गंगासागर जाना अब आसान होगा जाना आगर मुड़ीगंगा ब्रिज के डीपीआर तेजी से रहा जारी

कोलकाता : सीएम ममता बनर्जी की महत्वाकांक्षी योजनाओं में से एक मुड़ीगंगा पर ब्रिज बनाना है। यह ब्रिज न केवल बंगाल के लिए अहम है ब​ल्कि गंगासागर में हर साल मकर संक्रांति पर पुण्य स्नान करने के लिए देश दुनिया से आने वाले लाखों श्रद्धालुओं के लिए भी अहम है। सागर द्वीप पर लॉट 8 और कचुबेरिया को जोड़ने वाला यह ब्रिज न केवल बेहतर कनेक्टिविटी प्रदान करेगा, बल्कि इससे पर्यटन को भी बढ़ावा मिलेगा।

इस ब्रिज को तैयार करने के लिए राज्य व केंद्र में कथित तौर पर लंबे समय तक तनातनी रही। आखिरकार जब कोई बात नहीं बन पायी तो इस बार गंगासागर दौरे के दौरान सीएम ने राज्य सरकार द्वारा इस ब्रिज को बनाने की घोषणा कर दी। पीडब्ल्यूडी विभाग के एक वरिष्ठ अधिकारी की माने तो इस ब्रिज निर्माण के लिए डीपीआर का काम लगभग अंतिम चरण में है। जल्द ही इसका काम शुरू होने जा रहा है। हम आशा करते हैं कि इसी साल इसका काम शुरू हो जायेगा।

उल्लेखनीय है कि सीएम ममता ने कहा था कि केंद्र को कई बार पत्र दिया गया लेकिन पत्र का जवाब नहीं मिला। अब ऐसे में राज्य सरकार खुद इस ब्रिज को तैयार करेगी। सीएम की इस घोषणा के बाद ही से विभागीय अधिकारी इस दिशा में तेजी आगे बढ़े हैं।

इस योजना पर फिलहाल 1,200 करोड़ रुपये की अनुमानित लागत है। मुड़ीगंगा नदी पर 3.1 किलोमीटर लंबा ब्रिज होगा। अगले 3 वर्षों के भीतर इसे पूरा करने का लक्ष्य रखा गया है। पहले वर्ष में 200 करोड़ रुपये का प्रारंभिक आवंटन प्राप्त होगा। प्रस्तावित ब्रिज का उद्देश्य वार्षिक गंगासागर मेला तीर्थयात्रा के दौरान परिवहन चुनौतियों को कम करना, जहाज सेवाओं, श्रद्धालुओं द्वारा यातायात के लिए लंबे इंतजार को दूर करना मुख्य रूप से शामिल है। गंगासागर मेले में श्रद्धालुओं के लिए जलमार्गों पर अधिक निर्भर रहना पड़ता है। हर साला लाखों श्रद्धालु आते हैं और उन्हें घंटों प्रतीक्षा करनी पड़ती है। मुड़ीगंगा नदी पर पुल निर्माण की मांग लंबे समय से चल रही है। राज्य सरकार ने अब गंगासागर तीर्थयात्रियों के लिए ब्रिज के निर्माण की प्रक्रिया में ते​जी ला दी है।

सागर से विधायक और सुंदरवन विकास मंत्री बंकिम हाजरा ने कहा कि 2011 में सत्ता में आने के बाद मुख्यमंत्री ममता बनर्जी ने सबसे पहले मुड़ीगंगा नदी पर पुल बनाने की योजना बनायी। वित्तीय सहायता के लिए केंद्र सरकार को कई पत्र भेजे गए हैं लेकिन आश्वासन के बावजूद केंद्र ने मदद नहीं मिली। मुख्यमंत्री ने सागर द्वीप के निवासियों के साथ-साथ गंगासागर आने वाले तीर्थयात्रियों की समस्याओं को ध्यान में रखते हुए इस पुल के निर्माण का निर्णय लिया है।

Gangasagar: করোনা আক্রান্ত পূণ্যার্থীরা, সংক্রান্তির আগেই মেলা বন্ধের দাবি

Gangasagar: Corona-affected pilgrims demand closure of fair before Sankranti

গঙ্গাসাগর (Gangasagar) মেলা শুরুর মুখেই করোনার প্রকোপ বাড়ছে। আক্রান্ত হচ্ছেন একের পর এক তীর্থযাত্রী। জানা গিয়েছে, বাবুঘাট ট্রানজিট ক্যাম্প ও শিয়ালদহ শিবিরের মোট ৩১ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের হদিশ মিলেছে। এই সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিন্তু তীর্থযাত্রীদের মধ্য করোনা সংক্রমণ বাড়তেই মেলা বন্ধ করার পক্ষে প্রশ্ন তুলছে ওয়াকিবহাল মহল।

প্রশ্ন উঠছে, সংক্রমণ বাড়লেও রাজ্য কেন মেলা বন্ধ করতে চাইছেনা? মেলায় সংক্রমণ বাড়লে ফল ভুগতে হবে গোটা রাজ্যকেই। কেন সকলের জীবনকে বিপদের মুখে ফেলা হবে?

কলকাতা হাইকোর্ট শর্তসাপেক্ষে গঙ্গাসাগর মেলা করার অনুমতি দিয়েছে। তবুও সংক্রমণে রাশ‌‌ টানা যাচ্ছেনা। চিকিৎসক মহলের মতে, করোনা বিধি মেনে মেলা করলেও সংক্রমণ আটকানো সম্ভব নয়। গঙ্গাসাগর মেলা ‘সুপার স্প্রেডার’ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন: Covid 19: জগন্নাথ মন্দির বন্ধ কিন্তু গঙ্গাসাগর খোলা, মমতার লক্ষ্য হিন্দিভাষী ‘সহানুভূতি’ ভোট?

গত শুক্রবার হাইকোর্টের অনুমতি মেলে। ওইদিনই বাবুঘাট ট্রানজিট ক্যাম্পের ২ জন করোনা আক্রান্ত হন। গঙ্গাসাগর মেলার পরিস্থিতিতে নজর রাখার জন্য তিন কমিটির সদস্য তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মেলায় সংক্রমণ বাড়লে কমিটিকেই তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে।’

স্বাস্থ্য দফতরের শনিবারের বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ১৮,৮০২। পজিটিভিটি রেট ২৯.৬০ শতাংশ। দৈনিক মৃতের সংখ্যা ১৯ এবং মৃত্যুহার ১.১৯ শতাংশ।

Covid 19: জগন্নাথ মন্দির বন্ধ কিন্তু গঙ্গাসাগর খোলা, মমতার লক্ষ্য হিন্দিভাষী ‘সহানুভূতি’ ভোট?

mamata banerjee gangasagar

করোনা (covid 19) সংক্রমণের কারণে জগন্নাথের মন্দিরদ্বার রুদ্ধ করেছে ওডিশা সরকার। গঙ্গাসাগরের প্রবেশপথ খোলা পশ্চিমবঙ্গে! এ কেমন করেনা বিরোধী লড়াই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ? প্রশ্ন উঠছে।

তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করছে তাদের পোশাকি নামে ‘সর্বভারতীয়’ তকমা দেশজুড়েই ছড়াবে। অন্তত তিনবার পরপর পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়ে আঞ্চলিক দল খোলস থেকে বের হতে মরিয়া চেষ্টা শুরু করেছেন দলটির নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে টিএমসির উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দলটির নেত্রীর লক্ষ্য কতটা সম্ভব তা নির্বাচনী ফলাফলেই আসবে। তবে রাজনৈতিক মহলে এমনও আলোচনা, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী চান তাঁর সর্বভারতীয় ইমেজ তৈরি করতে। এক্ষেত্রে তাঁর নজর বিরাট হিন্দি বলয়। এই বলয়ের প্রধান পা়ঁচ রাজ্য রাজস্থান, উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও ঝাড়খণ্ড তাৎপর্যপূর্ণ, এই বলয় থেকেই প্রতিবছর গঙ্গাসাগর মেলায় মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপে।

উৎসস্থল উত্তরাখণ্ডের গোমুখ হিমবাহ থেকে যাত্রা শুরু করে পাঁচটি রাজ্য পেরিয়ে গঙ্গা বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়েছে। গতি পথের ষষ্ঠ রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। সাগর মোহনা অর্থাত সাগরদ্বীপ গঙ্গার সর্বশেষ ঠিকানা। পুরো গতিপথ জুড়ে গঙ্গা অববাহিকার বিরাট অঞ্চল হিন্দি ভাষী এলাকা। এই হিন্দি বলয় এলাকার রাজনীতিতে যারা শক্তিশালী তারাই দেশজুড়ে প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজনৈতিক মহলের চর্চা, হিন্দি বলয়ের জনমানসে নিজের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঝুঁকি নিয়েছেন। তিনি বিলক্ষণ জানেন দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি কীরকম। চিকিৎসকদের অনুরোধ যুক্তিতে সরাসরি সাগর মেলা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন। অভিযোগ, কিন্তু বিষয়টি নিয়ে আদালতের নির্দেশকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছেন তিনি। এর আগেও করোনার কারণে বন্ধ হয় সাগর মেলা। এবার কেন হচ্ছে?

পশ্চিমবঙ্গের করোনা পরিস্থিতি রীতিমতো চিন্তার। গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে। এই অবস্থায় আদালতের নির্দেশে বিপুল চেহারার গঙ্গাসাগর মেলার জনসমাগমে কী করে কোভিড বিধি মানা সম্ভব ? উঠছে এই প্রশ্ন।

যুক্তি হিসেবে উঠে এসেছে, পড়শি রাজ্য ওডিশার জগত বিখ্যাত জগন্নাথ মন্দির বন্ধ করার প্রসঙ্গ। কোভিড সংক্রমণ যাতে না ছড়ায় তার জন্য মু়খ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের কঠিন অবস্থান। পুরী জেলা প্রশাসন বন্ধ করেছে মন্দিরের দরজা।

রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন নবীন পারেন পুরীর মন্দিরকে ভক্তশূন্য করতে, মমতা কেন করেন না গঙ্গাসাগর মেলা বন্ধ করতে।

Gangasagar : শুরু হচ্ছে গঙ্গাসাগর মেলা, সংক্রমণ-বিস্ফোরণের আশঙ্কা!

Gangasagar

শুরু হচ্ছে গঙ্গাসাগর (Gangasagar) মেলা। শর্তসাপেক্ষে মেলা করার পক্ষে রায় দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে নোনা হলে করোনা ছড়ায় না। তবুও তাতে নিশ্চিত হতে পারছেন না বিশেষজ্ঞরা। সংক্রমণের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। জমায়েত এড়ানোর জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় এখন সেটাই দেখার।

ওমিক্রন আতঙ্কের মধ্যে এবার গঙ্গাসাগর মেলায় আয়োজনের ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টে চলেছে মামলা। আদালতে রাজ্য সরকারের আইনজীবীর যুক্তি- নোনা জলে করোনা ছড়ায় না। নোনা জলে করোনা প্রসঙ্গে বিজ্ঞানের কী যুক্তি? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’- জানিয়েছে, জলের করোনা ছড়ায় এমন প্রমাণ আপাতত মেলেনি। সাঁতার কাটার মতো কাজও নিরাপদে চলতে পারে।

তবে বিপত্তি হতে পারে অল্প জায়গায় একাধিক ব্যক্তি উপস্থিতি। জলে থাকলেও শারীরিক দুরত্ব মেনে চলার ব্যাপারে সজাগ থাকতে বলেছে হু। এমনকি কাশি, হাঁচি ইত্যাদি ক্ষেত্রে কনুই দিয়ে মুখ ঢাকা দেওয়ার উপদেশ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এর পক্ষ থেকে মিষ্টি জল কিংবা নোনা জলের কথা আলাদাভাবে বলা হয়নি৷ বলা হয়েছে জলে করোনা ছড়ায় এমন প্রমাণ মেলেনি। অর্থাৎ আইনজীবীর ‘নোনা জল’ যুক্তি ফেলে দেওয়ার মতো নয়। সমস্যাটা জমায়েত নিয়ে।

গত বছরের কুম্ভেমেলার স্মৃতি এখনও টাটকা। করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে এই মেলা সুপারস্প্রেডারের কাজ করেছিল বলে মনে করছেন অনেকে। এ রাজ্যেও কি হতে চলেছে তেমন কিছু? জমায়েত বা ভিড় এড়ানোর জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কিন্তু অগুনতি পূণ্যার্থীদের প্রশাসন কীভাবে সামলাবে, তা ভেবেই ঘুম উড়েছে অনেকের।

ওমিক্রম নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই বলে জানিয়েছেন রাজনৈতিক  একাংশ৷ কিন্তু বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সজাগ হোন, সাবধানে থাকুন। করোনা হামলায় সোমবার থেকে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে পুরীর মন্দির৷ রাজ্যেও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা সংক্রান্ত পরিসংখ্যান। অনেক প্রশ্ন, আশঙ্কা নিয়েই শুরু হচ্ছে এবারের গঙ্গাসাগর মেলা।

Covid 19 : সাগর পারে ‘পূণ্য তীর্থ’, দীঘার জলে করোনার লীলাক্ষেত্র!

mamata banerjee

‘একই বৃন্তে’ শব্দ দু’টির কথা আমরা কম-বেশি সকলেই পড়েছি বা জেনেছি। দীঘা (Digha), গঙ্গাসাগরের (Gangasagar) ক্ষেত্রেও একই কথা বলা চলে৷ একই রাজ্যের দু’টি জায়গায়। উভয়স্থলই মানুষের প্রিয়। আপন মহীমায় বিরাজমান। তবুও করোনা-বেলায় (Covid 19) দীঘা, সাগর একই বৃন্তের হয়েও যেন সুয়োরাণী এবং দুয়োরাণী। করোনা বাবাজীবন এসে বসিয়ে দিয়েছে ভেদাভেদের প্রাচীর৷

রাজ্য সরকারের বক্তব্য, নোনা জলে করোনার চলাচল অচল। তাই হোক মেলা। কলকাতা হাইকোর্ট শর্তসাপেক্ষে মেলা হওয়ার পক্ষেই রায় দিয়েছে৷ জমিয়ে ঠান্ডা পড়েছে, ধর্মের ব্যাপার, সামনে গঙ্গার পার। বসবে মেলা। দারুণ আমেজ! ‘বিশ্বাসে মিলায়ে বস্তু, তর্কে বহুদূর’। শহুরে ব্যস্ততা, কোলাহল, কংক্রিটের জঙ্গল, করোনার পরিসংখ্যান পিছনে ফেলে চলুন যাই গঙ্গাসাগর!

সাগরে যেমন উৎসবের আমেজ, দীঘায় তেমনই লকডাউনের আমেজ। ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে পর্যটকদের। খালি করে দেওয়া হয়েছে হোটল। কারণ সেই করোনা। যে করোনা ভয় পায় নোনা জলকে। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন জাগে, দীঘার সমুদ্রের কি নোনা নয়, স্বাদু জল? কারণ গঙ্গাসাগর মেলা করার জন্য রাজ্য সরকারের যুক্তি ছিল, নোনা জলে করোনা ছড়ায় না। সরকার যখন বলেছে, তখন সেটাই নিশ্চয় ঠিক?

নোনা জলে করোনা যদি না থাকে তাহলে দীঘা কেন শুনশান? এ প্রশ্নের উত্তর কী কী হতে পারে। ধ্রুবকের মতো এটা ধরে রাখতে হবে রাজ্য সরকারের যুক্তিটাই শিরোধার্য। তাহলে দীঘা খালি করার পিছনে সম্ভাব্য যুক্তি- দীঘার সমুদ্রের জলের চরিত্র কি বদলাতে শুরু করেছে? এখন কি আর সেই জল নোনা নয়? অপর যুক্তি হতে পারে, সাগর এবং দীঘায় আলাদা আলাদা প্রজাতির করোনা রয়েছে। তেমনটা হলে তো এক বিস্ময়কর ব্যাপার! সম্ভবত বিজ্ঞানীরদের হাতেও এই তথ্য এসে পৌঁছয়নি। আবিষ্কর্তা আমাদের রাজ্য সরকার? আপনাদের কি মনে হয়? করোনা আবহে রাজ্য জুড়ে চলছে চরম বিতর্ক। 

Gangasagar : ‘নোনা জলে করোনা হবে না’ থিওরিতে চরম কটাক্ষের মুখে মমতা সরকার

mamata banerjee drinking

করোনা আবহে কতোই না ‘থিওরি’ আবিষ্কার হয়েছে। ফ্যাক্ট চেক করতে গিয়ে বোধহয় হিমশিম খেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা৷ হয়তো অনেকের মনে পড়েছে ‘গল্পের গরু গাছে ওঠে’। যুক্তিকে থোড়াই কেয়ার! প্রসঙ্গে গঙ্গাসাগর (Gangasagar)।

এবার আলোচনায় ‘নোনা জলে করোনা’। মানে? ওমিক্রন আতঙ্কের মধ্যে এবার গঙ্গাসাগর মেলায় আয়োজনের ব্যাপারে কলকাতা হাইকোর্টে চলেছে মামলা। আদালতে রাজ্য সরকারের আইনজীবীর যুক্তি- নোনা জলে করোনা ছড়ায় না।

নেট দুনিয়ায় এ প্রসঙ্গে হচ্ছে আলোচনা৷ নেট নাগরিকরা কেউ পক্ষে, কেউ বিপক্ষে৷ নোনা জলে করোনা প্রসঙ্গে বিজ্ঞানের কী যুক্তি? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’- জানিয়েছে, জলের করোনা ছড়ায় এমন প্রমাণ আপাতত মেলেনি। সাঁতার কাটার মতো কাজও নিরাপদে চলতে পারে। তবে বিপত্তি হতে পারে অল্প জায়গায় একাধিক ব্যক্তি উপস্থিতি। জলে থাকলেও শারীরিক দুরত্ব মেনে চলার ব্যাপারে সজাগ থাকতে বলেছে হু। এমনকি কাশি, হাঁচি ইত্যাদি ক্ষেত্রে কনুই দিয়ে মুখ ঢাকা দেওয়ার উপদেশ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

মমতা-সরকারের যুক্তি কি একেবারে যথার্থ?

হু-এর পক্ষ থেকে মিষ্টি জল কিংবা নোনা জলের কথা আলাদাভাবে বলা হয়নি৷ বলা হয়েছে জলে করোনা ছড়ায় এমন প্রমাণ মেলেনি। অর্থাৎ আইনজীবীর ‘নোনা জল’ যুক্তি ফেলে দেওয়ার মতো নয়। সমস্যাটা জমায়েত নিয়ে।

ভারতবর্ষের সিংহভাগ মানুষ ধর্মের ব্যাপারে কীরূপ উৎসাহী এ কথা প্রত্যেকের জানা৷ জলে হোক বা ডাঙ্গায়, ভিড় বা জমায়েত এড়ানোই চ্যালেঞ্জ। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে সাগর এলাকার প্রত্যেকেই প্রতিষেধক পেয়ে গিয়েছেন। তাতেও কি করোনা রোধ করা সম্ভব? সম্প্রতি যারা কোভিডে আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের অনেকেরই ডবল ডোজ নেওয়া ছিল। তার পরেও রিপোর্ট পজিটিভ।

স্রেফ ‘নোনা জলে করোনা ছড়ায় না’ যুক্তি কি তাহলে যথার্থ? ভিড় প্রতিহত করার ব্যাপারে আদালতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার৷ প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা কি সম্ভব হবে? কুম্ভমেলা ২০২১-এর স্মৃতি চাইছেন না সাধারণ মানুষ।

Covid 19: লাখ লাখ মানুষের গঙ্গাসাগরে জমায়েত নিয়ম! চিকিৎসক মহল বলছে ‘নির্বোধ’

সব তীর্থ বারবার গঙ্গাসাগর একবার! বহু প্রাচীন এই প্রবাদবাক্য বলে দেয়, কী নিদারুণ কষ্ট নিয়ে একসময় সাগরসঙ্গমে আসতেন পথিক পূণ্যার্থীরা। প্রাচীন সময়েও জনসমাগম হতো বিপুল। এখন তো কমপক্ষে তিরিশ লক্ষের জমায়েত হয়। এই বিপুলতর জনসমাগমের মাঝে করোনাভাইরাসের (Covid 19) ডেল্টা, ডেল্টা প্লাস, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট কতটা ছড়াতে পারে তার আন্দাজ পেতে চিকিৎসক বা বিশষজ্ঞ লাগে না। গঙ্গাসাগর মেলা ঘিরে আশঙ্কিত চিকিৎসক বিশেষজ্ঞ মহল।

রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলেছিল কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ৫০ জনের বেশি উপস্থিত থাকতে পারবে না। গঙ্গাসাগর মেলার ক্ষেত্রেও সেই বিজ্ঞপ্তি প্রযোজ্য হবে। মেলায় একত্রে ৫০ জনের বেশি উপস্থিত থাকতে পারবে না। এই সম্পূর্ণ বিষয়টি দেখার জন্য একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

পড়ুন: High Court: মিলল অনুমতি, হবে গঙ্গাসাগর মেলা

প্রশ্ন উঠছে, বিপুল ভিড়ের সামাল দিতে যেখানে প্রশাসন হিমশিম খায়। সেখানে কোভিড বিধি মেনে চলার জন্য গঙ্গাসাগর কতটা উপযুক্ত ?

মেলা থেকে বিপজ্জনক হারে সংক্রমণের তীব্র আশঙ্কা থাকছেই। গত কয়েকদিন ধরেই চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞদের বারবার আবেদন ছিল এবারও এই মেলা বন্ধ করা হোক। কারণ, সংক্রমণ গতি অতি তীব্র।

বিশেষজ্ঞরা তুলনা করে দেখিয়েছেন, কলকাতার বড়দিন উৎসবে পার্ক স্ট্রিটের ভিড় অথবা অফিস টাইম শিয়ালদহ, হাওড়া, বনগাঁ, কৃষ্ণনগর সিটি, বারাসত, দমদম যে কোনও স্টেশনের ভিড়কে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে বিশাল চেহারা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপের গঙ্গাসাগর মেলা।

দেশজোড়া করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউ চলছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী শহর কলকাতায় যেন করোনা বোমার বিস্ফোরণ হয়েছে। ঘরে ঘরে করোনা আপাত দৃষ্টিতে এইটুকু তথ্য আতঙ্কের কারণ। এই অবস্থায় যেমন পার্ক স্ট্রিটে বড়দিনের মেলায় উদ্বেগজনক ভিড় ছিল তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি জনতার ঢেউ আসতে চলেছে সাগরদ্বীপে।

আরও পড়ুন: Covid19: শেষ সাত দিনে ৭১ শতাংশ সংক্রমণ, করোনা যেন মরণহীন রক্তবীজ

চিকিৎসকদের বেশিরভাগ মনে করছেন নির্বোধের মতো সিদ্ধান্ত। আরও ভয়াবহ করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা জন্ম নিল।

<

p style=”text-align: justify;”>মেলায় আসা নিরানব্বই শতাংশ পূণ্যার্থীরা কোভিড বিধি মানতে পারবেন না। কারণ বিপুল ভিড়। গঙ্গাসাগরের এই ভিড়ে কোনও কোভিড বিধি মানা সম্ভব নয়। ভিড়ের গুঁতোয় নাক থেকে মাস্ক কোনদিকে উড়ে যাবে তাই বোঝা সম্ভব নয়।

High Court: মিলল অনুমতি, হবে গঙ্গাসাগর মেলা

high court

গঙ্গাসাগর মেলা শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি দিল হাই কোর্ট। (High Court) তবে, ১) মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান, ২) বিরোধী দলনেতা, ৩) রাজ্যের মুখ্য সচিব- এই তিন সদস্যের কমিটি করোনা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সব সময় পর্যালোচনা করবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কমিটি মেলা বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে।

কী শর্ত দেওয়া হয়েছে আদালতের পক্ষ থেকে?

রাজ্য সরকার যে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলেছিল কোন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ৫০ জনের বেশি উপস্থিত থাকতে পারবে না। গঙ্গাসাগর মেলার ক্ষেত্রেও সেই বিজ্ঞপ্তি প্রযোজ্য হবে। বিষয়টি স্বরাষ্ট্র সচিবকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দিতে হবে। গঙ্গাসাগর মেলায় একত্রে ৫০ জনের বেশি উপস্থিত থাকতে পারবে না। এই সম্পূর্ণ বিষয়টি দেখার জন্য একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।
কমিটিতে থাকবেন:—
১) মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান।
২) বিরোধী দলনেতা
৩) রাজ্যের মুখ্যসচিব বা মুখ্যসচিব মনোনীত কোনও রাজ্যের প্রতিনিধি।

এই কমিটি নজরদারি করবে এবং যদি রাজ্য সরকারের ওই বিজ্ঞপ্তির অবমাননা হয় বা সঠিক ভাবে পালিত না হয় তাহলে এই কমিটি মেলা বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবে।

Dilip Ghosh: প্রত্যেক নির্বাচনের পরেই মমতা পাপ ধুতে যান: দিলীপ ঘোষ

Mamata-Dilip

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা : মঙ্গলবার গঙ্গাসাগরের মোহন্ত বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। বুধবার সকালে ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে এসে দিলীপ ঘোষ স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে রাজ্যের শাসকদলকে আক্রমণ করেন। 

তিনি বলেন, ‘মোহন্ত রাজনীতি বোঝেন না। তিনি সবাইকে আশীর্বাদ করেন। এখানেও করেছেন।’ দিলীপ কটাক্ষ করে বলেন, ‘কলকাতা পুরভোটে যে পাপ করেছেন তা ধুতে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রত্যেক নির্বাচনের পরেই এটা করেন তিনি।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গঙ্গাসাগর দুয়োরানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সত্যিই যদি গঙ্গাসাগরের উন্নয়ন চান তাহলে নির্দিষ্ট প্ল্যান নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলুন। বিগত ১০ বছরে গঙ্গাসাগরে কী উন্নয়ন করেছে তৃণমূল?’  

প্রসঙ্গত, গঙ্গাসাগর মেলার কোনো দায়িত্ব কেন্দ্র নেয় না, এই অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘গঙ্গাসাগর মেলায় বাইরে থেকে যে লোক আসে তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়। বাইরে থেকে আসা মানুষের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হয়। অন্যদিকে জেটি ভেঙে পড়ে যায়। কোনও ডিসিপ্লিন নেই। রাজ্য সরকার চাইলেই কেন্দ্র সাহায্য করবে কিন্তু তার জন্য সদিচ্ছা থাকতে হবে।’

এদিকে মঙ্গলবার রাতে গোয়া সফরে গিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন দিলীপ ঘোষ অভিষেকের গোয়া সফরকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘গোয়াতেই থেকে যান উনি। বিমান কেনা হয়েছে বলে সেটা ব্যবহার করতে হবে, তাই বার বার অভিষেক গোয়া যাচ্ছেন। ত্রিপুরার লোক পুরভোটে উত্তর দিয়েছে। গোয়ার লোক আগেই বুঝে গিয়েছে। তাই তৃণমূলে ভাঙন ধরেছে। তৃণমুলের আসল রূপ সবাই বুঝে গিয়েছে।’

গঙ্গাসাগরের মেলা উপলক্ষে চলবে বাড়তি বাস-ট্রেন, বিশেষ বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

Additional bus-train will run on the occasion of Gangasagar fair, special message of the Chief Minister

News Desk: প্রতি বছরই বিভিন্ন জায়গা থেকে বহু মানুষ আসেন গঙ্গাসাগরের মেলায়। এইবারে মেলার উৎসবের যাবতীয় প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গঙ্গাসাগর যাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোমবার এই মেলা সংক্রান্ত একটি বৈঠক করেন। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রেলের কর্তারাও। মুখ্যমন্ত্রী জানান, গঙ্গাসাগরের মেলা উপলক্ষ্যে বাড়ানো হবে বাস ও ট্রেনের সংখ্যা। হাওড়া এবং শিয়ালদা-নামখানায় অতিরিক্ত ট্রেন চালানো হবে। মেলার দিনগুলিতে ৭০ টি বাড়তি ট্রেন চলবে বলে জানানো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য গঙ্গাসাগর মেলার কয়েকদিনে ২,২৫০ টি বাস চালানো হবে।

এইবারের মেলায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ কিছু ব্যবস্থা। নতুন বছরের গঙ্গাসাগরের মেলা প্লাস্টিকমুক্ত হওয়ার বার্তা দিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। একইসাথে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে থাকবে ভলেন্টিয়ার্স। দর্শনার্থীদের সতর্ক করতে ৬,৫০০ জন ভলেন্টিয়ার্স থাকবে মেলায়। বাড়তি সতর্কতা রাখতে ১০০০-এর বেশী সিসিটিভি রয়েছে।

যেহেতু করোনার উদ্বেগ বজায় রয়েছে ফুএ মেলায় যাতে করোনা বিধি সঠিকভাবে মেনে চলা হয় সেদিকেও নজর দেওয়া হবে। মেলায় ১৩ টি মেডিক্যাল স্ক্রিনিং ক্যাম্পের ব্যবস্থা করা হবে। বাসে ওঠার আগে করাতে হবে আরটিপিসিআর টেস্ট। মেলার নিকটবর্তী স্থানে তৈরি করা হয়েছে কোভিড হাসপাতাল যেখানে ৬০০ টি বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং থাকবে ৫ টি আইসোলেশন সেন্টার।

গঙ্গাসাগরের মেলা গোটা ভারত তথা বিশ্বের অন্যতম সুখ্যাত মেলা। তাই এই উৎসবের সময় যাতে কোনো আপত্তিকর ঘটনা না ঘটে সেদিকেও নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।