Bangladesh: কুমিল্লার কায়দায় মন্দিরে কোরান রেখে হামলার ছক, আটকালেন মুসলিমরা

suspected man arrested with Holly quran near durga temple at habiganj sylhet

News Desk: দুর্গাপূজায় সাম্প্রদায়িক হামলায় রত্তাক্ত হয়েছিল বাংলাদেশ। কুমিল্লায় একটি পূজা মণ্ডপে কোরান রেখে হামলাচালানো হয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর। একই কায়দায় ফের হামলার ছক করে সিলেটে একটি মন্দিরে কোরান রাখতে গিয়ে ধরা পড়ল যুবক। তাকে ধরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সিলেটের হবিগঞ্জ শহরের চৌধুরীবাজার সর্বজনীন পূজামণ্ডপের পাশ থেকে কোরান শরিফসহ এই যুবককে আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে তাকে পুলিশে দেওয়া হয়। শুক্রবার বিকেলস্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আটক করে। স্থানীয়রা বলছেন, ওই যুবক নিদেকে নোয়াখালীর বাসিন্দা বলে জানিয়েছে। উল্লেখ্য, দুর্গাপূজার সময় হামলা হয়েছিল নোয়াখালীতেও। সেখানে হামলাকারীরা এর পূজারীকে খুন করে।

bangladesh police
File Picture

জানা গিয়েছ্, শুক্রবার দুপুর থেকে ওই যুবক হবিগঞ্জের চৌধুরীবাজার সর্বজনীন পূজামণ্ডপের চারপাশে ঘোরাফেরা করছিল। সেখানকার কয়েকজন বিষয়টি দেখে অন্যদের জানান। স্থানীয়দের সন্দেহ হলে ওই যুবককে আটক করা হয়। তার ব্যাগে কোরান শরিফ পাওয়া যায়। পুলিশ এসে তাকে আটক করে।

দুর্গাপূজার সময় ভুয়ো বার্তা ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক হামলায় বাংলাদেশ উত্তপ্ত হয়েছে। একাধিক হামলাকারীর মৃত্যু হয় পুলিশের গুলিতে। পূজামণ্ডপে কোরান রাখার অভিযোগে এক ইকবাল হোসেন নামে এক যুবক গ্রেফতার হয়। ঢাকার বদরুন্নেসা কলেজের অধ্যাপিকা রুমা সরকার ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়ে জেলে গিয়েছেন। রংপুরে একটি সংখ্যালঘু মহল্লায় আগুন ধরানো হয়। চট্টগ্রামে বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা হয়েছিল।

Bangladesh: কুমিল্লা সহ বিভিন্ন এলাকায় গুলি চলল, রক্তাক্ত ভোট

News Desk: হামলা রুখতে পারবে না তা বলেই দিয়েছিল বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। আশঙ্কা মিলিয়েই রক্তাক্ত হলো দ্বিতীয় দফার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। চলল গুলি, শাসক বিরোধী আর গোষ্ঠীদ্বন্দের শিকার হয়েছেন অন্তত ৬ জন।

ভোট সন্ত্রাসের পরবর্তী দফা তৃতীয় দফা ইউনিয়ন পরিষদের ভোট গ্রহণের দিন আরও বাড়বেই বলে আশঙ্কা। তবে ক্ষমতা দখলের নিরিখে আওয়ামী লীগ শক্ত অবস্থানে। বাকিদের অবস্থা তেমন কিছু নয়।

বাংলাদেশের ইউনিয়ন পরিষদ ভোটে অন্যতম নজর ছিল দুর্গাপূজায় সাম্প্রদায়িক হামলা ছড়ানোর কেন্দ্র কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম। নির্বাচনে নরসিংদী, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় অন্তত চার জন নিহত। এছাড়া সাতক্ষীরা, চট্টগ্রাম, ঝিনাইদহ, মানিকগঞ্জ, যশোর, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে সংঘর্ষের খবর জানা গেছে।

সবথেকে রক্তাক্ত পরিস্থিতি নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলা। এখানকার রায়পুরার বাঁশগাড়ি ইউনিয়নে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থদের মধ্যে নির্বাচনি সংঘর্ষে গুলি চলে। তিন জন নিহত। আহত হয়েছেন প্রায় ১০ জন। আওয়ামী লীগের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। কক্সবাজারেও গুলি চলেছে। কয়েকজন জখম।

কুমিল্লায় ভোট চলাকালীন সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ গুলি চালায়। গুলিতে হামলাকারীরা জখম। কয়েকজন আশঙ্কাজনক।

Bangladesh: পূজামণ্ডপে কোরান রেখে হামলায় ধৃত বেগম খালেদার দলনেতা

Bangladesh

News Desk: কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরান রেখে হামলার ঘটনায় এবার কুমিল্লা সিটি কর্পোরশেনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর পিএস (ব্যক্তিগত সহকারী) মঈনুদ্দিন আহমেদ বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে পলাতক ছিল। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের বাড়ির কাছেই ছিল সেই দুর্গাপূজা মণ্ডপ। বাংলাদেশের অন্যতম বিরোধী দল বিএনপির দখলে এই কর্পোরেশন। দলটির নেত্রী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

পুলিশ জানায়, গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লার নানুয়াদিঘী এলাকায় অস্থায়ী পূজা মন্ডপে কোরান উদ্ধারের পর হামলাকারীদের মধ্যে ছিল কর্পোরেশনের মেয়রের সহকারী মইনুদ্দিন বাবু। ভিডিও ফুটেজে হামলাকারীদের সাথে তাকে চিহ্নিত করা হয়। পরে তাকে নানুয়া দীঘিরপাড় অস্থায়ী মণ্ডপ ও ঠাকুরপাড়া কালিগাছতলা কালী মন্দিরে হামলা মামলায় আসামী করা হয়।

কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আনওয়ারুল আজিম জানান ঘটনার এক দিন পর মইনুদ্দিন তালা ঝুলিয়ে পরিবার নিয়ে আত্মগোপন করে।তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে ধরা গিয়েছে।

শনিবার বিকেলে পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ির একটি রিসর্ট থেকে আটক করা হয় মইনুদ্দিনকে। দুটি মণ্ডপে হামলা-ভাঙচুরের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রবিবার কুমিল্লার আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে তাকে জেলে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশে দুর্গাপূজার সময় সাম্প্রদায়িক হামলা হয় কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে কোরান পাওয়া নিয়ে। সেই ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা ব্যক্তি ইকবাল হোসেন ধৃত। সাম্প্রদায়িক উস্কানি ছড়ানোয় ঢাকার বদরুন্নেসা কলেজের অধ্যাপিকা রুমা সরকারকে জেলে পাঠানো হয়েছে।

দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লার ঘটনার জেরে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলায় রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পুলিশের গুলিতে পাঁচ হামলাকারী মারা যায় চাঁদপুরে। নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম দুই সংখ্যালঘু প্রাণ হারান। রংপুরে সংখ্যালঘু মহল্লায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

Bangladesh Police: দুর্গামণ্ডপে কোরান রেখে হামলার উস্কানিদাতার নাম ইকবাল হোসেন

Iqbal Hossain kept the Holy Quran in the mandapa of Comilla

নিউজ ডেস্ক: কুমিল্লার (Comilla) পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরান রেখেছিল যে ব্যক্তি, তাকে শনাক্ত করেছে বাংলাদেশ পুলিশ সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাকে শনাক্ত করা হয়। 

এই সংক্রান্ত আরও খবর: Bangladesh: বাংলাদেশ কাণ্ড নিয়ে ডেপুটি হাই কমিশনারকে চিঠি বিজেপি’র

বুধবার বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জনায়, ওই ব্যক্তির নাম ইকবাল হোসেন। তার বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছর হবে। তার বাবার নাম নুর আহমেদ আলম। বাড়ি কুমিল্লার সুজানগরে।

দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লা থেকেই হামলা ছড়ায়। একের পর এক মন্ডপ, মন্দিরে হামলা হয় বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়। পুলিশের গুলিতে ৫ হামলাকারী মারা যায়। মন্ডপে হামলায় আরও দুজন সংখ্যালঘু হিন্দু আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

এই সংক্রান্ত আরও খবর: Subramanian Swamy: বাংলাদেশের হিংসার ঘটনায় মোদি সরকার নীরব কেন, প্রশ্ন বিজেপি সাংসদ স্বামীর

কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক জানিয়েছেন, কুমিল্লার নানুয়ারদিঘি এলাকায় দুর্গামণ্ডপে কোরান রেখে হামলার পরিবেশ তৈরি করার মূল সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারে সর্বাত্মক শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে। আর ইকবাল হোসেন কোথা থেকে ওই কোরান শরিফটি সংগ্রহ করে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাও বের করা হয়েছে।

এই সংক্রান্ত আরও খবর: বাংলাদেশ নিয়ে সোস্যাল মাধ্যমে সোচ্চার এপার বাংলার বুদ্ধিজীবীরা

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে সাজানো হয়েছে। ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব) অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) কর্নেল কেএম আজাদ জানান, কুমিল্লা থেকে যেহেতু হিংসার সূত্রপাত, তাই সেখানে কারা কীভাবে এর সঙ্গে জড়িত, তা বের করার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে এমন দুই-একজনকে শনাক্ত করেছি, যাদের ধরতে পারলেই অনেক রহস্য উন্মোচিত হবে। আমরা সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

Bangladesh: দুর্গাপূজায় ধর্মীয় ষড়যন্ত্র রুখতে বাংলাদেশ জুড়ে নামছে BGB, হাসিনার কড়া ভূমিকা

BgB guards deployed durga puja pandals

নিউজ ডেস্ক: কোনও ঝুঁকি নয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দর্শন ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ’ (Bangladesh) চরিত্র বজায় রাখতে মরিয়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তথা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। সংখ্যালঘু হিন্দুদের দুর্গাপূজা ঘিরে ষড়যন্ত্র রুখে নবমী ও বিজয়া দশমী সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য নিরাপত্তার কড়া নির্দেশ দিল বাংলাদেশ সরকার।

যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মোকাবিলায় পুলিশের পাশাপাশি নামানো হয়েছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB) রক্ষীদের। কুমিল্লা ও ঢাকা বিভাগের নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ সহ ২২টি জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।  সূত্রের খবর, বাংলাদেশের সর্বত্রই দুর্গাপূজা সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে পরপর দুর্গাপূজা মণ্ডপ ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা রুখতে বুধবার পুলিশের সংগে হামলাকারীদের সংঘর্ষের জেরে তিনজনের মৃত্যু, বেশকয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলা। হামলার পর থেকে এই দুই জেলার পরিস্থিতি থমথমে। তবে নতুন করে আর সংঘর্ষের ঘটনা নেই। জারি আছে ১৪৪ ধারা।

বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা রক্ষার্থে দেশব্যাপী বিভিন্ন জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে‌। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান জানান, প্রয়োজন হলে রাজধানী ঢাকাতেও বিজিবি মোতায়েন করা হবে।

বুধবার দুর্গাপূজার অষ্টমী অনুষ্ঠানের আগে সোশ্যাল সাইটের গুজব ছড়ানো হয়, কুমিল্লায় একটি পূজামণ্ডপে মূর্তির নিচে পবিত্র কোরান শরিফ গ্রন্থ রেখে মুসলমান সম্প্রদায়ের অবমাননা করা হয়েছে। কিছু ছবি দ্রুত ছড়ায় ফেসবুকে। এর পরেই কয়েকটি দুর্গামণ্ডপে হামলা হয়। উত্তেজিত হামলাকারীদের থামাতে গুলি চালায় পুলিশ। কয়েকজন জখম হন। রক্তাক্ত সেই ছবি দেখে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এর কিছু পরেই সোশ্যাল সাইটে স্থানীয় কয়েকজন মুসলিম যুবক পোস্ট করেন, কীভাবে দুর্গামণ্ডপ কে ধর্মীয় ষড়যন্ত্রের নিশানা করা হয়। তাদের পোস্ট থেকে স্পষ্ট হয় একটি গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃত এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। তদন্তে নেমে কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানতে পারে সবই ছিল ধর্মীয় উস্কানি।

কুমিল্লার পরিস্থিতি শান্ত হতে না হতেই চাঁদপুর জেলায় শুরু হয় গুজব পোস্ট ঘিরে দুর্গামণ্ডপ ও মন্দিরে হামলা। হামলাকারীদের রুখতে কড়া ভূমিকা নেয় পুলিশ। ‘গুলি’ লেগে ৩ জন মৃত বলে জানান স্থানীয় উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক। কুমিল্লা ও চাঁদপুরের সংখ্যালঘুদের উৎসব ভণ্ডুল করার চেষ্টার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাক ওবায়দুল কাদের জানান, দোষী যেই হোক ছাড় পাবেনা।

বাংলাদেশ ধর্ম মন্ত্রকের জরুরি ঘোষণায় বলা হয়েছে, “কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননা সংক্রান্ত খবর আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। খবরটি খতিয়ে দেখার জন্য ইতোমধ্যে আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করেছি। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে যে কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। সবাইকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।”

Bangladesh: ‘ধর্মীয় গুজব’ ছড়িয়ে বাংলাদেশে দুর্গামণ্ডপে হামলা, ফের ‘গুলি’ নিহত তিন

temple attacked in Chandpur

নিউজ ডেস্ক: কোনোওভাবেই গুজব রুখতে পারা যাচ্ছেনা। সোশ্যাল সাইটে ধর্মীয় উস্কানিমূলক ছবি ও বার্তার জেরে বাংলাদেশের কুমিল্লা পর এবার চাঁদপুর রক্তাক্ত। স্থানীয় একটি মন্দিরে হামলার চালানো হয়। হামলাকারীদের রুখতে কড়া ভূমিকা নেয় পুলিশ। ‘গুলি’ লেগে ৩ জন মৃত।

বুধবার দিনভর কুমিল্লা ছিল উত্তপ্ত। স্থানীয় নুনুয়ারদিঘি পূজামণ্ডপে কোরান শরিফ রাখা নিয়ে ধর্মীয় গুজব ছড়ায়। আক্রান্ত হয় একাধিক মণ্ডপ। পুলিশ ও প্রশাসন কড়া হাতে হামলাকারীদের দমন করে। কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে জানা যায় এই ঘটনা ছিল ধর্মীয় ষড়যন্ত্র।

এদিকে কুমিল্লা থেকে গুজব সোশ্যাল সাইটে ছড়ায় দ্রুত। সন্ধের পর উত্তেজনা তৈরি হয় চাঁদপুরে। জানা গিয়েছে, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারে লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরে হামলা ও ভাংচুর হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে নামে পুলিশ। হামলাকারীদের রুখতে শক্ত ভূমিকা নেয়। জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা, মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।

https://twitter.com/UnityCouncilBD/status/1448228123556732933?s=20

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকরা জানান, তিনজনের মৃতদেহ এসেছে হাসপাতালে। তবে সংঘর্ষে কারও নিহত হওয়ার বিষয়ে পুলিশ নীরব। মন্দিরে হামলা হয়েছে বলে হাজীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রুহিদাস বণিক জানিয়েছেন। তিনি জানান, আরও কয়েকটি স্থানে মন্দিরে হামলা হয়েছে।

কুমিল্লার পরিস্থিতি থমথমে। চাঁদপুরও থমথমে। ধর্মীয় উস্কানিমূলক বার্তা কেমন করে ছড়িয়েছিল তার বর্ণনা দিয়েছেন কুমিল্লার কয়েকজন মুসলিম যুবক। সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা তুলে ধরেন দুর্গা মণ্ডপে কেমন করে হামলার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।

বাংলাদেশ ধর্ম মন্ত্রকের জরুরি ঘোষণায় বলা হয়েছে, “কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননা সংক্রান্ত খবর আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। খবরটি খতিয়ে দেখার জন্য ইতোমধ্যে আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করেছি। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে যে কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। সবাইকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।”

Bangladesh: একাধিক দুর্গা মণ্ডপ ভাঙচুরের পিছনে ‘ষড়যন্ত্র’, শেখ হাসিনার কড়া পদক্ষেপ

Invisible intelligence surveillance at Durga Puja

নিউজ ডেস্ক: ‘ধর্মীয় উস্কানি’ দিয়ে কুমিল্লায় পরপর দুর্গা মণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের পর বাংলাদেশ (Bangladesh) সরকার কড়া পদক্ষেপ নিল। যে কোনও পরিস্থিতিতে পুলিশকে কঠোর ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশ জারি হয়েছে। কোনও সংখ্যালঘু হিন্দুর আশঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, সরকার সবার নিরাপত্তা বজায় রাখবে এমনই বার্তা দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কুমিল্লার ঘটনায় যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে, কেউ ছাড় পাবে না। 

বুধবার দুর্গাপূজার অষ্টমী। দিনভর কুমিল্লায় চলে তাণ্ডবলীলা। অভিযোগ, স্থানীয় নানুয়ারদীঘি এলাকার একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরান শরিফ রাখা ছিল মূর্তির কাছে। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এর জেরে একের পর এক মণ্ডপ ভাঙচুর হয়।

https://twitter.com/UnityCouncilBD/status/1448228123556732933?s=20

বিবিসি জানাচ্ছে, হামলা ছড়িয়ে পড়ার পর দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিশৃঙ্খলা রুখতে পুলিশ গুলি চালায় বলে অভিযোগ। বেশ কয়েকজন জখম হন।

মণ্ডপগুলিতে হামলার কিছু পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্থানীয় কয়েকজন মুসলিম যুবক তুলে ধরেন কেমন করে দুর্গাপূজার সময় ‘ধর্মীয় বিদ্বেষ’ ছড়ানো হয়েছে। সেই বিবরণ ভাইরাল হয়।

তদন্তে নেমে কুমিল্লা জেলা পুলিশ মন্ডপ থেকে উদ্ধার করে সেই ধর্মগ্রন্থ। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে কয়েকজন মিলে মণ্ডপে ঢুকে কোরান শরিফ রেখে এসেছিল। সেই ছবি দেখিয়ে বুধবার সকাল থেকে উত্তেজনা ছড়ানো হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি টহল দিচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বাহিনি (BGB)।

বাংলাদেশ ধর্ম মন্ত্রকের জরুরি ঘোষণায় বলা হয়েছে, “কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননা সংক্রান্ত খবর আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। খবরটি খতিয়ে দেখার জন্য ইতোমধ্যে আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করেছি। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে যে কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। সবাইকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।”

Bangladesh: পূজামণ্ডপে হামলা, গোষ্ঠী সংঘর্ষ রুখতে ‘গুলি’ চালাল বাংলাদেশ পুলিশ

bangladesh police

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) সংখ্যালঘুদের দুর্গাপূজা অনুষ্ঠান ঘিরে সংঘর্ষে উত্তপ্ত কুমিল্লা। বিবিসি জানাচ্ছে, কুমিল্লা শহরের একটি পূজামণ্ডপ থেকে অন্য এক ধর্মের গ্রন্থ মিলেছে। অভিযোগ, ধর্মীয় গ্রন্থের অবমাননা করা হয়েছে ওই পূজামণ্ডপে। বিবিসি জানাচ্ছে, ওই ধর্মগ্রন্থ অবমাননার অভিযোগে বেশ কয়েকটি পূজামণ্ডপে হামলা হয়।

হামলা ছড়িয়ে পড়ার পর দ্রুত পুলিশ যায় কুমিল্লার নানুয়ারদীঘি এলাকার একটি পূজামণ্ডপে। হামলা ও বিশৃঙ্খলা রুখতে পুলিশ গুলি চালায় বলে অভিযোগ। বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। কয়েকটি মণ্ডপ ভাঙচুর হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চলছে।তবে সোশ্যাল সাইটে একের পর এক ধর্মীয় উস্কানিমূলক বার্তা ও ছবি প্রকাশ করতে থাকে বিভিন্ন গোষ্ঠী। তার জেরে আরও ছড়ায় হামলা।

কুমিল্লা শহর অগ্লিগর্ভ। দুপুরের পর থেকে বন্ধ হয়ে গিয়েছে দোকান বাজার। বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ বাহিনী টহল শুরু করেছে।