ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সক্রিয়, লালপাণ্ডার দেশ সিকিম নিচ্ছে পর্যটনের রিস্ক

Yumthang Valley red ponda

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগ থেকে আসন্ন অক্টোবর মাসে দেশে করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট এখনও সক্রিয়-বিশেষ করে সিকিম ও উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং জেলায়। এর পরেও সিকিম সরকার অন্য রাজ্যের পর্যটক টানতে ঝুঁকি নিল।

সিকিমের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমণ প্রতিবেশি পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশে ছড়িয়েছে। দার্জিলিং এখনও করোনার মারাত্মক সংক্রমণ কেন্দ্রের একটি। এই জেলায় এখন কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার সংক্রমণের থেকেও বেশি। শৈলশহরের করুণ চিত্র পর্যটনের জন্য বিরুপ পরিবেশ।

এরই মাঝে সিকিম সরকার দীর্ঘদিন পর আবার পর্যটনের জন্য দরজা খুলে দিচ্ছে। সিকিম পর্যটন দফতর জানিয়েছে, অতি সুন্দর লাচুংয়ের ইয়ুমথাং উপত্যকায় পর্যটকরা যেতে পারবেন।

Yumthang Valley red ponda

সিকিমের আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র চিন সীমান্তের নাথু লা, ছাঙ্গু লেক, বাবা মন্দিরে প্রচুর পর্যটক যান। কিন্তু গত দু বছর করোনা সংক্রমণের কারণে উত্তর পূর্বাঞ্চলের সিকিম প্রায় অবরুদ্ধ ছিল। প্রথমদিকে করোনা ঠেকাতে পারলেও পরে সিকিমে ছড়ায় এই জীবানু সংক্রমণ। মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সিকিম আসার সড়ক পর্যটকদের জন্য বন্ধ করা হয়।

এদিকে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে করোনার সংক্রমণ বেশি ছড়ায়। জলপাইগুড়িতে করোনা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও দার্জিলিংয়ে সংক্রমণ নিয়ে চিন্তিত নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এই জেলা প্রশাসন আপ্পাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।

সিকিমে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমণ দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় ছড়ানোর আশঙ্কা ছিলই। সংক্রমণ ছড়িয়েছে। উত্তরবঙ্গের আকাশে জীবাণুর মেঘ ছড়িয়েছে।

আসন্ন অক্টোবরে দেশজোড়া করোনার তৃতীয় ঢেউ আসছে। কেন্দ্র সরকার উদ্বেগে। এরই মাঝে সিকিম সরকার যেভাবে পর্যটন টানতে ঝাঁপ দিচ্ছে তাতে এই রাজ্য তো বটেই পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে চিন্তার।সূত্রের খবর, নবান্ন থেকে গ্যাংটকে বার্তা পাঠানো হবে।

এদিকে সিকিম সরকার জানিয়েছে, এই রাজ্যে ঘুরতে আসার আগে প্রতি পর্যটককে করোনা টিকার দুটি ডোজ নেওয়ার সার্টিফিকেট দেখাতে হবে। সেটি না থাকলে প্রবেশের অনুমতি মিলবে না।

করোনায় বিশ্বে শিশুমৃত্যুর এক তৃতীয়াংশ ভারতেরঃ বিশ্ব ব্যাংক

Narendra-Modi

নিউজ ডেস্কঃ বিশ্বজোড়া করোনা সংক্রমণ পরিসংখ্যান দাখিল করা ওয়ার্ল্ডোমিটার জানাচ্ছে, সোমবার পর্যন্ত কোভিড ১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃতের তালিকায় ভারত দ্বিতীয়। প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়ার্ল্ডোমিটার রিপোর্টে সোমবার পর্যন্ত ভারতে করোনায় মৃত ৪ লক্ষ ৩৫ হাজারের বেশি। আর বিশ্বব্যাঙ্ক রিপোর্টে এসেছে করোনায় সোমবার পর্যন্ত ভারতে প্রায় এক লক্ষ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, করোনা হামলায় ১২৮টি দেশে প্রায় ২ লক্ষ ৬৭ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর এক তৃতীয়াংশ ভারতের। আরও বলা হয়েছে, করোনার কারণে বিশ্বের অর্থনৈতিক গতি ১৭ শতাংশ সংকুচিত।এর ফলে শিশু মৃত্যুর হার প্রায় ৭ শতাংশ বেড়েছে।

কেন এত শিশুমৃত্যু? প্রশ্নে জর্জরিত কেন্দ্র সরকার। যদিও বিজেপি নেতৃত্বে চলা নরেন্দ্র মোদীর সরকার দাবি করেছে, করোনা নিয়ন্ত্রণে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। তবে অভিযোগ আন্তর্জাতিক স্তরের। সেক্ষেত্রে সরকার অস্বস্তিতে। বিশ্বে করোনায় শিশু মৃত্যের খতিয়ানে এক তৃতীয়াংশ ভারতেই এটি চরম উদ্বেগের বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ভারতের থেকে কম উন্নয়নশীল দেশেও এভাবে করোনায় শিশুমৃত্যু হয়নি।

করোনায় শিশু মৃত্যুর পরিসংখ্যান আসতেই কেন্দ্রীয় সরকারের মুখ পুড়ল। বিশ্ব ব্য়াংকের রিপোর্ট নিয়ে বিরোধী দলগুলি বলছে মুখ পুড়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদীর। 

কোন পথে করোনা মুক্তি? উত্তর দিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান

Addressing a virtual community, Dr Tedros

নিউজ ডেস্ক, জেনেভা: মারণ ভাইরাস করোনার হাত থেকে মুক্তি মিলবে কবে? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম ঘেব্রিয়েসুস জানিয়েছেন, বিশ্ববাসীর হাতেই রয়েছে করোনা-মুক্তির চাবিকাঠি। বিশ্বের সমস্ত দেশের নাগরিকরা যখন চাইবেন, তখনই শেষ হবে করোনার এই করাল কাল।

করোনার গ্রাসে গোটা বিশ্ব। দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে মারণ ভাইরাস। এখনও একাধিক দেশে করোনার সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। করোনায় মৃত্যু মিছিল দেখছে একের পর এক দেশ। মারণ এই সংক্রমণ থেকে মুক্তি মিলবে কবে?বিশ্বজুড়ে এই একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে গত দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে।

গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মত আতঙ্ক বাড়াচ্ছে করোনার ডেল্টা স্ট্রেন। ভাইরাসের এই ধরনই এখন মাথাব্যথা বিশ্ববাসীর কাছে। অত্যন্ত সংক্রামক এই ডেল্টা স্ট্রেন। দ্রুত একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ঢুকে পড়তে পারে এই স্ট্রেন। এমনকী মানবদেহে তৈরি টিকার প্রাচীরও সহজেই ভেঙে ফেলতে সক্ষম করোনার এই নয়া ধরন।

বিশ্বের কমপক্ষে ১৩২ টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে করোনার ডেল্টা স্ট্রেন। একের পর এক দেশ সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফের লকডাউনের পথে হাঁটতে শুরু করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কিছুদিন আগে জানিয়েছিলেন, করোনার টিকার সম্পূর্ণ ডোজ নেওয়া থাকলে মাস্ক পরার দরকার নেই। কিন্তু করোনার ডেল্টা স্ট্রেনের আতঙ্কে তিনিও অবস্থান বদলেছেন। দেশবাসীকে আবারও মাস্ক পরতে জোর দিতে বলছেন মার্কিন প্রশাসন।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধানের মতে, সংক্রমণ রুখতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই একমাত্র কর্তব্য। করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রুখতে স্বাস্থ্যবিধি মানতেই হবে। এছাড়াও দ্রুতগতিতে টিকাকরণ, সংক্রমিতকে চিহ্নিত করে দ্রুত তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং সংক্রমিতের সংস্পর্শে আসা প্রত্যেককে চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা। করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রুখতে এই বিষয়গুলোর ওপর জোর দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

করোনা সংক্রমণের বিদ্যুৎ গতি ঘুম কেড়েছে কেরলের

Kerala Rise in Covid Cases

নিউজ ডেস্ক, তিরুঅনন্তপুরম: সংক্রমণের বিদ্যুৎ গতি কেরলে। দক্ষিণের এই রাজ্যে আবারও দৈনিক সংক্রমণ প্রায় ২১ হাজারের কাছাকাছি। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে কেরলে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৭৭২ জন। পিনারাই বিজয়নের রাজ্যে একদিনে করোনার বলি ১১৬। সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দিশেহারা দশা কেরল সরকারের। সংক্রমণে লাগাম টানতে আরও কী কী ব্যবস্থা নেওয়া যায় সে ব্যাপারে কেরল সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক।

দেশে করোনার প্রথম ঢেউ দারুণভাবে সামাল দিয়েছিল কেরল। গোটা দেশে কেরল একটি মডেল হয়ে উঠেছিল। সংক্রমণ মোকাবিলায় একের পর এক পদক্ষেপ কেরলকে বিশ্বের দরবারেও প্রশংসা এনে দিয়েছিল। তবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তেই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি দক্ষিণের এই রাজ্যে। প্রতিদিন হাজার-হাজার মানুষ নতুন করে কেরলজুড়ে করোনায় সংক্রমিত হচ্ছেন। গত চারদিন কেরলের দৈনিক সংক্রমণ কুড়ি হাজারের উপরে রইল। বর্তমানে কেরলে সংক্রমণের হার ১৩.৬১ শতাংশ।

কেরালের মালাপ্পুরামে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এই জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩৬৭০। একইভাবে সংক্রমণ বাড়ছে কোঝিকোড, এরনাকুলাম,আলাপুঝা-সহ একাধিক জেলায়।

এদিকে গোটা দেশেও করোনা উদ্বেগ জারি। ফের দৈনিক সংক্রমণ পেরিয়েছে ৪০ হাজারের গণ্ডি।একটানা চার দিন দেশে করোনার দৈনিক সংক্রমণ ৪০ হাজারের ওপর। অস্বস্তি বাড়িয়ে বাড়ছে অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা।

শনিবার সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের , দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘন্টায় দেশে নতুন করে ৪১ হাজার ৬৪৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।একদিনে দেশে করোনার বলি ৫৯৩ । সব মিলিয়ে শনিবার সকাল পর্যন্ত দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে তিন কোটি ১৫ লক্ষ ১৩ হাজার ৯৯৩ জন। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত দেশে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৪ লক্ষ ২৩ হাজার ৮১০ জনের।

দার্জিলিং ছাড়িয়ে দক্ষিণবঙ্গে নামছে করোনার ভয়াল ডেল্টা হামলা

Delta varient spreading

নিউজ ডেস্ক: সিকিম থেকে দার্জিলিং এরপর কোনদিকে? করোনার ভয়াবহ ডেল্টা ধরণের গতি নিম্নমুখী অর্থাৎ দক্ষিণবঙ্গের দিকে। এমন আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।পশ্চিমবঙ্গে ক্রমশ ছড়াচ্ছে করোনারভাইরাসের অতি সংক্রামক ডেল্টা ধরণ বা ইন্ডিয়ান ভ্যারিয়েন্ট।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের রিপোর্ট, দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে করোনা আক্রান্ত বিভিন্ন রোগীর দেহে মিলেছে ডেল্টা ধরণ। কোচবিহার ও দুই দিনাজপুর থেকে তেমন খবর আসেনি।

করোনার ডেল্টা ধরণটির সংক্রমণ কেমন? গোটা দেশ এর সাক্ষী। তবে পশ্চিমবঙ্গে ডেল্টা তেমন আসেনি। এবার তার টার্গেট এই রাজ্য। পরিস্থিতি যে ফের পশ্চিমবঙ্গে জটিল হবে তা থেকেই আন্দাজ করা যাচ্ছে।

করোনা ভাইরাসের এই তীব্র সংক্রামক ধরণটি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শঙ্কিত। তাঁরা মনে করছেন, ডেল্টা ফের বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিতে পারে। ডেল্টা হামলায় ইতিমধ্যেই দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়া জুড়ে চলছে হাহাকার। বাংলাদেশে ডেল্টা ধরণটি ছড়িয়েছে। বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হয়েছে চিকিৎসা সংকট।

হু জানাচ্ছে, করোনার ডেল্টা বা ইন্ডিয়ান ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমণে স্তব্ধ হতে চলেছে পুরো পশ্চিম এশিয়া। এই অঞ্চলের ইরান, ইরাক সহ উত্তর আফ্রিকার কিছু দেশে হু হু করে ছড়িয়েছে ডেল্টা। পশ্চিম এশিয়ায় হু আঞ্চলিক প্রধান আহমদ আল মান্ধারির দাবি, চতুর্থ ঢেউ চলছে।

সিকিম স্তব্ধ। ডেল্টার হানায় কুঁকড়ে গেছে লাল পান্ডার স্বর্গরাজ্য। সেখান থেকে দার্জিলিং ও কালিম্পং দুই পার্বত্য জেলায় সংক্রমণ ছড়াতে থাকায় উত্তরের আকাশে ভয়ের মেঘ। দক্ষিণেও সেই ভয় ছড়াচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন,

টিকা না নেওয়ার গাফিলতিই ডেল্টা সংক্রমণের কারণ। যে ধরনের টিকা মিলছে তা করোনা প্রতিরোধে উপযুক্ত। সংক্রমণ হলেও টিকা গ্রহীতার মৃত্যুর সম্ভাবনা বহু কমে যায়।

ঝড়ের গতিতে বাড়ছে করোনার নয়া সংস্করণ ‘লামডা’

Lambda variant

নিউজ ডেস্ক: ডেল্টা, ডেল্টা প্লাসের পর এবার লামডা। করোনা আবহে এখন এল আরও এক নতুন আতঙ্ক। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, লাতিন আমেরিকায় পাওয়া করোনার এই নতুন সংস্করণ দক্ষিণ আমেরিকাতে তো বটেই, উত্তর অ্যামেরিকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এই সংস্করণ কতটা ভয়ঙ্কর, তার গবেষণা শুরু হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দাবি, এখনও পর্যন্ত ২৯টি দেশে এই নতুন সংস্করণের ভাইরাস মিলেছে। তবে দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনার এই নয়া সংস্করণ লামডা৷ ২০২০ সালে পেরুতে প্রথম এই সংস্করণের ভাইরাস পাওয়া যায়। তবে তখনও বিশেষজ্ঞরা এই নতুন সংস্করণটিকে ততটা গুরুত্ব দেননি। গত কয়েকমাসে লামডা ছড়াতে শুরু করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, কয়েকমাসের মধ্যেই করোনার তৃতীয় ঢেউ আসতে চলেছে। বহু দেশ এখনও দ্বিতীয় ঢেউয়ের রেশ কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তারই মধ্যে এশিয়ায় ডেল্টা এবং ডেল্টা প্লাস সংস্করণের হদিশ মেলে। এই দুইটি ভ্যারিয়েন্ট নিয়েই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন গবেষকরা। এই সংস্করণ দ্রুত ছড়ায় এবং ভয়ঙ্কর। লামডা যে দ্রুত ছড়াচ্ছে, বিজ্ঞানীরা তা বুঝতে পারছেন। তবে এই সংস্করণটি কতটা ভয়ঙ্কর, তা এখনও স্পষ্ট নয়৷

দক্ষিণ আমেরিকা এবং আমেরিকায় লামডাই তৃতীয় ঢেউ নিয়ে আসবে বলে কোনও কোনও বিশেষজ্ঞ মনে করছেন। আমেরিকায় নতুন করে করোনা ছড়াতে শুরু করেছে। নতুন করে কড়াকড়িও শুরু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’ জানিয়েছে, সারা পৃথিবীতে ৮০ শতাংশ মানুষের টিকাকরণ না হওয়া পর্যন্ত করোনার আতঙ্ক কাটবে না। একের পর এক ঢেউ আসতেই থাকবে।

করোনালিম্পিক! জাপান উপকূলে ভাইরাস সুনামি

Tokyo cancels public viewing sites for summer Olympics

নিউজ ডেস্ক: শুরু হয়েছে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ রঙ্গমঞ্চ-অলিম্পিক। একইসঙ্গে জাপান উপকূলে ধেয়ে এসেছে ভাইরাস সুনামি। রাজধানী টোকিও অর্থাৎ অলিম্পিক নগরীতে “গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ” যেমন চলছে, তেমনি চলছে জরুরি অবস্থা। করোনা ও অলিম্পিকের মাঝে পড়েছেন টোকিওবাসী।

চলতি বিশ্ব শ্রেষ্ঠ ক্রীড়ানুষ্ঠানের মাঝেই জাপানে করোনার আরও একটি ঢেউ আসার সম্ভাবনা প্রবল। চিন্তিত বিশেষজ্ঞরা। প্রশ্ন উঠছে চিকিৎসক মহলে, কেন এই ঝুঁকি নিতে গেল সরকার।

পরিস্থিতি এমনই যে অলিম্পিক নগরী টোকিওর রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ চলছেই। এতে অংশ নিয়েছেন চিকিৎসার সঙ্গে যুক্তরা। আছেন চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, যেভাবে গত কয়েকদিনে করোনা ছড়িয়েছে তাতে অলিম্পিকের মাঝেই বড়সড় ভাইরাস সংক্রমণ হবে।

জাপানের বহুল প্রচারিত সংবাদপত্র জাপান টাইমসের রিপোর্ট, শুক্রবার সকালে টোকিও শহরে করোনা সংক্রমণের তালিকায় ১৩৫৯ জন এসেছেন। জাপানের সামগ্রিক করোনা পরিস্থিতি বলছে ১৫ হাজারের বেশি মৃত। ৮৬ হাজারের অধিক আক্রান্ত।

তবে অলিম্পিক আসরে আসা বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের কড়া স্বাস্থ্যবিধির মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। তার পরেও সংক্রমণের চেহারা দেখে চিন্তার সুনামি ধেয়ে আসছে জাপান উপকূলে।

জন জীবনে করোনার ভয় প্রবল। সেটাই পুঞ্জিভূত ক্ষোভের আকার নিয়ে বড়সড় বিক্ষোভে ফেটে পড়ার দিকেই এগোচ্ছে। শুক্রবার অলিম্পিক শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে টোকিও শহরের করোনা চিত্র রীতিমতো আশঙ্কাজনক বলেই জানাচ্ছে জাপান টাইমস।

অভিযোগ উঠেছে, খোদ অলিম্পিক ভিলেজেই করোনা সংক্রমিত বহু। তাদের মধ্য দিয়ে সংক্রমণ আরও ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।জাপানবাসীর বেশিরভাগ আগে থেকেই অলিম্পিক বন্ধের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন। পরে অলিম্পিক কমিটির চাপের মু়খে সরকার রাজি হয় প্রতিযোগিতা চালিয়ে যেতে।

করোনার লাল চোখ সর্বত্র। তবে করোনাকে চ্যালেঞ্জ করেই বিশ্বজোড়া আশার বার্তা দিতে মরিয়া অলিম্পিক কমিটি। পরিস্থিতি কতটা খারাপ হতে পারে সেই আশঙ্কায় টোকিও শহরের চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে জড়িতদের বিক্ষোভ থেকেই আন্দাজ করা যাচ্ছে।

করোনা ভাইরাসের পরিসংখ্যান দেওয়া ওয়ার্ল্ডোমিটার জানাচ্ছে, জাপানে শুক্রবার পর্যন্ত সংক্রমিত রোগী ৮ লক্ষ ৫২ হাজারের বেশি। মৃত ১৫ হাজার পার করেছে। তবে গত এক সপ্তাহে করোনার সংক্রমণ বেড়েছে জাপানে। অলিম্পিক নগরী টোকিওতে সংক্রমণের রেখচিত্র উর্ধমুখী। অলিম্পিক ভিলেজে করোনা হানা ও সংক্রমণ ছড়ানোর ঘটনায় জাপানবাসী আরও আতঙ্কিত। অতি সংক্রামক এই ভাইরাস অলিম্পিকের মাঝেই তার রূদ্ররূপ নেবে এমনই আশঙ্কা।

বিপর্যস্ত বাংলার প্রতিবেশি দেশে করোনায় মৃত মাত্র এক

bhutan corona

নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদ রুখতে একদিন কুয়াশা ঢেকে থাকা অরণ্যের মাঝে গুলির ঝড় তুলেছিল রয়াল ভুটান আর্মি। ভারত বিরোধী জঙ্গি সংগঠনগুলির তখন ছেড়ে দে কেঁদে বাঁচি অবস্থা। এমনই ভুটান কিন্তু অদৃশ্য ঘাতক করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ চালাচ্ছে। ফলাফল চমকে দেওয়ার মতো। গত ১ বছর চার মাসের মধ্যে মৃত ১ জন!

পশ্চিমবঙ্গের পাশের এই দেশ আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং ও জলপাইগুড়ি জেলার সীমান্ত দিয়ে ঘেরা প্রতিবেশি ভুটান (ড্রাগনভূমি)। উত্তরবঙ্গ যখন করোনা সংক্রমণে জর্জরিত তখন এই এলাকা লাগোয়া বিদেশে চলছে করোনা বিরোধী মারাত্মক লড়াই।

রাজ্যের তিনটি জেলার লাগোয়া দক্ষিণ ভুটানের অন্তত ছটি জেলায় যখনই সংক্রমণ বেশি ছড়িয়েছে তখনই দেশটির সরকার জারি করেছে এলাকাভিত্তিক লকডাউন। ভুটান স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সর্বশেষ রিপোর্ট (৯.৭.২১) বলছে ২ হাজারের বেশি করোনা আক্রান্ত, ১,৯০০ জনের বেশি সুস্থ হয়েছেন। মৃত ১ জন।

আসছে করোনার তৃতীয় ঢেউ। সতর্ক সব দেশ। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার ভারত ও বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) আশঙ্কিত। পশ্চিমবঙ্গের আগামী করোনা পরিস্থিতি কী হবে তাও চিন্তার। আর একের পর এক সব সীমান্ত ফটক বন্ধ করে বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে ভুটান অসম এক লড়াইয়ে মত্ত।

ড্রাগন ফটকগুলি বন্ধ হলেও দেশটির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ১৮৩ কিলোমিটারের সীমান্তের বেশিরভাগই খোলা। ১৯৪৯ সালে জওহরলাল নেহরুর অবিস্মরণীয় ভুটান সফরের পর ভারতের সঙ্গে ‘মৈত্রী চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছিল ভুটান। সেই চুক্তির বলে দুই দেশের জনগণ ভিসা ছাড়া যাতায়াত করতে পারেন। জঙ্গল ও পাহাড় ঘেরা এই সীমান্ত সংলগ্ন দুই দেশের গ্রামগুলিতে কড়া নজর রেখে চলেছে ভুটান সরকার। শ’য়ে শ’য়ে স্বেচ্ছাসেবকদের মোতায়েন করা হয়েছে।

ভুটানের এই করোনা যোদ্ধাদের নাম অরেঞ্জ ফাইটার্স। ভুটানে পরিচিত ডি সুং (ডি সুপ) নামে। মূলত বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য সীমিত পরিকাঠামো দিয়ে অতি আধুনিক মানের এই বাহিনির (কমলা যোদ্ধা) কর্মকুশলতায় চমকে গিয়েছে হু। দুর্গম এলাকার কোনও অংশই বাকি নেই তাদের নজরদারি থেকে। এলাকাভিত্তিক গণস্বাস্থ্য কর্মসূচির বিরাট প্রয়োগ করছে অনুন্নত দেশের তালিকায় থাকা ভুটান।

ফল মিলছে হাতে হাতে। কড়া বাঁধুনিতে মোড়া দেশটি এখন করোনা বিরোধী লড়াইয়ে বিশ্বের কাছে চমক। এই চমকের আরও বাকি আছে। ভুটানের লড়াইকে স্বীকৃতি দিয়ে ভুটানকে সভাপতির পদে বসিয়েছে ওয়ার্ল্ড হেল্থ অ্যাসেম্বলি (WHA)। এর মাধ্যমে পরিচালিত হয় হু। সদস্য দেশগুলি একযোগে সমর্থন করেছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভুল উচ্চারণে ব্যাঙ্গ করে ‘বাটন’ বা বোতামের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন পূর্বতন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই ভুটানকে WHA সভাপতি পদে মেনে নিতে হয়েছে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই।

নিষিদ্ধ দেশ ঠিক নয়। তবে নিজেকে রহস্যের ঘেরাটোপে রেখে চমকে দেওয়া ভুটান কিন্তু এমনই। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশি দেশটির প্রধানমন্ত্রী ডা লোটে শেরিং বাংলা ভালোই বোঝেন ও বলেন। তাঁর সূক্ষ্ণ বৈজ্ঞানিক নজরে থাকছে এই রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি। তাঁর নির্দেশে রোজকার তথ্য বিশ্লেষণে হচ্ছে পরের দিনের পরিকল্পনা। করোনা বিরোধী লড়াইয়ে রোজই দুর্গ রক্ষায় কোমরবেঁধে নেমে পড়ছেন ভুটানিরা।