Durga Puja 2021: ভিন রাজ্যে গিয়েও সহজে দেওয়া যাবে মহাষ্টমীর অঞ্জলি

Anjali of Mahastami

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: সোমবার থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে বাঙালির সেরা উৎসব দুর্গাপুজো। তবে দুর্গাপুজোয় বহু বাঙালি পরিবার ভিন রাজ্যে ভ্রমণে গিয়ে থাকেন। আজকাল বেশিরভাগ মানুষেরই সময় কম। কারণ অফিস বা ব্যবসায় সেভাবে ছুটি মেলে না। তাই পুজোর ছুটিতে তাঁরা বাইরে ঘুরে আসতে চান। কিন্তু ভিন রাজ্যে গেলেও সেখানেও মিলবে অঞ্জলি দেওয়ার সুযোগ। এখন প্রশ্ন হল কোন কোন রাজ্যে গেলে মহাষ্টমীর অঞ্জলিতে দিতে কোন অসুবিধে হবে না বাঙালি পর্যটকদের।

বাংলা ছাড়াও দিল্লি, মহারাষ্ট্র, অসম, ওড়িশা, ঝাড়খন্ড, বিহারেও রীতিমতো দুর্গাপুজো হয়। এই সব রাজ্যে বেড়াতে গেলে অঞ্জলি দেওয়ার সমস্যা হবে না। অর্থাৎ বাইরে ঘোরাও হবে, আবার দেওয়া হবে মহাষ্টমীর অঞ্জলি। এমনকী চাইলে দেবীর ভোগ খেতেও পারবেন।

বাংলার পরেই ধুমধাম করে দুর্গা পুজো হয় দিল্লিতে। বিশেষ করে দিল্লির বাঙালি পাড়া হিসেবে পরিচিত চিত্তরঞ্জন পার্কে গেলে কারও মনেই হবে না কলকাতার বাইরে আছেন। এখানে রীতিমতো অঞ্জলি দিতে পারবেন। এমনকী উদ্যোক্তাদের বলে রাখলে ভোগের অভাব হবে না। যদি বাঙালি খাবার খাওয়ার ইচ্ছে হয় তবে চিত্তরঞ্জন পার্ক সংলগ্ন এলাকায় প্রচুর বাঙালি রেস্তোরাঁ আছে। যারা দুর্গাপূজার জন্য বিশেষ মেনু তৈরি করে।

দিল্লির পর অসমেও রীতিমতো দুর্গাপুজো হয়ে থাকে। এই রাজ্যে গেলেও ঘোরার পাশাপাশি অঞ্জলি দিতে কোন সমস্যা হবে না। আসামের গুয়াহাটি, তেজপুর, দিসপুরের মত জায়গায় প্রচুর দুর্গাপুজো হয়। সুন্দর সুন্দর প্রতিমা। রয়েছে পুজোর বিশেষ আয়োজন। যথেষ্ট নিষ্ঠুর সঙ্গেই পুজো হয় অসমের বিভিন্ন এলাকায়। তাই অসম বেড়াতে গিয়ে অঞ্জলি কোনওভাবেই মিস হবে না। বাঙালি খাবার, না সেটা মিস করবেন না।

আমরা এখনও অনেকেই বলি বাঙালিদের দ্বিতীয় বাড়ি হচ্ছে বেনারস বা কাশী। যেখানে বাঙালি থাকবে সেখানে দুর্গাপূজা হবে না, এটা কি ভাবা যায়। তাই কাশীতে যথেষ্ট ধুমধামের সঙ্গে দুর্গোৎসব পালিত হয়। কাশিতে পৌঁছে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি যেকোনও পুজো প্যান্ডেলে গিয়ে মহাষ্টমী, মহানবমীর অঞ্জলি দিতে এতোটুকু সমস্যায় পড়বেন না পর্যটকরা। কাশীতে গেলে উপরিপাওনা হল দশেরা। এখানে দুর্গাপুজোর পাশাপাশি ধুমধামের সঙ্গে দশেরা পালিত হয়।

বাংলার পাশের বিহার, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডে প্রচুর দুর্গাপূজা হয়। কারণ এই তিন রাজ্যে বাঙালির সংখ্যা নেহাত কম নয়। তাই পুরী ঘুরতে গিয়ে দুর্গাপুজো কখনওই মিস হবে না। পাশাপাশি বিহার ও ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্যকর জায়গাগুলিতে গেলেও দুর্গাপুজো উপভোগ করতে কোনও অসুবিধা নেই।

সবশেষে আসা যাক দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বইয়ের কথায়। মুম্বইয়ে বাঙালির অভাব নেই। একসময় বহু বাঙালি এখান থেকে পুজোর সময় নিজেদের রাজ্যে ফিরতে পারতেন না। সে কারণেই তাঁরা মুম্বইয়ে পুজো চালু করেছিলেন। তাই মুম্বইয়ে ঘুরতে গিয়ে দুর্গাপুজোর অঞ্জলি দিতে কোনও সমস্যা নেই। পাশাপাশি মুম্বাইয়ের পুজো প্যান্ডেলগুলিতে খাওয়া-দাওয়ার এলাহী আয়োজনও থাকে। পুজোর চারদিন বাঙালি খাবারের অভাব নেই। বিরিয়ানি থেকে পায়েস সব কিছুই মিলবে মুম্বইয়ে। উপরি পাওনা হিসেবে হয়তো কোন প্যান্ডেলে দেখা হয়ে যেতে পারে আমির খান, সলমান খান বা করিণা কাপুরের সঙ্গেও।

Durga Puja 2021: ময়দানের মহা-তারকাদের পুজোর ডায়েরি

durga Puja in saurav ganguly

স্পোর্টস ডেস্ক: সবুজ গালিচায় অবাধ বিচরণ খেলোয়াড়দের। ক্রিকেট হোক ফুটবল খেলার টানে প্রাণপাত করে দিতেও এক সেকেন্ড অপেক্ষা করেন না। ওই মহা তারকাদের দুর্গোপুজোর দিনগুলো কেমনভাবে কাটে জানতে সক্কলেরই ইচ্ছে করে। 

ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা বর্তমান ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বড়িশা প্লেয়ার্স কর্ণার দুর্গোপুজোর উদ্বোধনে এসে সাফ কথা, ছোটবেলায় দুর্গোপুজোর সময়ে বাড়িতেই ঢুকতাম না। প্যান্ডেলেই কেটে যেত ৫ দিন। সকালে শুধু বাড়িতে যেতাম খেতে। এবছর মেয়ে সানা’কে ভীষণভাবে মিস করছি। পুজোতে বাচ্চাদের। কিন্তু স্ত্রী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং মেয়ে সানা লন্ডনে তাই একটু হলেও মিস করছি। সানা থাকলে পুজো আরও বেশি জমতো। বাঙালির শ্রেষ্ঠ পুজো দুর্গোৎসব। এতবড় আয়োজন সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ভাবাই যায়না।

আর এক প্রাক্তন গোলকিপার সন্দীপ নন্দী বলেন, আমি সকলকেই জানাই প্রীতি শুভেচ্ছা আর ভালবাসা। বাঙালির শ্রেষ্ঠ পুজো দুর্গোৎসব ভালভাবে উপভোগ করুন এবং নিজের পরিবারকে ভাল রাখুন। সঙ্গে অবশ্যই এই করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিধি মেনে মাস্ক পরবো, স্যানিটাইজার ব্যবহার করবো এবং দূরত্ব বজায় রেখে চলবো।

বাংলার ক্রিকেটার অনুষ্টুপ মজুমদারের কথায়, নমস্কার শুভ শারদীয়া। পুজো সকলের ভাল কাটুক, অবশ্যই কোভিড-১৯ বিধি মেনে সবাই চলুক। সকলেই কোভিড বিধি মেনে চললে আমাদের আগামী দিন আরও সুন্দর হয়ে উঠবে।

Durga Puja 2021: নারী নির্যাতনের শাস্তি, ধর্ষকের রক্তপান করছেন মহাকালী রূপী মহামায়া

balurghat durga puja

বিশেষ প্রতিবেদন: “ধর্ষণ” বর্তমান সমাজের সবথেকে নিকৃষ্টতম অন্যায়। প্রত্যেকদিন দেশে-বিদেশে কত কত নারীদের ধর্ষণের শিকার হতে হচ্ছে, তা ধারণার বাইরে। কিছু কিছু ঘটনা আমাদের নজরের সামনে আসে, কিছু কিছু ধামাচাপা পড়ে যায়। নারী নির্যাতনের এই গূঢ় বিষয়কেই দুর্গোৎসবের অঙ্গ করেছে বালুরঘাটের স্বর্গধাম ক্লাব।

৭৫ তম বর্ষে এই নিবেদন সমস্ত নারী জাতির উপর উৎসর্গ করা হয়েছে। মা দুর্গা কীভাবে এক নির্যাতককে শাস্তি দিচ্ছেন তা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে প্রতিমা সজ্জার মাধ্যমে। প্রতিমা শিল্পী, শিল্পশ্রী যামিনী পালের পৌত্র শিল্পী অসীম পাল। প্রতিমা পরিকল্পনায় সৌমাভ পাল। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, “নারীর এক রূপ যদি “সৃষ্টি” হয় তবে তারই অন্যরূপ “বিনাশের ইতি”। আমাদের মনে হয়েছে বর্তমান সমাজে দাঁড়িয়ে ধর্ষকের থেকে বড় অসুর আর কেউ নেই। আমাদের মতে অসুর কেবল “মহিষাসুর” নয়,, সে এক “অশুভ” শক্তি। সেই হিসেবে “অশুভ পৈশাচিকশক্তি” হিসেবে আমরা “ধর্ষক” কে তুলে ধরেছি। এদের নির্মমতায় আজ কত মেয়ে তাদের পরিবার হারিয়েছে, মা-বাবারাও হারিয়েছে তাদের মেয়েকে।। এই বর্বরতার থেকে কি নারী সমাজের মুক্তি নেই??

মহাভারতের সময় দ্রৌপদীকে আমরা দেখেছি এই অন্যায়ের শিকার হতে কিন্তু সেখানে শ্রীকৃষ্ণ লজ্জা নিবারণ করেছিলেন,, কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যুগে নারীরা সেরম সৌভাগ্যবতী নন।”

balurghat durga puja

স্বর্গধাম পুজো প্যান্ডেলে আমরা এরকমই একটি দৃশ্য কল্পনা করা হয়েছে, যেখানে গোটা দেশ দুর্গাপুজো নিয়ে মেতে আছেন, সেই উৎসবের মরসুমে বিপদের কালো ছায়ায় ঘেরা এক অসহায় মা তার নির্যাতিতা সন্তানের জন্য মহামায়ার কাছে ভিক্ষা চাইছেন, ন্যায় বিচার চাইছেন। সপরিবারে মর্তে আশা মা দুর্গার কন্যা দেবী সরস্বতীও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। একটা ছোট মেয়ে, যার পড়াশোনা করার বয়স, হয়তো সে ভবিষ্যতের একজন ভালো ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার তাকে এক নর পিশাচরূপী ধর্ষকের জন্য অকালে প্রাণ ত্যাগ করতে হল। এই নির্যাতককে মহামায়া মাতৃরুপে নয়, অন্যতম ভয়ংকরী রক্তবীজঅসুর বিনাশিনী মহাকালী রূপে তার উপযুক্ত শাস্তি দিচ্ছেন। 

balurghat durga puja

শিল্পী অসীম পাল জানিয়েছেন, “এখানেও আমাদের মনে হয়েছে ধর্ষকের শাস্তি হওয়া উচিত একমাত্র মৃত্যুদণ্ড। এটা যেমন ঠিক, তেমনি একজন ধর্ষককে ঠিক ততটাই কষ্ট দিয়ে মারা উচিত যতটা ধর্ষণের সময় একটা মেয়েকে সহ্য করতে হয়। আমাদের মতে ধর্ষকরূপী অসুর যত কষ্ট পেতে পেতে মারা যাবে হয়তো ঠিক ততই মৃত মেয়েগুলির আত্মার শান্তি ঘটবে। যে চোখ দিয়ে খারাপ নজরে একটি মেয়েকে দেখা হয়, সেই চোখ উপড়ে ফেলা উচিত। যে হাত দিয়ে ধর্ষক একটি মেয়েকে স্পর্শ করে- সেই হাত কেটে ফেলা উচিত। মৃত্যুর সময় যাতে একটি ধর্ষকের প্রাণ বিষের জ্বালায় নিজে থেকে প্রত্যেক মুহূর্তে মৃত্যু ভিক্ষা চাই তার ব্যবস্থা করা উচিত। অবশেষে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া উচিত।। তবে যদি এই ধর্ষক রূপী অসুরের সংখ্যা কমে।”

Nepal: রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দুর্গা বরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে নেপালি সেনা

নিউজ ডেস্ক, কাঠমাণ্ডু: সাত সকালেই কেঁপে কেঁপে উঠছে কাঠামান্ডুর সেনা নিবাস। ফাটছে কামান, পুরনো বন্দুকে টোটা ভরে গুলি চালিয়ে দেখা সবকিছু ঠিক তো! মঙ্গলবার নেপাল সরকার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরাচরিত রীতিতে দেবী দুর্গা বরণ করবে। সেই অনুষ্ঠান হবে কাঠমাণ্ডুর ঐতিহাসিক বিশাল তুন্ডিখেল ময়দানে।

নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যাদেবী ভান্ডারি সামরিক অভিবাদন নিয়ে দেবী বরণের সবুজ সংকেত দেবেন। বিশ্বে একমাত্র নেপালেই হয় দেবী দুর্গার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বরণ।

Nepali soldiers fire cannons as part of preparation of dashin

অনুষ্ঠানটির নাম ‘ফুলপাতি’। সপ্তমীর সকালে দেবী দুর্গার ঘট নিয়ে নেপালি সেনা বিশেষ কুচকাওয়াজ করবে। পুরো অনুষ্ঠানটি হবে তুন্ডিখেল ময়দানে। অনুষ্ঠানে থাকবেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী ও রাজ পরিবারের সদস্যরা।

Nepali soldiers fire cannons as part of preparation of dashin

দুর্গাপূজা নেপালে ‘দাসিন’ নামে সুপরিচিত। এই দাসিন উৎসবের অন্যতম হল ফুলপাতি অনুষ্ঠান। কাঠমাণ্ডু প্রদক্ষিণ করা ঘট তুন্ডিখেল ময়দানে আসতেই নেপালি আর্মি সামরিক রীতিতে সেটিকে অভিবাদন জানাতে প্রস্তুতি নিয়েছে।

Nepali soldiers fire cannons as part of preparation of dashin

নেপালের জনসংখ্যার বৃহত্তম অংশ হিন্দু। দ্বিতীয় স্থানে আছে বৌদ্ধরার। কিছু অংশে রয়েছেন মুসলিমরা। সব উৎসবেই নেপালিরা অংশ নেন। আন্তর্জাতিক পর্যটনের অতি গুরুত্বপূর্ণ দেশটির দুর্গাপূজা হয় বিশেষ রীতিতে। সেটি দেখতে বহু পর্যটক আসেন নেপালে। চলতি বছর করোনার দাপট কমে এলেও এখনও পুরো নিশ্চিন্ত হয়নি নেপাল সরকার। ফলে দাসিন উৎসব উপলক্ষে রয়েছে বিধি নিষেধ।

Durga Puja 2021: দুর্গতির গ্রামে আসেন না দুর্গা, পুজোর গন্ধ নিয়ে পৌঁছে গেল ওরা

barna parichay

বিশেষ প্রতিবেদন: ওদের জামা হয় না, মাথায় নতুন ক্লিপ দেওয়া হয় না। জীবন জুড়ে সংগ্রাম। এই পুজোর সময়ে ওদের দ্বীপে একটা দুর্গাপুজোও হয় না। কানে আসে না ঢাকের শব্দ। তবু মন মাতে শরতিয়া মেঘ দেখে। ইচ্ছা করে নতুন জামার গন্ধ নিতে। সেই সুযোগ করে দিল পুরনো কলকাতার গল্প। ফেসবুক গ্ৰুপের তৈরি স্কুলের গরীব ছাত্রছাত্রীরা পেল নতুন জামা।

এই প্রসঙ্গে পিকেজি’র অন্যতম প্রধান সদস্য জয়ন্ত সেন বলেন, “বাচ্চাগুলোর মনের উত্তেজনা আন্দাজ করতে পারছি। ছোটবেলায় আমাদেরও হতো। বাবা-মা গেছেন পুজোর বাজার করতে কোনও এক ছুটির দিন বিকেলে। সামনেই গড়িয়াহাট। বা কলেজস্ট্রীটের জুতোর মার্কেটে। উত্তেজনায় এ’ঘর ও’ঘর। কী আনবে, কেমন রঙের জামা-প্যান্ট হবে…। জুতোটা আমার নটিবয়’র মতো হবে না তো…।

nayachar

নয়াচরে আমাদের বর্ণপরিচয় স্কুলের বাচ্চাগুলোর একই অবস্থা। দিদিমণির ফোন এলে ওরাও ঝাঁপিয়ে পরে জানতে চাইছিল কবে আমরা আসবো ওদের জন্য নতুন জামাকাপড় নিয়ে এই দুর্গা পুজোয়। তা নিয়েই, আমরা কাকভোরে, পৌঁছে যাই নয়াচরে। নিয়ে যাই ছেলেদের জন্য জামা, প্যান্ট, মেয়েদের জন্য ফ্রক, স্কার্ট, দিদিমণি ও রান্নার মাসীদের জন্য শাড়ি। এছাড়া ওরা কাল দুপুরে মাংস-ভাত-পায়েস খাবে, মিড-ডে-মিল।ছেলেমেয়েদের জামা তৈরি করে আনা হয়েছিল সাগরদ্বীপ থেকে। কিছু নতুন পোশাক দিয়েছে বন্ধু পিনাকী চক্রবর্তী।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “আসন্ন দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে ওঁদের উত্তেজনার পারদ ক্রমশঃ ওপরের দিকে চড়ছিল। তবে এদের চাহিদা বড্ড কম। অনেকেরই এখনও পুজোর জামাকাপড় বাবা-মায়েরা কিনে দিতে পারেন নি। নয়াচর দ্বীপে কোথাও হয় না দুর্গাপুজো। তাই বাচ্চাগুলোর মন পড়ে থাকে হুগলি নদীর ওপারে হলদিয়ায়, একটু ঠাকুর দেখার আশায়।

কেউ যায় এক বেলার জন্য, কেউ বা ২-৫ দিনের জন্য। নতুন স্কুল, অনেক বন্ধু হয়েছে এদের। বাচ্চা মেয়েরা একটু সাজগোজ করে ঠাকুর দেখতে চায়। মাথায় বাহারি ব্যান্ড, ঠোঁটে লিপস্টিক দেওয়ার খুব ইচ্ছে এদের। আবার দ্বীপের কোথাও ফুচকা পাওয়া যায় না বলে ওপারে হলদিয়ায় গিয়ে একটু ফুচকা খাওয়ার শখও রয়েছে। ছেলেগুলো একে অপরের কাঁধে হাত রেখে বন্ধু হয়ে একটু ঘুরে বেড়াতে চায়। ব্যাস, এইটুকুই ইচ্ছে ওদের। ছোট ছোট এই ইচ্ছে নিয়েই ওরা বড় হয়ে উঠুক। সেই ইচ্ছাপূরণ করার চেষ্টা করছি আমরা”।

Durga Puja 2021: হিন্দু ভুলে পুজো মণ্ডপে বাংলা গান বাজানোর আবেদন বাংলাপক্ষের

Durga Puja Bengali song

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: বাঙালির প্রধান উৎসব দুর্গা পুজো। এই পুজোর প্যান্ডেলে হিন্দি গান বাজানোর ঘোরতর বিরোধী বাংলাপক্ষ। যা নিয়ে আগেও সরব হতে দেখা গিয়েছে তাদের। এবার সরাসরি পুজো উদ্যোক্তাদের প্যান্ডেলে বাংলা গান বাজানোর আবেদন জানানো হল ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে।

অতিমারির মাঝে ২০২০ সালে দুর্গাপুজোয় আনন্দ করতে পারেনি বাঙালি। চলতি বছরেও একই দশা। তবে পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। মণ্ডপে গানও বাজানো হয়েছিল। গত বছরে হিট গান ছিল টুম্পা সোনা। এবার সেই একই গীতিকার এবং গায়ক তৈরি করেছেন লালু। সেই সকল বাজানোর পক্ষে সওয়াল করেছে বাংলাপক্ষ।

সংগঠনের পক্ষ থেকে কৌশিক মাইতি জানিয়েছেন, রাজ্য জুড়ে ২০০০ পুজো কমিটির কাছে এই আবেদন জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে এই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, “বাঙালির শ্রেষ্ঠ উত্‍সব দুর্গাপূজা। এই সময় বাংলার কৃষ্টি ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে হবে। শুধু পুজো কমিটিই নয়, বিশ্বজুড়ে সব বাঙালিদের কাছেই এই আবেদন জানাচ্ছে সংগঠন। হিন্দি আগ্রাসনের জেরে কোণঠাসা করা হচ্ছে বাংলা গানকে। এতে সমস্যায় পড়েছেন বাঙালি শিল্পীরা।

এই মর্মে পুজো উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠি লিখেছে বাংলাপক্ষ। যেখানে খুব স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে বাংলা গানের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাঙালির সংস্কৃতি। যার সঙ্গে দুর্গাপুজোর অনেক পুরনো সম্পর্ক রয়েছে। তাই পুজোর সময়ে বাংলা গান প্যান্ডেলে না বাজানো হলে তা বাঙালি সংস্কৃতির পরিপন্থী হবে। সেই সঙ্গে ক্ষতি হবে বাঙালি শিল্পীদের।

এর আগে রেডিওর ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছিল বাংলা পক্ষ। বাংলার মাটিতে বসে কেন হিন্দি গান ভিডিওতে বাজবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল সংগঠন। শুধু তাই নয় রীতিমতো রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছিল তারা। দুই জনপ্রিয় রেডিও র অফিস ঘেরাও করেছিল তারা।

Durga Puja 2021: শ্রীভূমির আলোয় দিশেহারা কলকাতা

অনলাইন ডেস্ক: সারা কলকাতা মেতেছে বুর্জ খলিফাকে নিয়ে৷ কলকাতার শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের পুজোর আলো-প্যান্ডেল নজর কেড়েছে শহরবাসী৷ সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিশ্ববিখ্যাত বুর্জ খলিফার আদলে মন্ডপ৷ কিন্তু কেউ কি জানতে পারে, এর পিছনে কে বা কারা? এই দুর্গাপূজা প্যান্ডেলের আলো কেরামতির নায়ক রিয়াজ৷ রিয়াজের আলোয় মেতেছে কলকাতা৷ পার্কস্ট্রিটের বাসিন্দা রিয়াজ আহমেদ৷ আলো নিয়ে কাজ করেন রিয়াজ৷ তিনিই চমকে দিচ্ছেন দর্শনার্থীদের৷ আমিরশাহির বুর্জ খলিফা আদলে মন্ডপ দেখতে তুমুল আগ্রহ।

Durga Puja 2021: ১০০ নারকেলের নাড়ুতে পাক দিয়ে দুর্গোৎসব শুরু চেন্নাইয়ে

Durgotsab starts in Chennai with 100 coconut stalks

অনলাইন ডেস্ক, চেন্নাই: প্রবাসে থেকেও পুজোয় মাতোয়ারা চেন্নাইয়ের বাঙালিরা। প্রথা মেনে তৃতীয়াতেই নাড়ু উৎসবের সূচনার মধ্যে দিয়ে দুর্গোৎসবের (Durgotsab) ঢাকে কাঠি পড়ে গেল। চেন্নাই-এর সাউথ মাদ্রাজ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে শুরু উৎসবের।

বাঙালির উৎসব খাওয়া-দাওয়া ছাড়া কি জমে! মিষ্টিমুখ তো করতেই হবে। নাড়ু এমন একটি উপকরণ যা না হলে পুজো অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এই নাড়ু উৎসবের মধ্য দিয়েই সাউথ মাদ্রাজ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন তাদের দুর্গাপুজোর সূচনা করল।

Durgotsab starts in Chennai with 100 coconut stalks

সংগঠনের সহ-সভাপতি তথা পুজো কমিটির আহ্বায়ক দেবাশিস মুখোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে নাড়ু তৈরিতে হাত লাগান সংগঠনের শতাধিক সদস্য। আগে ৩০০ -র বেশি নারকেলের নাড়ু হত। কিন্তু করোনা বিধিনিষেধ কারণে সেই সংখ্যাটা গত দু’ বছর অনেকটাই কমেছে। এবছর ১০০ নারকেলের নাড়ু বানানো হয়েছে।

Durgotsab starts in Chennai with 100 coconut stalks

শনিবার সকাল থেকেই সংগঠনের সদস্যরা একে একে হাজির হন। সহ-সম্পাদক প্রদ্যুৎকুমার ঘোষ, অতনু পোদ্দার, অমর ঘোষ, দোলা মুখোপাধ্যায়, জয়িতা রায়, সুদেষ্ণা নাম্বুরি, নূপূর ঘোষ-সহ কমপক্ষে ৬০ জন সদস্য। পুরোহিত মহাদেব ভট্টাচার্য ও তাঁর স্ত্রী চন্দ্রাণী ভট্টাচার্য উপবাস করে নাড়ুর পাঁক দেন। সংগঠনের জন্মলগ্ন থেকে সেই পরম্পরা আজও একই ভাবে চলে আসছে। কমিটির সদস্যদের দাবি, নাড়ু পাকানো শুরু না হলে মনেই হয় না দুর্গাপূজা এসে গিয়েছে। আমরা এই দূর দেশে অপেক্ষা করি কবে আসবে শারদ তৃতীয়া। শুরু হবে মায়ের নাড়ু পাকানো।

Durga Puja 2021: দিল্লি কালিবাড়ির সেই মিলনোৎসবের অভাব টের পাচ্ছেন বাঙালি

festival in Delhi Kalibari

নিউজ ডেস্ক: শুরুটা হয়েছিল ব্রিটিশ সরকারের আমলে রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করার সময়। কলকাতা থেকে যে সব বাঙালিরা পেশার তাগিদে দিল্লিতে এসে বসবাস করতে শুরু করেছিলেন, তাঁদের হাত ধরেই।

১৯৩১ সালে শুরু হওয়া সেই পুজো, যা একদিন নিউদিল্লি দুর্গাপূজা সমিতির নামে শুরু হয়েছিল, সেটাই আজ নিউদিল্লি কালীবাড়ির পূজা নামে পরিচিত। একদিকে আরাবল্লি পর্বতের শুরু, অন্যদিকে রাইসিনা হিলস।মাঝের এই জায়গাটুকু ঘিরে গড়ে উঠেছে কালীমন্দির, সেখানেই হয় শারদীয়ার আবাহন।

দিল্লি চলে আসা বাঙালিরা নিজেদের বসবাসের জন্য এই জায়গাটিকেই বেছে নিয়েছিল। কারণ পার্লামেন্ট থেকে শুরু করে অন্যান্য সরকারি ভবন, সবই কাছাকাছির মধ্যে। বাঙালি আর দুর্গাপুজো তো সমার্থক।

festival in Delhi Kalibari

তবে অনেক আগে কিন্তু পুজো এরকম ছিল না। তখন আজকের নিউদিল্লি কালীবাড়ির পুজো নির্দিষ্ট এক জায়গায় হত না। পুজোর যিনি সম্পাদক হতেন, মায়ের পুজো হত তাঁর বসবাসের এলাকায়। এই অসুবিধা দূর করতে তখনকার ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন করা হয় মায়ের পুজোর জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা দেওয়ার। সেই সময় ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ‘উপহার’ হিসাবে পাওয়া ১ একর জমিতেই গড়ে উঠেছিল আজকের কালীবাড়ি । যেখানে এখন প্রতি বছর মহা সমারোহে পালিত হয় দুর্গাপুজো।

৯০ বছরের এই পুজো আজ হাতবদল হয়ে তৃতীয়, চতুর্থ প্রজন্মের হাতে। কিন্তু ফাঁকি নেই পুজোর নিয়মনিষ্ঠার। প্রত্যেক বছর ভক্তিভরে, নির্ঘণ্ট মেনে দেবীর আরাধনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং রকমারি বাঙালি খাবারের স্টল বসে এখানে। সেজে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। যদিও অতিমারির আবহে কাটছাঁট সব জায়গাতেই।

কমিটির তরফে স্বপন গাঙ্গুলি জানালেন, করোনাকালে পুজোর অনুমতি মিলেছিল গত বছরও। কিন্তু গত বছর কার্যত নিয়মরক্ষায় পুজো সারতে হয়েছিল। এ বছরেও মাত্র দশদিন আগে অনুমতি পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যেই দ্রুত প্রস্তুতি নিয়ে সম্পূর্ণ কোভিড বিধি মেনেই মায়ের পুজো হবে। প্রতিমা দর্শন, অঞ্জলি, ভোগ বিতরণ সবই থাকবে। তবে সব কিছুই হবে সরকারি নির্দেশিকা মেনে। করোনা সংক্রমণের কথা মাথায় রেখেই এবারে কোনও পংক্তি ভোজন হবে না।

প্রত্যেকবারের মতো এবারও কৃষ্ণনগর থেকে এসেছে মূর্তি তৈরির কারিগর। বোলপুর থেকে এসে গিয়েছে ঢাকিরা। সবমিলিয়ে ১০ দিনের প্রস্তুতিতেই সেজে উঠেছে দিল্লি কালীবাড়ির দুর্গাপুজো। এক উদ্যোক্তা আক্ষেপের সুরে জানালেন, গোটা দিল্লিতে প্রায় তিনশোর কাছাকাছি দুর্গাপুজো হয়। আগে নিয়ম ছিল, রাজধানীর সমস্ত দুর্গাপ্রতিমা এখানে এসে জড়ো হবে।

তারপর এখান থেকে শোভাযাত্রা বের হবে। উদ্দেশ্য ছিল, দিল্লিবাসীকে বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। কিন্তু বছর তিনেক আগে যমুনা দূষণের কারণে দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকে এই নিরঞ্জন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই দিল্লিবাসী বাঙালিদের আক্ষেপ, কালীবাড়ি প্রাঙ্গণ দশমীর দিনে যে মিলনক্ষেত্রে পরিণত হতো সেটার অভাব এখন তাঁরা অনুভব করেন।

Durga Puja 2021: উৎসবের আনন্দ পাইয়ে দিতে ৪০০ দুঃস্থকে নতুন পোশাক সংখ্যালঘু যুবাদের

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ এতেই বিশ্বাস রাখেন তালডাংরার ‘লদ্দা মুসলিম যুব সম্প্রদায়ে’র সদস্যরা। তাই করোনা আবহে চলতি শারদোৎসবে অসহায় দুঃস্থ মানুষদের মুখে হাসি ফোটাতে এগিয়ে এলেন তাঁরা।

রবিবার বিকেলে সংখ্যালঘু প্রধান এই গ্রামের যুবকদের উদ্যোগে শারদোৎসব উপলক্ষ্যে প্রায় ৪০০ জন অসহায়, দুঃস্থ মানুষের হাতে নতুন পোশাক তুলে দেওয়া হয়। এই তালিকায় শিশু থেকে বৃদ্ধ এমনকি মহিলারাও বাদ ছিলেননা কেউই।

‘লদ্দা মুসলিম যুব সম্প্রদায়ে’র তরফে জানানো হয়েছে, শারদোৎসবে শুধু বস্ত্র দানই নয়, করোনা আবহে দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটি কিচেনের মাধ্যমে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে অসংখ্য মানুষকে একবেলা খাবারের ব্যবস্থা তাঁরা করেছিলেন।

এই কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী, শিক্ষক মনসারাম লায়েক, প্রাক্তন শিক্ষক সুদীন কুমার ভুঁই, ধর্মেন্দ্র ঘোষ সহ অন্যান্যরা। সমাজসেবী- শিক্ষক মনসা রাম লায়েক লদ্দা মুসলিম যুব সম্প্রদায়ের এই অভিনব উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বর্তমান অস্থির সময়ে লদ্দা মুসলিম যুব সমাজ যে উদারতার পরিচয় দিলেন তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এদের এই কাজে তিনি সবসময় থাকবেন বলে জানান।

পুরো বিষয়টি যার মস্তিস্কপ্রসূত, লদ্দা মুসলিম যুব সম্প্রদায়ের অন্যতম কর্ণধার শেখ বাপি বলেন  চলতি করোনা আবহে অনেকের কাজ নেই। পুজোয় নতুন পোশাক থেকে তারা যাতে বঞ্চিত না হয় তাই তাদের এই উদ্যোগ বলে তিনি জানান।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে কাজী নজরুল ইসলাম প্রত্যেকেই যুব সম্প্রদায়কে ধর্মান্ধতার উর্দ্ধে উঠে এক হয়ে মানুষের জন্য কাজ করার কথা বলেছেন। আর সেই লক্ষ্যেই অবিচল লদ্দা মুসলিম যুব সম্প্রদায়ের শেখ বাপিরা। বর্তমান সময়ে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি আর হানাহানির যুগে তাঁদের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন প্রত্যেকেই।

Durga Puja 2021: দুর্গাপূজায় অদৃশ্য গোয়েন্দা নজরদারি, ঢাকায় অভূতপূর্ব নিরাপত্তা বলয়

Invisible intelligence surveillance at Durga Puja

নিউজ ডেস্ক: সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের সব থেকে বড় ও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব দুর্গাপূজার সময় কোনও নাশকতা বা জঙ্গি হামলার ভয় নেই। এমনই জানালেন, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, পূজার মণ্ডপগুলো নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে।

ঢাকার পুলিশ কমিশনার আরও জানান, কিছু জঙ্গি সদস্য মণ্ডপে হামলার জন্য অনলাইনে প্রচার চালাচ্ছে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে একথা বলেন তিনি। বাংলাদেশে সম্প্রতি অনলাইনে বিভিন্ন গোষ্ঠীর তরফে দুর্গাপূজার সময় হামলার উস্কানিমূলক বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

Invisible intelligence surveillance at Durga Puja
ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ঢাকা পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলামের সাংবাদিক সম্মেলন

বিশেষ করে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় দ্বিতীয়বার তালিবান আসতেই কিছু গোষ্ঠী সক্রিয়। বাংলাদেশ সরকার বিষ়যটি নিয়ে সজাগ। ঢাকার পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, জঙ্গিরা প্রচার চালাচ্ছে। তাদের প্রচার ক্রমাগত নজরে রাখা হচ্ছে।

Invisible intelligence surveillance at Durga Puja

দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। সব রকমের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া আছে। বড় মন্দিরে সবসময় পুলিশ ফোর্স মোতায়েন থাকবে। সিসি টিভির নজরদারি থাকবে। ছোট মন্দিরগুলো মোবাইল টিম দিয়ে কাজ চালানো হবে।

Invisible intelligence surveillance at Durga Puja

তিনি জানান, ডিবির টিম, এআইডির টিম, এসবি সহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা, সাদা পোশাক, ইউনিফর্মে ও র‍্যাবের বাহিনী মিলে পুরো শহরে নিরাপত্তার চাদর তৈরি করার চেষ্টা করব। যাতে এখানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা কেউ ঘটাতে সাহস না পায়।

Invisible intelligence surveillance at Durga Puja
ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বিশেষ সাইডার সেলের সর্বক্ষণের নজরদারি শুরু

ডিএমপির কমিশনার বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে আমরা আগের মতো সব মন্দিরে পুলিশ দিয়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিচ্ছি না। কারণ, আমাদের পুলিশ ফোর্স যেহেতু ব্যারাকে থাকে সেহেতু যেকোনো একজন আক্রান্ত হলে পুরো ব্যারাকটা আক্রান্ত হওয়ার একটা ঝুঁকি থাকে। সেজন্য আমরা সব জায়গায় আমাদের ফোর্স ওইভাবে মোতায়েন করছি না। কিন্তু, নজরদারিটা প্রতিটি পূজা মণ্ডপে থাকবে।

Durga Puja 2021: স্বাধীনতা আন্দোলনের ছোঁয়ায় শুরু হয়েছিল এই দুর্গা পুজো

History of simla byam samiti

নিউজ ডেস্ক: তখনও দেশ স্বাধীন হয়নি। ব্রিটিশের চোখে ধুলো দিয়ে কোথায় জমায়েত করা যায়? বিপ্লবীরা যখন বেশ চিন্তায়, তখন মুশকিল আসান করলেন খোদ নেতাজি। তাঁর নির্দেশে অনুগামী বিপ্লবী অতীন বসু দুর্গাপুজোর আয়োজন করেন। বাড়ি বাড়ি ঘুরে আদায় হল চাঁদা। এভাবেই ১৯২৬ সালে কলকাতার সিমলা ব্যায়াম সমিতির (simla byam samiti) পুজো শুরু হয়। পুজোর ঐতিহ্য দিনদিন বেড়েছে। শুধু আড়ালে থেকে গিয়েছেন বিপ্লবী অতীন্দ্রনাথ বসুই।

তখন ১৯২৬ সাল। ব্রিটিশ শাসনে পরাধীন ভারত। দেশ স্বাধীনের লক্ষ্যে সক্রিয় বিপ্লবীরা… বিভিন্ন গোপন আস্তানায় চলছে ব্রিটিশ বিরোধী কাজকর্ম.. ঠিক তখনই কলকাতাতেও বিপ্লবীদের জোটবদ্ধ করতে একটা কনভেনশনের দরকার ছিল। কিন্তু ব্রিটিশদের ফাঁকি দিয়ে জমায়েত কার্যত অসম্ভব। ফন্দি আঁটলেন স্বয়ং নেতাজি ।

সিমলা অঞ্চলের মহেন্দ্র গোস্বামী লেনে বিপ্লবী অতীন্দ্রনাথ বসুর বাড়ি। তাঁর বাড়িতে মাঝেমধ্যেই থাকতেন সুভাষচন্দ্র বসু। তাঁর নির্দেশেই এই বাড়িতে শুরু হয় কলকাতার প্রথম সর্বজনীন দুর্গোৎসব। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জমায়েতও সহজ হয়… সঙ্গে দেশমাতৃকার জন্য মাতৃ আরাধনার শুরু …

History of simla byam samiti

সিমলা স্ট্রিটের বাড়িতে যুবকদের স্বাস্থ্যচর্চায় জোর দিয়েছিলেন বিপ্লবী অতীন্দ্রনাথ বসু। নেতাজির নির্দেশে পুজো আয়োজনের দায়িত্বে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। পুজোর খরচ উঠল বাড়ি বাড়ি ঘুরে চাঁদা কেটে। তখন এই ভাবনা ছিল একদমই নতুন। হোগলাপাতার বেড়া দিয়ে তৈরি হল সিমলা ব্যায়াম সমিতির প্যান্ডেল। এভাবেই অতীন বসুর হাত ধরে যাত্রা শুরু তিলোত্তমার প্রথম সর্বজনীনের।পুজোয় এসে সবার সঙ্গে পাত পেড়ে খেয়েছেন সুভাষচন্দ্র বসু। একবার বিপ্লবীদের জমায়েত টের পেয়ে পুজো বন্ধ করে দেয় ব্রিটিশ সরকার। বেশিদিন নয়, দু’বছর পরই আবার চালু হয় পুজো।

একচালা দুর্গামূর্তি থেকে পাঁচটি চালচিত্রে ভাঙা দেবীমূর্তির প্রচলনও এখান থেকেই। দেবীমূর্তির চালচিত্র বদলে দেওয়ায় রক্ষণশীলদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে পুজো কমিটি। সমালোচনা থামাতে ১৯৩৯ সালে ফের নেতাজি পুজোর উদ্বোধন করেন। সব কর্মকাণ্ডের নেপথ্য কারিগর একজনই। অতীন বসু। জমিদারবাড়ি বারোয়ারি পেরিয়ে সর্বজনীন পুজোই এখন মেনস্ট্রিম। তবু আড়ালে থেকে গিয়েছেন, কলকাতার সর্বজনীন পুজো সংস্কৃতির প্রবর্তক বিপ্লবী অতীন্দ্রনাথ বসু।

কলকাতার সর্বপ্রথম বারোয়ারী দুর্গাপূজা ভবানীপুরের বলরাম বসু ঘাট রোডের ভবানীপুর সনাতন ধর্মোৎসাহিনী সভার পুজো, শুরু ১৯১০ সাল। তারপর ১৯১১ সালে শ্যামপুকুর আদি সার্বজনীন, ১৯১৩ সালে শিকদার বাগান, ১৯১৯ সালে নেবুবাগান, যা বর্তমানে বাগবাজার সার্বজনীন এবং ১৯২৬ সালে সিমলা ব্যায়াম সমিতি।

Durga Puja 2021: ছৌ-শিল্লীদের উন্নতি ভাবনায় তৈরি ‘মানবিক’ মণ্ডপ

bhawanipur 75 pally durga puja

বিশেষ প্রতিবেদন: তাদের এবারের পুজোর থিম “মানবিক’। তাঁরা দুর্গাপুজোকে এক আলাদা মাত্রা এনে দেবার চিন্তাভাবনা করেছে। তাঁরা ছৌ-শিল্পীদের উন্নতিকল্পে সাহায্য করবে। এমনই ভাবনা ভবানীপুর ৭৫ পল্লীর সদস্যদের।

দক্ষিণ কলকাতার এই পুজোর সদস্যরা প্রতি বছর সমাজের প্রতি একটি বার্তা পৌছে দিতে চায়, এর জন্যই পুজোটি ধীরে ধীরে উল্লেখযোগ্যভাবে সামনের সারিতে উঠে এসেছে। তারই রেশ ধরে এবারের থিম ‘মানবিক’-এর মাধ্যমে তারা নিজেদের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে বদ্ধপরিকর। রামায়ণ, মহাভারত তথা ভারতের অন্যান্য পৌরাণিক কাহিনী বর্ণনা করে নিজের শৈলীতে নাচের মাধ্যমে জনসমক্ষে তুলে ধরেন ছৌ শিল্পীরা, যা দেশ তথা বিদেশের মাটিতেও যথেষ্ট জনপ্রিয়।

bhawanipur 75 pally durga puja

পুরুলিয়া জেলার চড়িদা গ্রামটি ছৌ নৃত্যের মুখোশ তথা পোশাক তৈরির জন্য বিখ্যাত।লকডাউনের ফলে বাংলার এই অতি জনপ্রিয় লোকশিন্ন ‘ছৌ নৃত্য’ প্রদর্শন একেবারে বন্ধ। তার ফলে শিল্পীরা আর্থিকভাবে যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। সেদিকে দৃষ্টিপাত করেই পুজো কমিটির এই সিদ্ধান্ত।

ক্লাবের সেক্রেটারি সুবীর দাস বলেন, “এ বছর আমরা ছৌ শিল্পীদের শিশু এবং পরিবারকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি নিয়েছি। রাজ্য সরকারের তরফেও যাতে তারা সাহায্য পায় তার চেষ্টা করা হচ্ছে। ছৌ নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন সরঞ্জামের প্রদর্শনের মাধ্যমে যাতে ছৌ শিল্পীরা কিছুটা আর্থিকভাবে সাহায্য পায়, তারই চেষ্টা করছি আমরা। বিশ্ব কন্যা দিবসে তাই ২৫০ শিশুকন্যাকে বস্ত্র বিতরণ করা হবে এছাড়াও পুজো উপলক্ষে ৫০টি আর্থিকভাবে যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত ছৌ শিল্পীর পরিবারকে নতুন বস্ত্র দিয়ে সাহায্য করা হবে। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিন্তাধারা এবং অনুপ্রেরণায় আমরা এই কাজ করতে চলেছি নিজেদের সাধ্যমতো” ।

উল্লেখ্য, ভবানীপুর ৭৫ পল্লী এবারে ৫৭ তম দুর্গোৎসব পালন করছে, যার থিম রাখা হয়েছে “মানবিক’। মন্ডপ সজ্জা, প্রতিমা, পুজোর মন্ডপের পরিবেশ, সুরক্ষা, সংহতি প্রভৃতির উৎকৃষ্ট মেলবন্ধনে এই পুজো মানুষের মন জয় করে নিয়েছে ইতিমধ্যেই। “মায়ের আঁচল”, ‘ও আমার দেশের মাটি’, ‘আরশিনগর, ‘আমার স্বপ্ন ভবানীপুরে… লন্ডন’, ‘খুঁজে পাওয়া স্মৃতির খাতা- উল্টে পাতা শোনায় কথা” “মা’ ‘নীল সাদায় এক টুকরো ভবানীপুর’ এবং গত বছরের ‘নাগর দোলায় সবার পুজো’এর মতো থিম বিগত বছরগুলিতে যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়েছে এবং শহরের বিভিন্ন পুজোর মধ্যে এই পুজোর স্বাতন্ত্রতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ক্লাবের তরফ থেকে আশা করা হচ্ছে এবারেও নিজেদের থিমের মাধ্যমে তারা শহরের পুজোগুলির মধ্যে আলাদা জায়গা করে নিতে সক্ষম হবে।

Bangladesh: ঢাকার বিখ্যাত ধানমন্ডি দুর্গাপূজার ‘অনুমতি’ বিতর্ক, গণ-অনশন হুমকি

Dhanmondi durga Puja controversy

নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপূজা করতে না দিলে অনশন হবে। এমনই হুঁশিয়ারিতে বাংলাদেশ সরগরম। ঢাকার বিখ্যাত
ধানমন্ডি সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির অভিযোগ, পূজা মন্ডপ তৈরি করতে বাধা দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (DSCC) কর্তৃপক্ষ। যদি পূজা না হয় তাহলে শুরু হবে বিক্ষোভ।

ঢাকায়(Dhaka) সাংবাদিক সম্মেলনে এমন ঘোষণা করেন ধানমন্ডি সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সমেন সাহা। এই হুঁশিয়ারির পরেই তীব্র শোরগোল পড়েছে বাংলাদেশের সর্বত্র। কারণ, ধানমন্ডির দুর্গা মন্ডপ বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পূজা প্যন্ডেল হিসেবে পরিচিত। বহু দর্শনার্থী আসেন এই প্যান্ডেল দেখতে।

অভিযোগ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অসহযোগিতার কারণে ধানমন্ডির কলাবাগান মাঠে দুর্গাপূজার মন্ডপ তৈরিতে বাধা পড়েছে। ধানমন্ডি পূজা কমিটির হুঁশিয়ারি যদি পূজা করতে না দেওয়া হয় তাহলে ঢাকা সহ সারা দেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ, আন্দোলন, সকল পূজা মন্দিরে কালো পতাকা প্রদর্শন ও সেই সঙ্গে গণঅনশন কর্মসূচি পালন করা হবে। 

ধানমন্ডি সার্বজনীন পূজা কমিটি জানিয়েছে, আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, ধানমন্ডির, কলাবাগান, হাজারীবাগ, মোহাম্মদপুর, নিউমার্কেট ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা ২০০৭ সাল থেকে কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠে সার্বজনীন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করে আসছি। এই এলাকার প্রায় ৬০ হাজার হিন্দু অধিবাসীর জন্য কোনও মন্দির না থাকায়, কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠেই বিগত ১৪ বছর ধরে সার্বজনীন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন করা হচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী প্রার্থনীয় এই পূজা সারা দেশে সাতবার প্রথম স্থানও অর্জন করেছে।

দুর্গাপূজা কমিটি আরও জানায়, আমরা বিগত বছরের মতো বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশিত সব নিয়মকানুন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা উদযাপনের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের কাছে লিখিত অনুমতি প্রার্থনা করি। কিন্তু এক মাস অতিবাহিত হওয়ার পর বারবার যোগাযোগ করেও কোনও সাড়া পাইনি।

পূজা কমিটির অভিযোগ, গত ২৯ সেপ্টেম্বর মন্ত্রী তাজুল ইসলামের শরণাপন্ন হলে তিনি আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দুই দিনের মধ্যে পূজা উদযাপন করার অনুমতি প্রদান করেন। কিন্তু অনুমতিপত্র থাকার পরও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অসহযোগিতার কারণে আমরা পূজা উদযাপন করতে পারছি না।  

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বার্তায় বলা হয়েছে, ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান এবং অনাকাঙ্ক্ষিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে’। আরও জানানো হয়, “এ ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্যে আমরা খুবই মর্মাহত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘বাংলাদেশ’ আজ যখন  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারা বিশ্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল ও অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত, তখন এ ধরনের বক্তব্য স্বার্থন্বেষী মহলের ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য সাধন এবং চাঁদাবাজির অভিলাষ পূরণের নামান্তর।”  

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের যুক্তি,‘পূজা উদ্‌যাপন কমিটি কর্তৃক পূজা উদ্‌যাপনকালে কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠ এবং মাঠের স্থাপনাসমূহের কোনো প্রকার ক্ষয়ক্ষতি/বিনষ্ট না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে’—এমন শর্তসাপেক্ষে পূজা আয়োজনের অনুমতি প্রদান করার বিষয়টি সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উল্লেখ করেননি।

ফায়ার ব্রিগেড থেকে ঘর ওয়াপসি মহম্মদ আলি পার্কের

Durgapujo in Mohammad Ali Park

নিউজ ডেস্ক: ২০১৯ এ জলাধারের কাজের জন্য স্থানান্তরিত করতে হয়েছিল মহম্মদ আলি পার্কের পুজো। দু’বছর পর ফের নিজেদের জায়গায় ফিরে আসছে তাদের দুর্গাপুজো। ইয়ুথ আাসোশিয়েশন আয়োজিত মহম্মদ আলি পার্কের (Mohammad Ali Park)দুর্গাপুজোর এবারের থিম ভ্যাক্সিনেশন উইনস ওভার করোনা’।

মহম্মদ আলি পার্কের জেনারেল সেক্রেটারি মিঃ সুরেন্দ্র কুমার শর্মা সংবাদমাধ্যমকে জানালেন, “২০২০ যদি হয় কোভিড সংক্রমণের বছর, তবে ২০২১ কে অবশ্যই বলতে হবে টিকাকরণের অর্থাৎ ভ্যাক্সিনেশনের বছর এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে এটাই একমাত্র অস্ত্র। সেই বার্তাই এবার আমরা আমাদের পুজোতে দিতে চাইছি।দর্শকদের মন্ডপের ভেতর প্রবেশের অনুমতি ঘদিও থাকছেনা, তবু আমরা এমন ব্যবস্থা করছি, ঘাতে তাঁরা বাইরে থেকেই পুজো উপভোগ করতে পারেন। ১৫ ফুট দুর থেকেই খুব স্পষ্টভাবে প্রতিমা দর্শন করা ঘাবে। এটাও সত্যি,সকলের স্বাস্থ্যের থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছুই হয়না। আমরা অবশ্যই আগামী বছরগুলোতে জাঁকজমক করে পুজোর আয়োজন করব।

Mohammad Ali Park

মধ্য কলকাতার অন্যতম সেরা দুর্গাপুজো এই মহম্মদ আলি পার্কের পুজো, যা প্রত্যেক দর্শনার্থীদের অবশ্য গন্তব্যের তালিকায় থাকে তাদের অভূতপূর্ব মন্ডপসজ্জার জন্য। উল্লেখ্য, পুজোর যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৬৯ সালে তারা চাঁদ দত্ত স্ট্রিটে। কিন্তু অতি অল্প দিনের মধ্যেই তা এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, যে পুজো স্থানান্তরিত করে আনা হয় বর্তমানের এই মহম্মদ আলি পার্কে।

সেখানেই আবার ফিরছে এই বিখ্যাত পুজো। মধ্য এবং উত্তর কলকাতার যথেষ্ট মর্যাদাপূর্ণ ইয়ুথ আ্যাসোশিয়েশন ক্লাবটি বিভিন্ন বিভাগে ইতিমধ্যেই প্রচুর পুরস্কার লাভ করেছে৷ গত বছর মহম্মদ আলি পার্ক মহিষাসুরের জায়গায় করোনাসুরের আদলে মায়ের সাবেকি মুর্তি করেছিল, যা যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল। এই এ বছর এই ক্লাব একচালা মায়ের মূর্তি তৈরি গড়ছে।

Durga Puja: তরিবাদী খাবারে তুষ্ট হন এই সোনার দুর্গা

durga of mukherjee family

বিশেষ প্রতিবেদন: কলকাতা-সুতানুটি-গোবিন্দপুর নিয়ে সম্মিলিত কলকাতা গড়ে ওঠার আগেই বেহালা অঞ্চল ছিল এক সমৃদ্ধ জনপদ। সেখানকার ব্রাহ্ম সমাজ রোডের মুখার্জী বাড়িতে রয়েছে এক সোনার দুর্গা। প্রতি বছর ধূম-ধাম করে দুর্গাপুজোও হয়। পল্লীর প্রবীণরা এখনও এই বাড়ির ‘ভাতে ভবানী’ ও ‘সন্দেশের শিবু’র স্মৃতি চারণ করেন। অর্থাৎ এই পরিবারেরই ভবানী মুখোপাধ্যায়ের আমলে এখানে ভাতের আর শিবু মুখোপাধ্যায়ের আমলে এখানে সন্দেশের পাহাড় তৈরী হত।

বেহালায় এসে পরিবারের কর্তা জগৎরাম মুখোপাধ্যায় এই পুজোর পত্তন করেন। উনি এসেছিলেন যশোর জেলার ঝিকরগাছা থেকে। জগৎরামের জীবনে একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছিল। যশোর জেলায় তিনি সংসার করছেন, মাত্র ৩০ বছর বয়সে আকস্মিক মৃত্যু হয় তাঁর, সম্ভবত হার্ট অ্যাটাক। কিন্তু শ্মশানঘাটে হঠাৎই তিনি আবার প্রাণ ফিরে পান। মৃত্যুর পর আবার বেঁচে ফেরার জন্য, তৎকালীন অষ্টাদশ শতাব্দীর বাংলা সমাজ তাকে মেনে নেয়নি। অগত্যা গঙ্গার এ পারে এসে বেহালা চত্বরে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীকালে অযোধ্যা হালদারের মেয়েকে বিয়ে করেন নতুন সংসার শুরু করেন।

পুজোর ঘটনাটা শুরু হয় ১৭৭০ সাল নাগাদ। জগৎরামের চার ছেলে ও একমাত্র কন্যা জগত্তারিণী, প্রত্যেকবারের মতো সে বছরও গেছে মামার বাড়ির দূর্গাপুজোতে। কিন্তু আদরিণী মেয়ের মনে হল, তাকে যেন কিছুটা অবহেলা করা হচ্ছে সেখানে। অভিমান নিয়ে অষ্টমীর দিন বাড়ি ফিরে এলো সে। বাবাকে জানালো সেও বাড়িতে দূর্গাপুজো করতে চায়, আর সেটা এই বছরেই। মেয়ের জেদের কাছে নতি স্বীকার করে পরের দিন অর্থাৎ নবমীতেই ঘটে-পটে পুজো করলেন জগৎরাম।

পুজোর সেই শুরু। তখন ঘটে-পটেই হতো পুজো। জগৎরামের নাতি যদুনাথ মুখোপাধ্যায় কর্মসূত্রে ছিলেন ঢাকায়। সেখানে থাকাকালীন ঢাকেশ্বরীর মূর্তি দেখে মনস্থির করলেন, কলকাতার বাড়িতে সেই আদলে সোনার দূর্গা মূর্তি গড়বেন। কিন্তু শুধু সোনার তৈরি প্রতিমায় প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয় না। তাই অষ্টধাতু সংযোগে মাতৃমূর্তি স্থাপিত হলো ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে এই বেহালার বাড়িতে। তার পর থেকেই, এই সোনার প্রতিমাকে কেন্দ্র করে জমে ওঠে প্রতি বছরের দুর্গোৎসব। পুজো হয় তান্ত্রিক মতে, তাই বলির প্রচলন আছে। পশুবলি হয়, সঙ্গে চালকুমড়ো ও আখ বলিও হয়।

মায়ের ভোগনিবেদনের বিষয়ে। ভোগের একটি বিশেষত্ব হলো, প্রতিপদ থেকে ষষ্ঠী পর্যন্ত প্রতিদিনই ফল-মিষ্টি সহযোগে মায়ের আরতি হয়। এই বাড়ির অন্যতম বৈশিষ্ট্য পোড়া মাছের ভোগ। সকালে হয় খিচুড়ি ভোগ, দুপুরে সাদা ভাত, ডাল, তরকারি এবং অবশ্যই ‘মাছপোড়া’ (ল্যাটা, সিঙ্গি, মাগুর বা অন্য কোনও মাছ)। বিজয়ার দিন দেওয়া হয় পান্তা-ভোগ, যা নবমীর রাতে ভাতে জল ঢেলে বানানো হয়। এর সাথে থাকে কচু-ঘন্ট, মাছপোড়া আর চালতার অম্বল। যেহেতু কৈলাস অনেকটা লম্বা পথ, তাই সেই যাবার পথে খাবার জন্য ‘কন্যারূপী’ মাকে দেওয়া হয় দই, খই, মুড়কি ও চিড়ে। আর হ্যাঁ, বিসর্জনের অনুষ্ঠানে থেঁতো পান খাওয়ানো হয়।

তবে বাড়িতে কোনো সন্ধিপুজো হয় না। এর নেপথ্যে আছে একটা অদ্ভুত কাহিনী। অনেক বছর আগে সন্ধিপুজোর পূর্বে পুজো প্রাঙ্গণে একটি ছোট্ট মেয়ে লাল শাড়ি পরে খেলছিল। কিন্তু পুজোর পর তাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তখন অদ্ভুত ভাবে সবাই দেখতে পায়, দুর্গা মূর্তির ঠোঁটের কোণে এক টুকরো লাল কাপড়, যা ছিল সেই বালিকার শাড়ির অংশ। এই বাড়ির সন্ধিপুজো বন্ধ হয়ে যায়, সেই অলৌকিক ঘটনার পর থেকে। নবমীর দিন হয় একটি বিশেষ পুজো, যার নাম ‘সধবা পূজা’। এখানে পরিবারের জ্যেষ্ঠা সধবা যিনি, তারই পুজো করা হয়। একটি বিশেষ স্তোত্র যার নাম ‘বটুক ভৈরব’, সেটি দশমীর বিদায় সন্ধ্যায় পাঠ করা হয়। এরপরে পারিবারিক পুকুরে নবপত্রিকা ও ঘট বিসর্জন দিয়ে, বাৎসরিক দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

দেবীপক্ষে নেট পাড়ায় ভাইরাল ‘ভাগের মা’

parijayi-dirga Barisha

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: গত বছর পরিযায়ী মা, আর এই বছরে ভাগের মা। শিল্পী রিন্টু দাস চমক দিয়েই চলেছেন। মণ্ডপে অন্যরকম দুর্গা দেখতে হলে আবারও সেই আসতে হবে বেহালা বরিশা ক্লাবে।

শ্রমিকের আদলে প্রতিমা গড়ে সারা তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন শিল্পী। বলা হয় মৃন্ময়ী বা চিন্ময়ী হয়ে উঠছেন। ঠিক সেটাই হয়ে উঠেছিল ওই প্রতীকী দুর্গা মূর্তিতে। পরিয়ায়ী শ্রমিকের মা দুর্গার কোলে সন্তান। কোমরে বাঁধা পুটলি নিয়ে মা চলেছেন উদ্দেশ্যহীন পথে। করোনা আবহে পরিযায়ী শ্রমিকদের সমস্যা সারা দেশে প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছিল। কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা সমালোচিত হয়েছিল রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ক্ষেত্র থেকে। জীবনের সেই বাস্তব গল্প জীবন্ত হয়ে উঠেছিল ওই মূর্তির মাধ্যমে। এবার আবারও পূজো মণ্ডপে শোরগোল ফেলতে তৈরি রিন্টু দাসের তৈরি ভাগের মা।

এবার বড়িশার ওই ক্লাবের জন্য নতুন ভাবনাতে আবারও থাকছে সমাজ-চেতনা। শিল্পীর ভাবনায় ‘ভাগের মা’ বাংলায় একটা প্রবাদকে ঘিরে গড়ে উঠেছে যেখানে বলা হয় ‘ভাগের মা গঙ্গা পায় না’ ।

parijayi-dirga Barisha

শিল্পী রিন্টু দাসের , বল্লাল সেন স্বপ্নাদেশে মা দুর্গাকে পান। সেই দেবীকে তিনি পেয়েছিলেন ঢাকা অবস্থায়। তাই তাঁর নাম হয়, ঢাকেশ্বরী দুর্গা। ১৯৪৭ এ যখন দেশভাগকে কেন্দ্র করে বাংলা উত্তাল, তখন  লক্ষ লক্ষ মানুষকে ভিটেমাটি ছাড়া হতে হয়। ছাড় পাননি স্বয়ং মা দুর্গাও। বাস্তুহারা হতে হয় দেবীকেও। ঢাকেশ্বরী মায়ের মূর্তিকেও ঢাকা শহর থেকে কলকাতায় আনা হয়।

সেই মাতৃপ্রতিমা এখনও এই কলকাতা শহরে কুমোরটুলিতে নিয়মিত পূজিতা। কিন্তু শিল্পীর শঙ্কা, আবারও কোনও অস্থির সময় আসবে না তো? যখন ভিটেমাটি ছেড়ে মাকে আবারও কোথাও চলে যেতে হবে ? সন্তানদের নিয়ে মা যাবেন কোথায় ? শিল্পী-মনের আকাশে সেই দুশ্চিন্তার মেঘই প্রকাশ পেয়েছে তাঁর ভাবনায়। বাংলা প্রবাদের অর্থ, যে মায়ের সন্তানেরা চুলচেরা হিসেব করে মায়ের দায়িত্ব নেয়, সেই মায়ের দুর্দশার শেষ নেই। এই ভাবনার ফুটে রিন্টু দাসের মূর্তিতে। তাঁর প্রতিমা দাঁড়িয়ে সীমান্তে। তিনি কোনদিকে যাবেন জানেন না। এপার ওপর তোলপাড়।

শিল্পী রিন্টু দাস বরাবর মাতৃপ্রতিমার মধ্যে খুঁজে পেতে চান ঘরের-মাকেই। এবারের দেবীমূর্তির কম্পোজিশনে রয়েছে কাঁটাতার, ট্রাক। মা ভিটে ছাড়ার আগে ভাবছেন এই বাড়িতেই এসেছিলেন নববধূ হয়ে। আজ তিনি ঠিকানাহীন। মণ্ডপে শোনা যাবে ভাষ্যও – এই ভিটামাটি ছাইড়া, পোলাপান লইয়া আবার যামু কই? যেন দেশ ভাগের যন্ত্রণাই আবার ফিরে আসবে। সেই কম্পোজিশন দেখা অপেক্ষাতেই দর্শকমহল।

এই বাড়িতে দুর্গা পূজিতা হন সর্বমঙ্গলা রূপে

Howrah sarvamangala devi

বিশেষ প্রতিবেদন: হাওড়া জেলার প্রাচীন বনেদি পরিবারের মধ্যে অন্যতম এই দুর্গাপুজো। তবে মা এখানে পূজিত হন সর্বমঙ্গলা রূপে। এখানকার পূজা জমিদার বাড়ির পূজা না হলেও পূজার সাথে যুক্ত আছে মায়ের এক আধ্যাত্মিক ও অলৌকিক কাহিনী।

স্বর্গীয় ধীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এই পূজার প্রথম সূচনা হয় হাওড়া জেলার ঝিকিরা গ্রামে। আনুমানিক ৮০ বছর আগে ১৯৪১ সালে এই পূজার সূচনা হয়।তবে সময়ের পরিবর্তনে পরিবারের সকল সদস্যরা বর্তমানে হাওড়ার বকুলতলা লেনে রামরাজতলা এলাকায় চলে আসে। ২০০৫ সালে দুর্গা পুজো শুরু হয় ঘট ও মা এর পট চিত্রে ও নবপত্রিকা তে। ২০০৯ সালে মৃন্ময়ীরূপে মা এর আগমন চক্রবর্তী বাড়িতে তারপর থেকে বর্তমান বাড়িতে পুজো হয়ে আসছে।

এবার একটু বলা যাক বাড়ির পূজা সূচনার বিষয়টি।পূজার সূচনার বিষয়টি বলতে গেলে পিছিয়ে যেতে হবে প্রায় ৬০ বছর পিছনে।পুরাকালে মা কালীর স্বপ্নাদেশ এই বাড়িতে স্থাপন হয় বুড়িমার ও মা মঙ্গলা কালীর মন্দির। মায়ের স্বপ্নাদেশে এখানে দুর্গার পূজা শুরু হয়। প্রথমেই বাড়িতে পটে পুজা হত। তবে পরবর্তীতে মা মঙ্গলার নির্দেশে পরবর্তীতে মায়ের মৃন্ময়ী মূর্তি পূজা শুরু হয়।পূর্বে নিজ গৃহেই প্রতিমা তৈরি হতো তবে কর্মব্যস্ততায় জীবনের ফলে এখন প্রতিমা কুমোরটুলি থেকে আনা হয়। রথের পরে যে প্রথম শনিবার আসে সেই দিন মূর্তির মূল্য পূজার মধ্য দিয়ে মায়ের পূজার সূচনা হয়। তারপর মায়ের মূর্তি তৈরি শুরু হয় বর্তমানে কুমারটুলির মহিলা শিল্পী কাকলি পালের হাতে।

Howrah sarvamangala devi

এবার বলা যাক বাড়ির মূল পূজা সম্পর্কে,বাড়ির নিয়ম অনুযায়ী মহালয়ার আগের দিন অর্থাৎ মাতৃপক্ষ শুরুর আগের দিন কুমোর শালা থেকে বাড়ির গর্ভগৃহে ( গৃহমন্দিরে ) মূর্তি আনায়ন করা হলেও দেবীর বোধন হওয়ায় মহাষষ্ঠীতে। বাড়ি ব্রাহ্মণ বংশ জাত হ‌ওয়ার কারণে পরিবারের সদস্যরাই এই পূজার মূল পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করে আসেন। আর পাঁচ দিন ধরে মায়ের বিশেষ পূজা চলে সম্পূর্ণ শাক্ত মতে। বাড়ির নিয়ম অনুযায়ী এখানে নবপত্রিকা স্নান বাড়ির মধ্যেই সম্পন্ন হয়। সপ্তমীতে দেবীকে দেওয়া হয় অন্নভোগ এবং সঙ্গে থাকে শুক্ত, ভাজা, আলু ভাজা ,আলুর দম, ডাল এবং বড়ির ঝাল তরকারি , পরমন্ন, চাটনি দই , মিষ্টি , পান যেটা এই বাড়ির বিশেষত্ব। এবং অষ্টমীতে থাকে লুচি ,আলুরদম, ফুলকপির ডালনা, সুজির পায়েস, চাটনি ও মিষ্টি এবং নবমীতে হয় পোলাও, আলুর দম ,পনিরের তরকারি, চাটনি, পরমান্ন এবং দশমীতে মায়ের কোন অন্নভোগ হয় না সেদিন দেওয়া হয় দোধিকর্মা ( দই , চিড়ে , মুড়কি মিষ্টি )। মা এর স্বপ্নাদেশে এই বাড়ির বিশেষত্ব ও মায়ের প্রধান ভোগ হল চিঁড়ে, মুড়কি যা অন্ন ভোগের আগে নিবেদন করা হয়। এই ভোগ মহা সপ্তমী অষ্টমী ও নবমীতে নিবেদন করা হয় ।

বৈদিক শাস্ত্র মতে দুর্গাপূজার বলি হিসাবে পাঁঠার কথা উল্লেখ থাকলেও এই বাড়িতে কোন দিনই বলি হয় না ,বলির বদলে দেওয়া হয় বিল্ব পত্রের মাল্য। বাড়ির নিয়ম অনুযায়ী দশমীতে অপরাজিত পূজার পর ব্রাহ্মণ নবপত্রিকা ও মায়ের স্নান দর্পণ, একটি অস্ত্র ও বিল্লবাসিনি দুর্গা মাকে প্রতিষ্ঠিত জলাশয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়। তারপর হাওড়া ময়দান সংলগ্ন গঙ্গার ( রামকৃষ্ণপুর ) ঘাটে দেবীর মূর্তিমান প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। বিসর্জনের পর গঙ্গার জল দেবী ঘটে ভোরে আনা হয় যা সারা বছর বড়ির গৃহ মন্দিরে মায়ের বেদীতে পূজা হয়। এইভাবে ধীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর পরবর্তী প্রজন্ম এই বাড়ির পূজার ধারক ও বাহক হয়ে আসছেন।

তবে দূর্গা পূজা পাঁচ দিন ধরে চললেও এই বাড়িতে সারা বছরই উৎসব লেগে থাকে, প্রতি আমাবস্যায় গৃহ মন্দিরে চলে বিশেষ পূজা এবং ভোগ নিবেদন। বৈশাখী আমাবস্যা চলে মা মঙ্গলা কালীর প্রতিষ্ঠাতা পূজা এবং হাজির হয় অজস্র ভক্তণন। এই ভাবে বংশপরম্পরায় মায়ের বিভিন্ন রুপে পূজা হয়ে আসছে এই চক্রবর্তী বাড়িতে। প্রতিবছর মা এর আরাধনায় মেতে ওঠে গোটা পরিবার। এই পরিবারে মাতৃ আরাধনায় আন্তরিকতা ও ভক্তিভাবের কোনও অভাব থাকে না ।

নবরাত্রি ২০২১: কবে শুরু এবং তিথি-তাৎপর্যসহ বিস্তারিত তথ্য জেনে নিন

Navratri

অনলাইন ডেস্ক: আমরা নবরাত্রি ২০২১-এর কাছাকাছি আসছি। ১০ দিনব্যাপী এই উৎসব ভারতজুড়ে অত্যন্ত আড়ম্বর ও উৎসাহের সঙ্গে পালিত হয়। এই উৎসবে দেবী দুর্গার পূজা করা হয়৷ তিনি ক্ষমতার প্রতীক। নবরাত্রির আক্ষরিক অর্থ ‘নয় রাত’ এবং এটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য হিন্দু উৎসব৷ যা এই বছরের ৭ অক্টোবর থেকে পালন করা হবে।

এই শুভ উপলক্ষ ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। ১৫ এবং ১৬ অক্টোবর বিজয়া দশমী৷ যা দশেরা নামেও পরিচিত। এটি প্রতি বছর নবরাত্রির সমাপ্তি চিহ্নিত করে। নবরাত্রি চলাকালীন ভক্তরা শৈলপুত্রী, ব্রহ্মচারিনী, চন্দ্রঘণ্টা, কুশমণ্ডা, স্কন্দ মাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রি, মহাগৌরী এবং সিদ্ধিদাত্রি নামে নয়টি দেবী দুর্গার পূজা করেন।

নবরাত্রি ২০২১-এর তারিখ এবং তিথি –
১। ৭ অক্টোবর প্রতিপদ তিথিতে ঘটস্থাপণ এবং শৈলপুত্রী পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
২। ৮ অক্টোবর দ্বিতীয়া তিথিতে ব্রহ্মচারিনী পূজা হবে৷
৩। ৯ অক্টোবর তৃতীয়া এবং চতুর্থীতে চন্দ্রঘণ্টা পূজা এবং কুশমণ্ডা পূজা৷

৪। ১০ অক্টোবর পঞ্চমী তিথি স্কন্দমাতা পূজা৷
৫। ১১ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথির জন্য কাত্যায়নী পূজা হবে৷
৬। ১২ অক্টোবর সপ্তমী তিথি৷ এদিন কালরাত্রি পূজা করা হয় ।

৭। ১৩ অক্টোবর অষ্টমী তিথিতে মহা গৌরী পূজা।
৮। ১৪ অক্টোবর নবমী তিথিতে সিদ্ধিদাত্রী পূজা ৷
৯। ১৫ অক্টোবর দশমী তিথিতে নবরাত্রি পরাণ/দুর্গা বিসর্জন করা হয়।

নবরাত্রীর তাৎপর্য: এটা বিশ্বাস করা হয় যে, ভগবান শিব তার স্ত্রী দেবী দুর্গাকে তার মাকে মাত্র নয় দিনের জন্য দেখার অনুমতি দিয়েছিলেন। সেই সময় দেবী দুর্গা অসুর মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন। তাই দেবী দুর্গা ওরফে কালীকে শক্তির প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়- চূড়ান্ত শক্তি। এটাও বলা হয় যে, মা দুর্গার চিরন্তন ঐশ্বরিক শক্তি আছে৷ যা কখনও সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যাবে না।

নবরাত্রীর গুরুত্ব : নয়টি রাতের মধ্যে দেবীর নয়টি রূপকে অনেক জাঁকজমকের সাথে পূজা করা হয়। দশম দিনে, যা এই বছর ১৬ অক্টোবর লোকেরা রাবণ, মেঘনাদ এবং কুম্ভকর্ণের বিশাল কুশপুত্তলিকা পোড়ানোর মাধ্যমে বিজয়া দশমী মানে দশেরা উদযাপন করে। এইভাবে নবরাত্রি নিজেই অশুভের বিরুদ্ধে বিজয়ের প্রতীক।

নবরাত্রী উদযাপন: নবরাত্রির এই নয় রাত্রে মানুষ উপবাস পালন করে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়৷ ভগবান রামের কাহিনী তুলে ধরে। অষ্টম দিনে কন্যা পুজো হয়৷ যেখানে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পূজা করা হয় এবং প্রসাদ, খাবার এবং মিষ্টি দেওয়া হয়। সারা দেশে ডান্ডিয়া এবং গরবা অনুষ্ঠান সম্প্রদায়ের লোকদের দ্বারা আয়োজন করা হয়।

কেন্দ্রীয় আইনে ক্ষিপ্ত সোনাগাছি এবার দুর্গাপুজোয় দুয়ারের মাটি দেবে না

sonagachi-durga-puja

বিশেষ প্রতিবেদন: কেন্দ্রীয় আইনে ক্ষুব্ধ যৌনকর্মীরা। তাই দুর্গাপুজোয় এই বছর কোনও বারোয়ারি পুজো কমিটিই পাবে না তাদের দোরের মাটি। এমনটাই জানিয়েছে সোনাগাছির (Sonagachi) দুর্বার মহিলা সমন্বয় সমিতি।

দুর্গা পূজায় ‘যৌনপল্লীর মাটি’ লাগে বলে উল্লেখ রয়েছে শাস্ত্রে। অতীতে আলাদা আলাদাভাবে এর বিরোধিতা করলেও এবার সেই রীতি মানার জন্য বারোয়ারি কমিটিগুলির পাশে আর দাঁড়াতে চায় না তারা। আগেও এমন কথা উঠেছিল কিন্তু এবার একসঙ্গে হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সব যৌনপল্লীই। সমস্ত যৌনকর্মী মিলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দুর্বার মহিলা সমন্বয় সমিতির সম্পাদক কাজল বসু জানিয়েছেন, “আগেও আমরা এই কথা বলেছি যে, আমাদের দরজার মাটি না পেলে পূজা হবে না, কিন্তু কেউ আমাদের ঘরের চৌকাঠ পার হলেই অপরাধী। কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন আইনই সেটা বলেছে। তাই আমরা ঠিক করেছি, গোটা রাজ্যেই এ বার সব যৌনপল্লী এক সুরে বলবে, দরজার মাটি দেব না।

কিন্তু কেন এই ক্ষোভ? তাঁরা জানাচ্ছেন, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার যে মানবপাচার-বিরোধী আইন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে তাতে এই পেশায় যুক্ত যৌনকর্মীরা বিপদের মধ্যে পড়বেন। এমনকি, এই পেশা উঠে যেতে পারে আমাদের মনে হচ্ছে। তাই এই সিদ্ধান্ত’

sonagachi

প্রসঙ্গত,‘ট্র্যাফিকিং পার্সনস বিল ইতিমধ্যেই লোকসভায় পাশ হয়ে গিয়েছে। এখন রাজ্যসভার অনুমোদন পেলেই তা আইন রূপায়নের দিকে এগিয়ে যাবে। সেই বিলই সিলেক্ট কমিটি-তে পাঠানোর দাবি তুলে গত অগস্ট মাসে সংসদ চলাকালীনই সরব হয়েছিল দুর্বার। সংগঠনের আইনজীবী অভিজিৎ দত্ত বলেন, “আমাদের দেশে আগের পাচারবিরোধী আইন রয়েছে। সেটির পরে এই বিলে কোথাও ইচ্ছুক-অনিচ্ছুক যৌনকর্মীদের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ ইচ্ছাকৃতভাবেও যরা এই পেশায় আসবেন তাদের পুনর্বাসন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু যারা স্বেচ্ছায় এই পেশায় এসেছেন তাদের তো বাধ্য করা যায় না। মানবপাচার রোধের নামে আসলে যৌনকর্মীদের পেশাটাকেই তুলে দিতে চাইছে কেন্দ্র। সেই রেশ টেনেই সর্বজনীন দুর্গাপুজোকে বয়কট করতে চাইছেন যৌনপল্লীর বাসিন্দারা।”

সোনগাছি অর্থ্যাৎ যৌনপল্লীর সংগঠন দুর্বার অবশ্য নিজেদের পূজো করছে এবারও। তবে অতীতে সেই পূজোয় পুলিশের অনুমতি নিয়ে চাপে পড়তে হয়েছিল দুর্বারকে। সেই সময় কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে অনুমতি আদায় করেছিল দুর্বার।

এবার নিজেদের পুজোয় যৌনপল্লীর মাটি ব্যবহার করা হবে তো? জবাবে দুর্বারের সদস্য ও সোনাগাছির পুরনো বাসিন্দা বিমলা রায় বলেন, এত কাল তো আমাদের মাটি নিয়ে সবার পূজো হয়েছে। এ বার থেকে আমাদের মাটি, আমাদের পূজা। এটাই আমাদের পুজোর থিম বলতে পারেন।

পুরোহিতরা বলছেন, দুর্গাপুজোয় রাজদ্বার, সর্বতীর্থ, বৃষশৃঙ্গ, গজদন্তের মাটিও লাগে। কিন্তু সে সব তো আর পাওয়া যায় না। গঙ্গামাটিকে প্রতীকী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। একান্তই মাটি না পাওয়া গেলে সে ক্ষেত্রে প্রতীকী ব্যবহারের অনুমোদন রয়েছে শাস্ত্রে।