Politics: নেহরু থেকে কানহাইয়া, কংগ্রেসের ‘বাম’ নেতারা বরাবর সুপারহিট

Kanhaiya Kumar joins the Congress party

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: সুভাষবাবু কংগ্রেস ত্যাগ করে যেদিন ফরওয়ার্ড ব্লক গঠন করলেন সেদিনই ইতিহাসের কিছু নির্দেশ লেখা হয়ে ছিল। কংগ্রেসের প্রথম বড় ধাক্কা কিন্তু সুভাষচন্দ্র বসুর দলত্যাগ। ভারতীয় রাজনীতির দলত্যাগের এই নজির এখনও সমান জ্বলজ্বলে।  সুভাষবাবু বামপন্থী ছিলেন, তাঁর দলের পতাকা, নীতি আদর্শের দিকটি স্পষ্ট। কংগ্রেস তাহলে কী?

কংগ্রেস তখনও বৃহত্তম রাজনৈতিক মঞ্চ, এখনও। জাতীয় কংগ্রেস বকলমে ইন্দিরা কংগ্রেস বহুধা বিভক্ত হয়েছে, জুড়েছে। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাসের গর্ভগৃহ হিসেবে কংগ্রেসকে অস্বীকার করা যাবেনা। তবে কংগ্রেস ঘোষিত দক্ষিণপন্থী দল। আবার এই দলে বাম মনস্কদের সমাহার কম নয়। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (CPI) ত্যাগ করে জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দিলেন কানহাইয়া কুমার। কংগ্রেসের আদর্শে এখন তিনি চলবেন। যে কংগ্রেস জওহরলাল নেহরুর মতো সমাজতান্ত্রিক নেতা ছিলেন, সেই কংগ্রেসে সামিল আধুনিক ভারতের সমাজতান্ত্রিক তথা কমিউনিস্ট নেতা কানহাইয়া কুমার। কানহাইয়ার দলত্যাগ ভারতের অন্যতম কমিউনিস্ট মনোভাবাপন্ন বিপ্লবী নেতা ভগত সিংয়ের জন্মদিনেই। তবে দলীয় পতাকার রং পাল্টে গেল। সিপিআই জাতীয় পরিষদ, বিহার রাজ্য পরিষদের নেতারা জানতেন কানহাইয়া যাচ্ছেন। বস্তুতপক্ষে সিপিআই কেন্দ্রীয় নেতাদের কিছুই করার ছিলনা। কানহাইয়ার মতো প্রবল জনপ্রিয়, তার্কিক নেতার কাছে দলের বাকি নেতারা তুচ্ছ তা স্পষ্ট হয়েছে মোদী জমানাতেই।

কানহাইয়া কুমারের সিপিআই ত্যাগ ইতিহাসের কয়েকটি দিক ফের দেখতে বাধ্য করছে। জাতীয় কংগ্রেসের সমাজতান্ত্রিক ও বাম মনস্ক নেতার অন্যতম নেহরু। বস্তুত নেহরু প্রায় ঘোষিত বাম ঘেঁষা নেতা ছিলেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে সমাজতান্ত্রিক শিবিরের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ। সেই প্রভাবে দেশের শিল্প পরিকাঠামো গড়া, কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে চলা সোভিয়েত ইউনিয়নের সাহায্যে ভারতকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।

নেহরু পরবর্তী ইন্দিরা জমানায় কংগ্রেসের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত। বাবার পথেই দেশীয় শিল্প, আর্থিক কাঠামোর জাতীয়করণে ইন্দিরা পুরোপুরি সোভিয়েত অনুগামী হন।  নেহরু-ইন্দিরার পরিচিত ও বন্ধুবলয়টি আরও লাল তারকা খচিত। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এম এন রায়, কমিউনিস্ট মার্কসবাদী নেতা জ্যোতি বসু, এস এ ডাঙ্গে, মোহন কুমারমঙ্গলম, ভূপেশ গুপ্ত, অজয় ঘোষ, পার্বতী কৃষ্ণান-কে নেই। একেবারে লাল তারার ঘেরাটোপে থেকেও নিজের মতো ছিলেন পিতা-পুত্রী।

১৯৬২ সালে ভারত-চিন সংঘর্ষের পর সিপিআই ভেঙে ১৯৬৪ সালে সিপিআইএম তৈরি হয়। নেহরু পরবর্তী জমানায় ক্ষমতা ধরে রাখতে সিপিআইএমের(CPIM) সঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে সরাসরি সংঘর্ষে গেলেও সিপিআইয়ের(CPI) সঙ্গে কংগ্রেসের সংযোগ ছিল নিবিড়। সে কারণেই ১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের জরুরি অবস্থা ঘোষণাকে সমর্থন করে সিপিআই। পরে অবস্থান বদলেছে এই দলটি। জরুরি অবস্থার বিরোধী নেতা জয়প্রকাশ নারায়ণ কংগ্রেসের মধ্যে চরম সমাজতান্ত্রিক নেতা ছিলেন। পরে তিনিই দেশের প্রথম অ-কংগ্রেসি সরকার গঠনের রূপকার হন।

জরুরি অবস্থার সময় দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের তুখোড় ছাত্র বর্তমান সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। তিনিও কংগ্রেস ঘনিষ্ঠ। আর মোদী জমানাকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ বলা জেএনইউ প্রাক্তনী কানহাইয়া কুমার এখন বৃহত্তর মোদী বিরোধী মঞ্চ কংগ্রেসে সামিল। কংগ্রেসের অন্যতম আলোচিত নেতা মনিশংকর আইয়ার তাঁর বাম নীতির জন্য আলোচিত। যতটা আলোচিত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং তাঁর মার্কসীয় অর্থনীতির জন্য। এরা সবাই কংগ্রেসের ‘বামপক্ষ’।

সেই তালিকায় আরও এক তুখোড় ছাত্র নেতা কানহাইয়া কুমার এলেন। কংগ্রেসের ভাষণ দেওয়া নেতার অভাব মিটল। ক্ষয়িষ্ণু সিপিআই-তে থেকে মোদীর মুখোমুখি হওয়া আর কংগ্রেসে গিয়ে সর্বভারতীয় স্তরে চ্যালেঞ্জ দেওয়ার মধ্যে বিরাট পার্থক্য। যারা ময়দানি রাজনীতি করেন তারা জানেন বড় দলে খেলার সুবিধা। জার্সি বদলে সেই সুবিধা নিলেন কংগ্রেসের কমিউনিস্ট নেতা কানহাইয়া কুমার।

#BharatBandh: কৃষক আন্দোলনের ধাক্কা, উত্তর ভারতের গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক প্রভাব, বাংলায় নেই

all india strike hits north and weststern states

নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্র সরকারের কৃষি আইনের বিরোধিতা সহ রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থাগুলির বিক্রি করার প্রতিবাদে একাধিক বিজেপি ও অবিজেপি শাসিত রাজ্যে বনধের প্রভাব পড়লেও পশ্চিমবঙ্গে তেমন ছবি নেই।

পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুসারে মধ্যরাত থেকে কৃষক সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ সারা ভারত কৃষক সংঘর্ষ সমন্বয় সমিতি (AIKSCC) বনধ পালন করছে।

all india strike hits north and weststern states

সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার ডাকা ভারত বনধে পশ্চিম ও উত্তর ভারতে বিক্ষিপ্ত প্রভাব শুরু৷ মহারাষ্ট্রের বড় প্রভাব। পাঞ্জাব, হরিয়ানা অবরোধ। বড় প্রভাব তামিলনাড়ুতেও। সকালেই ত্রিপুরা স্তব্ধ হয়ে যায়। বাম শাসিত রাজ্য কেরল স্তব্ধ। বিহার, ওডিশায় প্রভাব পড়েছে।

এদিকে বনধের ইস্যু সমর্থন করেছে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু বনধ পালনের বিরোধিতা করবে তৃণমূল কংগ্রেস, সেটি আগেই জানানো হয়। সরকারি কর্মীদের হাজিরায় কড়াকড়ি করা হয়েছে।পশ্চিমবঙ্গে বনধ সফল হবে না। তৃণমূলের দাবি। তবে রাস্তায় বিরোধী বামেরা। বনধে সমর্থন করছে কংগ্রেস ও ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট।

all india strike hits north and weststern states

বনধের বড় প্রভাব পড়েছে ব্যাংকে। ব্যাংক কর্মীদের বিভিন্ন সংগঠন সরাসরি বনধে অংশ নিয়েছে। বিমা, রেল, খনিতে কর্মরত শ্রমিকদের বড় অংশ বনধ করছেন। সংঘ পরিবার ও তৃণমূূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন বনধ পালন করছে না। দেশের কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলি সরাসরি বনধে সামিল।

সরকারি কর্মীদের বাম সংগঠন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য কোঅর্ডিনেশন কমিটি বনধকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছে। কংগ্রেসও বনধকে সমর্থন করবে।

উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব, হরিয়ানার, হিমচল প্রদেশে বনধের বিরাট প্রভাব পড়েছে গ্রামাঞ্চলে। তামিলনাড়ুতে বনধ সফল, কারণ এই ডিএমকে কংগ্রেস ও বাম জোটের রাজ্য সরকার সরাসরি বনধ সমর্থন করেছে।

UP Election: রাহুল বাবা ভরসার নন, বেটি প্রিয়াঙ্কা কংগ্রেসের খুঁটি

Priyanka gandhi attacked up cm

নিউজ ডেস্ক: একলা চলো রে…। উত্তর প্রদেশের মতো মরণফাঁদে একলাই চলতে চাইছে কংগ্রেস। আপাতত এমন সিদ্ধান্ত, ভবিষ্যৎ জোট অন্য কথা।

দেশের রাজনৈতিক ভার কেন্দ্র উত্তর প্রদেশে কংগ্রেসের মুখ কে? এআইসিসি চাইছে, প্রিয়াঙ্কা বঢরা গান্ধীকে। রাজীব সোনিয়ার উত্তরসূরী হিসেবে রাহুল গান্ধী জনপ্রিয় তবে রাজনীতিতে তেমন কিছু করতে পারছেন না। তাঁকে কেরল থেকে সাংসদ হতে হয়েছে।

উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে শাসক বিজেপি ও আপনা দল জোট বনাম অ-বিজেপি দলগুলির লড়াই। তবে এদের মধ্যে জোট সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন রয়েছে।

সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি, রাষ্ট্রীয় লোকদল, বাকি কিছু স্থানীয় দলের শক্তিকে একত্রিত করা কঠিন বুঝেই কংগ্রেস একলা চলতে চায়। তাৎপর্যপূর্ণ, এবারের উত্তর প্রদেশ নির্বাচনে প্রথম থেকেই সক্রিয় প্রিয়াঙ্কা। কংগ্রেস মহলের খবর, ঠাকুমার মুখের আদল রয়েছে প্রিয়াঙ্কার। আর দেশে এখনও ইন্দিরা গান্ধী নাম বহুল পরিচিত।

প্রিয়াঙ্কা কি রাজনীতিতে সরাসরি? লখনউ থেকে ছড়াচ্ছে গুঞ্জন। বিজেপি প্রদেশ কার্যালয়ে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার অবস্থান নিয়ে চর্চা চলছে।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে ক্রমাগত সরব হচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি বলেছেন, গত উত্তর প্রদেশ সবদিক দিয়েই পিছিয়ে পড়েছে। বেকারদের চাকরি নেই। কৃষকদের সুখ-শান্তি নেই।

কৃষক আন্দোলনকে চাবিকাঠি করছেন প্রিয়াঙ্কা। এই কৃষক আন্দোলন রাজ্যে রাজনৈতিক মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সাইড লাইনে ইয়েদুরাপ্পা, বিপ্লব? বেঙ্গালুরু-আগরতলায় শোরগোল

Bjp may change cm of karnataka and tripura

নিউজ ডেস্ক: আচমকা গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে বিজয় রুপানির পদত্যাগ, তাঁর জায়গায় নতুন মুখ ভূপেন্দ্র প্যাটেল। মোদী সরকারের আমলেই তিনবার মুখ্যমন্ত্রীর মুখ বদলে গেল গুজরাটে। অথচ বিজেপি (BJP) সেখানে টানা ক্ষমতায়। কেন গুজরাটেই এতবার মুখ্যমন্ত্রীর বদল? নীরব সংঘ ও বিজেপি।

গুজরাটে মুখ্যমন্ত্রী বদল অপর দুই বিজেপি শাসিত রাজ্য কর্নাটক ও ত্রিপুরায় তীব্র আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। কারণ দক্ষিণ ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের দুই রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মুখ্যমন্ত্রীর মুখ বদলের দাবি উঠেছে। মনে করা হচ্ছে, কর্নাটকে যে কোনও সময় বদল করা হবে মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পাকে।

Read More: সাত বছরে সর্বাধিক কংগ্রেস নেতা-বিধায়ক-সাংসদের বিজেপি যোগ: রিপোর্ট

তবে এর আগে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর পদে তিনজন মুখ্যমন্ত্রী বদল করেছে বিজেপি। অসমের মুখ্যমন্ত্রী পদে সর্বানন্দ সোনোয়ালের বদলে আনা হয়েছে হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে। অসমের প্রতিবেশি রাজ্য ত্রিপুরায় বিজেপির অন্দরমহলে তীব্র আলোড়ন। এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে নিয়েই বিক্ষোভ তুঙ্গে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই বিক্ষুব্ধ বিজেপি বিধায়করা বারবার ক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাঁদের দাবি বিধানসভা ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ বদল না করলে ত্রিপুরায় দলের বিলীন হওয়া নিশ্চিত।

ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপির অভ্যন্তরে ক্রমে দীর্ঘ হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী গোষ্ঠী সুদীপ রায় বর্মণের ছায়া। আগরতলায় গুঞ্জন বিভেদ এমন যে যে কোনও সময় সুদীপবাবুর নেতৃত্বে অন্তত ১৬ জন বিধায়ক দলত্যাগ করবেন। তাঁরা ফের তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে যেতে পারেন। সরকার পড়েও যেতে পারে। গত বিধানসভা ভোটের আগে বিরোধী দল কংগ্রেস ছেড়ে তৃ়নমূল কংগ্রেস হয়ে শেষপর্যন্ত বিজেপিতে এরা এসেছিলেন। নির্বাচনে টানা ২৫ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের পতন হয়। সিপিআইএম এখন প্রধান বিরোধী দল।

ত্রিপুরায় আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে নতুন করে হাজির তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গে টানা তিনবার সরকার গড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ত্রিপুরায় শক্তি জাহির করতে মরিয়া। টিএমসি সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট দাবি করেন, চাইলে যে কোনও মুহূর্তে বিজেপি আইপিএফটি জোট সরকার ফেলে দিতে পারেন। তিনি ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রীরই ঘনিষ্ঠ মন্ত্রীরা তৃণমূলে ফিরতে মরিয়া।

দলে বিক্ষোভ থামাতে গুজরাট, উত্তরাখণ্ড, অসমের মতো এবার কি কর্নাটকে ইয়েদুরাপ্পা ও ত্রিপুরায় বিপ্লবকে সাইডলাইনে ঠেলবে বিজেপি? বেঙ্গালুরু ও আগরতলায় চলছে রাজনৈতিক জল্পনা।

ত্রিপুরা: মমতার টার্গেট কংগ্রেস ভোট! সন্তোষমোহন কন্যা সুস্মিতায় আপ্লুত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার

Susmita Dev

#Susmita Dev
নিউজ ডেস্ক: বাবার ভূমিকায় কন্যা! এমনই মনে করছে ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহল। এই রাজ্য ও অসমের একসময়ের জবরদস্ত সাংসদ সন্তোষমোহন দেব কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন। তিনিই ত্রিপুরায় প্রথমবার বাম সরকার হটিয়ে কংগ্রেসকে ক্ষমতা আনেন। সেই সন্তোষমোহন কন্যা সুস্মিতা দেব এখন আবেগ রাজনীতি হাতিয়ার করেছেন বলে শাসক বিজেপি ও বিরোধী সিপিআইএমের কটাক্ষ।

ত্রিপুরায় গত নির্বাচনগুলিতে তৃণমূলের প্রাপ্তি ০.৩ শতাংশ ভোট। এই শক্তি নিয়েই একক সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজেপি ও রাজ্যে টানা ২৫ বছরের সরকারে থাকা সিপিআইএমের বিরুদ্ধে লড়তে নেমেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

ত্রিপুরায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে এখনও পর্যন্ত উত্তর পূর্বাঞ্চলের যে হেভিওয়েট মুখ টিএমসি ব্যবহার করছে তিনি প্রয়াত সন্তোষমোহন দেবের কন্যা সুস্মিতা। অসমের শিলচর থেকে দুবারের কংগ্রেস সাংসদ সুস্মিতা দেব সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন কলকাতায়। এর পরেই তাঁকে ত্রিপুরায় পাঠান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

আগরতলা পৌঁছেই সুস্মিতা দেব পুরনো দল কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বার্তা দিয়েছেন। মনে করা হচ্ছে, কংগ্রেসের ভোটব্যাংকটি তৃণমূল কংগ্রেসের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই যেন সুস্মিতা দেব দেখা করলেন প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী সুধীররঞ্জন মজুমদারের স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্যদের সঙ্গে।

তাৎপর্যপূর্ণ, সন্তোষমোহন দেব ত্রিপুরার সাংসদ থাকাকালীন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন সুধীরবাবু। অসমের বরাক উপত্যকার শিলচরের নেতা সন্তোষমোহন দেব ও সুধীররঞ্জন মজুমদারের মধ্যে সখ্যতা ছিল। সুস্মিতা দেব জানান, বাবার সঙ্গে পুরনো সম্পর্কের কারণেই আমি সুধীরবাবুর বাড়ি এসেছি। নেহাত সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, রাজনৈতিক কৌশলই এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে আগরতলা ও কলকাতার রাজনৈতিক মহল। সন্তোষমোহন দেব অসমের শিলচর থেকে ৫ বার ও ত্রিপুরা থেকে ২ বার সাংসদ হন। ইন্দিরা গান্ধীর পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ শিলচরের দেব পরিবার। সেই সূত্রে সন্তোষমোহন হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় ভারি শিল্পমন্ত্রী। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৮৯ সালে ত্রিপুরায় প্রথম বামফ্রন্ট সরকারের পতন হয়। ক্ষমতা হারার কিংবদন্তি সিপিআইএম নেতা নৃপেন চক্রবর্তী। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন সুধীররঞ্জন মজুমদার।

প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন আগরতলার গান্ধীঘাট এলাকায়। সেখানেই যান সুস্মিতা দেব। তিনি বলেন, প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী সুধীর রঞ্জন মজুমদারের পরিবারের সাথে দেখা করাটা হলো ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ। কারণ উনার পিতা ত্রিপুরা রাজ্যে তৎকালীন সময়ের সাংসদ ছিলেন। বর্তমানে ত্রিপুরা রাজ্যে যে সন্ত্রাসের বাতাবরণ চলছে তার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

সুস্মিতা দেব বলেছেন, গণতন্ত্রের দেশে সকলের অধিকার আছে রাজনীতি করার। জনগণের স্বার্থে যা করার তা করবেন তিনি। ত্রিপুরার স্বার্থে সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসতে পারেন কংগ্রেসের নেতৃত্ব এবং কর্মীরা। তাদের সঠিক সম্মান দেওয়া হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে ত্রিপুরা রাজ্যের মূল শত্রু হলো বিজেপি। কংগ্রেসেরও শত্রু বিজেপি। রাজ্যের মাটিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রতিষ্ঠা করতে ত্রিপুরার রাজনৈতিক আবেগ ও চাহিদা বুঝতে চান দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে জানান সুস্মিতা দেব।

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ছিলেন সুস্মিতা দেবের সঙ্গে। তিনি বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুনামির ঝড় ত্রিপুরা রাজ্যের মাটিতে আছড়ে পড়তে শুরু করেছে। বিজেপি’র বিদায় ঘন্টা বেজে গেছে বলে জানান তিনি। তিনি বিজেপি বিধায়ক ও প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুদীপ রায় বর্মনকে মমতা শিবিরে ফের ফিরে আসার আহ্বান জানান।

‘Congress Radio calling…Hello everybody! অজানা জায়গা থেকে বলছি: গোপন তরঙ্গে কেঁপেছিল দেশ

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: হঠাৎ সবাই শুনেছিলেন একটা ঘড়ঘড়ে বেতার তরঙ্গ। কেটে কেটে যাচ্ছিল কথাগুলো। এ কী! এ কারা বলছে! ততক্ষণে বেতার বার্তায় ভেসে এসেছে মহিলা কণ্ঠ ” This is Congress Radio calling on ( a wavelength of ) 42.34 meters from somewhere in India….” ।

আরও পড়ুন ইতিহাস গড়ে প্রথম মহিলা CJI হতে পারেন বিভি নাগরথনা

১৯৪২ এর মহাকাল ঘূর্ণি তখন ভারতের বুকে রাজনৈতিক ঘনঘটা তৈরি করেছে। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ চলছিল। আর ভারত জুডে চলছিল ব্রিটিশ বিরোধী গণআন্দোলন-ভারত ছাড়ো আন্দোলন। মহাত্মা গান্ধী ডাক দিয়েছেন। তেড়েফুঁড়ে নেমেছিল কংগ্রেস। সে এক আগ্রাসী আন্দোলন। যা কিনা জাতীয় কংগ্রেসের চরিত্রের সঙ্গে মেলেনা।

সেরকমই সময়ে অর্থাৎ ১৯৪২ সালের ২৭ জুলাই, বম্বেবাসীদের কানে এসে ধাক্কা মেরেছিল কংগ্রেস বেতার। সবাই চমকে গেলেন। গোপন বেতারকেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত এই তরঙ্গবার্তার নাম ‘কংগ্রেস রেডিও’।

১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে ৯ই আগস্ট মহাত্মা গান্ধীর ডাকে গণ আন্দোলন শুরু হয়। বৃটিশ সরকার গান্ধী সহ কংগ্রেস নেতৃবৃন্দের গ্রেফতার করে। দেশজুড়ে সেই আন্দোলন ভয়ংকর চেহারা নেয়। পুলিশের গুলিতে কয়েক হাজার আন্দোলনকারী প্রাণ হারান। ভারত রক্ষা আইনে আটক হন বহু আন্দোলনকারী। জেলবন্দি কংগ্রেস নেতারা। জনগণ দিশাহীন ততটাই আগ্রাসী। চলছে ভাঙচুর, রেললাইন উপড়ে দেওয়া, থানায় হামলা। ব্রিটিশ সরকারের অত্যাচার চলছে একই গতিতে।

ভারত ছাড়ো আন্দোলনের খবর সবসময় পৌঁছে দিতে মরিয়া জাতীয় কংগ্রেসের সমাজতান্ত্রিক নেতা রামমনোহর লোহিয়া। এগিয়ে এলেন কংগ্রেস নেত্রী ঊষা মেহতা। নেতা ও সাধারণ কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখার জন্য এক গোপন বেতারের শুরু হলো তাঁর কণ্ঠ দিয়ে।

এ যেন গুপ্তচরের কাজ! গোপনে বার্তা পাঠানো। উষা মেহতা কয়েকজন কংগ্রেস কর্মীর সহযোগিতায়  রামমনোহর লোহিয়া, ভিট্টলদাস খক্কর, বাবু ভাই টক্কর, চন্দ্রকান্ত জাভেরি প্রমুখ বিশিষ্ট নেতাদের উদ্যোগে তৈরি করছেন সিক্রেট কংগ্রেস রেডিও সার্ভিস।

ভারত ছাড়ো আন্দোলন শুরুর ঠিক এক সপ্তাহের মধ্যেই বম্বের এক গোপন আস্তানা হতে ১৪ই আগস্ট বেতার সম্প্রচারে ভেসে এলো মহিলার কণ্ঠস্বর- ” This is Congress Radio calling on ( a wavelength of ) 42.34 meters from somewhere in India….” [আমি ভারতের কোন এক জায়গা থেকে ৪২.৩৪ মিটার বেতার তরঙ্গে চালিত কংগ্রেস রেডিও থেকে বলছি…]

সে এক হই হই কাণ্ড। ব্রিটিশরাজ চমকে গেল। তৈরি হলো কাউন্টার এসপিয়াওনেজ টিম বা প্রতিগুপ্তচর বাহিনি। তারা খুঁজছে সিক্রেট কংগ্রেস রেডিও অপারেটরদের। দুই পক্ষের লুকোচুরি চলছে। কংগ্রেস রেডিও কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, মাঠে ময়দানে, ভাঙা বাড়ির কোনা, নর্দমার ভিতর ডুবে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বিভিন্ন খবর ‘হার্ড নিউজ’ ও কথিকা, নেতাদের নির্দেশ পাঠাতে শুরু করলেন। ব্রিটিশ পুলিশের কাছে যেসব নিষিদ্ধ, সেই খবর জনতার কাছে পৌঁছে দেওয়া যাচ্ছিল। বম্বে থেকে অন্যান্য প্রদেশের নেতাদের সাথে যোগাযোগ রেখে নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাজ চলত সন্তর্পণে।

কেমন ছিল এই কংগ্রেস রেডিও অপারেটরদের কাজ

পুলিশের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য প্রোজই প্রচার কেন্দ্র বদল হতো। কিন্তু বিশ্বাসঘাতকের অভাব নেই। তার দেওয়া খবরে, কংগ্রেস বেতার কেন্দ্রের প্রধান ঊষা মেহতা সহ সকলেই গ্রেফতার হন। ছয় মাস ধরে জেরা চলেছিল। নির্বাক ছিলেন উষা মেহতা। জেলে ছিলেন চার বছর।

আরও পড়ুন বাংলার প্রথম অভিধান লিখতে সময় লেগেছিল ৪০ বছর

বম্বে থেকে কলকাতা: কংগ্রেস বেতার সম্প্রচার শুরু

কংগ্রেস সমাজতান্ত্রিক দলের নেতা লোহিয়া থামতে জানেননা। তাঁর উদ্যোগে গোপন বেতারকেন্দ্র খোলা হয়েছিল কলকাতায়। চারজন পরিচালক উদয়ন চট্টোপাধ্যায়, সম্বরণ চট্টোপাধ্যায়, মোহন সিং স্যাণ্ডার ও দিলীপকুমার বিশ্বাস।

নিষিদ্ধ কংগ্রেস রেডিও শর্ট ওয়েভে বাংলায় পরিচালনা করতেন দিলীপকুমার বিশ্বাস৷ হিন্দিতে বলতেন মোহন সিং স্যাণ্ডার৷ এটা ছিল রামমোহন লোহিয়ার পরিকল্পনা৷ রাত নটা থেকে শুরু হতো বার্তা দেওয়া।

শুরুতেই থাকত “This is a Congress Radio Calling from somewhere in India. Hallo everybody! Here is the news” – এই কথাগুলিই বলেই খবর পড়তেন উদয়ন চট্টোপাধ্যায়। এমনও নজির আছে, আবহাওয়া ভালো থাকলে সুদূর বর্মাতে এই সম্প্রচার শোনা যেত।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। ব্ল্যাক আউটের রাত। কংগ্রেস ও সোশ্যালিস্ট কর্মীরা চলেছেন মাঠের পাশ দিয়ে। কলকাতার বাইরে কোনো এক স্থান। সুবিধা মতো এলাকা বেছে অপারেটর অন করলেন বেতার বাক্সের সুইচ। তার পরেই সেই বিখ্যাত কয়েকটি বাক্য দিয়ে ভারত ছাড়ো আন্দোলনের আগামী কর্মসূচী ও হামলার খবর ছড়িয়ে দিলেন তাঁরা।

১৯৪৩ সালের কথা। আন্দোলন চলছে। কলকাতার আকাশে জাপানি অক্ষশক্তি বিমানের গর্জন। বরানগরে বোমা নিক্ষেপ করল জাপান। ঘটনার সময় কংগ্রেস বেতারতর্মীরা রোজকার সংবাদ দিচ্ছিলেন। একটানা তিন ঘণ্টা হোসপাইপের মধ্যে শুয়ে কাটান তাঁরা। রোমহর্ষক কাণ্ড। এই ছিল ভারতের জাতীয় কংগ্রেস। যারা নরম ও চরমপন্থী শিবিরে বিভক্ত। নাহ, ব্রিটিশ পুলিশ পায়নি সেই বেতারযন্ত্রগুলি। তবে কয়েকজন ধরা পড়েন। তখন ভারত স্বাধীনতার একেবারে মুখে দাঁড়িয়ে আছে।

ত্রিপুরা-পাঞ্জাবে টলমল BJP, পরীক্ষায় মোদী-শাহ

narendta modi and amit shah

বিশেষ প্রতিবেদন: কৃষি আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভের জেরে শংকিত বিজেপি পাঞ্জাব বিধানসভা ভোটের আগেই বিরাট ভাঙনের মুখে। ঠিক যেমন করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ভোটে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার হিড়িক লেগেছিল। পাঞ্জাবে বিজেপি শিবিরের পুরনো সহযোগী শিরোমনি আকালি দলে ভিড়ছেন ‘জয় শ্রীরাম’ বলা নেতা কর্মীরা।

একইভাবে উত্তর পূর্বাঞ্চলের ত্রিপুরায় শাসক বিজেপিতে চরম সঙ্কটে। তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে যাওয়ার জন্য অনেকেই সরাসরি কলকাতায় ফোনাফুনি শুরু করেছেন। শাসক দলের ভিতর চওড়া হচ্ছে ভাঙন।
মোদী-শাহ, মমতা, কেজরি, রাহুল, CPIM সবার পরীক্ষা

(১) আগামী বছর ২০২২ সালে পাঞ্জাবে ভোট। ২০২৩ সালে ত্রিপুরায় ভোট। দেশের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের নির্বাচনে মোদী-শাহের অগ্নিপরীক্ষা। দুজনেই পশ্চিমবঙ্গ দখলে ব্যর্থ হয়েছেন।

(২) পরীক্ষায় বসবে সিপিআইএম। দলটি ত্রিপুরায় টানা ২৫ বছর সরকারে ছিল। গত বিধানসভায় সেই বাম সরকারের পতন হয়। ত্রিপুরায় এখন তারা প্রধান বিরোধী দল। পশ্চিমবঙ্গে শূন্য হলেও কেরলে পরপর দুবার সরকার তারা গড়েছে। ত্রিপুরায় ফিরে আসতে মরিয়া মানিক সরকার।

(৩) পরীক্ষা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতারও। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে টানা তিনবার সরকার গড়েছেন তিনি। দেশের অপর বাংলাভাষী প্রধান রাজ্যে তিনি রাজত্ব সম্প্রসারণে মরিয়া।

(৪) পরীক্ষা দেবেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল। টানা তিনবার দিল্লির সরকারে আম আদমি পার্টি। পাঞ্জাবে তারা অন্যতম শক্তি। কেজরির লক্ষ্য অন্তত পাঞ্জাবে বিরোধী আসন।

(৫) কেরল দখলে ব্যর্থ হয়ে পাঞ্জাবের মতো দুর্গ ধরে রাখার পরীক্ষায় নামছে কংগ্রেস। সেনিয়া-রাহুল গান্ধীর পাখির চোখ পাঞ্জাব।

পরীক্ষার্থীদের দিকে চোখ রাখলে স্পষ্ট হয় দেশের তাবড় তাবড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অগ্নিপরীক্ষা শুরু হতে চলেছে। পাঞ্জাব ও ত্রিপুরার ভোট লড়াইয়ে যারা যারা কুর্সিতে যাবে তাদের কাছে আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে স্বস্তিকর।

ইতিমধ্যে পাঞ্জাবে বিজেপির অবস্থা সঙ্গীন। কৃষি আইন বিরোধিতার পক্ষে গিয়ে এনডিএ জোটের অতি বিশ্বস্ত শিরোমনি আকালি দল একলা হয়ে গিয়েছে। গতবার তাদের বদান্যতায় পাঞ্জাবে কিছু আসন ছিল বিজেপির দখলে। সদ্য কয়েকটি পুরসভা ও স্থানীয় ভোটে বিজেপি একা লড়ে করুণ অবস্থায়। লেগেছে দলত্যাগ হিড়িক। বরং উঠে এসেছে আম আদমি পার্টি।

ত্রিপুরায় রাতারাতি তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে বিজেপিতে গিয়ে পাঁচবছর আগে মোদী ঝড়ের ফায়দায় বাম রাজ্যটি ‘রাম রাজ্য’ হয়েছিল। সেই ত্রিপুরায় এখন বিজেপির বিধায়করা মমতা শিবিরে ঢুকতে হত্যে দিতে শুরু করেছেন। দিল্লি থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বারবার গিয়েও পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন না। দলকে চাঙ্গা করতে বিজেপি বিধায়কের গলায় হাড় গুঁড়ো করার হুঁশিয়ারি তো তালিবানি রীতিতে মারধরের হুমকি শোনা যাচ্ছে। এতে বিব্রত বিজেপি। তার সঙ্গে জুটেছে ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি না পূরণের ক্ষোভ।
সবমিলে রাজনৈতিক লড়াইয়ে দুই রাজ্যে চাপে বিজেপি। ফায়দা লুঠবে কে?