সুপ্রিম কোর্টের গুঁতোয় পরিবেশ দূষণ রোধ করতে একাধিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা কেজরি সরকারের

delhi pollution

News Desk: সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর দিল্লি। শনিবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme court ) দিল্লি দূষণ (pollution )সংক্রান্ত বিষয়ে একটি মামলার শুনানি ছিল। এদিনের শুনানিতে দিল্লি ও কেন্দ্রীয় সরকার একসঙ্গে রাজধানীর দূষণের জন্য কৃষকদের (farmer) ন্যাড়া পোড়ানোকেই দায়ী করেন।

শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি (chief justice) এনভি রামান্নার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হচ্ছিল। দুই সরকারের পক্ষ থেকে দূষণের জন্য কৃষকদের দায়ী করার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন প্রধান বিচারপতি। বিচারপতি এনভি রামান্না বলেন, কৃষকদের ঘাড়ে সব বিষয়ই দোষ চাপিয়ে দেওয়া একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। দায় এড়াতে বলা হচ্ছে, শুধু ফসলের গোড়া পোড়ানোর কারণেই দূষণ হচ্ছে।

কিন্তু দিল্লির রাস্তায় যানবাহনের ধোঁয়া, কারখানা থেকে নির্গত দূষিত ধোঁয়া, বাজির ধোঁয়া এসবের জন্য কোনও দূষণ হচ্ছে না। বাজি পোড়ানোর উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দীপাবলির সময় পুলিশের সামনেই ইচ্ছামত বাজি পুড়িয়েছেন রাজধানীর মানুষ। পুলিশ ও প্রশাসন কেউ দেখেও দেখেনি। তাহলে এই দূষণের দায় তো পুলিশ ও প্রশাসনের ঘাড়েও বর্তায়।

একইসঙ্গে এদিনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে দিল্লি সরকারকে লকডাউন ঘোষণা করার পরামর্শ দেয়। সুপ্রিম কোর্টে তীব্র সমালোচিত হওয়ার পরই এদিন দূষণ নিয়ন্ত্রণে তড়িঘড়ি এক জরুরি বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল (arvind kejriwal)।

সেই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেন, আপাতত লকডাউন হবে না। তবে দিল্লির সমস্ত স্কুল আগামী সাত দিন বন্ধ রাখা হবে। সরকারি দফতরের সমস্ত কাজকর্ম হবে অনলাইনে। নির্মাণকাজ-সহ যে সমস্ত কাজে বেশি ধূলোকণা তৈরি হয় সেই সমস্ত কাজ ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখা হবে। এদিনের বৈঠকে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে জোড়-বিজোড় সংক্রান্ত নীতি নিয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে অনেকেই মনে করছেন, খুব শীঘ্রই রাজধানীতে আগের মতোই যান চলাচলের ক্ষেত্রে ফিরতে চলেছে জোড়-বিজোড় (odd-even) নীতি ।

মোদির ৪ ঘন্টার সফরের জন্য ২৩ কোটিরও বেশি টাকা খরচ করছে শিবরাজ সিং চৌহান সরকার

Narendra Modi

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: কয়েকদিন আগেই কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষণা করেছে ১৫ নভেম্বর দিনটি ‘জনজাতি গৌরব দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। যে সমস্ত আদিবাসী যোদ্ধা দেশের জন্য আত্মবলিদান দিয়েছিলেন এই উৎসব তাদের উদ্দেশ্যে সমর্পণ করা হবে।

মধ্যপ্রদেশে জনজাতি গৌরব দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। মধ্যপ্রদেশের মাত্র ৪ ঘন্টা থাকবেন তিনি। মোদির চার ঘণ্টার সফরের জন্য রাজ্যের বিজেপি সরকার খরচ করছে ২৩ কোটির বেশি টাকা।

করোনাজনিত কারণে বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন। অধিকাংশ মানুষের আয় তলানিতে এসে ঠেকেছে। রেশনে দেওয়া বিনামূল্যের চাল ও গম বহু পরিবারের একমাত্র সম্বল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরই মধ্যে কেন্দ্র হুমকি দিয়েছে, তারা আর বিনামূল্যে রেশনে (ration) চাল গম সরবরাহ করবে না। কারণ তারা অযথা পয়সা খরচা করতে রাজি নয়। কিন্তু সেই মোদির জন্যই দু হাত উপুড় করে পয়সা ঢালছে মধ্যপ্রদেশের শিবরাজ সিং (shibraj ging chouhan) চৌহান সরকার।

জানা গিয়েছে, ১৫ নভেম্বর ৪ ঘন্টার জন্য ভোপালে (bhopal) আসছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে ভোপালের জামবোরী ময়দানের মূল মঞ্চে মোদি থাকবেন মাত্র ১ ঘন্টা ১৫ মিনিট। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষকে এই অনুষ্ঠানে নিয়ে আসা হচ্ছে। তার জন্য তৈরি করা হয়েছে বেশ কয়েকটি বিশালাকার প্যান্ডেল। এক সপ্তাহ ধরে ৩০০ জনের বেশি কর্মী এই কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষকে তুলে আনতে শুধুমাত্র পরিবহণের (transportation) জন্য খরচ করা হচ্ছে ১৩ কোটিরও বেশি টাকা। এরপর রয়েছে তাদের খাওয়া-দাওয়ার খরচ। এক সপ্তাহ ধরে জনজাতি গৌরব উৎসব চলবে।

এহেন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহল প্রশ্ন তুলেছে, মোদি সরকার একদিকে যখন মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নিচ্ছে তখন এভাবে রাজ্যের বিজেপি সরকারের মুঠো মুঠো টাকা খরচ করছে কিভাবে? অকারণে অর্থ জলে ফেলার কারণ কী? তবে মোদি বা তাঁর দলের পক্ষ থেকে এই প্রশ্নের কোনও উত্তর দেওয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, ১৫ নভেম্বর ভোপালের হাবিবগঞ্জ (habibgang) স্টেশনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। হাবিবগঞ্জ স্টেশনটিকে একটি বিশ্বমানের স্টেশন হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। বিশ্বের যেকোনও উন্নত দেশের অত্যাধুনিক স্টেশনকে চ্যালেঞ্জ দিতে পারবে হাবিবগঞ্জ স্টেশন।

Modi government: বিনামূল্যে রেশন প্রকল্প বন্ধ করে দিতে চায় মোদি সরকার

free ration scheme

News Desk, New Delhi: দেশের আর্থিক পরিস্থিতি এবং কাজের বাজার আগের থেকে অনেকটাই ভাল হয়েছে। তাই বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে। অর্থাৎ বিনামূল্যে রেশন আর দেওয়ার আর প্রয়োজন নেই, এমনটাই চিন্তা ভাবনা করছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার (Modi government)।

২০২০ সালে করোনা মহামারীর আকার নেওয়ার পর বহু মানুষ তাঁদের কাজ হারিয়েছিলেন। কাজ হারিয়ে বহু মানুষ বেকার হয়ে পড়েছিলেন। ওই সমস্ত মানুষের অন্নসংস্থানের জন্য এগিয়ে এসেছিল কেন্দ্র। চালু করা হয়েছিল বিনামূল্যে রেশন প্রকল্প। লক ডাউনের সময় বিনামূল্যে পাওয়া চাল, গম, ছোলা বহু শ্রমিক পরিবার তথা দুস্থ মানুষের মুখে অন্ন জুগিয়েছে প্রায় বছর দেড়েক ধরে। কিন্তু সম্প্রতি গোটা দেশেই করোনা পরিস্থিতি প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। কাজের পরিস্থিতিও এখন মোটের উপর স্বস্তিজনক। তাই মোদি সরকার মনে করছে, প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার আর কোনও যুক্তি থাকতে পারে না।

কেন্দ্রের খাদ্য সচিব সুধাংশু পাণ্ডে এদিন জানিয়েছেন, ৩০ নভেম্বরের পর বিনামূল্যে রেশন প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার জন্য কেন্দ্রের কাছে কোনও প্রস্তাব নেই। কোনও রাজ্যের পক্ষ থেকেই বিনামূল্যে রেশন চালিয়ে যাওয়ার জন্য কেন্দ্রকে প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। এটা ঘটনা যে, গোটা দেশের আর্থিক পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। মানুষ ফের নতুন করে তাঁদের কাজকর্ম শুরু শুরু করেছেন। খোলাবাজারেও সব ধরনের খাদ্য শস্য পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। বিক্রিবাটাও ভালই চলছে। সে কারণেই কেন্দ্রের কাছে আর বিনামূল্যে রেশন প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার আর কোনও প্রস্তাব আসেনি।

উল্লেখ্য, ২০২০-র মার্চ মাসে মোদি সরকার প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনা চালু করেছিল। এই যোজনায় প্রদেশের প্রায় ৮০ কোটি মানুষকে বিনামূল্যে চাল, গম, ডাল ও ছোলার মত নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য দেওয়া হয়েছিল। ধাপে ধাপে এই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১-এর এর ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। তাই নতুন কোনও ঘোষণা না হওয়ায় ৩০ নভেম্বরের পর এই প্রকল্প বন্ধ করে দিতে পারে মোদি সরকার।

তবে বিনামূল্যে রেশন প্রকল্প কেন্দ্র বন্ধ করে দিলেও একাধিক রাজ্য নিজেদের উদ্যোগেই এই প্রকল্পের খরচ বহন করবে বলে জানিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক আগেই জানিয়েছেন, তিনি বিনামূল্যে মানুষকে রেশন দেবেন। শুধু বিনামূল্যে দেওয়াই নয়, গ্রাহকদের বাড়ি গিয়ে সেই রেশন পৌঁছেও দেওয়া হবে। উত্তরপ্রদেশ সরকারও ইতিমধ্যেই আগামী বছরের হোলি পর্যন্ত বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, মোদি সরকার বিনামূল্যে রেশন প্রকল্প বন্ধ করার কথা চিন্তাভাবনা করলেও বাস্তবে তারা সেটা করবে না। কারণ সম্প্রতি ১৩ টি রাজ্যের ৩টি লোকসভা ও ২৯টি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়েছে বিজেপি। আগামী বছরের প্রথম দিকেই আরও পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন আছে। যার মধ্যে অন্যতম উত্তরপ্রদেশ।

কথায় আছে, উত্তরপ্রদেশ যে দলের সেই দলই কেন্দ্রে সরকার গঠন করে। তাই ২০২৪- এর আগে বিজেপি কোনওভাবেই উত্তরপ্রদেশের ক্ষমতা হাতছাড়া করতে রাজি নয়। উত্তরপ্রদেশের ক্ষমতা-সহ অন্য চার রাজ্যে ক্ষমতা দখল করতে হলে এখনই এই প্রকল্প বন্ধ করা যাবে না। কারণ এই প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হলে বড় ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়বে বিজেপির ভোটবাক্সে।

সরকার চলতে পারলে কৃষক আন্দোলনও পাঁচ বছর চলবে: টিকায়েত

Rakesh Tikayet

News Desk: কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি ( modi) সরকার যদি পাঁচ বছর চলতে পারে তবে কৃষক আন্দোলনও পাঁচ বছর চলবে। তাৎপর্যপূর্ণ এই মন্তব্য করলেন কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত (rakesh tikayat)। নরেন্দ্র মোদি সরকারের তৈরি তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর থেকে তিনটি জায়গায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছে সংযুক্ত কিষান মোর্চা। দিল্লি হরিয়ানা (delhi hariyana) সীমান্তবর্তী গাজীপুর, সিংঘু এবং টিকরি এই তিন জায়গায় প্রায় এক বছর ধরে চলছে কৃষক আন্দোলন।

এই কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে মোদি সরকার শেষবার আলোচনায় বসে ছিল চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি। কিন্তু ওই আলোচনায় কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। তারপর প্রায় ১০ মাস গড়িয়ে গিয়েছে। মোদি সরকার কৃষকদের সঙ্গে আর কোনও রকম আলোচনায় বসেনি। এরই মধ্যে সংযুক্ত কিষান মোর্চা মোদি সরকারকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। ওই দিনই কৃষক আন্দোলনের এক বছর পূর্ণ হবে। সংযুক্ত কিষান মোর্চা মোদি সরকারকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ২৬ নভেম্বরের মধ্যে তিন কৃষি আইন নিয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া না হলে সরকার দেখবে কৃষকদের শক্তি কত।

কিষান মোর্চার ওই হুমকির পরেও মোদি সরকারের টনক নড়েনি। এই প্রেক্ষিতে টিকায়েতের কাছে জানতে চাওয়া হয়, সরকার তো তাদের সঙ্গে কোনও কথাই বলছে না। তাহলে তাঁদের এই আন্দোলন কত দিন চলবে? এই প্রশ্নের উত্তরে টিকায়েত বলেন, কেন্দ্রের মোদি সরকার যদি পাঁচ বছর চলতে পারে তবে তাদের এই আন্দোলনও পাঁচ বছর চলবে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই তিন কৃষি আইন নিয়ে খুব সম্ভবত মোদি সরকার শীঘ্রই কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে। কারণ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের ২৯টি বিধানসভা ও ৩টি লোকসভা আসনে অত্যন্ত হতাশজনক ফল করেছে বিজেপি। আগামী বছরের গোড়াতেই আরও পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন রয়েছে। যার মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হল উত্তরপ্রদেশ। এই নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই মোদি সরকার কৃষি আইন নিয়ে কৃষকদের সঙ্গে হয়তো একটা সমঝোতা করবে।

কারণ সম্প্রতি হওয়া বিভিন্ন রাজ্যের উপনির্বাচনে কৃষি আইন নিয়ে মানুষের ক্ষোভ উপচে পড়েছে ভোটের বাক্সে। যার ফলশ্রুতিতে বিজেপিকে ধরাশায়ী হতে হয়েছে।

প্রবল ভয় পেয়ে পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমিয়েছে মোদি সরকার: সোনিয়া

Sonia gandhi

News Desk: একদিকে প্রবল ভয় অন্যদিকে ভোট রাজনীতি, এই দুই কারণে হঠাৎ করে পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। বলা যেতে পারে মন থেকে নয়, প্রবল ভয় ও আতঙ্কের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার এই মন্তব্য করলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী।

গত রবিবার ১৩ টি রাজ্যের ২৯টি বিধানসভা কেন্দ্র ও তিনটি লোকসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উপনির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হলে দেখা যায়, বিজেপি কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। দলের এই হতাশজনক ফলাফল ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন এবং আগামী বছরের শুরুতেই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে যে বিরূপ প্রভাব ফেলবে সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে যায় নরেন্দ্র মোদি সরকার। সে কারণেই তড়িঘড়ি পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শুধু কেন্দ্র নয়, বিজেপি যে ১০টি রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে সেই রাজ্যগুলিও পেট্রোল-ডিজেলের দাম বেশ কিছুটা কমিয়েছে।

বেশ কিছুদিন ধরেই প্রতিদিনই দেশে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ছিল। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রান্নার গ্যাসের দাম। এই মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কংগ্রেস-সহ দেশের প্রায় সবকটি বিরোধীদল। উৎসবের মরসুম শেষ হলেই চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই দেশজুড়ে আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা করেছিল কংগ্রেস। উপনির্বাচনের ফলাফল এবং আর এক মাস দুই-তিনের মধ্যেই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই মোদি সরকার তড়িঘড়ি পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমিয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তবে পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমানোর পর বিরোধীরা আর আন্দোলন করবে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।

দাম কমার পর এদিন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী টুইট করে বলেন, মোদি সরকার মন থেকে নয় আতঙ্কের কারণে দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই লুটেরা সরকারকে আগামী নির্বাচনে উপযুক্ত জবাব দিতে হবে। এজন্য মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান প্রিয়াঙ্কা। পাশাপাশি কংগ্রেসের অন্যতম মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেন, চলতি বছরে মোদি সরকার প্রতি লিটার পেট্রোলে ২৮ টাকা এবং ডিজেলে ২৬ টাকা দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু বুধবার পেট্রোল ৫ টাকা এবং ডিজেলে ১০ টাকা দাম কমিয়ে মোদি সরকার বলছে, এটা তাদের তরফ থেকে মানুষকে দেওয়া দীপাবলীর উপহার। আসলে এটা আরও একটা বড় জুমলা।

অন্যদিকে আরজেডি নেতা তথা দেশের প্রাক্তন রেলমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদব দাম কমানোর এই সিদ্ধান্তকে মোদির নাটক বলে কটাক্ষ করেছেন। লালুর দাবি, কেন্দ্রের উচিত ছিল প্রতি লিটার পেট্রোল ও ডিজেলে ৫০ টাকা করে দাম কমানো। মোদি সরকার দাম এতটাই বাড়িয়েছে যেটা মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে গিয়েছে। দেখা যাবে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন মিটে গেলে ফের দাম বাড়াবেন মোদি। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা যশবন্ত সিনহা বলেছেন, পেট্রোল-ডিজেলের মাধ্যমে মোদি কোটি কোটি টাকা লুট করেছেন। মোদিজি খুব দয়াবান তাই মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিতে পেট্রোল-ডিজেলে যৎসামান্য দাম কমিয়েছেন। পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেশের বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দামের কী অবস্থা হয় এখন সেটাই দেখার।

মোদি সরকার আমাকে রোমে যেতে দেয়নি, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ মমতার

mamata in goa

News Desk, Kolkata: জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে ভাটিক্যান সিটিতে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে তিনি পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে আলিঙ্গনের ছবিও টুইট করেছেন। মোদির ছবি দেখেই গর্জে উঠলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূল নেত্রী এদিন গোয়ায় বলেন, আমারও রোমে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার আমাকে সেখানে যেতে দিল না। বিজেপি যখন আমার ইতালি সফর আটকে দিল তখন কিন্তু কংগ্রেস বা অন্য কোনও দল এ ব্যাপারে একটি কথাও বলেনি। বিশ্ব শান্তি বৈঠকে আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ওই সম্মেলনে যোগ দিলে আমিও পোপের সঙ্গে দেখা করতে পারতাম।

কিন্তু মোদি সরকার আমার সেই সুযোগ কেড়ে নিল। আসলে মোদি সরকার চরম প্রতিহিংসাপরায়ণ। মোদি সরকারের সর্বদাই বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে চায়। আসলে মোদি সরকার সব সময় আতঙ্কে থাকে। তাদের ভয় এই বুঝি তাদের প্রকৃত পরিচয়টা কেউ প্রকাশ্যে নিয়ে আসবে। সে কারণেই তারা বিরোধীদের কোনও রকম সুযোগ দিতে রাজি নয়। কোথাও যেতে দিতেও নারাজ।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে পর্যুদস্ত করার পর তৃণমূল নেত্রী এখন বেছে নিয়েছেন ত্রিপুরা ও গোয়াকে। আগামী বছরের শুরুতেই গোয়া বিধানসভার নির্বাচন। তাই এখন থেকেই তিনি এই রাজ্যের জন্য জোরকদমে তৃণমূলের কার্যকলাপ শুরু করেছেন। লুইজিনহো ফেলেইরো-সহ একাধিক কংগ্রেস নেতা দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি নাফিসা আলি, লিয়েন্ডার পেজের মত সেলিব্রিটিরাও তৃণমূল নেত্রীর উপস্থিতিতে তাঁর দলে যোগ দিয়েছেন।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, গোয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস এবার বিজেপিকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়বে না। যে কারণে তৃণমূল নেত্রী নিজেই গোয়ায় গিয়ে ঘাঁটি গেড়েছেন। মমতা গোয়ার বাসিন্দাদের স্পষ্ট জানিয়েছেন, তৃণমূল ক্ষমতায় এলে উন্নয়নের রাস্তায় ফিরবে গোয়া। বিজেপির শাসনে এই রাজ্যের মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁরা নিজেদের স্বাভাবিক মতামত প্রকাশ করতে পারেন না। তৃণমূল ক্ষমতায় এলে এই দমবন্ধ পরিস্থিতি বদলে দেবেন। মানুষের জীবনে হাসি আনবেন।

নরেন্দ্র মোদি সরকারই পেগাসাস সফটওয়্যার কিনেছে: চিদাম্বরমের

Narendra Modi and P Chidambaram

News Desk, New Delhi: ফের নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন কংগ্রেস নেতা ও দেশের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম। ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূতের কথা উল্লেখ করে চিদাম্বরম বলেন, নরেন্দ্র মোদি সরকারই যে পেগাসাস সফটওয়্যার কিনেছে তাতে আর কোনও সন্দেহ নেই।

বৃহস্পতিবার ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত নাওর গিলন বলেছিলেন, পেগাসাস সফটওয়্যার নির্মাতা সংস্থা এনএসও শুধুমাত্র কোনও দেশের সরকারকেই ওই সফটওয়্যার বিক্রি করতে পারে। যদিও সেই বিক্রির আগে ইজরায়েল সরকারের কাছ থেকে তাদের অনুমতি নিতে হয়।

গিলনের ওই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে চিদম্বরম বলেন, ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূতের কথায় এটা পরিষ্কার যে, নরেন্দ্র মোদি সরকারই পেগাসাস সফটওয়্যার কিনেছিল। মোদি সরকার কাউকেই বিশ্বাস করে না। সে কারণেই তারা এই সফটওয়্যার কিনে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রী এমনকী, বিচার বিভাগের ওপরেও নজরদারি চালিয়েছে। নরেন্দ্র মোদি সরকার এক চরম স্বৈরাচারী সরকার।

এই সরকার দেশের মানুষকে বিশ্বাস করে না। বিরোধী রাজনৈতিক দলের উপর নজরদারি চালাতেই এই সফটওয়্যার কেনা হয়েছে। ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত স্বীকার করে নিয়েছেন যে, সরকার ছাড়া এই সফটওয়্যার কাউকেই বিক্রি করা যায় না। তাহলে ভারতে যদি পেগাসাস এসে থাকে সেটা তো সরকারই এনেছে। এই মুহূর্তে তো সরকারের রয়েছেন নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর দল। তাই পেগাসাস সফটওয়্যার দেশে আনার দায় মোদি সরকারের উপরেই বর্তায়।

চিদম্বরম আরও বলেন, পেগাসাস নিয়ে এই কারণেই নরেন্দ্র মোদি সরকার নীরব রয়েছে। সংসদেও তারা বিষয়টি নিয়ে কোন শব্দ খরচ করেনি। এমনকী, সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলাকালীনও তারা খোলসা করে কোনও কিছুই জানায়নি। তাই পেগাসাস বিতর্কে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় ঘোষণা করেছে তা যথাযথ। পেগাসাস সম্পর্কে জানতে শীর্ষ আদালত তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।

ওই তদন্ত কমিটি তার কাজ শুরু করলেই মোদি সরকারের গোপন তথ্য প্রকাশ্যে আসবে। মোদি সরকার কিভাবে দেশের বিচার বিভাগ, প্রশাসনিক বিভাগ ও রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের উপর পেগাসাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে নজরদারি চালিয়েছে সে বিষয়টি স্পষ্ট হবে। দেশবাসীর সামনে মোদি সরকারের মুখোশ খুলে দেওয়া দরকার।

উল্লেখ্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সাংবাদিক বৈঠকে ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূতের গিলন বলেন, এনএসও নামে একটি বেসরকারি সংস্থা পেগাসাস সফটওয়্যার তৈরি ও বিক্রি করে থাকে। কিন্তু বিক্রি করার আগে তাদেরকে ইজরায়েল সরকারের অনুমতি নিতে হয়। শুধুমাত্র কোনও দেশের সরকারকেই এই সফটওয়্যার বিক্রি করতে পারে এনএসও। নরেন্দ্র মোদি সরকার কি এই সফটওয়্যার কিনেছে? এই প্রশ্নের সরাসরি কোনও উত্তর দেননি গিলন। তিনি বলেন, পেগাসাস নিয়ে ভারতে যে বিতর্ক চলছে সেটা একেবারেই এদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। তাই তিনি এ বিষয়ে কোনও রকম বিতর্কে জড়াবেন না। এনএসও এপর্যন্ত কোন কোন দেশের সরকারকে এই সফটওয়্যার বেচেছে সেই তথ্য কি ইজরায়েল সরকারের কাছে আছে? এই প্রশ্নের অবশ্য কোনও উত্তর দেননি গিলন।

Assam: বেআইনিভাবে তৈরি ৬১টি নার্সিং হোমকে লাল নোটিশ বিজেপি সরকারের

guwahati

News Desk: সমস্যা দুদিকে। একদিকে আইন রক্ষা অন্যদিকে বহু রোগীকে সরানো। এর মাঝে পড়েছে অসম (Assam) সরকার। রাজধানী গুয়াহাটির নার্সিং হোমগুলির অবৈধ পরিকল্পনায় আয়তন বাড়িয়ে নেওয়া রুখতে দেওয়া হয় আইনি নোটিশ।

এতে অন্তত ৬১টি নার্সিং হোমের লাইসেন্স বাতিল হতে পারে। অভিযোগ, ছিল দ্বিতল বাড়ি তৈরি করার অনুমতি, কিন্তু বানিয়েছে চার-পাঁচ তলার বাড়ি। নো অবজেকশন সার্টিফিকেটের সঙ্গে মিল নেই  বাস্তবের।

গুয়াহাটি শহরের সবজায়গাতেই একই অবস্থা। বড় বড় বহুতল আছে। কিন্তু নেই প্রকৃত ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’। রাজ্য সরকার নড়েচড়ে বসেছে। গুয়াহাটিতে প্রায় ৬১টি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন নার্সিংহোম, হাসপাতালকে রেড নোটিশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, নার্সিংহোম খোলার আগে তারা জিএমডি-এর কাছ থেকে ‘ফাইনাল সার্টিফিকেট’ অর্থাৎ ‘টেকনিকেল ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট’ যাকে ‘কম্প্লিয়েশন সার্টিফিকেট’ বলা হয়ে থাকে তা নেওয়া হয়েছে কিনা? প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে কম্প্লিয়েশন সার্টিফিকেট নেই।

শুধু নার্সিংহোম নয়, এই সরকারি কর্মীর মতে রাজ্যের রাজধানীতে এমনিভাবে ছড়িয়ে আছে প্রচুর অট্টালিকা। অভিযোগ, পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকারের আমলে মিলেছিল অনুমতিপত্র। তখনই হয় বিস্তর বেআইনি বাড়ি নির্মান।

FATF: ধূসর তালিকাতেই থেকে গেল পাকিস্তান, আরও বিপাকে ইমরান সরকার

FATF: Pakistan remains on the gray list

News Desk: FATF- এর ধূসর তালিকা থেকে বের হতে পারল না পাকিস্তান। বরং এফএটিএফ-এর নতুন তালিকায় যুক্ত হয়েছে পাকিস্তানের বন্ধু দেশ তুরস্কের নাম। ইসলামিক স্টেট- সহ বেশ কয়েকটি জঙ্গিগোষ্ঠীকে রীতিমতো আর্থিক সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে তুরস্কের বিরুদ্ধে। সে কারণেই তুরস্ককে এফএটিএফ-এর ধূসর তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এরদোগানই একমাত্র ব্যক্তি যিনি পাকিস্তানকে ধূসর তালিকা থেকে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।

ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স বা এফএটিএফ-এর ধূসর তালিকায় প্রায় তিন বছর ধরে রয়েছে পাকিস্তান। এফএটিএফ- এর সভাপতি মার্কাস প্লেইয়ার বলেছেন, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা আইএস ও আল কায়দা জঙ্গি গোষ্ঠীকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাহায্য করছে তুরস্ক। এই দুই জঙ্গি সংগঠন ছাড়াও আরও বেশ কিছু জঙ্গি সংগঠন তুরস্কের থেকে নিয়মিত আর্থিক সাহায্য পাচ্ছে।

তুরস্ক সরকারকে বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও তারা নিজেদের শোধরায়নি। সে কারণেই তুরস্ককে ধূসর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হল। অন্যদিকে তুরস্ক সরকার এফএটিএফ-এর এই পদক্ষেপকে সে দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত বলে দাবি করেছে। তুরস্কের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী সুলেমান সোলু বলেছেন, এটা সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তুরস্ক বরাবরই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ওরা আমাদের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিল। এটা মেনে নেওয়া যায় না।

একই কথা শোনা গিয়েছে পাকিস্তানের মুখেও। পাকিস্তান বলেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নির্দেশ মতো তারা জঙ্গি দমনে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু তার পরেও এফএটিএফ তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি। এটা দুর্ভাগ্যজনক ও অনৈতিক কাজ। এফএটিএফ-এর এই সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের উপর আরও চাপ বাড়ল বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

সাধারণত বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসবাদীদের অর্থ জোগান বন্ধ করতে এবং অর্থ তছরুপ রুখতে নজরদারি চালায় ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স৷ যে সমস্ত দেশ নিয়মিত সন্ত্রাসবাদীদের অর্থ সাহায্য করে সেই সমস্ত দেশকেই প্রথমে ধূসর তালিকাভুক্ত করে এফএটিএফ। বারবার সতর্ক করার পরও সংশ্লিষ্ট দেশগুলি যদি নিজেদের ভূমিকা বদল না করে সে ক্ষেত্রে ওই দেশকে কালো তালিকায় ফেলে দেয় এফএটিএফ।

এই আন্তর্জাতিক সংগঠনের কালো তো বটেই ধূসর তালিকায় নাম থাকলেও বিশ্বের কোন দেশ থেকেই আর্থিক সাহায্য সহজে মেলে না। এফএটিএফ-এর এই তালিকায় প্রায় তিন বছর ধরে রয়েছে পাকিস্তান। যে কারণে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক আঙিনায় পাকিস্তান কোন সাহায্য পাচ্ছে না। বৈদেশিক সাহায্য না মেলায় পাকিস্তানের অর্থনীতি যথেষ্টই চাপের মুখে পড়েছে।

আজকের দিনেই তৈরি হয়েছিল ভারতের প্রথম স্বাধীন সরকার

first independent, government, India , formed , this day

বিশেষ প্রতিবেদন: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় জাপানের কাছে ব্রিটিশ শক্তির পরাজয় সুভাষচন্দ্র বসুকে ভারতের স্বাধীনতার ব্যাপারে আশাবাদী করে তোলে। জাপান সরকারও তাঁকে সামরিক সহায়তা দিতে অঙ্গীকার করে ।

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় জাপানের কাছে বন্দি ব্রিটিশ বাহিনীর ভারতীয় সৈন্যদল ও স্বাধীনতাকামী প্রবাসী ভারতীয়দের নিয়ে গঠিত হয় আজাদ হিন্দ বাহিনী যার নেতৃত্ব দেবার গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেন সুভাষচন্দ্র বসু , হয়ে ওঠেন সবার প্রিয় নেতাজী । ১৯৪৩ সালের আজকের দিনে অর্থাৎ ২১ অক্টোবর সিঙ্গাপুরে সুভাষচন্দ্রের প্রধানমন্ত্রীত্বে গঠিত হয় প্রথম আজাদ হিন্দ সরকার।

azad-hind

এই সরকারের মন্ত্রী পরিষদে সামিল হন আরো দশজন, এর মধ্যে একমাত্র মহিলা সদস্যা কর্নেল লক্ষী স্বামীনাথন। জার্মানি, জাপান, ইতালিসহ মোট সাতটি দেশ আজাদ হিন্দ সরকারকে স্বীকৃতি দেয় ।এই সরকারের নিজস্ব মুদ্রা,ডাকটিকিট, আদালত ও বেতারকেন্দ্র ছিল এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ (নেতাজীর দেওয়া নাম শহীদ ও স্বরাজ দ্বীপ) সহ ব্রিটিশদের হাত থেকে দখল করা ভারতীয় ভূখেন্ডর ওপর এই সরকারের নিয়ন্ত্রণ ছিল ।

১৯৪৫ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত এই সরকার তাদের দায়িত্ব পালন করে। ঐতিহাসিকদের মতে আজাদ হিন্দ বাহিনীর সংগ্রাম ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তির অন্যতম কারণ, কিন্তু স্বাধীনতোত্তর ভারতবর্ষে সরকারীস্তরে এই বাহিনী তার যথাযোগ্য সম্মান ও স্বীকৃতি পায়নি কিন্তু আজও ভারতীয় জনগণ এই বাহিনীর সদস্যদের আত্মত্যাগ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে ।

কৃষকদের দাবি না মানলে মোদি সরকারের ক্ষমতায় ফেরা অসম্ভব, বললেন বিজেপি ঘনিষ্ঠ সত্যপাল মালিক

Satyapal Malik

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: কৃষকদের তোলা তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানালেন মেঘালয়ের রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক। রাজ্যপাল মালিক এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট বলেছেন, কৃষকদের দাবি মেনে তিন কৃষি আইন বাতিল না করা হলে মোদি সরকার ক্ষমতায় ফিরতে পারবে না। মেঘালয়ের রাজ্যপাল সত্যপাল বিজেপির অত্যন্ত কাছের মানুষ হিসেবেই পরিচিত। তাই সত্যপালের এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

কৃষকদের দাবি সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে রাজ্যপাল বলেন, উত্তরপ্রদেশের বহু গ্রামে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, বিজেপি নেতারা সেখানে ঢুকতে পারছেন না। সত্যপাল উত্তরপ্রদেশের মিরাটের বাসিন্দা। তিনি বলেন, মিরাটের বহু গ্রামে বিজেপি নেতারা এখন আর ঢুকতে পারেন না। তবে শুধু মিরাট নয়, বাগপত, গোরক্ষপুর, মুজাফফরনগর-সহ বহু গ্রামে একই ছবি।

মোদি সরকার যদি আইন বাতিলের দাবি না মানে তাহলে তিনি কি কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পদত্যাগ করবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে সত্যপাল বলেন, তিনি সর্বদাই কৃষকদের পাশে রয়েছেন। তবে পরিস্থিতি এতটা খারাপ নয় যে, তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে। তবে প্রয়োজন হলে তিনি অবশ্যই পদত্যাগ করবেন।

তিন কৃষি আইন নিয়ে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান সূত্রও বাতলেছেন সত্যপাল। তিনি বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার যদি আইনগতভাবে ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা দেয় তাহলেই তো সব সমস্যা মিটে যাবে। ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের নিশ্চয়তা পেলে কৃষকরা অবশ্যই তাঁদের আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াবেন। কিন্তু সরকার এই সামান্য কাজটুকু করছে না। সত্যপালের দাবি তিনি বিষয়টি অনেক আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জানিয়েছেন। সরকারিভাবে তিনি প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এবিষয়ে অবশ্য কোনও কথা বলেননি। ভবিষ্যতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই দুইজনকে কৃষি আইন নিয়ে তার মতামত আবারও জানাবেন বলে রাজ্যপাল জানান।

রাজনীতির মঞ্চে সত্যপাল মালিক বিজেপির অত্যন্ত কাছের লোক বলে পরিচিত। সত্যপাল পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের জাঠ বলয়ের নেতা। তাই সত্যপালের এই বক্তব্যকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

Ram Janmabhoomi: অযোধ্যায় তীর্থ করতে গেলে গুজরাত সরকার দেবে৫০০০ টাকা

Ram Janmabhoomi

অনলাইন ডেস্ক: অযোধ্যায় (Ram Janmabhoomi) কেউ যদি তীর্থ করতে যায় তবে তাকে গুজরাত সরকারের পক্ষ থেকে ৫০০০ টাকা দেওয়া হবে। তবে সকলকে নয়, এই আর্থিক সহায়তা পাবেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ। শনিবার গুজরাতের পর্যটন মন্ত্রী পুরণেশ মোদি আদিবাসীদের এই আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গুজরাত সরকার সিন্ধু দর্শন, কৈলাস ও মানস সরোবর যাত্রা ও শ্রবণ তীর্থযাত্রায় এই ধরণেরই অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল।

গুজরাতের পর্যটনমন্ত্রী পূরণেশ রাজ্যের ডাং জেলায় শবরী মাতার মন্দিরের কাছে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। ডাং জেলা আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা। সে কথা মাথায় রেখেই মন্ত্রী ঘোষণা করেন, আদিবাসী সম্প্রদায়ের কেউ তীর্থ করতে অযোধ্যায় গেলে তাঁকে রাজ্য সরকার ৫০০০ টাকা আর্থিক অনুদান দেবে। কারণ আদিবাসীরা শবরী মাতার বংশধর। রামচন্দ্র যখন বনবাসে গিয়েছিলেন তখন শবরী মাতার সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল। আদিবাসীদের কাছে রামচন্দ্র তাই অত্যন্ত পূজনীয়। সে কারণেই শ্রীরামচন্দ্রের বাসস্থান অযোধ্যায় গেলে আদিবাসীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

একই সঙ্গে মন্ত্রী জানান, ডাং জেলার সাতপুরা থেকে নর্মদা জেলার স্ট্যাচু অফ ইউনিটি পর্যন্ত একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আগামী বছরের শুরুতেই রয়েছে গুজরাত বিধানসভা নির্বাচন। নির্বাচনের আগে আদিবাসীদের মন জয় করা বিজিপির লক্ষ্য। সে কারণেই ভোটের আগে আদিবাসীদের তীর্থযাত্রার ক্ষেত্রে এই আর্থিক অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হল।

প্রসঙ্গত, আট মাস আগে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ঘোষণা করেছিলেন, বয়স্কদের তিনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রাম মন্দির দর্শনে নিয়ে যাবেন। দিল্লিতে আপ ক্ষমতা দখলের পর মুখ্যমন্ত্রী ‘প্রবীণ তীর্থযাত্রা’ নামে একটি প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন। ওই প্রকল্পের আওতায় বয়স্কদের রাম মন্দির দেখানো হবে বলে জানিয়েছিলেন কেজরিওয়াল। ওই প্রকল্পের ঘোষণা করতে গিয়ে কেজরিওয়াল বলেছিলেন, রামচন্দ্র ছিলেন অযোধ্যার রাজা। তার সুশাসনে মানুষের কোন দুঃখ কষ্ট ছিল না। দিল্লিও রামচন্দ্রের মতোই সুশাসনের পথে হাঁটবে। রামচন্দ্রের আদর্শেই পথ চলবেন তিনি।

মনে করা হচ্ছে, আগামী তিন থেকে সাড়ে তিন বছরের মধ্যেই রাম মন্দির তৈরি হয়ে যাবে। ২০২০-র ৫ অগাস্ট রাম মন্দিরের ভিত পুজো করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট জানিয়েছে, মূল মন্দিরটি তৈরির জন্য প্রায় ৪০০ কোটি টাকা খরচ হবে। এই অর্থ পুরোটাই অনুদান হিসেবে সংগ্রহ করা হচ্ছে। মন্দির ও সংলগ্ন চত্বর সাজাতে মোট ১১০০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে।

গর্ভাবস্থার ২৪ সপ্তাহের মধ্যেই গর্ভপাত আইনসিদ্ধ, জানাল কেন্দ্রীয় সরকার

Abortion is legal within 24 weeks of pregnancy

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: ডাক্তারের অনুমতি ছাড়া ভারতে গর্ভপাত নিষিদ্ধ। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডাক্তারের অনুমতি নিয়ে গর্ভপাত করতে হয়। চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া গর্ভপাত করা আমাদের দেশে আইনত অপরাধ। কিন্তু গর্ভপাত সংক্রান্ত সেই নিয়মে এবার কিছু রদবদল করল নরেন্দ্র মোদি সরকার। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৪ সপ্তাহের মধ্যে বিশেষ ধরনের মহিলারা গর্ভপাত করাতে পারবেন।

কেন্দ্র জানিয়েছে, ধর্ষিত, বিকলাঙ্গ, নির্যাতিতা মহিলাদের ক্ষেত্রে ২৪ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভপাতের এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। ২০২১ সালে মেডিকেল টার্মিনেশন আমেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। 

অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, ধর্ষণের শিকার হওয়া মহিলারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ করে থাকেন। অনিচ্ছাসত্ত্বেও সেই সন্তানকে জন্ম দেওয়া তাঁদের পক্ষে অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। সেই কষ্টের ভার লাঘব করতেই কেন্দ্র এই বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে শুধু ধর্ষিতারাই নন, বিশেষভাবে সক্ষম, বিধবা, বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়া মহিলা, নাবালিকা এবং যারা মানসিকভাবে অসুস্থ, এমনকী, সন্তান জন্ম দিতে গেলে যে সমস্ত মহিলার মৃত্যু হতে পারে তাঁরাও এই আইনের আওতায় আসবেন। এ ধরনের মহিলারা গর্ভধারণ বা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ২৪ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভপাত করাতে পারবেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসে সংসদের বাজেট অধিবেশনে এই বিল পাস হয়েছিল। বিল পাস হওয়ার পর যথানিয়মে তা আইনে পরিণত হয়েছে। পুরনো আইনে অবাঞ্ছিত ক্ষেত্রে গর্ভপাতের সময়সীমা ছিল ১২ সপ্তাহ। অর্থাৎ কেউ অবাঞ্চিত গর্ভধারণ করে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ১২ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভপাত করাতে পারতেন।

তবে দুই চিকিৎসকের বিশেষ পরামর্শ এবং আদালতের নির্দেশ পেলে সর্বোচ্চ ২০ সপ্তাহের মধ্যে গর্ভপাত করানো যেত। কিন্তু সেই সময়সীমা বাড়িয়ে এবার ২৪ সপ্তাহ করল নরেন্দ্র মোদি সরকার। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তে বহু মহিলা উপকৃত হবেন। বিশেষ করে যারা অবাঞ্ছিত সন্তানের জন্ম দিতে বাধ্য হতেন তাঁরা এই আইনের ফলে বিশেষ উপকৃত হবেন।

এয়ার ইন্ডিয়ার পর সেলকে বিক্রি করতে মাঠে নামল মোদি-সরকার

narendra modi

নিউজ ডেস্ক: এয়ার ইন্ডিয়ার পর এবার সেন্ট্রাল ইলেকট্রনিকস লিমিটেড বা সেলও বিক্রি হয়ে যেতে চলেছে। বেশ কয়েকটি সংস্থা সেল কেনার জন্য দরপত্র জমা দিয়েছে। বর্তমানে সেইসব দরপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় বিলগ্নীকরণ মন্ত্রক এই দরপত্র আহবান করেছিল।

কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের বিনিয়োগ সংক্রান্ত দফতরের সচিব তুহিনকান্ত পান্ডে জানিয়েছেন, সেলের বিলগ্নীকরণ করার উদ্দেশ্যে সরকার দরপত্র প্রকাশ করেছিল। একাধিক সংস্থা এই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে কিনতে আগ্রহ দেখিয়ে দরপত্র জমা দিয়েছে। বর্তমানে বিলগ্নীকরণ মন্ত্রক সেই সমস্ত দরপত্র খতিয়ে দেখছে।

জানা গিয়েছে, কেন্দ্র সেলকে সেই সংস্থার হাতেই তুলে দেবে যে সংস্থা ২০১৯ অর্থবর্ষে ন্যূনতম ৫০ কোটি টাকা লাভ করেছে। পাশাপাশি কেন্দ্র শর্ত দিয়েছে, বেসরকারিকরণের তিন বছরের মধ্যে ওই সংস্থা সেলকে বিক্রি করতে পারবে না।

কিছুদিন আগেই এয়ার ইন্ডিয়াকে বেসরকারি সংস্থা টাটা গোষ্ঠীর হাতে তুলে দিয়েছে মোদি সরকার। এবার পালা সেলের। তবে এখানেই যে মোদি সরকার থেমে থাকবে তা নয়। একাধিক লাভজনক রাষ্ট্রয়ত্ত সংস্থাকেও বেসরকারিকরণ করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে মোদি সরকার। আগামী দিনে জীবনবিমার মতো লাভজনক সংস্থাকেও বেসরকারিকরণ করা হবে বলে সূত্রের খবর। সেই লক্ষ্য পূরণে ইতিমধ্যেই একধাপ এগিয়ে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। ইতিমধ্যেই তিনি বিমায় বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য দরজা খুলে দিয়েছেন।

একাধিক লাভজনক সংস্থাকে মোদি সরকার যেভাবে বেসরকারি হাতে তুলে দিচ্ছে তাতে অশনি সঙ্কেত দেখছেন বিরোধী রাজনীতিকরা। তাঁরা মনে করছেন, আগামী দিনে সব সরকারি সংস্থাই বেসরকারি হাতে চলে যাবে। ইতিমধ্যেই রেলের বিভিন্ন স্টেশনের দায়িত্ব বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এমনকি দেড়শতাধিক ট্রেনও চালানোর দায়িত্বও বেসরকারি সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি করণের সর্বশেষ সংযোজন হতে চলেছে সেল।

ভারতের অন্যতম প্রাচীন সরকারি সংস্থা সেন্ট্রাল ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড। উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের শাহিবাবাদে এদের কারখানা। এই কারখানাতেই দেশের প্রথম সোলার সেল তৈরি হয়েছিল ১৯৭৭ সালে। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৭৮ সালে এই সংস্থা তৈরি করেছিল সোলার প্যানেল।

Rajasthan: চাপে পড়ে বাল্যবিবাহ আইন প্রত্যাহার করছে রাজস্থান সরকার

withdrawing the child marriage law

নিউজ ডেস্ক: প্রবল সমালোচনার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত বাল্যবিবাহ আইন নিয়ে পিছু হটতে বাধ্য হল রাজস্থানের (Rajasthan) অশোক গেহলত সরকার। সেপ্টেম্বর মাসে রাজস্থানে বিধানসভায় ধ্বনি ভোটে বাল্যবিবাহ বাধ্যতামূলকভাবে নথিভূক্তিকরণ সংশোধনী বিল পাস করানো হয়েছিল। ওই বিলে বলা হয়েছে, কোনও নাবালিকা মেয়ের বিয়ের বৈধতার জন্য ৩০ দিনের মধ্যে বিয়ের যাবতীয় প্রমাণপত্র অভিভাবককে সরকারের কাছে জমা করতে হবে। তবেই ওই বিবাহ নথিভুক্ত হবে।

কিন্তু ওই বিল পাস হওয়ার পরেই গেহলত সরকার রাজ্য জুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। বিরোধীরা অভিযোগ করে, সরকার এই বিল পাস করিয়ে আসলে নাবালিকাদের বিয়েকেই উৎসাহ দিতে চাইছে। রাজস্থানে এমনিতেই বাল্যবিবাহের যথেষ্টই রমরমা আছে। এই নতুন আইনে সেটাকেই বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। যা কখনওই ঠিক নয়।

তাছাড়া এই আইন কেন্দ্রীয় আইনের পরিপন্থী। কারণ কেন্দ্রীয় আইনে বলা হয়েছে, ১৮ বছরের নিচে কোন মেয়ের বিবাহ অবৈধ। কিন্তু কেন্দ্রীয় আইনকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে রাজস্থান সরকার। তাই অবিলম্বে এই বিল প্রত্যাহার করতে হবে। কংগ্রেসের অন্দরেও এই বিল নিয়ে যথেষ্টই মতবিরোধ ছিল। শেষ পর্যন্ত ঘরে বাইরে চাপে পড়ে এই বিল প্রত্যাহার করে নিল গেহলত সরকার।

১৭ সেপ্টেম্বর বিধানসভায় বিল পাস হলেও এখনও তা কার্যকর হয়নি। বিরোধী বিজেপি প্রথম থেকেই অভিযোগ করেছে, এই বিল পাস করে রাজস্থানের কংগ্রেস সরকার আসলে বাল্যবিবাহকে আইনি বৈধতা এবং উৎসাহ দিতে চাইছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রাজস্থান হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে। কংগ্রেসের অন্দরেও এই বিল নিয়েছিল মতবিরোধ। বহু কংগ্রেস বিধায়ক চাননি, এই বিল আইনে পরিণত হোক। কারণ তাঁরা জানতেন রাজস্থানে বাল্যবিবাহ একটি বড় সমস্যা। কিন্তু এই বিল পাস হয়ে আইনে পরিণত হলে সেই সমস্যা কমবে না বরং আরও বাড়বে। বাল্যবিবাহ আইনি স্বীকৃতি পেলে বাল্যবিবাহের প্রবণতা অনেক বেড়ে যাবে। যা আদতে ক্ষতি করবে রাজস্থানের নবীন প্রজন্মের।

কারণ নাবালিকাদের বেশিরভাগেরই শরীর ও স্বাস্থ্য নিতান্তই দুর্বল থাকে। এই সমস্ত নাবালিকাদের গর্ভে যে সন্তান-সন্ততি হয় তারাও যথেষ্ট দুর্বল হয়ে থাকে। ফলে রাজ্যের নবীন প্রজন্ম দুর্বল হয়ে যাবে। তাই এই বিল পাস করে আইনে পরিণত করা কখনই ঠিক নয়। শেষ পর্যন্ত ঘরে-বাইরে সমালোচনার মুখে পড়ে সোমবার বিশ্বকন্যা সন্তান দিবসে গেহলত সরকার জানায়, তারা রাজ্যপালকে এই বিলটি ফেরত পাঠানোর জন্য অনুরোধ করবেন। ১৭০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তাঁরা চান রাজ্যে যেন একটিও বাল্যবিবাহ না হয়। তবে ওই বিল সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীর সাফাই, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বলা হয়েছিল সমস্ত বিয়েই রেজিস্ট্রার করতে হবে। সে কারণেই এই বিল পাস করানো হয়েছিল। তবে এই বিল নিয়ে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে। তাই আমরা এই বিল প্রত্যাহার করার জন্য রাজ্যপালকে অনুরোধ করবো।

বাঙালি মনীষীদের অবদান ভুলিয়ে দিতে ‘স্পেশাল’ সিলেবাস রাজ্য সরকারের: ABVP

Abvp on new syllabus by west bengal government

নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ সরকার করোনা আবহে একাদশ ও উচ্চমাধ্যমিকের সিলেবাসে কাটছাঁট করতে গিয়ে একেবারে কেটে ফেলে দিয়েছে বাঙালির ঐতিহ্য ,গর্ব এবং শিল্প- সংস্কৃতিকেই ! হ্যাঁ, এমনটাই অভিযোগ এবিভিপি’র।

তাদের অভিযোগ, ২০২২ সালের একাদশ বার্ষিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সিলেবাস থেকে কাট-ছাঁটের যে তালিকা তৈরি করা হয়েছে সেখানে রয়েছে স্বামী বিবেকানন্দের প্রবন্ধ , নজরুল ইসলামের কবিতা , দীনবন্ধু মিত্র ও মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক, ধর্ম , নাগরিকত্ব ও বাঙালির শিল্পসংস্কৃতি। এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাদ দেওয়ার তালিকায় রেখে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য নির্দ্বিধায় জানিয়েছেন, “সিলেবাস থেকে কিছু তো বাদ দিতে হবেই। কোনো বিষয় বাদ দেওয়ার পিছনে কোনো যুক্তি বা তাৎপর্য নেই ।”

এবিভিপি’র দক্ষিনবঙ্গের রাজ্য সম্পাদক সুরঞ্জন সরকার বলেন, “অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ সম্পূর্ণরূপে স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শের অনুগামী এক ছাত্রসংগঠন।তাই সিলেবাস থেকে স্বামী বিবেকানন্দের প্রবন্ধ বাদ দেওয়ার বিষয়টিকে একেবারেই আমরা মেনে নেবো না। এবং সেইসঙ্গে অন্যান্য মনীষীদের লেখা ও সংস্কৃতির ইতিহাসকে উপেক্ষা করে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকার বাঙালির জাতিসত্বার ভ্রুণকে যেভাবে হত্যা করতে চলেছে তার বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী ছাত্রসংগঠন হিসেবে এবিভিপি তীব্র প্রতিবাদ ও শিক্ষা সংসদ সভাপতির মন্তব্যের তীব্র ধিক্কার জানায়।”

সম্প্রতি করোনা আবহে পাঠ্যক্রমে কাটছাঁট করেছে রাজ্য। ২০২২ সালের একাদশের বার্ষিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সিলেবাসে কাটছাঁট করা হয়। আর তার জেরেই বাদ যায় ঔপনিবেশিকতাবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ। সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে বাদ হওয়া পাঠ্যসূচির তালিকা। ২০২২ সালের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। জানানো হয়েছে বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের তরফে। সেখানেই বাদ গিয়েছেন নজরুল ও বিবেকানন্দ।।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সিলেবাসে ঢুকেছে রামায়ণ, মহাভারত, রামচরিত মানস। রামচন্দ্রের চরিত্র ও তাঁর সমসাময়িক কাজ এখনকার ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের পক্ষে খুব প্রয়োজনীয়, দাবি উচ্চ-শিক্ষামন্ত্রী মোহন যাদবের। পাশাপাশি এমবিবিএসের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভূক্ত হচ্ছে কেশব বলিরাম হেগড়ে থেকে শুরু করে দিনদয়াল উপাধ্যায়ের জীবনী৷

মমতাতেই ভরসা সরকারি কর্মীদের, পোস্টাল ব্যালটে বাজিমাত শাসকদলের

Mamata Banerjee

 

নিউজ ডেস্ক: ভবানীপুর উপনির্বাচন সহ আজ বাংলার মোট তিন বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট গণনা। বাংলা সহ গোটা দেশের নজর ভবানীপুরে। তিন আসনেই চালকের আসনে রাজ্যের শাসকদল। পোস্টাল ব্যালট গণনার শেষে রাজ্যের তিন আসনেই এগিয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে সরকারি কর্মীরা যে নবান্নের ১৪ তলায় ফের মমতাকেই দেখতে চান, তা স্পষ্ট হয়ে গেল।

আরও পড়ুন Mamata Banerjee: বেলা গড়াচ্ছে-মমতা এগোচ্ছেন, বিজেপি শিবিরে দলত্যাগ আতঙ্ক চড়ছে


আরও পড়ুন Bhawanipore: শুরুতেই জয়ের লক্ষ্যে এগোচ্ছেন মমতা

পোস্টাল ব্যালটে ভোটের সংখ্যা কম হলেও সরকারি কর্মীদের মনোভাব বোঝা যায় এই ফলাফল থেকে। এর আগে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছিল যে কেন্দ্রের শাসকদলের পক্ষেই ভোট দেন সরকারি কর্মীরা। যদিও গত বিধানসভা নির্বাচন থেকেই দেখা যাচ্ছে উল্টো ছবি। মোদী সরকারের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে মমতাতেই ভরসা রাখছেন সরকারি কর্মীরা। 

আরও পড়ুন Bhawanipore: শুরুতেই জয়ের লক্ষ্যে এগোচ্ছেন মমতা

প্রায় নিত্যদিনই কেন্দ্রের ঝুলি থেকে বেরিয়ে আসছে বেসরকারিকরণের বেড়াল। বেসরকারিকরণের খারাপ দিক নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে আরএসএস সমর্থিত শ্রমিক সংগঠনও। কেন্দ্রে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা দখলের পরে ধাপে ধাপে বহু ক্ষেত্রে বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল। ব্যাংকিং ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির সংযুক্তিকরণ ও পেট্রোলিয়াম, শিপিং কর্পোরেশন, কন্টেনার কর্পোরেশন-সহ রত্ন সংস্থাগুলির সরকারি অংশিদায়িত্ব কমিয়ে ফেলা তার অন্যতম অঙ্গ ছিল। 

অন্যদিকে সিন্ডিকেট রাজ, টেট দূর্নীতি, বেকারত্ব-সহ একাধিক ইস্যাতে জর্জড়িত তৃণমূল কংগ্রেসও। উপনির্বাচনের আগেও বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তা সত্ত্বেও পোস্টাল ব্যালটে এগিয়ে থাকা স্বস্তি যোগাচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্বকে। 

আরও পড়ুন ক্রমশ এগোচ্ছে তৃণমূল, গণনা শেষ হওয়ার আগে এজেন্টদের কেন্দ্র না ছাড়ার নির্দেশ পদ্মশিবিরের

ভবানীপুরে কেন্দ্রে দ্বিতীয়বার ‘পরীক্ষা’য় বসেছেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ২ হাজারেরও কম ভোটে হেরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকতে হলে, নিয়ম মতো ছ’মাসের মধ্যে কোনও একটি কেন্দ্র থেকে জিতে আসতে হবে তাঁকে। আজ ভবানীপুরে জিতলেই আবার রাজ্যের প্রধানের কুর্সিতে বহাল হবেন তিনি। স্বাধীনতা পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তিনিই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি হেরে গিয়েও পদে আছেন দল জিতে যাওয়ায়। ফলে আজ স্বভাবতই তাঁর প্রেস্টিজ ফাইট।

জ্বরাতঙ্ক: ত্রিপুরায় ধরা পড়ল নয়া সোয়াইন ফ্লু

African swine flu fever in Tripura

নিউজ ডেস্ক: দেশের উত্তর-পূর্ব রাজ্য ত্রিপুরায় নতুন ধরনের সোয়াইন ফ্লু জ্বর হু হু করে ছড়িয়ে পড়ছে। এই জ্বরকে হচ্ছে আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস। শুয়োরের ৮৭টি নমুনার মধ্যে তিনটিতে আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু-এর ইতিবাচক নমুনা পাওয়া গিয়েছে। রাজ্য প্রশাশন রোগের উৎসস্থল থেকে এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সমস্ত শূকর মেরে ফেলার নির্দেশ জারি করেছে।

রাজ্য প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন বিভাগের ডাইরেক্টর কে শশী কুমার বলেছেন, রোগের উৎসস্থল থেকে ১০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধকে নজরদারি এলাকা হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি জানান, শুয়োর মারার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যে এলাকায় ইতিবাচক মামলা পাওয়া গিয়েছে, তা হল উত্তর ত্রিপুরার জেলার কাঞ্চনপুর মহকুমা।

সরকার এই এলাকা থেকে যে কোনও জীবিত বা মৃত শুয়োরের মাংস বিক্রি এবং নিষিদ্ধ করেছে। ত্রিপুরা থেকে গুয়াহাটির এনইআরডিডিএল ল্যাবে পাঠানো শুয়োরের নমুনায় আফ্রিকান সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস নিশ্চিত হয়েছিল। এর আগে মিজোরামেও এই ফ্লু পাওয়া গিয়েছিল৷

তালিবান সম্পর্কে ভারত সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করুক: ওয়াইসি

asaduddin owaisi

নিউজ ডেস্ক: তালিবান জঙ্গি সংগঠন কী না সেই বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত। বৃহস্পতিবার এই দাবি তুললেন মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি৷ এদিন তিনি একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই দাবি তুলেছেন৷

আফগানিস্তানে আটকা পড়া ভারতীয়দের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা সহ বিভিন্ন ইস্যুতে গত মঙ্গলবার কাতারে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তাল তালিবান নেতা শের মুহম্মদ আব্বাস স্তানিকজ়াইয়ের সঙ্গে কাতারের রাজধানী দোহায় সাক্ষাৎ করেন। এই প্রথম কোনও তালিবান নেতার সঙ্গে ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

ভারতের বিভিন্ন বিরোধী দল ওই বৈঠককে কেন্দ্র করে মোদী-সরকারকে টার্গেট করেছে। ‘মিম’ প্রধান আইনজীবী আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এই ঘটনাকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় বলে অভিহিত করেন৷ তিনি বলেন, ভারতের উচিত তালিবানের ব্যাপারে অবস্থান স্পষ্ট করা, তারা এদেরকে জঙ্গি সংগঠন মনে করে কী না?’

তালিবান নেতার সঙ্গে সংলাপ প্রসঙ্গে প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার দেবাশিস দাস একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, রাষ্ট্রদূত যে তালিবানের সঙ্গে কথা বলেছেন, সেটা একটা ভালো ব্যাপার। যোগাযোগ বন্ধ করা একেবারেই উচিত নয়। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কে যোগাযোগ খুবই জরুরি। আমরা যোগাযোগ বন্ধ করলে সবচেয়ে লাভবান হবে পাকিস্তান। ভারতীয়দের ফেরত আনা এখন প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর আগেই বলেছেন, ‘ভালো তালিবান, খারাপ তালিবান বলে কিছু হয় না। হয় তুমি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে, নয় সন্ত্রাসবাদের পক্ষে। এর মাঝামাঝি কিছু নেই।’ এই বার তালিবানের সঙ্গে বৈঠকের পর বিরোধীদের প্রশ্ন, মোদি সরকার কী তাহলে আর তালিবানকে জঙ্গি সংগঠন বলে মনে করছে না? জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘তালিবান হয় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, নচেৎ নয়। সরকার স্পষ্ট করুক, আমরা তালিবানকে কী চোখে দেখছি।’

কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, ‘যদি ওরা জঙ্গিবাদী সংগঠন হয়, তাহলে কেন ওদের সঙ্গে কথা বলছেন? যদি জঙ্গি সংগঠন না হয়, তা হলে আপনারা কী রাষ্ট্রসংঘে ওদের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দিতে বলবেন? এ বিষয়ে মনস্থির করতে হবে।’

গত সোমবার ভারতের সভাপতিত্বেই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে তালিবানকেই আহ্বান জানানো হয়েছে, আফগানিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাসবাদে যেন মদত না দেওয়া হয়। যা তালিবানকে কার্যত স্বীকৃতি দেওয়াই বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। ভারত বলেছে, সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে জায়গা পেয়েছে।

ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদম্বরম বলেন, ‘সরকার নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব নিয়ে নিজেই নিজেকে অভিনন্দন জানাচ্ছে। কিন্তু এই প্রস্তাবের দু’টি অর্থ হতে পারে। এক, গোটা বিষয়টির সমাধান হয়ে গিয়েছে এবং তাতে ভারত সন্তুষ্ট। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদে তা হয়নি। দুই, আমরা নিজেদের ইচ্ছে প্রকাশ করেছি এই প্রস্তাবে। অন্যরা তাতে সই করেছে। নিরাপত্তা পরিষদে শুধু সেটাই হয়েছে। এখনই নিজের পিঠ চাপড়ানোর সময় আসেনি।’ চিন- পাকিস্তান ও তালিবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানের সম্ভাব্য অক্ষ ভারতের কাছে চিন্তার বিষয় বলেও কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম মন্তব্য করেন৷

সংসদের বাদল অধিবেশনে বিরোধীদের ‘হাঙ্গমায়’ ক্ষতি ১৩০ কোটি টাকা

Opposition Parliament Deadlock

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: সংসদের চলতি বাদল অধিবেশনে প্রায় দেড়শো কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে৷ সংসদের পেগাসাস ইস্যুতে বিরোধীদের হই হট্টগোলের কারণেই এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে৷ একই সঙ্গে ১০৭ ঘণ্টার পরিবর্তে মাত্র ১৮ ঘণ্টা কাজ হয়েছে সংসদে৷

সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর একদিন আগে পেগাসাস সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসে৷ তাতে দাবি করা হয়েছিল যে, দেশের নামী বড় সাংবাদিক, রাজনীতিবিদের ফোনে গুপ্তচরবৃত্তি করা হয়েছিল। আর এই নিয়ে সংসদের উভয় কক্ষে ক্রমাগত হৈচৈ চলছে। সাংসদরা প্রায় প্রতিদিন হৈ -হুল্লোড় করে বাইরে চলে যান৷ কিন্তু তাদের কটূক্তির কারণে এখনও পর্যন্ত ১৩০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা এনডিটিভি সরকারি সূত্রকে উল্লেখ করে বলেছে, সংসদে অচলাবস্থা থাকার কারণে লোকসভার সম্ভাব্য ৫৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৭ ঘণ্টা কাজ হয়েছে৷ আর রাজ্যসভার সম্ভাব্য ৫৩ ঘণ্টার মধ্যে ১১ ঘণ্টা কাজ করেছে। চলতি বাদল অধিবেশনে এখন পর্যন্ত পার্লামেন্টে ১০৭ ঘন্টা কাজ করার কথা ছিল৷ কিন্তু মাত্র ১৮ ঘন্টা কাজ হয়েছে৷ এই পরিস্থিতিতে ৮৯ ঘন্টা সময় পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে৷ এরফলে করদাতাদের মোট ক্ষতি ১৩০ কোটি টাকারও বেশি।

সম্প্রতি কংগ্রেস এবং বিরোধীদের মধ্যে হৈচৈ নিয়েও প্রধানমন্ত্রী মোদী অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছিলেন। বিজেপি পার্লামেন্টারি পার্টির সভায় তিনি বলেছেন, কংগ্রেস না হাউসকে কাজ করতে দেয়, না আলোচনার অনুমতি দেয়। আমি ১৫ আগস্ট জনসাধারণের উদ্দেশ্যে এই সব কথা বলব।

পেগাসাসের ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই বিরোধী দলগুলি এর তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে। কংগ্রেসের মতে, যে সংস্থাটি পেগাসাস তৈরি করেছে, তারা বলেছে তারা শুধু সফটওয়্যারটি সরকারকে দেয়। এমন পরিস্থিতিতে এটা স্পষ্ট যে, ভারত সরকার নিজেই গুপ্তচরবৃত্তি করেছিল। যদি অন্য কেউ গুপ্তচরবৃত্তি করে থাকে, তাহলে এটি আরও উদ্বেগের বিষয়। এই পরিস্থিতিতে যৌথ সংসদীয় কমিটি বা সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে এটি তদন্ত করা উচিত। সরকার অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে তদন্ত করতে রাজি হয়নি।