২০২১ দুর্গাপূজার তারিখ-তাৎপর্য-খাদ্য সম্পর্কে জানুন

about Durga Puja , food , Durga Puja

অনলাইন ডেস্ক: উৎসবের মরসুম শুরু হয়ে গেল৷ দেশজুড়ে এখন আনন্দ এবং উদ্দীপনার অনুভূতিতে আচ্ছাদিত। দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে এই সময়ে বিভিন্ন উৎসব হয়৷ দিল্লি, ইউপি, গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং অন্যান্য রাজ্যগুলি নবরাত্রির নয় দিনের উৎসব উদযাপন করবে, তেমনই এর সবচেয়ে বড় উৎসব হল দুর্গাপূজা। পাঁচ দিনের উৎসবে ভক্তরা দেবী দুর্গার পূজা করেন৷ এই পাঁচ দিন হল ষষ্ঠী, মহা সপ্তমী, মহা অষ্টমী, মহা নবমী এবং বিজয়া দশমী। উৎসবের শেষ দিনে দুর্গা বিসর্জন হয় এবং ভক্তরা উৎসবের সমাপ্তি করে জলে দেবীর মূর্তি ভাসিয়ে দেয়। দেশের পূর্বাঞ্চলে দুর্গাপূজা আড়ম্বরপূর্ণভাবে পালিত হয়।

দুর্গাপূজা ২০২১ তারিখগুলি নিম্নরূপ :
ষষ্ঠী – ১১ অক্টোবর ২০২১ , মহা সপ্তমী – ১২ অক্টোবর ২০২১, মহা অষ্টমী – ১৩ অক্টোবর ২০২১ , মহা নবমী – ১৪ অক্টোবর ২০২১ এবং বিজয়দশমী – ১৫ অক্টোবর ২০২১

দুর্গাপূজার গুরুত্ব :
দেবী দুর্গা একটি অগ্নিময় দেবী বলে বিশ্বাস করা হয়৷ যিনি ‘মহিষাসুর’ দানবের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করেছিলেন এবং মন্দ থেকে ভালোর চিন্তার উদাহরণ দিয়েছেন। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, গল্পটি বলে যে মহিষাসুর ভগবান ব্রহ্মার কাছ থেকে একটি বর পেয়েছিলেন যে, কোনও মানুষ তাকে কখনও হত্যা করতে পারে না। বর পেয়ে তিনি নিজেকে এক অদম্য প্রভু ভাবতে শুরু করেন এবং স্বর্গে বসবাসকারী দেব-দেবতাসহ সবাইকে যন্ত্রণা দিতে থাকেন। অসহায় বোধ করে দেবতারা ভগবান বিষ্ণুর কাছে গেলেন। ভগবান বিষ্ণু, ভগবান শিব এবং ভগবান ব্রহ্মা একসঙ্গে মহিষাসুরকে বধ করতে দুর্গাকে উস্কে দিয়েছিলেন। বিজয়দশমীর শুভ দিনে দেবী দৈত্য ও একঘেয়ে যুদ্ধে অসুরকে পরাজিত করেন। আর তাই দেবীকে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ বলা হয়।

দুর্গাপূজার জন্য উৎসবমূলক খাবার: উৎসবটি মন্দের উপর ভালোর বিজয় এবং দেশের অন্যান্য উৎসবের মতো মা দুর্গার অবিস্মরণীয় যুদ্ধ কিছু সুস্বাদু ভোগ উপাদেয় ছাড়া সম্পূর্ণ হতে পারে না। আপনি যদি পশ্চিমবঙ্গের মতো ভোগের সুগন্ধি প্রস্তুতিতে নিজেকে লিপ্ত করতে চান, তাহলে এখানে কয়েকটি সহজ রেসিপি রয়েছে যা দিয়ে আপনি এই দুর্গাপূজা তৈরি করতে পারেন৷

১। খিচুরি: একটি বাংলা স্টাইলের খাদ্য৷ যা খিচুরি নামে স্থানীয় উপভাষায় পরিচিত৷ এটি পুজোর মরসুমে একটি অবশ্যই চেষ্টা করা খাবার। আপনি প্রায় সব পুজো প্যান্ডেলে পরিবেশন করা ক্লাসিক ভোগ খিচুরি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷ তবে আপনি সহজেই এটি আপনার নিজের রান্নাঘরেও তৈরি করতে পারেন। আপনার যা দরকার তা হল কিছু ভাত, মুগ ডাল, কিছু সবজি ।

২। বেগুনি: আপনার খিচুরির পাশে যোগ করার আরেকটি দ্রুত ব্যবস্থা হল এই ঝামেলাহীন বেগুন ভাজা৷ যা তৈরি করা খুব সহজ। বেগুনের পাতলা টুকরোগুলো মসলাযুক্ত ময়দার বাটাতে ডুবিয়ে নিন এবং সম্পূর্ণ সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন৷ সময়ের সঙ্গে নরম হওয়ার আগেই সেগুলি গরম গরম খান।

৩। লাবড়া: এই সত্যিকারের মিশ্র সবজির প্রস্তুতি হল সত্যিকারের দুর্গাপূজার খাবার সম্পূর্ণ করার জন্য আপনার যা প্রয়োজন। মসলাযুক্ত এবং সুস্বাদু এই মসলাযুক্ত মিশ্র সবজিটি কুমড়া, আলু, মুলা, ফুলকপি এবং পাঁচফোরন নামক সহজ ভারতীয় মশলার মিশ্রণ থেকে তৈরি। একটি সত্যিকারের বাঙালি খাবার।

৪। মিষ্টি দই: বাঙালি খাদ্য সামগ্রীর তালিকায় মিষ্টি দইয়ের কোনও ভূমিকা প্রয়োজন নেই৷ সুস্বাদু দুধের দই প্রায় সব ধরনের বাঙালি থালির একটি নিয়মিত বৈশিষ্ট্য। সহজ রেসিপি দিয়ে আপনি আপনার নিজের রান্নাঘরেই সুস্বাদু মিষ্টি দই তৈরি করে নিতে পারেন।

৫। পায়েস: পায়েস একটি জনপ্রিয় বাংলা খাবার৷ যা বেশিরভাগ মা দুর্গার ভোগে খিচুরির সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। দুধ এবং চালের এই সুস্বাদু মিষ্টি রেসিপি আপনি সহজেই বানিয়ে নিতে পারেন৷

হাতে হাত রেখে উৎসব, এক অঙ্গনে ১৬টি দশভূজা

Durga Puja in Kolkata

বিশেষ প্রতিবেদন: একটা পূজো মণ্ডপ আর তার ছত্ৰছায়াতেই তৈরি হল ১৬টি ক্লাবের দুর্গা। যা মহালয়ার আগে পাড়ি দিল মণ্ডপের পথে। এভাবেই একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে উৎসব মহোৎসবে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নিল চোরবাগান সার্বজনীন।। 

আজ থেকে প্রায় ৩ মাস আগে একটা ছোট্ট পরিকল্পনা আজ মহীরুহের রূপ নিয়েছে। শহরের ১৬ টি ক্লাবের মাতৃ মূর্তি গড়ার দায়িত্ব নিয়েছে চোরবাগান। এই বছর চোরবাগানের পুজোর পরিকল্পনা “ছত্রছায়া” এবং চোরবাগান এই করোনা পরিস্থিতিতে সত্যিই ছত্রছায়া হয়ে উঠতে পেরেছে।

Durga Puja in Kolkata

লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হয় পুজো উদ্যোক্তাদের। চোর বাগানের মণ্ডপ হয়ে ওঠে যেন কুমোরটুলি। নয় নয় করে তেরোটি প্রতিমা তৈরি হয় একই ডিজাইন একই আদল এবং একই জায়গায়। নিজেদের প্রতিমার পাশাপাশি অন্যদেরও। যার পোশাকি নাম দশাঙ্গনে দশভুজা। প্রতিমা তৈরির দায়িত্বে শিল্পী বিমল সামন্ত।

Durga Puja in Kolkata

টাকা না থাকলে পুজোয় সমস্যা যাদের তাদের মধ্যে লটারি করে বেছে নিয়ে তাদের পাশে চোরবাগান সর্বজনীন। ১০১ টাকার বিনিময়ে এক-একটি প্রতিমা দিচ্ছে চোরবাগান সর্বজনীন। এই তালিকায় রয়েছে ফ্রেন্ডস অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন, ২) সারথী, ৩) বেলেঘাটা নবালয় সংঘ ক্লাব, ৪) আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র ক্লাব, ৫) মধ্য কলকাতা বিশ্বকল্যাণ সর্বজনীন, ৬) মা আগমনী সংঘ, ৭) আদি কাম্বুলিটোলা ও শ্যামবাজার স্ট্রিট সর্বজনীন দুর্গৎসব, ৮) ভবানীপুর কিশোর সংঘ, ৯) দুর্গাপুজা বিএল ব্লক কমিটি, ১০) বেলেঘাটা সরকার বাজার বিবেকানন্দ সংঘ। এছাড়াও তিনটি বিশেষ পুজো উদ্যোগকে দেওয়া হচ্ছে প্রতিমা। আরো তিনটে ক্লাবকে আর্থিক সাহায্য। বিশেষভাবে নির্বাচিত পুজোগুলি হল, ১) কলকাতার যৌনপল্লি এলাকার দুর্বারের পুজো, ২) মেদিনীপুরের ক্লাব ভীমেশ্বরী যুব ছাত্র সংঘ, ৩) ২৮ নং পল্লি মহিলাবৃন্দ।

Durga Puja in Kolkata

এছাড়া যে সকল পুজো ১০০০১/- টাকা করে পেয়েছেন, ১) পানশিলা সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি, ২) তালবাগান আদিবাসীবৃন্দ, ৩) ২১ নং কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের। উৎসব হোক সবার। সেই বার্তা নিয়েই ছত্রছায়া হয়ে দাঁড়িয়েছে চোরবাগান সর্বজনীন।

Bangladesh: শেখ হাসিনা সরকারের সিদ্ধান্ত দুর্গা মণ্ডপে মাস্ক পরেই ঢুকতে হবে

Bangladesh Durga puja

নিউজ ডেস্ক: করোনা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করেই দুর্গা মণ্ডপ দর্শনার্থীদের জন্য নিয়ম জারি করল বাংলাদেশ (Bangladesh) সরকার। মন্দিরে বা মণ্ডপে প্রবেশের সময় অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।

রবিবার বাংলাদেশ সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের সবথেকে বড় উৎসব দুর্গাপূজার সময় বিভিন্ন সরকারি নিয়ম জারি করা হয়েছে। সভায় ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের আইজিসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরা।

বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আসন্ন দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আজান ও নামাজের সময় মসজিদের কাছের পূজামণ্ডপগুলোতে সংযতভাবে পূজাঅর্চনা ও বাদ্যযন্ত্র বন্ধ রাখতে হবে। এছাড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, দুর্গা মণ্ডপের আশেপাশে মেলা বসানো যাবে না।

দুর্গাপূজা অনুষ্ঠান সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় জানানো হয়, চলতি বছর ৩১ হাজার ১৩৭টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। উৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র পুলিশ বাহিনী তৎপর। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, পূজা চলাকালীন সময় পুলিশি টহল জোরদার থাকবে। কোনওরকম সন্দেহজনক অপতৎপরতা চোখে পড়লে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

মন্দিরে প্রবেশের সময় হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ক্ষেত্র বিশেষে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকবে। থার্মাল স্ক্যানার থাকবে, কারো শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকলে পূজামণ্ডপে ঢুকতে দেওয়া হবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজামণ্ডপে আরাধনা করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিমা বিসর্জন দিতে হবে।

Weather update: পুজোর মুখে ঘর পোড়া বাঙালি রৌদ্রজ্জ্বল আকাশেও দেখছে আশঙ্কার মেঘ

Durga puja rain

নিউজ ডেস্ক: এত তো বৃষ্টি হল। তাহলে পুজোতেও কী ঝামেলা পাকাবে বৃষ্টি? এমন হলে তো এই যে সরকার রাতে ঘোরাফেরায় ছাড় দিল সবই যাবে খরচার খাতায়! বাঙালির অবস্থা এখন সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরানোর মতো। রোদ দেখেও বাঙালি ভাবছে এর পিছনে আবার বৃষ্টির ষড়যন্ত্র লুকিয়ে নেই তো?

ভাবনায় ভুল নেই। এখনও স্পষ্ট করে কিছু না বললেও সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে বৃষ্টির। কারণ বর্ষার স্লো বাট স্টেডি এবং জমাটি ব্যাটিং। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘আরও এক সপ্তাহের মধ্যে বিষয় পরিষ্কার হবে’। তাই এখনই কিছু বলছেন না তিনি। দিল্লির মৌসম ভবনের তরফে জানা গিয়েছে ৬ অক্টোবর মহালয়ার দিন থেকে থেকে, উত্তর পশ্চিম ভারতে বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এটা শুনে বেশি উচ্ছসিত হবেন না, কারণ বাংলা পূবের রাজ্য।

সেখান থেকে কবে অঝোরে বৃষ্টি দেওয়া এবারের বর্ষা হবে বিদেয় হবে ত বোঝাই যাচ্ছে না। এতেই, চিন্তার মেঘ ঘোরাঘুরি করছে প্রতিমা শিল্পী থেকে শুরু করে পুজো উদ্যোক্তা এবং সাধারণ মানুষের মনে। তথ্য এও বলছে যে, অন্যান্য বছর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহেই বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সে জায়গায় এবার অনেক দেরী করে বর্ষা বিদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গে আপাতত কয়েকদিন এমনই রোদ-ঝলমলে আবহাওয়া থাকবে। তবে, শনিবার থেকে উত্তরবঙ্গে শুরু হবে বৃষ্টি।সপ্তাহান্তে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, এবারের বর্ষায় গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে স্বাভাবিকের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। শুধু সেপ্টেম্বরেই কলকাতায় স্বাভাবিকের তুলনায় ৩১ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে বলে খবর। 

Durga Puja: ‘ধর্ম হোক যার যার, উৎসব সবার’

অফবিট ডেস্ক: সামনেই দুর্গা পূজা (Durga Puja), হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের পার্বতীপুর গ্রামের মুসলমান মহল্লায় এখন হাঁফ ফেলার সময় নেই। কারণ এই গ্রামের কমবেশি ৪০টি মুসলমান পরিবার প্রতিমার নকল চুল তৈরির সঙ্গে যুক্ত। একই চিত্র দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার মীরপুর গ্রামেও। দুই গ্রামের পরিবারগুলির কেউই সম্প্রীতির মতো ভারী শব্দের মানে বোঝেন না, ওদের একমাত্র বোধগম্য ‘পেটের টান’। সারা বছর ধরে শুধু প্রতিমার চুল তৈরি করেই এতগুলো জীবন চলে।

আরও পড়ুন আর মাত্র ৩ দিন, ভারত হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষিত না হলে সমাধি নেবেন এই ধর্মগুরু

দুটি গ্রামে গেলেই দেখা যাবে রাস্তার ধারে বাঁশের খুঁটিতে থরে থরে ঝোলানো কালো রঙের বিনুনি। রাজ্যের কুমোরটুলি ছাড়াও যা যায় রাজ্যের অন্যত্র, এমনকি ভিন রাজ্যেও। প্রতিমার মাথার এই চুল তৈরির প্রধান উপাদান হল পাট। হুগলির মশাট, শিয়াখালা প্রভৃতি এলাকা থেকে পাট আনা হয়। এরপর সেই পাট কেটে রঙে ভিজিয়ে রোদে শুকিয়ে নেওয়া হয় । তাকে তেল দিয়ে ছেনে বিনুনি তৈরি করে প্যাকেটে করে কলকাতার বাজারে পাঠানো হয়। পাট দিয়ে তৈরি এই চুল বিশেষ প্রক্রিয়ায় কোঁচকানো হয় বলে স্থানীয়দের মুখে ‘ক্রেপ’ ব্যবসা নামেও পরিচিত।

Durga Puja

সম্প্রতি পাট এবং রংয়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই শিল্পে সমস্যা তৈরি হয়েছে। গত বছর সেই ব্যবসায় থাবা বসিয়েছিল করোনা। অতিমারীতে যথেষ্ট ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন তারা। এবার বাধ সেধেছে বৃষ্টি, সঙ্গে মাথাচাড়া দিয়ে আবার বাড়ছে করোনা সংক্রমণও। এবছর দেরিতে বর্ষা আসায় কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত পাটের চুল ব্যবসায়ীরা। সারাদিন ঝিরঝির করে বৃষ্টি হওয়ায় চুল শুকোতে সমস্যা হচ্ছে।

আরও পড়ুন শরিয়তি আইনে চলা আফগানিস্তান থেকে উইঘুর মুসলিমদের চিনে পাঠাবে তালিবান

এত সমস্যা থাকলেও হাল ছাড়তে নারাজ পার্বতীপুর, মীরপুর গ্রামের নকল চুল তৈরির কারিগরেরা। ফলে এবারও শুধু দুর্গা-কালী-জগদ্ধাত্রী-সরস্বতী প্রতিমার মাথাতেও শোভা পাবে ‘মুসলমান’ শিল্পীদের তৈরি চুল। বাঙালির বছরভর উৎসবে আক্ষরিক অর্থেই ফুটে উঠবে, ‘ধর্ম হোক যার যার, উৎসব সবার’।

কে বলে বঙ্গের দুর্গাপূজা চার দিনের! মল্লভূমে ১৮ দিন হয়

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: মল্ল রাজারা আর নেই, নেই রাজ্যপাঠ। ভাঙ্গাচোরা রাজবাড়ির দেওয়ালে কান পাতলে আজও যেন শোনা যায় মল্লরাজাদের প্রাচীণ ইতিহাসের পদধ্বনি। প্রাচীন রীতি ও ঐতিহ্য মেনে  বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর মল্লরাজাদের দুর্গোৎসবের সূচনা হয়ে গেল। প্রাচীণ রীতি মেনে এদিন থেক শুরু হয়ে টানা ১৮ দিন চলবে পুজো।

‘পট পুজো’ই এখানকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। শহরের শাঁখারি বাজারের ফৌজদার পরিবারের সদস্যরা ধারাবাহিকতা মেনে আজও ফি বছর বড় ঠাকুরাণী, মেজ ঠাকুরাণী ও ছোটো ঠাকুরাণীর আলাদা আলাদা তিনটি পট আঁকেন। মন্দিরে দেবী মৃন্ময়ী প্রতিমার পাশেই নির্দিষ্ট জায়গায় এই তিনটি পট রেখে পুজো হয়।

বৃহস্পতিবার নবম্যাদি কল্প থেকে বড় ঠাকুরাণী অর্থাৎ দেবী মহালক্ষীর পুজো শুরু হলো। এদিন সকালে রাজবাড়ি সংলগ্ন রঘুনাথ সায়রে বড়ঠাকুরাণীর পটের স্নান পর্ব শেষে মন্দিরে প্রবেশের পর প্রথানুযায়ী তিন বার মূর্চ্ছা পাহাড়ে কামানের তোপধ্বণি দেওয়া হলো। পরে গর্ভগৃহে প্রবেশের মুহূর্তেও তোপধ্বণি দেওয়া হয়। পরে দেবীকে অন্নভোগ নিবেদনের সময় আরো তিনবার কামানের তোপধ্বণি দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে বড় ঠাকুরাণীর পুজোর দিন থেকেই মল্ল রাজাদের প্রাচীণ এই রাজধানীতে শারদোৎসবের সুচনা হয়ে গেল।

durga puja of Mallabhum kingdom

প্রাচীণ প্রথানুযায়ী, দেবী পক্ষের চতুর্থীর দিন থেকে রাজপরিবারের মেজ ঠাকরুন অর্থাৎ দেবী সরস্বতী ও সপ্তমীর দিন থেকে ছোটো ঠাকরণী অর্থাৎ দেবী মহাকালীর পুজো শুরু হয়। বড়, মেজো ও ছোটো ঠাকরুণী এই তিনজনকেই দেবী মহামায়ার রুপ হিসেবে মল্লরাজাদের হস্ত লিখিত বলীনারায়নী পুথি অনুযায়ী পূজিতা হন।

৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দ, বাংলা ৪০৪ সাল, মল্লাব্দ ৩০৩ মল্লাব্দে তৎকালীন রাজা জগৎ মল্ল বিষ্ণুপুরে দেবী মৃন্ময়ী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। ইনি মল্ল রাজাদের কূলদেবী। অতীতে রাজাদের আমলে যে আড়ম্বর ছিল সময়ের দাবী মেনে তাতে কিছু ভাটা পড়লেও শহরবাসীর মধ্যে উৎসাহে ভাটা এতোটুকুও কমেনি, বরং বেড়েছে। অন্যান্য পুজো কালিকাপূরাণ মতে হলেও এই রাজ্যে একমাত্র বিষ্ণুপুর রাজ পরিবারে বলিনারায়ণী মতে দুর্গাপূজা হয় বলে দাবী করা হয়। একসময় এখানে পূজোয় বলি প্রথা চালু থাকলেও রাজা হাম্বির মল্ল বৈষ্ণব মতে দীক্ষা নেওয়ার পর চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় বলি প্রথা।

তোপধ্বণির শব্দকে ব্রহ্ম হিসেবে ধরে সেই সময় থেকেই পাহাড়ের উপর কামানের তোপধ্বণির চালু বলে জানা গেছে। প্রাচীণ রীতি অনুযায়ী প্রতি বছর অষ্টমীর দিন থেকেই মন্দিরের গর্ভগৃহে অষ্ট ধাতু নির্মীত বিশালাক্ষ্মী ও নবমীর রাতে খচ্চরবাহিনী দেবীর পুজো হয়। বিজয়া দশমীতে দেবী মৃন্ময়ীর ঘট বিসর্জনের পর বড় ঠাকুরাণী, মেজ ঠাকুরাণী ও ছোট ঠাকুরাণীর ঘট বিসর্জন হয়। সব শেষে এই তিন ঠাকুরাণীর পট রাজবাড়ির অন্দর মহলে নিয়ে যাওয়া হয়।

সারা বছরের পাশাপাশি পুজোর এই দিন গুলিতে মন্দির নগরীতে বিষ্ণুপুরে পর্যটকদের ঢল নামে। প্রাচীন ঐতিহ্য আর পরম্পরার সাক্ষী থাকতে আজও জেলা, রাজ্য, দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশ থেকেও প্রচুর মানুষ ভীড় করেন। সব মিলিয়ে মল্লরাজারা থাকলেও তাঁদের কীর্তির জেরে বিষ্ণুপুর আছে বিষ্ণুপুরেই।

পাকিস্তানে সামরিক শাসন চলছিল, ঢাকেশ্বরীর দুর্গা আরাধনা যেমন হয়েছিল

sheikh hasina

নিউজ ডেস্ক: দুর্গা এসেছে। বঙ্গ জনজীবনে উৎসবের আমেজ লেগেছে। আকাশে মেঘ, জমিতে কাশের দোলা। চেনা মুহূর্ত। তবে আমাদের দেশের না। তখনকার পাকিস্তানের। এখনকার বাংলাদেশের।

ধারণা করা হয়, ঢাকেশ্বরী ঢাকার আদি ও প্রথম মন্দির। সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা মনে করেন, ঢাকেশ্বরী শব্দ থেকেই ঢাকা নামের উৎপত্তি। ঢাকেশ্বরী দেবী ঢাকা অধিষ্ঠাত্রী বা পৃষ্ঠপোষক দেবী। 

পদ্মা-মেঘনা-আত্রাই নদীর তীরে দুর্গা পূজা কেমন ছিল পাকিস্তানি আমলের? ১৯৬০ এর দশকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে চলছিল পাক সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খানের দমন নীতি। সেই উত্তাল সময়ে ঢাকার ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দেবী ঢাকেশ্বরী অর্থাৎ দুর্গা বন্দনার কিছু বিরল ছবি থাকল দর্শকদের জন্য।

হিন্দু দেবীর ‘গুণে’ মোহিত হয়ে ফিরে গিয়েছিল পাক সেনা

Pakistan army left sardar house after eating durga puja

বিশেষ প্রতিবেদন: সীমান্তের পুজো, মানেনি দুই বাংলার ভাগ বাটোয়ারা। এপারের কলকাতা থেকে ওপারের খুলনায় জমিদারি এবং পারিবারিক দুর্গোৎসব মহাসমারোহে সামলাতে কাঁটাতারের সীমা তাঁরা পেরোতেন কাগজপত্র ছাড়াই। সরকারি বিশেষ অনুমতি ছিল। পূর্ব পাকিস্তানের বিতর্কিত মার্শাল ল-এর জের পড়েছিল পুজোতে। সর্দার পরিবারের বিশ্বাস, দেবীর অশেষ কৃপা। তাই সেনার কু-নজরে পরেও রক্ষা পেয়েছে পরিবার এবং পুজো।

খুলনা থেকে এপারে পুজো স্থানান্তকরণ ১৯৫৬ সালে। তারপর থেকে নলিনী সরকার স্ট্রিটের ৭ নম্বর বাড়িতে সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে দুর্গাপুজো। বাড়ির নাম ‘সুখতারা’। কলকাতার এক সরু গলিতে এক প্রাসাদের স্বমহিমায় অবস্থান বললেও ভুল হবে না। সেখানেই পূজিতা কাঁটাতারের বেড়াকে বুড়ো আঙুল দেখানো সর্দার পরিবারের দেবী দুর্গা। পরিবারের প্রবীণ সদস্য সুশান্ত সর্দার বলেন, ‘ওপার বাংলায় আমাদের বাড়ি ছিল শ্রীপুর গ্রামে। পরিবারের অনেকেই আবার কলকাতাতেও থাকতেন।

পুজোর সময়ে এপার থেকেই সবাই খুলনায় যেত। কিন্তু ১৯৪২ সালের পর থেকে সমস্যা হতে শুরু করে। দেশভাগের পর খুলনা হল পূর্ব পাকিস্তান। ইছামতীর জলেও ভাগবাটোয়ারা। কিন্তু আমাদের বিশেষ অনুমতি ছিল। ওপারের আমাদের নিজস্ব ঘাট ছিল। সেখানে সহজেই আমাদের পরিবার যেতে পারত। পুজোর সময়েও তাই সমস্যা হত না।’ সময় যত এগিয়েছে ভারত-পাক সমস্যা বেড়েছে। জন্মলগ্ন থেকেই সে দেশ সেক্যুলার নয় বরং মুসলিম রাষ্ট্রের পক্ষে ছিল। পঞ্চাশের দশক থেকে এই দাবি প্রকট হতে শুরু করে। কড়া নজর পড়ে হিন্দুদের পরিবারে।

Pakistan army left sardar house after eating durga puja

সেই সময় সর্দার পরিবারের জমিদারির পতাকা দেখে পাক সেনার সন্দেহ আরও বেড়ে গিয়েছিল বলে জানালেন সুশান্তবাবু। তিনি বলেন , ‘ওঁরা ভাবত বাড়িতে পাকিস্তান সরকার বিরোধী কোনও কার্যকলাপ হয়। ১৯৫৬ সাল , মার্শাল ল লাগু করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে পাক সরকার। সেখানে হিন্দুদের স্থান নেই। পুজোর সময়েই হানা দিল তৎকালীন সে দেশের আয়ুব খানের সেনা। বহুক্ষণ বাড়ি তল্লাশি করেও কিছু না পেয়ে মায়ের প্রসাদ খেয়ে চলে গিয়েছিল।’

এরপরেই পরিবারের তৎকালীন সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেন আর খুলনায় পুজো করা সম্ভব নয়। সুশান্তবাবু বলেন , ‘বিশেষ অনুমতিও তখন আর কাজ করছিল না। বীভৎস রকম পরীক্ষা দিতে হত। পরিবারের মেয়ে বউদের নাকা চেকিং হত। সেটাই স্বাভাবিক। কলকাতায় নতুন জমি কেনা হল। নতুন বাড়ি তৈরি করে শুরু হল পুজো। সেই থেকে আজ পর্যন্ত আর কোনও সমস্যা হয়নি।’

সমস্যা অনেক দূর, কিন্তু আজও বাড়ির প্রবীণদের স্মৃতিতে স্পষ্ট পাক সেনার হানা। মনে মনে বারবারই বলে ওঠেন, ‘যা সব দিন গিয়েছে! ভালোই হয়েছে, তা গিয়েছে।’

Durga Puja: ডাক পাচ্ছে না ‘ডাকের সাজ’, দুর্গা আসছে বাপের বাড়ি

traditional art of goddess durga now faccing problems

নিউজ ডেস্ক, বাঁকুড়া: ডাক আসেনি। ডাকের সাজ মলিন হচ্ছে। তবে দুর্গা আসছে ঘরে। শরতের আকাশে পেঁজা তুলো মেঘ৷ বাতাসে শিউলি ফুলের গন্ধ। বাতাসে দোলা খাচ্ছে শ্বেতশুভ্র কাশ ফুল। পুজো পুজো গন্ধে মাতোয়ারা চারিদিক৷ মিলেমিশে সব কিছু জানান দিচ্ছে ‘মা আসছেন’।

বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতেও থিমভাবনা আর বিষয়-বৈচিত্রে বাংলার গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র মণ্ডপ সজ্জায় এসেছে অভিনবত্বের ছোঁয়া। সঙ্গে সঙ্গে  আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে প্রতিমার পোশাক ও অলঙ্কার-সজ্জাতেও। কিন্তু ভালো নেই ওঁরা। ওঁরা মানে সেই সব ডাক শিল্পী, যাঁরা উৎসবের অন্যতম মূল কাণ্ডারি, যাঁদের হাত ধরেই মা আসেন এই মর্ত্যধামে।

বর্তমান সময়ে হারিয়ে যেতে বসেছে পুরাতনী ডাকের সাজ। মানুষের রুচি ও ইচ্ছার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলে যাচ্ছে দেবদেবীর সাজসজ্জাও। এমনকি দাম বেড়েছে কাঁচা মালেরও। কিন্তু দাম বাড়ছে শিল্পীর অফূরান ধৈর্য্য আর পরিশ্রমের ফসল প্রতিমা অঙ্গ সজ্জার সামগ্রীর। ফলে এইই বাংলার শোলা শিল্প ও শিল্পী দু’জনই বিপন্ন।

বংশপরম্পরায় প্রতিমার ডাকের সাজ তৈরী করে আসছেন বাঁকুড়া শহরের ইদগমহল্লার রামু মালাকার। বাপ-ঠাকুর্দার হাত ধরে তিনি নিজেও এই শিল্পে হাত পাকিয়েছিলেন। তাঁর তৈরী প্রতিমার ডাক বাঁকুড়া শহরের গণ্ডি ছাড়িয়ে পুরুলিয়া-চাইবাসা ছাড়াও এক সময় পাড়ি দিয়েছে আমেরিকার মতো দেশেও। কিন্তু তার পরেও জোটেনি সরকারীভাবে ‘শিল্পী’র তকমা।

সারা বছর কাজ করেও সংসার চলেনা। কারণ কাঁচামালের দাম প্রতিদিন হু-হু করে বাড়ছে। সেই তুলনায় কিছুই দাম মেলেনি উৎপাদিত দ্রব্যের। ফলে সমস্যা দিন দিন বাড়ছে বৈ কমেনি। কথা গুলো বলতে গিয়ে আক্ষেপ ঝরে পড়ছিল এই শিল্পীর গলায়।

হাজারো সমস্যায় জর্জরিত ঐতিহ্যবাহী ডাকশিল্প কি ধ্বংসের মুখে? অনেকেই ইতিমধ্যে এই শিল্পের কাজ ছেড়ে বিকল্প পেশার দিকে ঝুঁকছেন ৷ নতুন প্রজন্মও সেভাবে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হতে চাইছেন না ৷
চরম সংকটে শিল্পীরা। তার মধ্যেও রামু মালাকারের মতো কিছু শিল্পী শুধুমাত্র ‘নেশা’র টানে এখনো এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন ৷ কিন্তু এভাবে আর কতো দিন? উত্তরটা জানা নেই রামু মালাকারদের।

দুর্গাপুজোয় নবজাগরণের পথ দেখিয়েছিলেন ‘মা’ এলোকেশী

Durga Pujo of Baliyal family of Kankrol village of Howrah Amta Jaipur

বিশেষ প্রতিবেদন: বিংশ শতকের সূচনা লগ্ন। তখনও সমাজে নারীরা নিজ অধিকার থেকে বহুলাংশে বঞ্চিত। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে হাওড়ার আমতা জয়পুরের কাঁকরোল গ্রামের বালিয়াল পরিবারের দুর্গাপুজোর সূচনা ঘটল। পুজো শুরু হয় এক মহিলার হাত ধরে। মহিলা এলোকেশী দেবী নামে পরিচিত ছিলেন।

তিলোত্তমার ‘থিম’ কেন্দ্রীক আড়ম্বরপূর্ণ পুজোর জৌলুস, আলোর রোশনাই যেখানে শেষ হয়ে যায়, ঠিক সেখান থেকেই শুরু হয় বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামের শারোদৎসব। পল্লিবাংলার অন্দরমহল থেকে আজও উঁকি দেয় শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী কতশত পুজো। তাদেরই অন্যতম এলোকেশীর পুজো। এই পুজো এবছর ১২২ বছরে পা দেবে। বালিয়াল পরিবারের উঠোন লাগোয়া অধিষ্ঠিত রয়েছেন দেবী চণ্ডী।

প্রায় ৩০০ বছরের পুরানো এই চণ্ডীতলা। পুজো ক’দিন মহামায়ার আরাধনার পাশাপাশি ‘জয়চণ্ডী’ দেবীকে কেন্দ্র করেও বিভিন্ন উৎসব, অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আর পাঁচটা বনেদি বাড়ির মতোই জৌলুস হারিয়েছে এই প্রাচীন পুজো। তবুও এলোকেশী দেবীর প্রপৌত্রদের হাত ধরে শতবছরের ইতিহাস,ঐতিহ্য ও বনেদিয়ানার ব্যাটনকে বহন করে চলেছে কাঁকরোল গ্রামের এই পুজো। দেবী দুর্গার আগমনকে কেন্দ্র করে জাগ্রত দেবী জয়চণ্ডীকে সঙ্গে নিয়ে পুজোর ক’দিন মেতে ওঠেন জয়পুরের এই গ্রামের বাসিন্দারা।

বাংলা তথা বাঙালির প্রধান উৎসব দুর্গাপুজো। ভারতবর্ষ ও পৃথিবীর প্রাচীন রাষ্ট্রগুলিতে দেবীপুজোর চল থাকলেও উৎসব হিসাবে দুর্গাপুজোর প্রবর্তন, প্রসার এবং ব্যাপ্তি ঘটেছে এই বাংলার মাটি থেকেই। বাংলায় ঠিক কে এই পুজোর প্রচলন করেছিলেন তা নিয়ে বহু বিতর্ক রয়েছে। যুগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে স্বাদ বদলাচ্ছে মানুষের ভাবনার ও সংস্কৃতির।

ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে পিছনে ফেলে মানুষ মেতে উঠছে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বর্ণময় থিম পুজোয়। আড়ম্বরপূর্ণ থিম পুজোর এই হিড়িকেও আজও বাংলার বনেদি পরিবার, জমিদারবাড়ি কিংবা রাজপরিবার পরিচালিত দুর্গাপুজোগুলি শতাব্দী প্রাচীন সংস্কৃতির ধারক ও বাহকরূপে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

দুর্গা আসছে: দালান কোঠায় ঝাড়বাতির ধুলো ঝাড়তেই খুশিখুশি ভাব

Historic durga puja

তিমিরকান্তি পতি বাঁকুড়া: সালটা ১৭১২-৪৮। সেই সময় বিষ্ণুপুরের  গোপাল সিংহ ও চৈতন্য সিংহের আমল। ঠিক সেই সময় বর্ধমানের নীলপুর গ্রাম থেকে ভাগ্যান্বেষণে বেরিয়ে বর্তমান পাত্রসায়রের হদল গ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন জনৈক মুচিরাম ঘোষ। পরে বিষ্ণুপুর মল্লরাজাদের দেওয়ান  শুভঙ্কর রায়ের সৌজন্যে বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজাদের সান্নিধ্য লাভ করেন তিনি।

মল্ল রাজাদের দাক্ষিন্যেই নামমাত্র খাজনার বিনিময়ে দামোদরের উপনদী বোদাই এর তীরে পারুলিয়া পরগণার বিশাল জমিদারী লাভ করার পাশাশি ‘মণ্ডল’ উপাধি পান মুচিরাম । পরবর্তীকালে বেশ কিছু নীলকুঠি পরিচালনা করে বিশাল সম্পত্তি র মালিক হন তিনি।

আর্থিক প্রাচূর্যের ফলে বাঁকুড়ার হদল ও নারায়ানপুর গ্রামের মাঝে তৈরী হয় বিশাল জমিদারবাড়ি। শুরু হয় দুর্গা পুজাও। ৩০০ আগে শুরু হওয়া সেই পুজোকে ঘিরে আজও ঐ এলাকার মানুষের উন্মাদনায় এতটুকুও ভাঁটা পড়েনি। 

জনশ্রুতি,  নীলের ব্যবসা করে মণ্ডলরা তখন আর্থিক দিক থেকে বেশ ফুলে ফেঁপে উঠেছেন। ঠিক সেই সময় নীল বিক্রি করে প্রচুর ধন সম্পদ নিয়ে বজরায় করে গ্রামে ফেরার পথে কোন এক জায়গায় জল দস্যুদের কবলে পড়েছিল মণ্ডল বাড়ির তৎকালীন এক সদস্য। জল দস্যুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার কোন উপায় না পেয়ে দেবী দুর্গার স্মরণাপন্ন হন। আর তাই বেঁচে ফিরলে বজরায় থাকা যাবতীয় সম্পত্তি দুর্গা র নামে দেবোত্তর করে দেওয়ার মানত করেন তিনি।

পরে তিনি সুস্থ শরীরে বাড়ি ফিরে এলে ওই বজরায় থাকা সমস্ত ধন সম্পদ দিয়ে বিশাল দুর্গা দালান, রাস মঞ্চ, রথ মন্দির, নাট মন্দির, নহবত খানা তৈরি মানত শোধ করেন তিনি। এমনকি বংশ পরম্পরায় পুজা পরিচালনার  জন্য বহু জমি ও পুকুর কিনে সেগুলি দুর্গা র নামে দেবোত্তর করে দেন। এক দিকে নীল কুঠির বিপুল আয় অন্যদিকে বিশাল জমিদারির খাজনায় ফুলে ফেপে ওঠে রাজকোষ। প্রত্যাশিতভাবে তার প্রভাব পড়ে দুর্গোৎসব পরিচালনাতেও। সেই সময় পুজোয় টানা সাত দিন নহবৎ খানায় বসত নহবৎ। দুর্গা মন্দির সহ সমস্ত মন্দির সাজানো হত বেলজিয়াম গ্লাসের বিশাল বিশাল ঝাড়বাতিতে। বসতো পুতুল নাচের আসর, হতো যাত্রাপালাও। দুর্গা পুজার প্রতিটি নির্ঘণ্ট ঘোষিত হত তোপ ধ্বনির দ্বারা। দূর দূরান্তের অসংখ্য মানুষ আর  প্রজারা হাজির হতেন মণ্ডলদের জমিদারবাড়িতে।

আজ আর সেই নীল কুঠিও নেই, নেই জমিদারীও। তবু বিশাল দেবোত্তর সম্পত্তির আয়ে দুর্গা পুজায় আয়োজনের ত্রুটি রাখেন না মণ্ডল বাড়ির বর্তমান প্রজন্ম। আজও পুজো এলেই মণ্ডল জমিদারবাড়ির নহবৎ খানায়  বেজে ওঠে সানাই।  ভাঁড়ার ঘর থেকে পুরানো দিনের সেই ঝাড়বাতি বের করে তার ধুলো ঝেড়ে দুর্গাদালানে টাঙ্গানো হয়। এমনকি কর্মসূত্রে দেশ বিদেশে ছড়িয়ে থাকা পরিবারের সদস্য রা আজও  পুজোর দিন গুলিতে পূর্ব পুরুষের ভিটেয় ছুটে আসেন শুধুমাত্র ইতিহাস কে আরো একবার ছুঁয়ে দেখার লোভে।

দুর্গাপূজা পালনে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়কে তিন কোটি অনুদান শেখ হাসিনার

sheikh hasina

নিউজ ডেস্ক: তিথিক্ষণ মেনে চলতি বছরেও দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশে। চলছে তারই প্রস্তুতি। তবে করোনা সংক্রমণ এখনও নির্মূল না হওয়ায় জারি থাকবে বিধি নিষেধ। শারোদতসবের জন্য আর্থিক অনুদান বরাদ্দ করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানাচ্ছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়কে তিন কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়। জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহকারি প্রেস সচিব এম এম ইমরুল কায়েস।

তিনি আরও জানান, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব ডা. দিলীপ কুমার ঘোষের কাছে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস । নব্বই শতাংশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে সাড়ম্বরে পালিত হয় শারোদতসব সহ হিন্দুদের বিভিন্ন উৎসব। হিন্দুরা এ দেশের সংখ্যালঘুদের মধ্যে বৃহত্তম। এছাড়াও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের উৎসব যথাযথ নিয়মে পালিত হয়।

বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বজায় রাখবে আওয়ামী লীগের সরকার। এমনই জানিয়েছেন সংগঠনটির সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

চলতি বছরেও বাংলাদেশের সব পূজামণ্ডপে থাকছে কড়া নিরাপত্তা। দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট সহ সর্বত্র চলছে দেবী বরণের প্রস্তুতি।

দুর্গাপূজায় শেখ হাসিনার ইলিশ উপহার, আসছে পদ্মা রসনার ঝাঁক

Hilsa gift of Sheikh Hasina to West Bengal

নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ২ হাজার ৮০ মেট্রিক টন ইলিশ মাছ রফতানিপ জন্য দেশের ৫২টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিয়েছে সরকার। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ৪০ টন করে ইলিশ রফতানি করবে। পশ্চিমবঙ্গ, অসম, ত্রিপুরায় সর্বাধিক চালান যাবে।

বাংলাদেশ বাণিজ্য মন্ত্রক রপ্তানি-২ শাখার এক চিঠিতে এই অনুমতি দেওয়া হয়। বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্য কর্মকর্তা আবদুল লতিফ বকশি জানান,

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ইলিশ মাছ রফতানি বিষয়ে প্রাপ্ত আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়। শর্তসাপেক্ষে ৫২ প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত পরিমাণ ইলিশ মাছ ভারতে পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ৪০ মেট্রিক টন ইলিশ রফতানি করবে।

Hilsa gift of Sheikh Hasina to West Bengal

বাংলাদেশ বাণিজ্যমন্ত্রক জানিয়েছে,এই ইলিশ রফতানির অনুমতির মেয়াদ আগামী ১০ অক্টোবর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে সরকার মৎস্য আহরণ ও পরিবহণের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করলে তা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ অনুমতির মেয়াদ শেষ হবে।

চলতি ইলিশ মরশুমে বাংলাদেশে উৎপাদিত ইলিশ প্রথম দিকে কম ছিল। পরে তা বেড়েছে। অন্যদিকে ভারতের দিকে গঙ্গায় দূষণের কারণে ইলিশের দল গঙ্গাসাগর মোহনার দিক ছেড়ে বাংলাদেশের দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে বলেই জানান বিশেষজ্ঞরা।

Durga Puja: NRC, CAA বিরোধী মণ্ডপ গড়ে উঠছে শহরের বুকে

puja pandal made against CAA and NRC

বিশেষ প্রতিবেদন : এনআরসি , সিএএ বিল নিয়ে উত্তাল হয়েছে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় রাজনীতি। কেন্দ্রের বিল পাসে মাথায় হাত পড়েছিল বহু মানুষের। এবার কী ঠাঁই ডিটেনশন ক্যাম্প। হঠাৎ ভিটে মাটি হারানোর ভয় জাগতে শুরু করে মানুষের মনে। কোথা থেকে দেখাবে কাগজ? সেই কাঁটাতারের ভয়ের কথা ফুটে উঠবে উল্টোডাঙ্গা বিধান সংঘের পূজো মণ্ডপে। বলা যেতে পারে এনআরসি , সিএএ’এর বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদী মণ্ডপ গড়ে উঠছে কলকাতার উল্টোডাঙ্গা বিধান সংঘে।

একদিকে দেশভাগ অন্য দিকে ভাষা আন্দোলন। লড়াই যে, কতটা তা সেই মানুষগুলোই যানে যাদের আধখানা ধুতি বা গামছায় মুড়ে জীবনের শেষ সম্বলটুকু আঁকড়ে ধরে নিজের পৈতৃক ভিটে ছেড়ে অনিশ্চিত পারাপারের খেলায় নিজেদের জীবনকে সপে দিতে হয়েছিল। আজও কাঁটাতারের অপর দিকে তাকিয়ে থাকেন একবুক স্মৃতি আর ভয় মাখা রক্তাক্ত দিন গুলির ছবি বুকে নিয়ে। ভিটেহারা মানুষটি বুঝতেই পারেনি কখন যেন নিজের গ্রাম ছেড়ে সে হয়ে উঠেছিল উদ্বাস্তু। শেষে ঠাঁই হয়েছিল নাম-গ্রোত্রহীন কোনও এক ফালি জমিতে। ঠিকানা কলোনি বা খেটে খাওয়া মানুষের পাল l

দিন যায় রাত আসে, বারুদের গন্ধভরা ভয়ে ভয়ে কেটে যায় বছরের পর বছর। জন্ম নেয় নতুন সংসার, তৈরী হয় নতুন জীবন কাহিনী, নতুন ঠিকানা, নতুন দেশ, কাল, গোত্র, সবই ঠিক চলছিল। দেশভাগের পর কেটে গিয়েছিল অনেকগুলি বছর, নদী দিয়ে বয়ে গিয়েছে অনেক জল, হয়েছে জীবন ধারণের উন্নতি, জুটেছে ভাত, কাজ, শিক্ষা, সঙ্গে হয়েছে পুনর্বাসন, পালন হয়েছে ভাষা দিবস l সেই প্রান্তিক মানুষগুলো আজ অনেকেই কালের নিয়মে একবুক রক্তক্ষরণ নিয়ে অন্তিম যাত্রায় গিয়েছেন, রেখে গিয়েছেন তাদের পরবর্তী প্রজন্ম, আবার কেউ কেউ আজও এক চিলতে সুখ খুঁজে যাচ্ছেন। জোগাড় করেছে তার স্বাধীনতার সুখ, পেয়েছে গনতন্ত্রের অধিকার সঙ্গে আধার, জীবন যখন কিছুটা স্থিতিশীল হতে চলেছে তখন শুরু হয়েছে নতুন করে আবার কাঁটাতার বিছানোর খেলা।

puja pandal made against CAA and NRC

শিল্পী প্রশান্ত পাল জানিয়েছেন, “জন্মের পর থেকে গণতন্ত্র প্রয়োগ করা আজকের মানুষটিকে নাগরিকত্ব প্রমাণ করার জ্বালা কাঁটাতার হয়ে বুঁকের মাঝে গেঁথে যায়। আচ্ছা, সত্যিই কি এই মানুষগুলো তাদের এই অবস্থার জন্য নিজেরা দায়ী? কে ভাবে তথাকথিত উদ্বাস্তু মানুষগুলোর কথা। সেদিনও কিছু স্বার্থন্বেষী মানুষ নিজেদের আখের গোছাতে এই মানুষগুলোকে ব্যবহার করেছিল। স্বাধীনতার চুয়াত্তর বছর পরও রাষ্ট্রের চোখ রাঙানিতে তাদের রাতের ঘুম যেন চোখের জলে ভেজে, মনে হয় এই বুঝি প্রাণের মাঝে কাঁটাতারের বেড়া দিতে হবে। লুকোতে হবে আধপেটা খেটে খাওয়া মানুষ গুলোর জীবন কাহিনী, কত প্রশ্ন হয় তাদেরকে নিয়ে। এইতো সেদিনও রাষ্ট্র বলে উঠেছে প্রমান চাই? না হলে ফিরতে হবে l কোথায় ফিরবে? এলো প্রমান করার পালা, জন্ম তারিখ কত? কত সালে এসেছো? এপার না ওপার? ইলিশ না চিঙড়ি? ঘটি না বাঙাল? ওপারের কোথায় বাড়ি ছিল? কাগজ পত্র আছে কি?’

তিনি আরও বলেন, “আজও ৪০ ঊর্ধ ছেলেটা তার বৃদ্ধ বাবা মায়ের মাতৃভূমির ভাষা আর বেঁচে থাকার অধিকারের হাজার প্রশ্নের মুখে পরাধীনতার গ্লানি তাকে এপার না ওপার ভাবিয়ে তুলছে l আজও আপন করতে পারেনি রাষ্ট্র। এনআরসি’র নাম করে আবারও ঠেলে দিচ্ছে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। আবারও ভিটে হারানোর ৭১ সালের ভয় তাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। “

শিল্পীর কথায়, “আমরা এক ৭৫ বছরের স্বাধীন দেশের নাগরিক । বর্তমান মহামারী পৃথিবী ও দেশকে যখন অচল করেছে, বেঁচে থাকার লড়াইয়ে আমাদের দায়িত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে ঠিক তখনো আমরা মনে করি কিছু দায়িত্ব আমাদেরও আছে । আর সেই দায়িত্ববোধ থেকেই এই প্রান্তিক মানুষগুলোর তখন থেকে এখন পর্যন্ত যে ধারাবাহিক জীবনযাত্রা তাকে তুলে ধরতেই আমাদের এই উদ্যোগ। আমরা বেঁচে নিয়েছি এক মায়ের কান্না থামাতে আরেক মায়ের বোধনকে। দেখেছি অসুর কূলকে ধ্বংস করতে মায়ের দশাবতারে দশ হাতে অস্ত্র ধারণ করতে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে যুগে যুগে, কোনো সময় কবির লেখার জোরে, আবার কখনো অস্ত্র হাতে, আজ শিল্পীর প্রতিবাদ হোক শিল্পকর্মের মাধ্যমে। আর সেই অস্ত্র নিয়েই আজ আমরা প্রান্তিক মানুষদের পাশে। আসুন আজ আমরা তাদের হাত ধরে নির্ভরতা টুকু অন্তত ফিরিয়ে দিই । দুচোখে আশার আলো দেখাই আর চিৎকার করে বলি আমরা একই মায়ের সন্তান। মাকে কোনদিন টুকরো করা যায় না বাধা যায়না কাঁটাতার দিয়ে l চাইনা জাতের লড়াই, চাইনা ধর্মের লড়াই l

তাইতো আসুন সবাই মিলে বলি, কিসের কাগজ? কিসের জাত? ধর্ম যখন পেটের ভাত। রাষ্ট্র তোমার আমার সবার, লড়াই করে দুহাতে ভাঙবো ‘কাঁটাতার'”

Durga Puja: ভক্তি আছে জৌলুস কমেছে, মল্লভূমের দুর্গা পূজা চমকে দেয় গল্প কাহিনিতে

Heritage durga puja

তিমিরকান্তি পতি: জেলার ইতিহাসে মল্ল রাজাদের জৌলুস এমনই ছিল যে বাঁকুড়ার একটি ডাক নাম মল্লভূম। এই মল্লভূমের জৌলুস এখন ইতিহাস। তবে বাঁকুড়ার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঝলমলে দিকটা মল্লভূম গরিমা ঘেরা। মল্লভূমের দুর্গা (Durga Puja) আরাধনায় আরও অনেক চমক মিশে আছে।

সে সময়ের কথা। দেশ তখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন মধ্যগগণে। শাসকদের অতিরিক্ত করের বোঝা টানতে না পেরে মল্ল রাজাদের একের পর এক তালুক তখন নিলামে উঠছে। এই সময়ই বিষ্ণুপুরের শেষ মল্ল রাজা চৈতন্য সিংহের দেওয়ান ছিলেন চণ্ডীচরণ মুখোপাধ্যায়। তাঁর সময়েই ময়নাপুর তালুকের জমিদারী লাভ করে মুখোপাধ্যায় পরিবার।

Heritage durga puja

জমিদারী লাভের পর ইংরেজী ১৭৯১ সাল নাগাদ দুর্গাপুজার সূচনা হয়। তার অনেক পরে ১৮৪৭ সাল নাগাদ তৈরী হয় স্থায়ী মন্দির। সেই হিসেবে এবছর ২৩১ বছরে পড়লো ময়নাপুর মুখোপাধ্যায় বাড়ির পুজো।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জমিদারির জেল্লা এখন অনেকটাই ফিকে। তবে ভাঙাচোরা, পলেস্তারা খসা জমিদার বাড়িতে এখনো শরতের রোদ ঝলকায়। কারণ ‘ঘরের মেয়ে’ উমা আসবে ঘরে…। তাই জমিদারির রং না থাকলেও মুখোপাধ্যায়দের ঠাকুরদালানে পুজোর রং লাগে নিয়ম মেনেই।

আগে যেখানে ঝাড়বাতির আলোর ছটায় বসত যাত্রাপালা। রামায়ণ গান আর পুতুলনাচে গমগম করত চণ্ডীমণ্ডপ। এখন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে সব অতিত। তার জায়গা নিয়েছে রঙবাহারি বৈদ্যুতিক আলো। মূলতঃ লোক বলের অভাবে ন’দিনের পুজো কমে হয়েছে পাঁচ দিনে, বন্ধ হয়েছে ছাগবলি। কিন্তু সময়ের দাবি মেনে এ সব পরিবর্তন মেনে নিলেও নিষ্ঠা আর ভক্তিতে কোন ছেদ পড়তে দেননি মুখোপাধ্যায় বাড়ির বর্তমান বংশধরেরা।

🅿🆄🅹🅾 🅴-🆂🅿🅴🅲🅸🅰🅻: নিরিবিলিতে পুজো কাটান রাজ আবহে

Ekolkata24 pujo special

বিশেষ প্রতিবেদন : পুজোয় ঢাকের মিঠে বোল না শুনলে মন বসে না, আবার হইহট্টগোলও পছন্দের নয়। এমন মানুষ কিন্তু অনেকেই আছেন। চেষ্টা করেন একটু নিরিবিলিতে পুজো কাটানোর। যারা অপশন পান না তারা ওই অনেকেই দিঘা, তাজপুর করে ফেলেন। যারা ওই কম্বো প্যাক খুঁজছেন তারা ঘুরে আসতে পারেন এই পাঁচ রাজবাড়িতে। যা চাইছেন তা তো পাবেনই সঙ্গে এক্সট্রা কিছুও পাবেন। হ্যাঁ, একটু খরচ হতে পারে, তবে একেবারেই যে সাধ্যের বাইরে তা নয়। দিন দুয়েক বেশিই ভালো কাটতে পারে।

narajole raj bari

নাড়াজোল রাজবাড়ি, পশ্চিম মেদিনীপুর
নাড়াজোল রাজবাড়ির জয়দুর্গা পুজোর বয়স ৬০৮ বছর। পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু, মতিলাল নেহরু, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, মহাত্মা গান্ধি, ঋষি অরবিন্দ, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ মনীষীদের পদধূলি পড়েছে এই নাড়াজোল রাজবাড়িতে। কথিত আছে, বর্ধমানের রাজা ইছাই ঘোষের দেওয়ান উদয়নারায়ণ ঘোষ নাড়াজোল রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন। স্বপ্নাদেশে তিনি মা দুর্গার একটি অষ্টধাতুর মূর্তি খুজেঁ পান এবং এটিই জয়দুর্গা নামে পরিচিত হয়। জয়দুর্গার মন্দিরকে মায়ের কৈলাস ধাম বলা হয়। এছাড়াও রয়েছে সীতারামজিউ মন্দির, গোবিন্দজিউ মন্দির এবং শিবমন্দির। এখানে কোনও দুর্গাপ্রতিমা তৈরি হয় না। স্থায়ী অষ্টধাতুর মূর্তিতে মা বৈষ্ণবীরূপে একাই পূজিত হন। লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ, কার্তিক থাকে না। ষষ্ঠীর ঠিক ১৫ দিন আগে মায়ের পুজো শুরু হয়। বাড়ির মেয়েদের পুজোয় অংশ নেওয়ার অধিকার থাকলেও পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার অধিকার নেই। মা নিরামিষাশী তাই এখানে বলিপ্রথা নেই৷ তবে, সন্ধিপুজোর সময় রাজবাড়ির পাকশালে তৈরি ৩ কেজির মোয়া মাকে নিবেদন করা হয়৷ পুজো চলাকালীন সেই মোয়া নিজে থেকেই নাকি ফেটে যায়। একেই বলি বলা হয়। কলকাতার থেকে গাড়িতে কোলাঘাট হয়ে নাড়াজোল রাজবাড়ি ১১৫ কিলোমিটার। পাঁশকুড়া থেকে নাড়াজোল ৩৫ কিলোমিটার, কোলাঘাট থেকে ৪৮ কিলোমিটার। করোনা আবহে পুজোয় নাড়াজোল রাজবাড়িতে রাত্রিবাস করা যাবে না। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতির খোঁজ নিয়ে নিতেই পারেন এই নম্বরে- 9733621495

Kasimbazar Rajbari

কাশিমবাজার রাজবাড়ি, মুর্শিদাবাদ
আঠারো শতকের গোড়ায় পিরােজপুর গ্রামের অযোধ্যা রায় পরিবার মুর্শিদাবাদের কাশিমবাজারে উঠে আসায় তাদের গ্রামের বাড়ির দুর্গাপুজোও উঠে আসে কাশিমবাজারের বাড়ির সুদৃশ্য চণ্ডীমণ্ডপে। রায়-পরিবারের পুজো প্রায় ৩০০ বছরের পুরনাে। পুজো দেখার পাশাপাশি বাড়ি ঘুরে দেখতেও ভালাে লাগে। এককালে লােকমুখে ‘ছােট রাজবাড়ি’ নামে পরিচিত এই বাড়ির বর্তমান পােশাকি নাম ‘কাশিমবাজার প্যালেস অব দ্য রয়েজ’। বাড়ির একাংশেই তৈরি হয়েছে বিলাসবহুল থাকার ব্যবস্থা। অন্দর সজ্জায় সাবেকিয়ানার পাশাপাশি রয়েছে সমস্ত আধুনিক সুযোগ সুবিধে। প্রাচীন চণ্ডীমণ্ডপটির সাথেই রয়েছে ঠাকুরদালান। সামনে প্রশস্ত চাতাল আর তার দুপাশে টানা দোতলা বারান্দা। খিড়কি জানালা, পালকি, ঝাড়বাতির সাজ দেখার মতাে। ইউরােপীয় স্থাপত্যের ছাপ স্পষ্ট চারিদিকে। বিশাল সেন্ট্রাল বল রুম, সুদৃশ্য মিউজিয়াম। রয়েছে লক্ষ্মীমন্দির, রাধাগােবিন্দ জিউ মন্দির ও শিবমন্দির। বাড়ি ঘিরে রয়েছে সুন্দর সাজানো বাগান ও লন। কলকাতা থেকে কাশিমবাজার সড়কপথে ২১৩ কিলোমিটার। ট্রেনের ক্ষেত্রে রয়েছে সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেস। ট্রেনটি মুর্শিদাবাদ স্টেশন পৌঁছয় বেলা সাড়ে ১০টা নাগাদ। আগে থেকে বুকিং করা থাকলে, মুর্শিদাবাদ স্টেশন থেকে রাজবাড়ির গাড়ি এসে নিয়ে যাবে। বা শিয়ালদহ – লালগোলা গামী ট্রেনে এসে নামতে হবে কাশিম বাজার রেলস্টেশন, রিক্সায় সময় লাগে ৫ মিনিট। এছাড়া বহরমপুর কোর্ট রেল স্টেশন থেকেও রিক্সা পাওয়া যায়। বহরমপুর বাস স্ট্যান্ড থেকেও রিক্সা পাওয়া যায়। যোগাযোগ – 9831031108 / 8584035663।

Jhargram Rajbari

ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি
রাজবাড়ী ক্যাম্পাসে আছে কুলোদেবতার মন্দির, ল ফি বছর শারদীয়ায় এই পরিবারের পটে আঁকা দেবী দুর্গা পূজিত হন ঝাড়গ্রাম রাজপ্রাসাদের বাইরের সাবিত্রী মন্দিরে। রাজস্থান থেকে রাজা সর্বেস্বর সিং চৌহান সেইসময়ের মল্ল বংশের রাজাকে যুদ্ধে পরাজিত করে ধারণ করেন মল্লদেব উপাধি। ১৫৯২ সালে মূল রাজবাড়ী স্থাপনের পর ১৮ জন মল্লদেববংশীয় রাজা এখানে রাজত্ব করেন প্রায় ৪০০ বছর। এই রাজবাড়ীতে থাকা যায়। গ্রাউন্ড ফ্লোর এখন হেরিটেজ হোটেল। কলকাতা থেকে গাড়িতে মুম্বই হাইওয়ে ধরে ঝাড়গ্রাম ১৬৬ কিলোমিটার। ঝাড়গ্রাম স্টেশন থেকে গাড়ি পাওয়া যায়। যোগাযোগ – 6294024319

Krishnanagar Rajbari

কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি, (নদীয়া)
কৃষ্ণনগর রাজবাড়ীর পুজো প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো। কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের আগে তাঁর পূর্বপুরুষেরা দুর্গাপূজা করলেও তার হাত ধরেই জাঁকজমক সহকারে দুর্গাপুজো চালু হয় রাজবাড়ীতে। কৃষ্ণচন্দ্র রায় ঢাকা থেকে আলাল বক্স নামে এক স্থপতিকে আনিয়ে তৈরি করেন চকবাড়ি, কাছারিবাড়ি, হাতিশালা, আস্তাবল, নহবতখানা এবং পঙ্খ-অলংকৃত দুর্গাদালান ও একটি সুবিশাল নাটমন্দির। নাটমন্দিরের শিল্পকার্য এখনও দেখার মতো। নাটমন্দিরের খিলান, থামের গায়ে রয়েছে হিন্দু ও মুসলিম স্থাপত্যের প্রভাব। কৃষ্ণনগরের রাজবাড়ির দুর্গাপ্রতিমার নাম রাজরাজেশ্বরী। দেবী বর্ম পরিহিতা যোদ্ধা। দেবীর বাহন ঘোড়ামুখো সিংহ। আগে মুসলিম শিল্পীরা আঁকতেন দেবীর চোখ, মুখ, নাক। রাজবাড়ীর পুজোয় ১০৮ সংখ্যার একটা বিশেষ ব্যবহার দেখা যেত। প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহৃত হতো ১০৮ মন গঙ্গামাটি, ১০৮ ঘড়া গঙ্গাজল, পূজোয় লাগতো ১০৮ টা পদ্ম, বাজত ১০৮ টা ঢাক, দেবীমূর্তিকে বহন করে নিয়ে যেত ১০৮ জন বাহক। এমনকি পুজোয় পশু বলিও হতো ১০৮ টা। এখানে দুর্গাপুজো, জগদ্ধাত্রীপুজো ও বৈশাখ মাসের বারোদোল মেলার সময় প্রবেশের অনুমতি থাকে। কলকাতার থেকে গাড়িতে এলে রানাঘাট বা সিঙ্গুর হয়ে কৃষ্ণনগরের দূরত্ব ১১২ কিলোমিটার। কৃষ্ণনগর রাজবাড়ীতে থাকা যায় না। থাকা যায় ১২ কিলোমিটার দূরের বালাখানা ভিলাতে।

Mahishadal Rajbari

মহিষাদল রাজবাড়ি
১৭৭৮ সালে মহিষাদল রাজবাড়িতে দুর্গাপুজোর প্রচলন হয় রানি জানকী দেবীর হাত ধরে। প্রথম রাজপ্রাসাদটি আজ অবলুপ্ত। আশেপাশের গ্রাম্য পরিবেশ আর দিঘি, পুকুর সংলগ্ন রাজবাড়ি আর মিউজিয়াম অবশ্যই দর্শনীয়। মহিষাদল রাজবাড়িতে সাবেকি ডাকের সাজের প্রতিমা। পুজো হয় বৈষ্ণব মতে। ১০৮ টা নীলপদ্মে দুর্গাপুজোর রীতি ছিল। এখন বাড়ির রাজদিঘিতে ফোটা নীল শালুকে পুজো হয়। মহালয়ার দিন থেকেই শুরু হয় রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। আগে অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে অর্থাৎ সন্ধিপুজোয় কামান দাগার চল ছিল। কলকাতা থেকে দূরত্ব ১১০ কিলোমিটার। কলকাতা থেকে বম্বে রোড ধরে কোলাঘাট পার হয়ে নন্দকুমার মোড় এসে সেখান থেকে ৮ কিলোমিটার এগোলে কাপাসারিয়া মোড়। কাপাসারিয়া থেকে ৫ কিলোমিটার গেলেই মহিষাদল রাজবাড়ি। যোগাযোগ – 9830275928

পুজো এলেও একটাও অর্ডার নেই টেরাকোটা গ্রাম পাঁচমুড়ায়

Teracotta Durga

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: আর মাত্র ক’টা দিনের অপেক্ষা। তারপর পুজোর আনন্দ উৎসবে মেতে উঠবে আমবাঙালি। কিন্তু এতোসবের পরেও মন ভালো নেই ‘টেরাকোটার গ্রাম’ পাঁচমুড়ার মৃৎ শিল্পীদের। করোনা আবহে গত বছরও পুজোয় উল্লেখযোগ্য তেমন কোনও বরাত তারা পাননি, এবারও তাই। ফলে চরম সমস্যায় এখানের শিল্পীরা।

টেরাকোটার হাতি, ঘোড়া থেকে ঘর সাজানোর নানান জিনিসপত্র, এমনকি পোড়া মাটির গহনা তৈরীতেও পাঁচমুড়ার কুমোর পাড়ার শিল্পীদের বিশ্বজুড়ে ব্যাপক খ্যাতি রয়েছে। একটা সময় ‘পাঁচমুড়ার ঘোড়া’ আন্তর্জাতিকস্তরেও সদর্পে দাপিয়ে বেড়িয়েছে। আর এই জায়গা থেকেই মণ্ডপ সজ্জা থেকে প্রতিমা সব বিষয়েই কলকাতা সহ রাজ্য জুড়ে ব্যাপক চাহিদা ছিল মৃৎশিল্পীদের।সেই সুযোগে বাড়তি কিছু রোজগারের সুযোগ তৈরী হতো তাঁদের।

Teracotta village of bankura facing problems

কিন্তু করোনা এসে সব আশাতেই জল ঢেলে দিয়ে গেল। এবছর এখনো পর্যন্ত এখানকার একজন শিল্পীও প্রতিমা তৈরী থেকে মণ্ডপ সজ্জার ডাক পাননি। ফলে চরম হতাশা গ্রাস করছে এখানকার এই শিল্পীদের।

মৃৎশিল্পী ও শিক্ষক বিশ্বনাথ কুম্ভকার বলেন, করোনা আবহে শিল্প ও শিল্পী দু’জনই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। পুজোর অর্ডার আমরা এখনো কেউ পাইনি। এরপর পেলে বড়কাজে সমস্যা হবে। কারণ টেরাকোটা শিল্প কর্ম ফুটিয়ে তোলা দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। আর সেই সময়টা এখন হাতে নেই, কারণ পুজো প্রায় দোরগোড়ায়। এখনো অর্ডার এলে ছোটো প্রতিমা বা মণ্ডপ সজ্জার কাজ সঠিক সময়ে করে ফেলতে পারবেন বলে তিনি জানান।

Teracotta village of bankura facing problems

আর এক শিল্পী ভূতনাথ কুম্ভকারও একই কথা বলেন। তাঁর কথায় করোনায় সব ওলট পালট করে দিল। পুজোর মণ্ডপ সজ্জা বা প্রতিমা তৈরী করে মোটা অঙ্কের রোজগার হতো। কিন্তু এবার পুজো কমিটির তরফে তেমন কোন উৎসাহই চোখে পড়ছেনা। ফলে তারা পুজোর কাজ আদৌ পাবেন কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত আছেন বলে তিনি জানান।

বিখ্যাত দুর্গোৎসবের আড়ালে ঢাকা পড়ে বিপ্লবীর স্বাধীনতা সংগ্রাম

durga puja left behind the history of freedom fighter santosh kumar mitra

বিশেষ প্রতিবেদন: কলকাতার অন্যতম সেরা বারোয়ারি পুজো মধ্য কলকাতার ‘সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার’। রূপোর প্যান্ডেল, প্রতিমার সোনার শাড়ি কিংবা পুরো দুর্গা মূর্তিই সোনার বানিয়ে দেওয়া, সবেতেই চমক। পুজোর জাঁকজমকের আড়ালে কোথাও যেন হারিয়ে যান নামাঙ্কিত পার্কের স্বাধীনতা সংগ্রামী সন্তোষ কুমার মিত্র। যাঁর জন্ম ১৫অগাস্ট মৃত্যু ১৬ সেপ্টেম্বর আজকের দিনে। তাঁর আত্মবলিদান, স্বাধীনতা সংগ্রাম, ইংরেজদের দিনের পর দিন নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরানো কিছু নিয়েই আলোচনা হয় না । তাঁর বাড়ি ছিল পূজো প্রাঙ্গণ থেকে কিছু দূরে একটি সরু গলিতে। সে বাড়ির অস্ত্বিত্ব তো নেই, অনেকেই জানেন না কে এই সন্তোষ মিত্র।

durga puja left behind the history of freedom fighter santosh kumar mitra

‘সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার’-এর পুজোর শুরু এই স্বাধীনতা সংগ্রামকে সামনে রেখেই। তবে ব্র্যান্ড সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার-এ ঢাকা পড়েন বিপ্লবী সন্তোষ কুমার মিত্র। পার্কের নাম বদলও আবার ইংরেজ শাসনকালেই। ১৯২০, গান্ধীজীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন তখন তুঙ্গে। অত্যাচারী ইংরেজকে দেশছাড়া করতে বাংলার প্রত্যেক যুবক তখন প্রায় বদ্ধপরিকর। এমনই এক যুবক ছিলেন সন্তোষ কুমার মিত্র। এই মেধাবী ছাত্র ১৯১৯ সালে বিএ এবং ১৯২১ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সসম্মানে মাস্টার্সে উত্তীর্ণ হন। সঙ্গে ছিল এলএলবি ডিগ্রিও। কিন্তু উজ্জ্বল এবং নিশ্চিত ভবিষ্যতকে এক লহমায় দূরে সরিয়ে রেখে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন দেশ মাতৃকার সম্মান উদ্ধারের কাজে।

কলেজ পাশ করার পর বিপ্লবী সন্তোষ কুমার মিত্র কংগ্রেসের হয়ে অসহযোগ আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। এই সূত্রে তিনি হুগলি বিদ্যামন্দিরে যাতায়াত করতেন। হুগলি বিদ্যামন্দিরের প্রধান ছিলেন বিপ্লবী ভূপতি মজুমদার। তাঁর সূত্র ধরেই সন্তোষ মিত্রের পরিচয় বিপ্লবী বারীন্দ্র ঘোষ এবং যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্তের সঙ্গে। ধীরে ধীরে গান্ধীর অহিংস অসহযোগ আন্দোলনে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। প্রভাবিত হন সহিংস বৈপ্লবিক মতাদর্শে। ইংরেজদের কুনজরে চলে আসেন সঙ্গে সঙ্গে।

durga puja left behind the history of freedom fighter santosh kumar mitra

১৯২৩ সালে ‘শাঁখারীটোলা হত্যা মামলায়’ এক ইংরেজ পোস্ট মাস্টারকে খুনের অভিযোগে তাঁর উপরে সব সন্দেহ এসে পড়ে। গ্রেফতারও হন। উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে ছাড়া পেয়ে যান। বিখ্যাত আলিপুর বোমার মামলাতেও তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। প্রমাণ ছিল না, এবারও ছাড়া পেয়ে যান। সন্তোষ কুমার মিত্র প্রকাশ্যে যেভাবে বৈপ্লবিক মতাদর্শ প্রচার করে বেড়াচ্ছিলেন তা ইংরেজদের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাঁর উপর প্রয়োগ করা হয় ‘বেঙ্গল ক্রিমিনাল ল আমেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট’ অর্থাৎ তাঁকে দেশের নিরাপত্তার জন্যে বিপদ্জনক ঘোষণা করে দেয় ইংরেজ সরকার। এই আইন অনুযায়ী বিনা বিচারে তাঁকে আটকে রাখা যাবে। হয়ে গেলেন ‘সিকিউরিটি প্রিজনার’।

শুধুমাত্র সন্দেহের বশে গ্রেফতার করে জেলবন্দি করার ফলে শাসকের সামনে আর এক সমস্যার সৃষ্টি হয়। প্রথমত পর্যাপ্ত জায়গার অভাব। আলিপুর ও অন্য বড় জেলগুলোতে সাধারণত দাগি আসামিদের সঙ্গে এঁদের রাখতে হচ্ছিল। দ্বিতীয়ত, এই বন্দিদের কোনও পূর্ব অপরাধের রেকর্ড ছিল না। বন্দি এবং সমাজের মধ্যে এই বিষয় নিয়ে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়তে থাকে। তাই ‘সিকিউরিটি প্রিজনার’ রাখার জন্য ১৯৩১ সালে ইংরেজ সরকার আলাদা তিনটি ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি করে। বহরমপুর , বক্সাদুয়ার এবং খড়গপুর রেল জংশনের কাছে হিজলীতে তৈরি হয় তিনটি ক্যাম্প।

সাবধান: কাশবনের মৃত্যুদূত

আকাশে মেঘের খেলা, দুলছে কাশ। প্রকৃতির এই অনবদ্য হাতছানি মন টানবেই। আপনি যদি কাশফুলের ঝোপে সেলফি তুলতে যান৷ কাশের হাতছানিতে লুকিয়ে আছে মৃত্যুদূত। কেউটে গোখরো সহ সাপের প্রিয় জায়গা কাশঝোপ।

কাশের ঝাড় পতিত জমিতে বা নদীর তীরে হয়। এখানে ইঁদুরের আনাগোনা বেশি। ইঁদুর খেতে সাপ আসে কাশের ঝোপ, শুকনো ঘাসজমিতে। তন্ময় হয়ে কাশ ঝোপের ছবি, সেলফি তুলছেন ? আপনার পায়ের কাছেই হয়ত রয়েছে কাল কেউটে। ছবি তুলতে গিয়ে এক ছোবলেই ছবি হয়ে যাবেন। আসলে সাপ আপনাকে ভয় পেয়েই কামড়াবে। হয়ত মনে করবে তার খাদ্য ইঁদুর বা পাখি এসেছে। সাপের দৃষ্টি খুব ক্ষীণ, তবে অনুভূতি প্রবল। কাশবনের ছবি তুলুন তবে দূর থেকে।

🅾🅵🅵🅱🅴🅰🆃: মল্লভূম বিষ্ণুপুরে পটেশ্বরী ‘বড় ঠাকরুণ’ নামই তো চলে

Unique durga art still exist in heritage city Bishnupur

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: সময়ের দাবি মেনে বেড়েছে পুজোর জৌলুস। থিম পুজোয় মেতেছে আম বাঙালী। কিন্তু সে সবকিছুকে ছাপিয়ে, গড্ডলিকা প্রবাহে গা না ভাসিয়ে প্রাচীণ ঐতিহ্য আর পরম্পরা মেনে বিষ্ণুপুর মল্ল রাজবাড়ি সহ বেশ কিছু জায়গাতে পটচিত্রেই পূজিতা হন দেবী দুর্গা।

বিশেষ পদ্ধতি অনুসরণ করে কাপড়ের তৈরী পটে সুনিপুন দক্ষতায় বংশ পরম্পরায় দেবী দুর্গার প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলার কাজ করছেন বিষ্ণুপুরের ফৌজদার পরিবার। বর্তমান সদস্যরা হাতে তুলে নিয়েছেন তুলি। পুজোর আগে এই মুহূর্তে তাঁদের ব্যস্ততার শেষ নেই। নাওয়া-খাওয়া ভুলে চলছে অবিশ্রান্ত তুলির টান। মনন আর ধৈর্যের মিশেলে এঁকে চলেছেন পটের দুর্গা।

Unique durga art still exist in heritage city Bishnupur

হাতে গোনা কয়েকটা দিনের মধ্যেই যে তাঁদের এঁকে ফেলতে হবে ছ’টি পটের দুর্গা। বিষ্ণুপুর মল্ল রাজবাড়ির পাশাপাশি কয়েকটি সাবেকি পরিবারেও যাবে এখানকার পট দুর্গা। এই তালিকায় বিষ্ণুপুর রাজবাড়ির পাশাপাশি শহরের কাদাকুলি, মহাপাত্র বাড়ি, আইকাত বাড়ি, চক্রবর্ত্তী বাড়ি, ভট্টাচার্য বাড়ি ও কুচিয়াকোল রাজবাড়ির নাম রয়েছে।

চলতি বছরে অধিকাংশ পরিবারের দুর্গার পটচিত্র তৈরির বরাত পেয়েছেন বিষ্ণুপুরের ফৌজদার পরিবার। পরম্পরা মেনে মল্ল রাজবাড়ির জন্যই তিনটি পটের দুর্গা তৈরি করবেন তাঁরা। যেমন ‘বড় ঠাকুরুনে’র পটচিত্র যাবে জিতাষ্টমীতে। তারপর নিয়ম মেনে ‘মেজো ঠাকুরণ’ ও ‘ছোট ঠাকুরণে’র পট আঁকা শুরু হবে।

পট চিত্র আঁকার এই পারিবারিক ঐতিহ্য কতো দিন টিকে থাকবে, জানেননা শিল্পী শীতল ফৌজদার। এবিষয়ে কথা বলতে গিয়ে আক্ষেপের সূর ঝরে পড়ে তাঁর গলায়। তিনি বলেন, এই কাজে তেমন রোজগার নেই, ফলে বর্তমান প্রজন্মের কেউই আর এই কাজে আগ্রহী নয়। একমাত্র ভাইপোকে তিনি নিজে এই পটচিত্র আঁকার কাজ শিখিয়েছিলেন কিন্তু সেও ‘পেটের দায়ে’ অন্যকাজে ব্যস্ত। ফলে হয়তো একদিন ইতিহাস হয়ে যাবে ফৌজদারির পরিবারের পটচিত্র তৈরীর বিষয়টিও বলে তিনি জানান।