র তার নতুন নির্দেশিকায় জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে আসা যাত্রীদের বিমানবন্দরেই আরটি-পিসিআর টেস্ট করতে হবে। সেই আরটি- পিসিআর টেস্টের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত বিদেশ থেকে আসা যাত্রীরা টার্মিনালের বাইরে আসতে পারবেন না। যদি ওই বিদেশিদের করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ হয় তা হলেও তাঁদের কমপক্ষে ৭ দিন বাধ্যতামূলকভাবে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। অষ্টম দিন তাঁদের ফের করোনা পরীক্ষা করা হবে। সেই রিপোর্ট নেগেটিভ হলে তবেই তাঁরা বাইরে আসতে পারবেন। এক্ষেত্রেও তাঁদের স্থানীয় প্রশাসনের পদস্থ আধিকারিকদের নজরদারিতে থাকতে হবে।

যদি কোনও বিদেশি যাত্রীর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ হয় তাহলে তাঁকে সম্পূর্ণ আইসোলেশনে থাকতে হবে। ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে আর কারা এসেছিলেন তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে তাঁদের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতি ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘হাই রিস্ক’ বলে চিহ্নিত দেশ থেকে যে সমস্ত যাত্রীরা আসবেন তাঁদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম বলবৎ হবে। ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, বাংলাদেশ, বৎসোয়ানা, মরিশাস, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, জিম্বাবোয়ে, হংকং, ইজরায়েল এবং ইউরোপের ৪৪ টি দেশের যাত্রীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে।

করোনার নতুন ভাইরাস ঠেকাতে সব রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলকেও সতর্ক থাকার কথা বলেছে কেন্দ্র। পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত পরিকাঠামো তৈরি করা এবং দ্রুত টিকাকরণের উপরেও জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কেন্দ্র এদিন তার নির্দেশিকায় জানিয়েছে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে যে সমস্ত এলাকায় বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন সেই সব এলাকায় নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রতিটি হাসপাতালে আইসিইউ, অতিরিক্ত বেড, অক্সিজেন সরবরাহ, ভেন্টিলেটরের দ্রুত ব্যবস্থা করতে হবে

কেন্দ্র তার নির্দেশিকায় আরও জানিয়েছে, বিদেশি যাত্রীদের আগে থাকতে এয়ার সুবিধা পোর্টালে নিজেদের সম্পর্কে সমস্ত তথ্য সেল্ফ ডিক্লারেশন ফর্মের মাধ্যমে বিস্তারিত জানাতে হবে। যে সমস্ত দেশে ইতিমধ্যেই ওমিক্রনের হদিশ মিলেছে সেই সমস্ত দেশ থেকে কোনও যাত্রী বা পর্যটক ভারতে আসলে তাঁদের সম্পূর্ণ আলাদা জায়গায় রাখতে হবে। ইতিমধ্যেই কর্নাটক, মধ্যপ্রদেশের মত রাজ্যে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের জন্য এই নতুন নিয়ম চালু হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, এয়ারলাইন্সগুলিকে প্রতিটি ফ্লাইটের ৫ শতাংশ যাত্রীর শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। এদিন দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা কেন্দ্রের এই নির্দেশিকা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল। দেশবাসীকে রক্ষা করতে কেন্দ্রের এই নির্দেশ যথাযথভাবে পালন করা হবে।

Alapan Banerjee: আলাপন মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশে রাজনীতির রং পেয়েছে নয়াদিল্লি

Alapan Banerjee

নিউজ ডেস্ক: আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Alapan Banerjee ) বদলির নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা চলছে তাতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হল, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব (political influence)। এদিন কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা (Tushar Mehota) এই মন্তব্য করেছেন।

উল্লেখ্য, সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলাটি দিল্লির প্রিন্সিপাল বেঞ্চে (principle bench) সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট সেই নির্দেশ খারিজ করে দেয়। হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যায় কেন্দ্র। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আগেই শীর্ষ আদালতে কলকাতা হাইকোর্টের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। সেই মামলার শুনানিতে মেহতা এদিন বলেন, আলাপন মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশে রয়েছে রাজনীতির রং ও প্রভাব। এ ধরনের পর্যবেক্ষণ এড়িয়ে চলাই উচিত।

অন্যদিকে, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে এই মামলায় সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। যদিও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এ এম খানউইলকর ও বিচারপতি সিটি রবিকুমারের ডিভিশন বেঞ্চ সোমবার এই মামলার রায় দান। স্থগিত রাখে।

উল্লেখ্য, আলাপন মামলা কেন দিল্লির প্রিন্সিপাল বেঞ্চে সরানো হল তা জানতে চেয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যের বিষয় দিল্লিতে পাঠানোর জন্য আপত্তি জানিয়েছিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এমনকি হাইকোর্ট এটাও বলেছিল যে, আলাপন প্রকৃত ন্যায় বিচার পাচ্ছেন না। তাই আলাপনের মামলা দিল্লিতে সরানো যাবে না। আলাপন মামলা সরানোর এই নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী।

হাইকোর্টের ওই পর্যবেক্ষণের উত্তরে সলিসিটর জেনারেল সর্বোচ্চ আদালতে বলেন, এখানে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর কথা কোথা থেকে আসছে? ক্যাটের চেয়ারম্যান শুধু মামলাটি এক বেঞ্চ থেকে থেকে অন্য বেঞ্চে স্থানান্তর করেছেন। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে রয়েছে রাজনীতির রং। অন্যদিকে আলাপনের আইনজীবী সিংভি বলেন, কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ কাউকে আঘাত করেনি। আলাপন পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার। তিনি বরাবরই কলকাতাতেই কাজ করেছেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি কলকাতাতেই থাকছেন। তাই এই মামলা অবশ্যই কলকাতাতেই থাকা উচিত। উভয় পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য শোনার পর দুই সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ সোমবার আলাপন মামলার রায় দান স্থগিত রাখেন।

মোদি সরকার আমাকে রোমে যেতে দেয়নি, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ মমতার

mamata in goa

News Desk, Kolkata: জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে ভাটিক্যান সিটিতে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে আলিঙ্গনের ছবিও টুইট করেছেন। মোদির ছবি দেখেই গর্জে উঠলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূল নেত্রী এদিন গোয়ায় বলেন, আমারও রোমে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার আমাকে সেখানে যেতে দিল না। বিজেপি যখন আমার ইতালি সফর আটকে দিল তখন কিন্তু কংগ্রেস বা অন্য কোনও দল এ ব্যাপারে একটি কথাও বলেনি। বিশ্ব শান্তি বৈঠকে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ওই সম্মেলনে যোগ দিলে আমিও পোপের সঙ্গে দেখা করতে পারতাম।

কিন্তু মোদি সরকার আমার সেই সুযোগ কেড়ে নিল। আসলে মোদি সরকার চরম প্রতিহিংসাপরায়ণ। মোদি সরকারের সর্বদাই বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে চায়। আসলে মোদি সরকার সব সময় আতঙ্কে থাকে। তাদের ভয় এই বুঝি তাদের প্রকৃত পরিচয়টা কেউ প্রকাশ্যে নিয়ে আসবে। সে কারণেই তারা বিরোধীদের কোনও রকম সুযোগ দিতে রাজি নয়। কোথাও যেতে দিতেও নারাজ।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে পর্যুদস্ত করার পর তৃণমূল নেত্রী এখন বেছে নিয়েছেন ত্রিপুরা ও গোয়াকে। আগামী বছরের শুরুতেই গোয়া বিধানসভার নির্বাচন। তাই এখন থেকেই তিনি এই রাজ্যের জন্য জোরকদমে তৃণমূলের কার্যকলাপ শুরু করেছেন। লুইজিনহো ফেলেইরো-সহ একাধিক কংগ্রেস নেতা দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি নাফিসা আলি, লিয়েন্ডার পেজের মত সেলিব্রিটিরাও তৃণমূল নেত্রীর উপস্থিতিতে তাঁর দলে যোগ দিয়েছেন।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, গোয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস এবার বিজেপিকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়বে না। যে কারণে তৃণমূল নেত্রী নিজেই গোয়ায় গিয়ে ঘাঁটি গেড়েছেন। মমতা গোয়ার বাসিন্দাদের স্পষ্ট জানিয়েছেন, তৃণমূল ক্ষমতায় এলে উন্নয়নের রাস্তায় ফিরবে গোয়া। বিজেপির শাসনে এই রাজ্যের মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁরা নিজেদের স্বাভাবিক মতামত প্রকাশ করতে পারেন না। তৃণমূল ক্ষমতায় এলে এই দমবন্ধ পরিস্থিতি বদলে দেবেন। মানুষের জীবনে হাসি আনবেন।