Bangladesh: দুর্গা মণ্ডপে ধর্ম ‘অবমাননা’ ধুয়ো তুলে ফের হামলা, ঢাকায় পুলিশের গুলি

Bangladesh

নিউজ ডেস্ক: কুমিল্লায় একটি দুর্গাপূজা মণ্ডপে ‘কোরান শরিফ রেখে ইসলামের অবমাননা করা হয়েছে’, এই অভিযোগ ঘিরে শুক্রবারও কিছু উগ্র বার্তায় ফের পরিস্থিতি উত্তপ্ত বাংলাদেশে (Bangladesh)। হামলাকারীদের রুখতে পুলিশের গুলি চালাল ফের। বিবিসি জানাচ্ছে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ। নোয়াখালী ও চট্টগ্রামে কয়েকটি পূজামণ্ডপে হামলা হয়েছে।

Bangladesh

কুমিল্লার ঘটনার পিছনে রয়েছে ষড়যন্ত্র। সরকার দোষীদের গ্রেফতার করে কড়া শাস্তি দেবে। জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশাদুজ্জামান খান কামাল জানান, কোনও অবস্থায় সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে দেওয়া হবে না।

আরও পড়ুন: Bangladesh: দুর্গামণ্ডপ ভাঙচুরের ঘটনায় দোষীরা শাস্তি পাবেই জানালেন শেখ হাসিনা

বিবিসি জানাচ্ছে, শুক্রবার ঢাকায় বায়তুল মোকাররম মসজিদ, পল্টন ও কাকরাইল এলাকায় এবং নোয়াখালী জেলার চৌমুহনীতে পুলিশের সাথে হামলাকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে একাধিক দোকানও বাড়িঘরে হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে।

Bangladesh

ঢাকায় মিছিলকারীরা রাস্তায় নামলে পুলিশ বাধা দেয়। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে হামলাকারীরা। পুলিশ লাঠিচার্জ করে, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে ও শটগান থেকে গুলি ছুঁড়ে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

চট্টগ্রামে কয়েকটি মণ্ডপ ও মন্দিরে হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা রানা দাশগুপ্ত। তিনি বলেন চট্টগ্রামে কয়েকটি মণ্ডপ এলাকায় আক্রমণ করা হয়। প্রতিবাদে তারা প্রতিমা বিসর্জন বন্ধ রেখেছেন।

বিবিসি জানাচ্ছে, বুধবার কুমিল্লায় একটি পূজামণ্ডপে কোরান শরিফ পাওয়ার পর ওই ঘটনার জের ধরে কুমিল্লা, চাঁদপুর সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা ঘটেছে। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে সংঘর্ষে কয়েকজনের মৃত্যু হয়।

SFI: ওপারের দুর্গামণ্ডপে বর্বর হামলার প্রতিবাদে এপার বাংলার বাম ছাত্র সংগঠন

Sfi on bangladesh issue

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা:  বাংলাদেশের নানা স্থানে দুর্গাপূজার সময় সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে। পূজা মন্ডপ, প্রতিমা ভাঙ্গচুর হয়েছে। এই বর্বরোচিত আক্রমণের বিরুদ্ধে সাথে সাথে পথে নেমেছে সেখানকার বামপন্থীরা। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সহ বাম ছাত্র সংগঠনও এই লড়াইতে সামিল। হাসিনা সরকারও গ্রেপ্তার করছে আক্রমণকারীদের। হামলাকারীরা ‘সরকারি মদত’ পায়নি।

প্রতিবাদ জানাল রাজ্য এসএফআই। এই প্রসঙ্গে এসএফআই সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, “এই দাঙ্গাবাজরা হলো সেই শক্তি যারা বাংলাদেশ স্বাধীনতার সময় পাকিস্তানের হয়ে ওপার বাংলার মানুষের ওপর নির্মম অত্যাচার নামিয়েছিল। এরা এখনো বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংস করতে উদ্যত। এই সময় আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে সংখ্যালঘু অধিকার খর্বকারী সব ধরনের সাম্প্রদায়িক শক্তিকে পরাজিত করতেই হবে। দরকার ঐক্যবদ্ধ লড়াই।”

বাংলাদেশে একাধিক দুর্গা মন্ডপে ঢুকে তান্ডব চালায় দুষ্কৃতীরা। পরের পর প্যান্ডেলে চলে দুষ্কৃতী তান্ডব। গোটা ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে সেদেশের হিন্দু কাউন্সিল। নিন্দার ঝড় উঠেছে সব মহলেই।

কুমিল্লার নানুয়া দীঘিতে সবচেয়ে খারাপ ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সন্ধ্যায়। সেখানে একটি দূর্গা পুজো প্যান্ডেলে হামলা চালায় উত্তেজিত জনতা। দেবী দুর্গার পাদদেশে পবিত্র কোরান রাখা হয়েছে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পরেই হামলা চলে। জানা যায় প্রতিমাটি একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। কোরান রাখার খবর ছড়ায় হোয়াটসঅ্যাপ। উস্কানিমূলক মন্তব্য ও ছবি শেয়ার হতে থাকে। এরপরেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।

পুলিশ গিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি বলে দাবি স্থানীয়দের। এদিকে পুলিশ আসার আগেই প্রতিমা ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ। এই গোটা ঘটনার ছবি শেয়ার করে বাংলাদেশ হিন্দু ইউনিটি কাউন্সিল। তারা টুইট করে গোটা ঘটনা জানায়।

ছবি শেয়ার করে হিন্দু কাউন্সিল জানায়, বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক দিন। গত ২৪ ঘণ্টায় যা ঘটেছে তা আমরা টুইটে প্রকাশ করতে পারি না। বাংলাদেশের হিন্দুরা কিছু মানুষের আসল চেহারা দেখেছে। ভবিষ্যতে কী হবে তা আমরা জানি না কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুরা ২০২১ সালের দুর্গাপূজা ভুলবে না।

Bangladesh: RAB-BGB-পুলিশ ঘেরাটোপে বিজয়া দশমী পালন হবে বাংলাদেশে

Invisible intelligence surveillance at Durga Puja

নিউজ ডেস্ক: ধর্মান্ধ গোষ্ঠীগুলিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানান, যে বা যারা কুমিল্লার দুর্গামণ্ডপ ভাঙচুর করেছে তাদের এমন শাস্তি হবে যা মনে রাখার মতো। তদন্ত চলছে দোষীরা চিহ্নিত হচ্ছে।

বিবিসি জানাচ্ছে, বুধবার কুমিল্লায় একটি দুর্গা মণ্ডপে কোরান শরিফ রাখার অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ধর্মীয় উস্কানি দেওয়া হয়। এর জেরে বেশ কয়েকটি মণ্ডপে হামলা হয়। পুলিশ গুলি চালায়। জখম হন কয়েকজম।একইভাবে চাঁদপুরে হামলা রুখতে গুলি চালায় পুলিশ। ৫ জন মারা যায়।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানান, সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে দেশের ক্ষতি করতে তৈরি কিছু গোষ্ঠী। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত। বাংলাদেশের ২৪টি জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বাহিনীর টহল চলছে। বিভিন্ন এলাকায় হামলা ভাঙচুরের পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। যে কোনও মূল্যে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন।

গোয়েন্দা প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলাদেশ জুড়ে জারি হয় সতর্কতা। বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধানরা ছিলেন। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঘটনাটি উদ্দেশ্যমূলক। কোনও স্বার্থান্বেষী মহল, ষড়যন্ত্রকারী বা চক্রান্তকারী এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন কুমিল্লা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘ধর্মকে ব্যবহার করে যারা সহিংসতা’ সৃষ্টি করছে, তাদের অবশ্যই খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়া হবে।

শেখ হাসিনা দুর্গাপূজা মণ্ডপে হামলার কড়া নিন্দা করেন। তিনি বলেন, “প্রতিবেশি ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় সহযোগিতা করেছে। তাদের কথা আমরা সব সময় কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করি।” তিনি আরও বলেন “সেখানেও এমন কিছু যেন না করা হয় যার প্রভাব আমাদের দেশে এসে পড়ে। আর আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত আসে,”।

Bangladesh: দুর্গামণ্ডপ ভাঙচুরের ঘটনায় দোষীরা শাস্তি পাবেই জানালেন শেখ হাসিনা

Sheikh Hasina

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে দুর্গামণ্ডপে হামলার ঘটনায় দোষী কেউ ছাড় পাবেনা। কুমিল্লায় দুর্গামণ্ডপে হামলার কড়া নিন্দা করে জানালেন শেখ হাসিনা। করোনা সংক্রমণের কারণে ভিডিও কনফারেন্স ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দুর্গা দর্শন করেন তিনি।

ভিডিও বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, কুমিল্লার ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ‘যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। যে ধর্মের হোক না কেন বিচার করা হবে।’

বাংলাদেশে ধর্মীয় উস্কানিমূলক বার্তা দিয়ে দুর্গাপূজা মণ্ডপে হামলা, ভাঙচুর ও সাম্প্রদায়িক বৈরি পরিবেশ তৈরিতে জড়িতদের চিহ্নিত করতে ভিডিও ও সোশ্যাল সাইটের ফুটেজের সাহায্য নিচ্ছে পুলিশ। উৎসব পরিবেষকে ষড়যন্ত্র করে নষ্ট করায় অন্তত ৪৬ জন ধৃত। তবে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। ২৪টি জেলায় বর্ডার গার্ড টহল চলছে।

Sheikh Hasina

বুধবার দিনভর দুর্গাপূজা ভণ্ডুল করে কুমিল্লা ও চাঁদপুরে হামলা চালানো হয় দুর্গামণ্ডপ ও মন্দিরে। সোশ্যাল সাইটে ছড়ানো হয় কুমিল্লায় দুর্গামণ্ডপে মূর্তির নিচে কোরান শরিফ রাখা আছে। এর জেরে হামলা শুরু হয়। হামলা রুখতে পুলিশ গুলি চালায়। কয়েকজন জখম হয়। আর চাঁদপুরে মন্দিরে হামলা রুখতে পুলিশ আরও কঠোর ভূমিকা নেয়। বিবিসি জানাচ্ছে, চার জন মৃত। তারা গুলিবিদ্ধ। গুলি চালানোর বিষয়ে নীরব পুলিশ।

দুটি জেলায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা চলছে। জানিয়েছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, দোষীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। কেউ ছাড় পাবে না। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মহম্মদ আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অবশ্যই উস্কানিমূলক।
বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা রক্ষার্থে দেশব্যাপী বিভিন্ন জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে‌। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান জানান, প্রয়োজন হলে রাজধানী ঢাকাতেও বিজিবি মোতায়েন করা হবে।

বুধবার দুর্গাপূজার অষ্টমী অনুষ্ঠানের আগে সোশ্যাল সাইটের গুজব ছড়ানো হয়, কুমিল্লায় একটি পূজামণ্ডপে মূর্তির নিচে পবিত্র কোরান শরিফ গ্রন্থ রেখে মুসলমান সম্প্রদায়ের অবমাননা করা হয়েছে। কিছু ছবি দ্রুত ছড়ায় ফেসবুকে। এর পরেই কয়েকটি দুর্গামণ্ডপে হামলা হয়। হামলাকারীদের থামাতে গুলি চালায় পুলিশ। কয়েকজন জখম হন। রক্তাক্ত সেই ছবি দেখে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এর কিছু পরেই সোশ্যাল সাইটে স্থানীয় কয়েকজন মুসলিম যুবক পোস্ট করেন, কীভাবে দুর্গামণ্ডপ কে ধর্মীয় ষড়যন্ত্রের নিশানা করা হয়। তাদের পোস্ট থেকে স্পষ্ট হয় একটি গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃত এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। তদন্তে নেমে কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানতে পারে সবই ছিল ধর্মীয় উস্কানি। কুমিল্লার পরিস্থিতি শান্ত হতে না হতেই চাঁদপুর জেলায় শুরু হয় গুজব পোস্ট ঘিরে দুর্গামণ্ডপ ও মন্দিরে হামলা। হামলাকারীদের রুখতে কড়া ভূমিকা নেয় পুলিশ।

বাংলাদেশ ধর্ম মন্ত্রকের জরুরি ঘোষণায় বলা হয়েছে, “কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননা সংক্রান্ত খবর আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। খবরটি খতিয়ে দেখার জন্য ইতোমধ্যে আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করেছি। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে যে কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। সবাইকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।”

Bangladesh: দুর্গাপূজায় ধর্মীয় ষড়যন্ত্র রুখতে বাংলাদেশ জুড়ে নামছে BGB, হাসিনার কড়া ভূমিকা

BgB guards deployed durga puja pandals

নিউজ ডেস্ক: কোনও ঝুঁকি নয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দর্শন ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ’ (Bangladesh) চরিত্র বজায় রাখতে মরিয়া বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তথা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। সংখ্যালঘু হিন্দুদের দুর্গাপূজা ঘিরে ষড়যন্ত্র রুখে নবমী ও বিজয়া দশমী সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য নিরাপত্তার কড়া নির্দেশ দিল বাংলাদেশ সরকার।

যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মোকাবিলায় পুলিশের পাশাপাশি নামানো হয়েছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB) রক্ষীদের। কুমিল্লা ও ঢাকা বিভাগের নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ সহ ২২টি জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।  সূত্রের খবর, বাংলাদেশের সর্বত্রই দুর্গাপূজা সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

ধর্মীয় উস্কানি দিয়ে পরপর দুর্গাপূজা মণ্ডপ ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা রুখতে বুধবার পুলিশের সংগে হামলাকারীদের সংঘর্ষের জেরে তিনজনের মৃত্যু, বেশকয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল চট্টগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা ও চাঁদপুর জেলা। হামলার পর থেকে এই দুই জেলার পরিস্থিতি থমথমে। তবে নতুন করে আর সংঘর্ষের ঘটনা নেই। জারি আছে ১৪৪ ধারা।

বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা রক্ষার্থে দেশব্যাপী বিভিন্ন জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে‌। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান জানান, প্রয়োজন হলে রাজধানী ঢাকাতেও বিজিবি মোতায়েন করা হবে।

বুধবার দুর্গাপূজার অষ্টমী অনুষ্ঠানের আগে সোশ্যাল সাইটের গুজব ছড়ানো হয়, কুমিল্লায় একটি পূজামণ্ডপে মূর্তির নিচে পবিত্র কোরান শরিফ গ্রন্থ রেখে মুসলমান সম্প্রদায়ের অবমাননা করা হয়েছে। কিছু ছবি দ্রুত ছড়ায় ফেসবুকে। এর পরেই কয়েকটি দুর্গামণ্ডপে হামলা হয়। উত্তেজিত হামলাকারীদের থামাতে গুলি চালায় পুলিশ। কয়েকজন জখম হন। রক্তাক্ত সেই ছবি দেখে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এর কিছু পরেই সোশ্যাল সাইটে স্থানীয় কয়েকজন মুসলিম যুবক পোস্ট করেন, কীভাবে দুর্গামণ্ডপ কে ধর্মীয় ষড়যন্ত্রের নিশানা করা হয়। তাদের পোস্ট থেকে স্পষ্ট হয় একটি গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃত এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। তদন্তে নেমে কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানতে পারে সবই ছিল ধর্মীয় উস্কানি।

কুমিল্লার পরিস্থিতি শান্ত হতে না হতেই চাঁদপুর জেলায় শুরু হয় গুজব পোস্ট ঘিরে দুর্গামণ্ডপ ও মন্দিরে হামলা। হামলাকারীদের রুখতে কড়া ভূমিকা নেয় পুলিশ। ‘গুলি’ লেগে ৩ জন মৃত বলে জানান স্থানীয় উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক। কুমিল্লা ও চাঁদপুরের সংখ্যালঘুদের উৎসব ভণ্ডুল করার চেষ্টার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাক ওবায়দুল কাদের জানান, দোষী যেই হোক ছাড় পাবেনা।

বাংলাদেশ ধর্ম মন্ত্রকের জরুরি ঘোষণায় বলা হয়েছে, “কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননা সংক্রান্ত খবর আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। খবরটি খতিয়ে দেখার জন্য ইতোমধ্যে আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করেছি। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে যে কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। সবাইকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।”

Red Volunteers: উৎসবে করোনার অট্টহাসি টের পেয়েই যুদ্ধে নামছে বামেদের রেড ভলান্টিয়ার্স

Red Volunteers

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: ‘আমরা তৈরি আছি’, বার্তা দিয়েছে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিরোধী সিপিআইএম সহ বামদলগুলির উদ্যোগে তৈরি বিখ্যাত রেড ভলান্টিয়ার্স (Red Volunteers)। অদৃশ্য জীবাণু ঘাতকের বিরুদ্ধে লড়তে দার্জিলিং থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা- সবকটি জেলার যত সদস্য রয়েছেন সবাইকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। কারণ, উৎসব শেষে করোনা সংক্রমণের হার বাড়তে চলেছে বলেই আশঙ্কা।

লোকসভার পর বিধানসভা ভোটে রাজ্যে বামেরা শূন্য হয়ে গেছে। কে বলবে সিপিআইএম এই রাজ্যে টানা সাড়ে তিন দশকের সরকার চালিয়েছে। এখন পরিস্থিতি এমন যে জামানত বাঁচানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। তার পরেও সিপিআইএমের মূল উদ্যোগে তৈরি রেড ভলান্টিয়ার্সদের ভূমিকা দেখেছেন রাজ্যবাসী। শাসক তৃণমূল কংগ্রেস, বিরোধী দল বিজেপির নেতা মন্ত্রীরা নিজেদের মোবাইলে স্থানীয় রেড ভলান্টিয়ার্সদের নাম ও নম্বর সেভ করেছেন। দুই দলের বহু নেতার স্পষ্ট মতামত, বলা তো যায় না বিপদ কখন হয়। তখন আর কেই বা আছে !

Red Volunteers

রেড ভলান্টিয়ার্স মানেই করোনা সংক্রমণ সংকটে বিপদের বন্ধু। যেভাবে লকডাউনের মাঝে এই লাল স্বেচ্ছাসেবকরা এগিয়ে এসেছিলেন ‘সিংহের মতো সাহস ও বাজপাখির মতো চোখ’ নিয়ে তাতে রাজ্য দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রবল আলোচিত হয় সংগঠনটি। বামপন্থী ছাত্র-যুব সংগঠনগুলির সদস্যদের নিয়ে তৈরি রেড ভলান্টিয়ার্স ফের সক্রিয়।

সোশ্যাল সাইটে রেড ভলান্টিয়ার্স গ্রুপে বারবার আবেদন জনানো হচ্ছে পরিস্থিতি বুঝে বাইরে বের হওয়ার। ইতিমধ্যেই করোনা আক্রান্তদের বাড়ি বাড়ি যেতে শুরু করেছেন রেড ভলান্টিয়ার্স সদস্যরা। পৌঁছে যাচ্ছে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও ওষুধ। উৎসব চলছে। যে যার মতো আনন্দ করছেন।

শারোদৎসবে প্রবল ভিড় ও উদাসীনতার কারণে করোনা সংক্রমণের বড়সড় আশঙ্কায় বুক কাঁপছে চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। তাঁদের আশঙ্কা, অতি দ্রুত বড়সড় সংক্রমণ ঢেউ আসতে চলেছে। তাঁদের মতে এর কারণ উৎসবে উদাসীন হয়ে ঘোরা অন্যতম কারণ।

Red Volunteers

বিশেষজ্ঞদের অভিমত ও সতর্কতা পেয়েই রেডভলান্টিয়ার্স সদস্যরা আসন্ন যুদ্ধের জন্য তৈরি হয়েছেন। পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার তাঁদের ভূমিকা আরও জবরদস্ত হবে এমনই আশা করছেন সদস্যরা। উৎসবের মাঝেও চলছে করোনা আক্রান্তদের জন্য পরিষেবা।

অভিযোগ, রাজ্য সরকার বাইরে বের হওয়ার নিয়ম শিথিল করতেই মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় বিপদ ডেকে এনেছে। আসন্ন বিপদের সতর্কতা দিতে শুরু করেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট। বলা হয়েছে, উৎসবের মাঝে দেশে ফের বাড়ল দৈনিক করোনা সংক্রমণ। বেড়েছে মৃত্যু। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৮,৯৮৭ জন। মৃত ২৪৬ জন। তবে একদিনে সুস্থ হয়েছেন ১৯,৮০৮ জন। করোনা আক্রান্তের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ সপ্তম স্থানে। রাজ্যে করোনা আক্রান্ত ১৫,৭৮,৪৮২ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৮,৯৩৫ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১৫,৫১,৮৯০জন।

Durga Puja 2021: নবমীতে আত্রেয়ীর বোয়াল, রাইখয়রা মাছেই তুষ্ট হন দেবী

puja of navami paul family of balurghat

বিশেষ প্রতিবেদন: পুজোর প্রায় শেষ লগ্ন। শেষবেলায় উমার খাতির যত্নে ফাঁক রাখলে চলবে না। আবার তো সেই এক বছর পর! পাঁজি বলছে আজ মহানবমী। বাতাসে শিউলি ফুলের গন্ধটাও কেমন মিলিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। মার সামনে নিবেদন করা হল অন্নভোগ,সাথে রাইখোল বা রাইখয়রা আর বোয়াল মাছ।

হচ্ছে বালুরঘাটের ঐতিহ্যবাহী পাল বাড়ির পুজোর।এই পুজোর সঠিক বয়স স্মৃতিতে নেই কারোর। তবুও আনুমানিক ৩৫০ বছর তো হবেই। এই ৩৫০ বছরে আত্রেয়ী তার পথ বদলেছে কতবার! শহরে পরিণত হয়েছে বালুরঘাট। কিন্তু আত্রেয়ীকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই শহরে বদলায়নি পাল বাড়ির ঐতিহ্য। বদলায়নি এই বাড়ির পুজোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শহরবাসীদের উত্তেজনা।

পুজোর সূচনা এক তান্ত্রিকের হাত ধরে। তিনিই আত্রেয়ীর ধারে স্থাপন করেছিলেন পঞ্চমুন্ডির আসন। সেখানে শুরু হয় শক্তির আরাধনা। এলাকায় সেই সময় খুব একটা জনপ্রিয় ছিলনা দুর্গাপুজো। সেইসময় গৌরী পাল ছিলেন বালুরঘাটের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনিই এখানে শুরু করেন দুর্গাপুজো। সেই সময় আটচালা টিনের ছাউনি, আর মাটির বেদীতেই সম্পন্ন হতো পুজো।

তবে সময়ও এগিয়েছে নিজের মতো। একসময় মহাধুমধামভাবে হওয়া পুজোয় আজও আড়ম্বরে কোনোরকম ভাঁটা পড়েনি। প্রায় ৮০ বছর আগে পাল বাড়ির পুজোর দায়িত্বে এগিয়ে আসেন প্রতিবেশীরাও। তাঁরা চাননি,এই ঐতিহ্যবাহী পুজো বন্ধ হোক কোনোভাবেই। সেই থেকেই পুজোর সব দায়িত্ব সামলে আসছেন তাঁরা। প্রায় ৪০ বছর হল তৈরী হয়েছে পাকা পুজো মন্ডপ। গঠন হয়েছে পুজো কমিটিও। পাড়ার সবাই মিলে পুজোর আয়োজন করলেও আজও এই পুজো পালবাড়ির পুজো নামেই বিদ্যমান। থিম পুজোর ছোঁয়াও লেগেছে খানিক, তবে সাবেকিয়ানা এখনো অটুট। শুধু শহরবাসীই নন, পুজোয় হাজির থাকেন দক্ষিণ দিনাজপুরের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষজন। একটি বছর ঘুরে উমা সপরিবারে এল, তাঁকে না দেখলে হয়!

ভক্তদের মনে মায়ের জন্য আলাদা স্থান সবসময়। তাঁদের বিশ্বাস মায়ের কাছে ভক্তি ভরে কিছু চাইলেই মা তার পূর্ণ করেন। এমন কত শত অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী থেকেছে এলাকাবাসী! তবে নবমীর ভোগে থাকে বিশেষত্ব। নয় রকমের ভোগের মধ্যে থাকে রাইখর ও বোয়াল মাছ। তাও পুকুরের রাইখোল নয়, ভোগে প্রয়োজন আত্রেয়ীর রাইখোল মাছই। এটিই পালবাড়ির দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নিয়ম।

দশমীতে এখানে করা হয় না অপরাজিতা পুজো। শুরু থেকেই এই নিয়ম। দশমীতে পান্তাভাতের সাথে পুঁটি মাছ নয়, থাকে রাইখোল মাছ ভাজা। যেখানে যেমন নিয়ম! ইন্টারনেট মাধ্যমেই পুজো দর্শনের ব্যবস্থা ছিল গত বছর। এবারও অন্যথা হয়নি। মাকে ঘরে বসেই প্রণাম সেরেছিলেন ভক্তগণ। প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় এখনো অক্ষুণ্ণ পালবাড়ির পুজোর ঐতিহ্য।

Covid 19 : মণ্ডপে ঘুরে সেলফি তুলছেন গোগ্রাসে মোগলাই খাচ্ছেন, ‘তাতা থৈ থৈ’ নাচছে করোনা

selfie durga puja kolkata

নিউজ ডেস্ক: শারোদৎসবের আনন্দে হামলা করে দিয়েছে অদৃশ্য জীবাণু ঘাতক করোনা (Covid 19)। মৃত্যুদূত রয়েছে আপনার চারপাশে। আপনি মনের আনন্দে মন্ডপ থেকে মণ্ডপে ঘুরে সেলফি তুলছেন, গোগ্রাসে মোগলাই খাচ্ছেন সেই সুযোগে করোনা আপনার নাকের ডগায় আনন্দে ‘তাতা থৈথৈ’ নাচতে শুরু করেছে করোনাভাইরাস।

selfie durga puja kolkata sourav

 

স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট দিচ্ছে অশনি সংকেত। রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশে ফের বাড়ল দৈনিক করোনা সংক্রমণ। বেড়েছে মৃত্যু। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৮,৯৮৭ জন। মৃত ২৪৬ জন। তবে একদিনে সুস্থ হয়েছেন ১৯,৮০৮ জন।

selfie durga puja kolkata

রিপোর্টে বলা হয়েছে দেশে মোট করোনা আক্রান্ত ৩ কোটি ৪০ লক্ষ,২০,৭৩০ জন। মৃত্যু হয়েছে ৪,৫১,৪৩৫ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৩,৩৩,৬২,৭০৯ জন। করোনা আক্রান্তের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ সপ্তম স্থানে। রাজ্যে করোনা আক্রান্ত ১৫,৭৮,৪৮২ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৮,৯৩৫ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১৫,৫১,৮৯০জন।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপূজার মণ্ডপ দর্শনে যেভাবে উৎসাহ ও ভিড় দেখা যাচ্ছে সেটা রীতিমতো চিন্তার। এছাড়া দেশজুড়ে নবরাত্রি ও দশেরা পালিত হচ্ছে। এতেও সংক্রমণ বাড়ছে। উৎসব শেষ হলে ফের করোনা টেস্ট বাড়বে। তখনই সংক্রমিক রোগীর বড়সড় চিত্র সামনে আসবে।

Bangladesh: ‘ধর্মীয় গুজব’ ছড়িয়ে বাংলাদেশে দুর্গামণ্ডপে হামলা, ফের ‘গুলি’ নিহত তিন

temple attacked in Chandpur

নিউজ ডেস্ক: কোনোওভাবেই গুজব রুখতে পারা যাচ্ছেনা। সোশ্যাল সাইটে ধর্মীয় উস্কানিমূলক ছবি ও বার্তার জেরে বাংলাদেশের কুমিল্লা পর এবার চাঁদপুর রক্তাক্ত। স্থানীয় একটি মন্দিরে হামলার চালানো হয়। হামলাকারীদের রুখতে কড়া ভূমিকা নেয় পুলিশ। ‘গুলি’ লেগে ৩ জন মৃত।

বুধবার দিনভর কুমিল্লা ছিল উত্তপ্ত। স্থানীয় নুনুয়ারদিঘি পূজামণ্ডপে কোরান শরিফ রাখা নিয়ে ধর্মীয় গুজব ছড়ায়। আক্রান্ত হয় একাধিক মণ্ডপ। পুলিশ ও প্রশাসন কড়া হাতে হামলাকারীদের দমন করে। কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে জানা যায় এই ঘটনা ছিল ধর্মীয় ষড়যন্ত্র।

এদিকে কুমিল্লা থেকে গুজব সোশ্যাল সাইটে ছড়ায় দ্রুত। সন্ধের পর উত্তেজনা তৈরি হয় চাঁদপুরে। জানা গিয়েছে, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারে লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দিরে হামলা ও ভাংচুর হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে নামে পুলিশ। হামলাকারীদের রুখতে শক্ত ভূমিকা নেয়। জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা, মোতায়েন করা হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।

https://twitter.com/UnityCouncilBD/status/1448228123556732933?s=20

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসকরা জানান, তিনজনের মৃতদেহ এসেছে হাসপাতালে। তবে সংঘর্ষে কারও নিহত হওয়ার বিষয়ে পুলিশ নীরব। মন্দিরে হামলা হয়েছে বলে হাজীগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রুহিদাস বণিক জানিয়েছেন। তিনি জানান, আরও কয়েকটি স্থানে মন্দিরে হামলা হয়েছে।

কুমিল্লার পরিস্থিতি থমথমে। চাঁদপুরও থমথমে। ধর্মীয় উস্কানিমূলক বার্তা কেমন করে ছড়িয়েছিল তার বর্ণনা দিয়েছেন কুমিল্লার কয়েকজন মুসলিম যুবক। সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা তুলে ধরেন দুর্গা মণ্ডপে কেমন করে হামলার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।

বাংলাদেশ ধর্ম মন্ত্রকের জরুরি ঘোষণায় বলা হয়েছে, “কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননা সংক্রান্ত খবর আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। খবরটি খতিয়ে দেখার জন্য ইতোমধ্যে আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করেছি। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে যে কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। সবাইকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।”

Bangladesh: একাধিক দুর্গা মণ্ডপ ভাঙচুরের পিছনে ‘ষড়যন্ত্র’, শেখ হাসিনার কড়া পদক্ষেপ

Invisible intelligence surveillance at Durga Puja

নিউজ ডেস্ক: ‘ধর্মীয় উস্কানি’ দিয়ে কুমিল্লায় পরপর দুর্গা মণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুরের পর বাংলাদেশ (Bangladesh) সরকার কড়া পদক্ষেপ নিল। যে কোনও পরিস্থিতিতে পুলিশকে কঠোর ভূমিকা নেওয়ার নির্দেশ জারি হয়েছে। কোনও সংখ্যালঘু হিন্দুর আশঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, সরকার সবার নিরাপত্তা বজায় রাখবে এমনই বার্তা দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কুমিল্লার ঘটনায় যারা জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে, কেউ ছাড় পাবে না। 

বুধবার দুর্গাপূজার অষ্টমী। দিনভর কুমিল্লায় চলে তাণ্ডবলীলা। অভিযোগ, স্থানীয় নানুয়ারদীঘি এলাকার একটি পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরান শরিফ রাখা ছিল মূর্তির কাছে। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এর জেরে একের পর এক মণ্ডপ ভাঙচুর হয়।

https://twitter.com/UnityCouncilBD/status/1448228123556732933?s=20

বিবিসি জানাচ্ছে, হামলা ছড়িয়ে পড়ার পর দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিশৃঙ্খলা রুখতে পুলিশ গুলি চালায় বলে অভিযোগ। বেশ কয়েকজন জখম হন।

মণ্ডপগুলিতে হামলার কিছু পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্থানীয় কয়েকজন মুসলিম যুবক তুলে ধরেন কেমন করে দুর্গাপূজার সময় ‘ধর্মীয় বিদ্বেষ’ ছড়ানো হয়েছে। সেই বিবরণ ভাইরাল হয়।

তদন্তে নেমে কুমিল্লা জেলা পুলিশ মন্ডপ থেকে উদ্ধার করে সেই ধর্মগ্রন্থ। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে কয়েকজন মিলে মণ্ডপে ঢুকে কোরান শরিফ রেখে এসেছিল। সেই ছবি দেখিয়ে বুধবার সকাল থেকে উত্তেজনা ছড়ানো হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি টহল দিচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বাহিনি (BGB)।

বাংলাদেশ ধর্ম মন্ত্রকের জরুরি ঘোষণায় বলা হয়েছে, “কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননা সংক্রান্ত খবর আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। খবরটি খতিয়ে দেখার জন্য ইতোমধ্যে আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করেছি। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে যে কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। সবাইকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।”

Durga Puja 2021: করোনাবিধি মেনে জয়রামবাটিতে কুমারী পুজো

অনলাইন ডেস্ক: করোনা আবহের মধ্যেও যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন, সামাজিক দূরত্ব বজায়, সরকারী নিষেধাজ্ঞা, সর্বোপরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুমারী পুজো অনুষ্ঠিত হলো জয়রামবাটি মাতৃমন্দিরে৷ শ্রী শ্রী সারদা মায়ের জন্মস্থান বাঁকুড়ার জয়রামবাটিতে ভোর ৫.৩০ মিনিটে অষ্টমীর পুজো শুরু হয়। ঠিক সকাল ৯ টায় শুরু হয় কুমারী পুজো। 

এবার জয়রামবাটি মাতৃমন্দিরে দেবী রূপে পূজিতা হলেন ৫ বছর ১০ মাসের আরুশা মুখার্জী। প্রসঙ্গত, আরুশা মুখার্জী সারদা মায়ের বংশজ শান্তিনাথ মুখার্জীর নাতনি।

প্রথানুযায়ী জয়রামবাটির সারদা মায়ের আদি বাড়ি থেকে সিংহাসনে শোভাযাত্রা সহকারে মঠের সন্ন্যাসীরা কুমারীকে নিয়ে মাতৃ মন্দিরের মণ্ডপে আসেন। সেখানেই মন্ত্রোচারণের মধ্যে দিয়ে চলে কুমারী পুজো।

জয়রামবাটি মাতৃমন্দিরে প্রতি বছর দুর্গাপুজোর চার দিন অসংখ্য দর্শনার্থী আসেন। কুমারী পুজো উপলক্ষ্যে অষ্টমীর সকালে সেই সংখ্যা আরো কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এবার সেই সুযোগ নেই। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে সমারোহ ও মণ্ডপ ছাড়াই নাট মন্দিরে পুজো হচ্ছে। দর্শনার্থীদের প্রবেশের উপরেও আছে নিষেধাজ্ঞা। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো এলাকা জুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Bangladesh: পূজামণ্ডপে হামলা, গোষ্ঠী সংঘর্ষ রুখতে ‘গুলি’ চালাল বাংলাদেশ পুলিশ

bangladesh police

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) সংখ্যালঘুদের দুর্গাপূজা অনুষ্ঠান ঘিরে সংঘর্ষে উত্তপ্ত কুমিল্লা। বিবিসি জানাচ্ছে, কুমিল্লা শহরের একটি পূজামণ্ডপ থেকে অন্য এক ধর্মের গ্রন্থ মিলেছে। অভিযোগ, ধর্মীয় গ্রন্থের অবমাননা করা হয়েছে ওই পূজামণ্ডপে। বিবিসি জানাচ্ছে, ওই ধর্মগ্রন্থ অবমাননার অভিযোগে বেশ কয়েকটি পূজামণ্ডপে হামলা হয়।

হামলা ছড়িয়ে পড়ার পর দ্রুত পুলিশ যায় কুমিল্লার নানুয়ারদীঘি এলাকার একটি পূজামণ্ডপে। হামলা ও বিশৃঙ্খলা রুখতে পুলিশ গুলি চালায় বলে অভিযোগ। বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। কয়েকটি মণ্ডপ ভাঙচুর হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চলছে।তবে সোশ্যাল সাইটে একের পর এক ধর্মীয় উস্কানিমূলক বার্তা ও ছবি প্রকাশ করতে থাকে বিভিন্ন গোষ্ঠী। তার জেরে আরও ছড়ায় হামলা।

কুমিল্লা শহর অগ্লিগর্ভ। দুপুরের পর থেকে বন্ধ হয়ে গিয়েছে দোকান বাজার। বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ বাহিনী টহল শুরু করেছে।

Bangladesh: ঢাকায় হয়নি কুমারীপূজা, বন্ধ হচ্ছে বিসর্জন শোভাযাত্রা

bangladesh durga puja

নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপূজার কিছু নিয়মাচারের ব্যাতিক্রম এবারেও থাকছে বাংলাদেশে। রাজধানী ঢাকার বিখ্যাত ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির ও রামকৃষ্ণ মিশন সহ কোনও পূজা মন্ডপে হয়নি কুমারীপূজা।

জনসমাগম এড়াতে অষ্টমী তিথিতে ঢাকায় হচ্ছে না কুমারীপূজা। মূলত এবার উৎসব সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরিহার করে সাত্ত্বিক পূজায় সীমাবদ্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

জানানো হয়েছে, কোনও আরতি প্রতিযোগিতা হবে না, বসবে না মেলা। দশমীতে হবে না বিজয়ার শোভাযাত্রাও। তাই এবারের দুর্গোৎসবকে দুর্গাপূজা হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে।

পূজা উদযাপন পরিষদ জানায়, এবার প্রতিমা অন্যান্য বছরের মতো ঢাকেশ্বরী মন্দির এলাকায় জড়ো করা হবে না। প্রত্যেক মণ্ডপ থেকেই প্রতিমা নিয়ে বিসর্জন দেওয়া হবে। আগে প্রতি মণ্ডপ থেকে ট্রাকে করে দুর্গা প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হতো বিসর্জনের জন্য। এবার একটি ট্রাকে করে বাড়তি লোক না নিয়ে প্রতিমা বিসর্জনের নির্দেশ থাকছে।

মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে গত সোমবার শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী সর্বজনীন শারদীয় দুর্গোৎসব। বিজয়া দশমীতে দেবী বিসর্জনের মধ্য দিয়ে আগামী ১৫ অক্টোবর দুর্গোৎসব শেষ হবে।

Durga Puja 2021: আর্থিক অসঙ্গতিকে হার মানিয়ে ওপার বাংলায় আজও বর্তমান রণদা প্রসাদের পুজো

The historical puja of bangladesh

বিশেষ প্রতিবেদন : আর্থিক অসঙ্গতির জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এই বাড়ির প্রায় ৩০০ বছরের ঐতিহ্যের দুর্গাপূজা। কিন্তু পরিবারের এক সদস্যের ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে তিনি ফিরে আসেন সেখানেই। এমনই ইতিহাস নিয়ে আজও মহা সমারোহে দুর্গা পুজিতা হন বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়িতে।

জানা যায়, রণদা প্রসাদের পূর্বপুরুষেরাও বাড়িতে দুর্গাপূজা করতেন। কিন্তু হঠাৎ করেই আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। ফলে বন্ধ হয়ে যায় দুর্গাপূজা। শৈশবে মাতৃহারা রণদা প্রসাদ সাহার মাতৃভক্তি ছিল সাধারণের চেয়ে একটু বেশি। মা না থাকায় অনাদরে বড় হওয়ায় রণদা মাত্র ১৬ বছর বয়সে পালিয়ে আসেন কলকাতায়। অপরিচিত কলকাতায় তার কোনো আশ্রয় ছিল না। জীবনধারণের জন্য কুলিগিরি, রিকশা চালানো, ফেরি করা, খবরের কাগজ বিক্রির মতো কাজ করেছেন তিনি।

কলকাতায় তখন কাজের সন্ধানে ছুটে আসা ভুখানাঙ্গা মানুষের ভিড়। গ্রামের পর গ্রাম উজাড় করে দেয় ম্যালেরিয়া। এর মাঝেই তিনি জড়িয়ে পড়েন স্বদেশি আন্দোলনে। মানুষের দুর্দশা লাঘবের জন্য বিপ্লবের দীক্ষা পথ বেছে নেন। এজন্য তাকে কারাভোগও করতে হয়।১৯১৪ সাল। সারা বিশ্বে মহাযুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের নেতা সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বিপ্লবীদের আহ্বান জানালেন ইংরেজদের হয়ে বিশ্বযুদ্ধে লড়াই করার জন্য। স্বেচ্ছাসেবী বেঙ্গল অ্যাম্বুলেন্স কোরের হয়ে যুদ্ধে নামেন রণদা প্রসাদ সাহা। ব্রিটিশ সেনাদের তখন দারুণ খাদ্যাভাব। নানা রোগে আক্রান্ত তারা। রণদা আহত সৈনিকদের সেবায় ডুবে যান।

বৃটিশ সরকার প্রথম মহাযুদ্ধ থেকে ফিরে আসা ভারতীয়দের সবাইকে যোগ্যতা অনুসারে চাকরি দিয়েছিল। লেখাপড়া সামান্য হলেও যুদ্ধে তার অবদানের কথা বিবেচনা করে রেলওয়ের কালেক্টরের চাকরি দেওয়া হয়েছিল রণদাপ্রসাদকে। কর্মস্থল ছিল সিরাজগঞ্জ থেকে শিলাইদহ।

এক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে পড়ার জেরে ১৯৩২ সালে ওই চাকরিতে ইস্তফা দেন। ক্ষতিপূরণ হিসেবে যে টাকাটা পান তা দিয়ে শুরু করেন কয়লার ব্যবসা। ফুলেফেঁপে ওঠে ব্যবসা। নিজের বাড়ির মন্দিরে জমজমাট আয়োজনে পূর্বপুরুষের করা দুর্গাপূজা পুনরায় শুরু করেন। শুধু পূজা নয়, পূজাকে কেন্দ্র করে যাত্রাপালা, নাটক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করতে শুরু করেন, যা আজও বহাল তবিয়তে বর্তমান। সেই সময়ে দরিদ্র মানুষদের বস্ত্র বিতরণ করা হতো। পূজার সময় ১২ জোড়া ঢাকি ঢাক বাজাতেন, আন্ধরা গ্রামের রশিক ভবনের পেছনে প্রায় ৬০ ফুট উঁচুতে তৈরি করা নহবতখানা থেকে সানাই বাজানো হতো।

স্বাধীনতার পর নহবতখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। বছর ছয়েক আগে নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে নহবতখানা। ১৯৭১ সালের ৭ মে রণদা প্রসাদ সাহা ও তাঁর ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহাকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ধরে নিয়ে যায়। তারপর তাঁরা আর ফিরে আসেননি। অনেকেই সে সময় ভেবেছিলেন বাবা-ছেলের অন্তর্ধানের মধ্যদিয়ে জাঁকজমক পূজার আয়োজনও হারিয়ে যাবে। কিন্তু তা হয়নি।’ ৭২ সালে তাঁর বড় মেয়ে জয়া পতি কুমুদিনী কল্যাণ ট্রাস্টের দায়িত্ব নেন। তিনি তাঁর বাবার মতোই আয়োজন অব্যাহত রাখেন। আর রণদা প্রসাদ সাহার নাতি রাজিব প্রসাদ সাহা এখন কুমুদিনী কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান।

তিনি বর্তমানে পূজার আয়োজনে এনেছেন আরও বর্ণাঢ্যতা। আজ তিনি নেই, কিন্তু সেই আয়োজন আছে। এ বাড়ির পূজার আয়োজনটা এখনো অন্য আর দশটি পূজামণ্ডপের মতো নয়। পঞ্চমীর দিনে সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে পূজা শুরু হয়। প্রতিদিন নাচ, গান, আরতিসহ নানা আয়োজন থাকে।তাই আজও এখানে পূজা দেখতে আসেন রাজনীতিক, সরকারি পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে কূটনীতিক, দেশবরেণ্য ব্যক্তি, শিল্পী, সাহিত্যিকসহ সব শ্রেণীর মানুষ। বিজয়া দশমীতে নৌকার করে লৌহজং নদী ঘুরে দেবী দুর্গাকে বিসর্জন দেওয়া হয়।

Durga Puja 2021: পুজোর মাত্র চার পাঁচদিনের আগে বেলুড়ে দুর্গোৎসবের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন স্বামীজী

belur math by swamiji

বিশেষ প্রতিবেদন: ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে স্বামী বিবেকানন্দ বেলুড় মঠে প্রথম দুর্গাপুজো করলেন। আর সেই থেকেই বেলুড় মঠে দুর্গাপুজোর প্রচলন হল। কিন্তু কীভাবে শুরু হয়েছিল সেই পুজো?

বেলুড় মঠ প্রতিষ্ঠার আগে থেকেই স্বামী বিবেকানন্দের মনে ইচ্ছে ছিল যে তিনি বেলুড়মঠে দুর্গাপুজো করবেন। কিন্তু নানা কারণে তা আর হয়ে উঠছিল না। ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে বেলুড়মঠ প্রতিষ্ঠার পর স্বামীজী প্রায়ই তাঁর প্রিয় বেলগাছতলায় বসে সম্মুখে প্রবাহিতা গঙ্গার দিকে তাকিয়ে আপন মনে গাইতেন, “বিল্ববৃক্ষমুলে পাতিয়া বোধন/গণেশের কল্যাণে গৌরীর আগমন।/ঘরে আনব চণ্ডী, কর্ণে শুনব চণ্ডী,/আসবে কত দণ্ডী, জটাজুটধারী।…”

১৯০১ সালের মে-জুন মাস। স্বামীজির অন্যতম গৃহী শিষ্য শরচ্চন্দ্র চক্রবর্তী বেলুড়মঠে এলে বিবেকানন্দ তাঁকে ডেকে রঘুনন্দনের ‘অষ্টবিংশতি তত্ত্ব’ বইটি কিনে আনার জন্য বললেন। শরচ্চন্দ্র চক্রবর্তী কৌতূহলী হয়ে প্রশ্ন করলেন, ‘আপনি রঘুনন্দনের বইটি নিয়ে কি করবেন?’ স্বামীজি বলেছিলেন, ‘এবার মঠে দুর্গোৎসব করবার ইচ্ছে হচ্ছে। যদি খরচ সঙ্কুলান হয় ত মহামায়ার পুজো করব। তাই দুর্গোৎসব বিধি পড়বার ইচ্ছা হয়েছে। তুই আগামী রবিবার যখন আসবি তখন ঐ পুস্তকখানি সংগ্রহ করে নিয়ে আসবি।’ যথাসময়েই শরচ্চন্দ্র চক্রবর্তী বইখানি বিবেকানন্দকে এনে দিয়েছিলেন। চার-পাঁচ দিনের মধ্যে বইটি পড়া শেষ করে বিবেকানন্দ তাঁর স্নেহভাজন শিষ্যের সঙ্গে আবার দেখা হতেই জানিয়েছিলেন, ‘রঘুনন্দনের স্মৃতি বইখানি সব পড়ে ফেলেছি, যদি পারি তো এবার মার পূজা করব।’

এরপর দীর্ঘদিন কেটে যায়। পুজোর সময়ও এসে যায়। কিন্তু পুজোর এক সপ্তাহ আগেও এ নিয়ে কোনও কথাবার্তা বা উদ্যোগ দেখা গেল না। হয়ত এ বারও বিবেকানন্দের ইচ্ছাটির পূরণ হল না। কিন্তু হঠাৎই একদিন, তখন পুজোর আর মাত্র চার-পাঁচ দিন বাকি, স্বামীজি কলকাতা থেকে নৌকা করে বেলুড়মঠে ফিরেই ‘রাজা কোথায়? রাজা কোথায়?’ বলে স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজের খোঁজ করতে লাগলেন। (স্বামী ব্রহ্মানন্দকে স্বামী বিবেকানন্দ রাজা বলে সম্বোধন করতেন)। স্বামী ব্রহ্মানন্দকে দেখতে পেয়েই বিবেকানন্দ বলে উঠলেন, ‘এবার মঠে প্রতিমা এনে দুর্গাপূজা করতে হবে, তুমি সব আয়োজন করে ফেলো।’ সবে আর মাত্র চার-পাঁচটা দিন বাকি রয়েছে। এত কম সময়ের মধ্যে সব আয়োজন কীভাবে করবেন, প্রতিমাই বা পাওয়া যাবে কি না, এই সব ভেবে ব্রহ্মানন্দজী স্বামীজির কাছে দুটো দিন সময় চাইলেন। স্বামীজি বললেন, ‘আমি ভাব-চক্ষে দেখেছি এবার মঠে দুর্গোৎসব হচ্ছে এবং প্রতিমায় মার পূজা হচ্ছে।’

তখন স্বামী ব্রহ্মানন্দজীও তাঁর এক অদ্ভুত দর্শনের কথা স্বামী বিবেকানন্দকে জানালেন। দিন চারেক আগের ঘটনা। ব্রহ্মানন্দজী বেলুড়মঠের গঙ্গাতীরে বসেছিলেন। হঠাৎই দেখলেন দক্ষিণেশ্বরের দিক থেকে মা দুর্গা গঙ্গা পার হয়ে মঠের বেলগাছতলায় এসে উঠলেন।

স্বামীজি আর ব্রহ্মানন্দ মহারাজের মধ্যেকার এই সব কথাবার্তা বেলুড়মঠের অন্যান্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পরতেই বেশ হই হই পড়ে গেল। ব্রহ্মানন্দ মহারাজ ব্রহ্মাচারী কৃষ্ণলালকে কলকাতার কুমারটুলিতে পাঠালেন কোনও প্রতিমা পাওয়া যাবে কি না দেখে আসতে। আর কী আশ্চর্য! ব্রহ্মচারী কৃষ্ণলাল কুমারটুলিতে গিয়ে দেখলেন যে মাত্র একটিই সুন্দর প্রতিমা সেখানে অবশিষ্ট রয়েছে। যিনি বা যাঁরা সেই প্রতিমাটি তৈরি করতে দিয়েছিলেন, সে দিনও পর্যন্ত তাঁরা সেটি নিতে আসেননি। ব্রহ্মচারী কৃষ্ণলাল শিল্পীকে ওই প্রতিমাটি পাওয়া যাবে কি না জিজ্ঞাসা করতে শিল্পী একটি দিন দেখে নেওয়ার সময় চাইলেন। বেলুড়মঠে ফিরে এসে এই খবর স্বামী বিবেকানন্দকে জানাতেই তিনি ব্রহ্মচারী কৃষ্ণলালকে বললেন, ‘যেমন করেই হোক তুমি প্রতিমাখানি নিয়ে আসবে।’

পরের দিন স্বামী বিবেকানন্দ স্বয়ং ব্রহ্মচারী কৃষ্ণলাল ও স্বামী প্রেমানন্দকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতায় শ্রীশ্রীমাতাঠাকুরাণীর দেবীর কাছে গেলেন বেলুড়মঠে দুর্গাপুজো করার অনুমতি চাইতে। শ্রীশ্রীমা সানন্দে অনুমতি দিলেন, শুধু পশুবলি দিতে নিষেধ করলেন। ইতিমধ্যে স্বামী প্রেমানন্দ কুমারটুলিতে সেই প্রতিমা শিল্পীর কাছে গিয়ে দেখলেন প্রতিমাটি সে দিনও কেউ নিতে আসেনি। তিনি প্রতিমা শিল্পীর সঙ্গে সমস্ত কথাবার্তা ঠিক করে প্রতিমাটি বায়না করে এলেন। অন্যদিকে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজ পুজোর সমস্ত আয়োজন করে ফেললেন।

সেবার দুর্গাপুজোর তিথি পড়েছিল কার্তিক মাসে। ১লা কার্তিক, শুক্রবার (১৮ই অক্টোবর) ছিল ষষ্ঠী। তার আগের দিন অর্থাৎ পঞ্চমীর দিন ব্রহ্মচারী কৃষ্ণলাল, স্বামী নির্ভয়ানন্দ এবং আরও কয়েক জন সন্ন্যাসী ও ব্রহ্মচারী মিলে কুমারটুলি থেকে নৌকা করে দুর্গা প্রতিমাখানি মঠে নিয়ে এলেন। মঠের উত্তর দিকের জমিতে দুর্গাপুজোর এক বিরাট মণ্ডপ বানানো হয়েছিল। কিন্তু প্রতিমাখানি সেখানে না নিয়ে গিয়ে ঠাকুর ঘরের নীচতলার দালানে রাখা হল। এর কিছুক্ষণ বাদেই আকাশ ভেঙে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি শুরু হল। তবে তাতে প্রতিমা বা মণ্ডপের কোনও ক্ষতি হয়নি।

ষষ্ঠীর দিন সকালে বাগবাজার থেকে শ্রীশ্রীমাতাঠাকুরাণী তাঁর অন্যান্য ভক্তদের নিয়ে বেলুড়মঠে চলে এলেন। তাঁর থাকবার ব্যবস্থা হয়েছিল নীলাম্বর মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে। বলা হয় যে সন্ন্যাসীদের কোনও পুজো বা বৈদিক ক্রিয়াকাণ্ডে অধিকার নেই। কেননা তাঁরা সর্বত্যাগী। তাই শ্রীশ্রীমাতাঠাকুরাণীর নামেই পুজোর সংকল্প করা হয়েছিল। আজও বেলুড়মঠের পুজোয় শ্রীশ্রীমায়ের নামেই সংকল্পের প্রথা অব্যাহত রয়েছে। স্বামীজির প্রিয় বেলগাছতলাতে বোধন অনুষ্ঠান হল। এরপর ঠাকুর দালান থেকে প্রতিমাকে মণ্ডপে এনে স্থাপন করা হল। যেন মহোৎসব শুরু হল। অধিবাস, ষষ্ঠীর পুজো ইত্যাদি। শ্রীশ্রীমাতাঠাকুরাণীর অনুমতি নিয়ে পুজো করতে বসলেন ব্রহ্মচারী কৃষ্ণলাল। সঙ্গে তন্ত্রধারকরূপে ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র ভট্টাচার্য।

২রা কার্তিক (১৯ অক্টোবর) শনিবার ছিল সপ্তমীপুজো। স্বামী বিবেকানন্দ ওই দিন যেন ছিলেন পূর্ণ আনন্দে উজ্জীবিত। কখনও এ দিক ও দিক পায়চারি করে সবকিছু তদারকি করছেন, কখনও বা মণ্ডপে বসে সকলের সঙ্গে হাসি গল্পে মেতেছেন। কিন্তু ৩ কার্তিক (২০ অক্টোবর) রবিবার মহাষ্টমীর দিন তিনি অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়লেন। সেদিন আর মণ্ডপেই আসতে পারলেন না। দোতলায় নিজের ঘরে ভীষণ জ্বরে শস্যাশায়ী থাকলেন। তবে ৪ঠা কার্তিক (২১শে অক্টোবর) সোমবার ভোরবেলা সন্ধিপুজোর সময় স্বামীজী মণ্ডপে এসে বসলেন। শ্রীশ্রীদুর্গামায়ের পাদপদ্মে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করলেন।

এরপর কয়েকজন কুমারীর পুজো হল, স্বামীজীর অনুরোধে গৌরী মা (শ্রী রামকৃষ্ণদেবের মন্ত্র শিষ্যা ও একমাএ সন্ন্যাসিনী শিষ্যা, প্রথম নারী মঠ শ্রী শ্রী সারদেশ্বরী আশ্রমের প্রতিষ্ঠাএী ) কুমারী পূজার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। পাদ্য- অর্ঘ- শঙ্খবলয় – বস্ত্রাদি দিয়ে স্বামীজী নয়জন কুমারীকে পূজা করেন । স্বামীজী সেই সকল কুমারীদিগকে ভূমিষ্ঠ হয়ে প্রণাম করেন। ভাবাবস্থায় একজন কুমারীকে ( শ্রীশ্রীমাতাঠাকুরাণীর মন্ত্র শিষ্যা ও একমাএ সন্ন্যাসিনী শিষ্যা, সারদেশ্বরী আশ্রমের দ্বিতীয় অধ্যক্ষা দূর্গা পুরী দেবী ) কপালে রক্তচন্দন পড়াবার সময় স্বামীজী শিহরিয়ে উঠে বলেছিলেন- “আহা দেবীর তৃতীয় নয়নে আঘাত লাগে নি তো।” উক্ত কুমারীদের মধ্যে রামলাল দাদার কনিষ্ঠা কন্যা রাধারানীও অন্যতমা ছিলনে । শ্রীশ্রীমাতাঠাকুরাণীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং এই দিন রামলাল দাদার জ্যেষ্ঠা কন্যা কৃষ্ণময়ীদিদিকেএবং আরও কয়েকজন সধবাকেও ‘এয়োরানী পূজা’ করেন। সে এক অপূর্ব দৃশ্য। ওই দিনই মহানবমীর সন্ধ্যায় আরতির পর স্বামীজী একের পর এক ভজন গাইলেন।

৫ই কার্তিক (২২শে অক্টোবর) মঙ্গলবার ছিল বিজয়া দশমী। পুজোর অন্যান্য দিনগুলির মতো বিকেল বেলা প্রতিমা নিরঞ্জন দেখতেও অসংখ্য মানুষের ভিড় হয়েছিল। শ্রীশ্রীমাতাঠাকুরাণী দুর্গাপ্রতিমা বরণ করলেন, বরণের সময় শ্রীশ্রীমায়ের দুচোখ বেয়ে জলের ধারা প্রবাহিত হচ্ছিল। তিনি বরণ শেষে ঘরের মেয়ে উমা কে চিবুক ধরে চুমো খেয়ে বিদায় জানলেন এবং পরের বছর পুনরায় আসার কথাও তাঁর কানে কানে বলে দিলেন। এরপর ঢাক-ঢোলের বাজনার সঙ্গে সঙ্গে ভক্ত, ব্রহ্মচারী, সন্ন্যাসীগণ সবাই মিলে “মহামাঈ কী জয়”, “দুর্গা মাঈ কী জয়” ধ্বনি দিতে দিতে প্রতিমাকে নৌকায় ওঠালেন। কেউ কেউ তখন বাজানার তালে তালে নাচছিলেন। এমন সময় স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজও এসে নৌকায় উঠলেন। তারপর প্রতিমার সামনে ভাবে বিভোর হয়ে নৃত্য করতে লাগলেন। অসুস্থতার জন্য স্বামীজী দশমীর দিনও দোতলার ঘর থেকে নিচে নামেননি। কিন্তু স্বামী ব্রহ্মানন্দ নৌকায় নাচছেন শুনে আর থাকতে পারেননি।

গঙ্গার ঢেউয়ে ঢেউয়ে ঢাক,ঢোল, কাঁশির তালে তালে নৌকা এগিয়ে চলেছে প্রতিমা নিরঞ্জনের। মাঝে মাঝে সমবেত ধ্বনি উঠছে “দুর্গা মাঈ কী জয়” আর এসবের মাঝেই তুমুল ভাবে বিভোর হয়ে স্বামী ব্রহ্মানন্দজী নেচে চলেছেন। দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে হাসি হাসি মুখে স্বামীজী এই দৃশ্য দেখতে লাগলেন। এইভাবেই বেলুড়মঠের প্রথম দুর্গোৎসবের সমাপন ঘটল। আজ স্বামীজির করা সেই দুর্গোৎসব এক মহীরুহে রূপান্তরিত হয়েছে। সারা পৃথিবী থেকে ভক্তেরা আসেন এই মহোৎসবে সামিল হতে। স্বামীজি বিশ্বকে জ্যান্ত দুর্গার পূজা দেখাতে চেয়েছিলেন তা তিনি করে দেখিয়েও ছিলেন। পরবর্তী কালে ব্রহ্মানন্দজী বলেছিলেন এই পূজা আমাদের শ্রীশ্রীমাতাঠাকুরাণীরই পূজা মৃণ্ময়ী প্রতিমায়। তিনি এবার সব অস্ত্র রেখে দুইহাত কোলে রেখে এসেছেন “অভয়া” রূপে। তিনিই আমাদের দুর্গোৎসবের প্রাণপ্রতিমা। 

তথ্যসূত্র : সারদা রামকৃষ্ণ , মঠে স্বামীজী দূর্গা পূজা।

কামান ফাটল, কৈলাস থেকে দুর্গা এলেন কাঠমাণ্ডুতে

নিউজ ডেস্ক: বড়া দাসিন শুরু নেপালে। দাসিন অর্থাত দুর্গাপূজা। দাসিনের সপ্তম দিনে হয় আনুষ্ঠানিক দুর্গা বরণ। অনুষ্ঠানের নাম ফুলপাতি। বিশ্বে একমাত্র গণতান্ত্রিক নেপালেই সামরিক মর্যাদায় বা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দুর্গা বরণ করা হয়। প্রাচীন বন্দুক থেকে বারুদ ঠিকরে এলো। পুরনো কামান থেকে গোলা দাগা হলো। পুরনো রীতি মেনে সামরিক মর্যাদায় নেপালি সেনা বরণ করল দেবী দুর্গা। কাঠমাণ্ডুর তুন্ডিখেল ময়দানে মূল কুচকাওয়াজ হয়। অনুষ্ঠানে সামরিক অভিবাদন গ্রহণ করেন নেপালে নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যাদেবী ভান্ডারি। অত্যাধুনিক কপ্টার থেকে ফুল বর্ষণ করা হয়।

Pakistan: নবরাত্রি পোশাক ঝলকে চমক পাকিস্তানি ললনাদের

Navratri festival in pskistan

নিউজ ডেস্ক: ধর্ম অবমাননা আইনের ঘেরাটোপে পাক সংখ্যালঘুরা বারবার বিপদে পড়েন। চাপিয়ে দেওয়া মামলায় মৃত্যুভয় থাকে। কারণ এই আইনের চরম শাস্তি মৃত্যুদন্ড। পাকিস্তানের (Pakistan) সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত বলেই বিশ্বজোড়া সমালোচনা হয়। 

তবে পাকিস্তানি সংখ্যালঘুদের প্রধান দুই উৎসব নবরাত্রি ও দীপাবলীতে চমক থাকে। সেই চমক পোশাকে প্রবল। বিশেষত মহিলাদের পোশাকে।

Navratri festival in pskistan

সোশ্যাল সাইটে নবরাত্রি উপলক্ষে পাকিস্তানি ললনাদের পোশাক ঝলক আলোড়ন ফেলেছে। দেশটির সিন্ধ প্রদেশর করাচি, পাঞ্জাব প্রদেশের লাহোর, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের পেশোয়ার, বালোচিস্তান প্রদেশের কোয়েটা সহ সর্বত্র নবরাত্রি পালিত হচ্ছে।

Navratri festival in pskistan

উৎসব উপলক্ষে পাক সরকার দিয়েছে শুভেচ্ছাবার্তা। নাশকতা রুখতে আছে বিশেষ নিরাপত্তা। পাকিস্তানের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বড় অংশ থাকেন সিন্ধ প্রদেশে। প্রাদেশিক রাজধানী করাচির বিখ্যাত স্বামীনারায়ণ মন্দির ঘিরে নবরাত্রি পালিত হচ্ছে।

Durga Puja 2021: রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দ-সারদা দেবীর পদধূলিতে ধন্য এই পরিবারের দুর্গাদালান

ramkrishna-vivekananda-sarada devi durga puja

বিশেষ প্রতিবেদন: এ বাড়ির দুর্গা দালানে পা পড়েছে শ্রী রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, এবং সারদা দেবীর। আর সেই সূত্রেই বাড়ির সদস্য মজেন রামকৃষ্ণ প্রেমে। নরেন্দ্রনাথের সঙ্গে ধুনি জ্বেলে নেন দীক্ষা। এমনই ইতিহাস আঁটপুরের ঘোষ পরিবারের বড় তরফের বাবুরাম ঘোষের পুজোর।।

হুগলী জেলার বর্ধিষ্ণু গ্রাম আঁটপুরের ঘোষ পরিবারের ২৯০ বছরের প্রাচীন দুর্গাপূজা । আঁটপুরের ঘোষ পরিবারের বড় তরফের বাবুরাম ঘোষ সেই ১৮৮৬ খ্রীষ্টব্দের ২৪ শে ডিসেম্বর শীতের রাতে নিজের বাড়ির সামনে অশ্বত্থ গাছের তলায় ধুনি জ্বেলে সংকল্প করেছিলেন শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণদেবের শিষ্যত্ব নেবেন। তিনি একা নন। সঙ্গে ছিলেন আরও আট জন। তাঁরা হলেন — (দীক্ষার পরের নাম) — বিবেকানন্দ, অভেদানন্দ, শিবানন্দ, অখন্ডানন্দ, ত্রিগুণ্যাতীতানন্দ, সারদানন্দ, নিরঞ্জনানন্দ এবং শশি মহারাজ। বাবুরামের পরিচয় হ’ল …. স্বামী প্রেমানন্দ হিসেবে। …তবে সেই… অশ্বত্থ গাছ আজ আর নেই। নেই অবিকল সেই পরিবেশ। কিন্তু সেই পবিত্রস্থানে দাঁড়িয়ে আছি ভাবলে গৌরব বোধের শিহরণে গায়ে কাঁটা দেয়। প্রেমানন্দ তাঁদের অংশের বাড়ি জমিজমা পুকুর সবই দান করে যান রামকৃষ্ণ মিশনকে। তাঁর সেই বাড়িতেই এখন শ্রীরামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ। তৈরি হয়েছে ধুনিমন্ডপ, দুর্গাপূজার নাটমঞ্চ, সাধুদের আবাসন, প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র ইত্যাদি।

এগুলি হবার বহু আগেই শ্রী রামকৃষ্ণ এখানে পদার্পণ করেছিলেন ১৮৫৪ – ৫৫ সালের দুর্গাপূজায়। মা সারদা ১৮৮৯ ও ১৮৯৪ এ। এবং স্বামী বিবেকানন্দ ১৮৮৬, ১৮৮৭ ও ১৮৮৯ তে। শ্রীরামকৃষ্ণ দেবের ভক্তজনের কাছে আঁটপুর তাই এক মহাস্মৃতিতীর্থ। ৫০০ বছরের ইতিহাসে যাঁদের সংস্কৃতি দ্যোতনার অজস্র সাক্ষ্য এখনও অসামান্য। বাবুরাম ঘোষ (স্বামী প্রেমানন্দ) এর পরিবার বড় ঘোষ বাড়ি… আজকের রামকৃষ্ণ মিশনের অন্তর্ভুক্ত।।

ছোট ঘোষ বাড়ির ঐতিহ্য পূর্ণ দুর্গাপূজো শুরু হয়েছিল ১১৪৯ বঙ্গাব্দের বা ১৭৩২ খ্রীষ্টাব্দে। রামধন ঘোষ এই পূজোর প্রচলন করেন।প্রথম দিকে কাঠ- বাশ- খড়ের আটচালা য় পূজা শুরু হয়েছিল। পরবর্তী কালে তাহা জীর্ণ হয়ে যাওয়ার ,১২২২ সালে এই পাকা দালান নির্মিত হয়। এই পরিবারের … স্বর্গীয় রাম সুধীর ঘোষের পুত্র স্বর্গীয় রাম সুনীল ঘোষ অত্যন্ত নিষ্ঠা পুর্বক দায়িত্ব নিয়ে ঐতিহ্য বহন করেছিলেন।স্ব্র্গীয় রামবহ্ম ঘোষের পরিবার ও এই পূজোর সাথে যুক্ত ছিলেন।

বর্তমানে রামতপন, রামশঙ্কর,রাম রতন, রাম অরুণ, রাম দেবব্রত, রাম কমল, রাম রাতুল,রাম রাহুল, রাম গৌরব, রাম অনিন্দ্য, রাম দেবদূত, রাম রুদ্রাদিত‍্যদের ঐকান্তিক প্রয়াসে পারিবারিক দুর্গোৎসব টিকে ২৯০ বছরের মান্যতায় এনেছেন। ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্রীশ্রীরাজরাজেশ্বর ট্রাস্টী তৈরী করে দেবত্তর সম্পত্তির আয় থেকে মহামায়া ফান্ডের মাধ্যমে পুজোর আয়োজন করে আসছেন। প্রায় খন্ডহরে পরিণত ঘোষবাড়ির দরদালান, বাড়ি, ঠাকুরদালান ও কুলবিগ্রহ রাখার দোতলা ভবন ইত্যাদিকে ভবিষ্যতে হেরিটেজ স্পট এবং সুসংস্কৃত রূপ দেওয়া যায় কিনা, সে ব্যাপারে। রামকৃষ্ণ মিশনের সঙ্গেও এঁদের নিয়মিত যোগাযোগের ঘাটতি নেই।

কলকাতা, সন্নিহিত শহরাঞ্চল, নানান জেলা, এমনকি বিদেশী প্রবাসীরাও আসেন এবাড়ির শারদীয়া দুর্গোৎসবে। ক্রমবর্ধিষ্ণু থিম পূজোর বংশ যতই রক্তবীজ হচ্ছে, আসল পূজার আন্তরিকতা এবং নিষ্ঠাও আনুপাতিকভাবে কমছে। সম্প্রতি ঘোষ বাড়ির বিবাহিত মেয়েরা ও জড়িত আছে পূজোর সাথে। জৌলুস না থাকলেও আন্তরিকতার অভাব নেই এই পূজায়।

Covid 19 : উৎসবে ‘কমছে’ কোভিড টেস্ট, ভিড়ে করোনার অট্টহাসি

durga puja pandal hopping

নিউজ ডেস্ক: সরকারি দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি গেছে গোল্লায়। করোনার প্রকোপ কম এই খবরটুকুই যেন সবাইকে উদ্বেলিত করেছে। ফলে রাস্তায় ভিড়, আর মন্ডপ দর্শনের আকাঙ্খা টেনে নিয়ে আসছে বিপদ। ভিড়ের মাঝে করোনাভাইরাসের অট্টহাসি সাধারণ মানুষ না শুনতে পেলেও বিশেষজ্ঞরা চিন্তিত। আশঙ্কা উৎসব শেষ হলেই বাড়বে এই ভাইরাস সংক্রমণ।

বিশেষজ্ঞরা কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখছেন, শারোদতসবের ছুটির আমেজে ক্রমাগত কমছে কোভিড টেস্ট। গত দু দিনে অর্থাৎ উৎসবের পঞ্চমী ও ষষ্ঠির দিনেই করোনা পরীক্ষা কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। রিপোর্টে উঠে এসেছে রবিবার করোনা সংক্রমণ পরীক্ষা হয়েছিল ৩৬ হাজার। আর সোমবার পরীক্ষা হয় ২৬ হাজার। অর্থাৎ গত ৪৮ ঘন্টায় রাজ্যে করোনা সংক্রমণের পরীক্ষা ১০ হাজার কমেছে।

durga puja pandal hopping

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মঙ্গলবার থেকে বাকি চারদিন শারোদতসবের মূল অনুষ্ঠানের মাঝে করোনা সংক্রমণের পরীক্ষা আরও কমে যাবে। এই প্রবণতা ভয়াবহ। কারণ সংক্রমণ পরীক্ষা কম হলে করোনা আক্রান্তের সঠিক সংখ্যা আরও কম নথিভুক্ত হবে। সেটাই প্রকাশ হবে। সেই রিপোর্ট দেখে আরও উল্লসিত হয়ে দর্শনার্থীদের ঢল নামবে মন্ডপে। বিপদ এখানেই। এমনই আশঙ্কা।

করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েছেন যারা তাদের স্বাভাবিক ধারণা, টিকা নিলে করোনা হবে না। বিপদ এখানেও। বিশেষজ্ঞরা বলছে, টিকা গ্রহীতা করোনায় আক্রান্ত হতেই পারেন। তবে তাঁর মৃত্যুর আশঙ্কা কম। সেই কারণে টিকা নেওয়া ব্যক্তি বেশি উদাসীন। তাঁর থেকেই করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে বেশি।

Buddha Vs Mamata: শারদীয়ার বাজারেও বুদ্ধ-মমতা লড়াই তুঙ্গে

Mamata versus Buddhadeb two Writer chief ministers books attracted readers

নিউজ ডেস্ক: বর্তমান ও প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রীর বই বইমেলা থেকে শারদ উৎসব সবেতেই চাহিদা তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই বিরাট কাটতি। তাঁর একাধিক রাজনৈতিক বই, কবিতার বই দলীয় সমর্থকরা কিনছেন। অনেকে আবার এমনই সংগ্রহ করেছেন।

আবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর লেখা বেশ কয়েকটি বই ইতিমধ্যেই জনপ্রিয়। বইমেলা হোক বা উৎসবের সময় বুদ্ধবাবুর লেখা বই পাঠকদের আগ্রহ ও পছন্দের কেন্দ্রে থাকে।

Mamata versus Buddhadeb two Writer chief ministers books attracted readers

তবে বই লেখার হিসেব ও খতিয়ানে কবিতাপ্রেমী মার্কসবাদী বুদ্ধদেববাবুকে দশ গোলের মালা পরিয়েছেন কবি, চিত্র ও সঙ্গীতশিল্পী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সর্বশেষ হিসেবে লেখিকা মমতার প্রকাশিত বই একশর ঘরে। আর বুদ্ধদেববাবুর লেখা বইয়ের সংখ্যা গুটিকয়েক।

ganashakti Book stall

রাজনৈতিক প্রবন্ধ নিয়ে বুদ্ধবাবুর লেখা বইগুলি বাংলার মননশীল পাঠকের কাছে বেশ চাহিদার। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বইগুলির চাহিদাও বিরাট। দুই লেখকের বই প্রকাশকরা জানিয়েছেন, পাঠকরা কিনতে মুখিয়ে থাকেন। সেটা বিক্রি দেখলেই মালুম হবে।

Jaga Bangla Book stall

টানা চৌত্রিশ বছরের বাম শাসনের পতন হয় বুদ্ধবাবুর সময়েই। তাঁকে পরাজিত করে তৃণমূল কংগ্রেসের জমানা শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার শাসনেই পশ্চিমবঙ্গে বামেরা শূন্য হয়ে গিয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধবাবু অসুস্থ হয়ে ঘরবন্দি। আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচিকে জাতীয়স্তরে নিয়ে যেতে মরিয়া।রাজনৈতিক এই লড়া়িয়ের মাঝে প্রাক্তনী বুদ্ধবাবুর খোঁজ নেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।

তবে বই বাজারে যুদ্ধ প্রবল। সেখানে মমতার লেখা ‘উপলব্ধি’ বনাম বুদ্ধদেবের ‘স্বর্গের নিচে মহাবিশৃঙ্খলা’ দুটি বই পরস্পরকে এখনও সমানে টেক্কা দিয়ে চলেছে।