উৎসবের আবহে ১৯৬৩ সালের ‘বক্সিং ডে’ সপ্তাহ ফুটবলের ইতিহাসেও রেকর্ড গড়েছিল

Sports desk: ‘বক্সিং ডে’ দিবস, যা ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পালিত হয়ে থাকে। দুনিয়া জুড়ে উৎসবের এই আবহে বাইশ গজের উত্তেজনার পারদ, ফুটবলে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের প্রথম ডিভিশনের খেলাগুলোকে শীতের হিমেল পরশেও তপ্ত করে তুলেছিল,৫৩ বছর আগে, সর্বোচ্চ গোল সংখ্যার নিরিখে।

 

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে আজ থেকে ৫৩ বছর আগে গোলের সর্বোচ্চ আধিক্য দেখেছিল। মোট ৬৬ টি গোল, প্রথম ডিভিশনে মোট ১০ ম্যাচে, ১৯৬৩ সালে। বার্নলির কাছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ৬-১ গোলে হার এবং ফুলহ্যাম ১০ গোল করে,ইপসউইচ টাউনের বিরুদ্ধে, ‘বক্সিং ডে’ সপ্তাহে।

 

ক্রিসমাস সময়কালে সমর্থকদের বিনোদন দেওয়ার জন্য ফিক্সচারের একটি সম্পূর্ণ সেট সহ বক্সিং ডে ফিক্সচার সবসময়ই ফুটবল ভক্তদের জন্য একটি প্রিয় সময়।

 

কিন্তু কোনো বছরই ১৯৬৩ সালের মতো এতটা বিনোদনমূলক ফিক্সার ছিল না, যখন উৎসবের আবহতে খেলায় অসাধারণ ৬৬ টি গোল হয়েছিল।

 

ওই মরসুমে শুধুমাত্র ১০টি দুরন্ত ম্যাচের একটি খেলাও গোলশূন্যতে ড্র হয়নি, তবে পুরো বিভাগে মাত্র দুটি দল গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিল।

 

ওয়েস্ট হ্যাম ফুটবল দলের গোলরক্ষক জিম স্ট্যান্ডেন ব্ল্যাকবার্নের বিপক্ষে আট গোলের লজ্জার হারের কারণে টিম থেকে সরে যান।বার্নলির হয়ে অ্যান্ডি লোচহেড (রাইট উইঙ্গার) চার গোল করে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৬-১ গোলে হারিয়েছিল।

 

১৯৬৩ সালের ওই ফেস্টিভ মুডে চেলসির জন্য বড় জয় ছিল ব্ল্যাকপুলের বিরুদ্ধে ৫-১ গোলের ব্যবধানে, আবার বার্নলির হয়ে অ্যান্ডি লোচহেডের চার গোলের সুবাদে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ৬-১ গোলে হেরে যায়। এবং লিভারপুল স্টোকের কাছে ৬-১ গোলে ঘরের মাঠে, ওই ম্যাচে রজার হান্টের চার গোলের দৌলতে জয় ছিনিয়ে নেয়। কিন্তু এমন কয়েকটি স্কোরলাইন খেলার রেজাল্টে উঠে আসে যা চাকচিক্যের উজ্জ্বলতাকেও ম্লান করে দিয়েছিল।

 

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ফুলহ্যাম বনাম ইপসউইচের বিরুদ্ধে ম্যাচ, ওই ম্যাচে ক্রেভেন কটেজে ইপসউইচ টাউনকে ১০ গোলের মালা পেরিয়েছিলেন, যার মধ্যে গ্রাহাম লেগাটের চারটি গোল ছিল।

 

অন্যদিকে, ব্ল্যাকবার্ন বনাম ওয়েস্ট হ্যামের মুখোমুখি খেলায় লন্ডনে ৮-২ ব্যবধানে জিতেছিল,ব্ল্যাকবার্ন।

 

১৯৬৩’র ‘বক্সিং ডে’ উৎসবের আবহে নটিংহ্যাম ফরেস্ট বনাম শেফিল্ড ইউনাইটেড এবং উলভস বনাম অ্যাস্টন ভিলার মধ্যে দুই ম্যাচ ৩-৩ গোলে ড্র হয়েছিল এবং ওয়েস্ট ব্রম এবং স্পার্স আরও একটি করে ম্যাচে চার গোলে ড্র করেছিল।

 

জিমি গ্রিভস ওয়েস্ট ব্রমের জয়ে জোড়া গোল করে স্পার্স ব্যাগিসের বিরুদ্ধে ৪-৪ গোলে ম্যাচ ড্র হয়েছিল। ফুটবলার রজার হান্ট ১৯৬৩ সালে বক্সিং ডে-তে চারবার গোল করা তিনজন খেলোয়াড়ের মধ্যে একজন ছিলেন।

 

প্রসঙ্গত, ‘বক্সিং ডে’ সেশনে ২৬-৩০ ডিসেম্বর ফেস্টিভ মুডের মাত্র দু’দিন পরে, সমস্ত ক্লাবগুলি বিপরীত ফিক্সচারে ম্যাচ খেলেছিল এবং ওই ফিক্সারে সম্পূর্ণ উল্টো ফলাফল হয়েছিল,যা ১৯৬৩ সালের ‘বক্সিং ডে’ ম্যাচের ফলাফলকে উড়িয়ে দিয়েছিল।

 

‘বক্সিং ডে’ পরবর্তী ফিক্সারে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড শুধু বার্নলির কাছে তাদের পরাজয়ই উল্টে দেয়নি, সঙ্গে নিজেদের একটি থ্র্যাশিংও দিয়েছিল, নয় গোলের সুইং, ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ৫-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল,বার্নালির বিপক্ষে।

 

ওয়েস্ট হ্যাম ঘরের মাঠে তাদের ছয় গোলের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিয়েছিল ইউড পার্কে ৩-১ গোলের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে। অন্যদিকে ইপসউইচ টাউন মধুর প্রতিশোধ নিয়েছিল বক্সিং ডে পরবর্তী ফিক্সারে খেলতে নেমে ফুলহ্যামের দলের বিরুদ্ধে, ৪-২ গোলে হারিয়ে নিজেদের সর্বকালের রেকর্ড জয়ের মাইলস্টোন গেঁথে দিয়েছিল।

মুঠো ভরা ধান, উৎসবে মাতলেন বাংলার চাষিরা

nabanna

বিশেষ প্রতিবেদন: মুষ্টি সংক্রান্তিতে মাতল গ্রাম বাংলা। চাষীর ঘরে মুঠ আনা এক মজার অনুষ্ঠান। ভোরবেলায় চাষী স্নান করে নতুন কাপড়-চোপড় পরে কাস্তে নিয়ে মাঠে হাজির। জমির ঈশাণ কোণে আড়াই আলুই ধান আড়াই প্যাঁচে কেটে ছালের কাপড় জড়িয়ে মাথায় নিয়ে চুপটি করে সোজা বাড়ি। লক্ষ্মীর আটনের পাশে কলাবউয়ের মতো রেখে দিয়ে শুরু হয় পুজো-আচ্চা। পূর্ববঙ্গে ভিন্ন রীতি। বাতা গাছের পাঁচটা ডগি আর মাঙ্গলিক উপচার নিয়ে ধানী জমিতে গিয়ে বাতার ডগায় সিঁদূর মাখায়। পাঁচটা ধানের ছড়া তাতে বেঁধে নিয়ে লক্ষ্মীর সঙ্গে পুজো আরম্ভ হয়ে যায় ঘটা করে। ময়মনসিংহ গীতিকার মলুয়া পালায় আছে। “পাঞ্চগাছি বাতার ডুগুল হাতেতে লইয়া। ধানের গাড়ি মাঠ থেকে ঘরমুখো মাঠের মাঝে যায় বিনোদ বারোমাস্যা গাহিয়া।।”

বস্তুতঃ একটা সময় এই মুঠ আনার মধ্য দিয়েই গ্রাম বাঙলায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতো ধান কাটা। নতুন ফসল ওঠার মাস হিসেবে অগ্রহায়ণ দিয়েই শুরু হতো বছর গণনা। কালের বিবর্তনে নিয়ম বদলেছে, তবে প্রথা কিছু রয়ে গেছে। ভেতো বাঙালীর কাছে ধান শুধু আহার্যবস্তুই নয়। অর্থনীতি থেকে শুরু করে লোক উৎসব – কৃষ্টি তথা লোকসংস্কৃতির বারো আনাই ধান কেন্দ্রিক। ফলনে পিছিয়ে পড়লে কি হবে আজও কুলীন সেই আমন ধান। আষাঢ় থেকে পৌষ মাস – আমন ধানচর্যার যেন মহাকাব্যিক বিস্তৃতি।

অঘ্রাণের আরম্ভ। মাঠে মাঠে বেলা কাটে সকাল হতে সন্ধে। শুরু হয়েছে ধান কাটার মরশুম। মুনিশে আর মেশিনে মাঠ ছয়লাপ। নাস্তাপানি খাওয়া-দাওয়া সবই মাঠে-ঘাটে। মুর্শিদাবাদ, দুমকা, দূর-দূরান্তের গরিব-গুর্বো লোকজন। জন-মজুর খাটতে এসেছে পশ্চিমবঙ্গের ধান্যগোলা খ্যাত বর্দ্ধমান (বর্তমান পূর্ব বর্দ্ধমান) জেলার গাঁ-গঞ্জে। এখানকার লোকেরা বলে বিদেশী মুনিশ। পরিযায়ী পাখির মতো দুদ্দার ভিড় করে বছরে দুবার। ধান লাগানো আর এই ধান কাটায়। রুইতে যেমন সরেস তেমনি পাই মানে লাইন খাড়া করে দ্রুত গতিতে ধান কাটতেও ওস্তাদ। কথা বলে সুরেলা গলায়। তবে ধান এঁটুতে (আঁঠি বাঁধতে) আবার ততটাই অষ্টরম্ভা! ঢিপ দেওয়া, পালা বাঁধা – বিঁড়ে সাজানোয় এ অঞ্চলের মুনিশরা এক একজন সহজ শিল্পী। এক পর (প্রহর) রাত থাকতে মাঠ উঠেছে জেগে। খাটো দিনের বেলা। দুপুরের আজান শুনেই কর্মবিরতি। বেলা ঢলতেই দিগন্তে কুয়াশার সঙ্গে আঁধার নামে গুটি গুটি পায়ে। জনহীন প্রান্তরে একলা পড়ে থাকে মাঠের সোনালি শস্য – ধান!

nabanna

গ্রাম বাংলার মানুষের কাছে ধান সাক্ষাৎ লক্ষ্মী ঠাকরুন। জুতো পায়ে বা আকাছা হয়ে ধানে হাত-পা ঠেকানো একেবারেই বারণ। পৌষ মাসে রাত-বিরেতে টাকা-পয়সা ধার দেওয়া বা নেওয়া সর্বৈব নিষিদ্ধ। কিংবা জোরে শব্দ করলে গেরস্থরা রেগে টঙ। কারণ লক্ষ্মী বড়ো পয়মন্ত শান্ত দেবী। বেশী গোলমাল হলেই তিনি টুকুস করে কেটে পড়েন। আর সেই স্থান দখল করবেন রুক্ষকেশী অলক্ষ্মী! ধান-চালের সঙ্গে বঙ্গবাসীর সম্পর্ক কী আজকের? সিন্ধু সভ্যতার সমকালীন হলো আমাদের বর্দ্ধমানের পান্ডুরাজার ঢিবি। প্রত্ন-উৎখননে সর্বনিম্ন স্তর থেকে বেরিয়ে এসেছে ধানচাষের প্রত্ন নিদর্শন। তারপর যতদিন গেছে ধানের সঙ্গে বাঙালীর মন প্রাণ মান গেছে জড়িয়ে। ধান শুধু বাঙালিকে ধনবানই করেনি; দিয়েছে সম্মান। চাষীর কাছে ধানী জমি জোয়ান ব্যাটার সমান। বাংলাদেশের বগুড়া জেলার মহাস্থান থেকে প্রাপ্ত মৌর্য আমলের এক শিলালিপি। এতে খোদিত রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে গড়ে ওঠা ধান্যভান্ডারের কথা।

লক্ষণ সেনের আনুলিয়া, তর্পণদিঘি, গোবিন্দপুর, শক্তিপুর তাম্রশাসনগুলির মঙ্গলাচারণ শ্লোকে গাঁথা ধান্যবন্দনার কথিকা। উদাহরণ বাড়িয়ে লাভ নেই। বোঝা যায় প্রাচীনকাল থেকেই রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি ছিল ধান। আজও তার খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।

বোরো ধান বাজার মাত করলে কি হবে আমনের কাছে আমলই পায় নি কোনদিন। ধান কেন্দ্রিক লোকসংস্কৃতি আর যাবতীয় লোকউৎসব আমনকে কেন্দ্র করেই। রামাইপন্ডিতের শূণ্যপুরাণ নাকি চর্যাপদের সমসাময়িক রচনা। এতে হরেক রকম আমন ধানের কথা আছে যেমন কনকচূড়, কাঙুদ, কলমা, কসুমশালী, খিরখম্বা, গোতমপলাল, ঝিঙাশাল, সীতাশালী, লাউশালী, মুক্তাহার, মৌকলস, গৃহিনী পাগল, ইত্যাদি। এখন অবশ্যি সে-সবের পাট নেই। আগে গোবিন্দভোগ ধানের মাঠে ভুর ভুর করে সুগন্ধ ছড়াতো হেমন্তের বাতাস। এখন সবই খরানির ধান। যেমন ফলন তেমনি অর্থকরী। তবে কুলীন সেই আমন ধানই। আষাঢ় মাসে মিগের বাত আর অম্বুবাচীর উৎসবে টানা বর্ষণে জল লেগে যায় জমিতে। নবোদ্যমে আজ হাসিম শেখ আর রামা কৈবর্তের দল আর অস্থি চর্মসার বলদ ও ভোঁতা হাল নিয়ে আচোট জমিতে নাঙল ঠ্যালতে যায় না। বরং ভাড়া করা কিংবা কেনা ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ দেওয়ায়। মাটির তলা থেকে এখনো বেরিয়ে আসে ঘুমন্ত গেঁড়ি গুগলি শামুক। ভিড় করে সাদা বকের দল। তবে চাষীরা আর আপন মনে দরাজ গলায় মাঠাল গানে ভরিয়ে দেয়না বর্ষণ সিক্ত আষাঢ়ের মাঠ-ঘাট… নাগর কোথায় রইল্যা রে… জল লেগেছে তোমার বাকুড়িতে।।

শাওন মাসের রিমিঝিমি বরিষণে ধান্যসুন্দরীরা গায়ে গতরে বেড়ে ওঠে। আসে তাদের নবযৌবন। ধান্যবতীরা হয়ে ওঠে গর্ভবতী। ধীরে ধীরে বিয়েন ছাড়ে। থোড় আসে। আর জমে ওঠে দুধ। আশ্বিনসংক্রান্তি হলো ধানের পূর্ণ প্রসব কাল। তারপরই পেকে ওঠার সময়। ধানিজমি যেন কৃষিলক্ষ্মীর আদিগন্ত সবুজ শাড়ি। লেগেছে তাতে সোনার পরশ। ধানের বনে হিমেল হাওয়া আর সোনা রোদের মাখামাখি, মাতামাতি। পরম তৃপ্তিতে পেকে উঠেছে আগুন রঙা ধান।অঘ্রান মাস পড়তে না পড়তে মাঠের রঙ বদলাতে শুরু করে। আগুন রঙা ধান ক্রমশ পাকা সোনায় পরিণত। উদ্ধত ঋজু ধান এবার সকল অহংকার লুপ্ত করে ফলভারে নত। শুরু হলো ধান কাটা। এবার লঘু অর্থাৎ নতুন ধান্যে হবে নবান্ন গ্রাম বাঙলার বাড়িতে বাড়িতে।

Durga Puja 2021: দিল্লি কালিবাড়ির সেই মিলনোৎসবের অভাব টের পাচ্ছেন বাঙালি

festival in Delhi Kalibari

নিউজ ডেস্ক: শুরুটা হয়েছিল ব্রিটিশ সরকারের আমলে রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করার সময়। কলকাতা থেকে যে সব বাঙালিরা পেশার তাগিদে দিল্লিতে এসে বসবাস করতে শুরু করেছিলেন, তাঁদের হাত ধরেই।

১৯৩১ সালে শুরু হওয়া সেই পুজো, যা একদিন নিউদিল্লি দুর্গাপূজা সমিতির নামে শুরু হয়েছিল, সেটাই আজ নিউদিল্লি কালীবাড়ির পূজা নামে পরিচিত। একদিকে আরাবল্লি পর্বতের শুরু, অন্যদিকে রাইসিনা হিলস।মাঝের এই জায়গাটুকু ঘিরে গড়ে উঠেছে কালীমন্দির, সেখানেই হয় শারদীয়ার আবাহন।

দিল্লি চলে আসা বাঙালিরা নিজেদের বসবাসের জন্য এই জায়গাটিকেই বেছে নিয়েছিল। কারণ পার্লামেন্ট থেকে শুরু করে অন্যান্য সরকারি ভবন, সবই কাছাকাছির মধ্যে। বাঙালি আর দুর্গাপুজো তো সমার্থক।

festival in Delhi Kalibari

তবে অনেক আগে কিন্তু পুজো এরকম ছিল না। তখন আজকের নিউদিল্লি কালীবাড়ির পুজো নির্দিষ্ট এক জায়গায় হত না। পুজোর যিনি সম্পাদক হতেন, মায়ের পুজো হত তাঁর বসবাসের এলাকায়। এই অসুবিধা দূর করতে তখনকার ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন করা হয় মায়ের পুজোর জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা দেওয়ার। সেই সময় ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ‘উপহার’ হিসাবে পাওয়া ১ একর জমিতেই গড়ে উঠেছিল আজকের কালীবাড়ি । যেখানে এখন প্রতি বছর মহা সমারোহে পালিত হয় দুর্গাপুজো।

৯০ বছরের এই পুজো আজ হাতবদল হয়ে তৃতীয়, চতুর্থ প্রজন্মের হাতে। কিন্তু ফাঁকি নেই পুজোর নিয়মনিষ্ঠার। প্রত্যেক বছর ভক্তিভরে, নির্ঘণ্ট মেনে দেবীর আরাধনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং রকমারি বাঙালি খাবারের স্টল বসে এখানে। সেজে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। যদিও অতিমারির আবহে কাটছাঁট সব জায়গাতেই।

কমিটির তরফে স্বপন গাঙ্গুলি জানালেন, করোনাকালে পুজোর অনুমতি মিলেছিল গত বছরও। কিন্তু গত বছর কার্যত নিয়মরক্ষায় পুজো সারতে হয়েছিল। এ বছরেও মাত্র দশদিন আগে অনুমতি পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যেই দ্রুত প্রস্তুতি নিয়ে সম্পূর্ণ কোভিড বিধি মেনেই মায়ের পুজো হবে। প্রতিমা দর্শন, অঞ্জলি, ভোগ বিতরণ সবই থাকবে। তবে সব কিছুই হবে সরকারি নির্দেশিকা মেনে। করোনা সংক্রমণের কথা মাথায় রেখেই এবারে কোনও পংক্তি ভোজন হবে না।

প্রত্যেকবারের মতো এবারও কৃষ্ণনগর থেকে এসেছে মূর্তি তৈরির কারিগর। বোলপুর থেকে এসে গিয়েছে ঢাকিরা। সবমিলিয়ে ১০ দিনের প্রস্তুতিতেই সেজে উঠেছে দিল্লি কালীবাড়ির দুর্গাপুজো। এক উদ্যোক্তা আক্ষেপের সুরে জানালেন, গোটা দিল্লিতে প্রায় তিনশোর কাছাকাছি দুর্গাপুজো হয়। আগে নিয়ম ছিল, রাজধানীর সমস্ত দুর্গাপ্রতিমা এখানে এসে জড়ো হবে।

তারপর এখান থেকে শোভাযাত্রা বের হবে। উদ্দেশ্য ছিল, দিল্লিবাসীকে বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। কিন্তু বছর তিনেক আগে যমুনা দূষণের কারণে দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকে এই নিরঞ্জন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই দিল্লিবাসী বাঙালিদের আক্ষেপ, কালীবাড়ি প্রাঙ্গণ দশমীর দিনে যে মিলনক্ষেত্রে পরিণত হতো সেটার অভাব এখন তাঁরা অনুভব করেন।

Durga Puja 2021: উৎসবের আনন্দ পাইয়ে দিতে ৪০০ দুঃস্থকে নতুন পোশাক সংখ্যালঘু যুবাদের

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ এতেই বিশ্বাস রাখেন তালডাংরার ‘লদ্দা মুসলিম যুব সম্প্রদায়ে’র সদস্যরা। তাই করোনা আবহে চলতি শারদোৎসবে অসহায় দুঃস্থ মানুষদের মুখে হাসি ফোটাতে এগিয়ে এলেন তাঁরা।

রবিবার বিকেলে সংখ্যালঘু প্রধান এই গ্রামের যুবকদের উদ্যোগে শারদোৎসব উপলক্ষ্যে প্রায় ৪০০ জন অসহায়, দুঃস্থ মানুষের হাতে নতুন পোশাক তুলে দেওয়া হয়। এই তালিকায় শিশু থেকে বৃদ্ধ এমনকি মহিলারাও বাদ ছিলেননা কেউই।

‘লদ্দা মুসলিম যুব সম্প্রদায়ে’র তরফে জানানো হয়েছে, শারদোৎসবে শুধু বস্ত্র দানই নয়, করোনা আবহে দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটি কিচেনের মাধ্যমে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে অসংখ্য মানুষকে একবেলা খাবারের ব্যবস্থা তাঁরা করেছিলেন।

এই কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী, শিক্ষক মনসারাম লায়েক, প্রাক্তন শিক্ষক সুদীন কুমার ভুঁই, ধর্মেন্দ্র ঘোষ সহ অন্যান্যরা। সমাজসেবী- শিক্ষক মনসা রাম লায়েক লদ্দা মুসলিম যুব সম্প্রদায়ের এই অভিনব উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বর্তমান অস্থির সময়ে লদ্দা মুসলিম যুব সমাজ যে উদারতার পরিচয় দিলেন তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এদের এই কাজে তিনি সবসময় থাকবেন বলে জানান।

পুরো বিষয়টি যার মস্তিস্কপ্রসূত, লদ্দা মুসলিম যুব সম্প্রদায়ের অন্যতম কর্ণধার শেখ বাপি বলেন  চলতি করোনা আবহে অনেকের কাজ নেই। পুজোয় নতুন পোশাক থেকে তারা যাতে বঞ্চিত না হয় তাই তাদের এই উদ্যোগ বলে তিনি জানান।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে কাজী নজরুল ইসলাম প্রত্যেকেই যুব সম্প্রদায়কে ধর্মান্ধতার উর্দ্ধে উঠে এক হয়ে মানুষের জন্য কাজ করার কথা বলেছেন। আর সেই লক্ষ্যেই অবিচল লদ্দা মুসলিম যুব সম্প্রদায়ের শেখ বাপিরা। বর্তমান সময়ে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি আর হানাহানির যুগে তাঁদের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন প্রত্যেকেই।

ইলিশের স্বাদ ফেরাতে নদীবক্ষে অভিনব উৎসব

Hilsa

বিশেষ প্রতিবেদন: ওঁরা বলছেন, “প্রতিজ্ঞা করুন গঙ্গার রুপালি ফসল ৪০০ গ্রামের নীচে কখনই কিনব না।” এই উদ্দেশ্য নিয়েই ডায়মণ্ডহারবারে হয়ে গেল এক অভিনব ইলিশ উৎসব। যা ছোট ইলিশমাছ ধরার প্রতিবাদের সামিল। কোনও জনপ্রতিনিধিদের উদ্দ্যেগে নয় সম্পূর্ণ এই বাংলার কয়েকজন পরিবেশ সচেতন নাগরিকের চেষ্টায় অনুষ্ঠিত হয় এই ইলিশ উৎসব।

আপামর বাঙালীর অত্যন্ত প্রিয় মাছ ইলিশ। আর সেই জন্যই ইলিশ মাছ বাঙালীর রান্নাঘর থেকে ঠাকুর পুজোর ঘরে ঢুকে পড়েছে। সরস্বতী পুজো অথবা বিজয়া দশমীর সকালে ওপার বাংলার বাঙালিদের বাড়িতে কুলোতে জোড়া ইলিশ রেখে তেল-সিঁদুর পরিয়ে উলু ও শঙ্খের ধ্বনিতে তার আহ্ববান করে প্রণাম করা হয়। সোজা কথায় এপার থেকে ওপার বাঙালির ভীষণ প্রিয় এই ইলিশ মাছ।

Hilsa at diamondharbour

ঘটনা হল, এই ভরা বর্ষাকালে করোনার দংশনের ভয় কাটিয়ে বাজারে গিয়ে ইলিশের খোঁজ করেননি এমন বাঙালী খুবই বিরল। কিন্তু এবার বড় ইলিশের বড্ড আকাল, বাজারে যা কাঁচা ইলিশ বলে বিক্রি হচ্ছে তা সবই পোনা। ফলে বাজারে অনেক মাছ এলেও তার স্বাদ কম। এর কারণ ডিমওলা ও ছোট মাছ ধরা। এই ছোট ইলিশ মাছ ধরা কমাতে ডায়মন্ডহারবারের হুগলি নদীর সুভাষ ঘাটের কাছে একটি ভেসেলে ইলিশ উৎসবের সূচনা হয়। ভেসেলটি রায়চক-কুঁকড়াহাটি হয়ে ফের ডায়মন্ড হারবারে ফিরে আসে। ইলিশ নিয়ে সেমিনারেরও আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি কমল দে শিকদার, শাকিল আহমেদ, নাগসেন, চন্দন মাইতি-সহ দুই বাংলার লেখক এবং শিল্পীরা। ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। ইলিশ নিয়ে একটি গবেষণা গ্রন্থ এবং সাহিত্য সংকলনেরও উদ্বোধন করা হয় এই অনুষ্ঠানে।

উদ্যোক্তাদের তরফে লেখক শাকিল আহমেদ বলেন, ‘ছোট মাছ ধরে নেওয়ার জন্য বর্ষাকালে যখন পূবালী হাওয়া বয় তখন বৃষ্টির জল নদী বেয়ে সমুদ্রের মোহনার দিকে গেলেও ইলিশ মাছ ঝাঁকে ঝাঁকে আর নদীর মোহনা বেয়ে উজান পথে আগের মতো আসে না। এই প্রবণতা কমাতে আমাদের এই ইলিশ উৎসব। শুধু খাওয়া নয়, ইলিশকে বাঁচতেও দিতে হবে তবে পাবেন ভালো কিছু। তাই ‘ইলিশ বাঁচাও’ উৎসব করলাম আমরা।’’